কিরে ওঠেছিস?
-হ্যাঁ! উফ তুই এতো সকালে উঠিস কি করে!
-ওঠ্!! যাবি তো আজকে কলেজ?
-হ্যাঁ! অপেক্ষা করিস।
সকাল ৭টা বাবিনকে ডেকে তুলে তুয়া চলে যায় বাথরুমে ফ্রেস হতে। শাওয়ার নিতে নিতে ভাবে দীর্ঘ ১৪বছর আগের কথা! তাদের বন্ধুত্বের শুরুর কথা। কিভাবে বাবিন এতো কাছে এসে তুয়ার প্রিয়বন্ধু হয়ে ওঠলো, সেইসব ভাবতে ভাবতেই বাইরে এসে দেখে ঘড়িতে ৮:৩০টাবাজে, তাড়াতাড়ি করে প্রাতঃরাশ সেরেই কলেজের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। বাসে যেতে যেতে বাবিনের মেসেজ!
-কিরে, কতদূর?
-এই তো বাসে! আর ৩০মিনিট।
-ওকে! সাবধানে আসিস।
ফোনটা রেখে সেই ক্লাস সেভেনের কথা ভাবতে থাকে, তুয়ার গার্লস স্কুল ছিল, তুয়া যতটা শান্ত, নরম, বাবিন ততটাই চঞ্চল, চংমনে, জেদি। বাবিন নিজেই এসেছিল তুয়ার সাথে বন্ধুত্ব করতে। তারপর বছর যায়, দিন যায় তাদের বন্ধুত্বের ধাগা আরো শক্ত হতে থাকে। এযেন এক বন্ধুত্বের ভালোবাসা, নিখাদ, আশাহীন। ভালোবেসে একমাত্র তুয়া ডাকে বাবিন ওরফে ইমন চ্যার্টাজীকে আর ভালোবেসে বাবিন তুয়া ডাকে ওরফে কমলিকা চৌধুরিকে। এইভাবেই স্কুল পেরিয়ে কলেজে ওঠে, সেখানেও দুজনে জার্নালিজম এন্ড মাস্ কমিউনিকেসন্ নিয়ে ভরতি হয়।
যথারীতি বাস থেকে নেমে তুয়া হাটা দেয় কলেজের দিকে, দূর থেকে দেখে বাবিন দাড়িয়ে আছে। তুয়া আসতেই একসাথে হাত ধরে ঢুকে গেল, বরাবরই এইভাবেই বাবিন, তুয়াʼকে নিজের সাথে আগলে রাখে।
বাবিনের একটাই ভয় ওকে যেন হারিয়ে না ফেলে। দুজনের একে অপরের প্রতি ভালোবাসা চরম, চোখে হারানোর মতো, একদিন ফোন না করলে বাবিনের আদরের তুয়া রাগ করে বসে থাকতো। তুয়া যেন বাবিন'কে আদরের চাদরে জড়িয়ে নিয়েছিল। নাহ্ এরমধ্যে কোনো নোংরামি ছিল না , ছিল না কোনো লেসবিয়ানিজম্। শুধুই ভালোবাসা আর ভালোবাসা, দুজনেই জানতো তারা একে অপরের থেকে আলাদা হলে বাঁচাটাও অসহনীয় হয়ে ওঠবে। দিন থেকে রাত এইভাবেই কখন কেটে যেত খেয়ালই থাকতো না।
তুয়ার ছোটো থেকে শখ মডেলিং করবে, আর কলেজ শেষে এমনই সুযোগ আসলো, হাত ছাড়া করা যাবে না। বাবিন চাকরি পেল একটা নিউজ্ রিপোটারের। বাবিন কে বলতেই সে রেগে বোম্ব, পছন্দ করতো না বাবিন মডেলিং জিনিসটা। না করাতে প্রায় একমাস তুয়া কথা বলে নি। শেষে মানতে রাজি হল কিন্তু অনেকটা দেরি হয়ে গেল।
ততদিনে তুয়া মডেলিং শুরু করে দিয়েছে, নাম জাদা প্রোডিউসারের কাছে বেশ রসেকসে কাজও পেল। চলতে থাকে বছর ঘুরে যায় পাঁচটা। বাবিন ফোন করে তুয়া বিভিন্ন রকম বাহানায় ফোন কেটে দেয় কথাও বলে না সেভাবে। এদিকে বাবিন নিজের মনে রাগে ক্ষোভে নিজেকে ভাঙতে শুরু করে। তুয়া আর ভাবেই না সে নিজের কাজ নিয়েই ব্যস্ত, ফ্ল্যাট কিনেছে, গাড়ি কিনেছে, বন্ধু-বান্ধব প্রচুর।
এদিকে বাবিন এমন ভেতর থেকে ভাঙলো, চাকরিটাও তার গেল, এতো পায়রার মতো বকম্ বকম্ করা বাবিন কথাও বলে না আজকাল, মনমরা হয়ে থাকে সারাদিন। হৃদয়ে লিখিত নাম মোছা যে কি কঠিন, যারা লিখছে হয়তো তারা জানে। আর যোগাযোগ নেই বাবিনের সাথে, বাবিনের ও স্মৃতির পাতায় ধুৄুলো জমে। টুকরো স্মৃতি নিয়েই বাবিন আবার উঠে দাড়ায়। নিজের জন্য বাঁচবে সে। তাও আজও বাবিন তার জন্মদিনে অপেক্ষা করে সারাটা দিন যদি একটা ফোন অন্তত আসে!!
অভিযোগ নেই, আবদার নেই
ভালোবাসা হয়তো কবেই গেছে চলে,
পর বলে তো কেউ নেই আমার;
আদতে জেনো "সমমেরু কিন্তু বির্কষন করে"।
ফিরে আসে মানুষ বারবার খালি হাতে,
যেখানে এমন কিছুই নেই;
সেখানেই মানুষ সবটা রেখে আসে।।
©অঙ্কিতা পাল।
বাহ! সুন্দর লাগল। চলুক এভাবে। 👌👌💯💯💯❤❤💫💫💥💥💅💅
উত্তরমুছুনধন্যবাদ দাদা😊😊😊
মুছুনখুব সুন্দর। 🌹🌹
উত্তরমুছুনধন্যবাদ🍫🍫
মুছুনকি দারুন লিখল গো আমার daddy's princess
উত্তরমুছুনঅনেক ধন্যবাদ🤗🤗🤗❤❤
মুছুনখুব সুন্দর লিখেছো, অঙ্কিতা👌
উত্তরমুছুনঅনেক ধন্যবাদ🍫🍫❤❤🌹🌹
মুছুন