বাঁচার জন্য খাওয়া, খাওয়ার জন্য বাঁচা নয়
#কলমে_পিয়ালী_চক্রবর্তী
তারিখ: ১২/০৮/২০২১
আমরা মানুষ, ভোজনরসিক,
যেকোনো খাবার, হোক ঠিক বা বেঠিক,
খেয়ে যাই কব্জি ডুবিয়ে দু'বেলা,
শরীরটাকে নিয়ে করি ছেলেখেলা।
মাছ-মাংস-ডিম-তেলেভাজা বা মিষ্টি,
আহা! কি অপূর্ব খাদ্য'রসসৃষ্টি!
হোক না সে কোলেস্টেরলের ভান্ডার!
খেয়ে যাই সুখে, বাঁচাবে পারের কান্ডার!
আগুনে দিলে যদি হাত,
পোড়ানোই তার ধর্ম,
ফল পাবে হাতে নাতে,
ঠিক যেমনটি কর্ম!
সুগার, প্রেশার, কোলেস্টেরল, মেদাধিক্য!
হারিয়ে খোঁজে শরীরের চাকচিক্য!
পুঁতেছো অতীতে তুমি যে বিষবৃক্ষ!
অধিক খাইয়া দেবে পাড়ি অন্তরীক্ষ!
●আমরা বেশিরভাগ মানুষই খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে ওস্তাদ। একদম "দাবিয়ে খাওয়া" যাকে বলে ঠিক তেমনি ঠুসে খাই যখন যা পাই।
●এক্সারসাইজের ধার দিয়েও যাইনা। আবার কেউ কেউ ভোরবেলা উঠে মাঠে গিয়ে জগিং, মর্নিং ওয়াক ইত্যাদি করে বন্ধুদের সাথে চা-সিঙাড়ার আড্ডা দিয়ে বাড়ি ফেরেন(বলাই বাহুল্য তাতে আরো বেশী ক্ষতি)।
●সবাই আমরা জ্ঞানপাপী, কিন্তু হেলদি লাইফ লিড করার কয়েকশো মাইলের মধ্যে নেই। কত খাবার চারপাশে! ওহঃ, না খেলে আত্মাকে কষ্ট দেওয়া হয় তো! ওরকম কম কম তেলে-মশলায় খেয়ে বাঁচতে পারবুনি বাপু। খাসির মাংস বলো বা গোল গোল সাদা সাদা রসে টইটুম্বুর রসগোল্লা! ছটা-আটটার কম খেলে ঠাকুর পাপ দেবে গো।
●ঠিক দুর্গাপুজোর এক-দেড় মাস বাকি থাকতে আমাদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বেড়ে আকাশছোঁয়া। পুজোর সময় সাজুগুজু করতে হবে, বেশ চটকদার পোশাক পরে স্লিম-ট্রিম দেখাতে হবে তো নাকি! শুরু হয় ডায়েটিং এবং সেই স্বাস্থ্য সচেতনতা শেষ হয় ষষ্ঠীর দিন সকাল থেকেই। আরে, এ কেমন কথা বাপু! পুজো-গন্ডা'র দিন বলে কতা, একটু খাবো-দাবো না নাকি!
●কারোর বিয়ে-পৈতে-ভাত-জন্মদিন বা যেকোনো অনুষ্ঠানে, বেগানি শাদী মে আব্দুল্লাহ দিওয়ানা হয়ে ততক্ষণ পর্যন্ত খাই, যতক্ষণ না বেশ বমি বমি ভাব করে বা পেট ফুলে ঢোল হয়ে যায়! আরে! গিফ্ট দিয়েছি বস, পয়সা উসুল করতে হবে তো নাকি!
●পায়েস রাঁধার পরে সেই হাঁড়ি বা ডেকচির গায়ে যে ঘন পদার্থটি লেগে থাকে, কি ভীষণ সুস্বাদু! কাজের মাসি ঘষে ঘষে মেজে ধুয়ে সেই অমৃতসম পদার্থটি নালা দিয়ে বইয়ে দেবে, তাই কখনো হয়! লেগে পড়ি হাতা-খুন্তি নিয়ে। চেঁছে চেঁছে লোকের কান-মাথা ঝালাপালা করে মুখে পুরে দিই সেই মহার্ঘ্য বস্তু। আহা! পেট কি আমাদের ডাস্টবিনের চেয়ে কম নাকি ভাই!
খেয়ে খেয়ে জীভ দিন দিন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়ে ওঠে আমাদের। বুঝতে পারি ভুল করছি, কিন্তু শুধরে নিই না। "অ্যায়সে খায়ে যাতে হ্যায়, জ্যায়সে, কল হো না হো"
। এই অতিরিক্ত খাবার ফলে আমন্ত্রণ দিয়ে ডেকে আনি বিভিন্ন রোগ। খেয়ে খেয়ে বিশ্রী মোটা হয়ে মায়োকার্ডিয়াল ইনফ্র্যাকশন, সেরিব্রো ভাস্কুলার অ্যাকসিডেন্ট বা কোনো মারণ রোগে অকালে পরিবার ছেড়ে চলে যেতে হয় কত মানুষকে। অথবা, শরীরে রোগের বাসা নিয়ে ডাক্তার-ওষুধের পেছনে গাদা গাদা টাকা খরচ করে পরিবারকে অস্বচ্ছলতার মধ্যেও ফেলে দেন অনেকেই। তাদেরকে বোঝালে বোঝে না, তাদের জীবনের মূলমন্ত্র "খাওয়ার জন্যই বাঁচা"।
একটু স্বাস্থ্য সচেতন হলে, তেল মশলা বা ফ্যাটি খাবার কম খেলে যদি পরিবারের সাথে আরো বেশ কটা বছর বেশী বাঁচা যায়, তবে তাই হোক আমাদের মূলমন্ত্র, "খাওয়ার জন্য বাঁচা নয়, বাঁচার জন্য খাওয়া।"
Copyright © All Rights Reserved to Piyali Chakravorty

অসম্ভব সুন্দর লেখা 💐💐💐💐
উত্তরমুছুনঅনেক ধন্যবাদ
মুছুনঅসাধারণ!মন ভরে গেল।❤️❤️💯💯👍
উত্তরমুছুনঅনেক ধন্যবাদ
মুছুনদারুন।
উত্তরমুছুনঅনেক ধন্যবাদ
মুছুন