বুধবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১
#বিষয় : ছোটগল্প # নাম : মহিলা সাহিত্যিক।।পর্ব ৮#লেখায় : শর্মিষ্ঠা ভট্ট
মহিলা সাহিত্যিক।। পর্ব ৮
লেখা চেয়ে পাঠিয়ে ছিল "দ্বৈপায়ণ " পত্রিকা। এমনটাই লিপিকে বলে ছিল বৈরাগ্য। বৈরাগ্যের সাথে লিপির দেখা হয়েছিল সাহিত্য কবিতা বাসরে। লিপি তখন "কিন্নরে"র হয়ে কাজ করছে । তখন বৈরাগ্যের অসাধারণ কবিতা দেখে আগ্ৰহ হয়েছিল লিপির।
তারপর কবিতা দেওয়া নেওয়া চলত। বেশ অনেকগুলো মাস কেটে গেছে হঠাৎ বৈরাগ্যের ফোন " দিদি একটা পত্রিকা খুলেছি। "
" খুবই ভালো কথা। "
" আপনাকে লেখা দিতেই হবে। "
" আমি এখন তেমন লিখি না গো। "
" ও সব জানি না, দিতেই হবে। "
" আমি কি আর তোমার মতো লিখতে পারি? "
" ওতেই হবে, কম করে দশটা লেখা এক সাথে পাঠাবেন। পর পর পত্রিকায় আসবে। "
" নাম কি দিলে পত্রিকার? "
" ব্ল্যাক হোল। "
হেসে ওঠে লিপি।
লিপির কাছে আজ একটা ম্যাসেজ এসেছে " আপনি এক লক্ষ টাকা পেয়েছেন, মাত্র দশ হাজার টাকা এই ঠিকানায় জমা করুন ।" নিজের হাসির শব্দ যেন নিজেই শুনতে পেলো। সাহিত্যের বাজার থেকে এমন একদিন বলেছিল বৈরাগ্য রায়। দশটা কবিতা, মাত্র তো দশটা কবিতা। সেরা দশ বেছে নিজের কবিতার ডাইরির পৃষ্ঠাই দিয়ে দিয়েছিল। বিশ্বাস করেছিল। কথা ছিল প্রতি মাসে একটি কবিতা পত্রিকায় আসবে । এবং বৈরাগ্য লিপিকে পত্রিকা পাঠাবে। আজ নয় কাল করে এক বছর হয়ে যেতে লিপিই আশা ছেড়ে দিয়েছে। বৈরাগ্যের ফোন আনরিচেবল পায়ে ছিল তার একবছর পর থেকেই। কিন্তু কাল কিন্নর দিখে চমকে গেল। এটা তার লেখা না! হ্যাঁ তার লেখা। লেখায় বৈরাগ্য! নির্লজ্জ! কিছু প্রমাণ নেই। একটা অসহায় আস্ফালন বুক থেকে ঠিকরে বেরিয়ে যেতে চায়। কিন্নর থেকে ফোন নম্বর নিয়ে একটু ঝাড়বে? থাক নীচু হতে ভালো লাগলো না। আজ দীর্ঘ ছসাত বছর পর ঠকে গেছে বুঝতে পারল লিপি। লিপি ম্যাডাম। ইতিহাস পড়ায়।
লিপিকার সম্পদনা ছেড়ে ছিল ওই ঘটনায়। আবার একটা পরিচয় খুঁজছে। কিন্তু সাহিত্যের সভা সমিতিতে বৈরাগ্য রায়ের খুবই নাম। দেখা হয়। জিজ্ঞাসা করতে ইচ্ছা হয়, সব কিছুই কি ফেক! ধারের কবিতায় কবি!
নিরুপমা রায় দস্তিদার ম্যাডাম তনুরুচিকে ডেকেছে। বিউটিশিয়ান কাজের জন্য । তনুরুচি অবাক হয়নি। ওর মধ্যে আত্ম বিশ্বাস ক্রিয়া করে। আরাম কেদারায় গা ছেড়ে দিয়ে বলে " পারবে তা হলে লেখা দিতে? "
" পারবো ম্যাম । "
" প্রতি এপিসোডে পয়সা পাবে। আমি দেব। "
" আপনি যা বলবেন । "
" গোপনীয়তার সর্তে সৈ চাই"
" তাই হবে। "
" এখন থেকে প্রতি মাসে আমায় বিউটি ট্রিটমেন্ট দেবে। বেশ হাত তোমার। "
"ধন্যবাদ ম্যাডাম ।"
" আচ্ছা যাও, এ সব বেশি আলোচনা করবে না। "
" আচ্ছা। "
নাচতে নাচতে বাড়ী ফেরে তনুরুচি। সিরিয়ালে তার লেখা! নতুন গল্পের খোঁজে নিরুপমা রায় দস্তিদার। প্রতি মাসে বাঁধা ধরা পয়সা। খুশি বলতে পারে না কিন্তু উড়ছে সে।
সমালোচনায় এটাই লিখেছিল বিদিশা
সুপ্রভাত 🧡
একটি যথাযথ টপিক দেখে আজ লিখতে মন চাইল। আসলে রাজনৈতিক (ভারত কিংবা অন্য দেশের) দের জমিয়ে গালি দেওয়া অতিব মনোরঞ্জনের বিষয়। আজ নয় বহু দশক ধরে চলে আসছে। আমরা সাধারণ মানুষ দূর থেকে বা আড়ালে গালি দিয়ে ও ব্যাঙ্গো করে মনের হতাশা ও জ্বালা মেটাই। কিন্তু সামনে প্রতিবাদ করার সাহস কয়জনের আছে?
🇮🇳ভারতের রাজনীতিবিদদের সম্পর্কে আমার মতামত তারা এক একজন সৈনিক ডাক্তার কৃষক ব্যবসায়ী। আমার কথার মানে এই ভারতবর্ষের মতো বিশাল দেশ ও তার প্রজাতন্ত্রকে অক্ষুন্ন রেখে শতবর্ষের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এরাই। দেশের গঠনমূলক কাজে তাদের অবদানকে অস্বীকার করা যায় না। ডেমক্রেটিক ভারতে শিক্ষিত নাগরিক রাজনীতি থেকে দূরে থাকতে চাই এবং গর্বিত হয়ে বলিও..... এ সব ব্যাপারে আমার ইন্টারেস্ট নেই। কেন.... ❓কারন আমরা সাচ্ছন্দে থাকতে চাই। ওই চিৎকার ওই লাফালাফি থেকে দূরে শান্তির গৃহকোণ। কিন্তু এই শান্তি থাকত না যদি এই সব আমাদের তর্জনী দৃষ্ট পাপিষ্ঠ রা (যাদের আমরাই চিহ্নিত করেছি) না থাকতো। আমরা কি কখনও আমাদের নিকটবর্তী পঞ্চায়েত অফিস কিংবা মিউনিসিপালিটি কার্যালয়ে নিয়মিত যাতায়াত করে হিসেব চেয়েছি? কখনও কি জনসাধারণ নিজেরা এক হয়ে প্রতিবাদ করেছি পথটা সারাও বর্ষা আসছে? বলেছি কি ভোট পেতে গেলে দাদাগিরি চলবে না। না পারিনি কারন আমরা সুখে থাকতে চাই। ওদের সামনে দাঁড়ানোর নূন্যতম একতা আমাদের মধ্যে নেই। আমরা কি নির্বাচন কমিশন কে অনুরোধ করতে পেরেছি। করোনার মতো মহামারী জর্জরিত বাঙলায় ভোট স্থগিত হোক। এত মানুষ মিটিং মিছিলের জন্য জনসমাবেশ করছে, এ সময়ের অনুকুল না। বলতে পারিনি। সাহস নেই । কিংবা যদি বা কেউ বলে তাকে সাপোর্ট করার লোক নেই। কারণ জনগণের পুরাতন অভ্যাস নিজেদের পায়ে নিজেদের কুড়ুল মারা। জনগণের নিজস্ব শক্তি কেবল ভোট বিচার, ওটাই কি আমরা সবাই সততার সাথে করি। ভোটের ছুটি নিয়ে বেড়াতে বেরিয়ে যাই।। তাই ভারতের রাজনীতি আমাদের গর্ব আর রাজনৈতিক মানুষ গুলো ব্যক্তিগত খারাপ নিয়েও আমাদের গর্বের থাম। এই ভাবে চলছে চলবে। কেউ কি ছেলে মেয়েকে রাজনীতিবিদ হতে শিক্ষাদি। দিই না । তাই আমাদের সংস্কার রাজনীতি কে প্রভাবিত করতে পারে না। সল্প শিক্ষিত এবং নেতাদের ছেলেপুলেরা এই স্থান পূরণ করে। আমরা তাদের কাছে অতীতে হয়ে যাওয়া ভুলের পুনরাবৃত্তি ছাড়া কি আশা করতে পারি। দোষ জনগণের। ওরা যা তার জন্য দায়ী আমরা। জনসাধারণ।।
গন্ডগোলের শুরু ওখান থেকে। রাজনৈতিক বিষয়ে আলোচনা হলেই মহল কেমন যেন আগুন হয়ে যায়। অহেতুক নিজের গায়ে মেখে নেয় মানুষ। সাহিত্যের আড্ডায় তুই তোকারি হয়ে গেল। এক কোনায় বসে সঞ্জীব ভাবে রাজনীতি কি মানুষের অস্তিত্ব ছুঁয়ে যায়? কেন এ লড়াই তথাকথিত শিক্ষিত মহলে! তবে কি মূলত এরা দেশপ্রেমিক। দেশের হিতেই তো লড়ছে। চুলোচুলি করছে। না কি কোন আগুনে ঝাঁপ দিয়ে মজা পায়! সঞ্জীব উত্তর খুঁজতে থাকে। ভাবে সাহিত্য ও রাজনীতি এর ওপর আর্টিকেল লিখলে কেমন হয়। সবে সিগারেট ধরিয়েছে মোড়ের মাথায় দিজুদা ধরল। বয়স্ক মানুষ, তা ষাটোর্ধ্ব, সঞ্জীব পঞ্চাশ পেরিয়েছে। সভ্যতা বসত ফেলে দিতে হল নতুন সিগারেটটা। বৌ মল্লিকা দেখলে যা খুশি হত!
" দাদা কেমন আছেন? " পায়ে হাত না দিয়ে হাত জোড়লো। " ভালো। খবর কি সঞ্জীব? কোথায় থাকো? তোমার বৌ মল্লিকা তো ফাটিয়ে লিখছে ভাই। " চুপ করে থাকে সঞ্জীব, কি বলবে তাই ঘরের কাজ সব আমি করি। নাকি বেড সেয়ার করতে ভুলে গেছি কতকাল। রাতভর লেখা চলে। চশমা চোখে মল্লিকার পাওয়ার বেড়ে চলেছে। নাকি বলবে তাই আমার মা বৃদ্ধাশ্রমে। দিজুদা উচ্ছসিত হয়ে বলে
" হবে নাই বা কেন, ঠিক লেজ ধরেছে । তাঁর রঙের নীচেই প্রচার হয়ে যায়। বুদ্ধিমতী। হবে মেয়েটার হবে। বৃদ্ধাশ্রম, যা লিখেছে রে ভাই। গনভগবানে প্রকাশ পেয়েছে। পুরস্কার পেয়ে যাবে মেয়েটা। "
সঞ্জীব নীরব থাকে। " এসো একদিন তোমার গলায় নতুন গল্পটা পড়াবো । কি গলা তোমার! চলি। " ঝোলা ব্যাগ নেড়ে চলে যায় নাট্যকার দিজুদা। সরল মানুষ টা কি জানেন সঞ্জীবকে মাড়িয়ে দিয়ে গেলেন! বৌ নামী হয়ে গেলে বুকের খাঁচায় সামান্য স্ফুলিঙ্গ ধীরে ধীরে পোড়ায়। ধীরে ধীরে বাড়ে জ্বালা।
©কপিরাইট সর্তাধিকারী শর্মিষ্ঠা ভট্ট
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
শিরোনাম - অপ্রকাশিত অনুভূতি✍️ ডা: অরুণিমা দাস
শিরোনাম - অপ্রকাশিত অনুভূতি ✍️ ডা: অরুণিমা দাস কিছু অনুভূতি মনের গভীরে থাকাই শ্রেয়। সেটা হয়তো প্রকাশ করলে সমস্যা হতে পারে,তাই প্রকাশ না কর...
-
ঘোষ বুড়ী ©সুদেষ্ণা দত্ত গ্রামের নাম সুন্দরগ্রাম--বাংলা মায়ের কোল ঘেঁষা সুজলা,সুফলা,শান্তির নীড় ঘেরা এক গ্রাম।গ্রামের অধিকাংশ লোকই কৃষি...
-
আমার অকাজের লিস্টি ✍️ ডা: অরুণিমা দাস ২০২৫ এ পড়ে ফেলা বইগুলোর তালিকা তৈরী করেই ফেললাম। ভিন্ন স্বাদের সব বইগুলো। মন ভালো করে দেয়। তালিকা...
-
অণু গল্প ----সাথী হারা। কলমে-- পারমিতা মন্ডল। দীঘার সমুদ্রে একা একা হেঁটে চলেছে সৈকত । এই বালুকাবেলায় , রামধনু রং আকাশের দিকে তাকিয়ে মনটা বড়...

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন