শনিবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২১

বিষয় :: আধ্যাত্মিক আলোচনা # নাম :: দ্বিষো জহি # লেখায় :: শর্মিষ্ঠা ভট্ট

 বিষয় : আলোচনা # নাম : দ্বিষো জহি # লেখায় শর্মিষ্ঠা ভট্ট। 


তনয়া রায় ,

একুশ বাইশ  বছরের মেয়ের মা। সংসার করেন মন দিয়ে। এত নামী কলেজে ভর্তি হয়েছে তার মেয়ে শুধু ঈশ্বরের ইচ্ছাতে। এত ভালো রেজাল্ট তাঁর কৃপা ছাড়া আর কি! এসব মনে করলেই বিগলিত হয়ে জান। যদিও মেয়ে কর্মযোগে বেশি বিশ্বাসী। এবং মায়ের অতিরিক্ত ভক্তিমূলক কর্মকাণ্ডের শিকার হয়ে বিদ্রোহ করে। এমন করে দুই মতবাদে বেশ চলে যাচ্ছে ওদের ছোট সংসারটি । মেয়ে জানে বাবার কাছে মার বিরুদ্ধে নালিশ চলবে না। বাবা তৎক্ষণাৎ মাথায় হাত ঠেকিয়ে  বলবে " মা যা করেন ভালোর জন্য। " মেয়ে ঠিক মতো বোঝে না আসলে কার কথা বলল বাবা দেবী মা! না তার মা তনয়া! মার এই পূজা অর্চনার ফলেই কি ভালো আছে তারা, এটা বলতে চাইছে বাবা! এত ভাবার মতো ধৈর্য্য ওদের কোথায়! স্কুটি নিয়ে বেরিয়ে পড়ে থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য রক্ত দিতে, যা সে প্রায়শই দিয়ে থাকে। 


তনয়া মনে মনে সংকল্প করেছে এই নতুন কলেজে যদি মেয়ের অসম্ভব ভালো রেজাল্ট হয়, সপরিবারে পায়ে হেঁটে দশ কিলোমিটার পথ মন্দির আসবেই। " রূপ দেহি ধনং দেহি, যশং দেহি....... " গানটি মনে পড়ে যায়। তিনিই তো এক মাত্র, তিনিই পারেন দিতে। মানুষ তো নিমিত্ত মাত্র। সমস্ত কিছু তাঁর কাছে সমর্পিত, ঈশ্বর ছাড়া কে এমন করে দেন! তনয়ার সুখী পরিবার তার নির্দেশেই চলছে, তাঁর অপার দানে তনয়ার সুখী পারিবারিক জীবন! 🙏শত কটি প্রনাম তাঁকে। ফোন বেজে উঠল, এখনও মেয়েটা এল না! চিন্তা নিয়ে এগিয়ে গিয়ে ফোনে হাত দিয়ে পাথর হয়ে যান। হসপিটাল থেকে ফোন.... প্রচন্ড আঘাত পেয়ে মেয়ে হসপিটাল, রক্তদানের পর ফেরার পথে এ্যাক্সিডেন্ট! হাতের ওপরের ভাগের হাড় টুকরো হয়েছে। বিশাল ব্যান্ডেজ, মেয়েকে সেবা করা ছাড়া ঠাকুর ডাকতে ভুলেই গেল তনয়া। লোহার রড দিয়ে ঠিক করা হয়েছে। হাত চলছে না, আর তিনমাস নেই পরীক্ষার। অসাধারণ প্রিপারেশন করা মেয়েটা একবছর পিছিয়ে যাবে! না তানিয়া রাগ করতেও ভুলে গেছে। এত পূজার এই ফল!! এই প্রতিদান!! 


হাত একে বারে ঠিক দুবছর পর। লোহার রড বের করা হয়ে গেছে। মেয়ে প্রচন্ড আত্মবিশ্বাস নিয়ে প্লাস্টার সমেত পরীক্ষা দিয়েছিল। ডাক্তার কে অনুরোধ করাই ছিল আঙুল যেন চলে এমন করে প্লাস্টার হোক। ইউনিভার্সিটি টপার গোল্ড মেডেলিস্ট 

তনয়ার মেয়ে। তিনি দেন, তিনি নেন..... তনয়া আবার রক্ষা করার জন্য তাঁকেই ডাকেন। মেয়ে ভাবে তার ভালো কর্মের ফল হয়ত। বাবা বলেন " মা যা করেন ভালোর জন্যই করেন। " যাই হোক ঘটনা ঘটবেই আর পজেটিভ চিন্তার সাথে গ্রহণ করতে হবে। হয়ত এই শক্তিকেই "তিনি বা ঈশ্বর বলতে পারি, কিংবা কর্মযোগ কিংবা বিশ্বাস।" যাই হোক ভালো ভাবে সুন্দর চিন্তার সাথে বাঁচতে তো হবেই। 

©কপিরাইট সর্বাধিকারী শর্মিষ্ঠা ভট্ট 🙏🙏

1 টি মন্তব্য:

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...