মঙ্গলবার, ২৮ মার্চ, ২০২৩

শিরোনাম - ঠোকাঠুকি✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - ঠোকাঠুকি
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

মাথায় মাথায় ঠোকাঠুকি, শিং গজালো বলে
মেয়েটির দিকে তাকিয়ে হেসে বলে ফেললো ছেলে।

গজাক না হয় শিং,যেনো সংসারেতে ভাঙন না ধরে
ধরবে না,রাখবো তোমায় আগলে আমার ভালোবাসার জোরে। 

দেখবো কিভাবে আগলাও আমায়, সময় বলবে কথা
আপন করে মোরে এখন,পরে দিও না কোনো ব্যথা। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

মঙ্গলবার, ২১ মার্চ, ২০২৩

শিরোনাম - নেশা ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - নেশা 
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

ডিপার্টমেন্টের মক এক্সাম শেষ করে সোজা বন্ধুদের সাথে কফি হাউসে গেলাম। পেটে ছুঁচো ডন মারছিলো। স্নাকস আর কফি অর্ডার করা হলো। ঘণ্টা খানেক পর বন্ধুরা বললো আজ উইক এন্ড তো! বার গুলো তে হ্যাপি আওয়ার দিচ্ছে, এক্সামের পর একটু নেশা না করলে হয়!! আমি সায় দিলাম না,ওরা লেগ পুল করতে লাগলো আমার। আমি বললাম তোরা যা তোদের নেশা করার জায়গায়,আমি যাই আমার নেশার জায়গায়। হেসে উঠলো তারা, বললো তোর নেশার জায়গা! কোথায় সেটা? চল দেখি একবার। আমি ওদের পাত্তা না দিয়ে সোজা ঢুকলাম কলেজ স্কোয়ারের উল্টোদিকে অভিযান বুক ক্যাফে তে। ঢুকে দেখি আমি একা, কেউ নেই পেছনে। হাসলাম মনে মনে, জানি তো এসব জায়গা দেখে বন্ধুরা পালিয়েছে। নিজের পছন্দের বই কিনলাম। কিছু বইয়ের অর্ডার দিয়ে এলাম। ফাইনাল পরীক্ষার পর সোজা যাবো অভিযান ক্যাফেতে বাকি বই গুলো কিনতে। সবাই অন্য নেশায় মত্ত থাক, আমি আমার মতো করে নেশা করি। কারোর কথায় এখন আর কিছু যায় আসেনা আমার। নিজের লড়াই, নিজের ভালোলাগা সম্পূর্ন একার, নিজের।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

মোদের গর্ব বাংলা ভাষা✍️ডা: অরুণিমা দাস

মোদের গর্ব বাংলা ভাষা
✍️ডা: অরুণিমা দাস

অ দিয়ে শুরু বাংলা বলা, মাতৃভাষা আমাদের
বাংলায় কথা কওয়া কতই না গর্বের।

প্রকৃতি যে রয়েছে বুঁদ বাংলা অভিধানে
গাছের ডাল তাই পরিপূর্ণ বাংলা স্বরবর্ণে।

বাংলা ছাড়া কবিতা লেখা যে অসম্পূর্ণ
জ্ঞান ভান্ডার হোক বাংলা দ্বারা পরিপূর্ণ।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

মঙ্গলবার, ১৪ মার্চ, ২০২৩

শিরোনাম - লক্ষ্মী অর্চনা✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - লক্ষ্মী অর্চনা
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

ভক্তিভরে অনাড়ম্বরে পুজি লক্ষীমাতারে
রেখো তুমি সর্বদা সরল মতি মোরে।

স্বল্প আয়োজনে জানাই তোমারে প্রণাম 
আলো করে থেকো,ছেড়ো না মোর ধাম। 

যেনো না হই লোভের বশবর্তী কভু,না করি কাজে ছেদ
স্বল্প উপার্জনেই থাকি যেনো সুখে,মনে না থাকুক খেদ।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বুধবার, ৮ মার্চ, ২০২৩

নারী স্বাধীনতা- অপেক্ষার হোক অবসান ✍️ ডা:অরুণিমা দাস

নারী স্বাধীনতা- অপেক্ষার হোক অবসান
 ✍️ ডা:অরুণিমা দাস


স্বাধীন ভাবে বাঁচতে তো চায় সবাই,পায় কি কেউ পূর্ণ স্বাধীনতা
নারীরা আজও পুরুষদের পদদলিত, পুরুষরাই সমাজের হোতা।।

পুরুষ শাসিত সমাজে নেই কি তার স্বাধীন ভাবে বাঁচার অধিকার
সকলের মত সমাজে নারীও গলা তুলে কথা বলার দাবিদার।।

দেশকে স্বাধীন করতে যারা পুরুষের সাথে হাতে হাত ধরে চালিয়েছে সংগ্রাম
সেই মাতঙ্গিনী, সরোজিনী র দেশে কোনো নারী কুড়োবেনা কোনো বদনাম।।

নিজের জীবনে স্বাধীনতার স্বাদ নিতে,আশায় বুক বেঁধে চলছে নারীদের লড়াই
স্বাধীনতা যেদিন তুমি পূর্ন রূপে ধরা দেবে নারীর জীবনে,সেদিন বদলে যাবে জীবনের মানেটাই।।

তুমি আসবে বলেই সেই অপেক্ষায় দিন গুনে চলে সব নারী
আসবে যখন সমাদরে তুমি,খুশিতে মাতবে সবাই, অবসান হবে নিশির এই আশাই করি।।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

সোমবার, ৬ মার্চ, ২০২৩

ছবি দেখে মনের কথা✍️ ডা: অরুণিমা দাস

ছবি দেখে মনের কথা
✍️ ডা: অরুণিমা দাস


১ কথোপকথন

অনি - রঙে রঙে রঙিন চারদিক,চোখে অনেক স্বপ্ন নিয়ে এসেছি শান্তিনিকেতনে
রিমি - চল মোরা আজ মেতে উঠি বসন্তের ছোঁয়া লাগা এই ফাল্গুনে।

অনি - আজ আবিরে রাঙাবো তোকে,রাখবো নিজের বাহুডোরে।
রিমি - যতই আবির মাখাস, রাঙাবি যেদিন সিঁথি আমার, পাবি আমায় নিজের করে। 


২ দশ শব্দের বাক্য গঠন

হোলির রঙে রঙিন,আজ  পড়াশোনা ফাঁকি, উঠুক মেতে কচিকাঁচাদের দল।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শুক্রবার, ৩ মার্চ, ২০২৩

শিরোনাম - পাওয়ার অফ উইল পাওয়ার✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - পাওয়ার অফ উইল পাওয়ার
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

জীবনে কিছু পেতে গেলে বা সাফল্য অর্জন করতে হলে ইচ্ছে শক্তির অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু পুরোটাই আবার ইচ্ছে শক্তির জন্য হয় না, ভাগ্যের সহায়তাও দরকার। দুটোর সম্মিলিত প্রয়াসে কাজের ক্ষেত্রে সফলতা আসে। শুধু ভাগ্যের ভরসায় যেমন সব কিছু ছেড়ে দিলে চলে না তেমন ইচ্ছেশক্তি দিয়েও সবটা করা সম্ভব নয়। কোনো কাজের জন্য যেমন কিছু শতাংশ ইচ্ছেশক্তি আর পরিশ্রমের প্রয়োজন, বাকি শতাংশ ভাগ্যের সাথ ও প্রয়োজন। অনেকেই অনেক পরিশ্রম করার পরও সাফল্যের সিড়ি চড়তে পারে না, কারন ভাগ্য ভালো থাকে না। 
কিছু ক্ষেত্রে ইচ্ছেশক্তির সহায়তায় ভাগ্য পরিবর্তন করা যায়, সেটাও একটা বাস্তব সত্যি কথা। ইচ্ছেশক্তির ভূমিকা অনেক বেশি, কথায় আছে ইচ্ছে থাকলে উপায় হয়। সেই উপায় বের করে তবেই ভাগ্য পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব হয়। 
ইচ্ছেশক্তি আর ভাগ্য একে অপরের পরিপূরক। দুটোর সাথ দেওয়ার ওপর ভিত্তি করেই সাফল্য ধরা দেয় কারোর কাছে। কিন্তু ইচ্ছেশক্তির গুরুত্ব সব সময় বেশী, কিছু ক্ষেত্রে ভাগ্য সাথ না দিলেও ইচ্ছে শক্তির বশে অনেক দুরূহ কাজ ও সম্ভবপর হয়ে ওঠে। 

 "ইচ্ছেশক্তির বশে ভাগ্যদেবীও যে হন কখনো সুপ্রসন্ন
পাবেনা ভেবেছো যা,পেতেই পারো ইচ্ছেশক্তির জন্য।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ২ মার্চ, ২০২৩

শিরোনাম - ভ্যালেন্টাইন ডে✍️ ডা:অরুণিমা দাস


 শিরোনাম - ভ্যালেন্টাইন ডে
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

রাস্তার ধারে বসেছে সারি সারি গোলাপের দোকান
বলছে লোকে গোলাপ দিয়ে ভালোবাসা জানান।

গোলাপ হোক,চকোলেট হোক কিম্বা হোক টেডি বিয়ার
ভালোবাসতে হলে এসব তুচ্ছ, চাই সুন্দর মন,ডিয়ার। 

মুখে লাভ ইউ না বলে করে দেখাও কাজে 
কেয়ার ফর ইউ,থাকে যেনো  মনের মাঝে। 

ভালোবাসার সঙ্গীকে আগলে রেখ,দিও যথাযথ সম্মান
প্রতিদিন হবে ভ্যালেন্টাইন, পাবে হাতে নাতে তার প্রমাণ।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

মঙ্গলবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

চা ফোন আর পেপার ✍️ ডা:অরুণিমা দাস

 চিত্রালোচনা
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

ধোঁয়া ওঠা গরম চা,সাথে যতই থাক ফুল চার্জড অ্যান্ড্রয়েড ফোন
নেশা জমাতে চায়ের সাথে নিউজ পেপার ই জয় করেছে সবার মন।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শনিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

বোধবুদ্ধি✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 বোধবুদ্ধি
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

নেশায় বুদ হয়ে নন্দী ভৃঙ্গী দের নিয়ে মহাদেব ব্যস্ত কৈলাসে। মর্ত্যে শিব রাত্রি, সেই উপলক্ষ্যে কৈলাস সেজে উঠেছে। দুর্গা গোছাতে বসেছেন লাভ ম্যারেজের অ্যানিভার্সারী গুলোতে কি কি জিনিস পত্র পেয়েছিলেন সেইগুলো। কিন্তু এতো কোলাহল চলছে যে নিজের কাজ করতে পারছেন না মন দিয়ে। ওদিকে বৃষ আবার সকাল থেকে মুখ গোমড়া করে আছে, কিছুতেই স্নান করবেনা ঠান্ডায়। মহাদেব তাই তার জন্য গিজার লাগানোর কাজে বিশ্বকর্মাকে তলব করেছেন। নারদ আবার কৈলাস ফার্মেসি থেকে সর্দি কাশির ওষুধ এনে দুর্গাকে দিলেন। স্বামীর ঠান্ডা লাগবে জল গায়ে লেগে,তাই এই তৎপরতা। নন্দী মনের সুখে গাঁজা টানছে আর সাপ্লাই দিয়ে যাচ্ছে মহাদেবকে। হঠাৎ করে মাথায় জল পড়ায় নেশা কেটে গেলো। বেশ কিছুক্ষন জল পড়ার পর কেমন যেনো একটা অস্বস্তি বোধ হলো মহাদেবের,চামড়ায় কি সব বেরোচ্ছে যেনো! নন্দী ছুট্টে গিয়ে দুর্গাকে ডেকে আনলো। উনি হায় হায় করে এসে বললেন কি হলো এসব? নেশার ঘোর কেটেছে কিছুটা তখন মহাদেবের, বললেন আর কি গিন্নী? তোমার ভক্তরা মর্ত্যের জল দূষিত করেছে, তাই এসব হয়েছে। সব তো বড়ো বড়ো বাড়ী, কারখানা গড়তে ব্যস্ত। তা নালা নর্দমা সব বুজিয়ে ফেলে আবর্জনা সব যাবে কোথায়? চলো তোমায় ভালো করে সাবান দিয়ে স্নান করিয়ে দিই, দুর্গা বললেন। এই বছর যখন অক্টোবরে মর্ত্যে যাবো সবাইকে বলে আসবো পরিবেশ দূষণ যেনো রোধ করে। কারণ তোমার কিছু হলে আমি আর তো মর্ত্যেও পা রাখবো না। এই জন্যই তো তুমি আমার সেরা গিন্নী। এতো লোক আছে,এসব কি বলছো? লজ্জা বলে কিছু নেই তোমার! আরে ওসব নারী দের ভূষণ, আমার নেই ওসব। তুমি যে ভক্ত দের থেকে চোখ সরিয়ে স্বামীর সেবা করছো এটা কি কম বড়ো কথা! দুর্গা লজ্জা পেলেন। মহাদেব বললেন যারা এত কষ্ট করছে আমার মত স্বামী পাওয়ার জন্য তাদের জন্য একটাই আশীর্বাদ করি, সবাই যেনো মনের মানুষ পায় আর সুখী হয়। মুখে হাসি ফুটলো দুর্গার আর সমস্ত কৈলাস মহাদেবের জয়গানে মুখর হয়ে উঠলো। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

শিরোনাম - ম্যাজিক অফ মেলোডি✍️ডা:অরুণিমা দাস

শিরোনাম - ম্যাজিক অফ মেলোডি
✍️ডা:অরুণিমা দাস

গান আমাদের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে আছে। গানের লিরিক্স গুলো শুনতে শুনতে তার সাথে একাত্ম হয়ে গেলে জীবনের মানে অন্য রকম হয়ে যায়। বুদ্ধিভিত্তিক অংশ সেরিব্রাম গানের কথার সাথে আগেকার স্মৃতি, জ্ঞান,চরিত্র ও ঘটনাকে তুলনা করে, শরীরের চলাফেরা নিয়ন্ত্রণের অংশ সেরেবেলাম শরীরকে স্থির করে অথবা গানের বাজনার সাথে চালনা করে এবং হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করে। প্রতি মুহূর্তে গান আমাদের বাঁচার অনুপ্রেরণা যোগায়। কাজে এনার্জি পেতে গান দরকার। মানুষের মনে সুখানুভূতি সৃষ্টির অন্যতম কৌশল হলো সঙ্গীত। সুর আমাদের হৃদয়কে উদ্বেলিত করে তোলে,মনোযোগ দিতে সাহায্য করে এবং স্মৃতিশক্তি হ্রাস রোধ করে।


নিউরোলজিস্টদের মতে, মস্তিষ্ক কাজ করে ছন্দের মাধ্যমে। গান শোনার ফলে মস্তিষ্কে আলফা ও থিটা তরঙ্গ উৎপন্ন হয়। আলফা ও থিটা স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়ক এবং থিটা তরঙ্গ প্রবাহের ফলে কর্টিসল হরমোনের প্রবাহ হ্রাস পায়। এই কর্টিসল স্ট্রেস হরমোন হিসেবে পরিচিত,যা মনোসংযোগ ব্যহত করে,দুঃখ ও দুশ্চিন্তার অনুভূতি জাগায়। তাই সুর শোনার ফলে মানসিক চাপ হ্রাস পায়। ছোট বেলায় গান চর্চা করলে ঐ ব্যক্তির শব্দপ্রক্রিয়া করার ক্ষমতা সাধারণের তুলনায় বেশি হয়ে থাকে।সুর মানুষকে শান্ত ও ধীরস্থির করে তোলে। তবে গান শোনার চেয়ে বাদ্যযন্ত্র বাজানোর ফলে মস্তিষ্ক আরও বেশি তৎপর হয়ে থাকে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে উচ্চমানের গীত সৃষ্টির সময় মস্তিষ্কের অল্প অংশ সক্রিয় থাকে,নিউরাল কানেকশন কম থাকে। ফলে বাড়তি শক্তি জমা হয় এবং এই শক্তি ব্যবহার নিউরাল সার্কিটকে আরো সক্রিয় করে তোলে ও সঙ্গীত মস্তিষ্ককে ক্ষুরধার করে তোলে।


সার্বিক জনসংখ্যার তিন থেকে পাঁচ শতাংশ মানুষ সঙ্গীত ঘৃণা করে,একে বলা হয় মিউজিক্যাল অ্যানহেডোনিয়া। এ ধরনের মানুষের মস্তিষ্কের রিওয়ার্ড সিস্টেমের সাথে শ্রবণ অংশের যোগাযোগ কম।
সঙ্গীত শিল্পের চমৎকার একটি মাধ্যম হলেও এর ক্ষতিকর কিছু দিক রয়েছে
কিছু গান মানুষকে আত্মহত্যার দিকে প্ররোচনা দেয় বলে জানা গেছে। Gloomy Sunday নামক একটি গান এই কারণে বহুল আলোচিত। অতিরিক্ত হেভি মেটাল শুনলে স্মৃতিশক্তি বাড়ার বদলে কমতে থাকতে পারে। সঙ্গীত কখনো কখনো হিংস্রতা উদ্বুদ্ধ করতে পারে।

বর্তমানে অ্যালজাইমার্স রোগের একমাত্র প্রতিকার মিউজিক থেরাপি। অটিজমে এর ব্যবহার করা যায় কিনা তা নিয়ে গবেষণা চলছে। ডিপ কোমায় থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে বর্তমানে মিউজিক থেরাপি দেয়া হয়ে থাকে।
এই জন্যই

বলা হয়ে থাকে গান মানুষের শরীরের জন্য একটি যাদু। যে যাদু হঠাৎ করে পৃথিবীর সব জরাজীর্ণতা,ক্লান্তি,অবসাদ,চাপ ও দুশ্চিন্তাকে প্রশমিত করে মনকে ফুরফুরে করে এবং কাজের জন্য আবার মনকে সজীব ও সতেজ করে।


সঙ্গীত মস্তিষ্কের ব্যায়াম। সুর,বাজনা ও কথার সাথে মস্তিষ্কের প্রায় সব অংশ উদ্দীপ্ত হয়।

"সঙ্গীতের মূর্ছনায় রয়েছে যে ম্যাজিক অফ মেলোডি
গানে জীবন হবে চাপমুক্ত,হবে না কোনো ট্র্যাজেডি।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস 




















বৃহস্পতিবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

শিরোনাম -যোগ বিয়োগ✍️ ডা:অরুণিমা দাস

শিরোনাম -যোগ বিয়োগ
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

জীবনে প্রাপ্তি অপ্রাপ্তির খাতা খুলে বসতে গেলে মনে হয় যোগের খাতাটা যদি পূর্ণ থাকতো, আর বিয়োগের খাতা যদি ফাঁকা থাকতো কতই না ভালো হতো। কিন্তু শুধু প্রাপ্তির আনন্দে মেতে থাকলে অপ্রাপ্তির দুঃখটা অনুভূত হয়না ঠিক। প্রাপ্তিতে যেমন আনন্দ থাকে, তেমনি অপ্রাপ্তির দুঃখটাও অনেক কিছু শিখিয়ে যায়। জীবনে সব পেয়ে গেলে, সব আনন্দ যোগ হতে থাকলে বিয়োগের হিসেবে যে গরমিল থেকে যাবে। তাই জীবনে কিছু জিনিস যা নিজের জন্য ক্ষতিকর সেটা বিয়োগ হয়ে যাওয়াই শ্রেয়। যোগ আর বিয়োগের হিসেবে কখন যে পরিণত হয়ে সিড়িভাঙ্গা অঙ্ক কষে ফেলবো সেটাও বুঝতে পারা যাবেনা। ঝড় ঝাপটা সামলে জীবনে বড়ো হতে হতে বয়সের অঙ্কের যোগ বিয়োগে কেউ সাবলীল হয়ে উঠবে সেটাও একটা বড়ো ব্যাপার। জীবনে শেখার কোনো শেষ নেই, তাই যোগ বিয়োগ করতে করতে যখন কোনো অপ্রাপ্তি উপরওয়ালা পুষিয়ে দেন দ্বিগুণ ভাবে তখন যোগ বিয়োগ ছাড়াও গুণের অঙ্ক টাও শেখা হয়ে যায় নিজের অজান্তে। ভরসা থাক নিজের ওপরে, ঈশ্বরের উপরে। ঈশ্বরের সাহায্য ছাড়া জীবনে যোগ বিয়োগ গুণ ভাগ কোন কিছুই করা সম্ভব নয়। 

"যোগ বা বিয়োগ হোক কিম্বা হোক সিড়িভাঙ্গা শক্ত হিসেব
নির্ভয়ে কষে যাও,তবেই শিখবে জীবনের মানে- এই তো বাস্তব।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শুক্রবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

সময়ে জেগে ওঠা প্রয়োজন✍️ ডা: অরুণিমা দাস

সময়ে জেগে ওঠা প্রয়োজন
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

সময়ের মূল্য বোঝার ক্ষমতা থাকাটা খুব দরকার সকলের। যে সময় চলে যায় সে আর কখনোই ফিরে পাওয়া যায়না। তাই বলা হয় -"সময় বহিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়,যে জন নাহি বোঝে তারে ধিক শত ধিক"। সময় অসময় জ্ঞান থাকলে তবেই জীবনে এগিয়ে যাওয়ার পথে কোনো বাধা থাকেনা। 
ভালো মন্দের জ্ঞান থাকা দরকার, আর না থাকলে যাতে সঠিক সময়ে জ্ঞানচক্ষু উন্মীলিত হয় সেই চেষ্টাও থাকা উচিত। 
ঘুম থেকে অসময়ে উঠলে যেমন সেটা শরীরের জন্য খারাপ তেমনি সময় থাকতে চৈতন্য না হলে সেটা মন ও শরীর দুইয়ের জন্য ক্ষতিকারক। সময় সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান থাকা আবশ্যক। নয়তো সময়ের স্রোতে কখনো নিজেকে হারিয়ে ফেলতে হয়। সময় থাকতে তাই ভবিষ্যতের কথা ভেবে সামনে পিছনে পা ফেলা উচিত। এমন যেনো না হয় সময় থাকতে তার মূল্য অনুধাবন না করতে পারার জন্য ঘুম যখন ভাঙলো তখন সময় অতীত হয়ে গেছে। বর্তমানে থেকেও ভবিষ্যতের জন্য ভাবার সময় বের করে নিতে হবে যাতে জীবন নির্দিষ্ট ছন্দে নিজের মতো করে চলে। শিখতে হবে সময়ের মূল্য দিতে,বুঝদার হতে হবে। 

"সময়ের মূল্য দিতে কাজে লাগাও এই বর্তমান সময়কে
জীবনটা পাল্টাতে ঠিক সময়ে জেগে ওঠো ঘুম থেকে"।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

মঙ্গলবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৩

শিরোনাম - ইচ্ছে✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - ইচ্ছে
✍️ ডা: অরুণিমা দাস


স্টিয়ারিংয়ে রেখে হাত,মনে হচ্ছে আমি আজ পক্ষীরাজ
ট্রাফিকের মাঝে ক্যামেরায় বন্দী হচ্ছে দৃশ্যের কোলাজ।

চাইছে যে যেতে মন সবুজের মাঝখানে
আকাশ আর মাঠ মেশে যেইখানে।

এই শহর থেকে অনেক দূরে, যেখানে গ্রাম্যতা প্রকট
যাবো চলে,সঙ্গী হবে সাধের এই শকট। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৩

টার্গেট✍️ ডা: অরুণিমা দাস

টার্গেট
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

পছন্দের খেলা ছিলো দুটো, ক্রিকেট আর ক্যারম। একটা আউটডোর গেম আর একটা ইনডোর গেমস। যাইহোক টিভি তে যখন ক্রিকেট ব্যাট নিয়ে শচীন কে নামতে দেখতাম মাঠে, বেশ একটা অন্য রকম অনুভুতি হতো। আর নিজে যখন বাড়ির পাশের মাঠে খেলতে যেতাম আমার বন্ধুদের শর্ত দিতাম আমি শুধু ব্যাট ই করবো, বল করবো না। ওরা মাঝে মাঝেই প্রতিবাদ করতো, আমি শুনতাম না। আরও বলতাম যেদিন আমি খেলতে আসবো না সেদিনও আমার এম আর এফ ব্যাটটা দিয়ে ওদের খেলতে দেবো। কিন্তু যেদিন আসবো সেদিন ব্যাট আমার, যতক্ষণ ইচ্ছে ব্যাট করবো কিন্তু বল করবো না। বাড়িতে সবাই আমার এসব দুষ্টুমির জন্য বকা দিতো কিন্তু আমি গায়ে মাখতাম না। বন্ধুরা নাম দিয়েছিল হিটলার শচীন। বড়ো হবার পর ওদের বলেছিলাম ব্যাটটা কে মনে করি জীবনের হাল, কোনোদিন কোনো অবস্থাতেই ওটা ছাড়বো না। শচীন হতে পারবোনা হয়তো কোনোদিন কিন্তু জীবনের ইনিংস গুলো খেলতে হয়তো পারবো বা পারতে হয়তো হবেই। বন্ধুরা চুপ করে শুনেছিল। আজও দেখা হলে বলে ওই দিন গুলো খুব মিস করি, আমিও বলি সত্যি খুব মিস করি রে দিন গুলো। আজও গুছিয়ে রাখা আছে সেই ব্যাট টা। সময় পেলে ক্রিজে নেমে পড়ি।
আর ক্যারম টাও সময় পেলে খেলতে বসে পড়ি কলেজ কমন রুমে। ছোটবেলায় লাল গুটি জালে না পড়া অবদি খেলতাম। অন্য কেউ লাল গুটি ফেলে দিলে আমি আবার সেটা তুলে বোর্ডে রাখতাম আর টার্গেট করতাম ওটা ফেলার। সবাই হাসতো কিন্তু আমি আজও ভাবি ওই লাল গুটির মতন জীবনের টার্গেট পূরণ না করা অবদি লড়ে যাওয়া উচিত সবারই। আজকাল কার দিনে সময়ের অভাবে মাঠে নেমে খেলা ধুলা অনেক কমে গেছে। বাচ্চা রা পাহাড় প্রমাণ সিলেবাস শেষ করতে করতে হাপিয়ে উঠেছে, কিন্তু বিকেলে ১-২ ঘণ্টা নিয়ম করে খেলতে দেওয়া উচিত ওদের। প্রকৃতির সাথে একটা সংযোগ হবে এতে,জীবনের লড়াই টাও কিছুটা হলেও বুঝতে পারবে ওরা।

"হাতে থাক ব্যাট আর লড়তে থাকি জীবনের লড়াই
চলার পথ ক্রিজ হোক,সবার সাপোর্ট থাকা চাই।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস


রবিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৩

সাত শব্দের শিরোনাম✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 সাত শব্দের শিরোনাম
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

চিত্র ১
এগিয়ে চলাই জীবন
দেখাচ্ছে দিশা রবির কিরণ

চিত্র ২
যতই চাপুক মাথায় ভার
নারী,থেকো উন্নতশির।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৩

শিরোনাম - সময়✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সময়
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

উপহার যদি দেওয়া যায়, আমার মতে সেরা উপহার হলো সময় দেওয়া। সময় কাউকে দেওয়া মানে সেই মুহূর্ত গুলো দেওয়া যা কখনো আর ফিরে আসবে না কিন্তু স্মৃতির মণিকোঠায় ছাপ পড়ে থাকবে। আজকাল কার যুগে মানুষ এতটাই যান্ত্রিক হয়ে পড়েছে যে সময়ের অভাব বড্ড প্রকট। মোবাইল, ল্যাপটপ বা আইপ্যাড এসবে এতটাই বুঁদ হয়ে গেছে যে কাছের মানুষ আত্মীয় স্বজনদের সময় দেবার কথা ভুলেই গেছে। এর দরুন সম্পর্কে চিড় ধরছে, ভাঙ্গন ধরছে সম্পর্কে। ডিভোর্সের সংখ্যা বাড়ছে, একাকীত্ব বাড়ছে। তাই সময় দেওয়া টা খুব প্রয়োজন। আর সারাদিনে নিজের জন্য সময় বের করে নিজের সাথে সময় কাটানো টাও নিজেকে দেওয়া সেরা উপহার। সময় বের করে নিজের প্যাশন গুলো এক্সিকিউট করাটাও দরকার।  সময় থাকতে সচেতন হওয়া দরকার, সময় দেওয়াটা খুব প্রয়োজন, নিজের ভালোর জন্য আর চারপাশের সবার ভালোর জন্য। 

"দিনদিন মানুষ হয়ে উঠতে যান্ত্রিক,সময় দিতে পারছে কোথায়
উপহার হিসেবে দাও তাই সময়,সেরা হয়ে থাকবে স্মৃতির পাতায়।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

মঙ্গলবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৩

শিরোনাম - উপলব্ধি✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - উপলব্ধি
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

সারি বেঁধে দাড়িয়ে আছে নৌকারা
ভাসবে নদীতে পাল তুলে,হবে বাঁধনহারা।

আকাশ বাতাস সাক্ষী হবে পাল তুলে দেবে মাঝি
লক্ষ্য গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া তাদের কাজ সকাল সাঁঝি।

মোরা থাকি ভালোর অপেক্ষায়,জীবনতরী ভাসিয়ে দিয়ে
কখনো ভালো কখনো মন্দ! জীবন সব মিলিয়ে মিশিয়ে।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বুধবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২২

শিরোনামঃ চিত্রালোচনা নামঃ ভবিষ্যৎ কলমেঃ নন্দিনী তিথি



গড়তে সুন্দর জীবন, দেখালে আমায় পৃথিবীর অপরূপ মুখ,

দেখি এসে তোমাদের দ্বন্দের উপর বসবাস।

যেখানে, একটু একটু করে পালাতে বাধ্য হচ্ছে প্রতিনিয়ত, বিরাজমান সুখ।

দুইপাল্লারই ভারী রেষের মাঝে,

হচ্ছি আমি শেষ, বসে।

শিখাবে যেখানে আমায় শৃঙ্খলা, আদর্শতা ও ভালোবাসা।

সেখানে‌ অনুশীলন করিয়ে যাচ্ছো প্রতিনিয়ত, ইগো আর দ্বন্দের বইয়ের বিশালতা।

একে অন্যের দেমাগের কারিশমা, সবই ফলছে আমার উপরে।

এরই প্রভাবে গড়ে উঠছি দিন দিন আমি প্রতিবন্ধী আর অবাধ্যের নেতা।

এখন কোথাও আমার যাবার নেই মানা,

মেতেছি উচ্ছন্নে, উল্লাসে, বেপরোয়া হয়ে!

আর মনে মনে চলছি খুঁজে,

পৃথিবীর মাঝে একটু নির্ভেজাল ভালোবাসা।

Copyright ©️ All Right reserved Nandini Tithi

মঙ্গলবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২২

শিরোনাম - সেতু✍️ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সেতু
✍️ডা: অরুণিমা দাস

কমপ্লেক্সে ভুগছো তোমরা আর হচ্ছে ইগোর লড়াই
মাঝে রয়েছি ফেঁসে আমি, নেই কারোর কোলে ঠাই।

মুখ দেখাদেখি বন্ধ তোমাদের হাঁটছো যে বিপরীতে
আমার জীবন কাটছে তাই অনাদর আর অবহেলাতে।

এসব যদি করবে তবে, কি দরকার ছিলো আমায় দুনিয়াতে আনার?
বোঝনা কেন!তোমাদের দুজনের সাথে থাকতে ভালো লাগে আমার।


থামাও এসব লড়াই এবার, বুজিয়ে ফেলো মনের ফাটল
আমি সেতু হয়ে তোমাদের মাঝে থাকতে চাই অটল।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

মঙ্গলবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২২

চিত্রালোচনা নামঃ দৃঢ়তা কলমেঃ নন্দিনী তিথি


 

সূর্য উঠিয়াছে, তবু নাহি তাঁহার রশ্মির দেখা, চারদিকে ধূধূ করিতেছে কুয়াশা।

কুয়াশা দলেদেরকে তেজে পুড়িয়া, পারিতেছে না করিতে রঙিনভোর।

আজি কুয়াশার কাছে সূর্যের তেজও মানিয়াছে হার!

তবু ওইদিকে মানে নাই গায়ের লোকেরা হার,

তাহারা পদব্রজে চলিতেছে এক প্রান্তর হইতে আরেক প্রান্তর।

স্কন্ধে স্কন্ধ‌ মিলাইয়া, দিগন্তের পানে চাহিয়া।

রঙিন ভোরের আলো ফুটাইতে ব্যস্ত তাহারা,

সকলকিছুকে না করিয়া পরোয়া।।


Copyright ©️ All Right reserved Nandini Tithi.



সোমবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২২

শিরোনাম - ঘুঙুর✍️ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - ঘুঙুর
✍️ডা: অরুণিমা দাস

বেশ কিছুদিন হলো বিয়ে হয়েছে তনুজা আর সৌরভের। দেখাশোনা করেই বিয়ে,তাই সম্পর্কটা মজবুত করার চেষ্টা দুজনের মধ্যে সমান ভাবে আছে। তনুজা মনে মনে স্বামীর যে ছবি এঁকে রেখেছিল তার সাথে সৌরভকে মেলানোর চেষ্টা করে। আগের সম্পর্কটা ভেঙ্গে যাওয়ার পর খুব ভেঙে পড়েছিল তনুজা। ওর ঠাকুমা বলেছিলেন মনের মানুষ যে হয় সে কখনোই ছেড়ে যাবে না তোকে,সে তোকে বুঝবে,তোর পাশে থাকবে। আর এই ছেলে বোধহয় তোর মনের মানুষ ছিলোনা। মনের মানুষের সাথে সম্পর্ক এতো ঠুনকো হবে না সে সেটা ভেঙে দেওয়া খুব সহজ হবে। সেদিন চুপ করে শুনেছিল তনুজা। তারপর থেকে মা বাবার ওপর বিয়ের ভার ছেড়ে দিয়েছিলো। 
এই কদিনে সৌরভের সঙ্গে বেশ একটা মনের মিল গড়ে উঠেছে ওর। সৌরভ পেশায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, আর সাথে একটা ক্লাউড কিচেন চালায়, দুঃস্থ বাচ্চাদের খাবার সার্ভ করে। বিয়ের পর তনুজা এর মধ্যে ইনভলভড হতে চেয়েছিল কিন্তু সৌরভ বলেছিলো কটাদিন একটু রিল্যাক্স করে নাও তারপর এসব করো। সৌরভ যখন অফিসে থাকতো,তনুজা লাঞ্চের পর বিশ্রাম নিয়ে ডান্স প্রাকটিস করতো টেপ চালিয়ে। একসময়  ওর খুব ইচ্ছে ছিলো ভালো ড্যান্সার হবে। কিন্তু বাড়ীর কারোর সায় না থাকায় ওর স্বপ্ন পূরণ হয়নি। সৌরভকে এসবের বিন্দুমাত্র বলেনি কোনোদিন। ভাবতো ও এসব মেনে নেবে কিনা! বিয়ের পর তনুজার প্রথম জন্মদিনে খুব বড়ো আয়োজন করেছে সৌরভ। তনুজার বাপের বাড়ীর সবাই আমন্ত্রিত। একফাঁকে সৌরভ তনুজাকে ডেকে বললো রুমে যাও, একটা দারুণ সারপ্রাইজ আছে তোমার জন্য। তনুজা বেডরুমে এলো,লাইট জ্বালতেই দেখলো,একি! বিছানায় সুন্দর করে সাজানো রয়েছে নাচের পোশাক আর এক জোড়া ঘুঙুর। আনন্দে তনুজার চোখে জল চলে এলো। দেখি পা দুটো দেখি! ঘুঙুরটা পরিয়ে দিই। তনুজার পা টা নিয়ে ঘুঙুর পরিয়ে দিলো সৌরভ। এসব তুমি কি করে জানলে? তনুজা জিজ্ঞেস করে। সৌরভ বলে জানিনা আমি তোমার মনের মানুষ হয়ে উঠতে পারবো কিনা! তবে তোমার ইচ্ছে অনিচ্ছের কথা এটুকু তো জানতেই পারি বলো। একদিন দুপুরে অফিস থেকে ফিরে দেখি তুমি ডান্স প্রাকটিস করছো, বাড়ীতে আর ঢুকিনি, মুগ্ধ হয়ে নাচ দেখছিলাম। তারপর তোমার মায়ের সাথে কথা বলে জানতে পারি যে তুমি ডান্স খুব ভালবাসতে। আজ তাই তোমার জন্মদিনে উপহার দিলাম যাতে তোমার স্বপ্নপূরণ হয়। আর এই নাও ক্লাসিক্যাল ডান্স স্কুলে ভর্তির ফর্ম, ফিল আপ করে নিও। আমি জমা দিয়ে আসবো। এখন চলো কেকটা কাটবে, সবাই অপেক্ষা করছে। আজ ঠাকুমার কথাগুলো খুব মনে পড়ছে তনুজার, মনের মানুষ সেই হয় যে না বলা সত্ত্বেও মনের সব কিছু বোঝে। সৌরভ বললো কি ভাবছেন ম্যাডাম? চলুন। হ্যা আসছি, বলে সৌরভের কানের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে তনুজা বললো "আমার প্রাণের মানুষ আছে প্রাণে, তাই হেরি তায় সকল খানে।" সৌরভ বললো বাকিটা শোনার অপেক্ষায় রইলাম। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শিরোনাম - কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

কুয়াশার ঘন চাদরে মোড়া সকাল বেলা
এগিয়ে চলি মোরা,কাজ পড়ে আছে যে মেলা।

আকাশখানি লালের আভায় উঠেছে সেজে
সূর্য দেব দিচ্ছেন উকি তারই মাঝে।

জীবিকার তাগিদে চলেছি মোরা আলপথ ধরে
সাক্ষী রয়েছে প্রকৃতি যে মোদের তরে।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২২

শিরোনাম - তৃষিত সকলে✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - তৃষিত সকলে
✍️ ডা: অরুণিমা দাস


হাত দুখানি তুলে জানাচ্ছে তারা করুন আর্তি
আসুক বারিধারা,জীবনে বয়ে আনুক শান্তি।

তৃষ্ণা মেটাতে চায় যে শুধু দু আজলা জল
উন্নয়নের ঠেলায় ভুগছে তারা সকল।
 
সময় থাকতে থাকতেই সচেতন হই আমরা
জনমানবশূন্য মরুভূমি না হোক এই ধরা। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

অজুহাতের দোহাই✍️ ডা: অরুণিমা দাস

অজুহাতের দোহাই
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

সকল মানুষের দুহাত থাকা সত্ত্বেও তৃতীয় হাতটি বেশী শক্তিশালী যেটা মানুষকে দিনের দিন অলস, ল্যাদখোর করে তুলছে, ঠেলে দিচ্ছে অবনতির দিকে। কী সেই তৃতীয় হাতটি! সেই তৃতীয় হাতের নাম হলো অজুহাত। আজকাল মানুষ নানা রকম অজুহাত দেখিয়ে কাজের জায়গায় ও অন্যান্য স্থলে নিজের পতন অনিবার্য করে তুলছে। চেষ্টায় তাদের নানা ত্রুটি রয়েছে,সেটা অস্বীকার করা যায় না। কিন্তু একবার চেষ্টা করে কোনো কাজ না হলে অজুহাত দেখিয়ে সেখান থেকে সরে না এসে পুনরায় চেষ্টা করা উচিত অবশ্যই,যাতে স্থিতধির নাগপাশে বন্দী না থেকে সফলতার মুখ দেখতে পারা যায়। 
অজুহাতের যে বিষাক্ত বিষ তাদের মনকে স্পর্শ করেছে,অসুস্থ করে তুলেছে সেই  অসুখ থেকে মুক্তি পাওয়ার একমাত্র অ্যান্টিডোট হলো চেষ্টা! পুনরায় চেষ্টা! "একবার না পারিলে দেখ শতবার,কিন্তু হেরে গিয়ে পিছিয়ে পড়া মানা বারংবার।" এভাবে বারবার চেষ্টা করতে করতে ঠিক চেষ্টার সুড়ঙ্গ ধরে পৌঁছে যাবে আলোর ঠিকানায় যেখানে অপেক্ষা করছে সাফল্যের সিড়ি বেয়ে ওঠার সর্বপ্রথম ধাপ। আর এই সিড়ি বেয়ে একবার উঠতে শুরু করলে খুব একটা পেছনে ফিরে তাকাতে হবে না। তাই অজুহাতের সুযোগ নিয়ে নিজের হাত দুখানি কে অচল না করে দেওয়াই শ্রেয়। বরং হাত দুখানি কাজে লাগিয়ে সফলতার শীর্ষে পৌঁছনোর জন্য অজুহাতকে পঙ্গু বানিয়ে ফেলাই এর থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার একমাত্র রাস্তা। 

"হাত দুখানি কাজে লাগাও,যাতে না ঘটে কোনো বিড়ম্বনা
দুর করে অজুহাত এগিয়ে চলো,থাকবে সাফল্যের সম্ভাবনা।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২২

শিরোনাম - নিঃসঙ্গতা ও একটা বাড়ী✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - নিঃসঙ্গতা ও একটা বাড়ী
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

বাড়ীর সামনের বাগানে বসেছিলেন মিনতি দেবী। ওনাকে বাগানে ছেড়ে দিয়ে গেছে কাজের মেয়ে সুমনা। ছেলে প্রথম কয়েকদিন বিদেশে নিয়ে গিয়ে রাখলেও মন থেকে মানিয়ে নিতে পারেননি মিনতি দেবী। গাঁয়ের বাড়ির প্রতি টান আবার তাকে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছে দেশে। নিঃসঙ্গ হলেও তাঁর বুকের ভিতর একটা পুরনো দিনের বাড়ির ছবি গাঁথা হয়ে আছে। যে বাড়িতে একসময় অনেক ঠাকুর চাকর ছিলো, নায়েব গোমস্তা ছিল। গমগম করতো সারাদিন। তারপর একসময় জমিদারী উঠে গেলো, ছেলে গাঁয়ের মায়া ত্যাগ করে বিদেশে পাড়ি জমালো। কত কি মনে পড়ছে আজ মিনতি দেবীর! হঠাৎ পায়ের কাছে কিছু একটা এসে পড়লো। ঝুঁকে পড়ে দেখলেন একটা ক্রিকেট বল পড়ে আছে। দাও না গো বল টা! একটা বাচ্চা সামনে এসে বললো। বল টা তুলে দিলেন বাচ্চাটার হাতে। নাম জিজ্ঞেস করায় বললো টুটুল আমার নাম। 
-তা টুটুল বাবু রোজ খেলা হয় নাকি? 
-হ্যা খেলি তো! রোজ বিকেলে খেলতে আসি। 
-তাহলে আমার কাছেও এসো মাঝে মধ্যে। তোমার মত আমার একটা নাতি আছে। কিন্তু আমার কাছে থাকে না,খুব মনে পড়ে ওর কথা বুঝলে!
- আমারো ঠাম্মা আছে জানো! কিন্তু আমাদের সাথে থাকে না। মা বলে ঠাম্মা বন্ধুদের সাথে আশ্রমে থাকে। 
- মিনতি দেবী মনে মনে বললেন ও বৃদ্ধাশ্রম! বুঝেছি।
- কি বুঝলে? 
- কিছু না কিছু না! যাও তুমি খেলতে যাও। 
টুটুল চলে গেলো। 
মিনতি দেবীর চারপাশের নিঃসঙ্গতা বলে উঠলো এই তো একটা কথা বলার লোক পেলে! ওর মধ্যে তুমি নাতি আর তোমার মধ্যে ও ঠাম্মাকে খুঁজে পেয়েছে। 
কদিনে বেশ ভালো বন্ধুত্ব হয়ে গেছে মিনতি দেবী আর টুটুলের মধ্যে। টুটুল একদিন পুরো বাড়ীটা ঘুরে ঘুরে দেখছিল। ফ্ল্যাট বাড়ীতে থাকতে থাকতে দম বন্ধ হয়ে আসে ওর। খুব ছোট জায়গা,এই শুরু হতে না হতেই শেষ হয়ে যায়। নিজের ঠাম্মা র কাছে দেশ বাড়ীর গল্প শুনেছে, এরকম একটা বাড়ীর ছবিই মনে মনে একেছিল কিন্তু যাওয়া হয়নি কোনোদিনই। আজ সেই গল্প গুলো একটু একটু করে সত্যি মনে হতে লাগলো। 
ধীরে ধীরে টুটুল বড়ো হয়, মিনতি দেবীরও বয়স হতে থাকে। টুটুল কলেজে পড়তে যায় আর সেভাবে আসা হয়না মিনতি দেবীর কাছে। তবে রবিবার গুলো নিয়ম করে আসে টুটুল। ছেলের দেশে ফেরার সম্ভাবনা নেই জেনে তার সম্মতি নিয়ে টুটুলকে বাড়ীটা দান করেন মিনতি দেবী। বেশ কয়েক বছর পর সুপ্রতিষ্ঠিত টুটুল বাড়িটায় বানিয়েছে অনাথ আশ্রম। ওর ধারণা অনাথ শিশুদের বুকের মাঝেও নিশ্চয় এরকম একটা বাড়ীর স্বপ্ন ঘুমিয়ে আছে। আজ আর মিনতি দেবী নিঃসঙ্গ নন। বয়সের ভার তার শরীরকে ন্যুব্জ করলেও মনকে নাড়া দিতে পারেনি। অনাথ বাচ্চারা সেটা হতে দেয়নি। তাদের সাথে খুব আনন্দ করে দিন কাটান মিনতিদেবী। আজ আর বাড়ীটাও নিঃসঙ্গ নয়,একদল কচিকাঁচাদের সাথে সেও মেতে উঠেছে আনন্দে। টুটুলকে প্রাণ ভরে আশীর্বাদ করেন ওর মহৎ কাজের জন্য। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২২

ঈর্ষা আমারো তো হয়

 


আমি চাই তুমি সবার সাথে কথা বলো,

কিন্তু কিছু সময় তো আমারো রাখো

সেদিন তুমি তাকিয়ে ছিলে ঐ যে হালকা বেগুনী রঙের জামা পড়া মেয়েটার দিকে

কখনও আমার দিকে কেন তাকাও না অপলকে,

আর প্রতি রাতে যখন হাঁটতে বের হয়ো একলা পথে

কি হয়?যদি আমায় একটু সঙ্গে নিতে।

যখন দেখি সবার সাথে মিসছো তুমি হেসে হেসে

হিংসা আমার ও হয় কেন আসো না আমায় একটু ভালোবেসে।।

🙏🙏

বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২২

নামঃ‌ জীবিকা কলমেঃ‌নন্দিনী তিথি

পড়ছে কাঁপানো শীত, পড়ছে ঘন সাদা কুয়াশা।

তবুও বেড়োতে হবে, নাইলে যে গাইবে পেটে ক্ষুধার গীত।
কেউ নিয়ে সবজি, কেউ নিয়ে মাছ, এমন করে চলছে তাঁরা পায়ে হেঁটে বাজারের পথে।
রোজকারের থেকে একটু বেশি লাভের আশা নিয়ে।
পরনে কারো আছে পাতলা পুরোনো চাদর, কারো হয়তো একটা‌ তালি লাগানো সোয়েটার, আর প্যান্ট হিসাবে তো আছে সবারই লুঙ্গি!
এই নিয়েই চলছে তাঁরা জীবিকা নির্বাহের জন্য।
দিনশেষে, পরিবারের সবার মুখে হাসি ফোটানোর জন্য।
নিজের কষ্ট লুকিয়ে রেখে, সবাইকে ভালো রাখার তাগিদে,
ছুটছে ওরা এই হাড় কাঁপানো শীতের মৌসুমে।

Copyright ©All Rights reserved Nandini Tithi.

মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২২

শিরোনাম - বাজি✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - বাজি
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

আরশি সম্মুখে হাসি মুখে দাড়িয়ে ছেলেটি
আত্মবিশ্বাসী আজ সে জিতবেই বাজিটি। 

জয়ী হবার চাবিকাঠি আজ যে তার পকেটে বন্দী
বন্ধুর প্রজেক্ট পেনড্রাইভ সরিয়েছে,দারুণ ছিলো ফন্দি।

আজকের দুনিয়ার এটাই নিয়ম,জিতছে মিথ্যে আর দুর্নীতি
ক্রুরতার নাগপাশে বন্দী হয়েছে সততা,এটাই যে সত্যি।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শুক্রবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২২

গ্রন্থালোচনা✍️ডা: অরুণিমা দাস

গ্রন্থালোচনা
✍️ডা: অরুণিমা দাস

আজ গ্রন্থালোচনার বিষয় হিসেবে তুলে ধরা যাক অন্যরকম স্বাদের একটি বইকে। ইতিহাস পড়তে বেশ ভালই লাগে আমার আর যখন কোনো উপেক্ষিত চরিত্রকে নিয়ে লেখা হয় সেটা তখন  আকর্ষনের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। সেরকম একজনের আত্মজীবনী আর সাথে লেখকের কল্পনা এই দুইয়ের মিশেলে সৃষ্ট চরিত্র আর তার ওপর লেখা বইয়ের পাঠ প্রতিক্রিয়া দেওয়ার চেষ্টা করলাম।

বইয়ের নাম - লাডলী বেগম
লেখক - নারায়ণ সান্যাল

লাডলী বেগম এই নামটি বিশাল মোগল সাম্রাজ্যের বিবেচনায় খুবই অপরিচিত একটা নাম৷ আসলে তিনি মোগল ইতিহাসের অংশও হতেননা যদি না তিনি স্বয়ং নূরজাহানের কন্যা হতেন৷ নূরজাহানের প্রথম ঘরের কন্যা তিনি,অর্থাৎ যখন কিনা নূরজাহান ছিলেন মেহেরুন্নিসা নামে, ছিলেন শের ই আফগান আলি কুলি ইস্তাজুল এর স্ত্রী। মোগল রক্ত ছিলো না তার শরীরে, তাই মোগল হারেমের অংশ কিংবা মোগল আমলের সবচেয়ে জনপ্রিয় সম্রাজ্ঞীর কন্যা হওয়া সত্ত্বেও তার নাম মোটামুটি অন্ধকারেই থেকে গেছে। স্বার্থান্বেষী মায়ের ক্ষমতার বলি হয়েছিলেন লাডলী। বিয়ে হয়েছিলো মোগল ইতিহাসের সবচেয়ে অথর্ব শাহজাদা - মির্জা শাহরিয়ারের সাথে। তা সত্ত্বেও খুব একটা আলোয় আসতে পারেননি।নারায়ণ সান্যাল বেশ গবেষণা করেই লিখেছেন বইটা। ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস হলেও, যেখানে ইতিহাসের ওপর সংশয় জেগেছে সেখানে নিজের যুক্তি উপস্থাপন করতে ভুলেননি। বেশ সুপাঠ্য একটা বই।

বইয়ের একটা লাইন অসম্ভব ভালো লেগেছে। 'রূপ কী থাকে রূপসীর দেহে? যুগে যুগে তার আধখানা গচ্ছিত থাকে রূপদর্শীর চোখের তারায়।'

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২২

শিরোনাম - গানোলজি✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - গানোলজি
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

সেদিন নিজের রুম গোছাতে গোছাতে হাতে পেলাম কিছু সার্টিফিকেট, বেশ অনেকদিন আগেকার। খুলে দেখতে দেখতে পুরনো দিনে ফিরে গেলাম, বেশ কিছু বছর আগের ঘটনায়। তখন সেকেন্ড ইয়ারে উঠেছি সবে, একদিন ফোন এলো বায়োকেমিস্ট্রি ম্যাডামের। বললেন শোন না কলেজে নতুন ব্যাচ আসছে এমবিবিএস এর ফাস্ট ইয়ারে। ওদের জন্য একটা নবীন বরণ উৎসব আয়োজন করবো ভাবছি। তুই একটু গান চয়েস করে রাখ আর গেয়ে দিস একটু অনুষ্ঠানে। মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ার মতন অবস্থা আমার। কোনরকমে সামলে নিয়ে বললাম কবে অনুষ্ঠান ম্যাম? উনি বললেন আগামী বুধবার। মোবাইলে দেখলাম সেদিন শুক্রবার, মানে হাতে চারদিন মাত্র সময়। বললাম এত কম দিন ম্যাম! ম্যাম বললেন এটা অনেক সময়, তুই রেডী কর গান। কোরাস হলে ভালো হয়। আমি আর কি করি! বললাম ওকে ম্যাম। হোস্টেল ফিরে বন্ধুদের বললাম সব ব্যাপার। কোনরকমে আর তিনজন জোগাড় করা গেলো। তারপর গান চয়েস করলাম "আমরা মেডিক্যাল কলেজে পড়ি" এই গানটা। ঠিক হলো ভোরবেলায় পাঁচটা থেকে রেওয়াজ হবে, হোস্টেলের ছাদে। সেই কথা মত রাতে একবার সঙ্গত করে পরের দিন ভোরে ছাদে গেলাম রেওয়াজ করার জন্য। সকালের ঠান্ডা হাওয়ায়, ঘুমের আবেশে গান শুরু করলাম, সাথে মোবাইলে ক্যারাওকে চলছে। হঠাৎ একটা শব্দ এলো কিচ কিচ! পাত্তা না দিয়ে সবাই চোখ বন্ধ করে গাইছি। হঠাৎ এক বন্ধু চিৎকার করে উঠে বললো রিমো তোর পেছনে দেখ ওটা কে! ঘাড় ঘুরিয়ে দেখি একটা হনুমান বসে আছে দাঁত বের করে। গানের দফারফা শেষ তখন, ঊর্ধ্বশ্বাসে সিড়ি বেয়ে নিচে নামতে লাগলাম সবাই। আর সাথে হনুমান টাও নামছিল। দিগবিদিক শূন্য হয়ে ছুটতে ছুটতে দুজন গেলাম বাথরুমে লুকোতে। আর দুজন অন্য এখন বন্ধুর রুমে ঢুকলাম। বন্ধুটি সব শুনে নীচে সিকিউরিটি কে ফোন করলো। সিকিউরিটি এসে হনুমানটাকে কমন রুম থেকে বের করে তাড়িয়ে দিলো। তারপর একে একে সবাই জড়ো হলাম যে যেখানে লুকিয়ে ছিলাম সেখান থেকে বেরিয়ে এলাম। ম্যাম কে সব বলার পর কি হাসি ওনার! পরে অবশ্য অডিটোরিয়ামে আমাদের প্রাকটিস করার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। বাকি তিনদিন রিহার্সাল করে মোটামোটি গান গেয়ে উতরে দিয়েছিলাম সবাই। সেই ঘটনা আজও মনে পড়লে বন্ধু মহলে হাসির ফোয়ারা ছোটে। গানটার কয়েকটা লাইন দিলাম। মনে রাখার মত গান সত্যি। 

আমরা মেডিকেল কলেজে পড়ি
এনাটমি,প্যাথলজি,সার্জারি, মেডিসিন 
আরও কত নাম ঝুরি ঝুরি।।
কার্ডিওলজি, হেমাটোলজি আরও কত লজি, কিছু তার বুঝি আর কিছু নাহি বুঝি ... 
আমরা মেডিকেল কলেজে পড়ি।। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বুধবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২২

মনের খবর ✍️ডা: অরুণিমা দাস

  মনের খবর
 ✍️ডা: অরুণিমা দাস

কালো মেঘ জমেছে মনের কোণে 
তাকে আগলে যে রাখি সঙ্গোপনে।

মনের খবর রাখার সময় কোথায়?
ব্যস্ত সবাই,নিজের কাজে ধায়।

যখন কেউ পারেনা করতে নালিশ
অশ্রুভেজা বালিশ রাখে মনের হদিশ।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শিরোনাম - দুরত্ব✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - দুরত্ব ✍️ ডা: অরুণিমা দাস আধুনিকতা মানেই অন্যরকম একটা ব্যাপার, উন্নতির পথে এগিয়ে যাবার সিড়ি তৈরি করে দেয় আধুনিকতা। আজকাল কেউ আ...