রতন কুমার নতুন চাকরিতে। বিহার থেকে ভাগ চাষী জমি হারিয়ে প্রান হাতে অখ্যাত এক স্টেশন থেকে হাওড়াগামী ট্রেনে বসে পড়ে। কলকাতার মানিকতলায় এক আত্মীয়ের জানা শোনার কারনে এই ন্যাশনাল লাইব্রেরীর রাতের পাহারার কাজ পেয়েছে। শীতের রাতে কলকাতা বড়ো জনশূন্য এবং ঠান্ডা কুয়াশায় ভরে যায়। অদ্ভুত এক নিঃশব্দ গা ছমছমে ভাব আলিপুরের এই অঞ্চলে। ঘুরে ঘুরে পাহারা দিতে দিতে শেষ রাতে একটু বসে পড়েছিল শ্বেত পাথরের সিঁড়িতে। তবে চোখ বন্ধ করেনি, করবেও না। প্রথম দিন ভারী হাতের চাঁটা খেয়েছিল। মনের ভুল হলেও এখানে সে মন দিয়ে কাজ করতে চায়। ভালো অঙ্কের মাইনে , কোন মূল্যেই ছাড়তে চায় না। বসে বসে বিশাল গেটটার দিকে তাকিয়ে গ্রামের কথা ভাবছে। শয়তান রাজপুতের লালসার শিকার হয়েছে তার জমি বোন আর সে নিজে। বৃদ্ধা মাকে ফেলেই পালিয়েছে। সাহেব নেই তবু অন্যায় অত্যাচার তো রয়ে গেছে। অন্ধকারে বসে জোদ্দারের ভয়ঙ্কর মুখ মনে পড়ে গেল। সোনার গমের ক্ষেতে আগুন লাগিয়ে তার গুন্ডারা বোনটাকে তুলে নিয়ে গেল। এদিকে হুহু করে পুড়ছে তার জমি, তার এত মাসের শ্রম অন্য দিকে বোনটাকে.....জানে না সে কোথায়। নিষ্ফল আক্রশ উথাল পাথাল মনে অন্যমনস্ক হয়ে পড়েছে, সেই সুযোগে কে যেন ঢুকেছে গেটের ভেতর। তালা লাগা তবু কে ঢুকবে? বই চুরি কেউ করে! আর কি আছে এই গাছগাছালি ভরা বিশাল পুরোনো জায়গায় চুরি করার মতো! তবে নকশাল যুবক যুবতী মাঝে মাঝে এই সব অন্ধকার খোঁজে নিজেদের লোকাতে , শলা পরামর্শ করতে। রতন এবার একটু এগিয়ে গেল।
পাল্কি? সামনের রাস্তা দিয়ে এগিয়ে চলে যাচ্ছে, একি রক্ত.... এক দু ফোঁটা রক্ত এগিয়ে যাচ্ছে। একটা হাত ঝুলে আছে পাল্কির দরজা দিয়ে। সাদা চাদরে মোড়া এ কার দেহ? জেলের রাস্তায় বেঁকে গেল। আবার আসছে অন্য দিক দিয়ে এক ই দৃশ্য। চিৎকার করে রতন " কার লাশ গো বেহারা? " উত্তর নেই। আবার চেষ্টা করে, গলা বন্ধ হয়ে যায়। কুয়াশায় হারিয়ে যায়। রতনকে অজ্ঞান অবস্থায় লোক পরের দিন পায়।হেস্টিংসের সাথে ডুয়েল লড়ে গুলি খাওয়া প্রেমিক যুবা ফ্রান্সিস আসে রাত্রে,রক্তমাখা তার দেহ হেস্টিংস হাউসের আসেপাশে ঘোরে। ভয়াবহ সে ক্ষত বিক্ষত দেহে যন্ত্রনা স্পষ্ট।

😥😥😥😥😖😖😫😫😫😫😫😫😫
উত্তরমুছুন💟💟💟💟💟🍫🍫🍫🍫🍫🍫🍫🍫🙏🙏
উত্তরমুছুনkhub bhalo legeche. Groupe e o porechi
উত্তরমুছুনঅনেক ধন্যবাদ🙏💕🙏💕🙏💕🙏💕
উত্তরমুছুনবেশ লাগলো 👌
উত্তরমুছুন