অতিরিক্ত নারী স্বাধীনতার সুফল ওট কুফল।ট
কলমে---পারমিতা মন্ডল।
আজকের বাক্যটার সাথে কোন মতেই এক মত হওয়া সম্ভব নয়--
1)নারী আজ মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে ,আত্মস্বনির্ভর হয়েছে । তাই পুরুষের এতো গায়ে জ্বালা । ঘোমটা দিয়ে ঘরে বসে মার না খেয়ে উল্টে মার দিতে শিখেছে ।এটাই পুরুষের কাছে নারীর অতিরিক্ত স্বাধীনতা বলে মনে হয়েছে।। এতোদিন স্বাধীনতা শুধু পুরুষের এক চেটিয়া ছিল। তাই বলে ডিভোর্স ও পরকীয়া কিন্তু কম ছিল না। ওটা শুধু পুরুষের দখলে ছিল। এখন নারী তাতে ভাগ বসিয়েছে। তাই সব দোষ নারী স্বাধীনতার।
2) আগের দিনে মেয়েদের বোঝানো হতো পতি পরম গুরু। দেবতা। তার কথা শুনে চলতে হবে। কখনোই অমান্য করা চলবে না। সে যদি চুল্লু খেয়ে এসে পেটায়ও তাহলে পিঠ পেতে দিতে হবে মার খাওয়ার জন্য। প্রতিবাদ করা যাবে না। বাইরে পুরুষের দশটা মেয়ের সাথে সম্পর্ক থাকতে পারে। ওটা স্বাভাবিক। সেতো পুরুষ। তুমি যেন ভুলেও কোন পুরুষের দিকে না তাকাও। কিন্তু নারী সেই অন্তঃপুর থেকে বেরিয়ে, অত্যাচারিত হতে হতে যখন তার প্রকৃত ভালোবাসা খুঁজে পেয়েছে, তখন তাকে পুরুষ বলছে পরকীয়া। স্বেচ্ছাচারিতা। এতোদিন পরকীয়া শুধু পুরুষের একার দখলে ছিল।
3) পুরুষ ডিভোর্স দিয়ে দশটা বিয়ে করলেও সমাজ তার দিকে আঙুল তোলে না। কিন্তু কোন মেয়ের যদি বিয়ে ভেঙে যায় তবে সবাই একেবারে গেল গেল রব তোলে। যেন পৃথিবী রসাতলে গেল। যাদের অর্থের জোর আছে, বা স্বনির্ভর সেই সব মেয়েরা আর পড়ে পড়ে অন্যায় সহ্য না করে ডিভোর্সের পথ ধরে। সুস্থভাবে বাঁচার অধিকার তো তার ও আছে। অথচ মানুষ তাকে বলছে অতিরিক্ত নারী স্বাধীনতা।
3) ভালোবাসা বা নির্ভরতা আগেও কম ছিল। প্রকাশ পেত না। কারণ মেয়েদের মতামতের কোন গুরুত্ব ছিল না। তখন ডিভোর্স বা পরকীয়া ছিল ছেলেদের একচেটিয়া অধিকার। মেয়েরা তাদের অন্ধের মতো ভালোবাসতো। আর দিনের পর দিন ঠকে যেত। তখন হয়তো "ডিভোর্স"এই গালভরা নামটা ছিল না। তার পরিবর্তে শোনা যেত "স্বামী পরিত্যক্তা নারী।" এটা কি মেয়েদের কাছে অপমানের ছিল না ? দিনের পর দিন বাপের বাড়িতে পড়ে থেকে কোন মেয়ে যদি পরকীয়া করতো তবে সেটা ছিল মারাত্মক অপরাধ। এখন সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। নিজের মত করে মেয়েরা বাঁচতে শিখেছে। তাই বলা হচ্ছে এটা অতিরিক্ত স্বাধীনতার ফল।
4) আজ মেয়েরা পুরুষের অত্যাচার নীরবে সহ্য না করে বাইরে বেরিয়ে নিজের মত জীবন যাপন করছে। তাদের আর উঠতে বললে উঠেছে না বা বসতে বললে বসছে না। তাই সমাজের চোখে এটা অতিরিক্ত স্বাধীনতা বলে মনে হয়ে। আর তাই ডিভোর্স বা পরকীয়ার দায় সেই আবার মেয়েদের ঘাড়েই চাপিয়ে দিতে চাইছে।
একটি সংসারকে সুন্দর করে গড়ে তুলতে গেলে নারী পুরুষের সমান অবদান দরকার। যে মেয়েটি গৃহবধূ তার কোন কাজ নেই, ।"আমার পয়সায় খায়, তাই তাকে সব কথা শুনতে হবে"-- এই মানষিকতা যদি পুরুষ দূর না করে , তবে পরকীয়া , ডিভোর্স আরো বাড়বে। তার জন্য মেয়েরা নয় , পুরুষ দায়ী। দিনের পর দিন অত্যাচারিত হয়ে আজ তারা ঘুরে দাঁড়িয়েছে । এটা পুরুষের ইগোতে লাগছে। তাই ঘুরিয়ে নারী স্বাধীনতাকে ছোট করার জন্য, আর নিজেদের দায় এড়ানোর জন্য সব দোষ সেই নারীর ঘাড়েই চাপাতে চাইছে।
এটা মানবো না মানছি না।
all rights are reserved by paramita.
পক্ষে----
কলমে----পারমিতা মন্ডল
1) অতিরিক্ত নারী স্বাধীনতা নারীকে বিপথগামী করেছে । এটা আংশিক সত্য। কারণ চার দেওয়ালের বাইরে বেরিয়ে এসে নারী যখন জগত দেখেছে, তখন তার মাথা ঘুরে গেছে। পুরুষ- নারী বন্ধুত্বের মত মিসতে গিয়ে সে নিজেই পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েছে। তার না পাওয়ার যন্ত্রণা, অতিরিক্ত কেয়ার যেটা সে স্বামীর কাছে আসা করেছিল, সেটা অন্য কারো কাছে পেয়ে নিজেকে সামলাতে পারেনি। এটা নারী স্বাধীনতার কুফল।
2) নারী আজ স্বনির্ভর । তাই সে কারো দাসত্ব করতে চায়না। কিন্তু ভালোবাসা আর দাসত্বের মধ্যে সুক্ষ্ম পার্থক্য অনেক সময় বুঝতে পারে না মেয়েরা। স্বামীর সেবা তো ভালোবেসেও করা যায়। সেখানে অহংকারের জায়গা নেই। কিন্তু আত্মাভিমানী নারী মনে করে, আমি স্বাধীন। কেন তোমার সেবা করতে যাবো ?আমার ইগোতে লাগছে। এর থেকেই শুরু হয় অশান্তি।
3) কোন মেয়ের যদি বাবার বাড়ির জোর বেশী থাকে, আর ছেলেটির যদি অর্থ কম থাকে , তাহলে দেখা যায় পুরুষ স্বাধীনতা থমকে যায়। সেই পুরুষের ঠিক মতো ভাত ও জোটে না। নারী তার উপর বিভিন্ন রকম মানষিক নির্যাতন করে। এবং এক সময় ডিভোর্স অবসম্ভাবি হয়ে পড়ে। এটা নারী স্বাধীনতার একটি কলঙ্কিত অধ্যায়।
4) আজকাল অনেকক্ষেত্রে দেখা যায় আইনের অপব্যবহার করে , পুরুষকে হেনস্থা করছে নারী। সব সময় সেই পুরুষটি হয়তো দোষী থাকে না । মেয়েটির স্বার্থ সিদ্ধির জন্য ডিভোর্স দিতে বাধ্য করে ছেলেটিকে। তারপর একটি মোটা অংকের খোরপোষ দাবী করে। সারাজীবন বসে খাওয়ার জন্য। এটাও অতিরিক্ত নারী স্বাধীনতার ফল।
5) পরকীয়ার জন্য মেয়েরা খুন করতেও পিছু পা হয়না । যেমন--- মনুয়া, বা সুদীপা । কিন্তু নারী যখন চার দেওয়ালের মধ্যে ছিল তখন এমন জঘন্য কাজ করার কথা ভাবতেও পারতো না। অতিরিক্ত স্বাধীনতা তাদের বেপরোয়া করে তুলেছে ।
অত্যাচারিত যেমন নারী হয় তেমনি পুরুষ ও হয়। তবে নারীরা হয়তো সংখ্যায় বেশী। বিশ্বাস, ভরসা রক্ষা করার দায়িত্ব দুই পক্ষের।
একহাতে তো তালি বাজে না । তাই দোষ উভয়েরই আছে।
all rights are reserved by paramita
বাহঃ বেশ লাগল।
উত্তরমুছুন