বিষয়:অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সুদেষ্ণা দত্ত
জন্ম:৭ই আগস্ট,১৮৭১
মৃত্যু:৫ই ডিসেম্বর,১৯৫১
বহু প্রতিভার জন্মস্থান কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুর বাড়ী।এই ঠাকুর পরিবারে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ,সত্যেন্দ্রনাথ,দ্বারকানাথ,গগনেন্দ্রনাথ,রবীন্দ্রনাথ প্রমুখ বহু দিকপালের জন্ম হয়।সেই নক্ষত্র গোষ্ঠীর এক অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র হলেন অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর।অবনীন্দ্রনাথের পিতা ছিলেন দ্বারকানাথের পৌত্র গুণেন্দ্রনাথ।
রবীন্দ্রনাথের মতোই অবনীন্দ্রনাথ বিদ্যালয়ের প্রথাগত ধরাবাঁধা শিক্ষায় মনোযোগী ছিলেন না।ঠাকুর বাড়ীর গৃহ শিক্ষকের কাছেই শিক্ষালাভ করেন।অল্প কিছুদিন সংস্কৃত কলেজেও পড়েছিলেন।ইংরেজী,ফরাসী,সংস্কৃত ও বাংলা সাহিত্যে তাঁর দখল ছিল।
হাতের কাজ ও চিত্রশিল্পের প্রতি ছিল তাঁর সহজাত আকর্ষণ।অল্প কিছুকাল সংস্কৃত কলেজে অধ্যয়ন করার পর প্রথমে ইতালিয়ান শিল্পী সিগনোর গিলহার্ডি এবং ইংরেজ শিল্পী লেডি পামারের কাছে চিত্রাঙ্কন বিদ্যা শিক্ষায় মনোনিবেশ করেন।এই রীতিতে চিত্রাঙ্কন করে তিনি তৃপ্তি পাননি।এরপর শুরু হয় ভারতীয় চিত্রাঙ্কন রীতির পুনরুদ্ধারের সাধনা।প্রাচীন হিন্দু শিল্পকলা ও মুঘল চিত্রকলা চর্চায় মনোনিবেশ করেন।১৯০৫ সালে তিনি গভর্নমেন্ট আর্ট স্কুলের সহাধ্যক্ষ ও পরে অধ্যক্ষ হয়েছিলেন।
অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাধারে সাহিত্যিক,শিল্পী,শিল্প গুরু এবং শিল্পরসিক।তাঁর প্রতিটি সৃষ্টিই আনন্দময় সৃজনের স্বর্ণসম্ভার।অবনীন্দ্রনাথের কালজয়ী প্রতিভার স্পর্শেই লুপ্তপ্রায় ভারতীয় শিল্পকলা সঞ্জীবিত হয়ে উঠেছিল নতুন নতুন সম্ভাবনায়।আবার এই অদ্বিতীয় শিল্প স্রষ্টার মধ্যেই লুকিয়ে ছিল এক কথাশিল্পী মানুষ।সেই ‘ছবি লিখিয়ে’ অবন ঠাকুরের অনন্য অবদান বাগীশ্বরী শিল্প প্রবন্ধাবলী।
সাহিত্যে তাঁর লাজুক পদসঞ্চার হলেও সহজ-সরল কথপোকথনের ভঙ্গীতে শিশু হৃদয়ে স্থায়ী আসন লাভ করেছেন।তিনি শিশু মনোরাজ্যের খবর রাখতেন।শব্দের সঙ্গীত সৃষ্টিকারী দিকটি তিনি চর্চার দ্বারা উদ্ঘাটিত করেছিলেন।তাঁর শকুন্তলা,রাজকাহিনী,নালক,বুড়ো আংলা,খাজাঞ্চির খাতা,ভূতপরীর দেশ,মারুতির পুঁথি,আলোর ফুলকি মালি,একে তিন তিনে এক,রংবেরং ইত্যাদি গ্রন্থ সহজ সরল ঘরোয়া ভাষায় রচিত অপূর্ব সাহিত্য।আত্মজীবনীমূলক স্মৃতিচিত্র ‘আপন কথা’, ‘জোড়াসাঁকোর ধারে’, ‘ঘরোয়া’ সাহিত্য তাঁর অক্ষয় কীর্তি।
বিধাতা তাঁর হাতে তুলি ও বর্ণের ভান্ডার দিয়ে পাঠিয়েছিলেন,তাঁর প্রবন্ধ-নিবন্ধেও লেগেছে সেই রঙের ছোঁয়া।শিল্পী অবনীন্দ্রনাথ ভারত শিল্পাকাশে এক উজ্জ্বলতম জ্যোতিষ্ক।কেউ কেউ বলেন প্রতিভা আগুন।সত্যিই প্রতিভার এমন অগ্নিময় স্পর্শে তাঁর প্রত্যেকটা সৃষ্টিই হয়ে উঠেছে সোনা।
©কপিরাইট রিজার্ভড ফর সুদেষ্ণা দত্ত।

তথ্য সমৃদ্ধ রচনা।
উত্তরমুছুনদারুণ লাগল। অসাধারণ!👍👍❤️
উত্তরমুছুনঅভিনন্দন!
উত্তরমুছুন