শুভ বাক্য আলোচনা বাসর।
# বিষয় - *বাঁচার জন্য খাওয়া,খাওয়ার জন্য বাঁচা নয়।*
# নাম - *খাওয়া।*
✍️ - মৃদুল কুমার দাস।
জীবনের অস্তিত্বের মূলে ভিত্তি খাওয়া,পরা ও মাখা। সবার যে যার বৈশিষ্টে স্বাতন্ত্রবহ। আহার বা খাওয়ার নিয়ে আলোচনায় আসতে গিয়ে প্রথমেই বলি- মানুষ সর্বভুক। হেন জিনিস নেই যা সে খায় না। এই খাওয়ারের যে খায় সে কর্তা। যাকে খাওয়া হয় সে কর্ম। অর্থাৎ যে গ্রহণ করে সে *অন্নাদ*। যাকে গ্রহণ করা হয় সে রূপান্তরিত ভোগ্য বা অনুভবের বিষয়,বলে তাকে বলে *অদ্যতে* বা *ভুক্ত*।
অন্ন বা যে কোনো খাওয়ারের রস ছ'রকম - অন্ন থেকে রক্ত,রক্ত থেকে মাংস, মাংস থেকে চর্বি,চর্বি থেকে হাড়,হাড় থেকে মজ্জা,মজ্জা থেকে পুরুষের শুক্র ও নারীর ডিম্বানু তৈরী হয়। সবই আহারের নির্যাস,যার থেকে ফল পাওয়া যায়। ফলের নাম পুষ্টি। এই পুষ্টি শক্তি দেয় - মন,ইন্দ্রিয়,স্মৃতি, মেধা,বুদ্ধি ইত্যাদি। আহার স্থুল শরীরের জন্য নানা রূপান্তরের অনুগামী। ভুক্ত অন্নের রূপান্তর থেকে সবচেয়ে স্থূল অংশ মল,যা বেরিয়ে যায়। মধ্যম অংশের রূপান্তরে মাংসপেশী। সূক্ষ্ম অংশে চিত্ত। এই যে এতো রূপান্তরের দিক আছে,আহার গ্রহণে একটা ঔচিত্যবিচার থেকে আহারের গুণ প্রকাশিত হয়। খাওয়ারের সঙ্গে জীনের সম্পর্ক একটা আছে বলে পরুষের আহার,নারীর আহারের মধ্যে একটা পরিমাণগত বৈষম্য থাকে। অপরপক্ষে আহারের ধরণেও রূপান্তর যেমন- কাঁচা সবজি খাওয়া, আর তাকে ভাজা পড়া করে খাওয়া পৃথক পৃথক ফল।
কী খাওয়া উচিৎ, কীভাবে খাওয়া উচিৎ,কখন কী খাওয়ার খেতে হয়, এ নিয়ে আয়ুর্বেদ, আধুনিক পুষ্টি বিজ্ঞান, ডাক্তার, হোমিওপ্যাথ,যোগ শিক্ষক আমাদের সারাক্ষণ খাওয়ার নিয়ে নানান উপদেশ দিয়ে যাচ্ছেন। এই নিয়ে আহার স্বর্বস্ব জীবনের হজবরল ইতিকথায় আহার গ্রহণের কর্তব্য ও কর্তব্যহীনের বাছবিচার কেউ কেউ করে তো,আবার কেউ কেউ একদম করেই না। আমিষ ও নিরামিষ আহার নিয়ে বাছবিচার একটা রীতিমত ঘটা।
আহার নিয়ে ঘটনার জীবন রসরসিকতার কয়েকটি দিক যেখানে মনে,সাংস্কৃতিক বোধের এক এক ধরণের পরিচয়, যেমন-
**প্রাণ ধারণের জন্য পশুরা যন্ত্রবৎ খায়। কিন্তু মানুষের খাওয়া দাওয়া রীতিমত রুচিশীল।
** খাওয়ার ধরন থেকে মানুষ চেনা একটা ধরন।
**একটা নতুন রান্নার পদ উদ্ভাবন করতে পারলে মনের সে কি অনাবিল আনন্দ।
** খাওয়ার টেবিলে নেমতন্ন করে খাওয়ার দেওয়ার যত্নের ধরন থেকে মানুষ চেনা যায়। সযত্ন আত্তির কোনো খামতি রাখে না।
** নিমন্ত্রণ বাড়িতে খাওয়ার নিয়ে নিন্দা করতে নেই, সে যতই খাওয়ার মন্দ হোক।
** অন্নদানের নিরিখে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠে। অন্নদান মানে জীবন দান। যে অন্নদান করেনা সে কোনোদিন বন্ধু নয়। সে কৃপণ। কৃপণের একা একা খাওয়া মানে মৃত্যুর সমান। খাদ্য নিয়ে মজুতদারী,চোরাবাজারী করার চেয়ে বড় পাপ আর নেই।
** শঙ্করাচার্য বলেছিলেন- অন্নের প্রথম গ্রাসটায় সকলের অধিকার আছে,কারণ যে গ্রাসটা প্রথম তুলি তার প্রতি ক্ষুধার্তের প্রথম গ্রাস। তাই গৃহস্থের কুকুর, বিড়াল,পিঁপড়েটাও পর্যন্ত প্রথম গ্রাসের অংশীদার। প্রথম গ্রাসে তোমার অধিকার থাকলে আমারও অধিকার আছে। গ্রাস তোলা মানে,না দিয়ে গ্রহণটাই পাপ। তার গ্রাস তোলার আগে প্রণাম ও ভূমিতে নিবেদন করে গ্রহণ করতে হয়।
** আহারের নৃশংসতা হল - ভক্ষ্য,পেয়,লেহ্য অতীব সুন্দর সুন্দর খাওয়ার নিজে ভক্ষণ করে,অভুক্তের দিকে ফিরেও তাকায় না, অপরপক্ষে দেখিয়ে দেখিয়ে না দিয়ে খায় তার মত নৃশংস আর হয় না।
আহার নিয়ে খুব প্রচলিত কথা - "বাঁচার জন্য খাওয়া,খাওয়ার জন্য বাঁচা নয়"- কথাটির একটা আহার গ্রহণের ধরণের কথা বোঝাচ্ছে।
না খেতে পেলে মরে যাবে- এই ভাবনা,আর না খেয়ে মরে না,বরং খেয়ে মরে - কথাগুলো বেশ অনুধাবনযোগ্য। কীরকম?
বলাই আছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত খেও না। আকন্ঠ খেলে কোনো উপকার তো হয়ই না,বরং হীতে বিপরীত হয়। শরীর খারাপ করে। তাই বাঁচার জন্য খাওয়া,খাওয়ার জন্য বাঁচা নয়। বিয়ে বাড়ির খাওয়ার সহ্য হবে না,আবার খাওয়ার লোভও ছাড়া যাচ্ছে না। রসনা উত্তেজিত হয়। বলাই আছে যত উৎসব বাড়ী খাবে তত আয়ু কমবে। যত আমিষভোজী হবে আয়ু তত কমবে। ওসব চুলোর ছাই প়াঁশ ভাবনা মাথায় ঢোকালে খাওয়া আর হলো না। আয়ু আর কতদিন। যদি মরি খেয়েই মরা ভাল। জীবনটাকে তো ভোগ করা গেল। আহারের অভ্যাস জলবায়ুর উপর নির্ভর করে। চীনের আহারপ্রিয়তা,ভারতীয় আহারপ্রিয়তা আলাদা। ভারতের দক্ষিণের রাজ্যগুলির সঙ্গে উত্তরের রাজ্যগুলির খাদ্যাভ্যাস আলাদা জলবায়ুর উপর ভর করে।
আহারের ধরণ কী হওয়া উচিৎ, তা থেকে আহারে রুচিশীলতা আসে।
বেশী খাওয়া থেকে পেটের রোগ আসে। পরিমিত আহার ও জলপান নির্দিষ্ট পরিমান, সুস্থ শরীরের শর্ত। চাহিদার অতিরিক্ত আহার,আহারের নিয়ম না মানার অর্থ (অবেলায় খাওয়া, বেশি রাতে খাওয়া এসব আহারের উপর নির্রভ করে) আয়ু কমতে থাকে।
তাই পরিমিত আহার মানে পরিমিত জীবন। আহারের জন্য জীবন মানলে এক ফল,আর জীবনের জন্য আহার মানলে আরেক ফল।
*****
# কপিরাইট রিজার্ভ মৃদুল কুমার দাস।
অসাধারণ লেখা💐💐💐💐
উত্তরমুছুনভীষণ ভীষণ ভাল লাগল দাদা।
উত্তরমুছুনঅসাধারণ
উত্তরমুছুনদারুন লেখা
উত্তরমুছুনখুব সুন্দর ও উপভোগ্য লেখা💐💐
উত্তরমুছুনজবরদস্ত লেখা দাদা👏👏👏❤️❤️❤️❤️❤️
উত্তরমুছুনভীষণ ভালো লাগলো দাদা।
উত্তরমুছুনখুব সুন্দর লিখেছেন দাদা।
উত্তরমুছুন