সোমবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২১

সায়াহ্নে রামধনু রং



গল্প:সায়াহ্নে রামধনু রং

             

একপ্রকার না বলেই বাড়ি ছেড়েছি,অপর্না চলে যাবার পর থেকেই বাড়িটা কেমন যেন অচেনা লাগতে শুরু করেছিল।বৌমা মুখে কিছু না বললেও আমি বুঝতে পারছিলাম দিন দিন আমি একটা বোঝা হয়ে উঠছিলাম।নাতিটাকে নিয়ে বাকি জীবন কাটিয়ে দেব ভেবেছিলাম ভবিষ্যতে নামি একজন মানুষ বানানোর উদ্দেশ্যে ,ওকেও হোস্টেলে রেখে এল।প্রায় প্রতিরাতে সদর দরজা খুলে দেবার সময় ওদের মুখের তীব্র সভ্য সমাজের কটু গন্ধ আর ছেলের এই বয়েসে বাল্য কালের টলমল পায়ে চলা আমার ভালো লাগছিলো না।নিজের পেনশনের টাকা আর কিছু জমানো টাকা নিয়ে বেরিয়ে পড়েছি।কোথায় যাব জানিনা কালকা অব্দি টিকিট করেছি।যেখানে ভালো লাগবে নেমে যাব,সেখানেই বাকি জীবনের আস্তানা খুঁজে নেব।

      গাড়ি আসানসোল ছেড়ে বেরিয়েছে।আজকে ট্রেনটা এখন অব্দি বেশ ফাঁকা,আমার  লোয়ার বার্থ,ওপরে দুজন ব্যবসায়ী ট্রেনে উঠেই শুয়ে পড়েছে এখন রীতিমতো নাক ডাকছে,আমার ঠিক মাঝের বার্থে এক বাবাজী গোছের মানুষ বুকের উপর জপমালা নিয়ে চোখ বন্ধ করে মালা জপছে।সাইড সিটে দুই নব দম্পতি নিজেদের মধ্যে খুনসুটি করে চলেছে, বোধহয় হানিমুন কাপল, ওদের দেখে নিজের ফেলে আসা দিনটা খুব মনে পড়ছিল।আমরা সেবার হানিমুনে পুরী গিয়েছিলাম,ট্রেনে সারা রাত জেগে অপর্ণা আর আমি গল্প করে কাটিয়েছিলাম।আমার চিন্তায় ছেদ পড়ে দরজার কাছে চেকারের উচ্চস্বরে কথাবার্তা কানে আসে,কোনো এক মহিলাকে উনি বলছিলেন

দেখুন এটা AC কোচ এখানে উঠেছেন কেনো আপনার টিকিট তো জেনারেল,তাও আবার এক্সপ্রেস নয়।আমি আপনাকে ফাইন করতে পারি ,শুধু আপনার বয়েস কে সম্মান জানিয়ে বলছি সামনের স্টেশনে নেবে যান ,এই কোচে আপনাকে এলাউ করব না।

মহিলা কাকুতি মিনতি করে বলতে থাকে বাবা তুমি আমার ছেলের বয়সী এই অন্ধকার স্টেশনে আমায় নামিয়ে দিওনা বাবা।আমার একটু শ্বাসকষ্ট আছে ।আমি জেনারেলে উঠেছিলাম ওখানে গরম আর ভিড়ে বড্ড কষ্ট হচ্ছিল।আমি এই বাথরুমের পাশটিতে বসে থাকব কারো অসুবিধা করব না।সোনা আমার আমায় নামিয়ে দিও না।

চেকার শোনার পাত্র নয় সে তার ডিউটি যাত্রী নিরাপত্তা জাতীয় কথা বলতে থাকে।আমি এগিয়ে যাই।মহিলাকে দেখে চমকে উঠি মুনু তুমি।মহিলা চকিতে আমার দিকে তাকিয়ে চমকে ওঠে একবার,তাড়াতাড়ি ব্যাগ নিয়ে চেকার কে বলে "ঠিক আছে বাবা আমি সামনের স্টেশনে নেমে যাচ্ছি।"আমি বলে উঠি মুনু তুমি আমায় চিনতে পারছ না আমি টুকু।চেকারের দিকে তাকিয়ে বললাম ওনাকে কোথাও নামতে হবে না।আপনি একটা এখানেই টিকিট করিয়ে দিন,গাড়ি ফাঁকাই ছিল আমার সামনের সিটে মুনুর রিজার্ভেশন হয়ে যায়।

      এখন মাঝরাত গাড়ি প্রচন্ড গতিতে ছুটে চলেছে।নববিবাহিত দম্পতি দুজন দুজনকে ধরে একই সিটে ঘুমিয়ে আছে।মুনু আবার বলতে শুরু করে, বাবা স্বপনের সঙ্গে আমার বিয়ে দেবার পর স্বপনকে ব্যবসায় অনেক সাহায্য করে,আমি একমাত্র মেয়ে বলে আমাদের বাড়িটা বাবা আমার নামেই করে দিয়েছিলো।প্রথম দু বছর ভালই কাটে কিন্তু পরে আমি জানতে পারি আমি সন্তান ধারণে অক্ষম,ইতিমধ্যে বাবার মৃত্যু হয়েছিল ব্যবসার প্রয়োজনে টাকার দরকার,আমার নামে বাড়ি সেটা বন্ধক দিয়ে টাকা পাওয়া সম্ভব নয় জেনে বাড়িটা স্বপনের নামে করে দিই।কিন্তু বাচ্চার অভাবে স্বপন আর আগের মতো আমায় ভালোবাসতে পারে না।একদিন ও আবার বিয়ে করল,আমার কষ্ট হলো কিন্তু মনে মনে ভাবলাম সত্যি তো ওর ও তো বংশধর দরকার।শুধু নিজের স্বার্থ দেখলে হয়।দ্বিতীয় পক্ষে এক ছেলে এক মেয়েকে আমি বুকে টেনে নিলাম।নিজের অতৃপ্ত মাতৃত্ব দিয়ে ওদের বড় করে তুলতে থাকি।যদিও সংসারে আমাকে ব্রাত্য হয়েই থাকতে হত।ছেলের বিয়ে হলো আমার পরিচয় ওদের কাছে অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।আমার স্বামীর কাছেও আমার পরিচয় একটা লজ্জার কারণ হয়ে উঠছিলো।তাই একদিন স্বপন আমার হাতে কিছু টাকা দিয়ে আমার বাবার বাড়ি থেকে আমায় তাড়িয়ে দিলো।ওটা তখন তার বাড়ি।এখানে ওখানে ঘুরে বেড়িয়ে একটা আশ্রয় খুঁজতে গিয়ে সেই স্বল্প টাকাও শেষ হয়ে গেলো।কপর্দকশূন্য অবস্থায় যেটুকু টাকা ছিল তাই দিয়ে এই টিকিট কেটে ট্রেনে চড়ে বসলাম।জানো টুকু আজ দুদিন আমি কিছু খেতে পায়নি।মুনু কান্নায় ভেঙে পড়ে।আমি ওর দুটো কাঁধ চেপে ধরি।এই সেই মুনু সুন্দরী তরুণী কলেজের সবথেকে চঞ্চল মেয়েটা,যাকে দেখে আমি পাগল হয়েছিলাম।ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে ছিলাম,ও প্রত্যাখ্যান করেনি,কিন্তু আদরের দুলালী বড়লোকের একমাত্র মেয়ের যোগ্য আমি সেদিন হয়ে উঠতে পারিনি।আমার প্রেম একদিন আমার থেকে দূরে চলে গিয়েছিল।আমার নিঃসঙ্গ জীবন শুধু হাহাকার করে কেঁদে ছিলো।আজ আবার আমার নিঃসঙ্গতা র সঙ্গী হয়ে এসে দাঁড়িয়েছে সেদিনের সেই খাঁচা থেকে উড়ে যাওয়া আমার প্রেমের চন্দনা।আমি বলি মুনু আজ তুমিও একা আমি ও একা দুজনেই নিরুদ্দেশের পথিক। আমরা আবার দুজনে দুজনের সঙ্গী হয়ে উঠতে পারিনা।জীবনের সব চাওয়া পাওয়ার পথের শেষে আর একবার বাঁচতে পারিনা।মুনু ছলছল চোখে আমার দিকে তাকিয়ে থাকে।

      ভোরবেলায় ট্রেন থেমেছে কোন এক অচেনা অজানা স্টেশনে।লালমাটির সরু রাস্তা ধরে এগিয়ে চলে দুই প্রেমী শেষের পথে যাদের চলার শুরু।গাড়ি সিটি দিয়ে স্টেশন ছেড়ে রওনা দেয় নতুন গন্তব্যের পথে।পিছন ভুলে তার তো সর্বদাই নতুনকে খুঁজে ফেরা।

                 ------- সমাপ্ত------

কপিরাইট@রিজার্ভ ফর সৌগত মুখোপাধ্যায়।

রবিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২১

# বিষয়- বিজ্ঞান। #নাম- জীবন জিজ্ঞাসা। মৃদুল কুমার দাস।

# নাম- জীবন জিজ্ঞাসা'
    (বিজ্ঞান বিষয়ক)
          পর্ব- ৬

✍  - মৃদুল কুমার দাস। 


     সৌর পরিবার। সূর্য হলেন কর্তা। তারই সঠিক পরিচালনায় পৃথিবী আজ পৃথিবীতে আছে -  প্রকৃতিরাজ্য তাঁর দৌত করে। তঁর অভিভাবকত্বে আমরা চালিত।
   তাঁর ভেতরকার আলোকশক্তি, তাপশক্তি অবিরাম গতিতে মহাকর্ষীয় তরঙ্গ হয়ে আমাদের কাছে আসছে। তিনি পাঠাচ্ছেন।
  এক মহান দায়িত্ব নিয়ে তার পরিবারের ন'টি গ্রহ(দশও বলা হয়)কে ধরে রেখেছেন। সকলকে নিজের চারদিকে ঘুরতে বাধ্য করছেন। এঁরা কিভাবে সৃষ্টি হয়েছিল সে ইতিহাস অজানা নয়। তবে তাঁদের সূর্য তাঁর চারদিকে ঘোরাচ্ছে কীভাবে তা জানতে পারি মহাকর্ষীয় তরঙ্গের আকর্ষণ বলের স্বরূপ থেকে। যেমন করে পৃথিবীকে ঘোরাচ্ছে, বাকিদেরও ঠিক একি নিয়মে
  পৃথিবীর ঘূর্ণণের ফলে দিন রাত্রি হচ্ছে। পৃথিবী ঘুরছে বলে সূর্যের মহাকর্ষীয় তরঙ্গে নিক্ষেপিত তাপশক্তি ও আলোকশক্তি সমানভাবে সবপ্রান্ত পায়না বা সমহারে বন্টনের সুযোগ পায়না। কোথাও উষ্ণতা বেশি, কোথাও কম, কোথাও নাতিশীতোষ্ণ। তাই তো দেশভেদে জলবায়ুর পার্থক্য লক্ষনীয়। এতো সব অলৌকিক ঘটনা সূর্য ঘটাচ্ছে বলে তাই পুরাণে সূর্য হলেন দেবতা।
  পৃথিবীকে বলা হয় মহাকর্ষীয় তরঙ্গে সূর্যের আদুরে কন্যা। সূর্য পিতা। আর আমদের কাছে পৃথিবী মাতা ধরিত্রী। প্রাকৃতিক ঐশ্বর্য দিয়ে আমাদের মাতা ধরিত্রী রক্ষা করছেন।
  সূর্যের পুরুষকার রোষ থেকে রক্ষা করতে কত প্রকার বায়ুমন্ডলকে ছাকনি করে সূর্যের রোষ থেকে অতি যত্নে রক্ষা করছেন আমাদের। মাতা ধরিত্রীর অবস্থান একটু এদিক ওদিক হলে কি হতো ভাবুন তো! বাকি গ্রহদের যেমন অবস্থা পৃথিবীরও তাই অবস্থা হতো।
   মাতা ধরিত্রীর কর্মলীলার কি আর শেষ আছে! কত লীলাই না ঘটছে চোখের সামনে। তার অপত্য জীব ও জড়কে নিয়ে। যেমন -
  প্রথমে ধরা যাক সাপেদের কথা। সাপেদের বিষ ধারণের ক্ষমতা দেওয়া হলো। আবার ধরণী যাতে বিষময় না হয়ে ওঠে তার রক্ষাকবচ হিসেবে সাপ সাপকে খাবে। পৃথিবীকে বাঘের হিংস্রতা থেকে বাঁচাতে বাঘের বারো বছর অন্তর একটি করে বাচ্চা প্রসব করবে।
  অনুরূপভাবে সামান্য থেকে অসামান্য জীবকে যে যার কর্মে যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। যে যার কর্মে মহীয়ান। যেমন মশা,মাছি, পিঁপড়ে,ভ্রমর... কারো কর্ম সামান্য নয়। আর সবার মূলে মানুষের মাতব্বরি বড় আশ্চর্যজনক!
  জীবের উপর তো বটেই জড়ের উপর করে নিজেদের কেমন দেখানেওয়ালা করে তুলেছে,সে আর বলতে!
   জড় বস্তুর উপর আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মানুষের কর্মের কি অপূর্ব নৈপুণ্য! পরমানুচর্চায় সেই নৈপুণ্যের কথায় আসা যাক তাহলে। পরমানু শক্তি থেকে পরমানু বোমা কীভাবে এসেছে,পরমানু বোমা মানব সভ্যতার ইতিহাসে এক কলঙ্কময় অধ্যায় কিভাবে হয়েছে,এর মূলে দায় কার,তাই নিয়ে হবে পরের আলোচনা।
         (চলবে)

         #____#


বিষয় #সমালোচনা (অনুগল্প)নাম#হানিমুনে মজা বাকি #লেখায় : শর্মিষ্ঠা ভট্ট

 বিষয় : সমালোচনা (অনুগল্প) 


নাম : "হানিমুনে মজা বাকি"

লেখনী : শর্মিষ্ঠা ভট্ট

 চন্দনা মাথায় চলে এলো 🌹তাই আজকের বিষয় চন্দনার বৌভাত এবং ওর আড়ালে থাকা ফুলশয্যা, এবং তার মাঝে দাঁড়ানো দরজার ওপরেই লিখলাম 🚪


বিশাল রায় পরিবার, নববধূ কুমুদিনী। বারো বছরের মেয়ে ঘুমে ঢুলছে  ষোল বছরের তার বর হুড়হুড় করে ঘরে ঢুকল। বোধহয় তাকে জামাইবাবু ছোট মামা এবং এঁচোড়ে পক্ক বন্ধুরা ধাক্কা মেরেছে দরজার ওপাশ থেকে। বনেদী ঘরের শেগুনের দরজা ধরে নিজেকে সামলে নিল সে সাথে ধুতি। নববধূটির কাছে মান বাঁচিয়ে একটু গম্ভীর হয়ে চৌকাঠ থেকে দুপা এগিয়েছে, পিছনে মহিলা কুলের কল্লোল শুনল। 

ভ্যাবাচ্যাকা কুমুদিনীর বর রামকৃষ্ণ কিছুতেই আর এগোতে পারলো না। দরজা দিয়ে পালানো অসম্ভব। বৌদিরা মাসি দিদি সব ঘিরে আছে। অসহায় লজ্জায়  রামের পিঠ দিয়ে ঘাম ঝরছে। আর কুমুদিনী! লাল চেলির আড়ালে মজা নিচ্ছে। একবছর ধরে দিদি বৌদি মা, সর্বোপরি সখী বামার সোহাগ ও এই রাতটির গল্প শুনে শুনে মানসিক তৈরি সে। সে জানে ভয় পেতে নেই। খালি খালি ছেলেটা মানে তার সদ্য হওয়া বর ঘাবড়ে গেছে। তাকে দেখেও লোক ঘাবড়ায় জেনে বেশ মজা হচ্ছে। তবে দুধ যে ঠান্ডা হয়ে গেল। এটা দিয়ে সে খুব ঘুমতে চায়। তার কাজ শেষ। দরজা ওপাশ থেকে দড়াম করে বন্ধ হয়ে গেল। বড়ো দিদি চেঁচালো " রাম, এ দরজা কাল খুলবে যখন বাবু দরজা খোলার দাম দেবেন " । অসহায় রাম বাবার অধীনে, কখন ওরা মনের মতো দাম পাবে, কখন খোলা পাবে! তার থেকে বৌটার সঙ্গে গল্প করা যাক। ও কি শরৎচন্দ্রের নভেল পড়েছে! এগিয়ে যায় রাম কুমুদিনীর রজনী গন্ধা মোড়া খাটের পাশে। 


"দিদা এটাই এখন ট্রেন্ড গো " আশির দশকে বিয়ে করা কুমুদিনীর নাতি সাগর বলেছিল। " কিন্তু দাদু ভাই দরজার পাশে আড়ি না হলে মজা কি! " " দিদা প্লিজ আজ নয়। আজ নীলাঞ্জনা আর আমার মাঝে কেউ না। তুমি একটু সামলাও। " অগত্যা মৃদু হেসে কুমুদিনী ডাক দিল দরজা ধরা ওই দলের নেতৃত্বে ছোট মেয়ে বন্যাকে। ভাইপো ভাইঝি থেকে দাদা বৌদি মহলে প্রিয় ব্যাঙ্ক ম্যানেজার বন্যা। নিজে চিরকুমারী কিন্তু কত দরজা ধরায় সেই যে লিড রোল প্লে করে! শেষে ছোট ভাইপোর কাছে এসে এই মহান প্রথা যে থামাতে হবে তাতে ভীষণ আপ সেট। সাগরের অতি সজ্জিত বেলের মালার ফুলশয্যার ঘরের দরজা দুড়ুম  করে খুলে দিয়ে দুড়দাড় ওপরে নিজের ঘরে বিছায় পড়ে কাঁদতে গেল। অবশ্য দরজার এই অতি উৎসাহের গেমটা আবার একদিন খেলতে দিয়েছিল সগর, ওর বিবাহ বার্ষিকিতে। তবে ফুলশয্যার দিনে সাগর দৃঢ় ছিল নিজের স্পেশাল দিন সে নষ্ট করবে না। গ্যাদা লোকের সময় এটা নয়। এ শুধু তাদের। 


সবাই চলে গেল রিসেপশন শেষে হোটেলের ঘর ফ্রেস ল্যাভেন্ডার আর অর্কিডে বিন্যস্ত। রিতি মতো প্রফেশনাল হাতে সাজানো। চারিদিকে একটা রয়েল ভাব, রূপালী পর্দার মতো নিখুঁত সমস্তই। লাল গোলাপের লাভ সাইন সামনে, দামি ওয়াইন আর স্কচ। তোয়ালে দিয়ে ময়ূর বানানো। বাথরুমে সুগন্ধি মমবাতি। হাল্কা ইংলিশ গান, ঠিক ইংলিস না স্প্যানিশ। হোটেলের দরজা বন্ধ করে ঋভু এগিয়ে এসে গাড়ো চুম্বন এঁকে দিল। ততক্ষনে সগরের মেয়ে তিয়া ঋভুর নতুন বৌ বারমুডা পড়ে সেল্ফি নিচ্ছে ওদের নিজস্ব মুহুর্তের, বন্ধু মহলে আপডেট করতে হবে। জড়িয়ে ধরার দৃশ্য ঠিক মত না হলে আবার, রিটেকে জড়িয়ে ধরছে ঋভু। ব্যাঙ্গালোরের দামী ইঞ্জিনিয়ার সে। কাল সকালে মরিশাস হানিমুন। 

এই রাত আত্মীয় বন্ধুদের অত্যাচার থেকে বাঁচতে। কিন্তু তিয়া নক আউট ,ঋভু হবে হবে করছে।তাতে কি হানিমুনে মজা বাকি। 

এখুনি দরজা খুলবেন না চন্দনা কেমন আছে!!আপনাদের দেখে উচ্ছসিত হয়ে "হানিমুনে মজা বাকি" করে পিয়ালীর গানে নাচতে পারে। কিংবা দরজায় এমন জং ধরল হয়ত আর খোলাই গেল না। 

এপাশ থেকে রজতদা হয়ত গাইবেন - হাম তুম এক কাছে মে বন্ধ হো অউর চাবি খো যায়। 

©কপিরাইট সর্তাধিকারী শর্মিষ্ঠা ভট্ট।

বিষয় # নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৫ জন্মজয়ন্তী। লেখায়# শর্মিষ্ঠা ভট্ট।।

 তুমি আসছো তো? 



জাপানের সম্রাট হিরোহিতো যখন সর্ত সাপেক্ষ আত্মসমর্পণ ঘোষণা করে দিল তিনি বুঝেই নিলেন জাপন তার পক্ষে আশাহীন দেশ। কমিউনিস্ট চীন ও রাশিয়ার শক্তি তাকে নতুন আশা জাগাচ্ছিল। আবার নতুন করে শুরু করতে হবে। আন্দামান ও ইম্ফলে পৌঁছে আজাদ হিন্দ ফৌজ দেশের মধ্যে যে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে তা তিনি সিঙ্গাপুরে বসেই অনুভব করছিলেন। কিন্তু আমেরিকান বোম্বিং তাকে ভাবাচ্ছে। সিঙ্গাপুরের প্রভুত সম্পত্তি সমর্থন ও সম্মান পেয়েও আবার অনির্দিষ্ট পথে পাড়ি। ওর শুভাকাঙ্ক্ষীদের সমবেত ইচ্ছা তাই। তিনি যে নেতাজি, তাঁকে আরও অনেক পথ চলতে হবে। 

(©কপিরাইট সর্তাধিকারী শর্মিষ্ঠা ভট্ট) 

জাপান সাড়া না দিলে এশিয়ার অন্য দেশে তাঁকে পৌছাতে হবেই। অবশেষে সায়গন বিমানবন্দরে একটা মিতসুবিশি কে আই ২১ হেভি বোম্বার মিত্ররা ,  ছোট্টো করে যাকে "স্যালি "ডাকা যায় । ওদের জন্য অপেক্ষায় ছিল। পরাজিত জাপানের এক সেনাধ্যক্ষ নিজের বল লাগিয়ে আই এন এ গোষ্ঠীর জন্য শুধু এটুকু করতে পেরেছিলেন। কেবল তখনও তারা মিস্টার বোসকে নিজেদের একজন ভাবে। 


১৯৪৫ , ১৮ আগষ্ট তাঁর সঙ্গে রয়েছে কর্নেল হাবিবুর রহমান, এস এ আয়ার, আবির হাসান। আর সিঙ্গাপুর থেকে আনা দুই সিন্দুক ভর্তি সম্পত্তি। জাপানী সেনাবাহিনীর জেনারেল সুনামাসা শিদেই। তাই হুকু বিমানবন্দর থেকে একটু দূরে যন্ত্রের গোলযোগের ভেঙে পড়ল বিমান। সময় তখন দুপুর দুটো আড়াইটা। 

ধ্বংস স্তুপ থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু দাহ্য জ্বালানি তার দেহের ওপরের ভাগ এমন পুড়িয়ে দিল... নানমন হাসপাতালে (তখন জাপানের অধিকারে) রাত নটা দশটায় মারা গেলেন। তাইহুকুতে সৎকার তারপর  টোকিও স্থিত রেনকোজি মন্দির প্যাগোডায় রক্ষিত চিতাভস্ম। আর মন্দির চত্বরে এক স্মারক মূর্তি। তাঁর পথের সমাপ্তি??? না তার পরেই তাইহুকু থেকে ভারতে তার দীর্ঘ পথ চলা বাকি।👣সিঙ্গাপুর ✈ব্যাঙ্কক ✈হো চি মেন সিটি ✈সায়গন  ✈ তৌরণ (ভিয়েতনাম) ✈তাইহুকু (তাইওয়ান)✈ দাইরেন বা দালিয়ান( চীন)  ✈টোকিও (জাপান) ।    

তার পথের তালিকায় তাইহুকু সমাপ্তি!!??বাকি পথ চলছে  ভারতের অগনিত দেশবাসী, যারা আজও আবেগে ভাসতে জানে। 

🇮🇳🇮🇳🇮🇳🇮🇳🇮🇳

 

বিষয় # আধ্যাত্মিকতা (রবীন্দ্র চেতনায় আধ্যাত্মিকতা) লেখায় # শর্মিষ্ঠা ভট্ট

 বিষয় # আধ্যাত্মিকতা (রবীন্দ্র চেতনায় আধ্যাত্মিকতা) 

লেখায় # শর্মিষ্ঠা ভট্ট



রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের  সাহিত্যে তাঁর চেতনার রঙ পান্না হয়ে উৎভাসিত হয়েছে। সে পান্নার দ্যুতি সুন্দর থেকে সুন্দরতমের দিকে ধাবিত। সৌন্দর্য ও প্রকৃতি প্রেম তাঁর আধ্যাত্মিক বোধের নিরন্তর অভিযাত্রা। তাইই প্রকাশ পেয়েছে তাঁর কাব্য সাহিত্যে। মানবতার উদার দৃষ্টি মেলে তাই বলেছেন " যদি প্রেম দিল না প্রানে, কেন ভোরের আকাশ ভরে দিলে এমন গানে গানে। "

তাই আধ্যাত্মিক বোধের সাথে মানবতা প্রকৃতি সৌন্দর্য প্রেম ও ভারতীয় সংকৃতিবোধ একেকার হয়ে গেছে। আধ্যাত্মিক বলতে তিনি নির্গুণ আনন্দ এক সত্ত্বাকে সর্বদা খুঁজে ফিরেছেন, সেই সত্ত্বা যা তাঁকে চালনা করায়। যে সত্ত্বা তাঁকে অসীম অনন্তের দিকে নিয়ে যায়। বিশ্বায়নের পথের পথিক তিনি। রবীন্দ্র সাহিত্যে এই সত্ত্বা  "জীবনদেবতা "হয়ে তাঁর সকল চিন্তাকে বয়ে নিয়ে গেছে রূপ থেকে অরূপের পথে। 

ব্রাম্ভ চিন্তাধারায় পালিত রবীন্দ্র মনন আকারহীন নিরাকারে ধাবিত হয়েছে। বৈষ্ণব চিন্তনের প্রভাব তাঁর প্রেম পর্বের কবিতা , বলতে গেলে সারা সাহিত্যে এক এবং অদ্বিতীয় এক পুরুষোত্তমের দিকে ধাবিত। বৌদ্ধ আধ্যাত্মিক ভাবনার ধ্যান ও কল্যাণকামী মানবতা বৈষম্যহীন উদারতা তাঁকে আকৃষ্ট করেছে। শান্তিনিকেতনে তাঁর শিক্ষা দর্শনে সেই আশ্রম ধ্যান ও বিশ্বচেতনার প্রতিচ্ছবি দেখা যায়। রবীন্দ্র দর্শনে তাই

এক কল্যাণময় স্নিগ্ধ চেতনা উন্নতর কোন এক অচীন পথে এগিয়ে নিয়ে চলে। দুঃখের থেকে পলায়ন নয়, দুঃখ থেকে দুঃখে কর্ম এবং জীবনের স্তরে স্তরে উৎসারিত আলোর পথে তাঁর যাত্রা। দেহকে তিনি মন্দির করে সেখানে খুঁজেছেন দেবতা, তাঁর মনে , " আমার মাঝে তোমার লীলা হবে, তাই তো আমি এসেছি এই ভবে। " 

অনেক বড়ো হয়ে যাচ্ছে। এখানেই শেষ করি। উপনিষদের মন্ত্রে জাগ্ৰত সেই ঋষি ধীমানের আধ্যাত্মিক চেতনা শান্ত এক যাত্রা। যেখানে সৃষ্টির মাঝে ছুঁতে চেয়েছেন অসীমকে "দাঁড়িয়ে আছো তুমি আমার গানের ওপারে/আমার সুর গুলি পায় চরন, আমি পাইনে তোমারে। " তাই চলতে হবে। তিনি চরৈবতী মন্ত্র দিয়ে গেছেন। 

ধন্যবাদ🙏

©কপিরাইট সর্তাধিকারী শর্মিষ্ঠা ভট্ট।

বিষয়: রবীন্দ্রচেতনায় আধ্যাত্মিকতা-শুভ্রজিত চক্রবর্তী

যদিও রবীন্দ্রনাথ কবি ছিলেন, কিন্তু উনাকে বা উনার লেখা গুলোকে অধ্যাতিকতার সাথে যুক্ত করা যায়। অনেকের মতে, উনার প্রতিটা লেখায় নিগূঢ় অধ্যাতিকতা রয়েছে। তাঁর সমগ্র চেতনার মধ্যে অধ্যাতিকতা রয়েছে। রবীন্দ্রনাথ এর বিভিন্ন লেখা বা বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যে উনি অরূপের সাধনাকেই অধ্যাতিকতা বলেছেন। উনার মতে " *আধ্যাত্মিক সাধনা কখনোই রূপের সাধনা হইতে পারে না। তাহা সমস্ত রূপের ভিতর দিয়া চঞ্চল রূপের বন্ধন অতিক্রম করিয়া ধ্রুব সত্যের দিকে চলিতে চেষ্টা করে। ইন্দ্রিয়গোচর যে কোনো বস্তু আপনাকেই চরম বলিয়া স্বতন্ত্র বলিয়া ভান করিতেছে, সাধক তাহার সেই ভানের আবরণ ভেদ করিয়া পরম পদার্থকে দেখিতে চায়।* "
এটা বলার অবকাশ রাখে না যে বহির্ভারতের তুলনায়, বঙ্গ অনেক বেশি ধর্ম সহিষ্ণু। এর কারণ হিসেবে কবিগুরুর অবদান কিছুটা হলেও আছে। কবিগুরু একাধারে যীশু, বৌদ্ধ, হযরত মুহাম্মদ ইত্যাদি সবাইকে নিয়ে লিখেছেন। তাঁর এই ধরণের সাহিত্য চর্চার জন্যই আজ বাংলার সাহিত্যিকরা ধর্মনিরপেক্ষতা বজায় রাখতে পেরেছেন। বিশ্বের সাহিত্য মঞ্চের সামনে বাংলার এই ধর্মনিরোপেক্ষিতা একটা আলাদা সম্মান পায়। এর জন্য আমরা কবিগুরুর কাছে চিরকৃতজ্ঞ।

তাঁর চিন্তাধারা ছিলো আধুনিক। উনি সবসময় মানবতার পক্ষে কথা বলতেন। ভারতে জন্মনিয়ন্ত্রণ নিয়ে যখন ভাবা হচ্ছিল, তখন গান্ধীজি বলেছিলেন যে মানুষের জন্ম ঈশ্বরের হাতে, এটাকে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত না। কবিগুরু তখন গান্ধীজির তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন।

আধ্যাত্মিকতাকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কবিগুরু বলেছেন, " *আধ্যাত্মিকতায় আমাদের আর কিছু দেয় না, আমাদের ঔদাসীন্য আমাদের অসাড়তা ঘুচিয়ে দেয়। অর্থাৎ তখনই আমরা চেতনার দ্বারা চেতনাকে, আত্মার দ্বারা আত্মাকে পাই। সেই রকম করে যখন পাই তখন আর আমাদের বুঝতে বাকি থাকে না যে সমস্তই তাঁর আনন্দরূপ।*"
আজ এইটুকুনিই, সবাই ভালো থাকবেন, শুভ সন্ধ্যা।

শনিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২১

 #বিষয়: অণুকবিতা

#নাম: *বীরসন্তান নেতাজী*

#✍: অঙ্কিতা


ভারতবর্ষের বীরপুত্র, সুভাষ যার নাম

রক্তে যার দেশভক্তি, সর্বদা বিরাজমান।

ভারতবর্ষ স্বাধীন আজ, যার বিপ্লবীমন্ত্র!

তাঁর আর্দশে উজ্জীবিত, সমগ্র সমাজতন্ত্র।


রক্তের বিনিময়ে স্বাধীন ভারতের উক্তি

চরমপন্থী মনোভাব রক্তে ঔজ্বল্য দেশভক্তি!

বিশ্বভ্রমণ করেছে শান্তি শক্তির খোঁজে

সত্যের মহাগ্রন্থে, পুর্নগঠন আজাদহিন্দ্ ফৌজে।


তুমি নেতাজী, তুমি কিংবদন্তি, 

তুমি সর্বাধিনায়ক

গোটা ভারতবর্ষ গর্বিত আজ, 

তোমার ইতিহাসে, তুমি দেশনায়ক।।


তোমার মতো কান্ডারী আজ

বেহাল দেশের ধরুক হাল,

ফিরে এসো সুভাষ তুমি

তোমাকে যে আজ বড় দরকার।


নতুন করে চেতনা জাগাও

বিপ্লবʼতে মুক্তি আসুক,

ভারত আবার নতুন করে

স্বাধীনতাʼর স্বপ্ন দেখুক।

আজ শতাব্দী পরেও যুবসমাজের জোশ

আজাদহিন্দ ফৌজ ও নেতাজী সুভাষ বোস।।

©Copyright reserved for Ankita Paul

# নাম- নেতাজী সুভাষচন্দ্র স্মরণে। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।

# নাম-  *নেতাজী সুভাষচন্দ্র স্মরণে*
  ✍ - মৃদুল কুমার দাস। 

     
                           (১)  
   **আধ্যাত্মিক চেতনায় সুভাষচন্দ্র :-
 সিমলা পল্লির 'বিলে',আর কটকের 'সুবি'র মধ্যে মিলের ফর্দ বিরাট। সেই কথা স্মরণে প্রথমে স্বামীজীর কথা দিয়ে শুরুর  কথা এই-
  বিপ্লবের বড়দা হেমচন্দ্র ঘোষ স্বামীজীর কাছে ১৮৯৭ এ ধর্মকথা শুনতে গিয়ে স্বামীজীর কাছে নির্দেশ পেয়েছিলেন - "যে কোনো উপায়ে ভারতমাতাকে আগে বিদেশীদের হাত থেকে মুক্ত কর,তারপরে হবে ধর্মকথা। আগামী ৫০ বছর একমাত্র উপাস্য হোক ভারতমাতার মুক্তিসাধনা...।" এবার আসি স্বামীজী ও সুভাষচন্দ্রের মধ্যে মধ্যে মিলের গুটিকয় কথায়। যেমন- 
সদ্য সুবি যখন পাঁচ বছর তখন স্বামীজীর মহাপ্রয়াণ(১৯০২) ঘটে। আর কৈশোর উত্তীর্ণ ১৩ বছরের যুবক সুবি নরেনের মত একটা দল বানিয়ে,সদলবলে গেরুয়া বসন ধারণ করলেন। ঠিক যেমন গুরুভাইদের নিয়ে নরেন যেমন ঘর ছেড়েছিলেন,সুভাষও তেমনি সদলবলে ঘর ছেড়ে গেরুয়া বসন পরে গঙ্গার ধারে ৺ভরত পোদ্দারের খালি বাড়িতে সন্ন্যাসীর কৃচ্ছ্রসাধন শুরু করেছিলেন। ঠিক নরেন্দ্রনাথ দত্তের মতো। পরে হেমচন্দ্র ঘোষকে বলেছিলেন- "ভারতবর্ষকে আমি ভালবেসেছি বিবেকানন্দ পড়ে। আর বিবেকানন্দকে আমি চিনেছি নিবেদিতার লেখায়।"
 আরও যেমন কটকে থাকাকালীন ঠাকুরের ভাবাদর্শে সমমনস্কদের নিয়ে রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রম বলে একটি আশ্রম চালাতেন সুভাষ। সেখানে স্বামীজীর মতোই দুঃস্থদের সেবা করতেন,জীব সেবা শিব সেবা আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে। অসুস্থ, প্রিয়জন পরিত্যক্ত অসুস্থতার সেবা,কলেরা,বসন্ত রোগীর পাশে দাঁড়ানো,গ্রামেগঞ্জে গিয়ে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা সবই সেবার আদর্শে নিজেকে নিবেদন করতেন। 
 আর কলকাতায় এলে বেলুড়-দক্ষিণেশ্বরে অনবরত যাতায়াত করতেন। মা ভবতারিণীর পায়ে নিজেকে সমর্পণ করে দিতেন।
   কিশোর সুভাষ মাকে লিখেছিলেন- "যদি মানুষ জন্ম লাভ করিয়া,মানুষ জীবনের উদ্দেশ্য না সফল করিতে পারিলাম - যদি গন্তব্যস্থলে পঁহুছিতে না পারিলাম তবে আর কি হইল? যেমন সকল নদীর গন্তব্যস্থান - ঈশ্বর। যদি মানুষ ঈশ্বর লাভ না করিতে পারে তবে মানুষ জন্ম বৃথা - আর পূজা,জপ,ধ্যান সবই বৃথা - সব কেবল ভন্ডামী। এখন আর বাজে কথায় সময় নষ্ট  করিতে ইচ্ছা হয় না। ইচ্ছা হয় কেবল একটা ঘরে বন্ধ হয়ে থাকি। আর সমস্ত রাত ধ্যান চিন্তা এবং পাঠে অতিবাহিত করি।" 
  নরেন্দ্রনাথের মতো সুভাষচন্দ্রও সুগায়ক ছিলেন। 
কথাগুলো নরেন্দ্রনাথের সঙ্গে বহু মিলের কথা শুনে আমাদের আহ্লাদ হয় কি,না হয় না!
 স্বামীজীর অগ্নিবাণী মন্ত্রে দীক্ষিত সুভাষ বাড়ীর অজান্তেই এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে সটান হিমাচল প্রদেশে গেলেন সদগুরুর সন্ধানের অভিলাষে। প্রায় বাইশ দিন কাটানোর পর ব্যর্থ সুভাষ নেমে এলেন কাশীর রামকৃষ্ণ মঠে। মঠাধ্যক্ষ ছিলেন ঠাকুর শ্রাশ্রীরামকৃষ্ণের পারিষদ ব্রহ্মানন্দ( রাখাল মহারাজ)। তিনি দেখলেন সুভাষ দর্শনধারীতে স্বামীজীর সঙ্গে পার্থক্য উনিশ-বিশ। আর সুভাষের ভেতরে স্বামীজীর মন্ত্র অনবরত উচ্চারিত হচ্ছে - "Freedom,Freedom is the song my soul..."। স্বামীজীর লক্ষ পূরণের প্রকৃত আধার সুভাষ। তিনি বোঝালেন সন্ন্যাসী নেওয়া কোনোরূপ কাজের কাজ নয়। ব্রহ্মানন্দের পরামর্শে ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে এলেন। উচ্চতর শিক্ষার পাশাপাশি দেশমায়ের পরাধীনতার শৃঙ্খল মোচনের জন্য মনে মনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হলেন। আই সি এস সুভাষ ব্রিটিশ সরকারকে বুঝিয়ে দিলেন দেশের জন্য তিনি,ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের গোলাম হওয়ার জন্য তাঁর জন্ম নয়। আধ্যাত্মিক উৎকর্ষ রইল মননে,আর কর্মে স্বাধীনতার ইতিহাস রচনার জন্য পরিচিত হবেন - ভারতমাতার শৃঙ্খলমোচনের জন্য বীরসৈনিক নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু। 
   অরবিন্দ ঘোষ পন্ডিচেরীর ধ্যানগুহায় প্রবেশের সময় বলে যাচ্ছেন,তাঁর বৈপ্লবিক কর্মকান্ড পূরণে বিকল্প নেতৃত্ব এসে গেছে,অচিরেই জানা যাবে। তিনিই তো সুভাষচন্দ্র। তাই সুভাষ চন্দ্র সম্পর্ক খুব প্রচলিত কথা - কর্মে শ্রীঅরবিন্দ,ধর্মে স্বামী বিবেকানন্দ। 
                       (২)
 ** স্বাধীনতা আন্দোলন ও সুভাষচন্দ্র:-
  শ্রীঅরবিন্দের ভবিষ্যত বাণী বৃথা যায়নি। কর্মবীর সুভাষচন্দ্রের পরিচয় ইতিহাস সযত্নে ধারণ করল।
  প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শেষে ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে মন্টেগু চেমসফোর্ড ভারতে এসেছেন আইনের সংস্কার নিয়ে। সংস্কারে ভারতীয়দের হাতে ক্ষমতা দেওয়ার কথা থাকলেও তা আসলে ক্ষমতাহীন দায়িত্বের নামান্তর। এ নিয়ে দিকে দিকে ক্ষোভের অনেক তাপ উত্তাপ বইল। আর তাতে ঘৃতাহূতি পড়ল জালিয়ানওয়ালাবাগের নৃশংস হত্যাকাণ্ড। এই প্রেক্ষাপটে খেদা ও চম্পারণের আন্দোলন দিয়ে যে গাঁধীর ভারতীয় রাজনীতিতে উত্থান ঘটে আর জালিয়ানওয়ালাই গাঁধীর প্রতিষ্ঠা দেয়। কিন্তু গাঁধীর নরম পন্থা মনোভাব চরমপন্থী বঙ্গ ব্রিগেডের মনোঃপূত ছিল না। চরমপন্থী মনোভাবে পুষ্ট দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ ১৯২২এ গড়ে তুললেন স্বরাজ আমাদের জন্মগত অধিকারের দাবীতে স্বরাজ পার্টি। সঙ্গে সুভাষচন্দ্র। দেশবন্ধুর মৃত্যুতে (১৯২৪) পূর্ণ স্বরাজের দাবীতে আন্দোলনের দায়িত্ব পুরো এসে পড়ল সুভাষচন্দ্রের কাঁধে। সঙ্গে জওহরলাল নেহেরু। সঙ্গে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। সভা সমিতিতে গানে নজরুল,বক্তব্যে সুভাষচন্দ্র,বাংলার বৈপ্লবিক আন্দোলনের ভূমিকা ছিল সরগরম! 
   এতে গাঁধী খুব একটা খুশী ছিলেন না।তার প্রমাণ ১৯২৮ এ কলকাতায় জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে পূর্ণ স্বরাজের দাবীতে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে স্বাধীনতা দিবস পালনের প্রস্তাব পাশ হওয়া সত্ত্বেও সুভাষচন্দ্র উদ্যোক্তা ছিলেন বলে গাঁধী তা কার্যকর  হতে দেননি। শেষে ১৯২৯ এ জওহরলাল জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি হলে ১৯৩০ এ ২৬ জানুয়ারিতে লাহোর অধিবেশনে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে স্বাধীনতা দিবস পালিত হয়, পূর্ণ স্বরাজের দাবীতে।
  সুভাষচন্দ্র দেখলেন এই দু'বছর গাঁধীর অযথা টালবাহানায় আন্দোলনের অনেক ক্ষতি হয়েছে। আর এও সত্য গাঁধীর জন্য আন্দোলন বহুধা বিভক্ত। যেমন গাঁধী-বিরোধী দলিত শ্রেণির প্রতিনিধি ভীমরাও আম্বেদকর দলিতদের নিয়ে আলাদা হয়ে গেলেন, মহম্মদ আলি জিন্নাহর মুসলিম লিগ, নরমপন্থী,চরমপন্থী - আন্দোলন চতুর্মুখী। আর এই চতুর্মুখী ঠোকাঠুকির তালে সরকার পূর্ণ স্বরাজের নাহ্য দাবীকে দুর্বল করে দেয়। 
  এই সব কারণে সুভাষচন্দ্র গাঁধীর অক্ষে চরম অস্বস্তি বোধ করতে লাগলেন। আর সুভাষচন্দ্রকে কৌশলে নেহেরু থেকে আলাদা করার এক হীন খেলায় গাঁধী মেতে উঠলেন। এই খেলায় গাঁধী নেহেরুকে বাপুজির আবেগ দিয়ে কাছে টেনে নিলেন, নেহেরুর মগজ যতই সুভাষচন্দ্রের দিকে থাক না। এই সম্পর্কে গাঁধীর কাছের নেহেরু যতই,হলেন সুভাষচন্দ্র ঠিক ততটাই দূরের। এর প্রমাণ ত্রিপুরী কংগ্রেস কান্ড। ত্রিপুরী কান্ডে গাঁধী চরম নির্লজ্জ ও সঙ্কীর্ণ দলবাজিতে লিপ্ত  হলেন। গাঁধী চরম দ্বিচারিতার পরিচয় দিলেন - দ্বিতীয়বারের জন্য নেহেরুকে গাঁধী সভাপতি করলেন,সুভাষচন্দ্রকে অনুমোদন না দিয়ে। তখন সুভাষচন্দ্র নির্বাচনে যেতেই বাধ্য  হলেন।
 সুভাষচন্দ্র নির্বাচনে জয়লাভ করে বুঝতে পারলেন গাঁধী অক্ষে থাকা নিরাপদ নয়। নতুন দল ফরওয়ার্ড ব্লক তৈরী করলেন। ব্রিটিশ সরকার দেখলেন গাঁধীর জন্য সুভাষচন্দ্র জঙ্গী আন্দোলন করতে পারছিলেন না,এবার বরং স্বাধীন দল করে সরকারকে নাস্তানাবুদ করবে নিশ্চিত।  তাই সুভাষচন্দ্রকে আটকানোর দরকার।  সুভাষচন্দ্র হলেন সরকারের গৃহে নজরবন্দী।
 এই নজরবন্দীর ফাঁকফোকর গলে সুভাষচন্দ্র সটান দেশান্তর। এই দেশান্তরের দোষারোপ চাপল গাঁধীর উপরে। সারা দেশ তথা বাংলা গাঁধীকে দোষারোপ করে উত্তাল। গাঁধী বিপদ গনলেন। অবিলম্বে ক্ষোভ প্রশমিত করতে সুভাষচন্দ্রের হয়ে সাফাই গাইলেন সুভাষচন্দ্র 'দেশপ্রেমিকের দেশপ্রেমিক।' বাংলা কিছুটা শান্ত হলো।
 যতই  গাঁধীর সঙ্গে সুভাষচন্দ্রের স্বাধীনতা আন্দোলন নিয়ে মতান্তর  হোক না কেন,মনান্তর কোনোদিন ছিল না। শত বিরোধে গাঁধীর প্রতি সুভাষচন্দ্রের শ্রদ্ধার অভাব কোনোদিন দেখা যায়নি। প্রমাণ  আজাদ হিন্দ বাহিনীর বিভিন্ন বিভাগের নামকরণ করেছিলেন গাঁধী ব্রিগেড,নেহেরু ব্রিগেড, আজাদ ব্রিগেড ইত্যাদি। নেহেরু দেশবাসীকে বোঝাতে বিন্দুমাত্র কুন্ঠাবোধ করেননি, তিনি গাঁধীর জন্য দেশান্তর হননি,দেশান্তরের কারণ সম্পূর্ণ আলাদা। গাঁধীকে অযথা দোষারোপ করা সমীচীন  নয়। তাঁর দেশত্যাগের কারণ জাতীয় কংগ্রেসের আন্তর্জাতিক নীতির দুর্বলতার জন্য। আর সেই দুর্বলতার জন্য সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশ সরকার ভারতবর্ষের ধন ও জন নিজের স্বার্থসিদ্ধির সুকৌশলে ব্যবহার করার সাহস দেখাচ্ছে। সুভাষচন্দ্র নির্দ্বিধায় মত প্রকাশ করলেন  ভারতবর্ষের স্বাধীনতার জন্য চাই স্বনির্ভর দৈহিক বল ও সামরিক শক্তি। আর সে জন্যই দেশান্তর ও সামরিক ফৌজ গঠন চাই। তারই ফলস্বরূপ গড়ে তুললেন আজাদ হিন্দ্ ফৌজ। আর বিশ্বরাজনীতির নাৎসিবাদ ও ফ্যাসিবাদ সুভাষচন্দ্রের সহায়তায় এগিয়ে এল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধই সুযোগ করে দিল ভেতর থেকে গাঁধীর ভারত ছাড়ো আন্দোলন ও নেতাজীর আজাদ হিন্দ বাহিনী দিয়ে বাইরে থেকে প্রবল চাপ সৃষ্টিতে স্বাধীনতার কাছাকাছি হতে। 
   ইত্যবসরে আরেক সুযোগ ভারত-বিদ্বেষী চার্চিলের প্রধানমন্ত্রীত্ব থেকে বিদায়, প্রধানমন্ত্রীত্বে এলেন ভারত বন্ধু ক্লিমেট এটলি। বিশ্বযুদ্ধের জন্য ব্রিটেনের অর্থনৈতিক মেরুদন্ড ভেঙে চুরমার হওয়াও স্বাধীনতা লাভের অন্যতম আরেকটা কারণ।
  ভারতবর্ষ স্বাধীনতার দোড়গোড়ায় আসতেই ভারতবন্ধু প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হয়েছিল- ভারতবর্ষের স্বাধীনতা লাভের মূলে কি গাঁধীর ভারতছাড়ো আন্দোলনের ফল? 
  ক্লিমেট এটলি উত্তরে সরাসরি বলেছিলেন- সুভাষচন্দ্র ও আজাদবাহিনী দেশ জুড়ে গণ অভ্যুত্থানের সুযোগ গড়েছিলেন বলে স্বাধীনতা দিতে বাধ্য হয়েছেন। 
 প্রশ্নটা যতটাই সোজাসাপটা উত্তর ততটাই ঘোলাটে। সুভাষচন্দ্রের মর্মান্তিক মৃত্যুকে জাতীয় রাজনীতিতে সুকৌশলে সুভাষ প্রসঙ্গ তুলে দেওয়া। ক্লিমেট এটলি এক ধুরন্ধর রাজনীতিবিদ হয়ে এক ঢিলে দুই পাখি মারলেন-
   ১। জাতীয় কংগ্রেসের উপর সুভাষচন্দ্রের মৃত্যুর দায় চাপালেন।
  ২। দ্বিখন্ডিত স্বাধীনতাকে মদত দিলেন।
        এ থেকে প্রমাণিত তিনি বলতে চাইছেন স্বাধীনতা লাভের কৃতিত্ব গাঁধীর  নয়,সুভাষচন্দ্রের। এতে গাঁধীর প্রভাব খর্ব করাই ছিল লক্ষ। তাই আমরা হে হেন মন্তব্যে বলতে বাধ্য প্রথমটি অবান্তর, দ্বিতীয়টি নিঃসন্দেহে মর্মান্তিক বেদনার। 
                     
                        (৩)
** কর্মবীর সুভাষচন্দ্র:-
   সুভাষচন্দ্রের মর্মান্তিক মৃত্যুর বদলে কী পেলাম? পেয়েছি বিচ্ছিন্নতাবাদের ঘণঘটা। আজও তার বিরাম নেই। আজও সুভাষচন্দ্রের মৃত্যু নিয়ে ভারতবর্ষের বহুদলীয় রাজনীতি প্রভাবিত হয় একে অপরের বিরুদ্ধে আঙুল তুলে সস্তা রাজনীতি করার। মৃত্যুকে অক্ষ করে কত কমিশন এলো গেল,মহাফেজখানায় নেতাজী-তথ্য রাজ্য-কেন্দ্র সম্পর্কের প্রবল টানাপোড়েন দেখলে আমাদের খুব ক্লান্ত লাগে। সুভাষচন্দ্রের রাজনৈতিক চিন্তাধারার মূল্যায়ন আজও অধরা। তিনিই যে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার সূত্রধর ছিলেন সে কথা সাধারণ মানুষ কতটুকুই বা জানে।
 তিনিই প্রথম স্বাধীনতার সাম্য,সংহতি,সুবিচার,ধর্মনিরপেক্ষতার প্রতি দায়বদ্ধতার কথা প্রথম বলেছিলেন। বলেছিলেন সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বর্জনের কথা। নারীর পরিপূর্ণ স্বাধীনতার কথা, ট্রেড ইউনিয়নের তিনিই হোতা। আজকের কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি আয়োগ তাঁরই মস্তিষ্কপ্রসূত। তাঁরই হাতে তৈরী বেঙ্গল মিউনিসিপ্যাল অ্যামেডম্যান্ট অ্যাক্ট অনুযায়ী দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ প্রথম কলকাতার মেয়র হয়েছিলেন। কৃষির উন্নয়ন পরিকল্পনায় তিনি। সেই  সঙ্গে এও অনুভব করেছিলেন দেশের দারিদ্র্য,নিরক্ষরতা, অনটন,বেকারত্ব, রোগব্যাধি দূর করতে গেলে চাই একটি স্বাধীন ও ধর্মনিরপেক্ষ জনদরদি সরকার।
   নেতাজীর এই সব ভাবনা নিয়ে দেশ কোথায় এগোবে,তা নয়। শুধুই সুভাষচন্দ্রের মৃত্যু রহস্য উদ্ঘাটন নিয়ে একের পর এক তৎপরতা- কমিশন আয়ারাম,গয়ারাম। 
  ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ,স্বামী বিবেকানন্দের মৃত্যুকে যদি মহাপ্রয়াণ বলা হয়,তাহলে নেতাজীও তো দেশ মায়ের জন্য উৎসর্গীকৃত প্রাণ,তার বেলায় মহাপ্রয়াণ বলতে এতো কষ্ট কেন। কারণ রাজনীতির আঙিনা সরগরম হবে না যে। তিনি কিংবদন্তি মহামানব,কীর্তির কাছে মৃত্যু তুচ্ছ। তবুও কেন তাঁর মৃত্যু নিয়ে এতো জলঘোলা! কে বোঝাবে! চোরা না শোনে ধর্মের কথা। যাঁর নির্দেশিত পথে দেশ এগুলর  কথা আছে,তাঁর মৃত্যু নিয়েও আছে কূটকাচালি! সে দুর্ভাগ্যের কাহিনীর শেষ নেই। ফি বছর এলেই তাঁর জন্মদিন নিয়ে অনেক ঘটা করে স্মরণসভা করি- দেশে ও বিদেশে। এ চলার শেষ নেই।
  এই ঐতিহাসিক মহামানবের উদ্দেশ্যে প্রণাম জানিয়ে ইতি নেতাজী সুভাষচন্দ্র কথকতা।
                  ***********
@ কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।

বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২১

অণু গল্প: ময়ুরাক্ষীর মেঘ #কলমে~ পল্লবী




#ময়ুরাক্ষীর মেঘ

****************


ভোরের পুব আকাশে অংশুমান, ধীরে ধীরে তার রক্তিমাভা ছড়াতে শুরু করেছে। ময়ুরাক্ষী হুইলচেয়ারটা টেনে, জানালার কাছে গিয়ে বসে। কাল সারারাত মুষলধারায় বৃষ্টি শেষে, ভোরের আলোতে প্রকৃতির চারিদিকে এক অদ্ভুত সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে। যদিও ট্রান্সফর্মারের বড় বড় ঝুলন্ত তারের উপরে বসা, প্রকৃতির ঝাড়ুদার; ভেজা ডানা মেলে, ভোরের আলো উপভোগ করতে করতে, মাঝে মাঝেই কর্কশকন্ঠে তার উপস্থিতি জানান দিচ্ছে আর থেকে থেকেই তীক্ষ্ণ নজর দিচ্ছে, রাস্তার এক ধারে রাখা ডাস্টবিনে! যদি কেউ এই সাত সকালে কোন উচ্ছিষ্টাংশ ফেলে....সেই আশায়! 

একই অবস্থা রাস্তার বেওয়ারিশ সারমেয়দের ও! তাঁরাও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে, অংশুমানের পরিপূর্ণ প্রভার জন্য! গতকালের  দিনভর বৃষ্টিতে, পাড়ার লোকজন তেমন একটা চলাচল করেনি বলতে গেলে। ফলে ময়লার ভাগাড় ও শূন্য!


জানলা দিয়ে হাত বাড়িয়ে ময়ুরাক্ষী, পাশ ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা ছাতিম গাছের পত্রপল্লব রাজী থেকে, ঝরে পড়া শিশির বিন্দুর মতো বৃষ্টির ফোঁটা, মুঠোয় বন্দী করতে চায়! বৃষ্টিতে ভিজে চুপসে যাওয়া পাতার ফাঁকে দিয়ে দেখতে চায়, ওর অংশুমানকে! মনে মনে শুধোয়,, কেমন আছো অংশু...!! মেঘের দেশে? মেঘকে সাথী করে?!


বৃষ্টি ভেজা দিনের এক পড়ন্ত বিকেলে, পার্কের দেবদারু গাছের নিচে দাঁড়িয়ে, অংশুমান পাতা ঝরে পড়া বৃষ্টি কণা দু হাতের কোচরে নিয়ে, ময়ুরাক্ষীর সামনে হাঁটু গেড়ে বসে বলেছিল, "ময়ুরাক্ষী তোমায় দিলাম"!


মেঘপ্রিয় অংশুমান, আকাশে মেঘ জমতে দেখলেই, শিশুর মতো লাফাতো! এতো প্রিয় ছিল মেঘ ওর! ময়ুরাক্ষী কতবার দুষ্টুমি করে বলতো..." মেঘের আড়ালে লুকিয়ে লাভ নেই অংশুমান! তোমাকে বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়তেই হবে..!! ময়ূরাক্ষীর গায়ে!"


সারারাত মেঘ মল্লার শুনে কাটানো ময়ুরাক্ষী ভাবে, সেদিন বিকেলে অংশুমান কি তবে বুঝতে পেরেছিল? কালের যাত্রা পথে ওর হারিয়ে যাওয়ার ডাক? আজ ঠিক কত বছর হলো..?? অংশুর হারিয়ে যাওয়ার অনন্তের পথে..!! মেঘেদের রাজ্যে?!


বৃষ্টির আমেজে, ঝিমিয়ে পড়া পাড়া ধীরে ধীরে জেগে উঠছে! গলির মুখে...চায়ের ছোট্ট টং থেকে চা বানানোর টুং টাং আওয়াজ বাতাসে ভেসে আসছে! কর্মব্যস্ত এই পাড়ার লোকজন, আবার সরব হচ্ছে, বৃষ্টি থামার পর, আরেকটা কোলাহলপূর্ণ দিনের প্রতীক্ষায়!


জানালার গ্রিল ধরে বসে ময়ুরাক্ষী, অংশুমানের দিকে চেয়ে, একটু অভিমানী হয়েই মনে মনে বলে..."মেঘ তোমার এতোই প্রিয় ছিল অংশু...আমাকে চিরতরে ছেড়ে যেতেও তোমার কষ্ট হলোনা?...কেন?? আমার বৃষ্টি প্রিয় ছিল বলে কি?!"


একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ময়ুরাক্ষী ভাবে; থাকো তুমি ভাল...অংশুমান!! মেঘেদের দেশে...মেঘের আড়ালে! আমি না হয় তোমার প্রিয় মেঘকে দূত  করেই বার্তা পাঠাবো তোমার কাছে..!! তবুও তুমি ভাল থেকো! খুব ভাল থেকো! বলেই ময়ুরাক্ষী ছাতিম গাছের ভেজা পাতার ফাঁক গলে আসা, অংশু প্রভার দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলে.....


   "আমি মেলবো না আর স্বপ্নডানা

   ঐ নীল মেঘেদের ছোঁয়ায়...

   আমি লিখবো না আর কাব্য কোনো

    স্মৃতির ছেঁড়া পাতায়....!!"



Copyright©reserved for Pallabi Barua


গানের চরন সংগৃহীত🙏🙏


মঙ্গলবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২১

সাহিত্য অঞ্জলী-পৌষ পার্বণ-লেখক ও লেখনী


 

অনুগল্পঃ কদম ফুল #কলমে ~পল্লবী

 

 

 


 

  # কদম ফুল

********************


সকাল থেকেই থেমে থেমে বৃষ্টি পড়ছে। দিয়া ব্যাথাতুর হৃদয়ে আকুল নয়নে চেয়ে আছে ওয়ালে ঝোলানো বিশাল টিভির পর্দায়! মাঝে মাঝে চোখ বুলিয়ে নিচ্ছে মেসেন্জার বক্সে। রীতিমতো গবেষণা শুরু হয়ে গেছে, কে কোন ড্রেসে অনুষ্ঠানে যোগ দেবে। কার ক্রাশের মাথা আজ না ঘুরলেই নয়....হেনতেন...ইত্যাদি...ইত্যাদি! 


উফফফ!!! পাগল গুলো পারেও বাবা!! মনে মনে বিরক্তবোধ করে দিয়া! আজ যে বাইশে শ্রাবণ!! বুড়োটার প্রয়াণ দিবস! সেই কবে.....কোন ছোটবেলায়....দিয়া ওর মনপ্রাণ সবই সঁপে দিয়ে বসে আছে ওই সফেদ দাড়ির বুড়োকে! বুড়োর লেখা প্রতিটি গল্প, কবিতা আর গানে.... যেনো নিজেকেই হারিয়ে খোঁজে দিয়া! 


"আমার প্রাণের 'পরে চলে গেল কে..

বসন্তের বাতাসটুকুর মতো....

সে যে ছুঁয়ে গেল, নুয়ে গেল রে....

ফুল ফুটিয়ে গেল শত শত…"


দেশের খ্যাতনামা শিল্পীর কণ্ঠে গাওয়া গান দিয়া অস্থির চিত্তে শুনতে থাকে! নাহ্!! আজ কি তবে সে স্বাভাবিক থাকতে পারবে না?? আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে রেডি হতে হতে নিজেকেই নিজে প্রশ্ন করে দিয়া!


কলেজের কাছাকাছি আসতেই, দূর থেকেই গেটের সামনে ঝটলাটা দেখতে পায় দিয়া। কেমন যেনো ভিতরে ভিতরে কুঁকড়ে যায় ও। এরকম একটা শোকাবহ দিনেও, বদমাশ গুলো মারামারি না করে থাকতে পারেনা! বড়োই আশ্চর্য্য এদের মানসিকতা!!


একি!! কলেজ গেটের সাথে লাগানো কদম ফুলের গাছের একি দশা!! গতকাল পর্যন্তও ডাল ভর্তি কদম ফুল নিয়ে যে গাছ স্বমহিমায় দাঁড়িয়ে ছিলো,, আজ তার ভগ্ন দশা দেখে, দিয়ার মন যেনো আরো ব্যাথায় ভরে ওঠে!! একটু আগে হওয়া এক পশলা বৃষ্টিতে ভেজা রাস্তায়, কদম ফুলের পাতা গুলো যেন দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে লুটিয়ে পড়ে আছে!!


বড়ো একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে, দিয়া এগিয়ে চলে কলেজ অডিটোরিয়ামের দিকে। যেভাবেই হোক, নিজেকে ভাল রাখতে হবে। ওই বুড়ো টাকে ভেবে, আর মন খারাপ হতে দেবে না ও। অডিটোরিয়ামের সিঁড়িতে পৌঁছেই, আচমকা পরিচিত ডাকে পেছন ফিরে তাকায় দিয়া! ডিপার্টমেন্টের ফাই ফরমাস খাটা পুঁচকেটা দাঁড়িয়ে আছে। হাতে কালার্ড র‌্যাপিং পেপারে মোড়ানো একটা প্যাকেট! 


অবাক দিয়া; চিন্তিত মুখে একবার এক্সিটের দিকে তাকিয়ে প্যাকেটটা খোলে। হল মার্কের গ্রিটিংস কার্ডের ভেতরে, স্বচ্ছ সেলো টেপ দিয়ে লাগানো, সদ্য ছেঁড়া গাছের কদম ফুল!! কদম ফুলের নীচে, গোটা গোটা হরফে লেখা.....


    " সকল কাঁটা ধন্য করে ফুটবে, ফুল ফুটবে।

       বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল..!!"



Copy right©Pallabi Barua

বিষয় : (প্রবন্ধ) মাস্টারদা সূর্য্য সেন #লেখায়::শর্মিষ্ঠা ভট্ট:

 বিষয় : (প্রবন্ধ) মাস্টারদা সূর্য্য সেন


বিনোদ বিহারী জেলে বসে গান ধরেছেন মাস্টারদার ইচ্ছায়...... যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে। ১৯৩৩ ধরা পড়ে জান। অমানবিক অত্যাচার সয়েও উৎসাহ দিয়ে গেছেন জেলে, তাঁর সহকর্মীদের। তাঁর শেষ বানী ময়লা চিরকুটে ছড়িয়ে পড়ে জেলে..... আদর্শ আর একতা। ১৬ ই ফেব্রুয়ারি ফাঁসি। 


কেন এই কৃচ্ছ্রসাধন! না তিনি কোন সন্ন্যাসী নন। না সাধন তত্ত্বের উঁচুতে যাওয়া অতি মানব। কেবল ভালোবাসা। দেশ মাতৃকাকে ভালোবাসা। স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখেছিলেন, আমাদের জন্য। ভাবলাম দু এক লাইন লিখেই ফেলি এই অগ্নি পুরুষের জন্য। সমাজে কখনও হারিয়ে যায় প্রচার বিমুখ কিছু নাম। এই মানুষটি সেই সময় এতোই দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন যে ১০০০০ টাকা ছিল ধরিয়ে দেবার পুরস্কার। গৈরোলা গ্রামের নেত্র বিশ্বাসঘাতকতা করে ধরিয়ে দিল মাস্টারদাকে। বিনা যুদ্ধে অবশ্যই নয়, তবু আহত স্বদেশীদের জেলে এনে ফেলা হল। 


চট্টগ্রামের ছেলে সূর্য কুমার সেন বহরমপুর থেকে স্নাতক হয়ে স্বগ্রামে ফিরে যান। উমা তারা উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়ে অঙ্কের শিক্ষক। পুষ্প কুন্তলার সাথে বিয়ে হলেও ফুলশয্যার রাতে গৃহত্যাগ এবং বিপ্লবী আন্দোলনে যোগ। কি কারণে এই ত্যাগ!  এই দ্রুতার দিনে অন্য অনেক বিষয়ে আলোচনা হলেও মানুষের কাছে হয়ত এঁরা গুরুত্ব হারিয়েছেন। সন্ত্রাসবাদী আন্দোলনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিচার হয়। তবু ...... দেশটাকে ভালোবেসে দিয়ে গেছে প্রান। 

১৮৯৩ অনুশীলন সমিতি অরবিন্দ ঘোষের ছত্রছায়ায় বিপ্লব। যামিনী মহিন্দ্র অম্বিকা কে সাথী করে চট্টগ্রাম সাম্য আশ্রমে বিপ্লব দানা বাঁধতে থাকে। নাগরখানা মারপিট ও লুন্ঠনের মামলায় রত্নগিরি বোম্বাই জেল। ফিরত এসে ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মিতে সক্রিয় সশস্ত্র সঞ্চালক। ১৯৩০ চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠন। প্রিতীলতা ওয়াদ্দেদার ও কল্পনা দত্তকে এই সশস্ত্র দলের এ্যাকশনে রেখে সেই সময়ের স্বাধীনতা আন্দোলনে  নারী শক্তির স্বীকৃতি ও মনোবল বৃদ্ধি করেছিলেন। বেলা শেষে সংক্ষিপ্ত ছোট একটি প্রদীপ আজ নিবেদন করলাম দেশপ্রেমিক কঠিন প্রতিজ্ঞ মাস্টারদা সূর্য্য সেনের জন্য। আজ যৌবনের আরতি হোক এই চির যৌবনে উদ্দিপ্ত মানুষটির জন্য। 


বেশি বলার কিছু নেই, এই লেখা পড়ে ভালো লাগলে গুগলে সব পেয়ে যাবেন। যদি তাঁর জন্য একটা তথ্য পড়া হয় ,চর্চা হয়। এত বছর পর উত্তরসূরীদের কাছে তাঁর এটুকুই পাওনা। যদি সমস্বরে বলি 

" বন্দেমাতরম "। 

ধন্যবাদ আমার বন্ধুরা 🙏

©কপিরাইট অধিকার শর্মিষ্ঠা ভট্ট।

সাথী হারা।( কলমে-- পারমিতা মন্ডল।)

অণু গল্প ----সাথী হারা।

কলমে-- পারমিতা মন্ডল।

দীঘার সমুদ্রে একা একা হেঁটে চলেছে সৈকত । এই বালুকাবেলায় , রামধনু রং আকাশের দিকে তাকিয়ে মনটা বড়ই উদাস হয়ে যায় । কি চেয়েছিল সে , আর কি পেল ? সবাই জানলো সে একটা ঠগ, একটি মেয়েকে ঠকিয়েছে । তার সর্বস্ব নিয়ে তাকে ফিরিয়ে দিয়েছে। ঘৃণায় পুরো পৃথিবী তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে । কিন্তু সত্যি কি সে অপরাধী ? এই ছাড়া তার আর কি করার ছিল ?  ভাবতে ভাবতে একটা বেদীর উপর বসে পড়ে সৈকত ।  বুকের মধ্যে যেন জমাট বেঁধে আছে একরাশ যন্ত্রণা । গলাটা কেউ যেন চেপে ধরে আছে ।


   কলেজে পড়ার সময় তৃণার সাথে বন্ধুত্ব হয়েছিল সৈকতের । সেই বন্ধুত্ব আস্তে আস্তে প্রেমে পরিনত হয় ।কলেজ ওদের জুটিকে সবাই চিনতো। খুব জনপ্রিয় ছিল ওরা।। দু বাড়ির পক্ষ থেকে ওদের সম্পর্কে কোন আপত্তি ছিল না । সৈকত আপত্তি করার মতো ছেলে ছিল না । তাই ওরা খুব আনন্দ করে ঘুরে বেড়াতো । কতদিন হয়েছে কলেজ থেকে ফেরার পথে  দুজনে ইচ্ছা করে  বৃষ্টিতে ভিজেছে ।   দুজনেই বৃষ্টি খুব ভালো বাসতো । এমন ও হয়েছে বৃষ্টিতে ভিজবে বলে এস, আর ম‍্যামের ক্লাস ফাঁকি দিয়ে দুজনে পালিয়ে গেছে। যদিও বন্ধুরা প্রক্সি দিয়ে দিতো । কতো স্মৃতি ভীড় করে আসছে মনে ।

তৃণা বলতো  সৈকতকে " আমাদের যখন বাড়ি হবে তখন বিশাল বড় একটা ছাদ বানাবো। সেখানে  দুজনে মিলে বৃষ্টিতে ভিজবো । আর লুকিয়ে লুকিয়ে ভিজতে হবে না" । আজও বৃষ্টি আসে আকাশ ঝেপে, তার চেয়েও অনেক জোরে বৃষ্টি আসে মনের কোনে । কিন্তু তৃণা আজ নেই তার পাশে ।আকাশে মেঘ দেখলেই আনমোনা হয়ে পড়ে সৈকত। কেন হলো এমন ভুল ? কি হয়েছিল সেদিন ?

 সেদিন ছিল বাইশে শ্রাবণ । কলেজে অনুষ্ঠান শেষে  আকাশ কালো করে তুমুল বৃষ্টি শুরু হয় । কিছুতেই কমতে চাইছে না । প্রকৃতি যেন সত্যিই শোকাতুর হয়ে পড়েছে  বিশ্বকবির প্রয়ান দিবসে।  এদিকে একটু একটু করে বেলা বেড়ে যাচ্ছে । বাড়িতে ফিরতে হবে । ঐ তুমুল বৃষ্টির মধ্যে বেরিয়ে পড়ে তৃনা আর সৈকত । বৃষ্টিতে ভিজতে দুজনের খুব ভালো লাগে । নিঝুম রাস্তায় দুজনে পাশাপাশি বৃষ্টিতে ভিজছে। এতো বৃষ্টিতে এগোতে না পেরে একটি গাছতলায় দাঁড়ায় দুজনে। দুজনের বুকে তখন দামামা বাজছে । দুরু দুরু বুকে হাতে হাত রাখে দুজনে। হারিয়ে যেতে চায় নিরুদ্দেশর ঠিকানায়। হঠাৎই সৈকত জড়িয়ে ধরে তৃণাকে। কিন্তু তৃণা দেখে সৈকত যেন দেহের সমস্ত ভার তার উপর ছেড়ে দেয়। টাল সামলাতে না পেরে মাটিতে বসে পড়ে তৃণা। আর সৈকত তার কোলের উপর অচৈতন্য হয়ে পড়ে যায় । কিছু বোঝার আগেই সব ঘটে যায়।  সেদিন কোনমতে বন্ধুদের ফোন করে সৈকতকে হসপিটালে ভর্তি করে তৃণা। 

 ঐ দিনই ছিল ওদের শেষ দেখা । এর পর সৈকতকে ওখান থেকে নিয়ে ভর্তি করা হয় বড় হসপিটালে। ওর ক‍্যানসার ধরা পড়ে । চোখের সামনে সব কিছু শেষ হয়ে যায় ।  তাই তৃণাকে হসপিটালে দেখা করতে দেয়নি । সৈকত চায়নি তার জীবনের সাথে তৃণাকে জড়াতে । তাই হসপিটাল থেকে ছাড়া  পাওয়ার পর সৈকত আর তৃণার সাথে যোগাযোগ করেনি । কোন ঠিকানা না রেখে চলে যায় বিদেশে । তার ভালোবাসার মানুষকে কষ্ট দিতে চায়নি । ভেবেছে একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে। তৃণা ভুলে যাবে তাকে।

আজ সাত বছর পর আবার দেশে ফিরে আসে সৈকত । না, তার ক‍্যানসার হয়নি। ভুল চিকিৎসা হয়েছিল। যখনই সে জানতে পেরেছে সে সুস্থ তখনই ছুটে এসেছে তৃণার কাছে । কিন্তু অনেক দেরী হয়ে গেছে তখন। জীবন তো থেমে থাকে না । বাইরে প্রবল বৃষ্টির মতো চোখেও অবিরল বৃষ্টি ঝরেছে তৃণার । সে কিছুতেই বুঝতে পারেনা কেন সৈকত তাকে ছেড়ে চলে গেল ?  কোথায় গেল তাও জানেনা ।  কি তার অপরাধ ? আদৌ সে বেঁচে আছে কিনা ? একটু একটু করে চোখের জল শুকিয়ে যায় একদিন । জীবন আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফেরে। তৃণার জীবনে আসে নতুন মানুষ । তাকে আঁকড়ে ধরে নতুন করে বাঁচতে চায় তৃণা।

 হঠাৎ একদল ছেলে মেয়ের কোলাহলে চিন্তাসূত্র ছিঁড়ে যায়  সৈকতের। হৈ হৈ করে দীঘার  বালুকাবেলায় আছড়ে পড়ে  একদল ছেলেমেয়ে। যেন উদ‍্যম সমুদ্র বল্গাহীন ভাবে ছুটে চলেছে । সেদিকে অপলক তাকিয়ে আছে সৈকত। টুপটাপ বৃষ্টি শুরু হয়েছে। ঢেউয়ের দোলায় লুটোপুটি খাচ্ছে ওরা। কাউকে কি চেনা লাগছে ? বৃষ্টিতে চশমা ঝাপসা হয়ে আসছে । আর বেশীক্ষন বসা যাবে না । এখন আর বৃষ্টিতে ভিজতে ভালো লাগে না।কেউ যেন খিলখিলিয়ে হেসে উঠলো।  চমকে যায় সৈকত ।এ হাসি তার চেনা।  দীর্ঘ এতো বছর ধরে  এই হাসি মুখটা মনের মধ্যে লুকিয়ে রেখেছিল সে । হ‍্যাঁ , ঐ তো তৃণা ।  বৃষ্টিতে ভিজছে । ঠিক আগের মতো । যেন উচ্ছল ঝরনা। শুধু পাশে আজ অন্য কেউ।

নীরবে সৈকত উঠে আসে সমুদ্রপাড় থেকে। বুকের মধ্যে জমানো একরাশ কষ্ট আর হতাশা নিয়ে বেরিয়ে আসে  আস্তে আস্তে।  । দূরে কোথায় যেন একটা গানের সুর ভেসে আসে ---- "আমি আবার তোমার আঙ্গুল ধরতে চাই ।"  চোখটা ঝাপসা হয়ে আসে ।


মুশলধারে বৃষ্টি শুরু হয়ে যায়। সবকিছু আবছা হয়ে আবার  আস্তে আস্তে  হারিয়ে যায় । শুধু একা সৈকত বিস্তৃর্ণ বালুরাশির দিকে উদাস দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে কাক ভেজা হয়ে।

সমাপ্ত।

Copyrights. are reserved for paramita mandal.

 

বিষয় : বিবেকানন্দ (প্রবন্ধ) # লেখায় : শর্মিষ্ঠা ভট্ট

 বিষয়: বিবেকানন্দের ১৫৭ জন্মবার্ষিকী। (প্রবন্ধ) 




মন পাগল তুই কেন খুঁজে মরিস? কে জানে  এই মনের বাসা যে কোথায়? হৃদয় মানে কি মন? ব্রেন মানে বুদ্ধি হতে পারে কিন্তু মন? আমি তোমায় হৃদয় দিলাম, হার্ট দিলাম ❤ একটি ছবিও পাঠানো যায়। কিন্তু মন দিলামের ছবি বা বিশ্লেষণ ঠিক কেমন হবে কেউ বলতে পারে না। তবে ইংরেজি প্রতিশব্দ মাইন্ড বলে চিহ্নিত করা যায়। হয়ত মানুষ এই মনের দ্বারা নিয়ন্ত্রাধীন। " কিছু মনে করোনি তো? " " মন চেয়েছে আজ হারিয়ে যাব " মানে এই দেহ এই সজীব দেহের প্রতি অঙ্গের অংশের মাঝে বিরাজিত এক সত্ত্বা। যে নীরবে কাজ করে এবং এই দেহ নামক অস্তিত্বকে চালনা করে। ওটাই সত্ত্বা! 

 

আজ বিবেকানন্দের ১৫৭ তম জন্মবার্ষিকীতে তাঁকে স্মরণ করে এই সত্ত্বা সম্বন্ধে তাঁর মত জানার চেষ্টা করবো ....... 

মন বা এই সত্ত্বা সম্পর্কে তিনি কি বলেছেন?? 

" এটি হওয়া বা হতে থাকা। তবে শোনা বা জানা নয়, প্রত্যেকের অন্তরে যে দেবত্ব (ঐশ্বরিক সত্ত্বা) আছে, তার পূর্ণ বিকাশের রূপই ধর্ম। " তাঁর মতে সব পূজা যদি পবিত্র হয় ও অপরের হিতের জন্য করা হয় তবে তার সমষ্টিকে ধর্ম বলে। অর্থাৎ এই মনেই ধর্ম ও অধর্ম বিরাজমান। বিবেকানন্দের মতে ইচ্ছা ও তার সংহতি ই হল শক্তি। আর এই ইচ্ছা মনের পজেটিভ চিন্তন বা সমীকরণ। নিজের ভেতর সংগঠিত শক্তি ও প্রবল ইচ্ছা সৎ কর্মের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। এই পথে বার বার চলার অভ্যাসে নিজেকে দৃঢ় থেকে দৃঢ়তম করে তুলতে হবে। তিনি মনকে বানরের সাথে তুলনা করেছেন। বাইরের জগতের প্রতি আকর্ষিত হয়ে লাফানো ঝাঁপানো যার কাজ। কিন্তু এই মনকে চিনতে হবে, নিজের মাঝে সমাহিত করতে হবে। ধীমান হতে হবে। আত্মসংযম আত্মবিশ্বাস এনে দেবে। তার চরমতম প্রকাশ বা উন্নয়নই ঈশ্বর বিশ্বাস। তিনি বলেন মনই আসল, যাকে নিজের অভ্যাসের মাধ্যমে চালনা করতে হয়। তাই তিনি বলেন " আনন্দে করা কাজ বেশি স্বার্থক হয়। " মন থেকে কোন সদ ইচ্ছা জাগাতে হলে আগ্ৰহ একান্ত প্রয়োজনীয়। তিনি বলেন " মনের শক্তি সূর্যের কিরনের মতো, যখন এটি এক জায়গায় কেন্দ্রীভূত হয় তখনই এটি চকচক করে ওঠে। " সেই কেন্দ্রীকরণের জন্য যোগাভ্যাস দ্বারা মানসিক নিয়ন্ত্রণের পথ দেখিয়েছেন। তাই তাঁর মতে সুসাস্থ্য এক সুদৃঢ় সামাজের গঠনের মূলে। নিজেকে কাজের মধ্যে রাখলে যে শক্তি নিসৃত হয় তাকেই তিনি সুগঠিত সমাজ গঠনের মূল ভীত হিসেবে আক্ষায়িত করেছেন। তিনি বলেন জীবকে সেবার মধ্যে এই কর্মযোগ লুকিয়ে আছে। সাংগঠনিক সেবা কর্মে লিপ্ত হবার জন্য তিনি উন্মুক্ত আহ্বান দিয়ে গেছেন। তাঁর মতে মন্দির মসজিদে যেতে হবে না। নিজের এই দেহের কোনে বসে থাকা মনকে আবিষ্কার করো আর তাকে অভ্যাসের মধ্য দিয়ে সুউচ্চ শক্তিশালী করো। যা প্রবল ইচ্ছা শক্তি হয়ে সর্বদা ঈশ্বরের পবিত্র উপস্থিতি অনুভব করাবে। তিনি বলেছেন " মহাবিশ্বের সীমাহীন পুস্তকালয় আপনার মনের ভিতর অবস্থিত। "

©কপিরাইট সর্তাধিকারী শর্মিষ্ঠা ভট্ট।।।।

সোমবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২১

# নাম- 'রমাপদ চৌধুরী ও বাংলাসাহিত্য।'- ✍ - মৃদুল কুমার দাস।

শুভ সান্ধ্য সাহিত্য বাসর।
  # বিষয়- সাহিত্য আলোচনা
     # নাম- রমাপদ চৌধুরী ও বাংলাসাহিত্য। 
     ✍ - মৃদুল কুমার দাস। 

    তরুণ বয়সেই খুব নাম ডাক- বিশিষ্ট নাম রমাপদ চৌধুরী। নাম ডাক হয়েছিল *'ইদানিং'* পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক দিয়ে।  সে ১৯৪৮-১৯৫১ ছিল ইদানিং-এর সময়কাল। ১৯৫৩ থেকে আনন্দবাজার পত্রিকায় যোগদান করেন। তাঁর জনপ্রিয়তার ছোট্ট একটি নমুনা-
     *'দরবারী'* ছোটগল্প সঙ্কলন সূত্রের কথা সর্বাগ্রে আসে। এগারো মাসে তিনটি সংস্করণ,যা প্রকাশনা জগতের এক বিস্ময়। এই সময় প্রতিষ্ঠিত সাহিত্যিকদের ছোটগল্প সংকলন প্রকাশে প্রকাশকদের সাহস কুলোতো না,অথচ রমাপদ চৌধুরী সব হিসেব উল্টে দিলেন। এতো জনপ্রিয়তা তুঙ্গে পৌঁছল একে একে পনরটি সংস্করণের পর স্বয়ং লেখক আর প্রকাশ করতে চাননি।
  লেখক হিসেবে খ্যাতি যেমন তুঙ্গে ছিল,সম্পাদক হিসেবেও। সে তো জানাই - ইদানিং এ ছিল সেই প্রতিষ্ঠার  গৌরবময় অধ্যায়।
 আনন্দবাজার যোগ দিয়েই চালু করলেন 'রবিবাসরীয়' পর্ব। সম্পাদনার দায়িত্ব পেলেন। এই বিভাগ তাঁর জনপ্রিয়তা দিন কে দিন আরো বাড়িয়ে তুলল। এই বিভাগের বিভিন্ন অধ্যায়ে এক একজন বিখ্যাত লেখক লিখতেন। তাই পড়ার জন্য পাঠকের সে ঔৎসুক্যের সীমা পরিসীমা ছিল না। আর গল্পের জোয়ার তাঁর হাত ধরেই এসেছিল। এমনকি একটা নতুন লেখকগোষ্ঠী গড়ে তুলেছিলেন। যে যেন বাংলাসাহিত্যের নতুন করে চলার উদ্যম এসেছিল। 
 'আনন্দমেলা'রও প্রথম দায়িত্বে তিনি। ১৯৭৫ এ ১৬ই এপ্রিল,১লা বৈশাখ প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হল,তিনিই হোতা। তাঁর স্ত্রী সুষমা চৌধুরী ছিলেন একজন নামকরা প্রকাশক। স্ত্রীর প্রকাশনায় তাঁর গল্পসমগ্র প্রকাশিত হয়। বইটিতে একশ'টি গল্প ছিল। তিনি যা কিছুই প্রকাশ করতেন সমগ্র নাম দিয়ে - গল্প সমগ্র, উপন্যাস সমগ্র, কবিতা সমগ্র যা প্রকাশনার এই প্রথম অভিনব আঙ্গিক। 'সমগ্র' ধারণাটি তাঁরই অবদান এই প্রথম বই প্রকাশনার বাজারে। পাঠকের কাছে অর্থকরী সাশ্রয় থেকে এর জনপ্রিয়তা সে আর বলতে! ক'জনই বা জানত এমন ভাবনার মূলে মানুষটির অবদানের কথা। দেশে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত 'হারানো খাতা' তাঁর আত্মজীবনী। জন্মভূমি রেল শহর খড়্গপুরের সব কথা কি অকপটে বলেছেন, বলেছেন কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়তে আসার গল্প...কি নিখুঁত বর্ণনা পাই।
  তবে মানুষটি খুব রাশ গম্ভীর ছিলেন। নির্মেদ চেহারার। ঋজু। মেরুদন্ড সোজা করে হাঁটেন। প্রিয় বন্ধু  নীরেন্দ্র চক্রবর্তীকে সঙ্গে নিয়ে চলে আসতেন কলেজ স্ট্রিটে দিলখুশ ফিস কবিরাজি টানে,আর কালিকার তেলেভাজা। সভা সমিতি এড়িয়ে চলতেন। ঘণিষ্ঠমহলে দারুণ আড্ডাবাজ ও রসিক ছিলেন। তবে জ্যোতিষচর্চার দিকে এই মানুষটির একটা দুর্বলতার জায়গা ছিল। নিজেও জ্যোতিষ ভালই জানতেন। গণেশ টকিজের এম.পি.জুয়েলার্স ছিল তাঁর সেই নেশার জায়গা।
 পূজো সংখ্যার আনন্দবাজার পত্রিকা অনেক দিন সামলেছেন। তাঁর কলমের জোর এমনই ছিল বাংলাসাহিত্যের তিনি এক নতুন পথের দিশারী ছিলেন। খ্যাতি তাঁর পিছুপিছু ছুটেছে- ১৯৬৩ আনন্দ পুরস্কার,১৯৭১ রবীন্দ্র পুরস্কার, ১৯৮৪ শরৎচন্দ্র পদক ও পুরস্কার,১৯৮৭ জগত্তারিণী স্বর্ণপদক, ১৯৮৮ সাহিত্য অ্যাকাডেমি পুরস্কার, ১৯৯৮ ডি লিট উপাধি। হিন্দী,মালয়ালাম,গুজরাতি ও তামিল ভাষায় তাঁর অনেক বই অনুদিত হয়েছে। তিনিই একমাত্র ভারতীয় লেখক, যাঁর গল্প সঙ্কলিত হয়েছে আমেরিকা থেকে প্রকাশিত লিটারারি অলিম্পিয়ানস গ্রন্থে,অনুবাদ করেছেন শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনটন বি সিলি। তাঁর উপন্যাস 'খারিজ' প্রকাশিত হয়েছে ইংরাজিতে।
 ১৯১৮ এই সদ্য হারালাম ৯৬ বছর বয়সে আমাদের বাংলাসাহিত্যের এই নক্ষত্রকে।
  @ কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস। 

ঝাপসা(অনুগল্প)



বাইরে একপশলা বৃষ্টি হয়ে গেলো, ডাক্তার চলে গেছে সময়ের ঘড়ি দেখিয়ে।অন্দ্রেলা কে দেখতে তার ছাত্রছাত্রীদের ভীড়, তাঁদের প্রীয় শিক্ষিকা তাঁদের মা এর এই বিচ্ছেদ মুহূর্তে চোখের জল বাঁধ মানছে না।অন্দ্রেলা তাদের বলে পায়ের দিকের বন্ধ জানলাটা খুলে দিতে ওখান দিয়ে দূরে নতুন ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার দেখা যাচ্ছে,তার নিচেই শহীদ বেদীর নীচে ঘুমিয়ে আছে ফিলিপ।ঝাপসা চোখে অন্দ্রেলা জানলা দিয়ে দেখতে পায় সেখানে দাঁড়িয়ে ফিলিপ হাতে তার সেদিনের সেই টিফিন বক্স।মৃদু হেঁসে সে দুহাত বাড়িয়ে ফিসফিস করে বলছে।মামি পিজাটা দারুন হয়েছিল তাই একটু চেখে রেখে দিয়েছি, একা খেতে একদম ভালো লাগেনা।এসো আমরা দুজনে মিলে খাবো।

        ---- সমাপ্ত---

✍অণুগল্প(ছাদ)✍ #অঙ্কিতা

 #বিষয়: এক_পশলা_বৃষ্টি( অণুগল্প)

#নাম: ছাদ

#কলমে: ✍অঙ্কিতা



ছাদ বলতেই প্রথমে আমাদের যেই কথাটা মাথায় আসে সেটি হল বাড়ির ছাদ। ইট, রড, বালি, সিমেন্ট, পাথর দিয়ে তৈরী এক প্রাণহীন জড় পদার্থ। এই প্রাণহীন ছাদেই কত প্রাণের গল্পগাঁথা থাকে নিজেদের। আর এই জড় পদার্থ-টি আমাদের রক্ষা করে চলেছে প্রতিনিয়ত। আসলে ছাদ বলতে আমার কাছে "মা" ও "বাবা"। যারা দুজন সবসময় সব বিপদ থেকে আমাকে রক্ষা করে রেখেছে। আমার প্রিয় জায়গা এই ছাদ, মন খারাপের বিকেলেও ছাদের সাথেই যেন আপন মনে বকবক করে যাই। এক পশলা বৃষ্টিতেও ভেজার সঙ্গী যেন ছাদটাই। কত কথাʼই না বলি ছাদের সাথে, চুপটি করে শোনে সে পাল্টা উত্তর না দিয়ে। এই ছাদেই রয়েছে আমার ছোট্ট ফুলের বাগান, যেটি আমার নিজের থেকেও প্রিয়। ছাদে এলে বরং একটু নিজের সাথে সময় কাটানো যায় নিশ্চিন্তে। অনেকটা আনন্দ, মন খারাপের স্মৃতি, বৃষ্টির মুখরতায় মিশে আছে আমার এই প্রাণহীন জড়বস্তুটি (ছাদ)।।


"তোমার রঙিন আসমানের নীচে 

আমার বর্ণহীন নিশ্চুপ ছাদ,

তোমার ছল্ প্রেম সমুদ্রের ঢেউ ভাঙে

আমার নড়বড়ে বালুর বাঁধ।

কল্পনারা আল্পনা দেয় ছাদে

মুহূর্ত পরে বলে চল ছুটি,

পরে থাকে একাকী হৃদয় 

নিয়ে বাস্তবের খুটিনাটি।

জ্যোৎস্না রাতে চাঁদের আলোয় 

গল্প শোনার রোমাঞ্চ;

সব কালেতেই ছাদই হলো 

মনকেমনের প্রবঞ্চ।।"

©rights reserved.

🙏এুটি মার্জনীয়🙏

বিষয় : ছোটগল্প # নাম : মহিলা সাহিত্যিক।। পর্ব৭ # লেখায় : শর্মিষ্ঠা ভট্ট

 

মহিলা সাহিত্যিক।। পর্ব ৭


তনুরুচি পত্রিকায় লেখে। পুরুষ বা সমাজ বিমুখী সে। তার লেখার মধ্যে অব্যক্ত ব্যাথা আছে। ইদানীং মানসের থেকে কম্পিউটারের এডিটিং বিষয়ে জানছে। মানসের সাথে অফিসিয়াল ব্যাপার , মানে এই লেখালেখির বিষয় পর্যন্ত বন্ধুত্ব। তনুরুচি কি করে? চলে কি করে? নানা ছোট কাজে সে ব্যস্ত। সফ্ট টয়েজ বানানো থেকে টিউশন পড়ানো বিউটিসিয়ানের কাজ  , মানুষের নানা গল্প শোনে। মা মেয়ের চলে যায়। খুব ইচ্ছা বই বের করার। প্রকাশক ফর্টি চেয়েছে। তনুরুচি মনে মনে "চশমখোর" বলে গালি দেয়। ওদের টালির চাল গলে বৃষ্টি পড়ে, সেটা নিয়ে জল্পনা কল্পনা কম নয়। রেডিও আর ব্ল্যাক এ্যান্ড হোয়াইট অনিডায় খুশি থাকে। পাড়ায় দূর্গাপূজা বা কোন ফাংশনে তনুরুচি মাইকে থাকে, এই সবে তার বড়ো আগ্রহ। একটা চন্স। ওর একটা হাত চাই। নিরুপমার সাথে কখন কোন অনুষ্ঠানে দেখা হল। হয়ত নিয়তি কিংবা ওপরে কে যেন থাকে ওর কথা শুনে নিয়েছিল। বিখ্যাত সাহিত্যিক নাট্যকার প্রফেসর নিরুপমা রায় দস্তিদার। মিলেছে এক অনুষ্ঠানে। তারপর নিরুপমার খ্যাতির ঊজ্জ্বল্যে তনুরুচি আত্ম সমর্পণ করেছে। " দিদি আমিও লিখি, আপানার মতো বিখ্যাত মানুষের ছোঁয়ায় কৃতজ্ঞ। " তনুরুচির কথায় এবং পরিবেশনায় অনুষ্ঠান উদ্বোধনে আসা নিরুপমা নিজের কার্ড দিয়ে গিয়েছিল হেসে হেসে " এই মেয়ে এটা রাখো, সাহিত্যে তোমার দেখি খুব উৎসাহ, যোগাযোগ কোরো। " ভয়ে ভয়ে ওর বিউটিসিয়ানের একটা কার্ড এগিয়ে দিয়েছিল। মানসের কাছ থেকে বীনা পয়সায় কয়েক মাস আগে বানিয়ে এনেছিল কয়টা। সস্তা কার্ডটি নিরুপমা ওর সুসজ্জিত শান্তিনিকেতনের লেদার ব্যাগের কোনে গুঁজে দিয়েছিল।

বর্ধমান থেকে সুচিস্মিতা ফেসবুকে "ক্রিয়েটিভ আই" এর সাথে জুড়েছে । লাইক করেছিল। ফলোয়ার, এখন গ্রুপ মেম্বার। ওখান থেকেই ওদের ত্রৈমাসিক পত্রিকা বের হয়, তার এ্যাক্টিভ সদস্য। দামোদর বাবু ক্রিয়েটিভের এডিটর ওকে মহিলাদের বিভাগ দেখতে বলেছে। সুচস্মিতা কলেজ সামলে দিব্বি চালিয়ে যাচ্ছে। তবে মনে হাল্কা দম্ভ,হাওয়ায় ফুলে ওঠা টেন্টের মতো। সে যাই হোক নতুন এডমিন হয়ে প্রচুর বন্ধুত্ব পাঠিয়েছে ইথার জালে। মাছ পড়ছে টপাটপ। সাহিত্যর থেকে ওর সাথে বন্ধুত্বর ইচ্ছা বেশি। প্রচুর ম্যাসেজ এফ বি চ্যাট বক্স ভর্তি হয়। কত কবি লাফিয়ে পড়ে । কত শ্লীল অশ্লীল কবিতা আসে। কেউ অনুরোধ করে সুচিস্মিতা না মন্তব্য করলে কাব্য রঙিন হয় না। সুচিস্মিতাকে জলপাইগুড়ির ধীমান বর্মন লেখে : একটু ছোঁয়া নাই বা পেলাম
স্তনবৃন্ত থাক ঢাকা একুশে কুয়াশায়
যদি দেখি স্বপ্নে নগ্ন কায়া। ..... সহ্য করে হাসি মুখে সাহিত্যের খাতিরে! না নেশা তারও মনকে উচাটন করে। অনেক প্রশ্নের উত্তর হয় না। তা না হলে চল্লিশ ঊর্ধ্ব মানুষের সাথে রাত রাত কি এত চ্যাট বক্সে ফেবিকুউক দিয়ে এঁটে যাওয়া। অনেক কথাই হয়, যা হয়ত ঠিক না হলে ভালো লাগতো। সুচিস্মিতা এই ম্যাসেজের আশায় বোসে থাকে, বুকে পরোকিয়া  আনন্দ। ধীমানের কি কখনও কিছু মনে হয়!  এই সংবাদ আদানপ্রদানে সাহিত্য আদিরসাত্মক হয়, নাকি এটা আধুনিকতা? অদৃজাও ঠিক সেই সময় অশোক প্রামানিকে এফ বিতে ব্লক করল। অশোক নিজেকে নাক উঁচুমনা মানব বা দানব ভাবে। অদৃজাও ওর পত্রিকা, মানে সহকারী সম্পাদক যেখানে পত্রিকার জন্য সেও মেম্বার আনছিল। ধীমান বলেই দিল -" আপনাদের মতো মহিলারা পত্রিকার নামে বন্ধু খোঁজেন।" ব্যাস ব্লক। অপমানিত অদ্রিজা নিজেকে ভীষণ অপমানিত মনে করে।কি মনে করে লোকটা, সে কি পন্য! ব্যবসা করছে? অদ্রিজা ত্রিশের ঘরে গৃহবধু। সবে এই লেখালেখিতে। স্বামীর চাকরির কাজে দেশান্তরিতের দুঃখ ভুলতে ঢুকেছে। একি কান্ড! তার মতো সৎ চরিত্রা মহিলাকে যা খুশি বলে চলে যাবে, না কখনো তা হতে দিতে পারে না। মনের মধ্যে আগুনের গোলা ছোটাছুটি করে। এবার থেকে মানুষের জন্য একটু কর্কশ ব্যবহারই সে তুলে রাখে। এত সহজ হয়ে মেশা মানে পিশে দিয়ে যাবে । সহজ হলেই লোক নীচু করে। হয়ত মানুষের এক সহজাত স্বভাব তোলা জিনিসের প্রতি প্রবনতা বেশি। না পাওয়া না ছোঁয়া সমাদর দেয়। সমানে নেমে এলে আরও নীচে নামায়। তাই কি অহংকারের মুখোশ পরতে হয়!!যেমন নিরুপমা রায় দস্তিদার ম্যাডাম একটা নিজের তৈরী বলয়ের মাঝে বিরাজ করে! বলয়, নিজস্ব একটা বলয় বানানো শিখতে হবে।।
©কপিরাইট সর্তাধিকারী শর্মিষ্ঠা ভট্ট
(ক্রমশঃ ) 

বিষয় অনুগল্প#নাম : বৃষ্টি নামুক#লেখায় : শর্মিষ্ঠা ভট্ট

 বিষয় : অনুগল্প

নাম: বৃষ্টি নামুক

লেখায় : শর্মিষ্ঠা ভট্ট

এক পসলা বৃষ্টিতে চকচক করছে চারিদিক। আনমনে রুবিনা গান ধরেছে , সাহিত্য পেছনে কখন এসে দাঁড়িয়ে তাকে বিভোর হয়ে দেখছিল, জানে না রুবিনা। 

ওদের লিভ ইনের দুবছরে চলছে। এমনটা চালিয়ে নিলে বেশ হয়। সাহিত্যর হয়ত সেই মত, তবে মুখে কিছু বলেনি। রুবিনা চায় সাহিত্যের মনেও এক পসলা বৃষ্টি নামুক । একবার ও পরিস্কার দেখতে পাক ওদের সম্পর্ক, অযথা বিয়েকে বোঝা ভাবছে। রুবিনারও কয়দিন আগে তাই মনে হত ,এখন না। বিশেষ করে নিজের দেহে একটি ছোট্ট প্রানের অস্তিত্ব জানতে পেরেছে যখন। গতকাল অফিস ফেরত ক্লিনিক থেকে রিপোর্ট আনার পর। 

ওর গান শুনতে শুনতে সাহিত্যের চোখে পড়ে গেল খাটে রাখা রিপোর্টের খামটা । খুলেছে ও, ধীরে ধীরে ভ্রু কুঁচকে যাচ্ছে। বৃষ্টি💦 ঝরছে ,ঘর থেকে নিঃশব্দে বেরিয়ে যায় সাহিত্য, গান গায় রুবিনা " রিমঝিম এই শাওন..... সুলগ সুলগ যায় এ মন...... "


 ©কপিরাইট সর্তাধিকারী শর্মিষ্ঠা ভট্ট🙏

শনিবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২১

যদি এমন হতো। কলমে --(-পারমিতা মন্ডল ।)

যদি এমন হতো,,,,,.

পারমিতা মন্ডল ।

শ্রীচরনেষু মা ,
             আজ অনেক দিন পর আবার তোমাকে  লিখতে  বসলাম মা।  ফোনের যুগে চিঠি লেখা কেন এটা মনে হতেই পারে ।  আসলে মনের কথা মনে হয় একমাত্র চিঠিতেই ভালো ভাবে প্রকাশ করা যায় ।জানি তুমি আমার নিজের মা না । আমার শাশুড়ি মা ।  তাও আবার প্রাক্তন । কিন্তু তোমার সাথে তো আমার সেই তথা কথিত শাশুড়ি বৌয়ের সম্পর্ক ছিল না । আমরা তো মা মেয়ের মতো ছিলাম  । তুমি যে আমাকে এতো ভালো বাসতে তা , তোমার কাছে যখন ছিলাম  তখন বুঝতে পারিনি ।আজ মনে  হয় সব শাশুড়ি মা যদি তোমার মতো হতো  তাহলে অনেক মেয়ে বধূ  নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা পেত ।  আমার মতো ঘুরে দাঁড়াতে পারতো ।আসলে আমরা মেয়েরাই ,নিজেরা নিজেদের শত্রু ।

   তোমার ছেলের সৌম্যর সাথে আমার পরিচয় হয়েছিল সেই কলেজ লাইফে । প্রথম দিকে আমরা খুব ভালো বন্ধু ছিলাম । তারপর আস্তে আস্তে আমাদের প্রেম হয় ।  আমি শুনেছি  তুমি নাকি আমাদের সম্পর্কটা  মেনে নিতে চাওনি । আসলে সৌম্য তোমার একমাত্র ছেলে ছিল তো । তুমি হয়তো ওর জন্য রূপে লক্ষ্মী, গুনে স্বরস্বতী চেয়েছিলে । কিন্তু আমি তো তা ছিলাম না ।  পড়াশোনায় ভালো ছিলাম ঠিকই  ,কিন্তু রূপ ?  সেটা তো  আমার একদম ই  ছিল না ।ছোট বেলায় আমার   একটা দুর্ঘটনা ঘটেছিল  ।  কালিপুজোর  দিন   বাজি পোড়াতে গিয়ে  গায়ে আগুন  লেগে গিয়েছিল । ।তখন  আমার মুখের অনেকটা অংশ পুড়ে  যায় । সেই দাগ যে আজও আমার  সারা মুখে আছে । তাই প্রথমেই  তুমি আমাকে রিজেক্ট  করে দিয়েছিলে । কিন্তু ছেলের জেদাজেদিতে  শেষ পর্যন্ত রাজি হয়েছিলে । তোমার ছেলে যে আমাকে ভালো বেসেছিল । 

         কিন্তু ভালো বাসলেই তো হলো না । সেই সম্পর্কটাকে তো টিকিয়ে রাখতে হবে । ঝোঁকের মাথায় মুখপোড়া মেয়েকে ভালো বেসেছিল ।  সমাজে একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চেয়েছিল হয়তো । তাই বিয়ে করেছিল । তারপর আস্তে আস্তে মোহ কেটে  যায় । নিত্য অশান্তি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অঙ্গ হয়ে ওঠে। তুমি সবই  বুঝতে পারতে । সেদিন আমি লুকিয়ে শুনেছিলাম তুমি ছেলেকে শাসন করছিলে । বকাঝকা করছিলে  আমার সাথে খারাপ ব‍্যাবহার করেছে  বলে । কিন্তু সেকথা আমাকে বুঝতে দাওনি । আমিও মা ছেলের মধ্যে ঢুকিনি ।
      
  কিন্তু অত‍্যাচারের মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলেছিল ।  শুনেছিলাম অফিসের  একটি মেয়ের সাথে সৌম্য সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছে। । সে ছিল বসের মেয়ে । তাকে হাত করতে পারলে অনেক উচু  পোস্টে ওঠা যাবে ।তাই হয়তো সৌম্যর এই পরিবর্তন । আসলে ঝোঁকের মাথায় বিয়ে করেছিল তো । পরে  মুখ পোড়া মেয়েকে আর ভালো লাগতো না হয়তো ।  সেখানে  বসের মেয়ে খুব সুন্দরী ছিল । তুমিও ওর এই অধ‌ঃপতন মেনে নিতে পারছিলে না । তাই তোমার সাথেও ওর ঝামেলা  লেগে যাচ্ছিল ।
 

কিন্তু  মা আমরা তো ভালো বেসে বিয়ে করেছিলাম । তোমার ছেলে কেন  এতো তাড়াতাড়ি সব কিছু ভুলে গেল  ?  আমি তো আজও ওকেই ভালোবাসি  ।  তোমার মনে আছে  সেদিন প্রথম বার ও ড্রিংক করে বাড়িতে ফিরেছিল  ?  তুমি  যাতে বুঝতে না পারো তাই তাড়াতাড়ি ওকে টেনে ঘরে নিয়ে গিয়েছিলাম । নীচে আর নামতে দেইনি । উপরেই   খাবার নিয়ে গিয়েছিলাম । তুমি হয়তো বুঝতে পেরেছিলে । কিন্তু আমার সামনে কিছু বলোনি । শত হলেও ও তো তোমার সন্তান । কিন্তু বেশীদিন লুকিয়ে রাখা গেল না ।  এরকম সে প্রায় ই করতে লাগলো । তুমিও এক প্রকার অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলে সৌম্যর  ব‍্যাবহারে । আর ওর চোখে তখন রঙিন দুনিয়ার হাত ছানি ।

        সৌম্যর সাথে রাগারাগি হলে , আমি না খেয়ে থাকতাম । আমার মনে আছে , তুমি এসে ধমকের সুরে বলতে " না খেয়ে থাকলে লড়াই করবে কি করে ?. ঐতো চেহারা !  গায়ে একটুও মাংস নেই ।। তারপর মুখটাও পোড়া ।"  আমি জানতাম আমার মুখে পোড়া দাগ আছে বলে তুমি তোমার ছেলের বৌ হিসাবে কখনোই আমাকে মানতে পারনি মন থেকে । কখনো ভালো করে কথাও বলতে না ।
কিন্তু মনে মনে এতোটা ভালো বাসতে সেটা কখনোই বুঝতে   দাওনি ।  আজ আমি  বুঝতে পারি ।  আসলে তুমিও তো মেয়ে । তাই একজন মেয়েকে অত‍্যাচারিত হতে দেখে তোমার মন কাঁদতো । কিন্তু কিছু বলতে পারতে না । কারণ যে অত‍্যাচার করছে  সে তোমার বড় স্নেহের ধন ।  তোমার অন্ধের জষ্ঠি যে সে ।

   অনেক চেষ্টা করেও  সৌম্যকে  শোধরানো গেলনা ।  এর পর থেকে সৌম্য প্রায় প্রতিদিনই ড্রিংক করে ঘরে ফিরতে লাগলো । সেদিনের কথা তোমার হয়তো মনে  আছে মা । সৌম্য প্রথমবার  আমার গায়ে হাত তুলেছিল । শরীরে যতটা না ব‍্যাথা লেগেছিল তার চেয়ে বেশী ব‍্যাথা লেগেছিল মনে । এই মানুষটাকে আমি ভালো বেসেছিলাম  !! যে আমার জন্য পাগল ছিল । তোমাদের সবার বিরুদ্ধে গিয়ে আমাকে বিয়ে করেছিল ।  আমার বাবা অবশ্য বলেছিল লেখা পড়া শেষ করে আগে নিজের পায়ে দাঁড়াতে ।  তারপর বিয়ে করতে । সেদিন আমিও  অবশ্য বাবার কথা শুনিনি ।  তাহলে আজ  হয়তো আমাকে  এই দিনটি দেখতে হতো না ।

  তোমার ছেলের এই ব‍্যাবহার তোমাকেও  খুব কষ্ট দিয়েছিল । তাই তুমি আমার উপর রাগ দেখিয়ে আমাকে বাড়ি  ছেড়ে চলে যেতে বলেছিলে  ।তোমার আসল উদ্দেশ্য ছিল আমাকে সাহায্য করা । তুমি বুঝতে পেরেছিলে  যে তোমার ছেলে খারাপ সঙ্গে পড়েছে । ওখানে থাকলে  তুমি আমাকে বাঁচাতে পারবে না । সৌম্য তোমার সাথেও খারাপ ব‍্যাবহার করতো ।  কিন্তু তোমার তো ছেড়ে যাওয়ার কোন জায়গা ছিল না । তাই তুমি আমাকে বাঁচাতে চেয়েছিলে ।   তুমি বুঝে গিয়েছিলে সৌম্য আর আমার সাথে থাকতে চায় না । কারণ এরকম অশান্তি ও মাঝে মাঝেই করতো । আর  এটা সে ডিভোর্স এর জন্যই করতো । ওর ইচ্ছা ছিল বসের মেয়েকে বিয়ে করা । তুমি তাতে বাধা দিচ্ছিলে বলে ও তোমাকেও ছাড়তো না । সেদিন তোমাদের যখন কথা কাটাকাটি হচ্ছিল তখন আমি শুনেছিলাম আড়াল থেকে । তুমি ভেবেছিলে আমি হয়তো ঘুমিয়ে পড়েছি । কিন্তু না আমি লুকিয়ে দেখেছিলাম ।  হঠাৎ  তুমি  উত্তেজিত হয়ে সপাটে  এক চড় কষিয়ে দিয়েছিলে  সৌম্যর  গালে  ।  সৌম্য ও উল্টে তোমার হাত শক্ত করে ধরেছিল । তোমার খুব লাগছিল । কিন্তু ভয়ে আমি সামনে যেতে পারিনি । ও তখন মানুষ ছিল না । তুমি খুব কষ্ট পেয়েছিলে সেদিন । এই ছেলের  জন্যই তো তুমি সারা জীবন এতো কষ্ট করেছো । শশুর  মহাশয় মারা যাওয়ার পর একা হাতে সৌম্যকে মানুষ করেছো ।আমি ওর কাছেই শুনেছি ।  কখনোই তুমি ওকে কষ্ট পেতে দাওনি । কিন্তু আজ কেন সে এরকম হয়ে গেল ??
 

      আমার আজও মনে আছে সেদিন তুমি আমার সাথেও খুব অশান্তি করেছিলে । বেরিয়ে যেতে বলেছিলে বাড়ি থেকে । আসলে তুমি চেয়েছিলে ঐ পরিবেশে থেকে , আমি যেন আমার জীবনটাকে নষ্ট না করি । ছেলেকে  ফেরানোর আর কোন রাস্তা না  পেয়ে  তুমি অন্তত  আমাকে বাঁচাতে চেয়েছিলে ।   আমার জীবনটাকে নষ্ট হতে দিতে চাওনি  তুমি  ।  আমাকে তাড়িয়ে দিয়েছিলে । কারণ তুমি জানতে তাড়িয়ে না দিলে আমি যাবো না । তুমি গোপনে আমার বাবাকে ফোন করে সব জানিয়ে ছিলে । নিজের ছেলের সমস্ত অপকর্মের কথা স্বিকার করে বাবাকে আমার পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ করেছিলে ।  ভালোবেসে বিয়ে করেছিলাম বলে আমিও কখনো বাবা  মাকে এসব কথা বলতে পারতাম না । এখানে অনেকেই হয়তো বলবে এমন আবার হয় নাকি ?  ছেলের থেকে ছেলের বৌ আপন বেশী ?  কিন্তু এটা কেউ বুঝবে না যে তুমি একটা মেয়েকে অত‍্যাচারের হাত থেকে বাঁচাতে চেয়েছিলে ।

 
     তারপর কেটে গেছে আরো সাত সাতটা বছর ।  তোমাদের বাড়ি থেকে চলে আসার পর তোমার ছেলে ডিভোর্সের ফাইল করে ।  এক বছরের মধ্যে আমাদের ডিভোর্স হয়ে যায় । আমি আবার নতুন করে পড়াশোনা শুরু করি । আমার বাবার তেমন আর্থিক সামর্থ ছিল না । আমাকে চাকরির প্রশিক্ষন দেওয়ার মতো । তুমি গোপনে বাবাকে টাকা পাঠাতে ।  এখন আমি সব জানি ।  আসলে তোমার ছেলের অপরাধ  তুমি কিছুটা কমাতে চেয়েছিলে ।  আর নিজের অজান্তে আমাকে ভালো বেসে ফেলেছিলে ।

      আজ আমি চাকরি করি মা । তোমার ছেলের থেকেও অনেক উঁচু পোস্টে ।  আমাকে কোন বস ধরতে হয়নি । নিজের চেষ্টায় আর তোমাদের সহযোগিতায় আমি এই চাকরি পেয়েছি । এখন কি তুমি আমার কাছে এসে থাকতে পারোনা মা ??  শুনেছি তোমার ছেলে বসের মেয়েকে বিয়ে করেছে ।  কিন্তু ওরা তোমার সাথে একটুও ভালো ব‍্যাবহার করে না ।  তাই বলছি তুমি আমার কাছে চলে এসো মা । আমি তো একাই থাকি ।  বাকি জীবনটা না হয়  মা মেয়েতে এক সাথে   কাটিয়ে দেব ।  তুমি  আসবে তো মা ??  তোমার উত্তরের প্রতিক্ষায়   রইলাম ।  ভালো থেক মা ।

                ইতি ------
                    তোমার মেয়ে  সাথীলেখা ।
                          ( প্রাক্তন  পুত্রবধূ )
   ( পৃথিবীর সব শাশুড়ি বৌমার সম্পর্ক গুলো যেন এমনই হয় , এই প্রার্থনা করি ।)


বিষয় :: আধ্যাত্মিক আলোচনা # নাম :: দ্বিষো জহি # লেখায় :: শর্মিষ্ঠা ভট্ট

 বিষয় : আলোচনা # নাম : দ্বিষো জহি # লেখায় শর্মিষ্ঠা ভট্ট। 


তনয়া রায় ,

একুশ বাইশ  বছরের মেয়ের মা। সংসার করেন মন দিয়ে। এত নামী কলেজে ভর্তি হয়েছে তার মেয়ে শুধু ঈশ্বরের ইচ্ছাতে। এত ভালো রেজাল্ট তাঁর কৃপা ছাড়া আর কি! এসব মনে করলেই বিগলিত হয়ে জান। যদিও মেয়ে কর্মযোগে বেশি বিশ্বাসী। এবং মায়ের অতিরিক্ত ভক্তিমূলক কর্মকাণ্ডের শিকার হয়ে বিদ্রোহ করে। এমন করে দুই মতবাদে বেশ চলে যাচ্ছে ওদের ছোট সংসারটি । মেয়ে জানে বাবার কাছে মার বিরুদ্ধে নালিশ চলবে না। বাবা তৎক্ষণাৎ মাথায় হাত ঠেকিয়ে  বলবে " মা যা করেন ভালোর জন্য। " মেয়ে ঠিক মতো বোঝে না আসলে কার কথা বলল বাবা দেবী মা! না তার মা তনয়া! মার এই পূজা অর্চনার ফলেই কি ভালো আছে তারা, এটা বলতে চাইছে বাবা! এত ভাবার মতো ধৈর্য্য ওদের কোথায়! স্কুটি নিয়ে বেরিয়ে পড়ে থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য রক্ত দিতে, যা সে প্রায়শই দিয়ে থাকে। 


তনয়া মনে মনে সংকল্প করেছে এই নতুন কলেজে যদি মেয়ের অসম্ভব ভালো রেজাল্ট হয়, সপরিবারে পায়ে হেঁটে দশ কিলোমিটার পথ মন্দির আসবেই। " রূপ দেহি ধনং দেহি, যশং দেহি....... " গানটি মনে পড়ে যায়। তিনিই তো এক মাত্র, তিনিই পারেন দিতে। মানুষ তো নিমিত্ত মাত্র। সমস্ত কিছু তাঁর কাছে সমর্পিত, ঈশ্বর ছাড়া কে এমন করে দেন! তনয়ার সুখী পরিবার তার নির্দেশেই চলছে, তাঁর অপার দানে তনয়ার সুখী পারিবারিক জীবন! 🙏শত কটি প্রনাম তাঁকে। ফোন বেজে উঠল, এখনও মেয়েটা এল না! চিন্তা নিয়ে এগিয়ে গিয়ে ফোনে হাত দিয়ে পাথর হয়ে যান। হসপিটাল থেকে ফোন.... প্রচন্ড আঘাত পেয়ে মেয়ে হসপিটাল, রক্তদানের পর ফেরার পথে এ্যাক্সিডেন্ট! হাতের ওপরের ভাগের হাড় টুকরো হয়েছে। বিশাল ব্যান্ডেজ, মেয়েকে সেবা করা ছাড়া ঠাকুর ডাকতে ভুলেই গেল তনয়া। লোহার রড দিয়ে ঠিক করা হয়েছে। হাত চলছে না, আর তিনমাস নেই পরীক্ষার। অসাধারণ প্রিপারেশন করা মেয়েটা একবছর পিছিয়ে যাবে! না তানিয়া রাগ করতেও ভুলে গেছে। এত পূজার এই ফল!! এই প্রতিদান!! 


হাত একে বারে ঠিক দুবছর পর। লোহার রড বের করা হয়ে গেছে। মেয়ে প্রচন্ড আত্মবিশ্বাস নিয়ে প্লাস্টার সমেত পরীক্ষা দিয়েছিল। ডাক্তার কে অনুরোধ করাই ছিল আঙুল যেন চলে এমন করে প্লাস্টার হোক। ইউনিভার্সিটি টপার গোল্ড মেডেলিস্ট 

তনয়ার মেয়ে। তিনি দেন, তিনি নেন..... তনয়া আবার রক্ষা করার জন্য তাঁকেই ডাকেন। মেয়ে ভাবে তার ভালো কর্মের ফল হয়ত। বাবা বলেন " মা যা করেন ভালোর জন্যই করেন। " যাই হোক ঘটনা ঘটবেই আর পজেটিভ চিন্তার সাথে গ্রহণ করতে হবে। হয়ত এই শক্তিকেই "তিনি বা ঈশ্বর বলতে পারি, কিংবা কর্মযোগ কিংবা বিশ্বাস।" যাই হোক ভালো ভাবে সুন্দর চিন্তার সাথে বাঁচতে তো হবেই। 

©কপিরাইট সর্বাধিকারী শর্মিষ্ঠা ভট্ট 🙏🙏

শুক্রবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২১

# বিষয় - বিজ্ঞান,# নাম- জীবন জিজ্ঞাসা পর্ব - ৫, মৃদুল কুমার দাস।

 নাম- 'জীবন জিজ্ঞাসা'


             ( বিজ্ঞান বিষয়ক)


                    পর্ব- ৫
     ✍ - মৃদুল কুমার দাস।


  মহাকর্ষ তরঙ্গ বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের বিষয়। এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড আদি অন্তহীন এক মহাশূন্য। তা বর্ণনাতীত। ও ছাড়া সবই অচল। এই মহাশূন্যে সৌর পরিবারকে কেমন লাগে? ভাবতে অবাক লাগে এরকম একটা অঙ্ক মাথায় গিজ গিজ করে বলে। কি সে অঙ্ক!

লম্বা খাতার পৃষ্ঠায় কলমের কালি দিয়ে একটা বিন্দু বসানো হল। বিন্দুটির কয়েক কোটি ভগ্নাংশের একটা অংশ যা লাগে বা যে স্থান জুড়ে থাকে মহাশূন্যে সৌর পরিবারকেও ঠিক তেমনি লাগে। আর সেখানে পৃথিবীকে কেমন লাগে এ থেকে বুঝে নেওয়া সহজ।এই মহাশূন্যে সদাই তরঙ্গ প্রবহমান। এই তরঙ্গ সম্পর্কে নিউটন বললেন দুই বস্তুর মধ্যে একটা অদৃশ্য আকর্ষণ বল। সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যে এই আকর্ষণ বল কাজ করে বলে সূর্যের চারধারে পৃথিবী ঘুরতে থাকে। কোনো কারণে সূর্য হারিয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবীও তার কক্ষ পথ থেকে চ্যুত হয়ে হারিয়ে যাবে।নিউটনের এই ব্যাখ্যা আইনস্টাইন ভুল বলে অভিহিত করলেন। তিনি বললেন সূর্যের আকর্ষণ বলে তার চারপাশের স্পেশ দুমড়ে মুচড়ে যাচ্ছে। আর পৃথিবী এই দুমড়ানো মোচড়ানো স্পেশের মধ্য দিয়ে চলতে গিয়ে সূর্যের চারদিকে ঘুরতে বাধ্য হচ্ছে।

যার যত ভার তার তত আকর্ষন বল। আর তার নড়াচড়া মানে একটা নিস্তরঙ্গ স্পেশে তরঙ্গ সৃষ্টি করা। তার থেকে তরঙ্গ যেদিকে ছুটবে সেই দিক বরাবর স্পেশ উপর নীচে প্রসারিত হয় তো, আবার সঙ্কুচিত হয়। অর্থাৎ উপর নীচ প্রসারিত হলে ডান বাম সঙ্কুচিত হবে। আবার উপর নীচ সঙ্কুচিত হয় যখন তখন ডান বাম প্রসারিত হবে। স্পেশ এরকম লম্বা-রোগা এবং বেঁটে-মোটা হওয়ার মধ্য দিয়ে মহাকর্ষীয় তরঙ্গ আলোর বেগে ছুটবে। মহাকর্ষীয় তরঙ্গ আলোর বেগের মতো গতি সম্পন্ন। এই আলোক তরঙ্গ হলো তড়িৎ এবং চুম্বকের প্রভাবের মিলিত দৌড়ের ফল। দৌড়নতেই তার স্বভাব। কেননা সে তড়িতাধান কণা বলেই। অনুরূপ স্বভাবেরই পরিচয় হলো মহাকর্ষীয় তরঙ্গ। এই তরঙ্গ সৃষ্টি অহরহ হচ্ছে, কেননা মহাশূন্যে ভারী বস্তু যে অহরহ নড়াচড়া করছে। এই ভার অনুযায়ী স্পেশে তরঙ্গ দিগ্বিদিক শূন্য হয়ে আলোর বেগে ছুটছে। এই ছুটন্ত তরঙ্গের ধারায় পৃথিবী সচল।

আমরা যে বলি নেটওয়ার্ক নেই। এই নেট ওয়ার্ক হলো ঐ মহাকর্ষীয় তরঙ্গ। সুউচ্চ বড় বড় টাওয়ার পেতে ধরা হচ্ছে তরঙ্গ। জি,পি,এস-এর কর্মকাণ্ড মহাকর্ষ তরঙ্গ নিয়ে।

দুই ব্ল্যাকহোলের সংঘর্ষে স্পেশে যে তরঙ্গ সৃষ্টির কথা বলেছি, লাইগা তে ধরা পড়ার কথা বলেছি, তাই হল মহাকর্ষীয় তরঙ্গ।

এই মহাকর্ষীয় তরঙ্গ হলো সামুদ্রিক তরঙ্গের মতো। সামুদ্রিক তরঙ্গ সৃষ্টি হয় জলকণাদের মধ্যে প্রবল সংঘাতে। আর মহাকর্ষীয় তরঙ্গের তড়িৎ কণার ভারী নক্ষত্রদের ঘুর্ণনসহ নানা ঘটনার এক ফলশ্রুতিতে তরঙ্গের দৌড় শুরু হয়। এই তরঙ্গ হলো দুমড়ানো মোচড়ানো এক আকর্ষণ বল।

এই তরঙ্গ সম্পর্কে নিউটনের মতের সঙ্গে আইনস্টাইনের  মতের পার্থক্য কোথায়। পার্থক্য হল নিউটন বলেছিলেন সূর্য কোনো কারণে হারিয়ে গেলে পৃথিবীও সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে যাবে। কিন্তু আইনস্টাইন বললেন, "

না সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে যাবে না। কারণ সূর্যের আকর্ষণ বলে তার চারপাশের স্পেশ দুমড়ে মুচড়ে যাচ্ছে। আর পৃথিবী এই দোমড়ানো মোচড়ানো স্পেশের মধ্য দিয়ে চলতে গিয়ে সূর্যের চারধারে ঘুরতে বাধ্য হচ্ছে। অর্থাৎ গতিপথের বদল হচ্ছে। কোনো কারণে সূর্য উধাও হয়ে গেল , পৃথিবী সেই খবর সঙ্গে সঙ্গে পাবে না। সেই খবর আসবে মহাকর্ষীয় তরঙ্গের মাধ্যমে। পৃথিবী তো একটা গতিতে আছে। সেই তরঙ্গ আসতে কিছুটা সময় লাগবে। যেমন লাটাইয়ে সুতো কাটার সঙ্গে সঙ্গে কিন্তু ঘুড়ি টাল খায় না। কাটার শক্তি দুরন্ত গতিতে ঘুড়ির কাছে পৌঁছতে কিছুটা সময় যে লাগে তারপর ঘুড়ি টাল খেতে শুরু করে,এও ঠিক তেমনি।"

এই মহাকর্ষীয় তরঙ্গের জন্য সৌরপরিবার ও পৃথিবীর সম্পর্ক কেমন তাই নিয়ে পরের পর্ব।


              (চলবে)


  


  @কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।


    


কি পেলাম

 



*#বিষয়:_এই জন্ম এই জীবনে*
*#কবিতা:_ কি পেলাম*
*#কলমে:_সৌগত*
এই জন্ম এ জীবন কি দিলে আমায়?
একটা মেশিনের মতো হৃদয়হীন যন্ত্র!
কি দিলে আমায়?দুঃখের শৈশব
নাকি সুখের পৌরত্ব,এইকি জীবনের মানে?
লড়াই ভরা জীবন তুমি কি
সত্যি দিয়েছ মনুস্বত্ব ভরা প্রকৃত বিশ্বাস
অবিশ্বাসের কর্তব্য ভরা জীবন
তাই কি সবাই মুক্তি চায়?
কি দিলে আমায়,দেবে যদি
কেন আগে দিলেনা, আরো ভালো করে বাঁচতে
আরো বেশী করে ভালোবাসতে
আমার না থাকার শুন্য স্থানে
আরো বেশি করে মনে রাখতে।
       -----সমাপ্ত----

ছোটবেলা✍️নন্দিনী তিথি

 


--- এই তুই  চলে গেলি আর ফিরলি নাহ্! ফিরে আয়।

--- না,কেন ফিরবো? 

--- অমন করিস না দেখ।ফিরে আয়।

    তুই ফিরলে যে আমি সেই আদর ফিরে পাবো!আমার 

নরম নরম পা দুটোকে সবাই চুমু খাবে।গুলুমুলু গাল দুটোতে 

সবাই মধুমাখা কামড় দিয়ে আদরে ভরিয়ে দিবে।আবার 

সেই উপনামের ঝুড়িখানা ফিরে পাবো।একটু কাঁদলে, 

সেই কান্না থামানোর জন্য কত খেলনা হাজির হবে,কত 

গল্প,কত গান শুনতে পারব।

--- না, আর ফিরবো না। আমি যখন ছিলাম, আমাকে তো 

     অবহেলা করতি শুধু। এখন আমাকে কেন চাইছিস!

কেন আবার ফিরে আসতে বলছিস?   

--- আমি বড় ভুল করেছিলাম রে। এত অভিমান করে 

থাকিস না আমার উপর!!                               

--- ওসব কথা ছাড় তো।।আর তোর কাছে ফিরবো না।

--- এত রাগ আমার উপর তোর?জানিস তোকে কতটা মিস 

     করি.......

কোনো রেস্টুরেন্টে গেলে রকমারি খাবারের তালিকা দেখে

শুধু তোর কথাই মনে পড়ে রে।।তুই ফিরে এলে এমন হাতে 

ধরে খেতে হত নাহ্।কোলের দোলনায়, পা বিছানো দোলনায় 

চড়ে হা করলেই হত।

সব কাজের মধ্যে তোকেই শুধু বেশি মিস করি।

---  কেন এত ভাবিস আমার কথা। আমি যখন ছিলাম তখন 

শুধু "বড়" কে চেয়েছিস।তো পেয়ে গেছিস,আর কি!!

--- বললাম তো ভুল করেছি।মাফ করে দে।তুই ফিরে আয় 

    আমার প্রিয় "ছোট"।।তুই ফিরে আয় ফিরে আয়........

Copyright © All Rights Reserved

Nandini Tithi.


আমাকে একটা বসন্ত ধার দেবে

 


জীবন আমাকে কটা বসন্ত ধার দেবে

বেকার ছেলেটার স্বপ্ন আছে বাকি

আমায় একটু সময় ধার দেবে।

শ্যাওলা পড়া ইঁটের উপর 

প্লাস্টার ছিল বাকি,

সংসারে এখনো দরকার আছে

সবার বাঁচার চোখ এখনো

চেয়ে আছে আমার দিকে

আমায় কি সময় দেওয়া যেতে পারে।

জীবন আরো কিছু বসন্ত চাই

আমার জন্য নয় ,আমার ভালোবাসার জন্য,

যে মুখ বুজে লড়াই করে আজ ক্লান্ত

তাকে নতুন করে ভালোবাসার জন্য

কটা দিন সময় কি দিতে পারো।

নিজের জন্য ভাবতে গিয়ে, নিজের

কথা ভুলে গেছিলাম, কটা রাত

আমায় ধার দিতে পারো নিজের

কথা ভাববো,জীবন তুমি কি

পারবে কিছুদিন মৃত্যুকে ভুলে থাকতে

আমায় কটা বসন্ত ফিরিয়ে দিতে।

শরীর তুমি বসন্তের দেওয়া সময়

নেবে তো,হবেতো সঙ্গী 

অন্যায়ের সাথে করতে যুদ্ধ,

এতদিন বাঁচার স্বার্থে যা করেছি সহ্য।

জীবন একটু সময় ধার দেবেনা

কটা দিন মানুষের মত বাঁচতে

মনুস্বত্বহীন এই জীবন নিয়ে

আজ আমি বড়ো ক্লান্ত।

বসন্ত দাওনা কিছুটা সময়

তোমায় ভালো করে চিনতে

কোকিলের ডাকে ঘুম ভাঙতে,

গাছের তলায় নদীর ধারে

নিজেকে নিজের মতো করে চিনতে

সময় থামো, কিছু সময় যাও থমকে

দাও না আমাকে 

আমার মতো করে বাঁচতে।।

          ----- সমাপ্ত----




বৃহস্পতিবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২১

বিষয়: আধ্যাত্মিক আলোচনা# হিমালয় 📄 লেখায় শর্মিষ্ঠা ভট্ট

 বিষয় : আধ্যাত্মিক আলোচনা #হিমালয়


বলা হয়" দেবতাস্য হিমালয় ", হিম + আলয় এ দেবতারা থাকেন। হিমালয়ের বিশালতায় আধ্যাত্মিক বোধ উদিত হয়। হিমেল স্যাতে স্যাতে  নিস্তব্ধতায়, অসংখ্য ঝিঁঝিঁর আওয়াজ ও বিশালাকার গাছের মধ্যে একা বসে থাকলে একটি প্রশ্ন আসে " হে অসীম এই অদ্ভুতের সৃষ্টির কর্তা কে? "
কৈলাস পর্বতের মাঝে অপার অসীম রহস্য যা বিজ্ঞান ও স্তব্ধ হয়ে ভাবে ।  এক আধ্যাত্মিক ঢেউ আবেশে ভাসায়। প্রকৃতির মধ্যে আধ্যাত্মিক চিন্তন ভেসে বেড়ায়। কেদারনাথে কিছু বছর আগে ঘটে যাওয়া ঘটনা। হঠাৎ বানে বিদ্ধস্ত সব  , কেবল মন্দির ও মূর্তি রক্ষা পেয়েছিল মাত্র একটি পাথর গড়িয়ে এসে। কি ছিল এই ঘটনায়! আকস্মিকতা? নাকি ভক্তি! হিমালয় ভাবায়। অদ্ভুত রহস্য এক অলৌকিক জগতে নিয়ে যায়, তাই বছরের পর বছর সাধু সন্ন্যাসী ভীড় জমিয়েছেন। কিসের আশায়? কেবল নিস্তব্ধতা! না কি অলৌকিক কোন শক্তি তরঙ্গের সত্যিই অনুভূতি হয়? সেই অপার অসীম রহস্য আজও আধ্যাত্মিক দৃষ্টি কোনে হিমালয় আলোচিত হয়। প্রসঙ্গত একটি খবরের কাগজের কার্টিং দিলাম, বিজ্ঞান ও স্বিকৃতি দেয় অদ্ভুত অদৃশ্য শক্তির। বৌদ্ধ মঠগুলি হিমালয়ের প্রত্যন্ত কোনে বিশাল বিশাল মনেস্ট্রিত বানিয়েছে। সহস্র বছর ধরে তাদের এই নীরব চর্যা, তাদের অসীম শক্তি দান করেছে। বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের সে শক্তি " নাস্তিক পন্ডিতের ভিটে" তে আলোচিত। খ্রীষ্টানদের চার্চ ও মিশন শান্তি পূর্ণ অবস্থান করে ওখানে। পরিশেষে বলি হিমালয়ের অস্তিত্ব ভারত ভূমিকে ভৌগোলিক ঐতিহাসিক বৈজ্ঞানিক ও আধ্যাত্মিক সাংস্কৃতিক দিকে প্রভাবিত করে চলেছে সহস্রাধিক বছর ধরে।
©কপিরাইট সর্বাধিকারী শর্মিষ্ঠা ভট্ট 🙏🙏

# বিষয়- বিজ্ঞান, # নাম- 'জীবন জিজ্ঞাসা'- পর্ব- ৪,মৃদুল কুমার দাস।

  # নাম-  'জীবন জিজ্ঞাসা'
             (বিজ্ঞান বিষয়ক)
                  পর্ব- ৪

   ✍ - মৃদুল কুমার দাস। 
মহাকর্ষীয় তরঙ্গের আবিষ্কর্তা নিউটন। নিউটন তারই ভিত্তি। আর আইনস্টাইন দেন তার পূর্ণাঙ্গ পরিণতি। অর্থাৎ নিউটনের আবিষ্কৃত মহাকর্ষীয় তরঙ্গের ব্যাখ্যায় যা ফাঁকফোকর ছিল আইনস্টাইন তা সংশোধন করে পূর্ণাঙ্গ পরিণতি দিয়েছিলেন।
   স্যার আইজাক নিউটন হলেন পৃথিবীর সেরা তিন গণিতজ্ঞের অন্যতম একজন। তাঁর সেরা আবিষ্কার মহাকর্ষ সূত্র। আর এই মহাকর্ষ সূত্র আবিষ্কার করতে গিয়ে গণিতে উদ্ভাবন করেছিলেন ক্যালকুলাস। এই ক্যালকুলাসকে নিউটন শুধু মহাকর্ষ সূত্রের কাজে লাগালেন তাই নয়, দুনিয়া যেন হাতে পেয়ে গেল আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ,বা সবার কাছে দুনিয়া এলো যেন হাতের মুঠোয়! এই  ক্যালকুলাস থেকে আবিষ্কৃত হল কম্পিউটার, সেলফোন, মাইক্রোওয়েভ উনুন, টেলিভিশন, আল্ট্রাসোনোগ্রাফি,জি.পি.এস.দিক নির্দেশক,অ্যাটম বোমা... তালিকায় কি নেই! এখন মহাকর্ষীয় তরঙ্গের কথা কিছু সময়ের জন্য সরে এসে ভেরি ইন্টারেস্টিং এই ক্যালকুলাস নিয়ে আলোচনার একটু মোড় ঘুরিয়ে দেখে নিই ক্যালকুলাসের অবদানে দুনিয়া কেমন খুল যা সিমসিম হয়েছিল ও এখনো হচ্ছে!
   আসি জীববিজ্ঞানে ক্যালকুলাস ব্যবহারের কথায়। সে জন্যই তো বললাম ইন্টারেস্টিং!
   জীববিজ্ঞানেও ক্যালকুলাস প্রয়োগের কথা আমেরিকার কর্ণেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের অধ্যাপক স্টিভেন স্ট্রোগাৎজ  তাঁর 'ইনফিনিট পাওয়ার্স: হাই ক্যালকুলাস রিভিলস দ্য সিক্রেটস অব দ্য ইউনিভার্স' বইখানিতে একথা জানিয়েছেন। তিনি সরাসরি জানিয়েছেন AIDS রোগের চিকিৎসায় ক্যালকুলাস ভাইরাসের পরিসংখ্যান বিচার করে ওষুধ আবিষ্কারে যথাসাধ্য সাহায্য করেছে। অর্থাৎ AIDS এগোয় যে তিন পর্যায়ে - প্রথম পর্যায়ে কয়েক সপ্তাহে রোগ প্রবল।
  দ্বিতীয় পর্যায়ে রোগের প্রাথমিক লক্ষণ প্রশমিত- শরীরের ইমিউনিটি পাওয়ারের সঙ্গে ভাইরাসের চলে প্রবল সংঘাত,সে দশবছর পর্যন্তও শরীর ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই দিতে পারে।
  তৃতীয় পর্যায়ে শরীর চলে যায় রোগের কবলে। ভাইরাস নিয়ে নেয় বিধ্বংসী রূপ। তখন আর তাকে রোখার কোনো উপায় নেই। এই এইচ আই ভি ভাইরাস-চরিত্রের এই যে উত্থান,পতন,আবার উত্থান - এই তিন ধারায় গতিপ্রকৃতি, ভাইরাসের সংখ্যার উত্থান-পতন-উত্থানের হার পর্যালোচনায় সাহায্য করে ক্যালকুলাস। যেমন-
দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রতিদিন, প্রতি সেকেন্ডে রোগীর রক্তে ভাইরাসের বোঝা কী হারে বাড়ছে বা কমছে, অথবা অসংক্রামিত টি কোষের সংখ্যা কী হারে কমছে বা বাড়ছে, ওষুধ প্রয়োগের দ্বারা ও যাদের ওষুধ প্রয়োগ করা হচ্ছে না - এঈ দুধরনের রোগীর মধ্যে ভাইরাসের সংখ্যা নির্ণয় করতে ক্যালকুলাস ঠিক ঠিক রাস্তা দেখাতে লাগল। এই ক্যালকুলাসই পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় সাহায্য করে ওষুধের পরীক্ষা নীরিক্ষাকে সাহায্য করতে থাকে। আজ বিশ্ব থেকে রোগ নির্মূলের ওষুধ বের হয়নি সত্য কিন্তু ঐ দ্বিতীয় পর্যায়ে রোগীকে আরো কিছুটা দীর্ঘায়ু করার কাজে ক্যালকুলাস যথার্থই সাহায্য করেছে। ক্যালকুলাস দিয়েছে ককটেল থেরাপি। ককটেল থেরাপি হচ্ছে দ্বিতীয় পর্যায়ে যখন রোগী অবস্থান করবে তখন রোগ প্রতিরোধের জন্য বাইরে থেকে বাড়তি সাহায্য হিসেবে একাধিক ওষুধ প্রয়োগের প্রয়োজন। কেননা মাত্র একটা ওষুধের বিরুদ্ধে ভাইরাস লড়াই করার ক্ষমতা আয়ত্ব করে ফেলে বলে।
  এতো গেল ভাইরাস দমনে ক্যালকুলাসের সাহায্যের কথা। কেন অ্যাটম বোমা তৈরির অঙ্ক যে ক্যালকুলাসই ভিত্তি। অঙ্ক কষে বলে দেবে ইউরেনিয়াম বা প্লুটোনিয়ম ভেঙে এক লহমায় কত এনার্জি বানাতে পারে পরমানু বোমার মূল উপাদান। ফিশন ও ফিউশন সূত্র এক্ষেত্রে তার সহায়। ঐ যে এডসের কথা বললাম কোশের মধ্যে যে ফিশন ও ফিউশন প্রক্রিয়ার কার্যকরী ভূমিকায় ভাইরাস ও টি কোষের লড়াই চলে, তার সর্বপ্রকার রেট অব পাওয়ারের পরিসংখ্যান দেয় ক্যালকুলাস। করোনা ভাইরাসের চরিত্র নিরুপণও ক্যালকুলাসের ব্যবহার নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
এবার আসি মূল আলোচনায়। মহাকর্ষ সম্পর্কে নিউটনের ব্যাখ্যা ছিল দুই বস্তুর মধ্যে অদৃশ্য আকর্ষণ বল। এই আকর্ষণ বল কীভাবে অবস্থান করছে সেই আলোচনায় আসব পরের পর্বে।
          (চলবে)

  @ কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস। 



# "দেনা - পাওনা" #কলমে ~ পল্লবী

 

 

 

 

 

 


  "হ্যালো,, দিদি.. শুনতে পাচ্ছেন? হ্যাঁ.. হ্যাঁ শুনতে পাচ্ছি। বলুন আপনি। কাল সকাল দশটায় মেডিক্যালের তিন তলার  পঁচিশ নম্বর রুমে। ডাক্তার বলেছেন, এখানেই ব্লাড কালেক্ট করবেন। আপনি কি একটু আসতে পারবেন?" বড়ই অনুরোধের বিনম্র কণ্ঠ ভেসে আসে অপর প্রান্ত থেকে।


"দিদি,, আপনি কোন চিন্তা করবেন না। অর্পণ তো আমার নিজের ছেলের মতোই। অবশ্যই টাইমলি  পৌঁছে যাব আমি" বলে ফোনটা নামিয়ে রাখি আমি।


মেডিক্যালে পৌঁছে নির্ধারিত রুমের সামনে বসে আছি, আর দেখছি,আরো অনেকের মতোই অর্পণের বাবা মায়ের দৌঁড়াদৌঁড়ি! আহা! একমাত্র ছেলেকে বাঁচানোর জন্য কি কাতর আকুতি তাঁদের। 



শিশু ওয়ার্ডের সামনের এই লম্বা টানা বারান্দায় বসে ভাবছি, একটু পেছনের কথা। অর্পণের দাম্ভিক স্বভাবের মায়ের কথা!



সেদিন ছিল ছেলের স্কুলের নার্সারি ক্লাসের প্রথম দিন। স্বাভাবিক যার যার ছেলে মেয়ের সাথে, সেদিন সবার বাবা- মা রাও প্রেজেন্ট ছিলেন। তো অর্পণ নিজেই একা স্লিপ মার্ট দখল করে বসে ছিল। অন্য কাউকেই সে আশপাশেও ঘেঁষতে দিচ্ছিলো না। লিয়া নামের মেয়েটা একটু ত্যাঁদরামি করতেই, এমন জোরে ওর মাথার চুল টেনে দিয়েছিল যে, সেদিন বেচারির চিল চিৎকার, সব আওয়াজ ছাপিয়ে স্কুল প্রিন্সিপালের কান পর্যন্ত গেছিলো! এই স্কুল এন্ড কলেজটা আসলে শহরের নামী বেসরকারি স্কুলের একটি। এখানে যারা পড়তে আসে, সবাই সচ্ছল পরিবারের ছেলে - মেয়ে! সুতরাং লিয়ার প্যারেন্টস রাই বা ছেড়ে কথা বলবেন কেনো??



প্রথম দিনের সেই ঘটনার পর থেকে অর্পণের দুষ্টুমি যেনো ক্রমাগত বেড়েই চলেছে! ক্লাসের অন্যান্য বাচ্চাদের অকারণ পেটানো থেকে শুরু করে টিফিন চুরি, পেন্সিল চুরি, বই চুরি ইত্যাদি নানা রকম অপকর্ম ওর লেগেই থাকতো। কিন্তু কোন ঘটনার জন্য অর্পণের মায়ের কারো কাছে দুঃখ প্রকাশ করা তো দূরে থাক, এমন সব দাম্ভিকতা দেখিয়ে বেড়াতো যে, কেউ উনার সাথে কথা বলতো না। সময় গড়ানোর সাথে সাথে অর্পণের বাঁদরামির সাথে সাথে ওর মায়ের দাম্ভিকতাও যেন সবাই এক প্রকার মেনে নিয়েছিলাম। কেউ পারত পক্ষে কোন কমপ্লেন করতে যেতো না। 


এমনিতে দুষ্ট হলে কি হবে, অর্পণ দেখতে খুবই রোগা! বাড়িতে ওর মা নাকি ওকে কিছুই খাওয়াতে পারতো না। এ রকমই একদিন, খেলতে গিয়ে, হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে যায় অর্পণ!  সবাই ভেবেছিল হয়তো রোগা বলে শরীর দুর্বল।তাই পড়ে গেছে!



এর পর আরো সপ্তাহ দুই পর! স্কুলের নোটিশ বোর্ডে, বড়ো করে অর্পণের ছবি সহ আবেদন করা হয়েছে জরুরী রক্ত দিয়ে সাহায্য করার জন্য! অর্পণ থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত!



এ নিয়ে যে আমার কয়বার হলো গত ছয় বছরে, তার হিসেব নেই! নিয়ম করে আমার রক্ত অর্পণকে ডোনেট করি প্রতি তিনমাস অন্তর অন্তর! আমার নিজের এনিমিয়া থাকা সত্ত্বেও এই কাজটা করে খুব আনন্দ পাই আমি। শুরুর দিকে তো তিন মাস পেরোনোর আগেই ব্লাড দিতে হতো আমাকে। "ও" গ্রুপের রক্ত পাওয়া খুব ঝামেলা! অথচ এই মহিলার বাজে স্বভাবের জন্য আমি কখনো কথা বলতাম না স্কুলের সেই প্রথম দিন থেকেই! উনার সাথে যে আমার কোন ব্যক্তিগত বিরোধ ছিলো তা নয়। কিন্তু মানুষের ব্যবহার হচ্ছে সবচেয়ে বড়ো পরিচয়।অন্তত আমার কাছে!!


সবশেষে, এটাই বলতে চাই, আপনার ভালবাসা কিংবা স্নেহের বিনিময়ে কি পেলেন, আর কি পেলেন না, তা নিয়ে বসে থাকলে তো জীবন চলে না। যাকে মনপ্রাণ উজাড় করে ভালবাসলেন!! সে যদি তা বুঝতে না পারে বা সেই ভালবাসা কিংবা স্নেহের উপযুক্ত না হয়, তবে কি ভালবাসা কিংবা স্নেহ করা ছেড়ে দেবেন ?! সম্পর্কের দাঁড়িপাল্লায় বোধহয় সব কিছুই পরিমাপ করা যায়। শুধু স্নেহ আর ভালবাসা ছাড়া! সে কারণেই আমরা পরিবারে থাকি। একের পর এক নতুন নতুন সম্পর্কে জড়ায়। স্নেহ ও ভাল বাসাতো উজাড় করে দেয়ার জন্য ই সৃষ্ট! একে কি আর মাপ জোখ করে দেয়া যায়?!  জানি, আঘাতে মন ভেঙে যায়! প্রত্যাখ্যাত হয়ে  মরে যেতে ইচ্ছে করে! তারপরও আমি, এই স্নেহ ও ভালবাসা বিলানোর পক্ষে!!


||সমাপ্ত||

 

 Copyright©️ All rights reserved for Pallabi Barua

গল্প : মন কেমনের দিনে # কলমে ~ পল্লবী

 

 

 


 

 গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে, রাতুলের মনের ভিতরেও অবিরাম বর্ষিত হচ্ছে স্মৃতির বৃষ্টি! তার উপর আবার সিজনাল সর্দি, কাশি আর জ্বরে শরীরটা বেশ নাজুক ওর! স্মৃতির আকাশে ঘুড়ি ওড়াতে গিয়ে, গতকাল রাত থেকেই দু চোখের বর্ষনে ওর মুখ চোখ ফুলে কিম্ভুতকিমাকার অবস্থা! বিশেষ করে, চোখ দুটো যেনো রক্ত জবার লাল বর্ণের রঙ নিয়েছে। 



ছুটির দিনের সকাল। বেশ বেলা করেই ঘুম ভাঙে রাতুলের। আজ টানা তিন দিন সে ছুটি কাটাচ্ছে জাগতিক সব কাজকর্ম থেকে। এতো লম্বা ছুটি, গত কয়েক বছরে ও এভাবে শুয়ে বসে কাটিয়েছে কিনা, মনে করতে পারেনা। বৃষ্টি ভেজা সকালের মিষ্টি রোদের সাথে আসা ঠান্ডা বাতাস, গায়ে মেখে রাতুল রুমের সঙ্গে লাগোয়া ছোট্ট বেলকনিতে এসে বসে। নিচে, রাস্তার ওপাশে বসে থাকা পাগলীটা, প্রতিটা ছুটির দিনের মতো আজও তার সুরেলা গলায় গান ধরেছে। মাঝে মাঝেই গানের ফাঁকে পাগলীর দু চোখ বেয়ে ঝরে পড়ছে অশ্রু! রাতুল এক দৃষ্টে পাগলীর দিকে চেয়ে ভাবে, নিজের অসহায়ত্বের কথা! ওর অবাধ্য মন আর বর্ষণরত দু চোখের  কথা!



পাঁচ বছর আগে, এমনই এক ছুটির দিনে, নিউ মার্কেটের ডায়মন্ড রেস্তোরাঁর সেই কর্নার ঘেঁষা কেবিনে বসে, বিশাল ফিস কাটলেটের বুকে নির্দয়ভাবে ছুরি- কাঁচি চালাতে চালাতে, মিলি নির্লিপ্ত মুখে জানিয়েছিল ওদের ব্রেকআপের কথা! ওর বিয়ে ঠিক হওয়ার কথা! বিয়েতে মিলির রাজী হওয়ার কথা! সদ্য পিতৃহারা বেকার রাতুলের জীবনে , এ আঘাত বাবা হারানোর বেদনার চেয়েও বোধকরি ভয়াবহ ছিল! এ হেন দুঃসময়ে মিলির তো কথা ছিল ওর হাতটা শক্ত করে মুঠোবন্দী করে আগলে রাখার! ফিস কাটলেটের বড় একটা পিস মুখে দিয়ে মিলি, যেন কিছুই হয়নি, এরকম ভাব করে বলেছিল,," রাতুল প্যানিক করো না একদম! আমরা কেউ ছোট বাচ্চা না যে, ব্রেকআপে ভেঙে পড়বো কিংবা কান্না কাটি করে বিছানা বালিশ ভিজিয়ে ফেলবো! ওসব সিনেমা নাটকে হয়। বাস্তব বড়োই কঠিন। ট্রাই টু বি প্র্যাক্টিক্যাল! ছোট বোনটা ঘাড়ের উপর নিশ্বাস ফেলছে। বাবার চাকুরীর মেয়াদ আছে আর দুবছর। আমার নিজের ও এখনো অনার্স কমপ্লিট হয়নি। এদিকে তোমার কোন চাকরি নেই! কোন মুখ করে বাড়িতে তোমার কথা বলি বলোতো?!"



ব্রেকফাস্ট করতে টেবিলে গিয়ে বসতেই , মা কাছে এসে মুখটা তুলে ধরে রাতুলের। কিছুক্ষন চেয়ে থেকে , কিছু বলেন না ছেলেকে। মায়ের অভিজ্ঞ মনে তখন অন্য চিন্তা! ছোট বোন তৃণার ফ্রেন্ড হিসেবে, একই পাড়ার মিলির এ বাড়িতে ছিল অবাধ যাতায়াত! " একবার তৃণার বাড়ি থেকে বেড়িয়ে আসবি কি?! অনেক দিন হলো, যাসনা ওদিকে।" মা জিজ্ঞেস করে কিচেন থেকে উঁকি দিয়ে। "দেখি" বলে ছোট্ট উত্তর দিয়ে, রাতুল রুটির টুকরো মুখে পুরে হারিয়ে যায় তিন দিন আগের দুপুরে। অফিস বিল্ডিংয়ে হঠাৎ সার্কিট ফল হওয়ায়, বেশকিছু জরুরি ডকুমেন্টস নিয়ে রাতুল অকাল বর্ষণে কাক ভেজা হয়ে গেছিলো, নিউ মার্কেটের ফটো ল্যাবে! ওদের নতুন বসানো ডিজিটাল প্রিন্টারে , খুব ভাল প্রিন্ট আসে। সময়ও বেশি লাগেনা। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হচ্ছে, ভিড় লেগে থাকেনা। যদিও চার্জ একটু বেশি নেয়। পার্কিং লটের শেডের নীচে দাঁড়িয়ে রাতুল  অপেক্ষায়, যদি কোন অটো পাওয়া যায়! বৃষ্টিতে ভিজতে মোটেও ইচ্ছে করছে না ওর। 



কিছুটা আনমনা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা রাতুলের সামনে, ধীরগতিতে একটা ওয়াইন রেড কালারের এক্সিও এসে থামে। অবহেলায় মুখ ঘুরিয়ে তাকাতেই দেখে, গাড়ির জানালায় অনেক বছর আগে, স্মৃতির ফ্রেমে বাঁধিয়ে রাখা সেই মুখ! সে এই শহরে কি করে?! তার  সুখের রাজ্যে তো হাজার হাজার মাইল দূরে!



রাতে ডিনার সেরে, রাতুল অনেক বছর পরে, আবার সেই বইটা নিয়ে বসে। জানে, প্রতিবারের মতোই এবারেও পড়া হবে না কিছুই। আজ তৃণার বাড়ি গিয়েও শুনলো মিলির কথা। ওর ফিরে আসার কথা! ওর মানিব্যাগ ভর্তি বড় বড় এমাউন্টের ডেবিট/ক্রেডিট কার্ডের এনআরবি বরের সাথে বিচ্ছেদের কথা! বাস্তববাদী মিলি তবে পারলো না কেন সুখের রাজ্যে ঘর করতে? আবেগী আর স্বপ্নীল রাতুলের কাছে বাস্তব বাদী মিলির ফিরে আসা কি সময়েরই দাবি ছিলো মাত্র??! 


একদা, যে দু জোড়া চোখ পরস্পরকে ছুঁয়ে থাকতো সমান্তরালে, সেদিনের সেই বর্ষণমুখর দুপুরে, গাড়ির ফ্রন্ট সিটে বসা রাতুল আড়চোখে বারবার তাকাচ্ছিল মিলির দিকে। রিয়ার ভিউ মিররে দেখা, মিলির অশ্রু সিক্ত সেই চোখ, কখন যে রাতুলের দু চোখে জ্বালা ধরিয়ে দিয়েছে,বুঝতেই পারেনা। শুধু সামনে, পিছনে বসা দুজন মানুষ সংগোপনে নিজেদের চোখের অশ্রু লুকোতে ব্যস্ত থাকে!!


বইয়ের মলাট খুলে, প্রথম পৃষ্ঠায়, গোটা গোটা মেয়েলি হরফের সেই লেখার দিকে তাকায় রাতুল!

"এই হাসি, এই কান্না, এই মেঘ আর রোদ্দুরের এক অপূর্ব ও বিস্ময়কর সংমিশ্রন!!" রাতুলকে এই বইটা দিয়েছিল মিলি। এমন অদ্ভুত কোটেশনের কারণ জানতে চাইলে, হেসে বলেছিল, " পুরো জীবন পড়ে রয়েছে তোমার সামনে। পারলে উদ্ধার করো!"


আমি জানি রে, তোর ঐ এক চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়া অশ্রুবিন্দু আমার আরেক চোখে, শ্রাবনের ধারা হয়ে ঝরে! আজ, এতো বছর পরেও!


বইয়ের মলাটের উপরে হাত রেখে, রাতুল অশ্রুসজল নয়নে মনে মনে বলে,, "পাগলি তুই ফিরে আয়! আজো আছি তোর অপেক্ষায়! তোর মনের দরজা আর জানলাটা খুলে একটু উঁকি দিয়ে দেখ! আমি আছি! আজো নিরবে দাঁড়িয়ে ঠিক সেই জায়গায়, যেখানে তুই ফেলে রেখে গিয়েছিলি আমায়! শুধু তোর জন্যই এ হৃদয় অষ্টপ্রদীপ জ্বেলে রেখেছে। তুই ফিরে  না এলে, অষ্টপ্রদীপ যে নিভে যাবে! আসবি কি তুই ফিরে?! 



||সমাপ্ত||

Copyright©️ All rights reserved for Pallabi Barua


শিরোনাম - যদি স্মৃতি বিক্রি হতো✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - যদি স্মৃতি বিক্রি হতো ✍️ ডা: অরুণিমা দাস অহিংসা পরম ধর্ম হওয়া উচিত। কিন্তু মেনে কি চলা যায় সেকথা? হিরোশিমা দিবসে মনে হয় স্মৃতি ...