বিষয় # অনুগল্প
নাম# সময়ে আছি
লেখা# শর্মিষ্ঠা ভট্ট
" তমা ও তমা এই গরম পানীয়টা খেয়ে নেয় মা। " তমার খুব রাগ হয়েছে এই কয়দিন ওকে যেন অস্তিত্ব হীন করে রাখা হয়। আলাদা খাট আলাদা বিছানা, এমনকি এটা ছুঁয়ো না ওটা ছুঁয়ো না। কত কি নিয়ম। দাদাভাই এই সময় পুরো বিছানা জুড়ে আরামে থাকে। সেবার সবাই এলো অত মজা ওকে ঠাকুর ছুঁতে দেওয়া তো দূরের কথা সামান্য ফুলের মালা তেও হাত দিতে দেওয়া হয়নি। একটু সবাই দূরত্ব রাখছিল। যদি ছোঁয়া হয়ে যায়। তার ওপর খাবারের এই গরম কাড়া প্রতিবার, যত্ত সব গেয়ো মেন্টালিটি।
আজ সে খুব রাগ করে আছে, কারন কাল বাদে পরশু অনুদির বিয়ে তখনও ওর সাথে এমন ব্যবহার হবে সে জানে। চোখ দিয়ে বড়ো বড়ো জল পড়ে।
মা সব বোঝেন কিন্তু পুরানো নিয়ম। সত্যি বলতে সব ভাঙা যায়, একটু নিয়ম কম করা যায়, কিন্তু পূজা বা লৌকিক শুভ কাজে নিয়ম ভাঙতে সাহস হয় না। তার ওপর অনু , বড়ো জার মেয়ে। পিতৃহীন মেয়েটির কোন ক্ষতি হোক তিনি চান না। অন্যদিকে মেয়ে তমা এতটাই রাগ করেছে যে খাওয়া দাওয়া বন্ধ। বিয়ের বাড়ী, লোকজন ভর্তি। গানবাজনা হচ্ছে, সব মেহেন্দী করছে হৈহৈ করে, তা একটু রাগ তো হবেই। পিসিমা বুদ্ধি দিয়েছিল, "কে অত জানছে যেতে দাও বৌমা"। তমার মা, সুবর্ণা। বীণাপাণি হাইস্কুলের শিক্ষিকা.... অনুর কথা ভেবে আর এগোতে পারেননি। তাই সব রকম খাবার সাজিয়ে মেয়ের কাছে এসে বসল।
একুশ বছরের মেয়ে একমাত্র দিদির বিয়েতে মজা যে করবে এটাই স্বাভাবিক। ল্যাপটপ নিয়ে খুটখাট করছে। সুবর্ণাকে ঘরে ঢুকতে দেখে আরও গম্ভীর হয়ে গেল। - "নে খেয়ে নেয় সোনা রাগ করতে নেই। তুই তো তোর নেটে সব পেয়ে যাস, এ সম্মন্ধে সব জানিস, তবু রাগ কেন? বুঝি মন খুব খারাপ হয়, তবু অনুর কথা তো ভাব। ছোট থেকে মেয়েটা বাবার আদর পেল না। মায়া হয় না দি ভাইয়ের ওপর?".... নিজের হাতে খাইয়ে দেয়, তমা এবার একটু যেন নরম হয়েছে। " তুই জানিস এই সময় মেয়েরা দূর্বল থাকে, তাই আদর যত্ন করা হয়, আগেকার দিনে ছোট মেয়েরা বিয়ে হয়ে পরের বাড়ি যেত। তা এই কদিন যা আরাম পেত । বন্দী ভাবলেই বন্দী। না ভাবলে নয়, তুই একটু দূরে বসেও ওদের সাথে গান নাচ করতে পারতিস। রাগে কেবল সময় নষ্ট হয় তমা। " "আমার অস্তিত্বহীন মনে হয় নিজেকে, তোমার হয় না? সব কাজে বাদ। কেন? পরিস্কার তো থাকি, তবু বারন কেন? এই উৎসবে কত মুশকিল, বের হলে এখুনি ঠিক মতো কিছু না ছুঁলে পিসির মাসির ছেলেরা বলবে তমা কিছু করছিস না, কি লজ্জা, কি বলব ! " সুবর্ণা বলে" নিজেদের এই অচল আয়তন ভাঙতে হবে। লজ্জা পাবি কেন? এতো গর্বের, তুমি এক পূর্ণাঙ্গ নারী। উর্বর জমির মতো তুমিও ধারন করার ক্ষমতা রাখো। বলবে ভাইদের যে তুমি সময়ে আছো। এতে লজ্জা পেয়ো না। ইজি হয়ে যাও । সুন্দর করে সাজো, আর ওখানে যাও। সব থেকে নিষেধাজ্ঞা সহবাসের, এই সময় অশক্ত ডিম্বাণু তে বাচ্ছা হলে তা পঙ্গু কিংবা নানা অসুখের শিকার হয় তাই..... এ নিয়ম আরোপিত। " " সেই তো মানবো কেন? " সুবর্ণা বলে " অনেক নিয়ম তো কাটা ছাঁটা হয়েছে, আরও অনেক হবে, সময়ের ওপর ছেড়ে দিয়ে মজা কর । তবে না ছুঁয়ে। অনু সুখে থাক।
তমা দেখল সারাদিন না খেয়েও তেমন কোন পথ বের হল না। হতাশ তমা পরের দিন আর রাগ করবে না। একবার মন্দির চড়লে কি ক্ষতি??

ভালো লাগলো
উত্তরমুছুনধন্যবাদ🙏💕
মুছুনবাহঃ দারুণ লিখলে👌🏻
উত্তরমুছুন🙏🌷🌷🌷🌷🌷🍫🍫🍫🍫🍫🍫🍫
মুছুনবাহ্ দারুন
উত্তরমুছুনঅনেক ধন্যবাদ🙏💕
মুছুনখুব সুন্দর 👌😍
উত্তরমুছুনঅনেক ধন্যবাদ🙏💕 🌷
মুছুনএই মন্তব্যটি লেখক দ্বারা সরানো হয়েছে।
উত্তরমুছুনখুব সুন্দর। 💐💐
উত্তরমুছুনঅনেক ধন্যবাদ🙏💕🙏💕
মুছুনখুব সুন্দর লাগলো👍👍👍
উত্তরমুছুনঅনেক ধন্যবাদ🙏🙏
উত্তরমুছুনখুব ভালো লাগলো গল্পটা।
উত্তরমুছুনদারুণ লিখেছেন দিদি
উত্তরমুছুনভাল লাগল দিদি।
উত্তরমুছুনবাহ! বেশ সুন্দর! ধন্যবাদ। ❤❤💫💫💥💥🙏🙏
উত্তরমুছুন