সোমবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৪

যুগান্তর✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 যুগান্তর
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

ভালো মন্দের সহাবস্থানে হচ্ছে যুগে যুগে পরিবর্তন 
সত্যযুগে স্থান ছিলো তাদের ভিন্ন অঙ্গন। 

ত্রেতা যুগে রাম রাবণের বাস এক জগতে
রামায়ণ সৃষ্টি হয়,শিক্ষা পাই মহাকাব্য হতে।

দ্বাপরযুগকে চিনিয়ে দিলো এক পরিবারে থাকা পাণ্ডব কৌরব
ভালো মন্দের জুটিতে সৃষ্টি মহাভারত আমাদের গৌরব। 

সত্য ত্রেতা দ্বাপর - শেষে কলিযুগের আগমন
ব্যক্তিবিশেষে সকলের মধ্যেই এসেছে বিবর্তন।

কলিযুগে ভালো মন্দ থাকে না ভিন্নে,বাস করে এক মনের মাঝে 
ভালোর মুখোশ উন্মোচনে  মন্দের রূপ বেরোয়  স্বার্থশেষে। 


©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৪

আত্মসম্মান✍️ ডা:অরুণিমা দাস

 আত্মসম্মান
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

লেখকদের লেখা কিছু উক্তির মধ্যে দিয়ে বাস্তব কিছু কঠোর কথা প্রতিফলিত হয়ে থাকে। বাস্তবতা কে গল্পের মধ্যে দিয়ে তুলে ধরতে চান তারা। গল্পের মধ্যে দিয়ে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয় সহজে। 
যে মানুষের মধ্যে আত্মসম্মান বোধ রয়েছে,কোনো মতেই সেটা খোয়াতে চায়না। শত কষ্ট লাঞ্ছনার মধ্যে দিয়ে গেলেও,কোনো কিছুর পরিবর্তে কারোর কাছে মাথা নোয়াতে সে রাজী হয়না। সমাজস্রোতে ভেসে যেতে চায় সকলে,কিন্তু কেউ কেউ আছে স্রোতের বিপরীতে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চায়। সমাজের তথাকথিত বড়লোক আখ্যা পাওয়া লোকেরা সব কিছু গ্রাস করে নিলেও কিছু লোক থাকে যারা নিজেদের বাকীটুকু বাঁচাতে তাদের পায়ে গিয়ে পড়েনা। বরং জানে সে পায়ে ধরার থেকে নিজের মাথা উঁচু রেখে থাকাই শ্রেয়। যে শোষণ করার,সে করবেই। তা বলে তার পায়ে পড়ে শোষিত হবার পথে এগিয়ে না গিয়ে যেটুকু সম্বল সেটা নিয়েই বাঁচা উচিত,তাতে ধনাভাবে গরীব হলেও,মনুষ্যত্ব আর আত্মসম্মানভাবে গরীব হয়ে থাকতে হয়না। 

"সমাজস্রোতের বিপরীতে মাথা চাড়া দিয়ে উঠে দাঁড়ানোই আসল দক্ষতা
আত্মসম্মানবোধকে জাগ্রত করে রাখাই খর্ব করে বড়লোকের ক্ষমতা।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৪

মাপকাঠি✍️ ডা: অরুণিমা দাস

মাপকাঠি
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

জ্ঞান হওয়া থেকে আমাদের শেখানো হয় যে বড়ো দের সম্মান করা উচিত। কিন্তু শুধু বয়সই সম্মানের সঠিক মাপকাঠি নয়। আরো কিছু বৈশিষ্ট্য আছে যেমন জ্ঞান,ব্যবহার,প্রকৃত মনুষ্যত্বের অধিকারী এগুলোর বিচারেও সম্মান দেওয়া হয় অনেক সময়। কম বয়স মানেই যে তাকে সম্মান দেবেনা এমন নয়। হয়তো তার মধ্যে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য আছে যেটা তাকে অন্যের থেকে আলাদা করে,সেও সম্মান পাওয়ার যোগ্য। আজকালকার ছেলে মেয়েরা,যদিও সবাই নয়,কিছুক্ষেত্রে বড়দের যথাযথ সম্মান দেয়না,এটা কাম্য নয়। কিছু পুরোনো দিনের মানুষ আছেন যারা আধুনিকতার থেকে একটু দূরেই থাকেন,তাদেরকে অনেকেই অসম্মানের চোখে দেখে। কিন্তু এটা ভুলে যায় যে পুরোনো দিনের মধ্যে দিয়েই আমরা নতুন দিনকে চিনতে শিখি। তাই অসম্মান কোনভাবেই কাউকে করা উচিত নয়। নতুনত্বের ছোঁয়ায় পুরোনোকে আপন করে সাদরে গ্রহণ করা উচিত। সবশেষে জাতিধর্ম,বয়স,কর্ম সবকিছুকে ছাপিয়ে মানুষ হিসেবে সকলকেই তার প্রাপ্য সম্মান দেওয়া উচিত। 

"যথাযোগ্য মর্যাদা দিও সবাইকে,মাপকাঠির বিচারে নয়
সকলকে সম্মান দেয় যে,সেই তো প্রকৃত মানুষ হয়।"

©️রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

সোমবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৪

প্রতিফলন✍️ ডা:অরুণিমা দাস

 প্রতিফলন
✍️ ডা:অরুণিমা দাস


সারি সারি গাছ আর বাড়ী, মিলেমিশে রয়েছে দাঁড়িয়ে
মুগ্ধ হয়ে দেখছে আকাশের পানে চেয়ে।

সূর্যের আলো মেখে আকাশ ও জলাশয় মিশেছে এক সীমারেখায়
ঘরবাড়ী সব দেখে একমনে তাদের প্রতিবিম্বকায়।

হোক গোধূলির পড়ন্ত বিকাল বা হোক সকালের আগমন 
প্রকৃতি জানে পরিবর্তনই জগতের নিয়ম- তাইতো সে থাকে স্থির ও ধৈর্যবান। 

©️রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শিরোনাম-রক্তের টানে✍️ ডা:অরুণিমা দাস

শিরোনাম-রক্তের টানে
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

সন্ধ্যে ছটা বাজে প্রায়। গাইনি ওটির বাইরে অস্থির ভাবে পায়চারী করছে অনিল আর ওর মা বাবা। ওটির মধ্যে অনিলের স্ত্রী রিক্তার সিজার চলছে। প্রায় আধঘন্টা পরে সিস্টার তোয়ালে মোড়া জ্যান্ত পুতুল এনে তুলে দিল অনিলের হাতে।ওর মা বাবা ছুটে এলেন,বললেন কী হয়েছে সিস্টার!ছেলে না মেয়ে? সিস্টার কিছুক্ষন চুপ করে রইলো,তারপর বললো স্যার এসে আপনাদের জানাবেন সবটা। বলে সিস্টার বাচ্চাটাকে অনিলের হাত থেকে নিয়ে চলে গেলো।কিছুসময় পরে ডা: ঘোষ বললেন আপনারা আমার চেম্বারে আসুন,কিছু কথা আছে। ওরা তিনজন গেলো ডা: ঘোষের চেম্বারে। ডা:ঘোষ জানালেন যে বাচ্চাটা জন্মেছে,অ্যাম্বিগুয়াস জেনিটালিয়া নিয়ে মানে ছেলের মত দেখতে হলেও ভেতরকার অঙ্গ গুলো মেয়ের মতো। একটা সেক্স চেঞ্জ অপারেশন করে হয়তো জিনিসটা ঠিক করা যাবে। অনিলের মা বললেন আচ্ছা বুঝেছি,তৃতীয় লিঙ্গের জন্ম দিয়েছে রিক্তা। আমি মেনে নেবোনা এই সন্তানকে,সাফ জানিয়ে দিলাম।অনিল কিছু বলতে যাচ্ছিলো! ওর মা বললো নয় ওই বাড়িতে আমি থাকবো নাহলে ওই পাপ থাকবে। এবার তুই ঠিক কর কি করবি? অনিল বুকের ওপর পাথর চাপা দিয়ে মায়ের আদেশ মেনে নেয়। নিজের মাকেই আজ তার কেমন যেন অচেনা লাগছে। কিকরে এরকম করতে পারে ওর মা? নিজের ছেলের অংশকে এভাবে অস্বীকার করতে পারছে মা?যেটা কোনোদিন মায়ের কাছে আশা করেনি কোনোদিন সে। কিন্তু মায়ের কাছে তখন মনুষ্যত্বের চেয়ে বংশমর্যাদা বেশী বড়ো হয়ে উঠেছিল।
এরপর বছর পনেরো কেটে গেছে।অনিলের কোনো সন্তান হয়নি আর। অনিলের মায়েরও বেশ বয়স হয়েছে। একদিন রাস্তা পার হবার সময় পাথরে হোচট খেয়ে পড়ে যান উনি। একটা গাড়ী এসে আচমকা ধাক্কা মারে। মাথা ফেটে বেশ রক্ত পড়ছে।রাস্তার লোকেরা জড়ো হয় কিন্তু কেউ ওনাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়না। ভিড় ঠেলে এগিয়ে আসে এক মহানুভব,বলে আপনারা সরে যান,আমি ওনাকে হাসপাতালে নিয়ে যাবো।ডাক্তার জানান বেশ গুরুতর চোট ওনার মাথায়,স্টিচ দিতে হবে আর এক ইউনিট রক্তও দিতে লাগবে। অনিলবাবুও এসে হাজির হন কিন্তু রক্তের গ্রুপ মেলেনা। সেই মহানুভব এগিয়ে এসে বলে আমারও এক গ্রুপ,আমি রক্ত দেবো। অনিলবাবু বললেন আপনার নাম?নীলাভ নিজের নাম বলে বললো আমি কিন্তু তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ।অনিলবাবু একমুহূর্ত না ভেবেই নীলাভর রক্ত মাকে দেওয়ার জন্য রাজী হলেন। পরে যখন জ্ঞান ফিরলো অনিল বাবুর মায়ের,তখন জানতে পারলেন এক তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি তাকে রক্ত দিয়েছে!শুনে মাথা নীচু করে রইলেন,হয়তো বছর পনেরোর আগের দিনটি মনে পড়ছিল তাঁর। পাশের বেডে শুয়ে থাকা  নীলাভর মুখের দিকে তাকিয়ে দেখলেন তিনি,আজ মনে হচ্ছে এ তার অনেক দিনের চেনা কেউ,আজ বড়ো আপন মনে হচ্ছে নীলাভকে তাঁর।ঈশ্বর ছাড়া কেউ জানলোনা যে এই নীলাভই সেই সন্তান। কিছুকিছু সম্পর্কের সমীকরণ ওলট পালট হয়ে গিয়েও শেষ অব্দি হঠাৎ করে একদিন সিড়িভাঙা অঙ্কের মত মিলে যায়,হয়তো সকলের অজান্তেই আর অচেনা মানুষকেও ভীষণ চেনা লাগে।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস



বৃহস্পতিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৪

শিরোনাম - ডানা✍️ ডা:অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - ডানা
✍️ ডা:অরুণিমা দাস


পিপীলিকা শান্ত শিষ্ট প্রাণী, সারি সারি দল বেঁধে নিজেদের খাবার সংগ্রহে ব্যস্ত থাকে, একতাই তাদের বেঁচে থাকার বল। কিন্তু যখনি সে নিজেকে বড় ভাবে, আত্মঅহমিকার চিহ্ন স্বরূপ ডানা গজায় তার, পদে পদে বিপদ গ্রাস করে তাকে। তখন কেউ থাকেনা তার পাশে। বিপদের কোপে ডানা ছটফটিয়ে নিজেকে বাঁচানোর করুন আর্তি তখন তার চোখে মুখে কিন্তু তখন কিছু করার থাকে না।
পিপীলিকার মতো এক জিনিস দেখা যায় মানুষের মধ্যে। মানুষের ছায়া যখন তার চেয়ে বড়ো হয় তখনি এসে পড়ে নিজেকে সেরা ভাবার চিন্তা আর সেই সময় যেখান থেকে তার পতনের শুরু হয়। নিজের যা আছে তাই নিয়ে সুখী থাকায় শ্রেয়। কোনভাবেই ইগো, অহংকার এগুলোকে মনে স্থান দেওয়ার দরকার নেই। এই রিপুগুলো ক্ষতি ছাড়া ভালো কিছু করে না। ইগো ভাঙে সম্পর্ক আর অহংকার এগিয়ে দেয় পতনের দিকে। তাই এসব মন থেকে ঝেড়ে ফেলে সহজ সরল জীবন যাপন করা উচিত সকলের। এতে না থাকে পতনের ভয়, না থাকে নিজেকে সেরা ভাবার চিন্তা। থাকে সুস্থ চিন্তা,একসাথে মিলেমিশে থাকার মানসিকতা আর সৎপথে চলার অঙ্গীকার। 

"পিপীলিকার ডানা গজাক বা অহংবোধ দেখা দিক মনে 
দুই ই ক্ষতিকারক,দূরে রাখো তাই! থেকো না এদের সনে।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

সোমবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২৪

মেলবন্ধন ✍️ ডা:অরুণিমা দাস

 মেলবন্ধন
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

কার কথা শুনবে! হৃদয় না মস্তিষ্কের?
এই নিয়ে সৃষ্টি যে হয় সব দ্বন্দ্বের।

ধন্দে পড়ে যায় মানুষ,খুঁজতে থাকে সমাধান
চিন্তা কুরে খায়,মনের মধ্যে  প্রশ্নবাণ!

ভাবে!বুদ্ধি খাটিয়ে করবে কাজ নাকি আবেগতাড়িত হয়ে
হৃদয় ও মস্তিষ্কের মেলবন্ধনে
সে চলে বুদ্ধির চালনায়, সাঁকোটি বেয়ে । 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২৪

অনুভূতি✍️ ডা:অরুণিমা দাস

 অনুভূতি
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

জীবন মানেই সুখ দুঃখ,হাসি কান্না, ভালো মন্দ, মিলন বিরহ এসবের সমন্বয়। আজ সুখ আছে মানে সব সময় সুখ থাকবে এটা ভুল ধারণা। জিনিস গুলো সব মুদ্রার এপিঠ ওপিঠের মতন। আজ হেড পড়লো তো কাল টেল পড়তে পারে। আমাদের যেটা করতে হবে সব কিছুর মধ্যে দিয়েই যেতে হবে এবং সেগুলো মানিয়ে নিতে হবে। জীবন খাতার প্রতি পাতায় হিসেব নিকেষ করে যেতে হবে আর জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। মন্দ না থাকলে  ভালোর কোনো মূল্য নেই,সব রকম অনুভূতির আস্বাদ না পেলে জীবনটা একঘেয়ে হয়ে যায়। তাই টক ঝাল মিষ্টির মতন সমস্ত কিছুর স্বাদ পেতে হয় জীবনে। আর হাসিমুখে মানিয়ে নিতে হয় সব পরিস্থিতির সাথে। আর জীবন যিনি চালান তিনি সব কিছুই হিসেব করে দিয়েছেন,তাই তাঁর আশীর্বাদে সব কিছু ঠিকঠাক ভাবে চলবে, আমাদের শুধু চালিয়ে নিতে হবে পরিস্থিতি অনুয়ায়ী অনুভূতি গুলোর সাথে নিজেকে একাত্ম করে। 

"জীবন মানেই সুখ দুখ,হাসি কান্না,ভালো মন্দ- থাকবে একে অপরের পরিপূরক হয়ে
চলতে হবে আমাদের সবরকম পরিস্থিতিতে জীবনতরী বেয়ে।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

সোমবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২৪

শিরোনাম - ভরসা✍️ ডা:অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - ভরসা
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

ছোট্ট যখন ছিলে তুমি,বাবা মা রাখতেন তোমায় আগলে 
ভবিষ্যতে তাঁদের প্রতি দায়িত্ব পালনের ভার নিও তুলে।

নিশ্চিন্তে থাকতে তুমি,ভরসার দুই হাত ছিল তোমার সনে  
আজ শক্ত করে ধরে রেখো তাঁদের,ফুটুক প্রতিবিম্বের প্রতিফলনে।

ছোট্ট থেকে হচ্ছো বড়ো যথাযোগ্য মর্যাদা দিয়ো তাঁহাদেরে
যেওনা ভুলে,'ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে'।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর, ২০২৪

রিপুকথা✍️ ডা:অরুণিমা দাস

রিপুকথা
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

হিংসে হলো ষড়রিপুদের মধ্যে একটি,যেটা কম বেশি সব মানুষের মধ্যেই থাকে। একটা কথা প্রচলিত আছে,অন্যের উন্নতি দেখে হিংসে কোরো না,নিজে চেষ্টা করো,উন্নতি ঠিক হবে। কিন্তু আমার মনে হয় অন্যের উন্নতি দেখে নিজের মধ্যে একটা চ্যালেঞ্জ নেওয়া উচিত যে কারোর ক্ষতি না করে সৎপথে সৎউপায়ে নিজের উন্নতি করার জন্য সচেষ্ট থাকা উচিত। আর এই হিংসের আরেকটি উৎস হলো অন্যের সাথে তুলনা করা। বারবার অন্যের সাথে তুলনা টেনে এনে অনেক সময় মনের মধ্যে হিংসের একটা সুপ্ত বীজ রোপণ করে দেওয়া হয়। আর এই বীজ পরে বিষবৃক্ষ হয়ে মনের মধ্যে ক্ষোভ,হানাহানি এসব চিন্তা এনে দেয়। তাই তুলনা না করে নিজের উন্নতি নিজের গতিতে করা উচিত। মনের মধ্যে পজিটিভ চিন্তা রেখে অন্যের ক্ষতি না করে নিজের উন্নতি সাধনই লক্ষ্য হওয়া উচিত। কারণ সবার জন্যই একটা নির্দিষ্ট সময় নির্ধারিত করা থাকে,যে সময়ে তার কাছে সবকিছু আসবে। হিংসে করে সেই সময়কে এগিয়ে বা পিছিয়ে দেওয়া যায় না,বরং পরে এই হিংসের জন্য আত্মগ্লানি হয়,মনের মধ্যে ক্ষত তৈরি হয়। 

"সবুর করো,হিংসে কোরোনা! সঠিক সময়ে উন্নতি হবে আপনার
দ্বেষ বিদ্বেষের দ্বন্দ্বে আর মনের ক্ষয় হতে দিওনা  সবার।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

সোমবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২৪

শিরোনাম - স্নেহ✍️ ডা:অরুণিমা দাস

শিরোনাম - স্নেহ
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

মানুষ হোক বা মৎস্যজাতি, মা সদা সন্তানের জন্য ব্যাকুল
কোনো জাত হয় না মায়ের, চায় সে সকলের কুশল।

মাতৃস্নেহের স্নিগ্ধ ছায়ায় বাচ্চারা থাকে সবাই সুরক্ষিত
স্নেহের ধনের কষ্টে যে মা হন সদা ব্যথিত। 

জীবন যখন শুষ্ক মরুভূমি, বারিধারা হয়ে আসে মায়ের আশীর্বাদ
আগলে রেখো মাকে তুমিও, যেমন করে তিনি রাখেন! তবেই দূর হবে সব বিষাদ। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২৪

ফোবিয়া✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 ফোবিয়া
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

ভয়! সে তো অনেক রকমের হয়। ভূতের ভয়, বহুরূপী মানুষ থেকে ভয়, আত্মীয় স্বজনের কটূক্তির ভয়, আপনজন পর হয়ে যাওয়ার ভয়, শৈশবকে হারানোর ভয়, পরীক্ষায় পাশ না করতে পারার ভয়, বন্ধু হারানোর ভয়, উঁচু জায়গা থেকে পড়ে যাওয়ার ভয়,বন্ধ ঘরে আটকে পড়ার ভয়, আর আমার জন্য রোগীর বাড়ীর লোকের কাছে মার খাওয়ার ভয়! এই সব ভয়ের কবলে পড়ে মানুষের মধ্যে অনেক কিছু পরিবর্তন আসে। হিংসা আর সাম্যের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার অভাব দেখা যায়। কখনো ফুটে ওঠে নিজের অস্তিত্ব রক্ষায় মনের হিংস্র ভাব। স্বার্থপরতার প্রকাশ ও পায় কিছু কিছু সময়। এরপর না হয় রিপু দের দূরে সরিয়ে আমাদের শরীর কিভাবে ভয়ে সাড়া দেয় সেই নিয়ে একটু বিশ্লেষণ করা যাক।
ভয় পেলে শরীরে অ্যাড্রেনালিন এবং কর্টিসল নামে দুটি হরমোন উৎপন্ন হয়। এই হরমোনদ্বয় অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়,যা কিডনির উপরে অবস্থিত একটি ছোট্ট অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি। এই হরমোনগুলি শরীরের সব অংশে রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। 
ভয়ের কারণে শরীরকে বিপদের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত করা হয়। ভয়ের অনুভূতির কারণে মানুষের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন ঘটে,যা আচরণগত প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। তার জন্য আক্রমণাত্মক আচরণ করে মানুষ। ভয়ের মানসিক ও শারীরিক অনুভূতি কমাতে নিচের কৌশলগুলি অনুসরণ করা যেতে পারে। নিজেকে স্ট্রেস ফ্রী রাখতে গভীরভাবে শ্বাস নেওয়া, নিজের প্রিয় খাবার খাওয়া,ডার্ক চকলেট খাওয়া,ভয়ের উদ্রেক করে এরকম কোনো সিনেমা না দেখা,কোথাও ঘুরতে যাওয়া, প্রিয় গল্পের বই পড়া। হয়তো এর মধ্যেই কোথাও লুকিয়ে রয়েছে ভয়কে জয় করার উপায়। 

"ভয় পেয়েছো! সংকেত পেয়ে শুরু হয়ে গেছে হরমোনদের খেলা
স্ট্রেস ফ্রী রেখো নিজেকে, অ্যাড্রেনোকর্টিসলকে বুঝিয়ে দাও ঠ্যালা।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

সোমবার, ১১ নভেম্বর, ২০২৪

শিরোনাম - সাঁকো✍️ ডা:অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - সাঁকো
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

চাকুরী প্রার্থীরা সকলে দাঁড়িয়ে লাইনে অপেক্ষমান 
সহসা কেউ এসে সর্বাগ্রে ইন্টারভিউ দিতে পেলো স্থান।

অবাক চোখে তাকিয়ে আছে সবাই,ভাবছে একি হলো!
কেউ বললো পয়সার জোরে গুণমান সব জলে গেলো। 

টাকার সাকোয় ভর করে অযোগ্যরা পৌঁছচ্ছে সাফল্যের দোরগোড়ায়
বঞ্চিত তাই সুযোগ্য আজ, সামাজিক অবক্ষয়কে আটকানো দায়!!

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শিরোনাম - ছেঁড়া তার✍️ ডা:অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - ছেঁড়া তার
✍️ ডা:অরুণিমা দাস


দুর্গাপুজো শুরু হবার সময় মুখে যে হাসির রেশ ছিলো মাধবের আজ কালীপুজোর পরে সেই হাসি মিলিয়ে গেছে। কালীপুজোর প্যান্ডেলে ঢাক সহ বাকি জিনিস গোছাতে গোছাতে ভাবছিল একটা যদি স্থায়ী আয়ের ব্যবস্থা থাকতো তাহলে আজ এত কষ্ট থাকতো না জীবনে। তারপর প্যান্ডেলে সবাই বলাবলি করছিল এখন নাকি ডিজিটাল যুগ, ঢাকের বাদ্যি নাকি যন্ত্রে বাজানো যায়। এমনিতেই পুজো ছাড়া মাধবের কোথাও ডাক পড়েনা তার উপর যদি পুজোতেও আধুনিক যন্ত্রপাতি চলে আসে তার এই পেশাটাও চলে যাবে। কি ভাবে ছেলেটার পড়াশোনা চালাবে ভেবেই মনটা অস্থির হয়ে ওঠে। ঢাকটা যেনো তার দিকে করুনভাবে তাকিয়ে থাকে। মাধব তার পারিশ্রমিক বুঝে নিয়ে ঢাক কাঁধে করে বেরিয়ে পড়ে। যা পেয়েছে একমাসে সেই টাকায় বড়জোর আরেকটা মাস চলতে পারে। তারপর আবার সেই রোজের পয়সা রোজগারে ভিনদেশে নানা কাজে যাওয়া। এই কটাদিন ঢাকের যে বোল মনকে ভালো করে দেয় সেই ঢাক আবার পড়ে থাকবে নিঃসঙ্গ হয়ে। চোখ দুটোতে জল চিক চিক করে মাধবের। রাস্তায় যেতে গিয়ে পথের পাশে এক জায়গাতে চোখে পড়ে এক বহুরূপী খেলা দেখাচ্ছে,ভিড়ের মধ্যে মিশে সেই খেলা দেখতে দাঁড়ায় মাধব। খেলা দেখানোর শেষে বহুরূপী মাটি থেকে পয়সাগুলো কুড়িয়ে নিজের ঝুলিতে ভরছিলো। মাধবকে একা বসে থাকতে দেখে হাসিমুখে বলে কি হলো? বাড়ী যাবেনা? সবাই চলে গেলো তো! 
- যাবো,মনটা ভালো নেই। কাল থেকে অন্য কাজের খোঁজে বেরোতে হবে সেই নিয়ে ভাবছি। তুমি এত কষ্ট করে গান বেঁধে এই কটা টাকা পাও, তাও মুখে হাসি কি করে?
- আরে এর মধ্যেই ভালো থাকতে হয় ভাই। হাসতে ভুলে গেলে তো জীবনটা মলিন হয়ে যাবে। জীবনের তাল লয় বজায় রাখতে হলে হাসতে হবে যে রকম অবস্থায় থাকোনা কেনো। কাল থেকে পুজো হবেনা, ঢাক বাজাতে পারবেনা পয়সা আসবেনা ভেবে মন খারাপ কোরো না। কিছু তো কাজ আছে যেটা তুমি করে নিজেকে ভালো রাখতে পারবে। সেটাই করো। 
- মাধব ভাবে পয়সা উপার্জনের চাপে ভুলেই গেছে সে রান্নাটা ভালোই করে। মিড ডে মিলের কাজে নামতে মন তার চায়না কারণ ছেলে সেই স্কুলে পড়ে। কিন্তু এতো খারাপ লাগা তার থাকবেনা যদি নিজের ভালোবাসার কাজ টা সে মন দিয়ে করে। 
- ওঠো, এতো ভেবো না। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতে চললো।
হাসি মুখে মাধব উঠে পড়ে, বহুরূপীকে বিদায় জানিয়ে চলে নিজের বাড়ীর পথে। সে না হয় বহুরূপীর মতো খেলা দেখাবে না কিন্তু  নানা সাজে নিজেকে সাজিয়ে জীবনের ছন্দে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। তার টা বোধহয় ছিঁড়বে না এবার, জোড়া লেগে নিজের মতো করে বেঁচে থাকার সুর তুলবে। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৪

শিরোনাম - তকমা✍️ডা:অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - তকমা
✍️ডা:অরুণিমা দাস 

অন্যকে বদনামের ভাগীদার করে কখনোই নিজের সৎ চরিত্রের পরিচয় দেওয়া যায়না। এর চেয়ে বরং আত্মসমালোচনা করে নিজের উন্নতি করাটাই শ্রেয়। কেউ যদি খারাপ হয় বা খারাপ কাজ করে তাহলে সে এমনিতেই বদনাম হবে,তাকে আলাদা করে বদনামীর তকমা দেওয়া নিজের দায়িত্বে না নিলেই হলো। কাউকে খারাপ বলার আগে দশবার ভাবা উচিত 'আমি নিজে ঠিক তো?' তার চেয়ে বরং যে যেমন ভাবে চলছে সে তেমনভাবেই চলুক। সে খারাপ হলে এমনিতেই সমাজ তাকে চিনে নেবে। সবাই সমাজবদ্ধ জীব,এই সমাজের বাইরে কেউই নয়। কারোর ক্ষতি করে যেমন নিজের ভালো হয় না, তেমনি কাউকে বদনাম অপবাদ দিয়ে নিজেকে চরিত্রবান প্রমাণ করা যায় না। আর এই বিশ্ব ব্রম্ভাণ্ড যার নির্দেশে চলে সেই পরমকরুণাময় ঈশ্বরের কাছে কোনো কিছুই অজ্ঞাত নয়। তাই নিজের নিজের কাজ করে নিজেকে অগ্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া উচিত। নিজে ঠিক থাকলে কাউকে বদনাম করার প্রয়োজন পড়বে না,আর কেউ যদি তোমায় বদনাম করার চেষ্টা করে সেও বিফল হবে। তাই সৎপথে নিজের ও অন্যের ভালো চিন্তা করে সবসময় হাসিখুশি ভাবে জীবনে এগিয়ে চলা আবশ্যক।

"অন্যকে বদনামের ভাগীদার করে,হবে কি নিজে চরিত্রবান?
বরং নিজ উন্নতি আর ঈশ্বর চিন্তায় নিয়োজিত করো মনপ্রাণ।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

মঙ্গলবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৪

শিরোনাম - ভার✍️ ডা:অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - ভার
✍️ ডা:অরুণিমা দাস


কাজ করো আনন্দের সাথে, বোঝা ভেবোনা তারে 
বহন করতে হলে ভার,এগিয়ে চলো শক্তি মনেতে ধরে।

ক্ষুদ্র পিপীলিকা কাঁধে করে নিয়ে চলে পাহাড়কে
খুশি মনেতে করা কাজে ডরায় না সে কাউকে।

দরকারে কেউ যদি না আসে সাহায্যের তরে 
ত্রাতা হয়ে নিজেই সুরক্ষা দিও নিজেরে।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শিরোনাম - দুরত্ব✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - দুরত্ব ✍️ ডা: অরুণিমা দাস আধুনিকতা মানেই অন্যরকম একটা ব্যাপার, উন্নতির পথে এগিয়ে যাবার সিড়ি তৈরি করে দেয় আধুনিকতা। আজকাল কেউ আ...