পত্রলিপি~মৃদুল কুমার দাস
প্রিয় পলো,
তুই খুব ভাবতিস ছেলেকে নিয়ে- "আমি না থাকলে ছেলের কি হবে!"
ঘুমের আগে ঘুমন্ত ছেলের দিকে তাকিয়ে কত রাত ভেবেছিস। নিজের কাছে নিজেই অনাথ হয়েছিস। তত ছেলের জন্য আকুল কান্নায় মনের কাছে মাথা কুড়েছিস। তোর মধ্যে তত ছেলের জন্য উতলা ভাব ছিল। তা থেকে ছেলেকে সবার কাছে এগিয়ে দিয়ে বলতিস এই তোমাদেরও বাবুসোনা। কত রাত বিনিদ্র থেকে কেঁদেছিস। ঘুম আসে না বলে অত রাত পর্যন্ত পারোকে জাগিয়ে রেখেছিস। সু কে মা জননী,পারোকে শালিক-বেগুন, আর পিউকে ক্যাপ্টেন-বাঁদর করে আর দাদাকে আচার্য বানিয়ে, সখীরূপে পারুতে, অনিদি আর নিজের সঙ্গে নিজেই নীরবে হাসিমুখে খেলে গেছিস, অনন্ত আকাশ হয়ে।
জিজু,অনি,চুন্নি,ছোটদা,মণিদা,রাজু,বৈশু,ঈশু,শর্মি,আরু,বিমানে নৈকট্য ঢেলে নীরবে গেলি যেভাবে মন পড়ে ইনটুইশন এর বিরহের গাথায় পলো আজ পরিবারের কাছে লিরিক্যাল ব্যালাড। আমাদের নবান্ন ম্যাগাজিনে পাঠক শুনে আঁতকে উঠে বলল আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স চলে গেল! পল্লবী বড়ুয়া! এই তো আজ স্কুলে বলল ওর লেখাটা যারা পড়েছিল।
আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর জন্য ও পেলি মরণোত্তর স্বীকৃতি। কতটুকুই বা বয়স! অসম্পূর্ণ যত কাজ,পরিবারের জন্য লেখার আকুলতা দাদার এজন্য কষ্টটা রয়ে গেল চিরকাল। জীবন যায়,জীবন আসে,ও এতটাই ক্ষণিকের ঢেউ হয়ে উঠে এসে মিলিয়ে গেলি যেভাবে এ ভুলি কেমন করে। দূর হলেই কাছে টানে, কিন্তু তুই এমন দূরে রয়ে গেলি আর কাছে পাব না বলে ভোলার আবরণ আর রইল না। আর ভুলতে তোকে কেউ পারবে না রে, বিদায়টা নিজেই যেভাবে নিজের সঙ্গে শেয়ার করে নিলি। হতভাগ্য দাদা নিরুপায়ভাবে শুধু দাঁড়িয়ে দেখল। চোখের জল ছাড়া তোকে কিছুই দিতে পারলাম না। কত কাঁদলে এ জ্বালা জুড়োয় তাও জানা নেই,না জানা দেশের তুই তো বাসিন্দা বলেই, সব অজানার বাসিন্দা আমরা সবাই। তোর আত্মার শান্তি হোক। ওম্ শান্তি! ওম্ শান্তি!
দাদার কাছে চেয়ে চেয়ে নিতিস তোর প্রিয় উপহার,এই দেখ পাঠালাম। ❤❤❤❤❤❤❤❤💫💫💫💥💥💥💅💅💅💅💅💅💅💅💅💅🍫🍫🍫🍫🍫🍫🍫🍫
ইতি-
তোর দাদা।
(তুই চিঠি লিখতে পারিস না বলেছিলিস না! এবার তুই ওখান থেকে শেখ। দীর্ঘশ্বাসের মধ্যে বারে বারে আসিস।)

অসাধারণ অভিব্যক্তি
উত্তরমুছুনধন্যবাদ। শুভেচ্ছা। ❤❤🙏🙏
উত্তরমুছুন😭
উত্তরমুছুন😭😭
উত্তরমুছুনখুব বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করে, ফিরে তো ওকে আসতেই হবে।
উত্তরমুছুন😓😥
উত্তরমুছুনবড় যন্ত্রণা।আমাদের মধ্যে আমরা সবসময় ধরে রাখব ওকে।
উত্তরমুছুন