নির্গুণ, নিরাকার পরম ব্রহ্মের অংশ আত্মা। এর সৃষ্টি, ধ্বংস বা কোনরূপ পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। আত্মা সদা সর্বদা শুদ্ধ। কোনো কলুষতা, কোনো কালিমা একে স্পর্শ করতে পারেনা। তাই আত্মা চির পবিত্র, চির শাশ্বত, অমর, অজেয়, অবিনশ্বর, অমলিন, চিরন্তন ও নির্গুণ।
পবিত্র বা অপবিত্রতা শুধু মানুষের অন্তরে বা সহজ কথায় বলা যেতে পারে, আমাদের মনেই যত পবিত্র, অপবিত্র লুক্কায়িত। আত্মাকে যদি *আত্ম* জ্ঞান করি, তা ভুল। আত্মা কখনোই আত্ম নয়। মানুষ নিজেদের মনের গুণে ধনলাভ করেন। এক্ষেত্রে ধনের অর্থ কখনোই বিষয় সম্পত্তি নয়, মানসিক ও চারিত্রিক মান্নোয়নন এই ধনলাভের মানদণ্ড। মনকে নিয়ন্ত্রণ করে আত্মশুদ্ধি বা আত্মপবিত্রতা রক্ষা করা যায়। যেহেতু আত্মা নির্গুণ পরমব্রহ্মের কণাসম, তাই পবিত্রতা রক্ষা করার প্রশ্নই আসে না। কর্ম কখনোই আত্মার হয়না। তাই কর্মের ফলও আত্মার নয়। কর্ম হয় মানুষের নিজের। আপন কর্ম উত্তম হলে আত্মশুদ্ধি সম্ভব।
অনেকেই এক্ষেত্রে বলতে পারেন, "বদ আত্মাও তো থাকে, যারা আমাদের ক্ষতি করার চেষ্টা করে"। তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, বদ আত্মাও সেই পরম শক্তির কণা মাত্র। মৃত্যুর পরে শরীর থেকে নির্গত আত্মা জীবদ্দশার কর্মফল অনুযায়ী দশা প্রাপ্ত করে। কর্ম যদি মন্দ হয় তবে, প্রেতযোনীতে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিচরণ করে তবেই তার পুনর্জন্ম লাভ করা সম্ভব। কিন্তু, এই দুটিকে গুলিয়ে ফেললে কখনই চলবে না। আত্মা অবিচল, প্রকোপ যা, তা শুধু কর্মের ফল।
Copyright © All Rights Reserved to Piyali Chakravorty

অসাধারণ বিশ্লেষন! মন ভরে গেল। ❤❤⚘⚘🙏
উত্তরমুছুনঅনেক ধন্যবাদ দাদা
মুছুন