মঙ্গলবার, ৩ আগস্ট, ২০২১

#নাম- অপলক দৃষ্টি ✍️-মধুবন্তী দাশগুপ্ত


 #বিষয় -চিত্রালোচনা

#নাম- অপলক দৃষ্টি 

✍️-মধুবন্তী দাশগুপ্ত 


"স্বপনে তাহারে কুড়ায়ে পেয়েছি, রেখেছি স্বপনে ঢাকিয়া"

      আপামর মানবসন্তান জন্মের পর থেকেই দু চোখ ভরে স্বপ্ন দেখে। বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক অবস্থার ভিত্তিতে এক একজনের ভাবনায় থাকে ভিন্ন ভিন্ন আশা। 

      ছবিতে শিশুটি একমনে তাকিয়ে আছে তার কিছু অধরা স্বপ্নের পানে। সে যেন অনতিদূরে দেখছে তারই সমবয়সী কিছু অবস্থাপন্ন ঘরের ছেলেপুলেরা হৈ হৈ করে ক্রিকেট খেলছে, দামী ব্যাট-বলের সাথে পরণে কতকিছু খেলার সুন্দর পোশাক ও উপকরণ! সে যদি একটা সুযোগ পেতো, তাহলে একেবারে সৌরভ, ধোনি--এদের মতো ধাই ধাই করে ছক্কা মারতে পারতো! ওই চকচকে ডিউজ বলটা হাতে পেলে কপিল দেব বা কুম্বলের মতো কতোজনকে বোল্ড আউট করে দিতে পারত! 

        কিন্তু হায়! তাকে যে কেউ খেলতে ডাকেনা! পিচের কাছাকাছি গেলেই দূর দূর করে তাড়িয়ে দেয়। তবে এই দুটো উচ্চাভিলাষী নয়ন মেলে প্রতিদিনের ম্যাচগুলো দেখে দেখে সে সব খেলার নিয়মকানুন শিখে গেছে। তাহলে কেন তাকে একবারও খেলতে দেওয়া হবে না! সে যে কোনোদিনই এই আকাঙ্খাকে পূর্ণ করতে পারবেনা, একথা বিশ্বাস করতে বড্ড কষ্ট হয়। তাই সে একরাশ ভাবনার জাল বোনে এই শূন্য দৃষ্টি নিয়ে!

         এমন একটি করুণ দৃশ্যের মধ্যে দিয়ে দেখতে পাই শত শত অভাবী পরিবারের ত্রাহি ত্রাহি রব, একটু গ্রাসাচ্ছদনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে হাহাকার! একজন পরিণত মানুষ যেমনই অবস্থায় থাকুক, সে তবু প্রতিকূলতায় নিজেকে মানিয়ে নিতে সক্ষম হয়। কিন্তু একটি অবলা শিশু কি করে তার অর্থনৈতিক গণ্ডীর সীমাবদ্ধতাকে উপলব্ধি করবে! সে তো আর পাঁচটা খুদের মতোই ইচ্ছাপূরণের সুদূরপ্রসারী দিগন্তকে ছুঁতে চাইবে। সত্যিই বোধহয় এই অসাম্যকে আমরা কোনোদিন দূর করতে পারবনা, যতোই একসাথে কণ্ঠ মিলাই, 

"এক সূত্রে বাঁধিয়াছি সহস্রটি মন, এক কার্যে সঁপিয়াছি সহস্র জীবন--" 


**********************

#কপিরাইট রিজার্ভ ফর মধুবন্তী দাশগুপ্ত।

1 টি মন্তব্য:

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...