মঙ্গলবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

#বিষয় - বিজ্ঞান। # নাম- জীবন জিজ্ঞাসা। মৃদুল কুমার দাস।

  # নাম- 'জীবন জিজ্ঞাসা'
             ( বিজ্ঞান বিষয়ক)
                    পর্ব- ৮

    ✍ - মৃদুল কুমার দাস। 


জার্মানী জীববিজ্ঞানে শ্রেষ্ঠ। আমেরিকা পথার্থ বিজ্ঞানে। জার্মানীও পদার্থ বিজ্ঞানে শ্রেষ্ঠ হতে পারতো। কিন্তু নিয়তি বিরূপ। হিটলার ইহুদি নিধনে মত্ত। এক ঝাঁক ইহুদি পদার্থ বিজ্ঞানী হিটলারের ভয়ে জার্মানি ছেড়ে আমেরিকায় এসে আশ্রয় নিলেন। আইনস্টাইন তাঁদের মধ্যে অন্যতম একজন।
  ফিউশনের বিপরীত ফিশন প্রক্রিয়া পদার্থ বিজ্ঞানের ধারায় চর্চা খুব জনপ্রিয়তা পেল আমেরিকায়। বিশ্বময় পরমানু চর্চার বিপুল সাড়া পড়ে গেছে। পরমানুর ফিশন প্রক্রিয়ায় যে পরমানু বিস্ফোরণ করা যাবে তার সূত্র কী?
    হিটলারের পরমানু বোমার খুব দরকার। নিজেকে দিগ্বিজয়ী বীর ভাবে। তাই বোমার জন্য খুব হাপিত্যেশ অবস্থা হিটলারেের। বিশ্বকে রক্তচক্ষু দেখাতেও ছাড়ছেন না। তাঁর হাতে এই পরমানু বোমা এলো বলে, বিশ্বকে ফাঁকা আওয়াজ দিয়ে রাখলেন হিটলার। জার্মান বিজ্ঞানীরাও হিটলারের মন পেতে, একপ্রকার তোষন বিলাসী হয়ে এই বোমা হাতে তুলে দিলেন বলে এমন ভাব করতে লাগলেন। আর বিশ্বকে একটু ধমক ও চমক দিতে,হিটলারি সখ মিটাতে মাঝারি মানের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দেওয়া হলো আমেরিকার পার্ল হারবারে। এই বার্তা দেওয়া যে বেশি ট্যাঁ ফোঁ করলেই পরমানু বোমা শত্রু দেশে ফেলে দেবে। পরমাণু বোমা কিন্তু হাতে নেই, অথচ পরমানু বোমার ভয় দেখাতে অসুবিধা কোথায়! হিটলারের ভয়ে বিশ্ব কাঁপুক, এমনি একটা মাঝারি মানের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে হিটলার ফল্স আতংকের বার্তা দিলেন। দেশটা যে আমেরিকা! এ কি সহ্য করা যায়!
  পরমাণু বোমা তৈরির দায়িত্ব পড়ল পরমানু বিজ্ঞানী ওপেন হাইমারের উপর। আইনস্টাইন সমর্থন দিলেন। আইনস্টাইন তখন জনপ্রিয়তার মধ্য গগণে। কেননা এই বোমা বিষয়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট একেবারে অজ্ঞ। আইনস্টাইন যদি মত দেন তাহলে অসুবিধা নেই। আইনস্টাইন তখন দেশ থেকে বিতাড়িত হওয়ার জ্বালায় জ্বলছেন। হিটলার মাঝারি মানের বোমা তৈরির জন্য যতটাই দায়ী আইনস্টাইন পরমানুবোমার ভয়ঙ্কর ক্ষতির কথা জেনেও বোমা তৈরিতে মত দেওয়ার জন্য ও প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টকে রাজি করানোর জন্য ততোধিক দায়ী। কারণ বিশ্বে নিন্দার ঝড় যখন উঠবে আইনস্টাইন তখন একেবারে একঘরে হয়ে পড়বেন। আইনস্টাইন শুধু মত দিয়েছেন, কিন্তু রূপকার হলেন বিজ্ঞানী ওপেনহাইমার ও যুদ্ধবাজ নেসলি রিচার্ড গ্রোভস। লেসলি রিচার্ড গ্রোভস ম্যানহাটনের প্রোজেক্টের প্রধান ছিলেন। তাঁরই ইচ্ছায় তিনি বিজ্ঞানী ওপেনহাইমারকে কাজে লাগিয়ে আড়াই বছরের চেষ্টায় তিন তিনটি পরমানু বোমা তৈরি করে ফেললেন।
  ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দের ১৬ জুলাই প্রথম পরীক্ষা করা হলো ভোরবেলা আলমোগার্ডোর মরুভূমিতে। আর তার ঠিক পরেই জাপানের হিরোশিমায় ফেলা হয় ৬ আগষ্ট। আর ৯ আগষ্ট নাগাসাকিতে। এখন এই ওপেনহাইমার ও গ্রোভসের কে? সেই পরিচয় জানতে ইচ্ছে করছে না? তাই হোক পরের পর্বে।
             ( চলবে)

  @কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস। 

            
  
  


২টি মন্তব্য:

শিরোনাম - বন্ধ দরজার আড়ালে✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - বন্ধ দরজার আড়ালে ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বন্ধুদের নিয়ে ছুটিতে গ্রামে ঘুরে আসার প্রস্তাব দিলো তন্ময়। শুনে তো বাকি তিন বন্ধু রাকেশ,শুভ...