বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

শিরোনাম-কণ্ঠস্বর✍️ ডা:অরুণিমা দাস

 শিরোনাম-কণ্ঠস্বর
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

সময়ের নিয়মে বদল হয় অনেক। থেকে যায় কিছু কথা,কিছু কণ্ঠস্বর। প্রথমেই মনে পড়ে ছোটবেলার কথা। স্কুলে মিসরা বলতেন যে কাজ করবে সেটাই মন দিয়ে করো। নিজের একশো ভাগ দিয়ো। আজও তাদের কথা মেনে চলতে চেষ্টা করি। ক্লাস এইটে পড়ার সময়ে একজন দিদিমণি ছিলেন নন্দা দিদিমণি। অঙ্ক ক্লাস নিতেন। আর অঙ্কতে আমি ছিলাম সুপার ডুপার। সিলেবাসে অঙ্ক যে কেনো ছিলো সেই নিয়ে খুব ভাবতাম আমি! একদিন ক্লাসে বলেছিলাম নন্দু মেরি ইয়ারা,তু হ্যায় বহুত প্যারা। ম্যাম বলেছিলেন তোকে আমি বলে দিচ্ছি অঙ্ক জীবনে তোর দ্বারা কোনোদিন হবেনা। ম্যামের কথা কিন্তু অক্ষরে অক্ষরে ফলেছে। অঙ্ক থেকে আমি অনেক দূরে আজ। ম্যামের সাথে দেখা হয়েছিলো যখন বলেছিলাম ম্যাম আপনি ঠিক বলেছিলেন,অঙ্ক হবেনা আমার দ্বারা। ম্যাম আর সাথে থাকা আরও ম্যামরা বলেছিলেন জীবনের অঙ্ক কষিস তুই রোজদিন,আবার কোন অঙ্ক চাই তোর! এটাই আমাদের কাছে গর্বের। আজও ভুলিনি সেই কণ্ঠস্বরগুলো। ম্যাম আজ নেই আমাদের মধ্যে কিন্তু তাঁর বলা কথা রয়ে গেছে। ঠাকুমা,দিদা সবসময় বলতেন কারোর ভালো করতে না পারিস খারাপ করবিনা। খুব মনে পড়ে সেগুলো। চেষ্টা করি আমার দ্বারা কারোর ক্ষতি যেনো না হয়। এক বন্ধু ছিলো স্কুলে,অনেকদিন তার সাথে যোগাযোগ নেই কিন্তু সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় তার গানের ভিডিও আর গলা মনে দাগ কেটে যায় প্রতিদিন। কলেজজীবনে ম্যাম স্যারদের কথা খুব মনে পড়ে। গাইড স্যারের কথা জীবনকে সহজ ভাবে নিবি তাহলে ভালো থাকবি। মনে পড়ে এই কথাগুলো। স্যারের সাথে দেখা হলে আজও কেস নিয়ে আলোচনা হয়। আর কিছু বন্ধুদের বাঁকা কথা সেসবও মনে পড়ে। যারা আমার লেখা নিয়ে হাসাহাসি করতো তারা যখন লেখা পড়ার লিঙ্ক চায় তখন মনে হয় এরা তো হারিয়ে যায়নি এরা আমাকে চ্যালেঞ্জ নিয়ে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। সবাই ভালো থাকুক নিজের মতন। তাদের কথাগুলোই তাদের কথা মনে করিয়ে দেবে। 

"যোগাযোগ থাকুক বা না থাকুক, থেকে যায় কিছুজনের কণ্ঠস্বর
পড়লে মনে সেসব আজও হৃদ মাঝারে ওঠে যে ঝড়।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

শিরোনাম-সাহস✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম-সাহস ✍️ ডা: অরুণিমা দাস সত্যি কথা বলতে সত্য কিন্তু অপ্রিয় হয়। মিথ্যেকে আড়াল করার অনেক পন্থা পাওয়া গেলেও সত্যকে চাপা দেওয়া একটু...