শনিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ✍️নন্দিনী তিথি


আজ কেন জানি আমার রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা কোটি চরন

খুব মনে পড়ছে-

"স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে,করে বাঁচিতে চায়?

দাসত্ব শৃঙ্খল বল,কে পরিবে পায় হে, কে পরিবে পায়?

তাই ইংরেজিতে বলা হয়-

Freedom is the eternal desire of man.

অর্থাৎ স্বাধীনতা হলো মানুষের চিরন্তন আশা।

অর্থাৎ *স্বাধীনতা হল মানুষের চিরন্তন র্থাৎ *স্বধীনতর চিরন্তন আশা।*একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালি তথা বিশ্ববাসীর এক বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ দিন।আমাদের জাতীয় জীবনে এই তারিখটি এক অগ্নিমশাল,আমাদের অস্তিত্বের শিকড় এবং মা,মাটি ও মানুষকে ভালোবাসা শিক্ষার কেন্দ্রবিন্দু।এই বিন্দু থেকে জন্ম নিয়েছে স্বাধীনতার লাল সূর্যের মতো আমাদের দীপ্ত অহংকার। 

১৯৫২ সালের এদিনে বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে সংঘটিত ষড়যন্ত্র রুখতে গিয়ে শহিদ হয় এদেশের বীর সন্তানরা।ভাষার জন্য আত্মোৎসর্গের এ নমুনা পৃথিবীতে বিরল।এ দিনটি তাই বাংলাদেশের "জাতীয় শহিদ দিবস" এবং সারাবিশ্বে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃত।

দীর্ঘ ২০০ বছর ব্রিটিশ শাসনের অধীনে থাকার পর ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষ বিভক্ত হয়ে ভারত ও পাকিস্তান নামক দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়।পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান নামক দুটি পৃথক ভূখন্ডের সমন্বয়ে গঠিত হয় পাকিস্তান। কিন্তু একই রাষ্ট্রের দুটি ভূখন্ডের জনগণের মধ্যে ধর্ম ছাড়া আর কিছুতেই মিল ছিল না।পশ্চিম পাকিস্তানিরাই শাসন করত এই দুই ভূখন্ড বিশিষ্ট রাষ্ট্রকে।১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই এদেশবাসী উর্দুর পাশাপাশি বাংলাকে রাষ্ট্র্রভাষা করার দাবি জানায়।কেননা পাকিস্তানের শতকরা ৫৬ জন লোকই ছিল বাংলাভাষী। কিন্তু ১৯৪৮ সালের ২৪ শেষ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষণা দেন, " উর্দু এবং উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্র্রভাষা।"

এ ঘোষণার তাৎক্ষণিক প্রতিবাদস্বরূপ সমবেত ছাত্ররা 

'না, না, না' ধ্বনি দিয়ে এর প্রতিবাদ জানায়।এরই মধ্যে ১৯৫২ সালের ৩০শে জানুয়ারি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দীন আবারও ঘোষণা দেন- "Urdu will be the on state language of Pakistan."

এ ঘোষণায় এদেশের মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। সারাদেশে গড়ে ওঠে দুর্বার গণআন্দোলন। এর প্রতিবাদে ৪ঠা ফেব্রুয়ারি ছাত্র ধর্মঘট,১১ই ফেব্রুয়ারি প্রস্তুতি দিবস।কিন্তু ২০ ফেব্রুয়ারি শাসকগোষ্ঠীর নির্দেশে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।ফলে আবার বাংলার আপামর জনসাধারণ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং ১৪৪ ধারা অমান্য করে রাজপথে নেমে 'রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই' স্লোগানে মুখরিত করে তোলে। বিক্ষুদ্ধ ছাত্র- জনতার মিছিলে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়।গুলিতে শহীদ হন সালাম,জব্বার,বরকতসহ নাম না জানা অনেকেই।

অবশেষে শাসকগোষ্ঠী জনতার দাবির কাছে নতি স্বীকার করে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করে।

ভাষা শহীদদের স্মৃতিকে অমর করে রাখার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্রাবাসের সামনে শহিদ মিনার প্রতিষ্ঠা করা হয়।শহিদ শফিকুর রহমানের পিতাকে দিয়ে শহিদ মিনার উন্মোচন করা হয়।এভাবেই ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটে।সেই থেকে ২১শে ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

একুশ মানে সংগ্রাম,একুশ মানে জাগ্রত চেতনা।এটি একটি লাল তারিখ। এই আন্দোলন ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৯৯০ এর গণ-অভ্যুত্থানে প্রেরণা জুগিয়েছে। 

'২১'  বাঙালির জীবনদর্শন এবং বাংলাদেশের জন্ম ইতিহাস। 


একুশ আমার অহংকার,

মায়ের ভাষার রূপান্তর।

একুশ আমার গর্ব,

বাংলার দামাল ছেলেরা মৃত্যুকে  দিয়ে-

                       এনেছিল বর্ণমালার স্বর্গ                       

একুশ আমার প্রেম,

লাল সবুজের ফ্রেম।

একুশের চেতনা-

বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠার চেতনা।

একুশ আমার বিশ্বাস,

একুশ আমার নিশ্বাস।

প্রতিবছর বায়ান্নর একুশ আসে

নবনব চেতনা নিয়ে আমাদের মাঝে।

একুশ আছে মনে,একুশ আছে প্রাণে-

একুশ আছে বাঙালির জীবনদর্শনে।।

একুশে আমার সকল ভাষা শহীদদের প্রতি,

জানাই গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি।

             🙏🙏🖤❤️

         Copyright © All Rights Reserved Nandini Tithi.       



২টি মন্তব্য:

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...