শুভ প্রাতঃকালীন আলোচনা-বাসর।
# বিষয় -
*মেয়েদের সবসময় নজরদারির মধ্যে থাকতে হয় ।*
# নাম-
*নজরদারী ও মেয়েরা।*
✍ - মৃদুল কুমার দাস।
পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ক্ষমতালোভী ও ক্ষমতা ভোগী। জৈবিক প্রবৃত্তিতে এক ধরণের কাঠিন্য কোমলতার বিপরীত মেরুতে অবস্থান থেকে পুরুষ পুরুষই,জৈবিক প্রবৃত্তিতে কোমলতার স্বরূপে নারী নারী। পরস্পরের প্রতি আকর্ষণ জিনগত চাহিদা। সেখানে সৃষ্টির একটা বীপরীতধর্মিতায় তূল্যমূল্য বিচারে পুরুষ দৃঢ়,নারী কোমল।
মাতৃতান্ত্রিক সমাজে এ প্রমাণিত সত্য যে নারী কিন্তু দুর্বল ছিল না। পুরুষ বানাল দুর্বল। আর তা থেকে এলো পুরুষতান্ত্রিক সমাজ। নারীকে সেক্স উইকার হিসেবে(ভারী কাজে) দেখাটা থেকে পুরুষ ক্ষমতা দখলের সুযোগ পেল।
এই যে সেক্স উপকার বললাম এর মাত্রা ক্ষেত্রবিশেষে নানারকম তার গতি। ঘরে বাইরে তাকে দুর্বল করে দেখাটা একটা অভ্যেসে পরিণত করল। নারীকে আদি থেকে শিক্ষাদানে পিছিয়ে রাখার জন্য নারীও চিন্তায় ও ভাবনায় নিজেকে এগিয়ে যেতে দিল না। বৈদিক যুগের আদিতে গার্গী,মৈত্রেয়ী,অপালাদের পুরুষের সমকক্ষ ভাবা হতো না। গার্গীর আত্মা কী,জীবনের অমৃতত্ত্ব কী জানার অধিকার ছিল না,যাজ্ঞবল্ক্য গার্গীকে তাই বলেছেন। মেয়েরা পুরুষের বেশ ধারণ করে,মুন্ডিত মস্তক শিখা ধারণ করলে পুরুষের সঙ্গে তর্ক যুদ্ধে অগ্রসর অধিকার পেত। অষ্টাদশ শতাব্দীর হটিলঙ্কারের কথা তাই প্রমাণিত সত্য। বৌদ্ধযুগে বিদুষী আম্রপালী হয়ে গেলেন নগরের নটী। নগরের সকল জ্ঞানী গুণীর ভোগ্যা হলেন। পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থার কাছে আম্রপালি পন্য। আম্রপালির কোনো প্রতিবাদের অধিকার ছিল না। পুরুষের ক্ষমতার দাসত্ব করতে নারীকে হতে হল সতী,বিষকন্যা ও দেবদাসী। তারপর তো বিধবা থেকে কত কি - মেয়ে হয়ে জন্মানো দুর্ভাগ্য,ভাগ্যের মন্দে তো পুরুষতান্ত্রিকতা কারিগর। তাহলে মেয়েদের নিয়ে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের বিধানের হরেক ফিরিস্তি আজও ভাবনার জায়গায় স্বস্তি নেই। সেক্স উইকার হিসেবে দেখার প্রবণতা না ঘুঁচলে নারীর দুর্ভাগ্য কোনোদিন ঘোচার নয়। দুর্বলতাকে বিধাতার বিধানের হাতে ছেড়ে দেওয়া - 'আপনার ভাগ্য জয় করিবার নাহি দিবে অধিকার।'
এই যে মেয়েদের ঘরে বাইরে নানা বিপদের ঝুঁকি ভাবনার আরেক দুর্বলতা। তাই নিয়েই তো সবসময় নজরদারি নারীর উপর। নারীকে পুরুষ তার সেক্সচুয়াল ক্রাইসিস থেকেও মেয়েদের উপর প্রতিশোধমুখী হয়। তার হাত থেকে সমাজকে স্বস্তি দিতে মেয়েদের মাতৃজ্ঞানে সম্মানের কথা বলা হয়েছে।
সমাজে নারী ও পুরুষের মধ্যে উইকার ও স্ট্রঙ্গারের বৈষম্য যতদিন সমস্যা ততদি। উইকার নারী বলে নজরদারির মূলেও থাকে সেক্সচুয়াল প্রবণতা। শৈশব থেকে নজরদারি এটা কোরোনা,ওটা কোরোনা। কেমন করে চলতে হবে চলে আদবকায়দা শেখানোর নজরদারি। এতে মেয়েদের নিজেদেরই আর্থ-সামাজিক অবস্থার উপর দাঁড়িয়ে নজরদারি একটা কালচারে পরিণত হয়। তাদের থেকে সমাজে ও পুরুষ আমি নারীর বিভাজন আসে। আর বিভাজন থেকে আসে লক্ষ্মণরেখা। সোনার হরিণ শিকারে রাম গেলেন তো গেলেন, সীতাকে নজরদারিতে লক্ষ্ণণকে রাখার সেই একই কথা। লক্ষ্মণ সীতাকে একা রেখে যাচ্ছে গন্ডী কেটে। গন্ডীই লক্ষ্মণের অনুপস্থিতে নজরদারি রাখবে। নারীকে নজরদারির মধ্যে থাকতে হবে - এটাই অলিখিত সিস্টেম।
বর্তমান নারীকে রক্ষার জন্য আইনের ধারার কি শেষ আছে! নারীকে নজরদারি করে এই সব আইন। নারীকে সাবলম্বী করার পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থা কণামাত্র স্পেস দেয়নি,এ নাকি এক পবিত্র কর্তব্য। কর্তব্যের নামে নারীর দুর্বলতাকে পরোক্ষে বার্তা দেওয়া হচ্ছে,বোঝেও বুঝবে কে? নজরদারি,খবরদারি যে চলে যাবে না!
নজরদারির আরেক সিস্টেম খুব সুন্দরভাবে প্রকাশ্যে দেখি। মেয়েদের হাতে মোবাইল দিতে মানা। দিলে পুরুষ ফুসলে নিয়ে যাবে। ছেলেরা মেয়েদের শিকার করে মোবাইল দিয়ে। মোবাইল থেকে মেয়েদের ধর্ষিতা,অবৈধ সম্পর্ক,ছেলের জন্য বাবার অর্থ,গহনাগাটি সর্বস্ব যাওয়া এখন তো আকছার। তাই গ্রামে মোবাইল ব্যবহারের মেয়েদের বিধিবিধানের বেড়া থাকে। তথ্য বলছে গ্রামে মোবাইল ব্যবহারকারী মেয়েদের সংখ্যা বারো শতাংশ,পুরুষ অষ্টাশি শতাংশ। নজরদারির এও এক হিস্যা।
আসলে মেয়েদের দুর্বল ভাবা পুরুষের একটা ম্যানিয়া। নারীর প্রতি সন্দেহ থেকে নজরদারি নাকি বাস্তব পন্থা। এই নজরদারিতে সমাজে এখনও মেয়েদের দুর্বল বানিয়ে রাখা হয়েছে। একটা দেশের দুর্বলতা মেয়েদের প্রতি নজরদারিকে ঘিরে গড়ে ওঠে। আজ মেয়েরা কোন অংশে কম। প্রমাণ সর্বত্রে। তবুও নজরদারির সিস্টেম সমাজকে দুর্বল যে কতটা করছে,মানাটা একেবারেই আপেক্ষিক। এই নজরদারি থেকে মেয়েদের হতাশাময় জীবনকে অভিশপ্ত করছে।
******
খুব ভালো লাগলো
উত্তরমুছুনভালো হয়েছে💐
উত্তরমুছুনখুব সুন্দর বিষয়ে অবতারণা...👌👌👌
উত্তরমুছুনদারুন।
উত্তরমুছুনঅসাধারণ লেখা।
উত্তরমুছুন