শনিবার, ২৮ আগস্ট, ২০২১

বিতর্ক## বিপক্ষে বক্তব্য : শর্মিষ্ঠা ভট্ট

 *আজ এই বিষয়ের বিপক্ষে লিখলাম*



বিষয় টিতে বলা আছে... বৃদ্ধাশ্রম আধুনিক সমাজের অগ্রগতি পথে একটা অন্ধকার দিক।। 

মেনে নিতে পারলাম না। বৃদ্ধাশ্রম এক প্রাচীন প্রথা। যা হয়ত সমাজ ও সময়ের গা ফিলতিতে হারিয়ে গিয়েছিল। আধুনিক সমাজ তা খুঁজে নিয়েছে কিংবা বলা যায় একটা সুস্পষ্ট রূপান্তর ঘটিয়েছে। 

"চতুরাশ্রম " কন্সেপ্ট মেনে নিলে.... সর্বশেষ   বানপ্রস্থ ও সন্ন্যাস। এই বানপ্রস্থ যাকে ইংরেজিতে  রিটায়ার্ড বলা হয়েছে। এই অবস্থায় স্ব পাক ও খাদ্য বস্ত্রের বিলাশ নিবৃত্তির কথা বলা হয়েছে। 

প্রাচীন সমাজে তা মানা হত। এতে ব্যক্তি স্ব ইচ্ছায় নিজেকে তৈরী করত মুক্তি লাভের জন্য। সময় গড়িয়ে গেছে। ভোগ ও বয়সের জ্ঞান কমে গেছে। কিংবা সেই প্র্যাকটিস বা অভ্যাস থেকে ধীরে ধীরে ভারতীয় মানুষ সরে গেছে। কিন্তু সমস্যা রয়ে গেছে। এই বয়সের কর্মহীন মানুষ নিজের ও অন্যের কাজের বাঁধা হয়ে যায়। বিকাশ রোধ হয়। অনেক সময় দেখা যায় পঞ্চাশ বছরের অনেকে ডিসিশন নিতে পারেন না। কারন পূর্বপুরুষদের তার ওপর ছাতা হয়ে থাকা। একটা বয়সের পর নিজেকেই এই ভাবে তৈরী করা উচিৎ.... সংসার থেকে মুক্তি। তাতে একটা সামাজিক ভারসাম্য রক্ষা হয়। জেনারেশন গ্যাপের চিন্তাধারা অনেক পার্থক্য হয়। অনেক সময় এই নিয়ে অশান্তি লেগে থাকে। আমার ব্যক্তিগত মত. ..সামাজিক সুস্থতার কারনে সরকার থেকেই উদ্যোগ নেওয়া উচিত। অনেক অবাঞ্ছিত বৃদ্ধ /বৃদ্ধা ওষুধ খাদ্য বস্ত্র পায় না, সংসারে থেকেও। যদি একটা বয়সের পর এই সব মানুষদের জন্য ফাউন্ডেশন খোলা হয়। ঘরে থেকে রোজ ঝগড়া নাটক কোন সুস্থতার কথা নয়, বাচ্চাদের ওপর তার প্রভাব পড়ে। তার থেকে বৃদ্ধাশ্রম কন্সেপ্ট মাথায় রেখে জীবনের প্রথম থেকে যদি কিছু টাকা সরকারি উদ্যোগে রাখার নিয়ম থাকে, এবং প্রতি সন্তানের আয়ের সামান্য কনা যদি রেগুলার জমা হয়। বৃদ্ধাশ্রমের থেকে ভয় মানুষের মনের ভ্রম, মায়ার বন্ধন। আগে থেকেই মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকলে নিজেকে এবং সন্তানের মুক্ত জীবন দেওয়া যায়। বিদেশে বাবামা বৃদ্ধ বয়সে অনেকে একা থাকেন তাদের এত কাঁদুনি বা হাহাকার নেই। কারন সহজে এ্যাকসেপ্ট করার মানসিকতা তৈরী করতে হবে। আসল কথা অভ্যাস বা প্র্যাকটিস। দিনের পর দিন যদি বৃদ্ধাশ্রম অভ্যাস করা যায় তাহলে পরবর্তী প্রজন্মের ক্ষেত্রে এটি অতি সহজ সামাজিক কালচার বা সংস্কৃতি হয়ে দাঁড়াবে। 

নমস্কার

শুক্রবার, ২৭ আগস্ট, ২০২১

স্বপ্নের গুঞ্জন- জয় ঘোষ / পিছুটান

 

#পিছুটান 🖋️

জানিস তো মামনি,, আমি যখন ছোটো ছিলাম তখন বাড়ি থেকে আমার বাবা কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলেন না যে, তার মেয়ে পাড়ার মঞ্চে গিয়ে নাচ করতে পারে? সেই জন্ম থেকে দেখছি সংসারে দাদারা যে আদর যত্নটা পেয়েছে সেটা আমি কখনো পেলাম না। তা নিয়ে এই বয়সে আর কোনো আক্ষেপ নেই। তবে ওই যে "মা" বলে একজন মানুষ প্রত্যেকটা সংসারে থাকে। যে ছেলে-মেয়ে সকলকে এক চোখেই দেখে নিজের সন্তান হিসেবে। তার জন্যই আমি কখনো মরতে পারলাম না। 

বাবার থেকে, দাদাদের থেকে সব সময়ই এত অপমান আমি পেতাম যে, আর বাঁচতে ইচ্ছা করতো না। কতবার মরার চেষ্টা করেছি জানিস! কিন্তু পারিনি। শুধুমাত্র একটা মানুষের মুখ চেয়ে। 

ভেবেছি আমি যদি মরে যাই তাহলে সে আর বাঁচবে না। তাই মায়ের জন্য আমাকে বাঁচতেই হবে। 

আর দেখ, বিয়ের পরে কপালের ফেরে সেই একি অপমান সহ্য করছি তোর বাবা দাদুর থেকে। কিন্তু মরতে পারছি না। 

এখন তুই প্রশ্ন করতেই পারিস যে, দিদা তো মারা গেছে তাহলে তোমার এখন বাঁধা কিসের?

তখন উত্তরে আমি বলব,, বাঁধা তো তুই রে মা? বিয়ের আগে ভাবতাম মা যদি কখনো মারা যায় তাহলে আমিও আর থাকবো না এই পৃথিবীতে। আর তোর জন্মের পর থেকে ভাবি আমি যদি মারা যাই তাহলে তোর কি হবে? 

আমার মুক্তি কি আর হবে না রে মা?

এই পিছুটান নিয়েই কি আমাকে সারা জীবন চলতে হবে? এটাই কি মেয়েদের জীবনের দুর্বলতা হয়ে থেকে যাবে বংশ-পরম্পরা ধরে? শুধুমাত্র এই একটা শব্দের জন্যই কি আমরা বাঁধন খুলে বেরোতে পারবো না? "পিছুটান"...


© জয়...🍂

শুক্রবার, ২০ আগস্ট, ২০২১

অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর(সুদেষ্ণা দত্ত)


 বিষয়:অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর

সুদেষ্ণা দত্ত

 

জন্ম:৭ই আগস্ট,১৮৭১

মৃত্যু:৫ই ডিসেম্বর,১৯৫১

                  বহু প্রতিভার জন্মস্থান কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুর বাড়ী।এই ঠাকুর পরিবারে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ,সত্যেন্দ্রনাথ,দ্বারকানাথ,গগনেন্দ্রনাথ,রবীন্দ্রনাথ প্রমুখ বহু দিকপালের জন্ম হয়।সেই নক্ষত্র গোষ্ঠীর এক অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র হলেন অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর।অবনীন্দ্রনাথের পিতা ছিলেন দ্বারকানাথের পৌত্র গুণেন্দ্রনাথ।

                 রবীন্দ্রনাথের মতোই অবনীন্দ্রনাথ বিদ্যালয়ের প্রথাগত ধরাবাঁধা শিক্ষায় মনোযোগী ছিলেন না।ঠাকুর বাড়ীর গৃহ শিক্ষকের কাছেই শিক্ষালাভ করেন।অল্প কিছুদিন সংস্কৃত কলেজেও পড়েছিলেন।ইংরেজী,ফরাসী,সংস্কৃত ও বাংলা সাহিত্যে তাঁর দখল ছিল।

        হাতের কাজ ও চিত্রশিল্পের প্রতি ছিল তাঁর সহজাত আকর্ষণ।অল্প কিছুকাল সংস্কৃত কলেজে অধ্যয়ন করার পর প্রথমে ইতালিয়ান শিল্পী সিগনোর গিলহার্ডি এবং ইংরেজ শিল্পী লেডি পামারের কাছে চিত্রাঙ্কন বিদ্যা শিক্ষায় মনোনিবেশ করেন।এই রীতিতে চিত্রাঙ্কন করে তিনি তৃপ্তি পাননি।এরপর শুরু হয় ভারতীয় চিত্রাঙ্কন রীতির পুনরুদ্ধারের সাধনা।প্রাচীন হিন্দু শিল্পকলা ও মুঘল চিত্রকলা চর্চায় মনোনিবেশ করেন।১৯০৫ সালে তিনি গভর্নমেন্ট আর্ট স্কুলের সহাধ্যক্ষ ও পরে অধ্যক্ষ হয়েছিলেন।

        অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাধারে সাহিত্যিক,শিল্পী,শিল্প গুরু এবং শিল্পরসিক।তাঁর প্রতিটি সৃষ্টিই আনন্দময় সৃজনের স্বর্ণসম্ভার।অবনীন্দ্রনাথের কালজয়ী প্রতিভার স্পর্শেই লুপ্তপ্রায় ভারতীয় শিল্পকলা সঞ্জীবিত হয়ে উঠেছিল নতুন নতুন সম্ভাবনায়।আবার এই অদ্বিতীয় শিল্প স্রষ্টার মধ্যেই লুকিয়ে ছিল এক কথাশিল্পী মানুষ।সেই ‘ছবি লিখিয়ে’ অবন ঠাকুরের অনন্য অবদান বাগীশ্বরী শিল্প প্রবন্ধাবলী।

           সাহিত্যে তাঁর লাজুক পদসঞ্চার হলেও সহজ-সরল কথপোকথনের ভঙ্গীতে শিশু হৃদয়ে স্থায়ী আসন লাভ করেছেন।তিনি শিশু মনোরাজ্যের খবর রাখতেন।শব্দের সঙ্গীত সৃষ্টিকারী দিকটি তিনি চর্চার দ্বারা উদ্ঘাটিত করেছিলেন।তাঁর শকুন্তলা,রাজকাহিনী,নালক,বুড়ো আংলা,খাজাঞ্চির খাতা,ভূতপরীর দেশ,মারুতির পুঁথি,আলোর ফুলকি মালি,একে তিন তিনে এক,রংবেরং ইত্যাদি গ্রন্থ সহজ সরল ঘরোয়া ভাষায় রচিত অপূর্ব সাহিত্য।আত্মজীবনীমূলক স্মৃতিচিত্র ‘আপন কথা’, ‘জোড়াসাঁকোর ধারে’, ‘ঘরোয়া’ সাহিত্য তাঁর অক্ষয় কীর্তি।

    বিধাতা তাঁর হাতে তুলি ও বর্ণের ভান্ডার দিয়ে পাঠিয়েছিলেন,তাঁর প্রবন্ধ-নিবন্ধেও লেগেছে সেই রঙের ছোঁয়া।শিল্পী অবনীন্দ্রনাথ ভারত শিল্পাকাশে এক উজ্জ্বলতম জ্যোতিষ্ক।কেউ কেউ বলেন প্রতিভা আগুন।সত্যিই প্রতিভার এমন অগ্নিময় স্পর্শে তাঁর প্রত্যেকটা সৃষ্টিই হয়ে উঠেছে সোনা।

©কপিরাইট রিজার্ভড ফর সুদেষ্ণা দত্ত। 

            

            

         

নাম-খাওয়া(সুদেষ্ণা দত্ত)


নাম--খাওয়া(সুদেষ্ণা দত্ত)

 খাদ্য গ্রহণের সময় অনেকেই প্রথম গ্রাস ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে নিবেদন করেন।তাই জগন্নাথ দেবের ছাপান্ন ভোগ দিয়ে শুরু করছি আজকের নিবেদন।পুরাণ মতে যশোদা বালক কৃষ্ণকে আট প্রহর খেতে দিতেন।দেবরাজ ইন্দ্রের রোষে পড়ে যখন একসময় মহাপ্রলয়ের সৃষ্টি হয়েছিল তখন শ্রীকৃষ্ণ জীব জগৎকে রক্ষা করতে কনিষ্ঠ আঙুলে গোবর্ধন পাহাড় তুলে নিয়ে সাতদিন ছিলেন নির্জলা উপবাসে।যে ছেলে দিনে আটবার খায় তাকে সাতদিন উপবাসে দেখে যশোদার মাতৃ হৃদয় ব্যাকুল হয়।তিনি ও ব্রজবাসীরা মিলে সাতদিনের আটপ্রহর হিসেবে ছাপ্পান্নটি পদ কৃষ্ণকে নিবেদন করেছিলেন।নারায়ণের সেই ছাপ্পান্ন ভোগই রূপভেদে মহাপ্রভুর ছাপ্পান্ন ভোগ।

ভিতরে মরিচ গুঁড়ো বাহিরে জুড়ায় সুতা।

তৈলে পাক করিয়া রান্ধে চিংড়ির মাথা।।

এই সুস্বাদু ব্যঞ্জনটি বরিশাল জেলার গন্ধ বহন করে আনে।স্থান,কাল ভেদে খাবারও নানা রকম হয়।ভাল রাঁধুনি কলমি শাকের গন্ধ নিয়ে পুকুর চেনে।যে কচু গাছের ছড়ার মত পাতা বেরিয়েছে,ফুলের মত হয়ে আছে গাছ--সেই গাছই গর্ভবতী বলে বুঝতেন পাকা রাঁধুনি।তারমধ্যে টইটম্বুর দুধ।ঠাকুমা—দিদিমাদের হাতের আচার,বড়ি, আমসত্ত্ব আজও কত নাতি—নাতনীর জিহ্বার লালা ক্ষরণ ঘটায়।

ইংরেজ আমলে বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষ হয়েছিল প্রায় আঠারো বার।তবে মেছো বাঙালী কিন্তু ইংরেজ বা ডেনদের সঙ্গে মাছ খাওয়ায় পংক্তিভোজনে আসতেই পারবে না।ঈশ্বর গুপ্তের লেখনী থেকে জানা যায় ইংরেজদের সঙ্গে ভেটকি,চিংড়ি,ইলিশের প্রতিযোগিতার বাজার ছেড়ে বাঙালী কুচো চিংড়ি আর চুনো পুটিকেই  অবলম্বন করে বাড়ায় তাদের স্বাদের আস্বাদ।আর বিদেশীরা বেছে নেয় দেশী তপসে।অষ্টাদশ,উনবিংশ শতকের গোড়ার দিকে এই তপসে মাছ ছিল কলকাতার ইংরেজদের আরাধনা।তপসে মাছ ইংরেজদের এত প্রিয় ছিল যে এক ডিস তপসে মাছ খাওয়ার জন্য বিলেত থেকে সমুদ্র যাত্রার ধকল নিতেও তারা প্রস্তুত ছিল।আমের মরসুমে তপসের আবির্ভাব বলে ঈশ্বর গুপ্তের মতে, 

‘ এমন অমৃত ফল ফুলিয়াছে জলে।

সাহেবরা সুখে তাই ম্যাঙ্গো ফিশ বলে’।।

স্থাপত্যকে খাবারের সঙ্গে যুক্ত করে অযোধ্যার নবাবরা মাছকে প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করেছেন।নবাব বংশের প্রতিষ্ঠাতা সাদাত আলি পুরোনো লখনৌয়ের কেল্লার নাম রাখেন মচ্ছিভবন।এই মাছের প্রতীকের আদি হিসেবে দুটি তত্ত্বের উল্লেখ আছে।প্রথমত,এই মাছ এক মান্য ধর্মীয় পুরুষ খাজা খিজিরের প্রতীক।তাঁর তত্ত্বাবধানেই ছিল পুরাণের সেই অমরত্বের কূপ।তিনি তার পবিত্র জল পান করেছিলেন।দ্বিতীয়ত,ইসলাম পূর্ব আমলে শেখ আব্দুল রহিম নামে বিজনৌরের এক ভাগ্যান্বেষী পারস্যে শাহী জায়গীর লাভ করেছিলেন।শেখ রহিম শাহী দরবার থেকে মৎস্য ধ্বজা দ্বারা সম্মানিত হয়েছিলেন।তাঁর কেল্লার একটা বাড়ীতে ছাব্বিশটা খিলান ছিল।তার প্রত্যেকটিতে দুটো-দুটো করে মোট বাহান্নটা মাছ খোদাই করা ছিল।তাই কেল্লাটির নাম হয়ে যায় মচ্ছিভবন।

কথিত আছে তৈমুর লঙের হাত ধরে ভারত ভূমির মাটি স্পর্শ করে প্রায় সকল মানুষের কাঙ্খিত বিরিয়ানি।আর কলকাতা বিরিয়ানি—যাতে আলু যুক্ত হয় তা আসে অযোধ্যার নবাব ওয়াজেদ আলি শাহের হাত ধরে।নবাব মেটিয়া বুরুজকে ছোটখাটো লখনৌতে পরিণত করেছিলেন।তাঁর শিরা—ধমনীর শোনিত ধারায় ছিল নবাবিয়ানা।সেই বিলাস—ব্যসনে নবাবী কোষাগারে টান পড়ে।আলুর দাম যদিও তখন কম ছিল না।কিন্তু মাংসের থেকে তো কম।তাই পর্তুগিজদের হাত ধরে আলু আসার পরেই পরিমাণ বাড়াতে সমস্ত নবাবী কর্মচারী ও সেনাবাহিনীর জন্য তৈরি হয় এই নতুন বিরিয়ানি।

সেই কবে মহাভারতের বনপর্বে যুধিষ্ঠির বলে গিয়েছিলেন, “সাধুগনের গৃহে তৃণ,ভূমি,জল ও সুনৃত এই চারি দ্রব্যের কোনকালেই অপ্রতুল থাকে না।গৃহস্থ ব্যক্তি পীড়িত ব্যক্তিকে শয্যা, শ্রান্ত ব্যক্তিকে আসন,তৃষিত ব্যক্তিকে পানীয়,ক্ষুধার্ত ব্যক্তিকে ভোজন ও অভ্যাগত ব্যক্তির প্রতি নয়ন,মন ও প্রিয় বচন প্রয়োগ ও উত্থান পূর্বক আসন প্রদান করবে।ইহাই সনাতন ধর্ম”।ভারতবাসী আজও এই ধারা বয়ে নিয়ে চলার চেষ্টা করছে।


 ©কপিরাইট রিজার্ভড ফর সুদেষ্ণা দত্ত।

ঋনস্বীকার:শ্রীপান্থর বিভিন্ন লেখনী,কল্লোল লাহিড়ীর রচনা,অন্তর্জাল।

ছবি সৌজন্য:গুগুল

 

        

 

 

মঙ্গলবার, ১৭ আগস্ট, ২০২১

শিরোনাম--চাঁদের হাসি ,।(কলমে-- পারমিতা মন্ডল)

বিষয়--- ছবি দেখে লেখা ।
শিরোনাম-- চাঁদের হাসি।
কলমে -- পারমিতা মন্ডল।
 
পৃথিবীর সবচেয়ে চির নতুন একটি শব্দ হলো মা । যা বহু ব‍্যবহারেও কোনদিন পুরনো হবে না। 

পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় হলো মা, এই মা নামক ছাদটি একমাত্র মৃত্যু ছাড়া কেউ কেড়ে নিতে পারে না।

পৃথিবীতে সবচেয়ে মিষ্টি মুখ হলো মায়ের মুখ। সে মা গরীব হোক বা বড়লোক।
আর পৃথিবীতে সবচেয়ে পবিত্র হাসি হলো শিশুর হাসি। সে শিশু হোক না কোন বড়লোকের বা পথ শিশুর।

আজকের চিত্রে আমারা দেখতে পাই, রাস্তার মধ্যে মৃত মায়ের পাশে একটি শিশু নিশ্চিন্তে খেলে যাচ্ছে।  সে জানেও না , তার জীবনের শ্রেষ্ঠ ও নিরাপদ আশ্রয়টা এই মুহূর্তে আর নেই। তবুও মৃত মায়ের গন্ধ গায়ে মেখে পরম নিশ্চিন্তে খোলা আকাশের নীচে,  পাখিদের উড়ে যাওয়া দেখে খিলখিলিয়ে হেসে উঠেছে।ঊষার রবির ছটায় ,তার চোখে মুখে ফুঁটে উঠেছে এক তেজস্ক্রিয় দীপ্তি।সেও যেন সূর্যের মত উজ্জ্বল হতে চায়। পাখিদের মত আকাশে উড়তে চায়। ফুটতে চায় ফুলের মত।  কিন্তু তার জীবনে দীপ জ্বালানোর সূর্য যে কিছুক্ষন আগে অস্ত গেছে। অবুঝ শিশু তা বোঝে না। এরপর এক সময়  দিনের সূর্যও অস্ত যাবে। আকাশে উঠবে পূর্ণিমার চাঁদ।  সেই আকাশের চাঁদের সাথে পাল্লা দিয়ে এই মাটির চাঁদও, জ‍্যোৎস্না ছড়াবে চারিদিকে। হয়তো আকাশের চাঁদ হার মেনে নেবে এই ক্ষুদে চাঁদের সৌন্দর্যের কাছে। তবুও মাটির চাঁদ হেরে যাবে, হারিয়ে যাবে একদিন গহন অন্ধকারে। কারণ তাকে সামলে রাখার মানুষটি আর নেই।

আকাশের চাঁদের নিরাপদ আশ্রয় তার অনন্ত আকাশ। তার সমস্ত কলঙ্ককে আড়াল করে, জ‍্যোৎস্নাটাকে ছড়িয়ে দেয় পৃথিবীতে। কিন্তু এই মাটির চাঁদ ? আজ যে তার আশ্রয় হারালো । এরপর একদিন সে হাজার কলঙ্কে একটু একটু করে ডুবে যাবে। একদিন হারিয়ে যাবে অন্ধকারের চোরাগলিতে। আশ্রয় হবে কোন দুস্কৃতি নারী পাচারকারী দলের কাছে। অথবা কোন পতিতালয়ে।

পৃথিবীর সমস্ত বিপদ থেকে তার সন্তানকে রক্ষা করতে পারে একমাত্র তার মা। আজ সেই ছাদটাই হারিয়ে গেল শিশুটির মাথার উপর থেকে। বড় নিষ্ঠুর এই পৃথিবী।

All rights are reserved by paramita.

সোমবার, ১৬ আগস্ট, ২০২১

# নাম - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ✍️ - মৃদুল কুমার দাস।

শুভ সান্ধ্যকালীন সাহিত্য আলোচনা-বাসর।
 #বিষয় - *চিত্রশিল্প।*
#নাম - 
    *অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর।*
✍️ - মৃদুল কুমার দাস।

    সৃষ্টির জন্য শ্রষ্টা হন মহৎ,যদি সৃষ্টি হয় সর্বোত্তম। জোড়াসাঁকোর ঠাকুর বাড়ি বঙ্গীয় শিল্প সংস্কৃতিতে নবজাগরণের একটি বিশেষ ঘরাণা ছিল। ঠাকুর বাড়ির এক একজন জ্যোতিষ্ক - সত্যেন্দ্রনাথ,জ্যোতিরীন্দ্রনাথ,রবীন্দ্রনাথ, গুণীন্দ্রনাথ,গগনেন্দ্রনাথ,সমরেন্দ্রনাথ,অবনীন্দ্রনাথ পরিমন্ডলে ঠাকুর বাড়ি শুধু কি,সমগ্র বাংলা আলোকপ্রাপ্তিতে ভাস্বরতা লাভ করেছিল। তাঁদের হাত ধরে এসেছিল ড্রামাটিক ক্লাব, পত্রপত্রিকা, শিশুপত্রিকা,খামখেয়ালিসভা- এ সবের মধ্যয দিয়ে সৃষ্টির এক একরকম উন্মাদনা বলতে উন্মাদনা! এই ধারায় দু'জন ছিলেন সেরার সেরা - একজন রবীন্দ্রনাথ ও অন্যজন অবনীন্দ্রনাথ। অবনীন্দ্রনাথ পিতা গুণীন্দ্রনাথকে অকালে হারিয়ে পিতৃব্য রবীন্দ্রনাথ তাঁর জীবনের প্রধান সহায় হয়ে উঠলেন। কবিরও অবনীন্দ্রনাথকে খুব দরকার পড়েছিল। যেভাবে খামখেয়ালী সভার দায়িত্ব পালনে এক মহীরুহ হয়ে উঠছেন, কবির না ভাল লেগে পারে। ধুরন্ধর এক প্রতিভার সার্থক গাইড হলেন রবীন্দ্রনাথ। অবনীন্দ্রনাথ ভাল গল্প বলতে পারেন, আর তাকে লেখায় প্রতিষ্ঠা ঠিকঠাক দিলেই কবির লক্ষ্যপূরণ ব্যর্থ হওয়ার নয়। কবির হাত ধরে চলল লেখিয়ে হওয়ার প্রবল তৎপরতা। 
  কবি অবনীন্দ্রনাথকে পেলেন তেপান্তরের মাঠে নিরুদ্দেশে যাত্রার গল্প বলার আবেশে,পেলেন কথকতার সুরে,আর চিত্ররচনার আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ যেন হাতে নিয়ে ঠাকুর বাড়ির দক্ষিণের বারান্দার জগৎ ছিল তাঁর একান্ত নিজের। বিরল প্রতিভার অধিকারী মুখের ভাষাকে অনবদ্য চিত্ররূপ দেওয়ার অনায়াস দক্ষতা ছিল। আর অসাধারণ বাগ্মীগুণ তো ছিলই। অবনীন্দ্রনাথের শিল্পকীর্তিতে মুগ্ধ কবি একসময় রাণি চন্দকে রসিকতা করে অবন ঠাকুরের রচিত 'ঘরোয়া' প্রসঙ্গে বলেছিলেন- "সত্যিই অবনের সৃজনীশক্তি অদ্ভুত। তবে ওর চেয়ে আমার একটা জায়গায় শ্রেষ্ঠতা বেশি,তা হচ্ছে আমার গান। অবন আর যাই করুক গান গাইতে পারে না। সেখানে ওকে হার মানতেই হবে।" এই বলে কবি হাসতে লাগলেন। কবি নিজের সঙ্গে তুলনা করার এই সহজ রসিকতায় অবন নিয়ে কত আন্তরিক ছিলেন, তা আর বলার অবকাশ রাখে না। 
  অবনীন্দ্রনাথ তাঁর 'বুড়ো আংলা'য় লিখছেন - "কার বাড়ি? ঠাকুরবাড়ি,কোন ঠাকুর? ওবিন ঠাকুর - ছবি লেখে।" যে কারো বিস্ময়ের প্রশ্ন -  ছবি আবার লেখা যায় নাকি? যায়। অবনীন্দ্রনাথ সেই ঘরাণার অগ্রদূত। সে কথাই ছবি ও লেখা দিয়ে প্রমাণ করে গিয়েছিলেন।
  চিত্রশিল্পী হিসেবে তাঁর আঁকা একে একে পাই যেমন- ওমর খৈয়াম(জাপানী রীতিতে আঁকা),শহজাহাদপুরের দৃশ্যাবলী,আরোব্যোপন্যাসের গল্প,কবিকঙ্কন চন্ডী,সাজাহান, কৃষ্ণলীলিবিষয়ক চিত্রাবলী,বজ্রমুকুট,ঋতুসংহার,বুদ্ধ,সুজাতা। আর রচিত গ্রন্থাবলীর শুরু 'শকুন্তলা'(১৮৯৫) দিয়ে শুরু। একে একে রচিত গ্রন্থ, যেমন- 'ক্ষীরের পুতুল'(১৮৯৬),'রাজকাহিনী'(১৯০৯), 'ভারতশিল্প'(১৯০৯),বাংলার ব্রত (১৯১৯),খাজাঞ্চির খাতা(১৯২১),বাগেশ্বরী শিল্প প্রবন্ধাবলী(১৯২৯), 'বুড়ো আংলা'(১৯৪১),আর শেষ প্রকাশ 'রং বেরং'(১৯৫৮) দিয়ে,অবনীন্দ্রনাথ যখন আর নেই - ১৯৫১এর ৫ ডিসেম্বর আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। সবেতেই ছবিই যেন লেখা। লেখা ও ছবি চলছে হাতধরাধরি করে। 
   স্বয়ং কবি বলেছিলেন - "ছোটদের পড়বার মত বই বাংলা ভাষায় বিশেষ নেই। এ অভাব আমাদের ঘোচাতে হবে। তুমি লেখ।" আর সত্যিই সুকুমার রায়ের মতো দিনকে দিন হয়ে উঠতে লাগলেন - 'শকুন্তলা', 'ক্ষীরের পুতুল' - আর 'বাগীশ্বরী শিল্প প্রবন্ধাবলী'র অমরত্ব চিরকালীন এক রসবেত্তা সন্ধান পাই বলে। সুকুমার রায়ের 'আবোল তাবল'এর খেয়ালখোলা ভোলার সার্থক প্রতিমূর্তি। আবার কবির সৃষ্ট 'ঠাকুর্দা' চরিত্রের মূর্ত বিগ্রহ। ঠিক যেন অবনকে দেখে কবির ঠাকুর্দা চরিত্রটি যেন সৃষ্টি।
   'কাটুম-কুটুম' নিয়ে মেতে ওঠার প্রসঙ্গে পরিচারিকার বলছে - "আপনি ওসব কী করছেন,সব ফেলে দিন,লোকে বলবে ভীমরতি ধরেছে।" তখন খেয়াল রাজা অবনীন্দ্রনাথ সহাস্যে বলেছেন -"নারে লোকে বলবে বাহাত্তুরে ধরছে।" - এই কথা রাণি চন্দ এর কাছে কবি শুনে কবিও সহাস্যে বলেছিলেন - "অবন একটা চিরকালের পাগল।" 
   সুকুমার রায়ের 'হ জ ব র ল' আর অবনীন্দ্রনাথের 'বুড়ো আংলা' পরস্পরের পরিপূরক। তবে পার্থক্য 'বুড়ো আংলা' কল্পরাজ্যের সাতরঙা ছবির আলোকবাহার আছে। যেন 'বুড়ো আংলা' Alice-এর বই হয়ে উঠেছে,কারণ অবনীন্দ্রনাথের রচনাও ছবি ও কথা যেন ডানা মেলেছে। যেন Alice-এর প্রেরণায় রচিত বুড়ো আংলা। ছবিই যে কোনো রচনাকে প্রাণবন্ত করে। আর ছোটদের তো আরো বেশী করে চাই। অবনীন্দ্রনাথ সেই চাহিদা পূরণের ভগীরথ।  অবনীন্দ্রনাথ আজ আরো সমানে প্রাসঙ্গিক, এখন যে কোনো সৃষ্টিকে আমরা কথার সঙ্গে ছবি দিয়ে কথাকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলি। তিনি যথার্থই রূপশিল্পী,চিত্রশিল্পী,কথাশিল্পী,গভীর ভাব ও ভাবনার শিল্পী,শিক্ষাগুরু অবনীন্দ্রনাথ রঙ,রূপ ও রসের ধারায় বাংলাসাহিত্যে চিরস্মরণীয়।
                     ******
#কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।

শনিবার, ১৪ আগস্ট, ২০২১

##সঠিক মানচিত্র ## শর্মিষ্ঠা ভট্ট

 

সঠিক মানচিত্র


আর কিছু সময় পর থেকে স্বাধীনতা দিবস ৭৫ তমের সাক্ষী হব আমরা। কত মানুষের হাত ছেড়ে দিতে হল, তারা আর পঁচাত্তরের স্বাধীনতা দেখতে পেলো না। কি হবে দেখে! অনেকেই হতাশায় বলেন, আবেগহীনতা বাড়ছে। স্বাধীনতা দিবস নিয়ে সেই আবেগহীনতা বাড়ছে। বাড়ছে অসুরক্ষিত হতাশা । 


কেন এই স্বাধীনতা? কি দিল এই স্বাধীনতা? কত প্রশ্ন। শয়ে শয়ে লেখা দেখি কি পাইনির হিসেব সাজিয়ে সুন্দর করে পরিবেশিত হয়। না পাওয়া ব্যাথা আগাছার মতো বড়ো হতে হতে কখন যেন ঢেকে দিয়েছে সেই কষ্টে পাওয়া দিনের আন্তরিকতাকে। সেই টিভি খুলে প্যারেড দেখার বিস্ময়, এখনের শিশুদের চোখে বিস্ময় নেই। রুটিনে আবদ্ধ এও একটা দিন। হয় পতাকা ওড়ানো, কিন্তু যেন মন মরা, রোজ দেখে একঘেয়ে হয়ে যাওয়া দৃশ্য। তার ওপর আকাল। সমস্যা দরজায় টোকা দিয়েছে। 


দেশের মাটি, যাতে মাথা আপনাআপনি নুয়ে আসে সেই যে দেশে ভায়ের মায়ের স্নেহ, কোথাও পাওয়া যাবে না ....কবি নিশ্চিত ছিলেন। সেই সুজলাং সু ফলনাং শস্য শ্যামলং মাটি ....তাকে আপনার ভাবার ধরন পাল্টে গেছে। এখন এই দিনটি ছুটির দিন উৎসব মাত্র। আমাদের মত নির্বিবাদে মানুষ গান কবিতা নাচে দিনটাকে খুঁজে নেবার চেষ্টা করি। কিন্তু সত্যিই কি আমরা চিনি এই দেশের মাটিকে? কতটুকু মাটি আমাদের দেশ!! মানচিত্রে অবশ্য পাওয়া যাবে এর উত্তর। কিন্তু মনে কি সত্যিই আমরা মানি! 


আমরা " বসুন্ধরা কুটুম্বকম্" আইডিওলজি নিয়ে ব্যস্ত আছি। উদার মনোভাব নিয়ে রবীন্দ্রনাথের শেখানো পথে বিশ্বায়নের পথে হাঁটি। কিন্তু আমার দেশের মাটি ভাষার ছোট্ট পরিধির মাঝে আবদ্ধ। কাঁটাতার টোপকে ছুটি গলা জড়াতে কিন্তু অন্য রাজ্যকে বলতে পারি না ... আমি তো তোমাদের লোক। আমাদের স্বাধীনতা দেশের মাটিকে এক ত্রিশঙ্কু অবস্থায় রেখে দিয়েছে। ধর্ম না ভাষা! প্রশ্ন চিহ্ন তুলে তিরঙ্গাকে সর্বদা চ্যালেঞ্জ দিচ্ছে। 


জানি না দেশের মাটি বলতে কতটুকু বুঝি? তবে ক্রিকেট কিংবা অলম্পিকে জিতলে বুকের ভেতর একটা চিন চিনে আবগ কাঁপিয়ে দেয়। এটাই হয়ত দেশপ্রেম। ভারতীয় দেশ ভক্তি। এখানে দেশের মাটির মানচিত্র স্পষ্ট। কিন্তু উন্নাসিকতায় কেউ কাউকে ছেড়ে কথা বলে না। কথায় কথায় শুনি.... বাঙালীরা আত্মকেন্দ্রিক এবং পলিটিক্স বাজ। গা জ্বলে কিনা বলুন? জ্বলে, জ্বলতে পারে। কিন্তু কখনও ভাবি না... ননবেঙ্গলী  মত কেউ "নন" কথাটা কোন প্রদেশে ব্যবহার করে না। সুতরাং তালি দু হাতেই বাজে। তাই তো কখনও যুবা নেতার গলায় শুনি " ভারত টুকরো টুকরো হবে। " কি সেই হতাশা যাতে এমন তেঁতো বক্তব্য উঠে আসে!! দেশের মাটি বলতে আঁকড়ে ধরি প্রাদেশিক জীবন যাত্রাকে। বিশ্ব মানবতার বিশাল আদর্শ তৈরীর আগে তাই প্রাদেশিক রেষারেষি বন্দ করতে হবে। 


ইংরেজি বছরের প্রথম দিন ওনারা সপথ নেন, দেখাদেখি আমরাও শিখে নিয়েছি। কিন্তু ১৫ই আগস্ট, প্রতি বছর যে স্বাধীনতা উপভোগ করছি। কখনও কি ভেবেছি একবছরের জন্য এই দেশের মাটির সপথ নেয়া হোক। কখনও কি প্রয়োজন ছাড়া কোন একটি প্রাদেশিক ভাষা শেখার চেষ্টা করেছি। আমার পরিচিত একজন আমায় লিখেছিলেন " প্লিজ হিন্দি নয়, বাংলা নয়ত ইংরেজি তে এস ও মেস লিখো। অবাক হয়ে ভাবলাম বিদেশী ভাষা জানা এতো কি গর্বের বিষয় হয়ে গেল যে একটু বেঁকা ভাবে বলাই যায় দেশীয় অন্যভাষা শিখতে জানতে লজ্জা কিংবা ঔদাসীন্য বোধ করি। এটা কি ছিল গর্ব ,স্বীকারক্তি, না কটাক্ষ। 


দেশ সম্পর্কে কিছু মানুষ কিছু জানেই না। মানে ইতিহাস ভূগোল অর্থনীতি কিংবা বৈদেশিক নীতি। সাধারণ অনেক মানুষ আছে যারা জানেন না ২৬শে জানুয়ারি কেন হয়? দেশের সীমান্ত গ্রামের মানুষের জীবন কেমন অনেকে তার কোন খবরের প্রত্যাশা না করেই বলে আই লাভ মাই ইন্ডিয়া। 


দেশের মাটির প্রতি মায়া তখন জাগবে যখন একাত্ম হতে পারবো। যখন আঙুল তুলে কেন্দ্র রাজ্য করে চেঁচিয়ে মরবো না। কিছু নেই। রেশন নেই  রাস্তা নেই কারেন্ট নেই বস্তি বেকারত্ব কালোবাজারি কিংবা গুস খোরি আছে বলে দেশের মাটির প্রতি বিতৃষ্ণা ঠিক সমস্যা সমাধান নয়। স্বাধীনতা প্রাপ্তির দিন থেকে আজ ৭৪ টি বছর কাটিয়ে এসে ভারতবাসীর গর্ব করা উচিত। একটা লুটে যাওয়া ছিঁড়ে ফেলা দেশ বিশ্ব আসনে সেরার জায়গা করে নিয়েছে। ভারতের বৈদেশিক নীতি এখান এমন জায়গায়, সেখানে তাকিয়ে বলাই যায়.... তুমি ঘৃনা করো, কিংবা ভালোবাসো, হে বিশ্ব তুমি আমাদের ইগনোর করতে পারবে না। ছটি দশক পেরিয়ে এসে ভারত  অর্থনৈতিক শিক্ষা এবং চিন্তা শক্তিতে অনেক অগ্ৰসর করেছে তা হয়ত বিতর্কিত চোখে দেখলে বোঝা যাবে না। ভারত ও ভারতবাসীর গড় জীবন যাপনের ধরন  বলে দেবে হিসেব। হলফ করে বলা যায় পৃথিবীর পশ্চিমে ছোটা অনেকে স্বীকার করবে এই দেশে শান্তি অনেক বেশি। অনেক বিষয়ে নিশ্চিন্ত বিশ্লেষণ প্রতিবাদ কিংবা স্বাধীন চলাফেরার সুযোগ আছে। যারা এই দেশের মাটির দিকে আঙুল তুলে বলে " আতঙ্কিত " তাদের কাছে প্রশ্ন তবে এখনও এই দেশ ছাড়তে পারলেন না কেন?  এই দেশ সেই জায়গা যেখানে কেবল নিজেদের নাগরিক নয়, বিদেশী শরনাগতদের দীর্ঘ বছর সুরক্ষা দিয়ে এসেছে। তসলিমা ও লামা তার নিদর্শন। সুরক্ষা আছে বলেই, যারা নিজেদের অসুরক্ষিত ভাবে, তারাও মিটিং মিছিল এমনকি সাংসদে বসার জায়গা পায়। এই দেশের মাটি, সব পেয়েছির দেশ। পৃথিবীর যে কোন দেশে ঘুরে এসে দেখবেন ভারতীয় আন্তরিকতা ও আবেগ অবশ্যই আলাদা স্পর্শ দেবেই। 

রাগ করে অনেকেই বলবেন, তা হলে তো হয়েই গেলো, সব পেয়েছো দারিদ্র্য ধর্ম নিয়ে লাঠালাঠি অর্থনৈতিক ঘোটালা সামলাও। না সব জিনিস কয়েকটি বছরে পাল্টে যেতে পারে না। তিনশো বছর ইংরেজ শাসন ও শোষণের পর, মুখ থুবড়ে পড়ে যাইনি। পায়ে পা মিলিয়ে এগিয়ে তো গেছে দেশ। যা হয়নি তার জন্য আমরা, এই সাধারণ জনগণ কি দায়ী নয়!!আমরা সামান্য না পাওয়ায় ভাঙচুর করি। আন্দলন করে সাংসদের চেয়ার টেবিল ভাঙি  মন্দির মজিদ ভাঙি, রেলের লাইন উবড়ে দি। একবারও ভাবি না রাষ্ট্রের সম্পত্তি বা ঐতিহাসিক ঐতিহ্য নষ্ট করা মানে নিজের পায়ে নিজেই কুড়ুল  মারছি। দেশের মাটির পক্ষে সারা রাত কথা বলে যেতে পারি। অশিক্ষা কু শিক্ষার জন্য শিক্ষিত আমরা চায়ের দোকান ক্লাব ঘরে চেঁচিয়ে মরি। সামনে এসে একটিও খাতা কি কখনও কিনে দিয়েছি। কখনও কি পথ ঘটের গাড্ডা দেখে নিজে এগিয়ে গেছি? কখনও কি বলেছি বিভদ কি সে? কখনও কি দেশের মাটির জন্য  এগিয়ে গেছি রাজনৈতিক অসৎ শক্তির বিরুদ্ধে! সাধারণ মানুষ চাইতে পারি, দিতে গেলে হিসেব করি। মলে বিনা বাক্যে জিনিস কিনি, আর সব্জি দোকানের বুড়ির সাথে পাঁচ টাকার দরাদরি করি। সরকারি নিয়ম ভাঙবো  বলে ঘুষ দিয়ে তৈরি করি আর একটি অসৎ জনগণ। শত শত ভুলে আমরাই নিজেদের পিছিয়ে রাখি। স্বাধীনতার দায় ভার কেবল সরকারের নয়। জনগণ কখনও ভেবেছে এই বিপুল জনস্ফিতি কত ভয়ঙ্কর রূপ নিতে পারে! জন্মনিয়ন্ত্রণ আইন করলে মানতে পারবে কয়জন?  দেশের মাটি ভাঁড় মে যাক, সবাই আখের গোছাই। আর দূর দেশের দিকে তাকিয়ে হাপিত্তেস করি। হয়নি আর পাইনি। রোজগারের পয়সা কেউ কি রোজকার কোন একটি গরীবের ঘর চালানোর কিছু কিনে দিতে চাইবে কেউ! দিনের পর দিন বিনা স্বার্থে? অথচ যদি নিম্নতম গরীবের সরকারি নির্দেশে লাইগেশন করানো হয়, মানবাধিকার বলে হায় হায় উঠবে। সরকারি প্রধানমন্ত্রী আবাসনে আসল আবাসিক নেই, বেচে দিয়ে আবার নতুন বস্তি হচ্ছে। দেখবে কে? বলবে কে? হায় দেশের মাটি। কেবল দোষারোপ নয়। এবার কিছু সপথের সময় এসেছে। আঙুল ওই দিকে নয় নিজের দিকে উঠুক। আসুন না ছোটো একটা সপথ করি কাল থেকে প্রাদেশিকতা ভুলবো। একটু নিজের দেশকে নিজের ভাববো। 

শুভ রাত্রি, জয় হিন্দ। 


নতুন স্বপ্ন দেখবো না, পুরনো স্বপ্ন সফল করবো। শিশুকে সঠিক মানচিত্র শেখাবো । ঠিক দেশের মাটি কতটা।। 


স্বাধীনতা র শুভকামনা সবাইকে

অতিরিক্ত নারী স্বাধীনতার সুফল ও কুফল।( কলমে--- পারমিতা মন্ডল।)

অতিরিক্ত নারী স্বাধীনতার সুফল ওট কুফল।ট
কলমে---পারমিতা মন্ডল।


আজকের বাক‍্যটার সাথে কোন মতেই এক মত হওয়া সম্ভব নয়--

1)নারী আজ মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে ,আত্মস্বনির্ভর হয়েছে । তাই পুরুষের এতো গায়ে জ্বালা । ঘোমটা দিয়ে ঘরে বসে মার না খেয়ে উল্টে মার দিতে শিখেছে ।এটাই পুরুষের কাছে নারীর অতিরিক্ত স্বাধীনতা বলে মনে হয়েছে।। এতোদিন স্বাধীনতা শুধু পুরুষের এক চেটিয়া ছিল। তাই বলে  ডিভোর্স ও পরকীয়া কিন্তু কম ছিল না। ওটা শুধু পুরুষের দখলে ছিল। এখন নারী তাতে ভাগ বসিয়েছে। তাই সব দোষ নারী স্বাধীনতার।

2)  আগের দিনে মেয়েদের বোঝানো হতো পতি পরম গুরু। দেবতা। তার কথা শুনে চলতে হবে। কখনোই অমান্য করা চলবে না। সে যদি চুল্লু খেয়ে এসে পেটায়ও তাহলে পিঠ পেতে দিতে হবে মার খাওয়ার জন্য। প্রতিবাদ করা যাবে না। বাইরে পুরুষের দশটা মেয়ের সাথে সম্পর্ক থাকতে পারে। ওটা স্বাভাবিক। সেতো পুরুষ। তুমি যেন ভুলেও কোন পুরুষের দিকে না তাকাও।  কিন্তু নারী সেই অন্তঃপুর থেকে বেরিয়ে, অত‍্যাচারিত হতে হতে যখন তার প্রকৃত ভালোবাসা খুঁজে পেয়েছে, তখন তাকে  পুরুষ বলছে পরকীয়া। স্বেচ্ছাচারিতা। এতোদিন পরকীয়া শুধু পুরুষের একার দখলে ছিল। 

3) পুরুষ ডিভোর্স দিয়ে দশটা বিয়ে করলেও সমাজ তার দিকে আঙুল তোলে না। কিন্তু কোন মেয়ের যদি বিয়ে ভেঙে যায় তবে সবাই একেবারে গেল গেল রব তোলে। যেন পৃথিবী রসাতলে গেল। যাদের অর্থের জোর আছে, বা স্বনির্ভর সেই সব মেয়েরা আর পড়ে পড়ে অন‍্যায় সহ‍্য না করে ডিভোর্সের পথ ধরে। সুস্থভাবে বাঁচার অধিকার তো তার ও আছে। অথচ মানুষ তাকে বলছে অতিরিক্ত নারী স্বাধীনতা। 

3) ভালোবাসা বা নির্ভরতা আগেও কম ছিল।  প্রকাশ পেত না। কারণ মেয়েদের মতামতের কোন গুরুত্ব ছিল না। তখন ডিভোর্স বা পরকীয়া ছিল ছেলেদের একচেটিয়া অধিকার। মেয়েরা তাদের অন্ধের মতো ভালোবাসতো। আর দিনের পর দিন ঠকে যেত।  তখন হয়তো "ডিভোর্স"এই গালভরা নামটা ছিল না। তার পরিবর্তে শোনা যেত "স্বামী পরিত্যক্তা নারী।" এটা কি মেয়েদের কাছে অপমানের ছিল না ? দিনের পর দিন বাপের বাড়িতে পড়ে থেকে কোন মেয়ে যদি পরকীয়া করতো তবে সেটা ছিল মারাত্মক অপরাধ।  এখন সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে।  নিজের মত করে মেয়েরা বাঁচতে শিখেছে।  তাই বলা হচ্ছে এটা অতিরিক্ত স্বাধীনতার ফল।


4) আজ মেয়েরা পুরুষের অত‍্যাচার নীরবে সহ‍্য না করে বাইরে বেরিয়ে নিজের মত জীবন যাপন করছে।  তাদের আর উঠতে বললে উঠেছে না বা বসতে বললে বসছে না।  তাই সমাজের চোখে এটা অতিরিক্ত স্বাধীনতা বলে মনে হয়ে।  আর তাই ডিভোর্স বা পরকীয়ার দায় সেই আবার মেয়েদের ঘাড়েই চাপিয়ে দিতে চাইছে।


একটি সংসারকে সুন্দর করে গড়ে তুলতে গেলে নারী পুরুষের সমান অবদান দরকার।  যে মেয়েটি গৃহবধূ তার কোন কাজ নেই, ।"আমার পয়সায় খায়, তাই তাকে সব কথা শুনতে হবে"-- এই মানষিকতা যদি পুরুষ দূর না করে , তবে পরকীয়া , ডিভোর্স আরো বাড়বে। তার জন্য মেয়েরা নয় , পুরুষ দায়ী।  দিনের পর দিন অত‍্যাচারিত হয়ে আজ তারা ঘুরে দাঁড়িয়েছে । এটা পুরুষের ইগোতে লাগছে। তাই ঘুরিয়ে নারী স্বাধীনতাকে ছোট করার জন্য, আর নিজেদের দায় এড়ানোর জন্য সব দোষ সেই নারীর ঘাড়েই চাপাতে চাইছে।

এটা মানবো না মানছি না।

all rights are reserved by paramita.


পক্ষে----

কলমে----পারমিতা মন্ডল

1) অতিরিক্ত নারী স্বাধীনতা নারীকে বিপথগামী করেছে । এটা আংশিক সত্য। কারণ চার দেওয়ালের বাইরে বেরিয়ে এসে নারী যখন জগত দেখেছে, তখন তার মাথা ঘুরে গেছে। পুরুষ- নারী বন্ধুত্বের মত মিসতে গিয়ে সে নিজেই পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েছে।  তার না পাওয়ার যন্ত্রণা, অতিরিক্ত কেয়ার যেটা সে স্বামীর কাছে আসা করেছিল, সেটা অন্য কারো কাছে পেয়ে নিজেকে সামলাতে পারেনি। এটা নারী স্বাধীনতার কুফল।

2) নারী আজ স্বনির্ভর । তাই সে কারো দাসত্ব করতে চায়না। কিন্তু ভালোবাসা আর দাসত্বের মধ‍্যে সুক্ষ্ম পার্থক্য অনেক সময় বুঝতে পারে না মেয়েরা। স্বামীর সেবা তো ভালোবেসেও করা যায়। সেখানে অহংকারের জায়গা নেই। কিন্তু আত্মাভিমানী নারী মনে করে, আমি স্বাধীন। কেন তোমার সেবা করতে যাবো ?আমার ইগোতে লাগছে। এর থেকেই শুরু হয় অশান্তি।

3) কোন মেয়ের যদি বাবার বাড়ির জোর বেশী থাকে, আর ছেলেটির যদি অর্থ কম থাকে , তাহলে দেখা যায় পুরুষ স্বাধীনতা থমকে যায়। সেই পুরুষের ঠিক মতো ভাত ও জোটে না। নারী তার উপর বিভিন্ন রকম মানষিক নির্যাতন করে। এবং এক সময় ডিভোর্স অবসম্ভাবি হয়ে পড়ে। এটা নারী স্বাধীনতার একটি কলঙ্কিত অধ‍্যায়।

4) আজকাল অনেকক্ষেত্রে দেখা যায় আইনের অপব‍্যবহার করে , পুরুষকে হেনস্থা করছে নারী। সব সময় সেই পুরুষটি হয়তো দোষী থাকে না । মেয়েটির স্বার্থ সিদ্ধির জন্য  ডিভোর্স দিতে বাধ্য করে ছেলেটিকে। তারপর একটি মোটা অংকের খোরপোষ দাবী করে। সারাজীবন বসে খাওয়ার জন্য। এটাও অতিরিক্ত নারী স্বাধীনতার ফল।

5) পরকীয়ার জন্য মেয়েরা খুন করতেও পিছু পা হয়না । যেমন--- মনুয়া, বা সুদীপা ।  কিন্তু নারী যখন চার দেওয়ালের মধ্যে ছিল তখন এমন জঘন্য কাজ করার কথা ভাবতেও পারতো না। অতিরিক্ত স্বাধীনতা তাদের বেপরোয়া করে তুলেছে । 

অত‍্যাচারিত যেমন নারী হয় তেমনি পুরুষ ও হয়। তবে নারীরা হয়তো সংখ্যায় বেশী। বিশ্বাস, ভরসা রক্ষা করার দায়িত্ব দুই পক্ষের। 
একহাতে তো তালি বাজে না । তাই দোষ উভয়েরই  আছে। 


all rights are reserved by paramita 

 

শুক্রবার, ১৩ আগস্ট, ২০২১

নারী নারীর চরম শত্রু। ( কলমে-- পারমিতা মন্ডল)

বিষয় ----*শুভ শনিবার*
*আজ বিতর্ক সভার দিন*
*আজকের বিষয়*
*নারী নারীর চরম শত্রু*
*কারন একে অপরকে প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করে*

কলমে--- পারমিতা মন্ডল।


নারী নারীর চরম শত্রু কথাটা আংশিক সত্য । একজন পুরুষ ও কিন্তু নারীর চরম শত্রু হতে পারে । কিন্তু প্রবাদ হিসেবে আদি অনন্তকাল ধরে চলে এসেছে " নারী নারীর শত্রু।"  তাই আমরাও বিশ্বাস করতে অভ‍্যস্ত হয়ে পড়েছি ।  একবার ভেবে দেখুন তো মা ও মেয়ে , দুজনেই নারী । এখানে কে কার শত্রু ? মা তো আপ্রাণ চেষ্টা করবে তার মেয়েকে আগলে রাখতে । আসলে এটা পুরুষতান্ত্রিক সমাজের একটি সুক্ষ্ম চাল। নারীতে নারীতে লড়িয়ে দিয়ে নিজে সেভ থাকা। আর আমরা সেটা না বুঝেই লড়ে যাই।

শুধু মা মেয়ে নয় , আমার অনেক বান্ধবী আছে যারা অসময় আমার পাশে ছিল। আবার যখন সুসময় এসেছে , মানে চাকরি পেয়েছি তখনো কিন্তু আমাকে হিংসা করেনি। এখনো ওদের সাথে ভালো সম্পর্ক আছে।  এছাড়া আমাদের এই ভার্চুয়াল পরিবারেও অনেক বান্ধবী আছে। ছোট ছোট বোনেরা সবাই ভালোবাসে। মনে তো হয়না হিংসা করে বলে। সবচেয়ে বেশী সাহায্য পাই পিউ এর কাছ থেকে। অনি, সুদেষ্ণা, চুন্নি, তিথি এরাও খোঁজ নেয় নিয়মিত। শত্রুতা করে বলে তো কখনোই মন হয়নি।

তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে অবশ্যই এটা হয়ে থাকে।  যেমন-- শাশুড়ি- বৌমা । এখানে মানিয়ে নেওয়ার ও মেনে নেওয়ার ক্ষমতা থেকে ঝগড়াটা হয়ে থাকে। শত্রুতা থেকে হয়তো নয়। বেশিরভাগ হয় অধিকারের লড়াই। আর তার কেন্দ্রবিন্দু কিন্তু পুরুষ।

এবার আসি অন্য কথায়।  নারী নারীর চরম শত্রু একথা না বলে বলা যেতে পারে মানুষ ,মানুষের চরম শত্রু কিছু কিছু ক্ষেত্রে। এটা নারী পুরুষ নির্বিশেষে হতে পারে।  যখন কোন পুরুষ পরকীয়ায় জড়িয়ে বৌকে খুন করতে যায় তখন কে কার শত্রু হয় ? যখন কোন অফিসের বস হয় কোন মহিলা ,তখন পুরুষের ইগোতে লাগে। সে তখন চায় যে কোনভাবে তাকে নীচে নামাতে। বলতে পারেন এখানে কে কার শত্রু? এমন উদাহরণ অনেক আছে । তাই বলি অযথা নারীর দোষ না খুঁজে একটু তাকিয়ে দেখুন , শত্রুর কোন লিঙ্কভেদ হয়না। 

তবে এখনো  সব মেয়েরা পুরোপুরি শিক্ষার আলোকে আসতে পারেনি, তাই তাদের একে অপরের পিছনে লড়িয়ে দেওয়া  খুব সহজ হচ্ছে । কিন্তু এটা বেশিদিন আর চলবে না। নারী, নারীর শত্রু না হয়ে বন্ধু হবে।  সে দিন আর বেশী দূরে নেই।

All rights aer reserved by paramita.

বৃহস্পতিবার, ১২ আগস্ট, ২০২১

# নাম- খাওয়ার। ✍️ - মৃদুল কুমার দাস।

শুভ বাক্য আলোচনা বাসর।
 # বিষয় - *বাঁচার জন্য খাওয়া,খাওয়ার জন্য বাঁচা নয়।*
   # নাম - *খাওয়া।*
   ✍️ - মৃদুল কুমার দাস।

      জীবনের অস্তিত্বের মূলে ভিত্তি খাওয়া,পরা ও মাখা। সবার যে যার বৈশিষ্টে স্বাতন্ত্রবহ। আহার বা খাওয়ার নিয়ে আলোচনায় আসতে গিয়ে প্রথমেই বলি- মানুষ সর্বভুক। হেন জিনিস নেই যা সে খায় না। এই খাওয়ারের যে খায় সে কর্তা। যাকে খাওয়া হয় সে কর্ম। অর্থাৎ যে গ্রহণ করে সে *অন্নাদ*। যাকে গ্রহণ করা হয় সে রূপান্তরিত ভোগ্য বা অনুভবের বিষয়,বলে তাকে বলে *অদ্যতে* বা *ভুক্ত*।
     অন্ন বা যে কোনো খাওয়ারের রস ছ'রকম - অন্ন থেকে রক্ত,রক্ত থেকে মাংস, মাংস থেকে চর্বি,চর্বি থেকে হাড়,হাড় থেকে মজ্জা,মজ্জা থেকে পুরুষের শুক্র ও নারীর ডিম্বানু তৈরী হয়। সবই আহারের নির্যাস,যার থেকে ফল পাওয়া যায়। ফলের নাম পুষ্টি। এই পুষ্টি শক্তি দেয় - মন,ইন্দ্রিয়,স্মৃতি, মেধা,বুদ্ধি ইত্যাদি। আহার স্থুল শরীরের জন্য নানা রূপান্তরের অনুগামী। ভুক্ত অন্নের রূপান্তর থেকে সবচেয়ে স্থূল অংশ মল,যা বেরিয়ে যায়। মধ্যম অংশের রূপান্তরে মাংসপেশী। সূক্ষ্ম অংশে চিত্ত। এই যে এতো রূপান্তরের দিক আছে,আহার গ্রহণে একটা ঔচিত্যবিচার থেকে আহারের গুণ প্রকাশিত হয়। খাওয়ারের সঙ্গে জীনের সম্পর্ক একটা আছে বলে পরুষের আহার,নারীর আহারের মধ্যে একটা পরিমাণগত বৈষম্য থাকে। অপরপক্ষে আহারের ধরণেও রূপান্তর যেমন- কাঁচা সবজি খাওয়া, আর তাকে ভাজা পড়া করে খাওয়া পৃথক পৃথক ফল। 
   কী খাওয়া উচিৎ, কীভাবে খাওয়া উচিৎ,কখন কী খাওয়ার খেতে হয়, এ নিয়ে আয়ুর্বেদ, আধুনিক পুষ্টি বিজ্ঞান, ডাক্তার, হোমিওপ্যাথ,যোগ শিক্ষক আমাদের সারাক্ষণ খাওয়ার নিয়ে নানান উপদেশ দিয়ে যাচ্ছেন। এই নিয়ে আহার স্বর্বস্ব জীবনের হজবরল ইতিকথায় আহার গ্রহণের কর্তব্য ও কর্তব্যহীনের বাছবিচার কেউ কেউ করে তো,আবার কেউ কেউ একদম করেই না। আমিষ ও নিরামিষ আহার নিয়ে বাছবিচার একটা রীতিমত ঘটা। 
  আহার নিয়ে ঘটনার জীবন রসরসিকতার কয়েকটি দিক যেখানে মনে,সাংস্কৃতিক বোধের এক এক ধরণের পরিচয়, যেমন-
  **প্রাণ ধারণের জন্য পশুরা  যন্ত্রবৎ খায়। কিন্তু মানুষের খাওয়া দাওয়া রীতিমত রুচিশীল।
   ** খাওয়ার ধরন থেকে মানুষ চেনা একটা ধরন।
   **একটা নতুন রান্নার পদ উদ্ভাবন করতে পারলে মনের সে কি অনাবিল আনন্দ।
   ** খাওয়ার টেবিলে নেমতন্ন করে খাওয়ার দেওয়ার যত্নের ধরন থেকে মানুষ চেনা যায়। সযত্ন আত্তির কোনো খামতি রাখে না।
  ** নিমন্ত্রণ বাড়িতে খাওয়ার নিয়ে নিন্দা করতে নেই, সে যতই খাওয়ার মন্দ হোক।
   ** অন্নদানের নিরিখে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠে। অন্নদান মানে জীবন দান। যে অন্নদান করেনা সে কোনোদিন বন্ধু নয়। সে কৃপণ। কৃপণের একা একা খাওয়া মানে মৃত্যুর সমান। খাদ্য নিয়ে মজুতদারী,চোরাবাজারী করার চেয়ে বড় পাপ আর নেই।
  ** শঙ্করাচার্য বলেছিলেন- অন্নের প্রথম গ্রাসটায় সকলের অধিকার আছে,কারণ যে গ্রাসটা প্রথম তুলি তার প্রতি ক্ষুধার্তের প্রথম গ্রাস। তাই গৃহস্থের কুকুর, বিড়াল,পিঁপড়েটাও পর্যন্ত প্রথম গ্রাসের অংশীদার। প্রথম গ্রাসে তোমার অধিকার থাকলে আমারও অধিকার আছে। গ্রাস তোলা মানে,না দিয়ে গ্রহণটাই পাপ। তার গ্রাস তোলার আগে প্রণাম ও ভূমিতে নিবেদন করে গ্রহণ করতে হয়।
  ** আহারের নৃশংসতা হল - ভক্ষ্য,পেয়,লেহ্য অতীব সুন্দর সুন্দর খাওয়ার নিজে ভক্ষণ করে,অভুক্তের দিকে ফিরেও তাকায় না, অপরপক্ষে দেখিয়ে দেখিয়ে না দিয়ে খায় তার মত নৃশংস আর হয় না।
  আহার নিয়ে খুব প্রচলিত কথা - "বাঁচার জন্য খাওয়া,খাওয়ার জন্য বাঁচা নয়"- কথাটির একটা আহার গ্রহণের ধরণের কথা বোঝাচ্ছে। 
  না খেতে পেলে মরে যাবে- এই ভাবনা,আর না খেয়ে মরে না,বরং খেয়ে মরে - কথাগুলো বেশ অনুধাবনযোগ্য। কীরকম?
  বলাই আছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত খেও না। আকন্ঠ খেলে কোনো উপকার তো হয়ই না,বরং হীতে বিপরীত হয়। শরীর খারাপ করে। তাই বাঁচার জন্য খাওয়া,খাওয়ার জন্য বাঁচা নয়। বিয়ে বাড়ির খাওয়ার সহ্য হবে না,আবার খাওয়ার লোভও ছাড়া যাচ্ছে না। রসনা উত্তেজিত হয়। বলাই আছে যত উৎসব বাড়ী খাবে তত আয়ু কমবে। যত আমিষভোজী হবে আয়ু তত কমবে। ওসব চুলোর ছাই প়াঁশ ভাবনা মাথায় ঢোকালে খাওয়া আর হলো না। আয়ু আর কতদিন। যদি মরি খেয়েই মরা ভাল। জীবনটাকে তো ভোগ করা গেল। আহারের অভ্যাস জলবায়ুর উপর নির্ভর করে। চীনের আহারপ্রিয়তা,ভারতীয় আহারপ্রিয়তা আলাদা। ভারতের দক্ষিণের রাজ্যগুলির সঙ্গে উত্তরের রাজ্যগুলির খাদ্যাভ্যাস আলাদা জলবায়ুর উপর ভর করে। 
  আহারের ধরণ কী হওয়া উচিৎ, তা থেকে আহারে রুচিশীলতা আসে। 
  বেশী খাওয়া থেকে পেটের রোগ আসে। পরিমিত আহার ও জলপান নির্দিষ্ট পরিমান, সুস্থ শরীরের শর্ত। চাহিদার অতিরিক্ত আহার,আহারের নিয়ম না মানার অর্থ (অবেলায় খাওয়া, বেশি রাতে খাওয়া এসব আহারের উপর নির্রভ করে) আয়ু কমতে থাকে। 
  তাই পরিমিত আহার মানে পরিমিত জীবন। আহারের জন্য জীবন মানলে এক ফল,আর জীবনের জন্য আহার মানলে আরেক ফল।
           *****
 # কপিরাইট রিজার্ভ মৃদুল কুমার দাস। 
   

মন্বন্তর(সুদেষ্ণা দত্ত)

 


*মন্বন্তর*

সুদেষ্ণা দত্ত

 

ইতিহাস বিষয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষক হওয়ায় মন্বন্তর বলতে বাংলা ১১৭৬ ও ইংরেজি ১৭৭০ এর মন্বন্তরের কথাই প্রথম মনে আসে।যদিও ১৩৫০  বঙ্গাব্দে একটি দুর্ভিক্ষ হয়েছিল যা পঞ্চাশের মন্বন্তর নামে পরিচিত। মন্বন্তরের আক্ষরিক অর্থ দুর্ভিক্ষ।বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় হান্টারের Annals of Rural Bengal এর অনুকরণে তাঁর বিখ্যাত ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে দক্ষ শিল্পীর তুলিতে এই ১১৭৬ এর দুর্ভিক্ষের করুন চিত্র অঙ্কন করেছেন।

        ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের অন্যতম কারণ যে প্রকৃতির বিরূপতা তা বোধহয় আজ আর কারও অজানা নয়।ইং ১৭৬৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে অনাবৃষ্টির ফলে কৃষি উৎপাদন হ্রাস পেতে থাকে।১৭৬৯ খ্রিস্টাব্দেও বৃষ্টি না হওয়ায় দেশে খাদ্যাভাব দেখা দেয়।

        প্রাকৃতিক কারণে দুর্ভিক্ষ দেখা গেলেও সুপ্রকাশ রায় এই দুর্ভিক্ষকে “ইংরেজ সৃষ্ট ছিয়াত্তরের মন্বন্তর” বলে অভিহিত করেছেন।তার পিছনে অবশ্য যথার্থ কারণ ছিল।প্রকৃতির বিরূপতার তীব্রতা ও ভয়াবহতা বৃদ্ধি পেয়েছিল শোষণ,নিপীড়নের ফলে।দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন ও কোম্পানীর রাজস্ব নীতি দুর্ভিক্ষের প্রকোপ বৃদ্ধি করেছিল।এরফলে কৃষকদের অবস্থা হয়েছিল শোচনীয়।এই অবস্থায় অজন্মার ফলে খাদ্যাভাব দেখা দেয়।শস্যক্ষেত্রে বিপর্যয়ের ফলে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পায়।তা সত্ত্বেও রাজস্ব আদায়ের কঠোরতা হ্রাস পায়নি।এই দুর্দশা দূর করতে কোম্পানী কোন ত্রাণ ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।উপরন্তু এই অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে কোম্পানী ও তার কর্মচারীরা একচেটিয়া বাণিজ্যিক অধিকারের সুযোগে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করেছিল।এমনকি দুর্ভিক্ষের সময় কম দামে চাল কিনে বেশি দামে বিক্রির জন্য গুদামজাত করে রাখে।অশনি সংকেত চলচ্চিত্রে এর রূপায়ণ আমরা দেখেছি।এই কৃত্রিম চহিদা সৃষ্টির ফলে ভয়াবহতা আরও বৃদ্ধি পায়।এছাড়া কোম্পানীর নিজের সৈন্যবাহিনীর জন্য প্রচুর খাদ্য শস্য ক্রয় করে মজুত করেছিল এবং কোম্পানী বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে খাদ্যশস্যের অবাধ চলাচল নিষিদ্ধ করে দিয়েছিল।

দুর্ভিক্ষের ফলে জনসংখ্যা হ্রাস পাচ্ছিল।রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ সেই অনুপাতে কমেনি।দুর্ভিক্ষের সময় রাজস্ব আদায়ের জন্য ছিল ‘নাজাই প্রথা’-অর্থাৎ যারা পালায়নি বা বেঁচে ছিল তাদের উপর চাপানো হয়েছিল অতিরিক্ত অর্থের বোঝা।

আমরা বর্তমান পরিস্থিতেও দেখছি প্রতিকূল অবস্থায় বেশ কিছু মানুষ অসদুপায় অবলম্বন করছেন।দুর্ভিক্ষের ফলেও চুরি-ডাকাতির সংখ্যা আতঙ্কজনকভাবে বাড়তে থাকে।গ্রামে গ্রামে ডাকাতরা নির্ভয়ে ডাকাতি করে বেড়াত।দিনাজপুরে সন্ন্যাসী বিদ্রোহ শুরু হয়।আগে সমতলভূমির মানুষরা ডাকাতদের গতিবিধির উপর লক্ষ্য রাখত এবং সরকারের পক্ষে তাদের দমন করা সহজ হত।কিন্তু দুর্ভিক্ষের ফলে জমিজমা ছেড়ে চলে যাওয়ায় তাদের উপদ্রব বাড়তে থাকে।

ছিয়াত্তরের মন্বন্তর বাংলার অর্থনীতিকে এক গভীর বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেয়।অধ্যাপক বিনয় ভূষণ চৌধুরী মন্তব্য করেছিলেন, “The famine affected the economy mainly by causing extensive rural depopulation.” 

বাংলার শিল্পও বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।রেশম ও তাঁত শিল্পে জড়িত শ্রমিকদের মধ্যেই মৃত্যুহার ছিল সবচেয়ে বেশি।অস্বাভাবিকভাবেই দুর্ভিক্ষের পর শিল্প উৎপাদন ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়।মাঝিমাল্লা ও গরুর গাড়ির গারোয়ানের মৃত্যুর ফলে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং তার ফলেও ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

 বুদ্ধদেব বসুর,

 “তোমারে স্মরণ করি আজ এই দারুন দুর্দিনে

হে বন্ধু হে প্রিয়তম।সভ্যতার শ্মশান শয্যায়

সংক্রামিত মহামারী মানুষের মর্মে ও মজ্জায় ...”

লোভ-লালসা মানবতার স্খলনে সমাজ সংসার জুড়ে আজ মানব হৃদয়েও জাগ্রত মন্বন্তর।

 

©কপিরাইট রিজার্ভড ফর সুদেষ্ণা দত্ত।

ছবি সৌজন্য:গুগুল।

 

 

বুধবার, ১১ আগস্ট, ২০২১

বাক্য আলোচনা(কলমে পিয়ালী চক্রবর্তী)



বাঁচার জন্য খাওয়া, খাওয়ার জন্য বাঁচা নয়

#কলমে_পিয়ালী_চক্রবর্তী

তারিখ: ১২/০৮/২০২১


আমরা মানুষ, ভোজনরসিক,

যেকোনো খাবার, হোক ঠিক বা বেঠিক,

খেয়ে যাই কব্জি ডুবিয়ে দু'বেলা,

শরীরটাকে নিয়ে করি ছেলেখেলা।


মাছ-মাংস-ডিম-তেলেভাজা বা মিষ্টি,

আহা! কি অপূর্ব খাদ্য'রসসৃষ্টি!

হোক না সে কোলেস্টেরলের ভান্ডার!

খেয়ে যাই সুখে, বাঁচাবে পারের কান্ডার!


আগুনে দিলে যদি হাত, 

পোড়ানোই তার ধর্ম,

ফল পাবে হাতে নাতে,

ঠিক যেমনটি কর্ম!


সুগার, প্রেশার, কোলেস্টেরল, মেদাধিক্য!

হারিয়ে খোঁজে শরীরের চাকচিক্য!

পুঁতেছো অতীতে তুমি যে বিষবৃক্ষ!

অধিক খাইয়া দেবে পাড়ি অন্তরীক্ষ!


●আমরা বেশিরভাগ মানুষই খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে ওস্তাদ। একদম "দাবিয়ে খাওয়া" যাকে বলে ঠিক তেমনি ঠুসে খাই যখন যা পাই। 


●এক্সারসাইজের ধার দিয়েও যাইনা। আবার কেউ কেউ ভোরবেলা উঠে মাঠে গিয়ে জগিং, মর্নিং ওয়াক ইত্যাদি করে বন্ধুদের সাথে চা-সিঙাড়ার আড্ডা দিয়ে বাড়ি ফেরেন(বলাই বাহুল্য তাতে আরো বেশী ক্ষতি)। 


●সবাই আমরা জ্ঞানপাপী, কিন্তু হেলদি লাইফ লিড করার কয়েকশো মাইলের মধ্যে নেই। কত খাবার চারপাশে! ওহঃ, না খেলে আত্মাকে কষ্ট দেওয়া হয় তো! ওরকম কম কম তেলে-মশলায় খেয়ে বাঁচতে পারবুনি বাপু। খাসির মাংস বলো বা গোল গোল সাদা সাদা রসে টইটুম্বুর রসগোল্লা! ছটা-আটটার কম খেলে ঠাকুর পাপ দেবে গো।


●ঠিক দুর্গাপুজোর এক-দেড় মাস বাকি থাকতে আমাদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বেড়ে আকাশছোঁয়া। পুজোর সময় সাজুগুজু করতে হবে, বেশ চটকদার পোশাক পরে স্লিম-ট্রিম দেখাতে হবে তো নাকি! শুরু হয় ডায়েটিং এবং সেই স্বাস্থ্য সচেতনতা শেষ হয় ষষ্ঠীর দিন সকাল থেকেই। আরে, এ কেমন কথা বাপু! পুজো-গন্ডা'র দিন বলে কতা, একটু খাবো-দাবো না নাকি! 


●কারোর বিয়ে-পৈতে-ভাত-জন্মদিন বা যেকোনো অনুষ্ঠানে, বেগানি শাদী মে আব্দুল্লাহ দিওয়ানা হয়ে ততক্ষণ পর্যন্ত খাই, যতক্ষণ না বেশ বমি বমি ভাব করে বা পেট ফুলে ঢোল হয়ে যায়! আরে! গিফ্ট দিয়েছি বস, পয়সা উসুল করতে হবে তো নাকি!


●পায়েস রাঁধার পরে সেই হাঁড়ি বা ডেকচির গায়ে যে ঘন পদার্থটি লেগে থাকে, কি ভীষণ সুস্বাদু! কাজের মাসি ঘষে ঘষে মেজে ধুয়ে সেই অমৃতসম পদার্থটি নালা দিয়ে বইয়ে দেবে, তাই কখনো হয়! লেগে পড়ি হাতা-খুন্তি নিয়ে। চেঁছে চেঁছে লোকের কান-মাথা ঝালাপালা করে মুখে পুরে দিই সেই মহার্ঘ্য বস্তু। আহা! পেট কি আমাদের ডাস্টবিনের চেয়ে কম নাকি ভাই!


খেয়ে খেয়ে জীভ দিন দিন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়ে ওঠে আমাদের। বুঝতে পারি ভুল করছি, কিন্তু শুধরে নিই না। "অ্যায়সে খায়ে যাতে হ্যায়, জ্যায়সে, কল হো না হো"



। এই অতিরিক্ত খাবার ফলে আমন্ত্রণ দিয়ে ডেকে আনি বিভিন্ন রোগ। খেয়ে খেয়ে বিশ্রী মোটা হয়ে মায়োকার্ডিয়াল ইনফ্র্যাকশন, সেরিব্রো ভাস্কুলার অ্যাকসিডেন্ট বা কোনো মারণ রোগে অকালে পরিবার ছেড়ে চলে যেতে হয় কত মানুষকে। অথবা, শরীরে রোগের বাসা নিয়ে ডাক্তার-ওষুধের পেছনে গাদা গাদা টাকা খরচ করে পরিবারকে অস্বচ্ছলতার মধ্যেও ফেলে দেন অনেকেই। তাদেরকে বোঝালে বোঝে না, তাদের জীবনের মূলমন্ত্র "খাওয়ার জন্যই বাঁচা"। 


একটু স্বাস্থ্য সচেতন হলে, তেল মশলা বা ফ্যাটি খাবার কম খেলে যদি পরিবারের সাথে আরো বেশ কটা বছর বেশী বাঁচা যায়, তবে তাই হোক আমাদের মূলমন্ত্র, "খাওয়ার জন্য বাঁচা নয়, বাঁচার জন্য খাওয়া।"

Copyright © All Rights Reserved to Piyali Chakravorty

#নাম-মন্বন্তর। ✍️ - মৃদুল কুমার দাস।

শুভ শব্দ আলোচনা বাসর।
  #বিষয়- *শব্দ আলোচনা।*  # নাম- *মন্বন্তর*।
  ✍️- মৃদুল কুমার দাস।

   মন্বন্তর একটি অভাবের ভাব বোঝাতে শব্দবন্ধ। মৃত্যু, হাহাকার,ক্ষুধা, শ্মশান, কাফন,দুর্দিন, দুর্যোগ,মারী, মড়ক নরক - কথাগুলো মানব সভ্যতার দুঃখজনক অবস্থা কতখানি সেখানে এক লহমায় হাজির করে। 
  মণ্বন্তর-পীড়িত জীবনের এক মর্মন্তুদ কাহিনির দুটি অধ্যায়ের সময়কাল - একটি ১৭৭০ খ্রিষ্টাব্দের,বাংলা সন ১১৭৬ বঙ্গাব্দ,অপরটি ১৯৪৩ খ্রিষ্টাব্দ বা বাংলা সন ১৩৫০ বঙ্গাব্দ। দুই মন্বন্তর সোনার বাংলা সেদিন শ্মশান বাংলায় পরিণত হয়েছিল। দুই মন্বন্তরের একটি দিয়ে ব্রিটিশ সরকারের পত্তন,পরেরটি দিয়ে পতন। দুই মন্বন্তরের মধ্যবর্তী ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শাসনে আমারা ব্রিটিশ উপনিবেশের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়েছিলাম। আমরা নিজেদের জন্ম ভূমিতে পরাধীনতার গ্লানি নিয়ে সে মর্মান্তিক বেদনা বয়ে বেড়িয়েছিলাম কীভাবে তারই ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়। ১৭৭০ থেকে ১৯৪৩ - এই একশ'পঁচাত্তর বছরের ইতিহাসে মন্বন্তর ও পরাধীনতা,স্বাধীনতা আন্দোলন,রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম, বিপ্লব,আত্মবলি দান,সব যেন একটা আমাদের বিধিলিপি নির্দিষ্ট দুর্ভাগ্যের ইতিবৃ্ত্ত। এই মন্বন্তর নিয়ে কিছু কথায় আসা যাক। 
  সাহিত্য, চিত্রকলা,চলচ্চিত্র, নাটকে ১৯৪৩ এর মন্তরের কথা কতভাবে যে বোঝানো হয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। 
    ১৭৭০ বা ছিয়াত্তরের মন্বন্তর পলাশীর যুদ্ধ(১৭৫৭)-এর পর বনিক ইংরেজের হাতে মানদন্ড রাজদন্ডে পরিণত হতে যেটুকু বাকি ছিল বক্সারের যুদ্ধে মীরকাসিমের পরাজয়ের পর থেকে ব্রিটিশ কোম্পানি পেয়ে গেল আমাদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করার পূর্ণ অধিকার। ক্লাইভ ও ওয়ারেন হেস্টিংসের দ্বৈতপীড়নে,রাজস্ব আদায়ের রেজা খাঁ ও সিতাব রায়ের নৃসংশ আচরণে বাংলার ভাগ্যাকাশে দুর্ভিক্ষের মাঝে প্রশাসনিক অত্যাচার, রাজস্ব আদায়ের লুঠতরাজের অরাজকতায় সোনার বাংলা শ্মশান বাংলায় পরিণত হওয়ার পরিচয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টপাধ্যায়ের 'আনন্দমঠ' অন্যতম প্রমাণ। 'আনন্দমঠ'-এর সন্তান দল দুর্ভিক্ষের বিরুদ্ধে বিপ্লবী সন্তান দল ছিল। 'দেবী চৌধুরাণী' উপন্যাসের ভবানী পাঠক বঙ্কিমচন্দ্রের সিভালরিক হিরোর(ধনীর ধন ছিনিয়ে দরিদ্রের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়া) একটি দিশাও মন্বন্তরের বিরুদ্ধে একটা বলিষ্ঠ প্রত্যয়ের কথাও পাই। সেদিন পথে প্রান্তে মানুষের মৃত্যুর মিছিল, আকাশে মৃত মানুষকে ঘিরে আকাশে চিল শকুন,আর স্থলভূমিতে নিষ্ঠুর শাসক মানুষ আর সেদিন মানুষের অবস্থায় ছিল না।
  তবে তেতাল্লিশের মন্বন্তর নিয়ে ইতিহাসের পাতা সবচেয়ে বেশী খরচ হতে লক্ষ্য করি। এখানেও ব্রিটিশ সরকারের বিদায় ঘন্টা বেজেছে,দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দামামা,অজন্মা,খরা,খাদ্য নিয়ে মুজুতদারী প্রথা,স্থানে স্থানে কৃত্রিম খাদ্য সঙ্কট ও চোরাবাজার,সরকারের যুদ্ধের জন্য খাদ্যের মজুত সে এক কৃত্রিম খাদ্য সঙ্কট মেড ইন সরকারই দায়ী ছিল। সরকার সেই দুর্ভিক্ষ অনায়াসে মোকাবিলা করতে পারত,করেনি যেহেতু এদেশ ছেড়ে চলে যাবে,তাই ততটা তাদের আর প্রশাসনিক নজরদারি ছিল না। তার ফল  যে অতীব নিদারুণ ছিল দুটি নাটক - মন্মথ রায়ের 'ছেঁড়া তার' ও বিজন ভট্টাচার্যের 'নবান্ন' প্রধান নথি বললে অত্যুক্তি হয় না। সেদিন দিকে দিকে আকাশ বাতাসে ক্রন্দনরোল - ভাতের বদলে ফ্যান হলে চলবে। 
  "মানুষ এবং কুত্তাতে/ আজ সকলে অন্ন চাটি একসাথে/ আজকে মহাদুর্দিনে"( 'ডাস্টবিন'- দীনেশ দাশ) 
   "জঞ্জালের মতো জমে রাস্তায় রাস্তায়,/ উচ্ছিষ্টের আস্তাকুঁড়ে বসে বসে ধোঁকে,/আর ফ্যান চায়।"( 'ফ্যান'- প্রেমেন্দ্র মিত্র)
   একদিন যারা অন্ন যুগিয়েছে তারাই অন্নহীন হয়ে শহরের রাস্তায় রাস্তায় মৃত মানুষের মতো,মৃত্যুর মিছিলে তারা। তৎকালীন ছবি - এক মা সন্তানকে বুকের দুধ অনেক কষ্টে সংগ্রহের জন্য যতক্ষন সময় লাগে, সংগ্রহ করে পেছন ফিরে দেখে সন্তান মরে পড়ে। শেষে নিজেই সেই দুধটুকু পান করে চলতে থাকে। শহরময় এতো মৃত্যুর লাশের পাহাড় সেদিনও নদীর জলে মা ছেলেকে,বাবা মাকে সন্তান ভাসিয়ে ছিল। দাহ তো দূরের কথা। 
 চিত্রকলায় সেই মন্বন্তর নিখুঁতভাবে ধরা দিয়েছিল। দেবীপ্রসাদ রায়চৌধুরী,জয়নুল আবেদিন,চিত্তপ্রসাদদের ছবিতে মন্বন্তর নিখুঁত রূপ পেল। 
 আর বিশ্বযুদ্ধ, মন্বন্তর, স্বাধীনতা নিয়ে চলচ্চিত্রও সমান মুখর ছিল। মৃণাল  সেনের 'আকালের সন্ধানে' একটি কালজয়ী সৃষ্টি। 
  শুধু খাদ্য নয়,বস্ত্র নিয়েও বিখ্যাত গল্প 'দুঃশাসন'এর মতো গল্পও আজও রাজসাক্ষী হয়ে আছে।
   মন্বন্তরের ইতিহাস আমাদের অনেক সাবধানতার শিক্ষা দিয়েছে। আমাদের দেশ খাদ্যে স্বনির্ভর অনেকটাই। কিন্তু মন্বন্তরের ক্ষত কোনোদিন মেটার নয়। মেটাতেও চাই না। কারণ এই শিক্ষা আমাদের আর মন্বন্তরে ধ্বস্ত করবে না। তবে যা চিন্তা মহামারীকে নিয়ে।
            *****
#কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।

রবিবার, ৮ আগস্ট, ২০২১

বেয়াড়া কেশ (কলমে পিয়ালী চক্রবর্তী)



ন্যাড়া মাথাটাতে হাত বুলোতে বুলোতে, নিজের পরিবর্তিত রূপ দেখে রূপাঞ্জনা ভাবছে সেই পুরোনো দিনের কথাগুলো। হাওয়ায় যখন কানের পাশের চুলগুলো উড়ে এসে সময়ে অসময়ে ওর নাকে মুখে পড়ে সুড়সুড়ি দিতো, আর ও রেগে উঠে বলতো, "একদিন মাথা মুড়িয়ে ন্যাড়া হয়ে যাবো এই জ্বালাতন চুলগুলোর উপদ্রবে।"


তখন ও ভাবতেও পারেনি ওর বলা কথাগুলো এভাবে সত্যি হয়ে যাবে! গতবছর ব্রেস্ট ক্যানসার ধরা পড়ে রূপাঞ্জনার। তারপর মাসটেক্টমি এবং অবশেষে কেমোথেরাপি। সুন্দর ঢেউখেলানো বাদামী চুলগুলো যখন গুচ্ছে গুচ্ছে ঝরে পড়ছিল, তখন মস্তক মুন্ডন ছাড়া আর কোনো উপায় ছিলনা ওর এবং ওর পরিবারের সকলের।


মুন্ডিত মস্তকে হাত বুলিয়ে এখন অন্তহীন অপেক্ষায় রূপাঞ্জনা। কোনোদিন কি সে আবার ফিরে পাবে তার উৎপাতী বেয়াড়া কেশগুলো!

Copyright © All Rights Reserved to Piyali Chakravorty

#নাম- আত্মা-প্রসঙ্গ।✍ - মৃদুল কুমার দাস ।

শুভ আধ্যাত্মিক আলোচনা-বাসর।
# বিষয় - *আধ্যাত্মিক।*
 # নাম- *আত্মা-প্রসঙ্গ।*
  ✍ - মৃদুল কুমার দাস। 

         আত্মা ও পরমাত্মা - আত্মা জীবের ভেতরকার এক অদৃশ্য শক্তি ( আধ্যাত্মিক ভাষ্যে যার পরিচয়- সাইকিক বিয়িং- Psychic Being),আর পরমাত্মা হলেন পরমব্রহ্ম শক্তি। পরমাত্মাই আত্মার মধ্য দিয়ে প্রকাশ,যার পরিচয় দিতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ বলেই ফেললেন- *"ত্রিভুবনেশ্বর আমায় নইলে তোমার প্রেম যে হত মিছে।"*
  পরমাত্মা থেকেই আত্মার সৃষ্টি। পরমাত্মার অংশ বলে আত্মাও পরমাত্মার মত অবিনশ্বর। আত্মা পরমাত্মার অংশ বলে পরমাত্মার মত আত্মাও পবিত্র। আত্মার সেবা হলেই পরমাত্মার সেবা হয় - *"জীবে প্রেম করে যেই জন,সেই জন সেবিছে  ঈশ্বর।"* জীব সেবা মানেই আত্মার সেবা। সেবা দান ও গ্রহণের মধ্য দিয়ে আত্মা পবিত্র হয়ে ওঠার মধ্যে একটি অন্যতম উপায়। এই স্বরূপ বা কী? স্বরূপ জানতে যেতে হবে যাজ্ঞবল্ক্যের উপনিষদের কাছে। তাহলে যাওয়া যাক সেই উপনিষকার,হিন্দুধর্মের এক বিশিষ্ট প্রবক্তা যাজ্ঞবল্ক্যের কাছে।
   তর্ক যুদ্ধে গার্গীর কাছে যাজ্ঞবল্ক্য এই হারেন আর কি একের পর পর এক প্রশ্নে জেরবার হয়ে। শেষে আত্মার  স্বরূপ জানতে গিয়ে যাজ্ঞবল্ক্য বলেছিলেন মেয়েদের এ নিয়ে জানার অধিকার নেই। সেই একই ভাবে স্ত্রী মৈত্রেয়ী যখন জীবনের অমৃতত্ত্ব কি জানতে চাইলেন,গার্গীকে এড়িয়ে গেলেও মৈত্রেয়ীকে পারেননি এড়াতে। জীবনের অমৃতত্ত্ব বোঝাতে গিয়ে আত্মার স্বরূপ বুঝিয়ে ছিলেন।
   আত্মার স্বরূপ মৈত্রেয়ীকে বোঝাতে গিয়ে
যাজ্ঞবল্ক্য বলছেন____
  ১. প্রাণ দ্বারা প্রাণিত যে হচ্ছে তাই তার আত্মা। সব কিছুরই সে অভ্যন্তরীন। তাকে চোখে দেখা যায় না।
   ২. পৃথিবীতে থেকেও পৃথিবীর অন্তরালে,
         পৃথিবী যার শরীর, যে পৃথিবীর অভ্যন্তরে থেকে পৃথিবীকে নিয়ন্ত্রন করছে সেই তোমার আত্মা। সেই অন্তর্যামী ও অমৃতত্ত্ব।
   এই আত্মাই হল ব্রহ্ম। ব্রহ্ম মানে বৃহৎ। আত্মা সম্পর্কিত জানবার জ্ঞানই হল ব্রহ্ম
জ্ঞান।
  আত্মা এক ও অবিনশ্বর।আত্মা এক বলে
তা হতে জীবের সৃষ্টি একটাই নিয়মে। একটি কোষ হয় বহুকোষীয়। একটি মানুষ ছড়িয়ে পড়ে বহু মানুষে।
    যাজ্ঞবল্ক্য বলছেন মানুষের দুটি সত্ত্বা। ব্যষ্টি ও সমষ্টি। মানুষ ব্যষ্টি হয়ে যখন বাঁচে,তখন সে নিজের জন্য বাঁচে। যখন সমষ্টি সত্ত্বা নিয়ে বাঁচে তখন তার বাঁচাটা হয় 
দেশের জন্য। সমাজের জন্য। ব্যক্তি সত্ত্বা  তখন সমষ্টি সত্ত্বার মধ্যে নিজেকে বিলিয়ে দেবে। এই সমষ্টি সত্ত্বাই হল বিশ্ব সত্ত্বা। বিশ্ব সত্ত্বা অক্ষয়,অমর। যে বিশ্ব সত্ত্বার স্বরূপ সম্পর্কে না জেনে পৃথিবী থেকে বিদায় নেয় সে হয় কৃপার পাত্র। আর যে বিশ্ব সত্ত্বা 
তথা ব্রহ্ম সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করে পৃথিবীতে আর ফিরে আসে না, তাকে আর জন্ম নিতে হয় না। মুক্তি পায় সে।
ইহ জগত তাকে অমরত্ব দিয়ে ধারন করে।
    এই আত্মার বাইরে যা কিছু তাই আর্ত। এই আর্ত অর্থাৎ বাইরের শক্তি আনে 
বিচ্ছিন্ন এককের বোধ। আর তখন সেই হয়
খন্ডিত। কেবল ব্যক্তি সত্ত্বার অধিকারী।
       তাহতে প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক এই একক সত্ত্বা কি তাহলে বৃথা ?
         আদৌ নয়। বলা হয় এ ধরনের সত্ত্বা অসম্পূর্ণ। এরা মৃত্যুতেও শান্তি পায় না।
      তাই বলা হয় আত্মা একা নয়। আত্মার সঙ্গে আত্মার মিলন চলে অহরহ। থাকে অনন্ত তৃপ্তি। সেই প্রবনতা থেকে নারী পুরুষের মিলন অনন্ত ব্রহ্ম জ্ঞানের সমান।
     আত্মার মৃত্যু নেই, মৃত্যু আছে কেবল নশ্বর দেহে। নশ্বর দেহের যখন আত্মা বিশ্ব সত্ত্বার সঙ্গে মিলনের পথ পেয়ে যায়,তখন নশ্বর দেহের মৃত্যু ভয় দূর হয়। আর মৃত্যু ভয় তারই দূর হয় না যে নিজের ব্যক্তি 
সত্ত্বার বিলোপ ঘটাতে পারে না। তাকেই এক প্রকার পরাজয়ের গ্লানি ভর করে। বিশ্ব সত্ত্বার সঙ্গে মিলিত হতে যে পারে সেই তো বলতে পারে মৃত্যুতে সব শেষ নয়। ব্রহ্ম জ্ঞানী হলে মৃত্যুভয় দূর হয়। ব্যক্তি মানুষের মৃত্যু আছে,মনুষ্যশ্রেনীর নেই। কোনো ব্যক্তি মানুষ না থাকতে পারে, কিন্তু মনুষ্য সমাজ থাকবেই।
    এই উপনিষদিক ভাবনায় তাই রবীন্দ্রনাথ
বলেছেন_____
             " বিশ্বভরা প্রাণ/ তাহারি মাঝখানে
আমি পেয়েছি মোর স্থান..." 
    আত্মার স্বরূপ মোটামুটি একটা ধারণা হল। যে ব্রহ্মের অংশ সেই তো পবিত্র। কিন্তু আত্মার দোষ আছে, আত্মাতে সেই দোষ আসে মোহ থেকে,অহং থেকে। ব্যবহারিক জীবনের চাওয়া পাওয়ার ভোগাকাঙ্খা থেকে লোভ লালসা,মিথ্যাচার,ঈর্ষা,হিংসা,ক্রোধ তথা সকল জীবনের নেতিবাচক দিকগুলি আত্মাকে অপবিত্র করে। মূল্যবোধ - দান দয়া সংযম,সততা,ভাব,ভক্তি, ভালবাসা দিয়ে পরমাত্মার কাছাকাছি হতে হয়। ভগবানের কৃপালাভ পেতে হলে আত্মার পবিত্রতা রক্ষা করে চলতে হয়। ভগবানের সেবার পথে আত্মার শুদ্ধতা আসে। ত্যাগ, তিতিক্ষা,দয়া,করুণা,বিশ্বাস,নিবেদন,ধ্যান সব আত্মাকে পবিত্র রাখার এক একটি বলিষ্ঠ উপাদান। জগৎ মায়াময়,মায়া আনে অহংকার। অহংকার মুক্ত না হলে জীবন মিথ্যা মনে হয়। মিথ্যাচার নিয়ে বাঁচার মধ্যে জীবনকে বড়ই লঘু মনে হয়।  আত্মার পবিত্রতা মানেই দরদী,সহানুভূতিশীল,উদারতা,নির্লোভ - এক অমৃতময় জীবনের অংশীদার হওয়া যায়। শত দুঃখের মধ্যেও সেই তো হাসতে পারে যার আত্মা পবিত্র।
              *****
 # কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।

শনিবার, ৭ আগস্ট, ২০২১

আত্মার পবিত্রতা! (কলমে পিয়ালী চক্রবর্তী)



নির্গুণ, নিরাকার পরম ব্রহ্মের অংশ আত্মা। এর সৃষ্টি, ধ্বংস বা কোনরূপ পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। আত্মা সদা সর্বদা শুদ্ধ। কোনো কলুষতা, কোনো কালিমা একে স্পর্শ করতে পারেনা। তাই আত্মা চির পবিত্র, চির শাশ্বত, অমর, অজেয়, অবিনশ্বর, অমলিন, চিরন্তন ও নির্গুণ।


পবিত্র বা অপবিত্রতা শুধু মানুষের অন্তরে বা সহজ কথায় বলা যেতে পারে, আমাদের মনেই যত পবিত্র, অপবিত্র লুক্কায়িত। আত্মাকে যদি *আত্ম* জ্ঞান করি, তা ভুল। আত্মা কখনোই আত্ম নয়। মানুষ নিজেদের মনের গুণে ধনলাভ করেন। এক্ষেত্রে ধনের অর্থ কখনোই বিষয় সম্পত্তি নয়, মানসিক ও চারিত্রিক মান্নোয়নন এই ধনলাভের মানদণ্ড। মনকে নিয়ন্ত্রণ করে আত্মশুদ্ধি বা আত্মপবিত্রতা রক্ষা করা যায়। যেহেতু আত্মা নির্গুণ পরমব্রহ্মের কণাসম, তাই পবিত্রতা রক্ষা করার প্রশ্নই আসে না। কর্ম কখনোই আত্মার হয়না। তাই কর্মের ফলও আত্মার নয়। কর্ম হয় মানুষের নিজের। আপন কর্ম উত্তম হলে আত্মশুদ্ধি সম্ভব। 


অনেকেই এক্ষেত্রে বলতে পারেন, "বদ আত্মাও তো থাকে, যারা আমাদের ক্ষতি করার চেষ্টা করে"। তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, বদ আত্মাও সেই পরম শক্তির কণা মাত্র। মৃত্যুর পরে শরীর থেকে নির্গত আত্মা জীবদ্দশার কর্মফল অনুযায়ী দশা প্রাপ্ত করে। কর্ম যদি মন্দ হয় তবে, প্রেতযোনীতে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিচরণ করে তবেই তার পুনর্জন্ম লাভ করা সম্ভব। কিন্তু, এই দুটিকে গুলিয়ে ফেললে কখনই চলবে না। আত্মা অবিচল, প্রকোপ যা, তা শুধু কর্মের ফল।

Copyright © All Rights Reserved to Piyali Chakravorty

শুক্রবার, ৬ আগস্ট, ২০২১

মেয়েদের সব সময় নজরদারিত রাখতে হয়। ( কলমে - পারমিতা মন্ডল ।)

আজ প্রাতঃকালীন আলোচনার বিষয় -
    *মেয়েদের সবসময় নজরদারির মধ্যে থাকতে হয় ।*
        কথাটার গুরুত্ব বিচার করো।

সকাল থেকে বিষয়ের উপর অনেক ভারী ভারী লেখা পড়ে আমার মনটাও ভীষণ ভারী হয়ে গেল । মেপে দেখলাম দশ মন ওজন হয়ে গেছে। আর টেনে তুলতে পারছি না । তাই আর লিখতেও পারলাম না। এখন একটু হালকা বোধ হচ্ছে । চল সবাই হেসে আরো একটু হালকা হই-----

মেয়েদের সব সময় নজরদারির মধ্যে থাকতে হয় উদাহরণ ---

1) সকাল থেকে ময়না বৌদি চেষ্টা করে  যাচ্ছে বরের পকেট কাটার। অনলাইনে একটা ভালো শাড়ি দেখেছে । উর্মি কিনে ফেলেছে। এখন ময়না বৌদি যদি না কেনে তবে মান- সন্মান তো থাকবে না। বরের কাছে টাকা চেয়েছিল ,দেয়নি। অগত্যা পকেট কাটা ছাড়া আর উপায় নেই। কিন্তু দেখো কিপটে বুড়োর নজরদারি। একেবারে শকুনের চোখ।  দেখ কেমন কুতকুত করে চেয়ে আছে। যেন পুলিশের চোখ ? এতো নজরদারি কেন বাপু ? আমি কি তোমার প্রেমিকা নিয়ে পালাচ্ছি ?

অথচ সুন্দরী মেয়ে দেখলেই এই চোখ আবার ড‍্যাব ড‍্যাব হয়ে যায়।  কিন্তু বৌ যদি ভুলেও কারো দিকে তাকায় , তাহলে আর রক্ষা নেই।পারলে পুলিশি পাহারা বসিয়ে দেয়। বৌ যেন কেনা সম্পত্তি।



2) প্রেমিকাকে নিয়ে প্রেমিক ঘুরতে বেরিয়েছে । একজনের সাথে ঘুরছে ,তাকাচ্ছে হাজার জনের দিকে । দেখো টেরিয়ে টেরিয়ে দেখতে দেখতে চোখ ট‍্যারা হয়ে গেল ! অথচ মেয়েটা শুধু একবার বলেছিল, সামনের টেবিলে বসা ঐ ছেলেটাকে দেখতে খুব সুন্দর। একেবারে হ‍্যান্ডসাম । ব‍্যাস  ওর পিছনে CID এর মতো নজরদারি করতে লেগে গেল।  পারলে গান্ধারীর মত চোখে পট্টি বেঁধে দেয় আর কি ? কেন রে বাবা ! তোর বেলায় তো দোষ নেই । আমি দেখলে দোষ ?

3) সপিং এ এসেছে  জয়িতা কর্তাকে ফাঁকি  দিয়ে। অনেক দিনের ইচ্ছা বরের চোখে ফাঁকি দিয়ে দামি নেকলেসটা কিনবে। সেই জন্য ATM টা হাতিয়েছিল । নেকলেসটা পছন্দও হয়েছে । প‍্যাকেট করে যেই বিল পেমেন্ট করতে ATM টা দিল। দেখে একটাও টাকা নেই !  কিভাবে হলো ? আসলে ওনার কর্তা সব সময় গিন্নির উপর নজর রাখছিল। সেদিন কার্ডটা রাখার সময় দেখছিল গিন্নি জুল জুল করে তাকাচ্ছে। ভাগ‍্যিস নজরদারি করেছিল। তাই টাকা গুলো বেঁচে গেল।

4) মেয়েটিকে নজরদারি করতে করতে কালু মস্তান পৌঁছে গেছে কলেজের গেটে।  সুযোগ পেলেই ধরবে । ওর  পিছু পিছু আরো কয়েকটি এসেছে ।  অনেক দিন হয়েছে ও আমাদের হাত থেকে বেঁচে গেছে । আজ আর রক্ষা নেই। গলির মধ্যেই কেড়ে নিতে হবে সব।  হঠাৎ মেয়েটি পিছন ঘুরে বলল "-- কালুদা , কেক এনেছি । খাবে ? " "আরে এতোক্ষন তো ওটাই নজরদারি করছিলাম । কাকিমা তো বলল -- "নাহলে তুই সব একা সাটিয়ে দিবি। আমার তো বোন নেই রে।"এই জন্য তো তোকে চোখে চোখে রাখি।


সব নজরদারি খারাপ নয় । 

একটু হাসানোর সামান্য চেষ্টা।

all rights are reserved by paramita mandal.





#নাম- নজরদারী ও মেয়েরা। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।

শুভ প্রাতঃকালীন আলোচনা-বাসর। 
 # বিষয় -
    *মেয়েদের সবসময় নজরদারির মধ্যে থাকতে হয় ।*
     # নাম- 
   *নজরদারী ও মেয়েরা।* 
✍ - মৃদুল কুমার দাস। 

       পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ক্ষমতালোভী ও ক্ষমতা ভোগী। জৈবিক প্রবৃত্তিতে এক ধরণের কাঠিন্য কোমলতার বিপরীত মেরুতে অবস্থান থেকে পুরুষ পুরুষই,জৈবিক প্রবৃত্তিতে কোমলতার স্বরূপে নারী নারী। পরস্পরের প্রতি আকর্ষণ জিনগত চাহিদা। সেখানে সৃষ্টির একটা বীপরীতধর্মিতায় তূল্যমূল্য বিচারে পুরুষ দৃঢ়,নারী কোমল। 
  মাতৃতান্ত্রিক সমাজে এ প্রমাণিত সত্য যে নারী কিন্তু দুর্বল ছিল না। পুরুষ বানাল দুর্বল। আর তা থেকে এলো পুরুষতান্ত্রিক সমাজ। নারীকে সেক্স উইকার হিসেবে(ভারী কাজে) দেখাটা থেকে পুরুষ ক্ষমতা দখলের সুযোগ পেল। 
  এই যে সেক্স উপকার বললাম এর মাত্রা ক্ষেত্রবিশেষে নানারকম তার গতি। ঘরে বাইরে তাকে দুর্বল করে দেখাটা একটা অভ্যেসে পরিণত করল। নারীকে আদি থেকে শিক্ষাদানে পিছিয়ে রাখার জন্য নারীও চিন্তায় ও ভাবনায় নিজেকে এগিয়ে যেতে দিল না। বৈদিক যুগের আদিতে গার্গী,মৈত্রেয়ী,অপালাদের পুরুষের সমকক্ষ ভাবা হতো না। গার্গীর আত্মা কী,জীবনের অমৃতত্ত্ব কী  জানার অধিকার ছিল না,যাজ্ঞবল্ক্য গার্গীকে তাই বলেছেন। মেয়েরা পুরুষের বেশ ধারণ করে,মুন্ডিত মস্তক শিখা ধারণ করলে পুরুষের সঙ্গে তর্ক যুদ্ধে অগ্রসর অধিকার পেত। অষ্টাদশ শতাব্দীর হটিলঙ্কারের কথা তাই প্রমাণিত সত্য। বৌদ্ধযুগে বিদুষী আম্রপালী হয়ে গেলেন নগরের নটী। নগরের সকল জ্ঞানী গুণীর ভোগ্যা হলেন। পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থার কাছে আম্রপালি পন্য। আম্রপালির কোনো প্রতিবাদের অধিকার ছিল না। পুরুষের ক্ষমতার দাসত্ব করতে নারীকে হতে হল সতী,বিষকন্যা ও দেবদাসী। তারপর তো বিধবা থেকে কত কি - মেয়ে হয়ে জন্মানো দুর্ভাগ্য,ভাগ্যের মন্দে তো পুরুষতান্ত্রিকতা কারিগর। তাহলে মেয়েদের নিয়ে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের বিধানের হরেক ফিরিস্তি আজও ভাবনার জায়গায় স্বস্তি নেই। সেক্স উইকার হিসেবে দেখার প্রবণতা না ঘুঁচলে নারীর দুর্ভাগ্য কোনোদিন ঘোচার নয়। দুর্বলতাকে বিধাতার বিধানের হাতে ছেড়ে দেওয়া - 'আপনার ভাগ্য জয় করিবার নাহি দিবে অধিকার।'
  এই যে মেয়েদের ঘরে বাইরে নানা বিপদের ঝুঁকি ভাবনার আরেক দুর্বলতা। তাই নিয়েই তো সবসময় নজরদারি নারীর উপর। নারীকে পুরুষ তার সেক্সচুয়াল ক্রাইসিস থেকেও মেয়েদের উপর প্রতিশোধমুখী হয়। তার হাত থেকে সমাজকে স্বস্তি দিতে মেয়েদের মাতৃজ্ঞানে সম্মানের  কথা বলা হয়েছে। 
   সমাজে নারী ও পুরুষের মধ্যে উইকার ও স্ট্রঙ্গারের বৈষম্য যতদিন সমস্যা ততদি। উইকার নারী বলে নজরদারির মূলেও থাকে সেক্সচুয়াল প্রবণতা। শৈশব থেকে নজরদারি এটা কোরোনা,ওটা কোরোনা। কেমন করে চলতে হবে চলে আদবকায়দা শেখানোর নজরদারি। এতে মেয়েদের নিজেদেরই আর্থ-সামাজিক অবস্থার উপর দাঁড়িয়ে নজরদারি একটা কালচারে পরিণত হয়। তাদের থেকে সমাজে ও পুরুষ আমি নারীর বিভাজন আসে। আর বিভাজন থেকে আসে লক্ষ্মণরেখা। সোনার হরিণ শিকারে রাম গেলেন তো গেলেন, সীতাকে নজরদারিতে লক্ষ্ণণকে রাখার সেই একই কথা। লক্ষ্মণ সীতাকে একা রেখে যাচ্ছে গন্ডী কেটে। গন্ডীই লক্ষ্মণের অনুপস্থিতে নজরদারি রাখবে। নারীকে  নজরদারির মধ্যে থাকতে হবে -  এটাই অলিখিত সিস্টেম।
    বর্তমান নারীকে রক্ষার জন্য আইনের ধারার কি শেষ আছে! নারীকে নজরদারি করে এই সব আইন। নারীকে সাবলম্বী করার পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থা কণামাত্র স্পেস দেয়নি,এ নাকি এক পবিত্র কর্তব্য। কর্তব্যের নামে নারীর দুর্বলতাকে পরোক্ষে বার্তা দেওয়া হচ্ছে,বোঝেও বুঝবে কে? নজরদারি,খবরদারি যে চলে যাবে না! 
    নজরদারির আরেক সিস্টেম খুব সুন্দরভাবে প্রকাশ্যে দেখি। মেয়েদের হাতে মোবাইল দিতে মানা। দিলে পুরুষ ফুসলে নিয়ে যাবে। ছেলেরা মেয়েদের শিকার করে মোবাইল দিয়ে। মোবাইল থেকে মেয়েদের ধর্ষিতা,অবৈধ সম্পর্ক,ছেলের  জন্য বাবার অর্থ,গহনাগাটি সর্বস্ব যাওয়া এখন তো আকছার। তাই গ্রামে মোবাইল ব্যবহারের মেয়েদের বিধিবিধানের বেড়া থাকে। তথ্য বলছে গ্রামে মোবাইল ব্যবহারকারী মেয়েদের সংখ্যা বারো শতাংশ,পুরুষ অষ্টাশি শতাংশ। নজরদারির এও এক হিস্যা। 
  আসলে মেয়েদের দুর্বল ভাবা পুরুষের একটা ম্যানিয়া। নারীর প্রতি সন্দেহ থেকে নজরদারি নাকি বাস্তব পন্থা। এই নজরদারিতে সমাজে এখনও মেয়েদের দুর্বল বানিয়ে রাখা হয়েছে। একটা দেশের দুর্বলতা মেয়েদের প্রতি নজরদারিকে ঘিরে গড়ে ওঠে। আজ মেয়েরা কোন অংশে কম। প্রমাণ সর্বত্রে। তবুও নজরদারির সিস্টেম সমাজকে দুর্বল যে কতটা করছে,মানাটা একেবারেই আপেক্ষিক। এই নজরদারি থেকে মেয়েদের হতাশাময় জীবনকে অভিশপ্ত করছে।
           ******
# কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।

বৃহস্পতিবার, ৫ আগস্ট, ২০২১

আমের আঁটি( কলমে-- পারমিতা মন্ডল)

বিষয়----সান্ধ্যকালীন আলোচনার বিষয়:
*আমের মাঝখানটাতে থাকে আঁটি, সেটা মিষ্টিও নয়,নরম নয়,খাদ্যও নয়। কিন্তু ঐ শক্তটাই সমস্ত আমের আশ্রয়, ঐটাতেই সে আকার পায়।*😊
ধন্যবাদ ও শুভ বিকেল।

কলমে--- পারমিতা মন্ডল।

১মঃ।  জীবনটা একেবারে আমের আঁটির মতো হয়ে গেল গো।  চুষতে চুষতে একেবারে শেষ করে দিল । সকাল নেই সন্ধ্যা নেই চরকির মতো ঘুরছি । দুটো পয়সার জন্য । আর ঐ মহাজনটারে দেখ ? দুটো পয়সা কম নেবে না । একেবারে চুষে খাবে । 

২য়ঃ। ও দিদি , বলি হলোটা কি ?  আজ আবার ক্ষেপলে কেন ?

১মঃ। ক্ষেপেছি কি আর সাধে ? ঐ মালিকের কারখানায় এতোদিন কাজ করে কারখানাটাকে দাঁড় করিয়ে দিলাম। আর এখন দেখ ,যেই সুন্দরী মেয়েরা আসতে শুরু করেছে, আমাদের আমের আঁটির মতো ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে। কত করে বললাম দশটা টাকা কম নাও । তা শুনলোই না।

২য়ঃ আসলে কি জানো দিদি । মালিক রসালো আম দেখে আঁটির কথা ভুলে গেছে । কিন্তু রসালো আম যে এক সময় ফুরিয়ে যাবে। আঁটিটাকেই তো যত্ন করে রাখতে হবে । আঁটিই তো পরবর্তীতে বংশবিস্তার করবে। 

১মঃ আরে হ‍্যাঁ , সেটাই তো বোঝাতে পারলাম না ।  সুন্দরী দেখে একেবারে গলে গেল । ওরা তো রসালো আমের মত। ওদের রূপের মোহে পড়েছে তো জীবন শেষ । এই তো সেদিন দেখলাম -- "সুন্দরী সুবেশী নয়না কে কত বেশী টাকা দিয়ে আপয়েন্ট করলো । দু'দিন  পরে তো ফুঁড়ুত। বুড়োর এখন মাথায় হাত। অনেক টাকা নিয়ে পালিয়েছে তো ? রূপের মোহে ভুলেছিল যে ।

২য়ঃ তাই নাকি গো ? অথচ দেখ । তোমরা কিন্তু এখনো যাওনি । তোমাদের চেষ্টা সব সময় কোম্পানিটাকে আরো বড়  জাযগায় নিয়ে যাওয়া। তোমরা হলে পুরনো লোক। একটু কড়া কথা বলো ঠিকই কিন্তু প্রকৃত কাজ তোমরাই কর।

১মঃ    আমাদের মালিকটা সেটা বোঝে না । আমরা হলাম আমের আঁটির মত। উপরটা বড় কঠিন । কারণ আমরা শ্রমিক । আমাদের উপর দাঁড়িয়ে আছে কোম্পানির ভবিষ্যৎ। যেমন আমের আঁটির উপর নির্ভর করে তার বংশ বিস্তার।  তেমনি কোম্পানির বিস্তার ও নির্ভর করে তাদের শ্রমিকদের উপর। শ্রমিকরাই কোম্পানির একমাত্র আশ্রয়স্থল । কিন্তু মালিকরা সেটা ভুলে যায়।

২য়ঃ আমের আঁটিকে যদি জল মাটি সার দিয়ে উপযুক্ত পরিবেশ দেওয়া হয়, তাহলে  সে  একদিন বৃক্ষ হয়ে ফুলে ফলে ভরে দেয়।  তেমনি একজন শ্রমিক ও যদি উপযুক্ত পরিবেশ পায় তাহলে সে অট্টালিকা বা তাজমহল গড়তে পারে। কিন্তু তাদের কপালে শুধু জোটে অবহেলা। কাজ ফুরিয়ে গেলে ছুঁড়ে ফেলে দেয়।

১মঃ এসব ওদের মোটা মাথায় ঢুকবে না রে । ঐ তাজমহলে ওরা বাসর সাজিয়ে বসে পড়বে । এদের বোঝানো বৃথা। 

All rights are reserved by paramita mandal.

#নাম- আমের আঁটি। ✍ মৃদুল কুমার দাস।

শুভ সান্ধ্য আলোচনা-বাসর।
 # বিষয় - 
*আমের মাঝখানটাতে থাকে আঁটি, সেটা মিষ্টিও নয়,নরম নয়,খাদ্যও নয়। কিন্তু ঐ শক্তটাই সমস্ত আমের আশ্রয়, ঐটাতেই সে আকার পায়।*
 # নাম- *জীবন যেরকম।*
   ✍ - মৃদুল কুমার দাস।

      প্রকৃতির দানের লীলাময় গতিতে পাই তার অবর্ণনীয় সৌন্দর্য। জড়ের গতিশীলতার মধ্যেও প্রাণ পায় অনাবিল আনন্দ। আর প্রানের সেই আনন্দ বিচিত্রগামী। সুখ সীমাবদ্ধ,আনন্দ অনন্ত। সেই আনন্দ অনন্ত হয়ে গাছ, ফুল,পাখী হয়ে প্রকৃতি প্রাণবন্ত। প্রকৃতির এক এক স্বরূপ।
   কাঠিন্যের মধ্যে অনুভূতির স্ফূরণ এক ধরনের অভিসার, আবার কোমলের মধ্যে আরেক ভিন্ন অনুভূতি। সবেতেই আছে সৌন্দর্যের অভিসার। সৌন্দর্য এক গতিশীল প্রক্রিয়া। বটবৃক্ষের ফলের কথা ভাবলে মনের গতি থেকে জীবন-দর্শন লাভ যেভাবে হয় তার কূলকিনারা  পাইনা। আর আমের আঁটি আরেক ধরনের জীবন-দর্শন। আঁটি আমের রসাল অংশের ধারক। ওর ওতেই গুণ সঞ্জীবিত। কঠিনের মধ্যেই তো রসের অমৃতধারা যা জীবনকে দেয় অফুরন্ত শিক্ষা। যে জীবন যত কঠিন সে তত কোমল। কেননা কোমলে কঠোরে মিশ্রিত জীবনকে ধারণ জীবনের সৌন্দর্য। তাই ব্যক্তিত্বের প্রকাশ। আমের আঁটি যে বৃক্ষের জন্মসূত্র। পুরুষ প্রকৃতি। ভেতরে থাকে দৃঢ় শক্তি হয়ে,থাকে সৃষ্টির শক্তি নিয়ে। আর বহিরাংশ নারীপ্রকৃতির মত। একই অঙ্গে দুই প্রকৃতির ধারণ করে আম হয়েছ অমৃতফল। জীবনকে দেয় অমৃতাস্বাদন। কেন আমের ভেঁপু শিশুর হাতে সুরের যাদু দেয় না! আঁটি ভোগ্য নয়,নিজের সৃষ্টির জন্য সে মহান। আর তার বহিরাংশ মহান উদারতায় দান করছে তার মহতি কর্ম। আমরা আমের আঁটির কাঠিন্যটাই দেখি,ব্যবহারিক দৃষ্টিতে। কিন্তু আঁটির কাঠিন্য যে তার সকল সৃষ্টির রহস্য। তাই আঁটির কাছে জীবনের শিক্ষার অনেক মূল্য। প্রয়োজনের বিচারে আমরা যেন দৃষ্টিভঙ্গিকে সঙ্কীর্ণ না করি। তাই করে নিজেদের ভাবনার দুর্বলতা না প্রকাশ করি। কঠিন যে পুরুষপ্রকৃতি। কোমলতা নারীপ্রকৃতি। এই দুইয়ের একই অঙ্গে ধারণের ক্ষমতা দিয়ে আমকে অমৃত ফলের উপাধি সত্যিই এক মহতী তাৎপর্য। জীবনকে দেয় অমৃতত্ত্বের অনন্ত সুধা।
          *****
# কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।

আঁটির আম(কলমে পিয়ালী চক্রবর্তী)

আমের মাঝখানটাতে থাকে আঁটি, সেটা মিষ্টিও নয়, নরম নয়, খাদ্যও নয়। কিন্তু ঐ শক্তটাই সমস্ত আমের আশ্রয়, ঐটাতেই সে আকার পায়।
আঁটির আম
-------------------
পুষ্টি বৃদ্ধি পরিস্ফুরণ যার মাঝে,
মধ্যমণি হয়ে বসে বুকে বাজে,
ধুকপুক, ধুকপুক প্রাণের স্পন্দন,
চিরাচরিত আমৃত্যু এ প্রগাঢ় বন্ধন।

স্বত্তা তার লুকিয়ে আছে মাতৃবক্ষ পরে,
সত্য নিত্য সুন্দর জীবন গহীন আধারে,
আধারে আঁধার কেটে আলোর পায় দিশা,
ফুটে ওঠে চরিত্র তার, অন্তরের অনিশা।

সকল মিষ্টর অন্তরালে আছে অন্য স্বাদ,
সকল নরম মাঝে কঠোর প্রবাদ,
চিনতে যদি পারো তবে তারে চিনে নাও,
মনের মণিকোঠায় স্থানটি তারে দাও।
Copyright © All Rights Reserved to Piyali Chakravorty

# নাম- দেবদাসী। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।

শুভ সান্ধ্য আলোচনা-বাসর 
 # বিষয় - *দেবদাসী প্রথা--একটি মেয়ে ও সমাজ জীবন কিভাবে প্রভাবিত করে?*
   # নাম- *দেবদাসী।*
✍ - মৃদুল কুমার দাস। 

       *দেবদাসী* সমাজের একটি মুখ। এই দেবদাসী প্রথার অন্তর্ভুক্ত মাগধী প্রাকৃত সাহিত্যে সুতনুকা নামে দেবদাসীর কথা পাই-
*"সুতনুকা নাম দেবদাসিক্যী তং কাময়িথ বালানশোয়ে।/ দেবদিন্নে নাম লুপদখে।।"* - সুতনুকা নামে দেবদাসী বারানসীর রূপদক্ষ শিল্পী দেবদত্তকে কামনা করেছিলেন। 
    সেই সঙ্গে দ্বিতীয় দেবদাসী র নাম পাই কমলা। যে কিনা উত্তরবঙ্গের কার্তিকেয় মন্দিরের অপূর্ব সুন্দরী নৃত্যপটিয়সী দেবদাসী ছিলেন। যাকে লোকশিল্পী নির্মলেন্দু চৌধুরী তাঁর গানে বিখ্যাত করে রেখেছেন- 
      *"ভাল কইরয়্যা বাজাওরে দোতারা/ সুন্দরী কমলা নাচে।"*
 কমলার সঙ্গে মনে পড়ে বৌদ্ধযুগে নগর নদী আম্রপালির কথা। মহানাম বৈশালীর প্রমোদ উদ্যানে এক মালী কুড়িয়ে পান দিব্য কন্যা আম্রপালিকে। নিঃসন্তান মহানাম সন্তান স্নেহে পালন করলেন। তাঁকে বিদুষিনী নারী হিসেবে গড়ে তোলেন। দিনে দিনে অপরূপা সুন্দরী হয়ে উঠলেন। কামকলা বিলাসে পটিয়সী। কিন্তু যেহেতু কুড়িয়ে পাওয়া কোনো দেবকন্যার মতো বলে নগরের সব জ্ঞানী গুণীদের ভোগ্যা হলেন। নগরের নটী তথা সর্বভোগ্যা রূপে গৃহীত হলেন। পুরুষতান্ত্রিক বিধানের কাছে মহানাম সন্তান হিসেবে পেয়ে সমাজের বিধানের কাছে বড়ই অসহায়। নগরের নটী করে সমর্পণ করতে হয় আম্রপালিকে।
   সমাজে তিনধরণের নারী - সতী,দেবদাসী ও বিষকন্যা। এই দেবদাসীদের অবস্থা সমাজের বুকে সবচেয়ে করুণ ছিল। কারণ দেবদাসী বিক্রির মেলা বসত। দেবদাসীরা পরে বিক্রির চক্কর পড়ে বেশ্যায় পরিণত হয়। তাদের নিয়ে প্রধান পুরোহিতের ছিল কমিশনের ব্যবসা।
   কর্নাটকের এক পার্বত্য নির্জন স্থানে এক মন্দির চত্বরে দেবদাসী বিক্রির মেলা বসত। তাই শুনে এক ইংরেজ পর্যটক ও সংবাদ পত্রের এডিটর সেই মেলায় যেতে চান। তখন তাঁর দোভাষী বললেন- "সর্বনাশ! এই কাজ করবেন না; খুন হয়ে যাবেন।" কারণ তা ছিল খুব গোপন ব্যাপার। পর্যটক ছিলেন সংবাদ পত্রের যেহেতু এডিটর,তাই বাইরে তথ্য পাচারের খবর পেলে ওরা খবর সংগ্রাহককে হত্যা করে ছাড়বে।
  দক্ষিণ ভারতে এই দেবদাসী প্রথার রমরমা ব্যবসা ছিল। কর্ণাটক ছিল ঘাঁটি। তাকে ঘিরে তামিলনাড়ুর ভেল্লোর,রামনাথপুরম,তিরুনেলভেলু,অন্ধ্রপ্রদেশের চেকসোনামা,রাজামুন্ডুরী প্রভৃতি স্থান উল্লেখযোগ্য।যৌন আবেদনময়ী আদিবাসী মেয়েদের সস্তায় পাওয়া যেত। দেবদাসীদের গণিকাবৃত্তির কাজে লাগানোর কথা প্রথম প্রকাশ্যে আসে ১৯০৬ -৭ সালে। সে বছর আন্তর্জাতিক সনদে ভারতকে পতিতা মেয়েদের সম্পর্কে সই করতে হয়। 
  দেবদাসীরা দেবতার স্ত্রী। দেবমন্দিরে নিবেদিতা। দেবতার মৃত্যু নেই বলে দেবদাসীরা চির আয়ুস্মতী।
     দক্ষিণভারতে প্রথা আছে যে মেয়ের বিয়েতে দেবদাসীরা হিজড়াদের মত নেচে নেচে তালি দেয় সেই মেয়ে নাকি চির আয়ুস্মতী হয়।
 ভরতমুনী তাঁর নাট্যশাস্ত্র রচনার প্রেরণা লাভ করেছিলেন দেবদাসীদের নাচ দেখে। *ভারতনাট্যম* শৈলী দেবদাসীদের অবদান। 
  এই দেবদাসীদ প্রথা থেকে সমাজে গণিকাবৃত্তি এসেছিল। কলকাতার সোনাগাছি,বাগবাজারের হাড়কাটা গলি,কালীতীর্থ কালীঘাট ক্রমে যৌনপল্লী হয়ে ওঠে কর্ণাটক থেকে দেবদাসী সরবরাহ থেকে। কলকাতার সোনাগাছিতে প্রথম যে মেয়েটি আসে কর্নাটকের দুর্গম গ্রাম হুবলি থেকে আসে।এর আগে সে দুবার বিক্রি হয়েছিল। প্রথমবার ৮০০টাকায়। সে টাকা তার মা কেড়ে নিয়েছিল।যেতে হয়ে বোম্বাই। একবছরে হাজার পুরুষের দ্বারা ধর্ষিতা হয়। দিন রাত মিলিয়ে চার পাঁচবার।
 পরের বছর এই ৬০০ টাকায়। এবারে টাকা গচ্ছিত রাখে পুরোহিতের কাছে। ফিরে গেলে পাঁচশ পাবে। আর পুরোহিত পাবে একশ'।
  দেবদাসীদের নানা নাম। উৎস বিচারে। যাঁরা স্বেচ্ছায় দেবদাসী হয় তারা *দত্তা*। যে মেয়েদের মন্দিরের কর্তাদের  কাছে বিক্রি করা হত তার নাম *বিক্রিতা*। যাঁরা পরিবারের স্বার্থে বিক্রি হত তারা *ভৃত্যা*। যাঁরা সত্যিকারের উৎসর্গ করত তারা হল *ভক্তা*। *গীতগোবিন্দ* এর  রচয়িতা  জয়দেবের স্ত্রী পদ্মাবতী ছিলেন পুরীর মন্দিরের দেবদাসী। তিনি দৈববানী শুনে অজয় নদের তীরে কেন্দুবিল্ব গ্রামে চলে এসে জয়দেবের সাধনসঙ্গিনী হন।
      মন্দিরের সুনাম নির্ভর করত দেবদাসীদের সংখ্যার উপর। ১৯৩৪ এ মাদ্রাজ হাইকোর্ট বলল দেবদাসীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে দিতে হবে। দেবদাসী প্রথা সম্পূর্ণ বে আইনী। নতুবা দেবদাসীদের বেশ্যা বলে গন্য করা হবে। গাঁধীর এই দেবদাসী প্রথা রঙের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। 
  দেবদাসী বেশ্যায় পরিণত হল।  আর বাংলার বিধবাকুলও কাশিবাসী হওয়ার চেয়ে বেশ্যাবৃত্তি অনেক নিরাপদ ভাবত। দেবদাসী ও বেশ্যা,বিধবা ও বেশ্যা সমাজের এক সমস্যার  চিরন্তন সাক্ষী হয়েছিল। বাংলা দেবদাসী ও বিধবার গতি বেশ্যাগিরিতে সমাজের এক করুন পরিণতির কথায় আজও আমাদের ধিক্কার দিয়েও বেদনার উপশম হয় না।
      ********
# কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।

বুধবার, ৪ আগস্ট, ২০২১

বাক্য আলোচনা (কলমে পিয়ালী চক্রবর্তী)

যোগাযোগ মাধ্যমগুলির গতিবিধি আজ গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে পরিব্যাপ্ত।এগুলি স্নায়ুতন্ত্রেরই এক ব্যাপক রূপ



ফোনে ফোনে যোগাযোগ হোক বা মনে মনে কথা, যোগাযোগের মাধ্যম আজ গ্রহ থেকে গ্রহন্তরে। মস্তিষ্ক, অ্যাফারেন্ট, ইফারেন্ট নার্ভের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে আমাদের স্নায়ুতন্ত্র, যা আমাদের শরীরের যোগাযোগ মাধ্যম এবং এই স্নায়ুতন্ত্রের নার্ভগুচ্ছের দ্বারাই আমাদের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে তড়িৎ-রাসায়নিক সংকেত আদান-প্রদান হয়। আমরা যেখানে যে অবস্থাতেই থাকি না কেন, আমাদের স্নায়ুতন্ত্র সবল থাকলে, ঠিকমতো কাজ করলে আমাদের সকল অনুভূতিগুলোও ঠিক থাকে।  


ঠিক তেমনই, যোগাযোগ মাধ্যম অর্থাৎ, স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট, কলিং সিস্টেম, ম্যেসেজিং সবই এক অদৃশ্য সমন্বয়কারী তরঙ্গের মাধ্যমে বাহিত হয়ে পৌঁছে যায় দেশ থেকে বিদেশ। আমরা যে টিভি দেখি, রেডিও শুনি সবই সেই বিশাল কর্মকান্ডের অংশ। এই যোগাযোগ মাধ্যমে আবহাওয়ার পূর্বাভাস থেকে শুরু করে চন্দ্র, মঙ্গল ও মহাকাশের বিভিন্ন তথ্য জানতে পারি আমরা। মহাবিশ্বকে যদি আমরা মস্তিষ্ক  হিসেবে কল্পনা করি, তবে বিভিন্ন গ্রহ-উপগ্রহ-গ্রহানুপুঞ্জ নিয়ে গঠিত সেই মস্তিষ্কপ্রসূত তরঙ্গের মাধ্যমে গ্রহ থেকে গ্রহন্তরে ছড়িয়ে পড়ে যোগসূত্র।


তবে, যোগাযোগের জন্য কোনো মাধ্যম যেখানে থাকেনা, সেখানে কি যোগাযোগ হয়না! অবশ্যই হয়, মনের সাথে মনের যে এক অদৃশ্য বন্ধন থাকে, সেই বন্ধন দেখা যায় না, ছোঁয়া যায়না, শুধু অনুভব করে নিতে হয়। তার কথা ভেবে চোখে জল আসলে সেই তো যোগাযোগ, আত্মার সাথে আত্মিক মিলন। 


এত যে যোগাযোগ! 

এত বোঝাপড়া!

পরমাত্মার সাথে মিলবার নেই, 

কারো মনে কোনো সাড়া!


সেখানেতে যোগের অঙ্ক,

বিয়োগ হয়ে যায়!

কিভাবে মিলিব সখা!

নেই কি উপায়!


আছে সে যোগ এক,

নাম তার ভক্তি,

সে পথে গেলে যোগেই,

মেলে চিরমুক্তি।

Copyright © All Rights Reserved to Piyali Chakravorty

মঙ্গলবার, ৩ আগস্ট, ২০২১

#নাম- অপলক দৃষ্টি ✍️-মধুবন্তী দাশগুপ্ত


 #বিষয় -চিত্রালোচনা

#নাম- অপলক দৃষ্টি 

✍️-মধুবন্তী দাশগুপ্ত 


"স্বপনে তাহারে কুড়ায়ে পেয়েছি, রেখেছি স্বপনে ঢাকিয়া"

      আপামর মানবসন্তান জন্মের পর থেকেই দু চোখ ভরে স্বপ্ন দেখে। বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক অবস্থার ভিত্তিতে এক একজনের ভাবনায় থাকে ভিন্ন ভিন্ন আশা। 

      ছবিতে শিশুটি একমনে তাকিয়ে আছে তার কিছু অধরা স্বপ্নের পানে। সে যেন অনতিদূরে দেখছে তারই সমবয়সী কিছু অবস্থাপন্ন ঘরের ছেলেপুলেরা হৈ হৈ করে ক্রিকেট খেলছে, দামী ব্যাট-বলের সাথে পরণে কতকিছু খেলার সুন্দর পোশাক ও উপকরণ! সে যদি একটা সুযোগ পেতো, তাহলে একেবারে সৌরভ, ধোনি--এদের মতো ধাই ধাই করে ছক্কা মারতে পারতো! ওই চকচকে ডিউজ বলটা হাতে পেলে কপিল দেব বা কুম্বলের মতো কতোজনকে বোল্ড আউট করে দিতে পারত! 

        কিন্তু হায়! তাকে যে কেউ খেলতে ডাকেনা! পিচের কাছাকাছি গেলেই দূর দূর করে তাড়িয়ে দেয়। তবে এই দুটো উচ্চাভিলাষী নয়ন মেলে প্রতিদিনের ম্যাচগুলো দেখে দেখে সে সব খেলার নিয়মকানুন শিখে গেছে। তাহলে কেন তাকে একবারও খেলতে দেওয়া হবে না! সে যে কোনোদিনই এই আকাঙ্খাকে পূর্ণ করতে পারবেনা, একথা বিশ্বাস করতে বড্ড কষ্ট হয়। তাই সে একরাশ ভাবনার জাল বোনে এই শূন্য দৃষ্টি নিয়ে!

         এমন একটি করুণ দৃশ্যের মধ্যে দিয়ে দেখতে পাই শত শত অভাবী পরিবারের ত্রাহি ত্রাহি রব, একটু গ্রাসাচ্ছদনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে হাহাকার! একজন পরিণত মানুষ যেমনই অবস্থায় থাকুক, সে তবু প্রতিকূলতায় নিজেকে মানিয়ে নিতে সক্ষম হয়। কিন্তু একটি অবলা শিশু কি করে তার অর্থনৈতিক গণ্ডীর সীমাবদ্ধতাকে উপলব্ধি করবে! সে তো আর পাঁচটা খুদের মতোই ইচ্ছাপূরণের সুদূরপ্রসারী দিগন্তকে ছুঁতে চাইবে। সত্যিই বোধহয় এই অসাম্যকে আমরা কোনোদিন দূর করতে পারবনা, যতোই একসাথে কণ্ঠ মিলাই, 

"এক সূত্রে বাঁধিয়াছি সহস্রটি মন, এক কার্যে সঁপিয়াছি সহস্র জীবন--" 


**********************

#কপিরাইট রিজার্ভ ফর মধুবন্তী দাশগুপ্ত।

#বিষয়_অপুষ্টি #কলমে_অনিশা

 


#বিষয়_অপুষ্টি

#কলমে_অনিশা


"তুমি এখন যাও তো দিদিমণি",  মুখ ঝামটা দিয়ে বলে উঠেন সুনিতা দেবী। "এই হয়েছে যত জ্বালা! কোথাও যাবে না আমার বউ, আর আমার নাতনি ও যাবে না। তুমি এলেই আমার বউটা ও যেন কেমন হয়ে যায়।" আশেপাশে বাড়ির লোকরা ও দাঁড়িয়ে যায়। একটু বুঝতে চেষ্টা করে কি হয়েছে। সুনীতা দেবী ও এই সুযোগের অপেক্ষা করে থাকেন। একটু ভিড় জমতেই শুরু করেন, "দেখো দেখি বাচা, আমার নাতনির অসুখ-বিসুখ নেই, দিব্যি ভালো মেয়ে। এমন চুপ করে শুয়ে থাকে, বসে থাকে তাতেই ওনার অশান্তি। পিছনে পড়ে আছে। রোজ আসচে আর তোমার নাতনির ওজন কম, ওজন কম। আরে বাব্বা, আমার নাতনিকে আমি রোজ চিপসের প্যাকেট কিনে দিই। ওই নিয়ে সারাদিন বসে থাকে। একটা একটা করে সারাদিন খায়। আমার ঘরে কি খাওয়ার অভাব? অপুষ্টি, অপুষ্টি করে মাতা খাচ্চে। আর এই বউটাও হয়েছে তেমনি। ওনার কথায় নাচতে শুরু করে দেবে। কোতায় না কোতায় পাঠাবে বলচে। রোজ 100 টা করে ট্যাকা দেবে আর বাচ্চাকে খাওয়ানো শেখাবে। আর ওর মাকে ও বাচ্চার রান্না করা শেখাবে। ঝোজো দিকিনি। বাড়ির সব রান্না তো ওই করে‌, ওকে আবার শেকাবেটা কি?" 

দিদিমনি অর্থাৎ অনিন্দিতা, স্বেচ্ছায় সমাজসেবা করে। নিজেকে সমাজসেবীর তকমাটা লাগাতে চায় না। কিন্তু গরীব বস্তির বাচ্চা গুলো কে, কি করে ওখানে থেকে ও সুন্দর জীবন দেওয়া যায় অনবরত সেই চেষ্টা করে। সুনীতা দেবীর বাক্যবাণে একটু বিহ্বল হয়ে পড়ে সে। আবার বোঝাতে চেষ্টা করে, "মাসীমা শুনুন।  ওর বয়স অনুযায়ী ওর যা ওজন হওয়ার কথা তার চেয়ে অনেক কম ওজন ওর। ওর মাথাটা শরীরের তুলনায় বড়। শরীরের চামড়াগুলো খসখসে হয়ে গেছে। এটাকে বলে ম্যারাসমাস।" ঝঙ্কার দিয়ে উঠলেন সুনীতা দেবী, "এবার তুমি যাও তো বাপু। আমাকে মরা মাস শেকাতে এয়েচেন। ওরম শরীলে হয়। নেয়ে আজ ওর মা ভালো করে তেল মাকায় নি। কাল থেকে আমি তেল নে বসবো। ডলে ডলে সারা শরীলে মাকাবো। তকন দেকো। আমার মেয়েটাও অমনি রোগা ছেল। একন তার চেহারা তোমার চেয়ে ও বেশী। বয়স কালে সব ঠিক হয়ে যাবে।"  "তা মাসীমা, আপনার মেয়ের বাচ্ছা কত বড় হলো?" অনিন্দিতা জিজ্ঞেস করলো।

সুনীতাদেবীর গলার স্বর পাল্টে গেল। "আর বোলো না বাছা। জামাইটা আমার ভালোই রোজগার করে ভালো। বাড়িতে খাওয়া-দাওয়া ভালো। তাও আমার মেয়ের একটা বাচ্চা নষ্ট হয়ে গেল। আবার একটা  হয়েছে পুরো প্যাঁকাটির মতো সরু সরু হাত-পা। ক'দিন বাঁচবে তা বলতে পারি না।" সুনীতা দেবীর চোখের জলে গলার স্বর রুদ্ধ হয়ে এলো।

অনিন্দিতা ধীরে ধীরে বললো, 'এটাই তো আপনাদের ভুল। এই যেমন আপনার নাতনি অপুষ্টিতে ভুগছে। ওর চিপসের প্যাকেটের দরকার নেই, দরকার উপযুক্ত পুষ্টিকর খাবার। যেটা আপনি না জানার ফলে ওকে দিতেই পারছেন না। এরজন্য অনেক সরকারী, বেসরকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আমি যেখানে আপনার নাতনিকে নিয়ে আপনার বৌমাকে যেতে বলছি ওখানে পনেরো দিন রাখবে। পুষ্টিকর খাবার দেবে, ও আপনার বৌমাকে শিখিয়ে দেবে কিভাবে ওগুলো তৈরী করবে, কোন সময় ওগুলো ওকে খাওয়াতে হবে সবকিছু। দরকার হলে আরো পনের দিন রাখবে।"

"কিন্তু আমার ঘরের কাজগুলো কে করবে? আমার বয়স হয়েচে। আমি আর কিছু পারিনা করতে।" 

"কটা দিন মা-ছেলেতে চালিয়ে নিন। আর একটা কথা। আপনার নাতনি ভবিষ্যতে মা হবে। সেইজন্য এখন থেকেই তার শরীরের গঠন ঠিক মতো হওয়ার প্রয়োজন। একজন সুস্থ মা-ই পারে একটি সুস্থ শিশুর জন্ম দিতে। দেখবেন বৌমাকে অতি শাসনে রাখতে গিয়ে নাতনিকে আপনার মেয়ের মতো দুর্ভোগ না পোহাতে হয়।" কথাগুলো একভাবে বলে আর অনিন্দিতা আর সেখানে দাঁড়ায় না।  কয়েক দিন ধরে অপমান সহ্য করতে করতে মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েছিল সে। এরা কিছুতেই নিজেদের ভালো বোঝে না!  হঠাৎ একটা ক্ষীণ গলার স্বরে পিছনের দিকে তাকায়। দেখে, সুনীতা দেবীর বৌমা ওকে ডাকছে। কাছে এসে বলে, "আমি যাব দিদিমণি। আমার শাশুড়ি খুব কাঁদছে। বলছে দিদিমণি আমার চোখ খুলে দিয়েছে। তোর মেয়ের জন্য যা করতে হয় কর। ওর যাতে ভালো হয় তাই কর।"

অনিন্দিতার মনেও শান্তির ঢেউ খেলে গেল। "আমি পেরেছি। একজনকে হলেও শেষ পর্যন্ত আমি বোঝাতে পেরেছি।"


এমনি করে এক-একটি মেয়ে যদি একটি করে অপুষ্টিতে ভুগতে থাকা শিশুর পরিচর্যায় সহায়তা করে তবে অচিরেই আমাদের দেশ অপুষ্টি-নামক এই লজ্জাজনক অবস্থা থেকে চিরতরে মুক্তি পাবে।



@কপিরাইট রিজার্ভ ফর অনিশা কুমার।

সোমবার, ২ আগস্ট, ২০২১

# নাম- অভাবী মনের কাছে। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।

শুভ অনুগল্প বাসর। 
  # বিষয় - অনুগল্প।
  # নাম- *অভাবী মনের কাছে।
  ✍ - মৃদুল কুমার দাস। 

       "ও বিনিতা,বিনু, বিন আর পারছি না তোকে নিয়ে। তোর মা যাওয়ার সময় সংসারটা সব এলোমেলো করে দিয়ে গেল রে। এমন ভাসিয়ে দিয়ে গেল! আজ যে গঞ্জের হাট। তোর মা-ই মনে রাখত। সব হাতের কাছে যুগিয়ে দিত। সব কুল রক্ষা করে সংসার মাথায় রাখত। আর আজ!" বলে গণেশ বাগলি দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। পরনে হাঁটুর উপর কাপড়। কাঁধে গামছা। বাতাসা মুড়ি ক'গাল পুরে দাওয়ার পূব দিক ঘেঁষা ক্ষেতের ক'টা বেগুন গাছের দিকে তাকিয়ে থাকে। আর দাওয়া থেকে নামতে নামতে বিনুকে বলে "গাছে বেগুন আছে কটা তুলে বাজারে যাব। ঝুড়ি দে। যে কটা টাকা পাই। বাজার থেকে কি কি আনতে হবে বলবি,লিস্টি করে রাখ।" 
 বিনু বাবার ডাকে দুয়ারে বেরিয়ে আসে পিতা গণেশ বাগলি যা চাইছে তাই নিয়ে। হাতে ধরায়। গণেশ বলে- "বড় ঝুড়িটা নিয়ে এলি কেন! ছোটটা তো দিবি। ক'টা বা বেগুন আছে। সব গাছ হাড়গিলে হয়ে গেছে। সব গাছ যেন ডালপালা হয়ে গেছে। বেগুন গাছগুলোও যেন তোর মায়ের শোকে শুকনো হয়ে গেছে!"
    বিনুর মায়ের কথা মনে পড়ে। বাবাকে বলতে শুনেছিল- "কি আর বলি,সংসারের যা হাল! নুন আনতে পান্তা ফুরনোর অবস্থা! বাজার থেকে আজ একটা ছোটো সাইজের ব্যাগ এনোতো।" মনে করে বিনা চোখের জল লুকায়। মা বিনুকে বলত - "বিরাট ব্যাগ,বাজার ব্যাগের এক কোনে,রাস্তায় আসতে লজ্জা করেনা। আর কম বাজার হলে ঘরে রান্নার ঝামেলা কমে। তেল-নুন-লঙ্কা খরচ কমে,জ্বালানি বাঁচে,পেট ভরা নিয়ে কথা,ভাতে ভাত খেলে নুন লঙ্কার অভাব হয় না। অভাব মনে করলে অভাব। না মনে করলে দিব্যি চলে।"
  সাধন ড্রপসিনের আড়ালে মন ঢাকতে চায়। ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে। মনের মধ্যে অসহায়ের বোঝা চাপে। গঙ্গামনিকে বিয়ে করে আনার সময় শাশুড়ি বলেছিল - " গঙ্গামনি আমার ঘরের লক্ষ্মী ছিল। তোমার ঘরে গেল। যত্ন নিও।" বলে খুব কেঁদেছিল। আজ গণেশ সেইসব কথা ভাবলে ভেতরে ভেতরে গুমরে মরে। সামান্য ভাত,কাপড়,তেল,নুন,লঙ্কার খিদে নিয়ে যে মেয়েটা এসেছিল, সেই সাধটুকু অপূর্ণ রেখে চলে গেল। আবার দীর্ঘশ্বাস! বিনু ভেতরে নিজেকে সরিয়ে নেয়। বাপ বেটির দুরত্বে সেই নুন আনতে পান্তা ফুরনোর ছাঁচে গঙ্গামণি বারে বারে আসে।
         *********
# কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।

# নাম- দাসেয়ীর বাণপ্রস্হ। ✍ শুভশুভব্রত ভট্টাচার্য।

 রাত্রের শেষ প্রহরের ঘন্টা পরেছে প্রাসাদ দেউড়িতে।ক্রমশঃ জাগরণ হবে এক ব্যাস্ত প্রাসাদের। ভিস্তিরা জল নিয়ে বেরোবে শহরের রাজপথে। রাজপ্রাসাদে একই সময় নালা থেকে জল তুলে ধোয়া শুরু হবে সমস্ত প্রাঙ্গণ। তারপরে একে একে কক্ষে কক্ষে আসবে জল।অন্যদিকে পাচনাগারে পাচকের সহকারী জ্বালাবে একে একে পঞ্চান্নটি মাটির উনুন। শুরু হবে দিনের খাদ্য প্রস্তুতের কাজ। প্রাসাদ সংলগ্ন দেব মন্দিরের পুরোহিত এতক্ষণে প্রস্তুত হচ্ছেন কিছুক্ষণ পরেই ঊষাগমে শুরু করবেন বেদ পাঠ। নিজের কক্ষের লাগোয়া অলিন্দে দাঁড়িয়ে ঊষার আগমন দেখছেন সত্যবতী। চোখে তার রাত্রি জাগরন ক্লান্তি। আজ কয়েকদিন হল নিদ্রা দূর হয়েছে তার চোখ থেকে। 

প্রাসাদ অলিন্দে দাঁড়িয়ে সত্যবতী দেখছিলেন ঋজু সৌম্য প্রবীণ বৃষস্কন্ধ পুরুষটি প্রাসাদের সিংহদুয়ার দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন ধীর গতিতে। ঊষাকালে শরীরচর্চা করে নদীতে অবগাহন করার দীর্ঘ দিনের অভ্যাস এই সিংহ-কটি পুরুষটির। আচ্ছা যদি ওই বৃদ্ধ শান্তনুর বদলে এই পুরুষটি তাঁর স্বামী হতেন? সত্যবতীর চেয়ে বয়স দেবব্রতর বেশী অবশ্যই। তাহলে? তাহলে আজ কি এত কিছু ঘটতো? তাঁকে কি আজ এইভাবে যেতে হত এই হস্তিনাপুর প্রাসাদ ছেড়ে? সুপুরুষ,ধীর বাচন,ভয়ঙ্কর যোদ্ধা এই পুরুষটিকে কামনা না করে থাকা কঠিন। সেই কঠিন কাজ সত্যবতী করেছেন এতকাল। অবশ্য এই পুরুষ ভীষ্ম বলেই একাজ সহজ ছিল।আসক্তির লেশমাত্র দেখেননি কখনো এর চোখে সত্যবতী। সামনে এলে সর্বদা মাটির দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে মাতৃসম্বোধনে কথা বলেছেন ভীষ্ম। কখনও বা দাসেয়ী বলেও সম্বোধন করেছেন তাঁকে। দাস রাজার কন্যা তাই দাসেয়ী। তিনি দেবব্রতের চোখে দেখেছেন এক সুদূর দৃষ্টি,এক অমোঘ শূন্যতা। তার উৎস কি?ব্যাকুল হবার মতন মানুষ সত্যবতী না। তা তিনি হনও নি।কিন্তু বুকের কাছে কখনো কখনো একটা তীব্র মোচড় অনুভব করেছেন। আচ্ছা,সত্যবতীর রূপ জানেন গঙ্গাপুত্র? দেখেছেন কখনো, দূর থেকে হলেও? জানা নেই তাঁর। একবার,শুধু একবার অত্যন্ত কৌতুহলে তাঁকে পরীক্ষা করেছিলেন সত্যবতী। ভ্রাতার পত্নীদ্বয়ের গর্ভ উৎপাদনের প্রস্তাব নিয়ে। ভেঙে দেখতে চেয়েছিলেন এই নির্বাক পুরুষকে। সেই প্রথম স্বর উচ্চগ্রামে গিয়েছিল কিঞ্চিত। যখন ভীষ্ম তাঁকে স্মরণ করিয়েছিলেন তাঁর কাছে করা প্রতিজ্ঞার কথা।


-ইন্দ্র যদিচ স্বর্গচ্যুত হয়,ধর্ম যদিচ স্বর্গচ্যুত হয়…ভীষ্ম তবুও তাঁর প্রতিজ্ঞাচ্যুত হবেন না। 


সত্যবতী প্রতিটি কথাকে পরম আস্বাদে গ্রহণ করেছিলেন। কোথাও যেন শান্তিও হচ্ছিল তাঁর। তাঁর পুত্রবধুদের ক্ষেত্রোৎপাদনে আগ্রহ যদি দেখাতেন গঙ্গাপুত্র তাহলে হয় তো অন্তরে ক্ষুণ্ণই হতেন সত্যবতী।কেন হলেন না ভীষ্ম রাজি? শুধু কি তাঁরই প্রতিজ্ঞার জন্য?

আজ সব মনে পড়ছে একে একে তাঁর। এত দিন তিনিও বন্দী ছিলেন এই প্রাসাদের মায়াবী বন্ধনে। কর্তব্যের কারাগারে মূর্খ বন্দী এই প্রবীণের মতই।আজ সব একে একে ফিরে আসছে স্মৃতিতে। থাক্‌! আজ আর না।সামনের দিনগুলোতে সঙ্গে শুধুই সকল স্মৃতি। একে তিনি একটু একটু করে উলটে পালটে দেখবেন সঙ্গোপনে। লোক সমাজ জানবেনা,তাই বলতেও পারবেনা কিছু। দূরের থেকে হলেও এই একটি সঙ্গ ছিল তাঁর, যাঁর সন্নিধানে তাঁরও ইচ্ছা হত কিশোরীর মত রাঙা হয়ে উঠতে লাজে।

নাঃ তার হাতে আর বেশি সময় নেই। দাসী অলকাকে দিয়ে গঙ্গাপুত্র কে ডেকে পাঠালেন সত্যবতী। রাজ্যসভায় যাওয়ার আগে গঙ্গাপুত্র যেন একবার তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে যান। 

সকাল বেলায় শস্ত্রাভ্যাস সেরে বসে আছেন যমুনার তীরে। মৃদু মৃদু শীতল হাওয়া আসছে যমুনার তীর থেকে।শীতের সময় আগতপ্রায়। এখনই সকালে বেশ ঠান্ডা জমে আসে। তেল মাখা গায়ে কিছক্ষণ বসে থাকার পরে তাঁরও মনে হয় একটু শীত করছে বোধ হয়। নিজের মনেই হাসেন দেবব্রত। কম বয়সে যখন শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা হবার লোভ মনকে আচ্ছন্ন করে রাখতো তখন নিয়ম করে বছরে অন্তত চারমাস চলে যেতেন কনখলে। প্রতিদিন সূর্য বন্দনা করে স্নান করতেন ওই তীব্র স্রোতস্বিনী বরফ গলা জলের ধারায়। শরীরকে বশ না করতে পারলে কিছুতেই শ্রেষ্ঠ হওয়া যায় না। লোকে বলে জিতেন্দ্রিয় তিনি। লোকে বলে পিতার জন্য বিপুল স্বার্থত্যাগ করে যে দৃষ্টান্ত তিনি রেখেছেন তাতে তাঁর খ্যাতি থাকবে প্রলয়ের শেষ দিন অবধি। তাঁর আসন নাকি বাঁধা থাকবে স্বর্গে।কিন্তু তাঁর অন্তর কি বলে? কেউ জানে না। কর্তব্য আর কর্ম-এই দুই বাঁধনে নিজেকে এমন করে বেঁধেছেন যে লোক তো দূরস্থান নিজেরও শোনার যো নেই নিজের কথা। সারাদিন রাজ্যের নানান কাজে ব্যাস্ত থাকেন।ব্রাহ্মমুহুর্তে শয্যা ত্যাগ করেন। তারপরে পূজা-শরীরচর্চা সেরে দরবারের কাজে যাওয়া। সারা জীবন তিনি নারীসঙ্গ কে দূরে রেখেছেন। মনে পড়ে সত্যবতী একদিন এসেছিলেন তার কক্ষে। সেদিন মাতৃ সম্বোধনে সত্যবতী বিরক্ত হয়ে চলে গেছিলেন। সবই বোঝেন তিনি।  আর একদিন, যেদিন হৃদয়ের দ্বার বন্ধ করে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন অম্বাকে। অম্বার অভিশাপ আজও বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। 

ছেদ পড়লো তাঁর ভাবনায়।তাঁর অঙ্গসংবাহক নিষাদ এসেছে।

-মহারাণী সত্যবতীর দূত এসেছে। মহারাণী আপনাকে একবার স্মরণ করেছেন। রাজ্যসভায় যাবার আগে একবার তাঁর সঙ্গে দেখা করে যেতে অনুরোধ করেছেন। 


পুত্র দ্বৈপায়ন তাঁকে বলছে এই রাজপ্রাসাদ এখন বন্দীশালা। এ বন্দি শালা ত্যাগ করে বানপ্রস্থে যেতে। আশ্চর্য্য, এতদিন তাঁর মনেও হয়নি তিনি বন্দীশালায় আছেন? শান্তনুর মৃত্যুর পরেও তিনি আঁকড়ে থেকেছেন এই বন্দীত্ব! মহারাজ শান্তনুর মৃত্যুর পরে দ্ব্যার্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিয়েছিলেন তিনি সহমৃতা হতে প্রস্তুত নন।তাঁর পুত্রদের প্রতিপালন অনেক বড় ধর্ম তাঁর কাছে।নিঃশব্দে তাঁকে সমর্থন করে গিয়েছিলেন ভীষ্ম।

 ভীষ্মের ভয়ে কেউ টুঁ-শব্দটি করেননি। আজ সেই রাজ্য, রাজসভা আর ক্ষমতাকে ছেড়ে অরণ্যবাসীনি হতে হবে। কেন?কেন সত্যবতী? আহ্‌,কি যন্ত্রণা তাঁর ভিতরে,কি অসহ্য যন্ত্রণা! তিনি ধীর গতিতে গবাক্ষের কাছে গিয়ে দাঁড়ালেন। 

বাইরে এখন নরম লাল আলো একটু একটু করে ভেসে উঠছে। রাত্রির অন্ধকার কেমন পা পা হেঁটে চলে যাচ্ছে পর্দার আড়ালে। ওই,স্তবগান শুরু হচ্ছে মন্দিরে! 


পুত্র ব্যাস যা ব্যাখ্যা করতে চাইছে তা তিনি জানেন।বশিষ্ঠ্য-বিশ্বামিত্র বা ব্রাহ্মণ-ক্ষত্রিয় বিরোধ আজ আর বিষয় নয়! আজ নতুন যুগের সঙ্গে নতুন সংকট এসেছে।বেদধর্ম নয়, ধনের ধর্মই প্রবল এখন। গঙ্গা যমুনার দুই তীর ধরে যে অসংখ্য নগর গড়ে উঠেছে তাদের কেউ কেউ রাজশাসিত,কেউ কেউ গণের অধীন। সর্বত্রই এখন সামাজিক আইনের বিরোধ চলছে। যেখানে যে আইন আছে,সেখানে সেই আইনই মানুষের অসহ্য ঠেকছে! ধর্মের শাসন আর কোথায়ও অবশিষ্ট নেই। অধর্ম আর প্রজা শোষণ আর্যাবর্তের রাজাদের রাজ্যশাসনের মূলভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। যাগকে একসময় তো ছেড়ে যেতেই হবে, করুক উত্তরপুরুষ যা ভালো বোঝে।  আর দেবব্রত তো থাকলেনই। এই প্রাসাদের বাইরের যে জীবন তাঁকে অমৃতের আস্বাদ একবার দিয়েছিল তারই কাছে ফেরাই উচিত। 

রথ প্রস্তুত।  রথে আরোহন করার সময় একবার ঘুরে তাকিয়েছিলেন উপর দিকে। প্রাসাদের অলিন্দে দেবব্রত দাঁড়িয়ে আছেন। বরাবরের মতই শান্ত নির্লিপ্ত, চোখে অপার শূন্যতা।  শেষবারের মতো একবার দেখে নিলেন তাঁর প্রিয় হস্তিনাপুর কে। কিন্তু না, আটকাননি তাকে দেবব্রত।  হয়তো দেবব্রত জানেন তার প্রয়োজন ফুরিয়েছে হস্তিনাপুরে।  নগর সীমা পেরিয়ে রথ একসময় দিকচক্রপালে মিলিয়ে যায়। একা দেবব্রত বসে থাকেন যমুনার তীরে। অম্বার ঋণ যে তার এখনও শোধ হয়নি, মুক্তি তাই এখনো বহুদূর। 



শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...