নাম- 'জীবন জিজ্ঞাসা'
( বিজ্ঞান বিষয়ক)
পর্ব- ৫
✍ - মৃদুল কুমার দাস।
মহাকর্ষ তরঙ্গ বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের বিষয়। এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড আদি অন্তহীন এক মহাশূন্য। তা বর্ণনাতীত। ও ছাড়া সবই অচল। এই মহাশূন্যে সৌর পরিবারকে কেমন লাগে? ভাবতে অবাক লাগে এরকম একটা অঙ্ক মাথায় গিজ গিজ করে বলে। কি সে অঙ্ক!
লম্বা খাতার পৃষ্ঠায় কলমের কালি দিয়ে একটা বিন্দু বসানো হল। বিন্দুটির কয়েক কোটি ভগ্নাংশের একটা অংশ যা লাগে বা যে স্থান জুড়ে থাকে মহাশূন্যে সৌর পরিবারকেও ঠিক তেমনি লাগে। আর সেখানে পৃথিবীকে কেমন লাগে এ থেকে বুঝে নেওয়া সহজ।এই মহাশূন্যে সদাই তরঙ্গ প্রবহমান। এই তরঙ্গ সম্পর্কে নিউটন বললেন দুই বস্তুর মধ্যে একটা অদৃশ্য আকর্ষণ বল। সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যে এই আকর্ষণ বল কাজ করে বলে সূর্যের চারধারে পৃথিবী ঘুরতে থাকে। কোনো কারণে সূর্য হারিয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবীও তার কক্ষ পথ থেকে চ্যুত হয়ে হারিয়ে যাবে।নিউটনের এই ব্যাখ্যা আইনস্টাইন ভুল বলে অভিহিত করলেন। তিনি বললেন সূর্যের আকর্ষণ বলে তার চারপাশের স্পেশ দুমড়ে মুচড়ে যাচ্ছে। আর পৃথিবী এই দুমড়ানো মোচড়ানো স্পেশের মধ্য দিয়ে চলতে গিয়ে সূর্যের চারদিকে ঘুরতে বাধ্য হচ্ছে।
যার যত ভার তার তত আকর্ষন বল। আর তার নড়াচড়া মানে একটা নিস্তরঙ্গ স্পেশে তরঙ্গ সৃষ্টি করা। তার থেকে তরঙ্গ যেদিকে ছুটবে সেই দিক বরাবর স্পেশ উপর নীচে প্রসারিত হয় তো, আবার সঙ্কুচিত হয়। অর্থাৎ উপর নীচ প্রসারিত হলে ডান বাম সঙ্কুচিত হবে। আবার উপর নীচ সঙ্কুচিত হয় যখন তখন ডান বাম প্রসারিত হবে। স্পেশ এরকম লম্বা-রোগা এবং বেঁটে-মোটা হওয়ার মধ্য দিয়ে মহাকর্ষীয় তরঙ্গ আলোর বেগে ছুটবে। মহাকর্ষীয় তরঙ্গ আলোর বেগের মতো গতি সম্পন্ন। এই আলোক তরঙ্গ হলো তড়িৎ এবং চুম্বকের প্রভাবের মিলিত দৌড়ের ফল। দৌড়নতেই তার স্বভাব। কেননা সে তড়িতাধান কণা বলেই। অনুরূপ স্বভাবেরই পরিচয় হলো মহাকর্ষীয় তরঙ্গ। এই তরঙ্গ সৃষ্টি অহরহ হচ্ছে, কেননা মহাশূন্যে ভারী বস্তু যে অহরহ নড়াচড়া করছে। এই ভার অনুযায়ী স্পেশে তরঙ্গ দিগ্বিদিক শূন্য হয়ে আলোর বেগে ছুটছে। এই ছুটন্ত তরঙ্গের ধারায় পৃথিবী সচল।
আমরা যে বলি নেটওয়ার্ক নেই। এই নেট ওয়ার্ক হলো ঐ মহাকর্ষীয় তরঙ্গ। সুউচ্চ বড় বড় টাওয়ার পেতে ধরা হচ্ছে তরঙ্গ। জি,পি,এস-এর কর্মকাণ্ড মহাকর্ষ তরঙ্গ নিয়ে।
দুই ব্ল্যাকহোলের সংঘর্ষে স্পেশে যে তরঙ্গ সৃষ্টির কথা বলেছি, লাইগা তে ধরা পড়ার কথা বলেছি, তাই হল মহাকর্ষীয় তরঙ্গ।
এই মহাকর্ষীয় তরঙ্গ হলো সামুদ্রিক তরঙ্গের মতো। সামুদ্রিক তরঙ্গ সৃষ্টি হয় জলকণাদের মধ্যে প্রবল সংঘাতে। আর মহাকর্ষীয় তরঙ্গের তড়িৎ কণার ভারী নক্ষত্রদের ঘুর্ণনসহ নানা ঘটনার এক ফলশ্রুতিতে তরঙ্গের দৌড় শুরু হয়। এই তরঙ্গ হলো দুমড়ানো মোচড়ানো এক আকর্ষণ বল।
এই তরঙ্গ সম্পর্কে নিউটনের মতের সঙ্গে আইনস্টাইনের মতের পার্থক্য কোথায়। পার্থক্য হল নিউটন বলেছিলেন সূর্য কোনো কারণে হারিয়ে গেলে পৃথিবীও সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে যাবে। কিন্তু আইনস্টাইন বললেন, "
না সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে যাবে না। কারণ সূর্যের আকর্ষণ বলে তার চারপাশের স্পেশ দুমড়ে মুচড়ে যাচ্ছে। আর পৃথিবী এই দোমড়ানো মোচড়ানো স্পেশের মধ্য দিয়ে চলতে গিয়ে সূর্যের চারধারে ঘুরতে বাধ্য হচ্ছে। অর্থাৎ গতিপথের বদল হচ্ছে। কোনো কারণে সূর্য উধাও হয়ে গেল , পৃথিবী সেই খবর সঙ্গে সঙ্গে পাবে না। সেই খবর আসবে মহাকর্ষীয় তরঙ্গের মাধ্যমে। পৃথিবী তো একটা গতিতে আছে। সেই তরঙ্গ আসতে কিছুটা সময় লাগবে। যেমন লাটাইয়ে সুতো কাটার সঙ্গে সঙ্গে কিন্তু ঘুড়ি টাল খায় না। কাটার শক্তি দুরন্ত গতিতে ঘুড়ির কাছে পৌঁছতে কিছুটা সময় যে লাগে তারপর ঘুড়ি টাল খেতে শুরু করে,এও ঠিক তেমনি।"এই মহাকর্ষীয় তরঙ্গের জন্য সৌরপরিবার ও পৃথিবীর সম্পর্ক কেমন তাই নিয়ে পরের পর্ব।
(চলবে)
@কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।
দারুন দারুন .. অসাধারন 👌👌
উত্তরমুছুনধন্যবাদ। ❤❤❤
মুছুনসৌরজগৎ এর বেশ ভালো ধারণা হলো ।ভালো লেখা ।👌👌
উত্তরমুছুনধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।❤❤
মুছুনসৌরজগৎ এর বেশ ভালো ধারণা হলো ।ভালো লেখা ।👌👌
উত্তরমুছুনএকসাথে সব পর্ব পড়ে ফেললাম।কত কিছু জানলাম!
উত্তরমুছুন