শনিবার, ২৮ আগস্ট, ২০২১

বিতর্ক## বিপক্ষে বক্তব্য : শর্মিষ্ঠা ভট্ট

 *আজ এই বিষয়ের বিপক্ষে লিখলাম*



বিষয় টিতে বলা আছে... বৃদ্ধাশ্রম আধুনিক সমাজের অগ্রগতি পথে একটা অন্ধকার দিক।। 

মেনে নিতে পারলাম না। বৃদ্ধাশ্রম এক প্রাচীন প্রথা। যা হয়ত সমাজ ও সময়ের গা ফিলতিতে হারিয়ে গিয়েছিল। আধুনিক সমাজ তা খুঁজে নিয়েছে কিংবা বলা যায় একটা সুস্পষ্ট রূপান্তর ঘটিয়েছে। 

"চতুরাশ্রম " কন্সেপ্ট মেনে নিলে.... সর্বশেষ   বানপ্রস্থ ও সন্ন্যাস। এই বানপ্রস্থ যাকে ইংরেজিতে  রিটায়ার্ড বলা হয়েছে। এই অবস্থায় স্ব পাক ও খাদ্য বস্ত্রের বিলাশ নিবৃত্তির কথা বলা হয়েছে। 

প্রাচীন সমাজে তা মানা হত। এতে ব্যক্তি স্ব ইচ্ছায় নিজেকে তৈরী করত মুক্তি লাভের জন্য। সময় গড়িয়ে গেছে। ভোগ ও বয়সের জ্ঞান কমে গেছে। কিংবা সেই প্র্যাকটিস বা অভ্যাস থেকে ধীরে ধীরে ভারতীয় মানুষ সরে গেছে। কিন্তু সমস্যা রয়ে গেছে। এই বয়সের কর্মহীন মানুষ নিজের ও অন্যের কাজের বাঁধা হয়ে যায়। বিকাশ রোধ হয়। অনেক সময় দেখা যায় পঞ্চাশ বছরের অনেকে ডিসিশন নিতে পারেন না। কারন পূর্বপুরুষদের তার ওপর ছাতা হয়ে থাকা। একটা বয়সের পর নিজেকেই এই ভাবে তৈরী করা উচিৎ.... সংসার থেকে মুক্তি। তাতে একটা সামাজিক ভারসাম্য রক্ষা হয়। জেনারেশন গ্যাপের চিন্তাধারা অনেক পার্থক্য হয়। অনেক সময় এই নিয়ে অশান্তি লেগে থাকে। আমার ব্যক্তিগত মত. ..সামাজিক সুস্থতার কারনে সরকার থেকেই উদ্যোগ নেওয়া উচিত। অনেক অবাঞ্ছিত বৃদ্ধ /বৃদ্ধা ওষুধ খাদ্য বস্ত্র পায় না, সংসারে থেকেও। যদি একটা বয়সের পর এই সব মানুষদের জন্য ফাউন্ডেশন খোলা হয়। ঘরে থেকে রোজ ঝগড়া নাটক কোন সুস্থতার কথা নয়, বাচ্চাদের ওপর তার প্রভাব পড়ে। তার থেকে বৃদ্ধাশ্রম কন্সেপ্ট মাথায় রেখে জীবনের প্রথম থেকে যদি কিছু টাকা সরকারি উদ্যোগে রাখার নিয়ম থাকে, এবং প্রতি সন্তানের আয়ের সামান্য কনা যদি রেগুলার জমা হয়। বৃদ্ধাশ্রমের থেকে ভয় মানুষের মনের ভ্রম, মায়ার বন্ধন। আগে থেকেই মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকলে নিজেকে এবং সন্তানের মুক্ত জীবন দেওয়া যায়। বিদেশে বাবামা বৃদ্ধ বয়সে অনেকে একা থাকেন তাদের এত কাঁদুনি বা হাহাকার নেই। কারন সহজে এ্যাকসেপ্ট করার মানসিকতা তৈরী করতে হবে। আসল কথা অভ্যাস বা প্র্যাকটিস। দিনের পর দিন যদি বৃদ্ধাশ্রম অভ্যাস করা যায় তাহলে পরবর্তী প্রজন্মের ক্ষেত্রে এটি অতি সহজ সামাজিক কালচার বা সংস্কৃতি হয়ে দাঁড়াবে। 

নমস্কার

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...