সোমবার, ২ আগস্ট, ২০২১

# নাম- অভাবী মনের কাছে। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।

শুভ অনুগল্প বাসর। 
  # বিষয় - অনুগল্প।
  # নাম- *অভাবী মনের কাছে।
  ✍ - মৃদুল কুমার দাস। 

       "ও বিনিতা,বিনু, বিন আর পারছি না তোকে নিয়ে। তোর মা যাওয়ার সময় সংসারটা সব এলোমেলো করে দিয়ে গেল রে। এমন ভাসিয়ে দিয়ে গেল! আজ যে গঞ্জের হাট। তোর মা-ই মনে রাখত। সব হাতের কাছে যুগিয়ে দিত। সব কুল রক্ষা করে সংসার মাথায় রাখত। আর আজ!" বলে গণেশ বাগলি দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। পরনে হাঁটুর উপর কাপড়। কাঁধে গামছা। বাতাসা মুড়ি ক'গাল পুরে দাওয়ার পূব দিক ঘেঁষা ক্ষেতের ক'টা বেগুন গাছের দিকে তাকিয়ে থাকে। আর দাওয়া থেকে নামতে নামতে বিনুকে বলে "গাছে বেগুন আছে কটা তুলে বাজারে যাব। ঝুড়ি দে। যে কটা টাকা পাই। বাজার থেকে কি কি আনতে হবে বলবি,লিস্টি করে রাখ।" 
 বিনু বাবার ডাকে দুয়ারে বেরিয়ে আসে পিতা গণেশ বাগলি যা চাইছে তাই নিয়ে। হাতে ধরায়। গণেশ বলে- "বড় ঝুড়িটা নিয়ে এলি কেন! ছোটটা তো দিবি। ক'টা বা বেগুন আছে। সব গাছ হাড়গিলে হয়ে গেছে। সব গাছ যেন ডালপালা হয়ে গেছে। বেগুন গাছগুলোও যেন তোর মায়ের শোকে শুকনো হয়ে গেছে!"
    বিনুর মায়ের কথা মনে পড়ে। বাবাকে বলতে শুনেছিল- "কি আর বলি,সংসারের যা হাল! নুন আনতে পান্তা ফুরনোর অবস্থা! বাজার থেকে আজ একটা ছোটো সাইজের ব্যাগ এনোতো।" মনে করে বিনা চোখের জল লুকায়। মা বিনুকে বলত - "বিরাট ব্যাগ,বাজার ব্যাগের এক কোনে,রাস্তায় আসতে লজ্জা করেনা। আর কম বাজার হলে ঘরে রান্নার ঝামেলা কমে। তেল-নুন-লঙ্কা খরচ কমে,জ্বালানি বাঁচে,পেট ভরা নিয়ে কথা,ভাতে ভাত খেলে নুন লঙ্কার অভাব হয় না। অভাব মনে করলে অভাব। না মনে করলে দিব্যি চলে।"
  সাধন ড্রপসিনের আড়ালে মন ঢাকতে চায়। ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে। মনের মধ্যে অসহায়ের বোঝা চাপে। গঙ্গামনিকে বিয়ে করে আনার সময় শাশুড়ি বলেছিল - " গঙ্গামনি আমার ঘরের লক্ষ্মী ছিল। তোমার ঘরে গেল। যত্ন নিও।" বলে খুব কেঁদেছিল। আজ গণেশ সেইসব কথা ভাবলে ভেতরে ভেতরে গুমরে মরে। সামান্য ভাত,কাপড়,তেল,নুন,লঙ্কার খিদে নিয়ে যে মেয়েটা এসেছিল, সেই সাধটুকু অপূর্ণ রেখে চলে গেল। আবার দীর্ঘশ্বাস! বিনু ভেতরে নিজেকে সরিয়ে নেয়। বাপ বেটির দুরত্বে সেই নুন আনতে পান্তা ফুরনোর ছাঁচে গঙ্গামণি বারে বারে আসে।
         *********
# কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।

৬টি মন্তব্য:

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...