বিষয় ----*শুভ শনিবার*
*আজ বিতর্ক সভার দিন*
*আজকের বিষয়*
*নারী নারীর চরম শত্রু*
*কারন একে অপরকে প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করে*
কলমে--- পারমিতা মন্ডল।
নারী নারীর চরম শত্রু কথাটা আংশিক সত্য । একজন পুরুষ ও কিন্তু নারীর চরম শত্রু হতে পারে । কিন্তু প্রবাদ হিসেবে আদি অনন্তকাল ধরে চলে এসেছে " নারী নারীর শত্রু।" তাই আমরাও বিশ্বাস করতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি । একবার ভেবে দেখুন তো মা ও মেয়ে , দুজনেই নারী । এখানে কে কার শত্রু ? মা তো আপ্রাণ চেষ্টা করবে তার মেয়েকে আগলে রাখতে । আসলে এটা পুরুষতান্ত্রিক সমাজের একটি সুক্ষ্ম চাল। নারীতে নারীতে লড়িয়ে দিয়ে নিজে সেভ থাকা। আর আমরা সেটা না বুঝেই লড়ে যাই।
শুধু মা মেয়ে নয় , আমার অনেক বান্ধবী আছে যারা অসময় আমার পাশে ছিল। আবার যখন সুসময় এসেছে , মানে চাকরি পেয়েছি তখনো কিন্তু আমাকে হিংসা করেনি। এখনো ওদের সাথে ভালো সম্পর্ক আছে। এছাড়া আমাদের এই ভার্চুয়াল পরিবারেও অনেক বান্ধবী আছে। ছোট ছোট বোনেরা সবাই ভালোবাসে। মনে তো হয়না হিংসা করে বলে। সবচেয়ে বেশী সাহায্য পাই পিউ এর কাছ থেকে। অনি, সুদেষ্ণা, চুন্নি, তিথি এরাও খোঁজ নেয় নিয়মিত। শত্রুতা করে বলে তো কখনোই মন হয়নি।
তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে অবশ্যই এটা হয়ে থাকে। যেমন-- শাশুড়ি- বৌমা । এখানে মানিয়ে নেওয়ার ও মেনে নেওয়ার ক্ষমতা থেকে ঝগড়াটা হয়ে থাকে। শত্রুতা থেকে হয়তো নয়। বেশিরভাগ হয় অধিকারের লড়াই। আর তার কেন্দ্রবিন্দু কিন্তু পুরুষ।
এবার আসি অন্য কথায়। নারী নারীর চরম শত্রু একথা না বলে বলা যেতে পারে মানুষ ,মানুষের চরম শত্রু কিছু কিছু ক্ষেত্রে। এটা নারী পুরুষ নির্বিশেষে হতে পারে। যখন কোন পুরুষ পরকীয়ায় জড়িয়ে বৌকে খুন করতে যায় তখন কে কার শত্রু হয় ? যখন কোন অফিসের বস হয় কোন মহিলা ,তখন পুরুষের ইগোতে লাগে। সে তখন চায় যে কোনভাবে তাকে নীচে নামাতে। বলতে পারেন এখানে কে কার শত্রু? এমন উদাহরণ অনেক আছে । তাই বলি অযথা নারীর দোষ না খুঁজে একটু তাকিয়ে দেখুন , শত্রুর কোন লিঙ্কভেদ হয়না।
তবে এখনো সব মেয়েরা পুরোপুরি শিক্ষার আলোকে আসতে পারেনি, তাই তাদের একে অপরের পিছনে লড়িয়ে দেওয়া খুব সহজ হচ্ছে । কিন্তু এটা বেশিদিন আর চলবে না। নারী, নারীর শত্রু না হয়ে বন্ধু হবে। সে দিন আর বেশী দূরে নেই।
All rights aer reserved by paramita.
খুব সুন্দর আলোচনা! চমৎকার!👌👌❤❤⚘🖋
উত্তরমুছুনখুব ভালো লাগলো।
উত্তরমুছুনখুব সুন্দর লেখনী
উত্তরমুছুন