সোমবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

ইনটুইশন~অনিশা

 ইনটুইশন~অনিশা

ইনটুইশন হল কোন বিষয়ে সাধারন দৃষ্টিতে পর্যাপ্ত তথ্য না  জেনে সঠিক বা প্রায় সঠিক সিদ্ধান্তে পৌছান। এ যেন এক স্বতঃলব্ধজ্ঞান যে অনুভূতি বাইরে থেকে নয়, এক্কেবারে অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে আসে। 

আমরা পাঁচটি ইন্দ্রিয় থেকে যে তথ্যলাভ করি, আমাদের জ্ঞান এবং বুদ্ধি দিয়ে তার বিশ্লেষন করি। একথা সত্যি যে, "আমরা মানব মস্তিস্কের কতটুকুই বা জানি?" তবু চোখ কান খোলা রেখে নিজের অর্ন্তজ্ঞান এর উপরে ভরসা করেও আমরা অনেকেই অনেক কিছু অনুভব করতে পারি। হয়তো একেই আমরা বলি ষষ্ঠেন্দ্রিয়। এই অনুভব করার ক্ষমতা কারুর অনেক বেশী, কারুর কম। 


আমার বন্ধু পল্লবী বড়ুয়া,  নিজের নাম রেখেছিল "অনন্ত আকাশে।" আমি প্রথম শুনে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম, "তুমিই অনন্ত আকাশে?" উত্তরে মজা করে বলেছিল, "হ্যাঁ গো, এই হতভাগিনীই  অনন্ত আকাশে"। 


একটি অপ্রকাশিত কবিতায় তার একটি লেখা তুলে ধরতে চাই, অগনিত ভক্তবৃন্দের কাছে। লেখার তারিখ ৪ঠা ফেব্রুয়ারি, আর সেই "কালের ডাক" এলো ১৪ই ফেব্রুয়ারি। সত্যিই কি ব্যাপার টা কাকতালীয়?

"গহীন রাত্রে,বিজন আঁধারে,

সুখায়িত ঘুমের গভীরে,

শুনেছিলে! কি সেই ডাক?

তবে কি যমদূত দাঁড়ালো?

এসে মোর শিয়রে!"


তবে কি সত্যিই তার অন্তরাত্মা কিছু টের পেয়েছিল? নয়তো কেন সেই কবিতার পরবর্তী অংশে পাই, 

"নিকষ কালোয় দেখা সেই,

কাল ঘড়ির অমোঘ ডাকে,

অন্তরাত্মা ওঠে মোর থরথরিয়ে কেঁপে,

কি হবে উপায় তব ক্ষণে ক্ষণে ভেবে।"


আবার মনে হয়, হয়তো না। তার শিল্পী সত্বার প্রতিভা দিয়ে তৈরী নিছকই একটি সুন্দর কবিতা মাত্র।  যার মনে মৃত্যু ভীতি থাকবে, সে কিভাবে জীবনকে উপভোগ করার জন্য সমূদ্র উপকূলে ছুটে যাবে। একমাত্র সন্তানকে সঠিক ভাবে "সত্যিকারের মানুষ" করার ব্যাকুলতা সচারাচর চোখে পড়ে না। ও বলতো, "আমি চাই আমার ছেলে লেখক হবে।" আমি তো এখনও পর্যন্ত কখনও কোনো অভিভাবককে একথা বলতে শুনিনি। হয়তো অনেকেই চান, কিন্তু আগে পড়াশুনা করে চাকুরীজীবির নিশ্চিত জীবন। তারপর লেখালেখি।  তার জীবনের ভালোলাগা, ভালোবাসা এত সহজে সবাইকে আপন করে নেওয়ার মতো মানবিক গুণ, অসাধারণ লেখনী সর্বগুণের সমন্বয়ে তৈরী এক মানবী। তাই তো সৃষ্টি কর্তার ওকে এত তাড়াতাড়ি প্রয়োজন হলো। ঈশ্বর দুষ্টের দমন করেন, শিষ্টের পালন করেন। কিন্তু সেই দুষ্ট লোকেদের জন্যই তো তাকে চিরবিদায় নিতে হলো।  যে ছোট্ট বাচ্ছাটিকে অকালে মাতৃহারা হলো তার প্রতি ঈশ্বরের এ কি বিচার? আমাদের প্রাণের ঠাকুর সঠিক ভাবে আমাদের মনের কথাগুলোই বলেন, "তাই তো তোমায় শুধাই অশ্রুজলে--

যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,...."


সত্যিই আমাদের আদরের পোলো কে যে এত তাড়াতাড়ি "অনন্ত আকাশে" হারিয়ে যেতে হবে শুধু আমি কেন, সে নিজেও হয়তো ভাবতে পারে নি। এখন শুধু আমাদের স্মৃতিচারণ আর দীর্ঘশ্বাস ফেলা ছাড়া আর কিছু করার নেই। যাকে কখনো চোখে ও দেখিনি, ভার্চুয়াল বন্ধু যে এত আপন হতে পারে, আমাদের "লেখক ও লেখনী" পরিবারের সকল সদস্য আজ অত্যন্ত দুঃখজনক ভাবে অনুভব করলাম।



৪টি মন্তব্য:

  1. অসাধারণ লিখেছ। ওর পরিপূরক আর পাবো না। এই যা আফশোস। ধন্যবাদ। 👍👍👌👌❤❤

    উত্তরমুছুন
  2. কেউ তো কখনো কারুর পরিপূরক হয়ে উঠতে পারে না। ওর মতো ভালো বন্ধু আর কোথায় পাবো? ওর গলার আওয়াজে এত আন্তরিকতা এখনও মনে বাজে। 😓😥

    উত্তরমুছুন

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...