বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

মেটামরফোসিস ✍️নন্দিনী তিথি


 

মেটামরফোসিস মানে হলো রূপান্তর বা রূপান্তরিত আকৃতি।

যেমন একটা শুঁয়োপোকা বিভিন্ন পরিবর্তন পার করে একটা 

প্রজাপতিতে রূপান্তরিত হয়।তাকে কিছু ধাপ অতিক্রম করেই

কিন্তু পরিপূর্ণতা লাভ করতে হয়।

সুতরাং মেটামরফোসিস  বা রূপান্তর হলো বৃদ্ধি বা বিকাশের 

একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া দ্বারা একটি জীবের আকার বা 

ক্রিয়াকলাপের পরিবর্তন। যেমন ভ্রুণের মধ্যে কুলসুমের রূপক রূপটি,একটি ব্যাঙের মধ্যে ট্যাডপোলের,অথবা একটি

কুড়িয়ে ফুল ফোঁটায়। 

যদি মেটামরফোসিসকে রূপক অর্থে ধরি,তাহলে মানুষেরও

কিন্তু রূপান্তর ঘটে।আমরা প্রত্যেকেই ছোটবেলা থেকে একটা

উপদেশ পেয়ে আসি-"মানুষ হও"।মানুষ হিসাবে আমরাও 

কিন্তু অনেক পরিবর্তনের মাধ্যমে -শৈশবকাল,কৈশোরকাল,

য়ৌবনকাল পার করেই নিজেকে একজন মানুষ গড়ে তুলি।

এখানে নিজেকে গড়ে তোলার ব্যাপারটা কিন্তু নিজের উপরই

নির্ভর করে।যদিও এক্ষেত্রে অনেককিছু প্রভাবক হিসাবে 

কাজ করে।কিন্তু সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু কিন্তু নিজে।

পারিপার্শ্বিক পরিবেশ  এবং যাদের সাথে উঠা-বসা,তাদের

থেকেই কিন্তু আমাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলো গড়ে উঠে।

তাই সর্বদা নিজেকেই সজাগ রাখতে হবে কোনগুলো গ্রহন করবো আর কোনগুলোকে গ্রহণ করবো না।জীবনে চলার 

পথে বেশির ভাগ প্রতিকূলতায় কিন্তু নিজেকে পার করতে হয়।

তাই নিজেকে শক্ত করে আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠতে হবে।

জীবনের সব মূহুর্ত বা সময় কখনোই একরকম যায় না।শুধু

জানলে বা মেনে নিতে শিখলেই হবে না।খাপ খাইয়েইও নিতে 

হবে।

টিকে থাকা নয় বরং নিজেকে পরিবর্তনের নিজের রপ্তে 

আনতে পারা যায় সেই পন্থা খুজে বের করতে হবে।কোনো 

প্রতিকূলতার কাছে হার মেনে না নিয়ে বরং তার সম্মুখীন 

হতে হবে।নিজের সিদ্ধান্তগুলো সবসময় নিজে নেয়ার চেষ্টা

করতে হবে।

কারণ,নিজের জীবনের ক্ষেত্রে পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে 

সেক্ষেত্রে অন্য কারো উপর নির্ভর করার সুযোগ নাই।

সবার জীবনের বিভিন্ন অধ্যায়ই সবাইকে শিক্ষা দেয় যার

কারণে কোন না কোন পরিবর্তন সবার মাঝে আসে।তবে,

তাতে যেন নিজস্বতার কোন পরিবর্তন না ঘটে।

                 Copyright © All Rights Reserved Nandini Tithi.       



বুধবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

# নাম- মেটামরফোসিস। মৃদুল কুমার দাস।

 
  # নাম- মেটামরফোসিস
   ✍ - মৃদুল কুমার দাস। 

   সতীশ মাষ্টারমশাই,সতীশ সিংহ,সিংহের মতো কেশরী যেন অঙ্কের শিক্ষক। আর রঞ্জিত বিশ্বাস,ইতিহাসের স্যার- ঐতিহাসিক পুরুষকার যেন প্রতি পায়ে পায়ে। 
 "ভোলা এ তুই  কী লিখেছিস? ফাজলামি পেয়েছিস?" সতীশ বাবু ক্লাসে ঢুকেই গলার আওয়াজে ক্লাস কেঁপে উঠল। ভোলা জানে তার অপরাধ কী? কিন্তু না জানার  ভান করে বলল - "কী করেছি স্যার?"
  "কী করেছিস? দেখবি?" 
সকলের তখন কৌতূহল মন স্থির- কী হয়! কী হয়! সতীশ স্যার মানেই ভয়ঙ্কর! অঙ্ক না পারলে শাসানি এমন - ঠ্যাং খড়া করে স্কুলে ফেলে রেখে দেবে। কোনোদিন করেছেন বলে এমন রেকর্ড নেই অবশ্য। ভোলার মতো তেমনটি কেউ জানে না। তাই  তার যেকোনো ঘটনার মধ্যে কোনো চাপ নেয় না। অঙ্কে তো চাপ নেই-ই,কেননা অঙ্ক না শিখলে কি খেতে পাবে না! 
সতীশ স্যার এবার ব্যাপারটা বললেন- "অঙ্কের প্রশ্নে সংখ্যা গুলোকে সব পরিবর্তন করে অঙ্ক কষেছে।"
 ভোলার উত্তর স্যার এটাই সংখ্যার রূপান্তর কেমন হয় দেখছিলাম। ইতিহাসের স্যার মেটামরফোসিস যে বলেছিলেন,তাই দেখলাম কেমন হয়।"
 সতীশবাবু তো থ। বললেন- "ভোলা আয় তোকে কোলে তুলি। তুই এত!"
  ক্লাসের সবাই তো অবাক! এতো রাগী স্যারের  এও তো মেটামরফোসিস - রাগের রূপান্তরে স্যার এই প্রথম গলে জল। 
 এবার ইতিহাসের স্যার ক্লাসে ঢুকেই ভোলাকে তেন্ডাইমেন্ডাই- "কি লিখেছিস?"
 "কেন স্যার?"
   "চন্দ্রগুপ্তে প্রেম দিয়ে আলেকজান্ডারকে জয় করতে চাইলি কেন?"
  "কেন স্যার,প্রেম দিয়েই তো সব রূপান্তর করা যায়। এ এক মেটামরফোসিসের পরীক্ষা! আপনিই তো বলেছিলেন মেটামরফোসিস হলো প্রতিটি জীবনের মূলমন্ত্র। তাই জীবনের ভিত্তি। পরিবর্তন ছাড়া জীবন হয় না। তার মূলে প্রেম। বীরত্বের  চেয়ে সেই প্রেমের জোরে,আলেকজান্ডারকে জয় করতে চেয়েছেন।"
  "তা বলে ইতিহাস নিয়ে ছেলে খেলা!" 
 "এই ছেলে খেলার আপনার কথায় মেটামরফোসিসের নিদর্শন। "
 ইতিহাসের স্যারও ভোলার কথায় মেটামরফোসিস!
আর বাংলার স্যার সনাতন বিশ্বাস তো থ! ছিল নদী রচনা। ভোলা পড়ে গেছে গরু। নদীর ধারে গরু চরে। এই থেকে গরুর বর্ণনা ভোলার রূপান্তরের পরীক্ষা।
                  *********

মঙ্গলবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

ভাষার গান(সুদেষ্ণা দত্ত)


 ভাষার গান

সুদেষ্ণা দত্ত

 

প্রথম আলোয় কাটেনি বিস্ময়ের ঘোর!

জীবন তখনও হয়নি এমন কঠোর,

‘মা’ বলে ওঠা প্রথম ধ্বনি--

মিষ্টি বাংলাই কর্ণ কুহরে শুনি।

 

ভাষা সালামের,ভাষা নীলাদ্রির,

ভাষাতেই বিনিময় ভাব।

এই ভাষা নিয়ে আজ কেন তবে

আবেগের এত অভাব!

 

ভাষার জন্য রক্তাক্ত রাজপথ

গেছে কত শহীদের প্রাণ

কোন সীমারেখাও পারেনি আটকাতে

ফেরাতে পারেনি জান।

 

মাতৃভাষার চাদরের ওমে আমাদের অভিধান,

সেই ভাষাতেই সাম্রাজ্যবাদী আজও ধরেন গান।

ভাষার হাত ধরেই সাম্যের গান আসুক ফিরে ঘরে,

মনের মাঝে কোন সীমারেখা যেন প্রাচীর না তুলতে পারে।

 

ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি।

ছবি সৌজন্য--গুগুল

©কপিরাইট রিজার্ভড ফর সুদেষ্ণা দত্ত

 

সংস্কার--চিত্র আলোচনা(সুদেষ্ণা দত্ত)

 


সংস্কার--চিত্র আলোচনা

সুদেষ্ণা দত্ত

বর্ণালী,ঋষিতা, কল্পনা,অপরাজিতা,সমাপ্তিকে নিয়ে  আঁকাবাঁকা পথ যায় সুদূরে।চারদিকে সর্ষে ক্ষেতের স্বর্ণাভ রঙ ওদের মনেও বুনে দেয় সোনালী স্বপ্ন।নিজেদের লক্ষ্য পূরণের জন্য সকাল থেকেই ছুটে চলে এই পাঁচ রঙিন প্রজাপতি।কখনও সময়কে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে দুদন্ড দাঁড়ায় হলুদের মাঝে।কখনও গুনগুন গান,কখনও অকারণ অনন্ত হাহাহিহি।মাঝে খেজুর গাছে বাঁধা হাড়িতে মন বেধে ফেলে।দেখে নেয় হরিৎ কাকা আছে কিনা পাহারায়।হাঁড়ি ফাঁকা করে সাইকেল নিয়ে জোরালো প্যাডেলে পাড়ি জমায়।

        পান্ডব গোয়েন্দীরা নিজেদের মধ্যে আলাপচারিতা চালায়।অপরাজিতা,বর্ণালী,কল্পনা চুটিয়ে সংসার করতে চায়।ওদের দুচোখে স্বপ্নের জগৎ।ঋষিতা,সমাপ্তি চায় আগে স্বনির্ভর হতে।বিয়ে আগে না স্বনির্ভরতা আগে সেই নিয়েও কত তর্ক-যুক্তি খাড়া করে নিজেরা।

         তবে পথটা বড় খারাপ।সারা বছর ট্রাক্টর গিয়ে গিয়ে শেষ করে দিয়েছে রাস্তাটা।রোজদিন তারা গাল পাড়তে থাকে ট্রাক্টর গুলোকে।কারণ ট্রাক্টরগুলো প্রায়ই ওদের রোম্যান্টিকতার স্বপ্নজাল ছিন্ন করে।অযাচিতভাবে যেন রঙিন প্রজাপতিগুলোর গায়ে পড়তে চায় ওরা।তবে পাণ্ডব গোয়েন্দীরাও এতে অভ্যস্ত।

           এমনি একদিন ট্যুশন পড়তে যাচ্ছিল ওরা।অপরাজিতা ওর প্রিয় বান্ধবী সমাপ্তিকে চাপিয়েছিল ওর সাইকেলে।আর ওকে বকছিল এই বলে, “সময় করে সাইকেলেও হাওয়া দিয়ে রাখতে পারিস না।চাষিবাসীর সংসারে কোন কাবাব—বিরিয়ানী রোজ খাই যে তোর মত ছোট হাতীকে সাইকেলে টেনে নিয়ে যাব”।ওর এই কথা শুনে সকলেই হেসে গড়িয়ে পড়ে।হঠাৎ সব অন্ধকার।

             নার্সিংহোমের বেডে অপরাজিতা।নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাসে ট্রাক্টর স্বপ্ন কেড়ে নিয়েছে সমাপ্তির।

        আজ কেটে গিয়েছে বহু বছর।পাণ্ডব গোয়েন্দীরাও ছড়িয়ে গিয়েছে নানা জায়গায়।যে অপরাজিতার স্বপ্ন ছিল শুধু সংসার।সেই অপরাজিতা সমাপ্তির স্বপ্নের সূচনা করেছে নিজের জীবনে।অপরাজিতা আজ পি.ডব্লিউ.ডি র ইঞ্জিনিয়ার।অনেক প্রতিকূলতা হার মানাতে পারেনি তাকে।মন্ত্রী-আমলাদের অনেক চিঠি লেখালেখি, অনেক দরবার করে সে ঠিক করেছে এই রাস্তা,যাতে সমাপ্তির মত কারও স্বপ্ন শেষ হয়ে না যায়।এই সুদূরের পথ যেন সকলকে নিয়ে যায় তার স্বপ্নকে বাস্তবায়নের গন্তব্যে।


©কপিরাইট রিজার্ভড ফর সুদেষ্ণা দত্ত

সোমবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

খিদে(সুদেষ্ণা দত্ত)

 


খিদে(অণুগল্প)

সুদেষ্ণা দত্ত

(বিষয়--এক কাপ চা)

  জীর্ণ মলিন বসনে সে রোজ স্টেশনে ভিক্ষা করে।তার নাম জানার চেষ্টা করে না কেউ।তার একটাই পরিচয়—সে ভিখারী,বুড়ী মা।নদীর গতিপথের মত তার জীবনেও তার মত করে  বহমানতা আছে।কখনও সেখানেও জমে অপমানের পলি।কেউ দুপয়সা দেয়,কেউ করে বিমুখ।

          আজ দুদিন সে খেতে পায়নি।ঋষভ যাত্রাপথে রোজই তাকে দেখে।কখনও দু’পাঁচ পয়সা দেয়।রোজ সম্ভব হয় না।আজ বুড়ী মা ঋষভের কাছে তার আকুল হৃদয়ের আর্তি জানায় এক কাপ চায়ে তৃষ্ণা নিবারণের—ফুটে ওঠে অন্নের অভাব।বলে,বাবা বুড়ীর পলি পড়া পেট হলেও যে,কখনও প্লাবনের মত ডাক দেয় খিদে।চা খেলে অনেকক্ষন খিদের জ্বালা জুড়োয়।তাতে নোলার অপমান শুনতে হয় না।

ছবি সৌজন্য--গুগুল

©কপিরাইট রিজার্ভড ফর সুদেষ্ণা দত্ত

# নাম- এক কাপ চা। ✍- মৃদুল কুমার দাস।

 
 #বিষয়- অনুগল্প।
  #নাম- এক কাপ চা।
   ✍ - মৃদুল কুমার দাস। 

    রমেন সিকদার,অফিসের বড়বাবু। অফিসে আসেন টোটো-বাস-ট্রেন আবার বাস,সেই বাস অফিসের গেটে নামিয়ে দেয়। অফিসের গেটে নিমাইয়ের চা দোকান। নিমাই  ঘোষ। দোকানের নাম ঘোষ টি স্টল। গেটে ঢোকার আগে  নিমাইকে সিগন্যাল দিয়ে যান চা পাঠিয়ে দিতে। নিমাই মাথা নেড়ে সায় দেয় ঠিক আছে। জগা,নিমাইয়ের অ্যাসিস্ট্যান্ট রেডি হয় চা দিয়ে আসতে। এক সঙ্গে ডজন খানেক চায়ের কাপ নিয়ে জগা ছুটবে এ টেবিল ও টেবিলে দিতে। আর যেতে যেতে জগা গাইবে হরি দিনেত গেল চা বইতে বইতে পার করো গো আমারে।  
 গেট কিপার মগন সিং জগার এই চা বওয়ার কাজটায় ততটা খুশি নয়। তার দেশ সেই বিখ্যাত ডেলোর পাহাড়ের খাঁজে। জগার সঙ্গে খুব ভাব। জগাকে কতবার বলেছে -  "চল সর্বোচ্চ স্টেশন ঘুম দেখাব। দার্জিলিঙে ম্যালে ভাগ্নের চা দোকান আছে। সেখানে তোর একটা পাকা চাকরী করে দেব। এই চা দার্জিলিঙ থেকে আসে। আমি কতদিন তোর মানিককে ওখান থেকে চা এনে দিয়েছি।"
 জগা কিন্তু একটাবারের জন্য না বলেনি। মাছ শিকারীর যেমন মাছ খেলিয়ে মাছ জল থেকে তুলে আনতে মজা, জগাও তেমনি মগনের  সাথে মজা মজা খেলা করে। ঘুষ হিসেবে রোজ চায়ের গন্ধটা মগনের নাক বুলিয়ে নিয়ে যাবেই। আর মগন জগাকে কতবার এই দার্জিলিঙের চায়ের গল্প দিয়েছে। জগার প্রতি মগনের কেমন একটা মায়ার টান। হরিনামের টানের মতো। 
  জগা এ টেবিল সে টেবিল করে চা দিতে দিতে সবার শেষে রমেন বাবুর ঘরে ঢোকে। তখন সকলের টনক নড়ে রমেনবাবু এসে গেছেন। এবার ফাইল নিয়ে হাজির হওয়ার ডাক পড়ল বলে। 
 জগাকে রমেনবাবু খুব ভালোবাসেন। জগা চায়ের কাপ না দিয়ে গেলে কাজের মুড আসে না। জগাকে খুব  বকেনও- "এই তো তোর বছর বারো বয়স! স্কুলের দাওয়া ছেড়ে চায়ের কাপ প্লেটের ঠনঠনাঠন শুনছিস।" চায়ে চুমুক দিয়ে মাথা নেড়ে খুব ভাল হয়েছে রমেনবাবুর চোখে মুখে ভাবটা ফুটে উঠলে তবে জগা বিদায় নেয়। জগার দেখতে দেখতে পাঁচ বছর হয়ে গেল এই চা বয় এর কাজ করা।
 এবার জগা নিমাইয়ের কাছে দু'দিনের ছুটি চাইছে,মা অসুস্থ দেখতে যাবে। কিন্তু গেলে নিমাইয়ের চলবে কী করে। কিন্তু জগার যে যেতেই হবে। নিমাই ছাড়তে নারাজ। নিমাই না ছাড়ার কে! হাত, পা আছে যার তাকে কে আটকায়। নিমাইয়ের অগোচরে মোরগ ডাকা ভোরে উধাও। 
 নিমাই ক'দিন চা ঠিক মতো রমেনবাবুকে দিতে পারছে না। রমেনবাবুর কাজে মন বসে না। জগার মুখ ও হাতে পরিবেশিত চা না পেলে কাজে মন আসে না।
  রমেনবাবুর গিন্নির হাতের চা এ এতো আয়েশ পান না। মাঝে মধ্যেই বলে ফেলেন- "জগার চা এর মতো করতে হবে না।" 
 গিন্নি বলেন- "ও তো নিমাইয়ের চা।" 
 রমেনবাবু বলেন "নিমাইয়ের চা কেউ বলে না। জগার চা বলে। নিমাই মানে তেতো বলে কি না কি জানি,জগার নামে পাবলিসিটি। দূর দূর অফিসের লোক এসে চা খাবে,আর টেবিলে টেবিলে চায়ের কাপ জগার পরিবেশনে সকলে মৌজ বানায়।"
 গিন্নি বলেন- "একদিন ঐ চা খেতে নিয়ে যেও তো!"
 এই বলে দু'জনে হাসেন। 
 সেদিন অফিস গেটে রমেনবাবু নিমাইয়ের দোকানের দিকে না তাকিয়ে হন হন করে যেতে যেতে বলছেন- "জগা চা দিয়ে যা।" প্রতিদিন নিমাইয়ের নাম ধরেন, আজ অজান্তে এই প্রথম জগার নাম উচ্চারণ করলেন। 
  নিমাইয়ের তখন দোকানে চা করতে হাত চলছেই না। টপটপ চোখে জল। দোকানে নিমাই অস্থির। শুধু রমেনবাবুর হাঁকডাকটুকু কানে গেল! 
 রমেনবাবু গেটে পৌঁছে দেখেন মগনের স্যালুট নেই। দু'পা পিছিয়ে দেখেন মগনের চোখে জল।
  কৌতূহল ভরা দৃষ্টি নিয়ে বললেন- "কি হয়েছে? কাঁদছো কেন?"
 মগন কাঁদতে কাঁদতে বলে- " স্যার আপনার চায়ের কাপ ভেঙে গেছে।"
  - "মানে?"
  - "যান নিমাইয়ের দোকানে স্যার বুঝতে পারবেন।"
 রমেনবাবুর চোখের কোণ চিক চিক করে ওঠে। 
  - "হাত থেকে পড়ে চায়ের কাপ ভেঙে গেল বাবু, জগা আসার  সময় ট্রেনে উঠতে গিয়ে অসাবধানে পা পিছলে চাকার তলায়...."
 এক কাপ চা,জগার দাঁড়িয়ে থাকা,মগনের ম্যালের গল্প- সব এক কাপ গরম চায়ের ধোঁয়া হয়ে জগার দিকে যেন মিলিয়ে যাচ্ছে। সোহাগের কথা এমনি মহনীয় এক কাপ চাও জীবনের কথায় মিশে গেল।
        ******
 @ কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।

রবিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

#নাম- একুশে স্মরণে। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।

আজ ভাষা দিবস। তাই ভাষা দিবসকে
শ্রদ্ধা জানাতে কবিতা_______
    # নাম-  *একুশে স্মরণে*
 ✍ - মৃদুল কুমার দাস। 
           
ও আমার সোনার বাংলা
আ-ম-রি বাংলা ভাষা‌...
         একুশে ফেব্রুয়ারী।
মাঠ-ঘাট-হাট-বাট কাঁপিয়ে
         শহীদের রক্তে...
     ইতিহাস নড়ে চড়ে
           ফি-বছরে।
একুশে ফেব্রুয়ারি___
            ভাষা আমার জননী
            মাতৃদুগ্ধে পুষ্টির মতো
     আমার স্মৃতি-সত্তা-ভবিষ্যৎ।
তোমার জন্য___
         বি.ডি.আর.- বি.এস.এফ. সম্প্রীতি জিরো পয়েন্ট নিয়ে সহানুভূতি।
তিস্তায় কুলুকুলু কল্লোলে
        ভাষার বহতায়...
   ধান-পাট-সরষের ক্ষেতময়
          তোমার স্বর্ণালী আভা।
তোমার মন্থনে____
                দেখার সাহস পাই
     তোমার কোলে মাথা রাখি
                 কথা কই
 কান্না-হাসির দোলনায় দুলি।
    গভীর অস্তিত্বের সায় পাই।
তোমার জন্য____
    রুজি  রোজগারের প্রেরণা
            বাঁচার নানা কসরত
      নানা হিসেবের ঘুরপাক...
রাত্রির বাসর নিদ্রায় সাঙ্গ হয়
    খাওয়া,পরা,মাখার গপ্প।
তোমার জন্য___
                 সাম্রাজ্যবাদ
                     শোষন
            যন্ত্রনা মুছে নিয়ে
দেশ-কাল-সাম্রাজ্যের বেড়াজাল সরিয়ে
  শাল-পিয়ালের মাঝখানে
        টগর-শিউলির গন্ধে পলাশ-সাপলা-কলমির
              ঘ্রাণে,
      রাজ হাঁসেদের মতো হয়ে
       ফেরি করে বেড়াই
             দেশে দেশান্তরে...
একুশে ফেব্রুয়ারি____
             তোমায় পাই
    জন্ম থেকে জন্মান্তরে।
             *******
@কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।

# নাম- যেথায় আমি ঘর বেঁধেছি(আধ্যাত্মিক)। পর্ব - ১৯।✍ - মৃদুল কুমার দাস।

মার্গারেটের দেশএখন নতুন,ঠিকানা নতুন। ঠিকানা তখনো ক্ষীণ সূত্রে জোড়া,মোমবাসা জাহাজ যতক্ষণ কলকাতা বন্দরে দাঁড়িয়ে। যেন মোমবাসার মনোভাব- দেখো দেশটা কেমন লাগে,ভালো না লাগলে চলে এসো যেমনিভাবে এনেছি তেমনি করে নিয়ে চলে যাবো।
    তা আর হওয়ার নয়। এক্কেবারে পাকাপাকি সিদ্ধান্ত,তিনি এখানে থাকতে এসেছেন। এ দেশ আমার দেশ করে নেওয়ার সাধনা সে যতই ক্লেষদায়ক হোক এই তো আমার বাল্যের পৃথিবীর মানচিত্রে বাবার আঙুল ছুঁয়ে দেখিয়ে দেওয়া সেই দেশ,যেখানের ডাকে এই তো এলাম, সে কি চলে যাওয়ার জন্য। তবে জানা যায়,আর যখন ফিরে যাওয়ার জন্য এখানে আসেননি,তখন মোমবাসা জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার আগে জাহাজে একটি পার্টির ব্যবস্থা হয়,সেই পার্টিতে মার্গারেট আমন্ত্রিত হন।
   কলকাতায় পৌঁছে প্রথমে কোথায় উঠেছিলেন তাই নিয়ে মতান্তর দেখা যায়। যেমন প্রব্রাজিকা মুক্তিপ্রাণা তথ্য দিয়ে বুঝিয়েছিলেন - 'পূর্বব্যবস্থানুযায়ী মার্গারেট চৌরঙ্গী অঞ্চলে এক হোটেলে উঠিলেন। পরে মিস মুলার কলকাতায় প্রত্যাবর্তন করিলে সম্ভবত তাহার সহিত একত্র অবস্থান করেন। স্বামীজীর পত্রে জানা যায় মিস মুলার তাঁহাদের বাসের জন্য পূর্বেই এক বাড়ী ভাড়া লইয়াছিলেন। নতুন জীবন আরম্ভ হইল।'
অদ্বৈত আশ্রম থেকে প্রকাশিত মার্গারেটের সহস্র পত্রাবলীর প্রথম চিঠিতে মার্গারেট ঠিকানা  লিখেছেন - 'কেয়ার অফ মিস ব্যাবোনান, ৪৯-পার্ক স্ট্রিট,কলকাতা।' এই চিঠি লিখেছিলেন ৩১ জানুয়ারী,১৯৯৮,চিঠির প্রাপকের নাম মিসেস এরিক হ্যামন্ড। সেই চিঠিতে লিখেছিলেন- "যতক্ষণ মোমবাসা জাহাজ কলকাতা বন্দরে রয়েছে, ততক্ষণ ইংল্যান্ডের কিছুটা আমার সঙ্গে থেকে যাচ্ছে।" এই চিঠিতে লিখেছিলেন জাহাজে পার্টির কথা।
নবাগতা অতিথির জীবনে আশ্রয়ের সাথে সাথে বাংলাভাষা শিক্ষার তালিমের দ্রুত ব্যবস্থা হয় - দুখানি ছোটো সাইজের ঠাকুর শ্রাশ্রীরামকৃষ্ণের উপদেশ সম্বলিত বই দিয়ে। শিক্ষক হিসেবে স্বামীজী পাঠিয়েছিলেন স্বামী স্বরূপানন্দকে,মার্গারেটের ব্যাবনকে লেখা পত্র থেকে তা জানতে পারি। অবশ্য ভিন্ন মতও পাই স্বরূপানন্দের বদলে অন্য কেউ ছিলেন।
মার্গারেট যে ঘরটিতে ছিলেন সেই ঘরটির বর্ণনাতে পাই ঘরের দরজা আটখানা। বাথরুম লাগোয়া চার। "... সঙ্গে ক্যামেরা থাকলে তোমাদের ছবি পাঠাতে পারতাম।" জানিয়েছিলেন এক প্রাণখোলা পরিবেশের কথা।
  মার্গারেট আসার সাথে সাথে স্বামীজীর বিদেশী শিষ্য-শিষ্যার সংখ্যা দাঁড়াল ছয়। যেমন- মিঃ ক্যাপ্টেন সেভিয়ার ও মিসেস সেভিয়ার, মিস হেনরি মুলার, মিসেস বুল,মিস ম্যাকলাউড ও স্বয়ং মার্গারেট। মিস হেনরি মুলার স্বামীজীর বেলুড় মঠ স্থাপনের জমি কিনছেন,যা ১০ ফেব্রুয়ারিতে,১৮৯৮এ মিঃ ও মিসেস হ্যামন্ডকে লেখা একটি চিঠি থেকে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানতে পারি। আবার একসময় এই মিস মুলারের ঠাকুর শ্রাশ্রীরামকৃষ্ণ,স্বামীজীকে ছেড়ে নতুন ধারণা হয়েছিল- "সমস্ত জপতপ নোংরা জিনিস",স্বামীজীর প্রতি একসময়ের ভক্তিমতী মহিলার ভাবান্তর ঘটে এভাবেই - তাঁর প্রকৃত পথ বাইবেলীয় খ্রিস্টান - "ক্রিশ্চানিটিতে ফিরে যাচ্ছি।"- তা থেকে নিবেদিতার বিস্ময় - "আমরা কবে আবার ক্রিশ্চানিটি ত্যাগ করলাম। ১৮৯৯এর ৪জানুয়ারীতে বোসপাড়া লেন থেকে মিসেস হ্যামন্ডকে লেখা একটি চিঠিতে এই কথা জানতে পারি।
   এমনকি দলত্যাগী মিস মুলার মার্কিন কনসাল জেনারেল প্যাটার্সনের সঙ্গে দেখা করে তাঁর আশঙ্কার কথা অকপটে বলেছেন। সেইসঙ্গে এও বলেছেন মায়ামোহ কেটে গেলে নিবেদিতাও তাঁর নতুন ভূমিকা ত্যাগ করবে।
আর মিস মুলার নিবেদিতার মোহ ত্যাগের জন্য মাসিক ১৫ টাকা যে দেবেন,তা হাতখরচ,পোশাক আশাক বাবদ। প্রাণের স্কুলের জন্য নয়। ব্যক্তিত্বময়ী নিবেদিতা এ নিয়ে কি সিদ্ধান্তে এসেছিলেন,স্কুল চালানোর উপায় কিভাবে বের করেছিলেন! তবে
আলমোড়া, ইসলামাবাদ, শ্রীনগর দিল্লি,আগ্রা,বারাণসী ইত্যাদি স্থান ভ্রমণ থেকে কলকাতায় ফিরে তাঁর যেটুকু অভিজ্ঞতা হয়েছিল অর্থাৎ তাঁর মনে হয়েছিল- ভারতবর্ষে হতাশার কিছুই ঘটেনি। আসলে হতাশা আছে,তিনি হতাশা নিরসণের কারিগর। হতাশা নিয়ে পা বাড়ালে হতাশাই তাকে ঘিরে ধরে। তিনি যে হতাশা ভাঙার গান গাইতে এসেছেন। তাঁকে হতাশা গ্রাস করবে, না তিনি হতাশাকে গ্রাস করবেন- এই মনের প্রবল উদ্দীপনা নিয়ে চলার জন্য নিবেদিত অনন্য এক প্রাণের চারিত্রিক দৃঢ়তা ও বলিষ্ঠতার নাম নিবেদিতা
             (চলবে)
@ কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।


শনিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ✍️নন্দিনী তিথি


আজ কেন জানি আমার রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা কোটি চরন

খুব মনে পড়ছে-

"স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে,করে বাঁচিতে চায়?

দাসত্ব শৃঙ্খল বল,কে পরিবে পায় হে, কে পরিবে পায়?

তাই ইংরেজিতে বলা হয়-

Freedom is the eternal desire of man.

অর্থাৎ স্বাধীনতা হলো মানুষের চিরন্তন আশা।

অর্থাৎ *স্বাধীনতা হল মানুষের চিরন্তন র্থাৎ *স্বধীনতর চিরন্তন আশা।*একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালি তথা বিশ্ববাসীর এক বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ দিন।আমাদের জাতীয় জীবনে এই তারিখটি এক অগ্নিমশাল,আমাদের অস্তিত্বের শিকড় এবং মা,মাটি ও মানুষকে ভালোবাসা শিক্ষার কেন্দ্রবিন্দু।এই বিন্দু থেকে জন্ম নিয়েছে স্বাধীনতার লাল সূর্যের মতো আমাদের দীপ্ত অহংকার। 

১৯৫২ সালের এদিনে বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে সংঘটিত ষড়যন্ত্র রুখতে গিয়ে শহিদ হয় এদেশের বীর সন্তানরা।ভাষার জন্য আত্মোৎসর্গের এ নমুনা পৃথিবীতে বিরল।এ দিনটি তাই বাংলাদেশের "জাতীয় শহিদ দিবস" এবং সারাবিশ্বে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃত।

দীর্ঘ ২০০ বছর ব্রিটিশ শাসনের অধীনে থাকার পর ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষ বিভক্ত হয়ে ভারত ও পাকিস্তান নামক দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়।পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান নামক দুটি পৃথক ভূখন্ডের সমন্বয়ে গঠিত হয় পাকিস্তান। কিন্তু একই রাষ্ট্রের দুটি ভূখন্ডের জনগণের মধ্যে ধর্ম ছাড়া আর কিছুতেই মিল ছিল না।পশ্চিম পাকিস্তানিরাই শাসন করত এই দুই ভূখন্ড বিশিষ্ট রাষ্ট্রকে।১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই এদেশবাসী উর্দুর পাশাপাশি বাংলাকে রাষ্ট্র্রভাষা করার দাবি জানায়।কেননা পাকিস্তানের শতকরা ৫৬ জন লোকই ছিল বাংলাভাষী। কিন্তু ১৯৪৮ সালের ২৪ শেষ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষণা দেন, " উর্দু এবং উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্র্রভাষা।"

এ ঘোষণার তাৎক্ষণিক প্রতিবাদস্বরূপ সমবেত ছাত্ররা 

'না, না, না' ধ্বনি দিয়ে এর প্রতিবাদ জানায়।এরই মধ্যে ১৯৫২ সালের ৩০শে জানুয়ারি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দীন আবারও ঘোষণা দেন- "Urdu will be the on state language of Pakistan."

এ ঘোষণায় এদেশের মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। সারাদেশে গড়ে ওঠে দুর্বার গণআন্দোলন। এর প্রতিবাদে ৪ঠা ফেব্রুয়ারি ছাত্র ধর্মঘট,১১ই ফেব্রুয়ারি প্রস্তুতি দিবস।কিন্তু ২০ ফেব্রুয়ারি শাসকগোষ্ঠীর নির্দেশে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।ফলে আবার বাংলার আপামর জনসাধারণ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং ১৪৪ ধারা অমান্য করে রাজপথে নেমে 'রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই' স্লোগানে মুখরিত করে তোলে। বিক্ষুদ্ধ ছাত্র- জনতার মিছিলে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়।গুলিতে শহীদ হন সালাম,জব্বার,বরকতসহ নাম না জানা অনেকেই।

অবশেষে শাসকগোষ্ঠী জনতার দাবির কাছে নতি স্বীকার করে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করে।

ভাষা শহীদদের স্মৃতিকে অমর করে রাখার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্রাবাসের সামনে শহিদ মিনার প্রতিষ্ঠা করা হয়।শহিদ শফিকুর রহমানের পিতাকে দিয়ে শহিদ মিনার উন্মোচন করা হয়।এভাবেই ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটে।সেই থেকে ২১শে ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

একুশ মানে সংগ্রাম,একুশ মানে জাগ্রত চেতনা।এটি একটি লাল তারিখ। এই আন্দোলন ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৯৯০ এর গণ-অভ্যুত্থানে প্রেরণা জুগিয়েছে। 

'২১'  বাঙালির জীবনদর্শন এবং বাংলাদেশের জন্ম ইতিহাস। 


একুশ আমার অহংকার,

মায়ের ভাষার রূপান্তর।

একুশ আমার গর্ব,

বাংলার দামাল ছেলেরা মৃত্যুকে  দিয়ে-

                       এনেছিল বর্ণমালার স্বর্গ                       

একুশ আমার প্রেম,

লাল সবুজের ফ্রেম।

একুশের চেতনা-

বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠার চেতনা।

একুশ আমার বিশ্বাস,

একুশ আমার নিশ্বাস।

প্রতিবছর বায়ান্নর একুশ আসে

নবনব চেতনা নিয়ে আমাদের মাঝে।

একুশ আছে মনে,একুশ আছে প্রাণে-

একুশ আছে বাঙালির জীবনদর্শনে।।

একুশে আমার সকল ভাষা শহীদদের প্রতি,

জানাই গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি।

             🙏🙏🖤❤️

         Copyright © All Rights Reserved Nandini Tithi.       



মঙ্গলবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

অনন্ত আকাশে~মৃদুল কুমার দাস


অনন্ত আকাশে~মৃদুল কুমার দাস

    আবার হাসব, গাইব মোরা গান,হৃদয়ের মাঝে হৃদয়ে রব কালবেলা হবে অবসান। থাকবে স্মৃতির মাঝে এক সে অনন্ত আকাশে,রইব মোরা মাটির টানে সবার মাঝে অনন্ত  লীলা সে স্মৃতির অবকাশে! 

   ধরিত্রীর টানে মোরা আবার হাসব,আবার খেলব,সে আমাদের গন্তব্য যেখানে সেখানেই তার আসন পেতে থাকবে আমাদের হয়ে। এখানেও ছিল একাকার হয়ে,ওখানে ও পাবে আমাদের স্মৃতি সংগোপনে আনন্দ- হিল্লোলিত সৃষ্টি যে যার অংশ যখন ওর দিকে ধাইবে। 

   জীব সত্তায় এক,আরেক অনন্ত সেও চলে মনে মনে  বার সংগোপনে। 

  জীব সত্তা ইহ জগতের। ঈশ্বর দিয়েছে আমাদের হাতে করে। তাহা পরম প্রাপ্য জ্ঞানের পূজারি মোরা। তারি মাঝে অনন্তের লীলা চলে মনে মনে,একদিন সবার সেথায় স্থান  হবেই হবে,আগে কেউ, কেউ বা পরে। তারই লাগি ব্যাকুলতায় আকুল এ প্রাণে কেন গেল আগে,ছিল পাশে বেশ,তারই লাগি এ শোকের নিত্য চলে আনাগোনা। সে শোক সময়ে কাটাতে হয় নতুবা জীব সত্তার চরৈবেতির অস্তিত্ব রবে না। ইহ জীবন মাটির টানে,মাটির দিকে আবার না চাইলে জীবন হবে না চলমান।  শুধুই নিরব হয়ে থাকলে অশ্রুই হবে সম্বল। জাগতিক জীবনের  সঙ্গে নিজেকে চলমান না করতে পারলে বেঁচে মরণের বোঝা কেউ চাইবে না বইতে। জীবন ও জীবনোত্তর মরণ - এক এই ধরণীর টান, অপর ধরণীর থেকে মুক্তির ডাক! এই দুই জীবনের সম্বল। বড়ই  মূলধন। 

  ধরণী মায়ায় বাঁধে বলে মরণের তরে এতো শোক। শোক না থাকলে বুঝত বা কেমন করে এ জীবন বড়ই মায়াময়। মায়ার তো জীবনের চালিকা শক্তি। ওই সব। জীবনকে সব কিছু দেয়।আনন্দ,বেদনা,শোক,দুঃখ...

  ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা। ❤❤🙏🙏

সোমবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

দেখা হবে পরপারে


আমাদের হৃদয়ের আকাশটাও তো অসীম অনন্ত অকৃত্রিম । সেই আকাশের সর্বজ্জ্বল নক্ষত্র তুই আমার পোলো । এই আকাশে সর্বদা থাকবে তোর জন্য তোর সেই জায়গাটা, যেখানে দাঁড়িয়ে তুই বলবি, "কোথায় সব, গ্রূপ আজকে এত চুপচাপ কেন?" । গ্রূপকে চুপচাপ করে দিয়ে গেলি যে তুই, গ্রূপ কি আবার কোনোদিনো সেই প্রাণবন্ত হাসি হাসবে? গ্রূপে কি আর কোনোদিন কেউ এমনভাবে সকলকে ভালোবাসবে!!! তোর যে সবাইকে নিয়ে চলার, সবার জন্য ভাবার, সবাইকে আপন করে নেবার গুণ, শুধু সেই গুণের জন্য আমি তোকে ভালবাসি তাই নয়, তোকে ভালবাসি আমি তোকে ভালবেসে । তুই ছিলি, আছিস, থাকবি চিরকাল আমাদের হৃদয়ের "অনন্ত আকাশে" । পোলো, আর জন্মে দেখা হবে তোর সাথে আমি জানি । আমাদের সবার একসাথে বাবুঘাট যাবার স্বপ্ন সফল হবে আমি জানি । আমি আবার তোর কাছে চপ খাবার বায়না ধরবো, আর তুই আমাকে কলা খাওয়াবি সেও আমি জানি । সব হবে পোলো,  সব পাবো আমরা । ফিরে তোকে আসতেই হবে আবার নতুন করে, আর জন্মে । তোর ক্যাপটেন - বাঁদর থাকবে আবার তোকে বন্ধু হিসেবে ফিরে পেতে পরের জন্মের অপেক্ষায় ।

পত্রলিপি~মৃদুল কুমার দাস

পত্রলিপি~মৃদুল কুমার দাস



প্রিয় পলো,

তুই খুব ভাবতিস ছেলেকে নিয়ে- "আমি না থাকলে ছেলের কি হবে!" 

  ঘুমের আগে ঘুমন্ত ছেলের দিকে তাকিয়ে কত রাত ভেবেছিস। নিজের কাছে নিজেই অনাথ হয়েছিস। তত ছেলের জন্য আকুল কান্নায় মনের কাছে মাথা কুড়েছিস। তোর মধ্যে তত ছেলের জন্য উতলা ভাব ছিল। তা থেকে ছেলেকে সবার কাছে এগিয়ে দিয়ে বলতিস এই তোমাদেরও বাবুসোনা। কত রাত বিনিদ্র থেকে কেঁদেছিস। ঘুম আসে না বলে অত রাত পর্যন্ত পারোকে জাগিয়ে রেখেছিস। সু কে মা জননী,পারোকে শালিক-বেগুন, আর পিউকে ক্যাপ্টেন-বাঁদর করে আর দাদাকে আচার্য বানিয়ে, সখীরূপে পারুতে, অনিদি আর  নিজের সঙ্গে নিজেই নীরবে হাসিমুখে খেলে গেছিস, অনন্ত আকাশ হয়ে। 

জিজু,অনি,চুন্নি,ছোটদা,মণিদা,রাজু,বৈশু,ঈশু,শর্মি,আরু,বিমানে নৈকট্য ঢেলে নীরবে গেলি যেভাবে মন পড়ে ইনটুইশন এর বিরহের গাথায় পলো আজ পরিবারের কাছে লিরিক্যাল ব্যালাড। আমাদের নবান্ন ম্যাগাজিনে পাঠক শুনে আঁতকে উঠে বলল আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স চলে গেল! পল্লবী বড়ুয়া! এই তো আজ স্কুলে বলল ওর লেখাটা যারা পড়েছিল।

   আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর জন্য ও পেলি মরণোত্তর স্বীকৃতি। কতটুকুই বা বয়স! অসম্পূর্ণ যত কাজ,পরিবারের জন্য লেখার আকুলতা দাদার এজন্য কষ্টটা রয়ে গেল চিরকাল। জীবন যায়,জীবন আসে,ও এতটাই ক্ষণিকের ঢেউ হয়ে উঠে এসে মিলিয়ে গেলি যেভাবে এ ভুলি কেমন করে। দূর হলেই কাছে টানে, কিন্তু তুই এমন দূরে রয়ে গেলি আর কাছে পাব না বলে ভোলার আবরণ আর রইল না। আর ভুলতে তোকে কেউ পারবে না রে, বিদায়টা নিজেই যেভাবে নিজের সঙ্গে শেয়ার করে নিলি। হতভাগ্য দাদা নিরুপায়ভাবে শুধু দাঁড়িয়ে দেখল। চোখের জল ছাড়া তোকে কিছুই দিতে পারলাম না। কত কাঁদলে এ জ্বালা জুড়োয় তাও জানা নেই,না জানা দেশের তুই তো বাসিন্দা বলেই, সব অজানার বাসিন্দা আমরা সবাই। তোর আত্মার শান্তি হোক। ওম্ শান্তি! ওম্ শান্তি!

  দাদার কাছে চেয়ে চেয়ে নিতিস তোর প্রিয় উপহার,এই দেখ পাঠালাম। ❤❤❤❤❤❤❤❤💫💫💫💥💥💥💅💅💅💅💅💅💅💅💅💅🍫🍫🍫🍫🍫🍫🍫🍫

     ইতি-

তোর দাদা


 (তুই চিঠি লিখতে পারিস না বলেছিলিস না! এবার তুই  ওখান থেকে শেখ। দীর্ঘশ্বাসের  মধ্যে বারে বারে আসিস।)

তুমি রবে নীরবে~সৌগত মুখোপাধ্যায়

 

তুমি রবে নীরবে~সৌগত মুখোপাধ্যায়

 

আর তিনটে ঋতুর কাছে বসন্ত সামান্য

মনের রং আশা জাগিয়ে নিঃশব্দে চলে যায়,

আসার মতো যাওয়াটা নিস্তব্দ

কিছু বোঝার আগে তার পরশ পাওয়ার আগেই সে চলে যায়।।

জীবন প্রকৃতির মতো ঋতু পরিবর্তন করে

তাইতো কান্না যখন বর্ষা রূপে নাবে

কিছু পাওয়া শীতের ঠান্ডা ছোঁয়া দেয়,

আবার একাকী মনে পরমাত্মীয় হয়ে বসন্ত আসে।

আজ এটা কোনো সেরকম কবিতা নয়,

আমার জীবনের একাকিত্ব র সাথী আমার লেখনী,

তারই হাত ধরে পাওয়া কিছু গ্রুপ

বসন্তের কোকিলের মতো বন্ধু,ভাই,বোন জীবন প্রাঙ্গনে হাসি মজা

আবার বর্ষার ঝড়ের মতো সব চুরমার করে দেওয়া,

এরকমই ঝড় উড়িয়ে নিয়ে গেলো আমার বসন্ত

অকালে ঝড়ে গেলো আমার এক বসন্তে পাওয়া বোন,

পল্লবী বড়ুয়া আমার সেই না দেখা বোন

শুক্রবার আমার বসন্ত ঝড়ে ভেসে গেলো,

আমি হারিয়েছি আমার বোন

কলম শুধু কেঁদে বলে

তুমি রবে নীরবে,আমারই অন্তর জুড়ে

ফেলে আসা বসন্তের সেই সুন্দর পরশ হয়ে,

জানি আর হবে না,আর ফিরে পাবোনা

সুপ্রভাতের সেই দাদা ডাক আর সে ডাকবে না।।

ইনটুইশন~অনিশা

 ইনটুইশন~অনিশা

ইনটুইশন হল কোন বিষয়ে সাধারন দৃষ্টিতে পর্যাপ্ত তথ্য না  জেনে সঠিক বা প্রায় সঠিক সিদ্ধান্তে পৌছান। এ যেন এক স্বতঃলব্ধজ্ঞান যে অনুভূতি বাইরে থেকে নয়, এক্কেবারে অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে আসে। 

আমরা পাঁচটি ইন্দ্রিয় থেকে যে তথ্যলাভ করি, আমাদের জ্ঞান এবং বুদ্ধি দিয়ে তার বিশ্লেষন করি। একথা সত্যি যে, "আমরা মানব মস্তিস্কের কতটুকুই বা জানি?" তবু চোখ কান খোলা রেখে নিজের অর্ন্তজ্ঞান এর উপরে ভরসা করেও আমরা অনেকেই অনেক কিছু অনুভব করতে পারি। হয়তো একেই আমরা বলি ষষ্ঠেন্দ্রিয়। এই অনুভব করার ক্ষমতা কারুর অনেক বেশী, কারুর কম। 


আমার বন্ধু পল্লবী বড়ুয়া,  নিজের নাম রেখেছিল "অনন্ত আকাশে।" আমি প্রথম শুনে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম, "তুমিই অনন্ত আকাশে?" উত্তরে মজা করে বলেছিল, "হ্যাঁ গো, এই হতভাগিনীই  অনন্ত আকাশে"। 


একটি অপ্রকাশিত কবিতায় তার একটি লেখা তুলে ধরতে চাই, অগনিত ভক্তবৃন্দের কাছে। লেখার তারিখ ৪ঠা ফেব্রুয়ারি, আর সেই "কালের ডাক" এলো ১৪ই ফেব্রুয়ারি। সত্যিই কি ব্যাপার টা কাকতালীয়?

"গহীন রাত্রে,বিজন আঁধারে,

সুখায়িত ঘুমের গভীরে,

শুনেছিলে! কি সেই ডাক?

তবে কি যমদূত দাঁড়ালো?

এসে মোর শিয়রে!"


তবে কি সত্যিই তার অন্তরাত্মা কিছু টের পেয়েছিল? নয়তো কেন সেই কবিতার পরবর্তী অংশে পাই, 

"নিকষ কালোয় দেখা সেই,

কাল ঘড়ির অমোঘ ডাকে,

অন্তরাত্মা ওঠে মোর থরথরিয়ে কেঁপে,

কি হবে উপায় তব ক্ষণে ক্ষণে ভেবে।"


আবার মনে হয়, হয়তো না। তার শিল্পী সত্বার প্রতিভা দিয়ে তৈরী নিছকই একটি সুন্দর কবিতা মাত্র।  যার মনে মৃত্যু ভীতি থাকবে, সে কিভাবে জীবনকে উপভোগ করার জন্য সমূদ্র উপকূলে ছুটে যাবে। একমাত্র সন্তানকে সঠিক ভাবে "সত্যিকারের মানুষ" করার ব্যাকুলতা সচারাচর চোখে পড়ে না। ও বলতো, "আমি চাই আমার ছেলে লেখক হবে।" আমি তো এখনও পর্যন্ত কখনও কোনো অভিভাবককে একথা বলতে শুনিনি। হয়তো অনেকেই চান, কিন্তু আগে পড়াশুনা করে চাকুরীজীবির নিশ্চিত জীবন। তারপর লেখালেখি।  তার জীবনের ভালোলাগা, ভালোবাসা এত সহজে সবাইকে আপন করে নেওয়ার মতো মানবিক গুণ, অসাধারণ লেখনী সর্বগুণের সমন্বয়ে তৈরী এক মানবী। তাই তো সৃষ্টি কর্তার ওকে এত তাড়াতাড়ি প্রয়োজন হলো। ঈশ্বর দুষ্টের দমন করেন, শিষ্টের পালন করেন। কিন্তু সেই দুষ্ট লোকেদের জন্যই তো তাকে চিরবিদায় নিতে হলো।  যে ছোট্ট বাচ্ছাটিকে অকালে মাতৃহারা হলো তার প্রতি ঈশ্বরের এ কি বিচার? আমাদের প্রাণের ঠাকুর সঠিক ভাবে আমাদের মনের কথাগুলোই বলেন, "তাই তো তোমায় শুধাই অশ্রুজলে--

যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,...."


সত্যিই আমাদের আদরের পোলো কে যে এত তাড়াতাড়ি "অনন্ত আকাশে" হারিয়ে যেতে হবে শুধু আমি কেন, সে নিজেও হয়তো ভাবতে পারে নি। এখন শুধু আমাদের স্মৃতিচারণ আর দীর্ঘশ্বাস ফেলা ছাড়া আর কিছু করার নেই। যাকে কখনো চোখে ও দেখিনি, ভার্চুয়াল বন্ধু যে এত আপন হতে পারে, আমাদের "লেখক ও লেখনী" পরিবারের সকল সদস্য আজ অত্যন্ত দুঃখজনক ভাবে অনুভব করলাম।



মঙ্গলবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

#বিষয় : ছবি দেখে লেখা#নাম::পান্তা লেখায় : শর্মিষ্ঠা ভট্ট

#বিষয় : ছবি দেখে লেখা
# নাম : পান্তা সবুজ তোমার আঁচলখানি ভরেছে শাপলা ফুলে, অসীম যেন ডেকে চলে বাউলিয়া সুরে। কাদা মাটি মাখা ভূমি পুত্রের বাড়ন্ত শস্যদানা। কাব্যের মাঝে ছবি শুধু কটা অক্ষরে সাদা কালো কলি মাখা। মেঠো সোঁদা গন্ধের তিব্র আবেদন মাখা, টেঁপির দাওয়ায় বসে নুন পান্তা খাওয়া। ©কপিরাইট সর্তাধিকারী শর্মিষ্ঠা ভট্ট।

সোমবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

# বিষয় : শব্দের ওপর লেখা (খেলাঘর) নাম : বাতাসে স্পার্কেল# লেখায় : শর্মিষ্ঠা ভট্ট

বিষয় : শব্দের ওপর লেখা (খেলাঘর)
নাম : বাতাসে স্পার্কেল মাম্পি রাত দুপুরে পিসিমনির দেওয়া চকলেট খেতে উঠেছিল। ড্যাডির প্রিন্সেস সে, আদুরের দুলালীকে স্টাডির সাথে সুন্দর এক খেলাঘর দিয়েছে এই জন্মদিনে। সেইখান থেকেই এই রাতে ঠক ঠুক শব্দ শুনে এগিয়ে গেলো মাম্পি। ওমা, ওর বার্বি ড্রেস চেঞ্জ করে রাতের বেলা সাজতে বসেছে। " এই বার্বি কোথায় যাবে গো? " " জানো না এই এক সপ্তাহ আমাদের খেলাঘরে প্রেম উৎসব হচ্ছে। " " সেটা কেমন? " " চলোই দেখবে। " ভয়ে ভয়ে রাতের বেলা বার্বির সাথে খেলাঘরের চোরা পথে বেরিয়ে পড়ল সে। সর্ত রইল সূর্য্য ওঠার আগেই ফিরতে হবে। ওর আট ব্যাটারির লাল গাড়ীটা এসে দাঁড়ালো। মাম্পি আর বার্বি চলল পার্টি। ইতিমধ্যে বার্বির ড্রেস পরে সেও পরী পরী দেখতে হয়ে গেছে। ওর গাড়ী চালাচ্ছে পুরোনো পুতুলের মধ্যের সেই বুড়ো চুল ওঠা পুতুল। সব কেমন যেন অবাক করা। এটুকু লাল গাড়ি তাও তো বিশাল লাগছে। উঠে বসে পড়ে মাম্পি। একটা সুন্দর বাড়ীতে পার্টি। সবাই নাচছে। খাচ্ছে। কত কথা বলছে। আনন্দ যেন বন্যা বয়ে চলেছে। ও মা বার্বি মুন্নির দাদাকে নিয়ে আসছে। ও একখানা খেলা ঘরের ড্রেস পরেছে। রাজাদের ড্রেস। মন্দ লাগছে না তো! "মুন্নি কোথায়?" এগিয়ে এসে বলেই ফেলে মাম্পি। "আসেনি তো, আমি একাই এসেছি। আমার ফুটবল এসে পড়েছে এদের বাগানে। এরা এই পোষাক দিল পরতে। দেখছি এদের সাইজে বেশ ফিট হলাম। তা তুমি এখানে কেন? " বার্বি হেসে বলে " বাহ্ , দুজন চেনো বুঝি? ভালোই হল। পার্টনার ছাড়া এখানে এন্ট্রি হয় না। এ ছেলেটা সন্ধ্যা থেকে একা। তাই তোমার কাছে আনলাম "। বিদায় নেয় বার্বি। দুজন দুজনকে দেখে পরিচিত হাসি দেয়। ওদের এখন কি করা উচিৎ। খেলাঘরে কত আনন্দ। কেউ ছোট্ট বাথ টবে ,অবশ্য মাম্পিদের কাছে ওটা তো সুইমিং পুল। কেউ ডিস্কো ফ্লোরে, কেউ ফুড কর্নার। ওদের কি করা উচিৎ! ওদের কৃত্রিম ঝর্না এখানে কে বসিয়ে দিল! মুন্নির দাদা হাত ধরে ওকে ওই ঝর্নার পাশে নিয়ে গেল। কত সুন্দর আলো দিয়ে সাজানো। মনে হল কোন সুন্দর দুনিয়া , যা কেবল খেলাঘরেই থাকে।বাতাসে স্পার্কেল উড়ছে। বাতাসে উড়ছে মাম্পির চুল, বাতাসে ছড়িয়েছে মিষ্টি গন্ধ। মুন্নির দাদা হাতের ওপর হাত দিয়ে কত কথা যে বলে চলেছে। মাম্পি শুধু ভাসছে, একটা হালকা গোলাপী আলো ঘিরে আছে ওদের। " দেখো মেয়ের কান্ড, প্লে রুমেই কু্ঁকড়ি মেরে শুয়ে, এই মাম্পি মুন্নির বিয়ে আজ, যাবি না? বাচ্চাদের মতো এখনও তুমি খেলাঘর নিয়ে থাকো। যেমন বাপ তার তেমন মেয়ে। আদিখ্যেতা দেখলে মাথা জ্বলে। এই, ও মাম্পি। তাড়াতাড়ি তৈরী হয়ে নে মা। " মাম্পি কেবল বুঝতেই পারে না সে বড়ো হল কবে! ©কপিরাইট সর্তাধিকারী শর্মিষ্ঠা ভট্ট।

শনিবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

তোতাপাখি

তুমি চাও তোমার চোখে গরীব দেখি
যে তুমি গরীব দেখেছ স্টেশনে আর
এয়ারপোর্টে ঢুকতে, আর জেনেছ 
কলমের ইচ্ছেমতো খোঁচায়, পছন্দের
চ্যানেল গুলিতে, সাথিদের অনুভূতি
নড়ানো বক্তৃতায়। যে তোমার পায়ের
জুতার সোল পাতলা হয়েছে বলে নয়
বা শার্টের রঙ ফিকে হয়েছে বলে নয়
বা প্যান্টের বুতাম হারিয়েছে বলে নয়, 
তুমি অনেক নতুন থাকতে আরও
কিনেছ কারণ তোমার নেট দুনিয়ার
বন্ধুদের তুমি একটা সাজে দুটো ছবি
কখনও দেখাও নি, আর দেখাবেও না! 
যখন পাইয়ে দেয়ার রাজনীতির ঘুণ
ধরে যাচ্ছে সমাজে, তখনও তোমার
মুখে 'দুবেলা দুমুঠো খেতে পায়না' বুলি। 

© all rights reserved for আবীর মহাপাত্র

# নাম- 'যেথায় আমি ঘর বেঁধেছি' (আধ্যাত্মিক) - পর্ব-১৮ ✍- মৃদুল কুমার দাস।

মার্গারেট এক কনকনে ঠান্ডার রবিবারে লেডি ইসাবেলের বাড়ির ঘরোয়া পরিবেশে ভারতীয় সন্ন্যাসীর বক্তৃতা শুনতে যাচ্ছেন।  তবে দ্বিধা পিছু ছাড়ে না। অনেক ধর্মীয় আলোচনা তো শুনেছেন,ইনি আর কি নতুন কথা শোনাবেন! এলেন সবার শেষে। অভ্যাগত জন পনেরো লেডি ইসাবেলের বাড়িতে। একেবারে শেষে বসলেন চুপিসারে। সময় ১৮৯৫ এর ১০ নভেম্বর। অপরাহ্ন। খ্রিস্ট ধর্ম তাঁকে ততটা খুশি করতে পারেনি। অনেক প্রশ্নের উত্তর অধরা থেকে গেছে। তবে বৌদ্ধধর্ম বেশ লাগে। খুব পছন্দের। ভারতীয় সন্ন্যাসীর সেদিনের বেদান্তের উপর বক্তব্যে মার্গারেটের মনে এলো মুগ্ধতা। শোনার হলে হয় ভাব মুহূর্তে চলে গেল। আগাগোড়া মন দিয়ে শুনলেন বক্তব্য। নিজের মনের প্রাসঙ্গিক প্রশ্নের সন্ন্যাসীর কাছ থেকে সদুত্তর মন্দ লাগেনি। ক্রমে লন্ডনে নানা স্থানে স্বামীজীর আরো কিছু ধর্মীয় বক্তৃতা ও প্রশ্নোত্তর শুনতে মার্গারেট অংশগ্রহণ করেন। সর্বত্রে খুব মনোযোগ দিয়ে শুনতেন। আর ক্রমাগত প্রশ্ন করে মনের মধ্যে যাবতীয় সংশয় দূর করতেন। অবশেষে তাঁর বিশ্বাস এলো, এতদিন তিনি যে ধর্মীয় জীবনের সন্ধানে দিশেহারা হচ্ছিলেন তার সব মীমাংসা এই ভারতীয় সন্ন্যাসীর কাছেই আছে। আর অচিরে গুরু বলে ভাবতে কোনও দ্বিধা বোধ করলেন  না। ঠিক এর এক দশক পরে ২৬ জুলাই, ১৯০৪ এ স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে মিস জোসেফিন ম্যাকলাউডকে লিখেছিলেন- "মনে করো,যদি সে সময়ে স্বামীজী লন্ডনে না আসতেন,জীবনটা নিরর্থক হয়ে যেত। কারণ আমি সর্বদাই জানতাম আমি এক সম্ভাবনার প্রতীক্ষায় আছি। সব সময়ে বলে এসেছি একটা আহ্বান আসবে। আর সত্যই তা এলো।" এই দশবছরে তখন অনেক অনেক পাওয়ার জগতে নিবেদিত প্রাণের থেকে নিবেদিতা নামের সার্থকতা সাফল্যের সঙ্গে প্রতিষ্ঠা করে ফেলেছেন। তবে চরম দুঃখের ভার বহন করেছেন গুরুকে অকালে হারিয়ে।
  স্বামীজীর সত্যনিষ্ঠা,দৃঢ়চেতা ও সবার উপরে মানব দরদী মনের পরিচয়ই স্বামীজীকে গুরু মানতে সব দ্বিধা কেটে গিয়েছিল। পরাধীন ভারতবর্ষের দুঃখ দুর্দশার পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রবল হয়ে ওঠে। দুঃখী ভারতবর্ষের পাশে অকপটে দাঁড়ানোর জন্য স্বামীজীর কাছে ইচ্ছা প্রকাশ করলেন মার্গারেট। বিনিময়ে স্বামীজীর কাছ থেকে আলমোড়া থেকে ২৯ জুলাই ১৮৯৭ এ লেখা চিঠি পেলেন মার্গারেট। সেই  চিঠিতে মার্গারেটকে আগাগোড়া পরামর্শ ছিল- "তোমাকে খোলাখুলি বলছি,এখন আমার দৃঢ় বিশ্বাস হয়েছে যে,ভারতের কাজে তোমার এক বিরাট ভবিষ্যত রয়েছে। ভারতের জন্য,বিশেষত ভারতের নারী সমাজের জন্য, পুরুষের চেয়ে নারীর- একজন প্রকৃত সিংহীর প্রয়োজন। ভারতবর্ষ এখনও মহীয়সী মহিলার  জন্মদান করতে পারছে না,তাই অন্য জাতি থেকে তাকে ধার করতে হবে। তোমার শিক্ষা,ঐকান্তিকতা,পবিত্রতা,অসীম ভালবাসা,দৃঢ়তা,সর্বোপরি তোমার ধমনীতে প্রবাহিত কেলটিক রক্তের জন্য তুমি ঠিক  সেইরূপ নারী,যাকে আজ প্রয়োজন।"
স্বামীজীর এই পত্রে মার্গারেট যেন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলেন। স্বামীজীর অনুমতির এই তো প্রতিক্ষার অবদানের আশীর্বাদস্বরূপ পত্র। এবার ম্যাপে দেখানো বাবার সেই ভারতবর্ষের অমোঘ ডাকে মোমবাসা জাহাজে চেপে বসলেন স্বদেশ,আত্মীয়-বন্ধুবান্ধব,প্রতিষ্ঠিত সব জীবন ছেড়ে স্বামীজীর ভারত গঠনের ডাকে যোগদান করতে। কলকাতার মাটি ছিল মোমবাসা ১৮৯৮ এর ২৮ জানুয়ারী।
   মার্গারেটের সেই প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা এতো মধুর হতে পারে তিনি কল্পনায়ও ভাবতে পারেননি। মার্গারেট মাটিতে পা দিয়ে দেখতে পেলেন স্বামীজী ভিড়ে ঠেলাঠেলির মধ্যে তাঁর দিকে এগিয়ে আসছেন। কি সৌম্য দর্শন!স্বামীজীর পরনে গেরুয়া আলখাল্লা,মাথায় পাগড়ি,মোজাহীন স্যান্ডেল পরা খালি পা। মার্গারেট গুরুকে প্রণাম করতে যাবেন যেই মাথা নিচু করেছেন,অমনি আরেক গেরুয়া বসনধারী সন্ন্যাসী জুঁই ও মালতী মেশানো সাদা ফুলের মালা মার্গারেটের গলায় পরিয়ে দিলেন। নতুন দেশে এমন বরণের রীতিতে অভিভূত মার্গারেট। সেদিনের মুহূর্তটি ছিল যেন প্রাচ্য তার ঘরে পাশ্চাত্যকে অতিথি দেবঃ ভবঃ আপ্যায়নের রীতিতে ঘরে তুলছে।
      মার্গারেট উদ্দিষ্ট লক্ষে ভারতে তো পৌঁছলেন। অত কিম্! তাঁর এর পর কর্মকান্ডের পরিচয় নিয়ে আসছি পরের পর্বে।
                       (চলবে)
@ কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।


বুধবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

#বিষয় : ছোটগল্প # নাম : মহিলা সাহিত্যিক।।পর্ব ৮#লেখায় : শর্মিষ্ঠা ভট্ট

মহিলা সাহিত্যিক।। পর্ব ৮
লেখা চেয়ে পাঠিয়ে ছিল "দ্বৈপায়ণ " পত্রিকা। এমনটাই লিপিকে বলে ছিল বৈরাগ্য। বৈরাগ্যের সাথে লিপির দেখা হয়েছিল সাহিত্য কবিতা বাসরে। লিপি তখন "কিন্নরে"র হয়ে কাজ করছে । তখন বৈরাগ্যের অসাধারণ কবিতা দেখে আগ্ৰহ হয়েছিল লিপির। তারপর কবিতা দেওয়া নেওয়া চলত। বেশ অনেকগুলো মাস কেটে গেছে হঠাৎ বৈরাগ্যের ফোন " দিদি একটা পত্রিকা খুলেছি। " " খুবই ভালো কথা। " " আপনাকে লেখা দিতেই হবে। " " আমি এখন তেমন লিখি না গো। " " ও সব জানি না, দিতেই হবে। " " আমি কি আর তোমার মতো লিখতে পারি? " " ওতেই হবে, কম করে দশটা লেখা এক সাথে পাঠাবেন। পর পর পত্রিকায় আসবে। " " নাম কি দিলে পত্রিকার? " " ব্ল্যাক হোল। " হেসে ওঠে লিপি। লিপির কাছে আজ একটা ম্যাসেজ এসেছে " আপনি এক লক্ষ টাকা পেয়েছেন, মাত্র দশ হাজার টাকা এই ঠিকানায় জমা করুন ।" নিজের হাসির শব্দ যেন নিজেই শুনতে পেলো। সাহিত্যের বাজার থেকে এমন একদিন বলেছিল বৈরাগ্য রায়। দশটা কবিতা, মাত্র তো দশটা কবিতা। সেরা দশ বেছে নিজের কবিতার ডাইরির পৃষ্ঠাই দিয়ে দিয়েছিল। বিশ্বাস করেছিল। কথা ছিল প্রতি মাসে একটি কবিতা পত্রিকায় আসবে । এবং বৈরাগ্য লিপিকে পত্রিকা পাঠাবে। আজ নয় কাল করে এক বছর হয়ে যেতে লিপিই আশা ছেড়ে দিয়েছে। বৈরাগ্যের ফোন আনরিচেবল পায়ে ছিল তার একবছর পর থেকেই। কিন্তু কাল কিন্নর দিখে চমকে গেল। এটা তার লেখা না! হ্যাঁ তার লেখা। লেখায় বৈরাগ্য! নির্লজ্জ! কিছু প্রমাণ নেই। একটা অসহায় আস্ফালন বুক থেকে ঠিকরে বেরিয়ে যেতে চায়। কিন্নর থেকে ফোন নম্বর নিয়ে একটু ঝাড়বে? থাক নীচু হতে ভালো লাগলো না। আজ দীর্ঘ ছসাত বছর পর ঠকে গেছে বুঝতে পারল লিপি। লিপি ম্যাডাম। ইতিহাস পড়ায়। লিপিকার সম্পদনা ছেড়ে ছিল ওই ঘটনায়। আবার একটা পরিচয় খুঁজছে। কিন্তু সাহিত্যের সভা সমিতিতে বৈরাগ্য রায়ের খুবই নাম। দেখা হয়। জিজ্ঞাসা করতে ইচ্ছা হয়, সব কিছুই কি ফেক! ধারের কবিতায় কবি! নিরুপমা রায় দস্তিদার ম্যাডাম তনুরুচিকে ডেকেছে। বিউটিশিয়ান কাজের জন্য । তনুরুচি অবাক হয়নি। ওর মধ্যে আত্ম বিশ্বাস ক্রিয়া করে। আরাম কেদারায়  গা ছেড়ে দিয়ে বলে " পারবে তা হলে লেখা দিতে? " " পারবো ম্যাম । " " প্রতি এপিসোডে পয়সা পাবে। আমি দেব। " " আপনি যা বলবেন । " " গোপনীয়তার সর্তে  সৈ চাই" " তাই হবে। " " এখন থেকে প্রতি মাসে আমায়  বিউটি ট্রিটমেন্ট দেবে। বেশ হাত তোমার। " "ধন্যবাদ ম্যাডাম ।" " আচ্ছা যাও, এ সব বেশি আলোচনা করবে না। " " আচ্ছা। " নাচতে নাচতে বাড়ী ফেরে তনুরুচি। সিরিয়ালে তার লেখা! নতুন গল্পের খোঁজে নিরুপমা রায় দস্তিদার। প্রতি মাসে বাঁধা ধরা পয়সা। খুশি বলতে পারে না কিন্তু উড়ছে সে। সমালোচনায় এটাই লিখেছিল বিদিশা সুপ্রভাত 🧡 একটি যথাযথ টপিক দেখে আজ লিখতে মন চাইল। আসলে রাজনৈতিক (ভারত কিংবা অন্য দেশের) দের জমিয়ে গালি দেওয়া অতিব মনোরঞ্জনের বিষয়। আজ নয় বহু দশক ধরে চলে আসছে। আমরা সাধারণ মানুষ দূর থেকে বা আড়ালে গালি দিয়ে ও ব্যাঙ্গো করে  মনের হতাশা ও জ্বালা মেটাই। কিন্তু সামনে প্রতিবাদ করার সাহস কয়জনের আছে? 🇮🇳ভারতের রাজনীতিবিদদের সম্পর্কে আমার মতামত তারা এক একজন সৈনিক ডাক্তার কৃষক ব্যবসায়ী। আমার কথার মানে এই ভারতবর্ষের মতো বিশাল দেশ ও তার প্রজাতন্ত্রকে অক্ষুন্ন রেখে শতবর্ষের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এরাই। দেশের গঠনমূলক কাজে তাদের অবদানকে অস্বীকার করা যায় না। ডেমক্রেটিক ভারতে শিক্ষিত নাগরিক রাজনীতি থেকে দূরে থাকতে চাই এবং গর্বিত হয়ে বলিও..... এ সব ব্যাপারে আমার ইন্টারেস্ট নেই। কেন.... ❓কারন আমরা সাচ্ছন্দে থাকতে চাই। ওই চিৎকার ওই লাফালাফি থেকে দূরে শান্তির গৃহকোণ। কিন্তু এই শান্তি থাকত না যদি এই সব আমাদের তর্জনী দৃষ্ট পাপিষ্ঠ রা (যাদের আমরাই চিহ্নিত করেছি) না থাকতো। আমরা কি কখনও আমাদের নিকটবর্তী পঞ্চায়েত অফিস কিংবা মিউনিসিপালিটি কার্যালয়ে নিয়মিত যাতায়াত করে হিসেব চেয়েছি? কখনও কি জনসাধারণ নিজেরা এক হয়ে প্রতিবাদ করেছি পথটা সারাও বর্ষা আসছে? বলেছি কি ভোট পেতে গেলে দাদাগিরি চলবে না। না পারিনি কারন আমরা সুখে থাকতে চাই। ওদের সামনে দাঁড়ানোর নূন্যতম একতা আমাদের মধ্যে  নেই। আমরা কি নির্বাচন কমিশন কে অনুরোধ করতে পেরেছি। করোনার মতো মহামারী জর্জরিত বাঙলায় ভোট স্থগিত হোক। এত মানুষ মিটিং মিছিলের জন্য জনসমাবেশ করছে, এ সময়ের অনুকুল না। বলতে পারিনি। সাহস নেই । কিংবা যদি বা কেউ বলে তাকে সাপোর্ট করার লোক নেই। কারণ জনগণের পুরাতন অভ্যাস নিজেদের পায়ে নিজেদের কুড়ুল  মারা। জনগণের নিজস্ব শক্তি কেবল ভোট বিচার, ওটাই কি আমরা সবাই সততার সাথে করি। ভোটের ছুটি নিয়ে বেড়াতে বেরিয়ে যাই।। তাই ভারতের রাজনীতি আমাদের গর্ব আর রাজনৈতিক মানুষ গুলো ব্যক্তিগত খারাপ নিয়েও আমাদের গর্বের থাম। এই ভাবে চলছে চলবে। কেউ কি ছেলে মেয়েকে রাজনীতিবিদ হতে শিক্ষাদি। দিই না । তাই আমাদের সংস্কার রাজনীতি কে প্রভাবিত করতে পারে না। সল্প শিক্ষিত এবং নেতাদের ছেলেপুলেরা  এই স্থান পূরণ করে। আমরা তাদের কাছে অতীতে হয়ে যাওয়া ভুলের পুনরাবৃত্তি ছাড়া কি আশা করতে পারি। দোষ জনগণের। ওরা যা তার জন্য দায়ী আমরা। জনসাধারণ।। গন্ডগোলের শুরু ওখান থেকে। রাজনৈতিক বিষয়ে আলোচনা হলেই মহল কেমন যেন আগুন হয়ে যায়। অহেতুক নিজের গায়ে মেখে নেয় মানুষ। সাহিত্যের আড্ডায় তুই তোকারি  হয়ে গেল। এক কোনায় বসে সঞ্জীব ভাবে রাজনীতি কি মানুষের অস্তিত্ব ছুঁয়ে যায়? কেন এ লড়াই তথাকথিত শিক্ষিত মহলে! তবে কি মূলত এরা দেশপ্রেমিক। দেশের হিতেই তো লড়ছে। চুলোচুলি করছে। না কি কোন আগুনে ঝাঁপ দিয়ে মজা পায়! সঞ্জীব উত্তর খুঁজতে থাকে। ভাবে সাহিত্য ও রাজনীতি এর ওপর আর্টিকেল লিখলে কেমন হয়। সবে সিগারেট ধরিয়েছে মোড়ের মাথায় দিজুদা ধরল। বয়স্ক মানুষ, তা ষাটোর্ধ্ব, সঞ্জীব পঞ্চাশ পেরিয়েছে। সভ্যতা বসত ফেলে দিতে হল নতুন সিগারেটটা। বৌ মল্লিকা দেখলে যা খুশি হত! " দাদা কেমন আছেন? " পায়ে হাত না দিয়ে হাত জোড়লো। " ভালো। খবর কি সঞ্জীব? কোথায় থাকো? তোমার বৌ মল্লিকা তো ফাটিয়ে লিখছে ভাই। " চুপ করে থাকে সঞ্জীব, কি বলবে তাই ঘরের কাজ সব আমি করি। নাকি বেড সেয়ার করতে ভুলে গেছি কতকাল। রাতভর লেখা চলে। চশমা চোখে মল্লিকার পাওয়ার বেড়ে চলেছে। নাকি বলবে তাই আমার মা বৃদ্ধাশ্রমে। দিজুদা উচ্ছসিত হয়ে বলে " হবে নাই বা কেন, ঠিক লেজ ধরেছে । তাঁর রঙের নীচেই প্রচার হয়ে যায়। বুদ্ধিমতী। হবে মেয়েটার হবে। বৃদ্ধাশ্রম, যা লিখেছে রে ভাই। গনভগবানে প্রকাশ পেয়েছে। পুরস্কার পেয়ে যাবে মেয়েটা। " সঞ্জীব নীরব থাকে। " এসো একদিন তোমার গলায় নতুন গল্পটা পড়াবো । কি গলা তোমার! চলি। " ঝোলা ব্যাগ নেড়ে চলে যায় নাট্যকার দিজুদা। সরল মানুষ টা কি জানেন সঞ্জীবকে মাড়িয়ে দিয়ে গেলেন! বৌ নামী হয়ে গেলে বুকের খাঁচায় সামান্য স্ফুলিঙ্গ  ধীরে ধীরে পোড়ায়। ধীরে ধীরে বাড়ে জ্বালা। ©কপিরাইট সর্তাধিকারী শর্মিষ্ঠা ভট্ট

মঙ্গলবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

#বিষয় - বিজ্ঞান। # নাম- জীবন জিজ্ঞাসা। মৃদুল কুমার দাস।

  # নাম- 'জীবন জিজ্ঞাসা'
             ( বিজ্ঞান বিষয়ক)
                    পর্ব- ৮

    ✍ - মৃদুল কুমার দাস। 


জার্মানী জীববিজ্ঞানে শ্রেষ্ঠ। আমেরিকা পথার্থ বিজ্ঞানে। জার্মানীও পদার্থ বিজ্ঞানে শ্রেষ্ঠ হতে পারতো। কিন্তু নিয়তি বিরূপ। হিটলার ইহুদি নিধনে মত্ত। এক ঝাঁক ইহুদি পদার্থ বিজ্ঞানী হিটলারের ভয়ে জার্মানি ছেড়ে আমেরিকায় এসে আশ্রয় নিলেন। আইনস্টাইন তাঁদের মধ্যে অন্যতম একজন।
  ফিউশনের বিপরীত ফিশন প্রক্রিয়া পদার্থ বিজ্ঞানের ধারায় চর্চা খুব জনপ্রিয়তা পেল আমেরিকায়। বিশ্বময় পরমানু চর্চার বিপুল সাড়া পড়ে গেছে। পরমানুর ফিশন প্রক্রিয়ায় যে পরমানু বিস্ফোরণ করা যাবে তার সূত্র কী?
    হিটলারের পরমানু বোমার খুব দরকার। নিজেকে দিগ্বিজয়ী বীর ভাবে। তাই বোমার জন্য খুব হাপিত্যেশ অবস্থা হিটলারেের। বিশ্বকে রক্তচক্ষু দেখাতেও ছাড়ছেন না। তাঁর হাতে এই পরমানু বোমা এলো বলে, বিশ্বকে ফাঁকা আওয়াজ দিয়ে রাখলেন হিটলার। জার্মান বিজ্ঞানীরাও হিটলারের মন পেতে, একপ্রকার তোষন বিলাসী হয়ে এই বোমা হাতে তুলে দিলেন বলে এমন ভাব করতে লাগলেন। আর বিশ্বকে একটু ধমক ও চমক দিতে,হিটলারি সখ মিটাতে মাঝারি মানের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দেওয়া হলো আমেরিকার পার্ল হারবারে। এই বার্তা দেওয়া যে বেশি ট্যাঁ ফোঁ করলেই পরমানু বোমা শত্রু দেশে ফেলে দেবে। পরমাণু বোমা কিন্তু হাতে নেই, অথচ পরমানু বোমার ভয় দেখাতে অসুবিধা কোথায়! হিটলারের ভয়ে বিশ্ব কাঁপুক, এমনি একটা মাঝারি মানের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে হিটলার ফল্স আতংকের বার্তা দিলেন। দেশটা যে আমেরিকা! এ কি সহ্য করা যায়!
  পরমাণু বোমা তৈরির দায়িত্ব পড়ল পরমানু বিজ্ঞানী ওপেন হাইমারের উপর। আইনস্টাইন সমর্থন দিলেন। আইনস্টাইন তখন জনপ্রিয়তার মধ্য গগণে। কেননা এই বোমা বিষয়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট একেবারে অজ্ঞ। আইনস্টাইন যদি মত দেন তাহলে অসুবিধা নেই। আইনস্টাইন তখন দেশ থেকে বিতাড়িত হওয়ার জ্বালায় জ্বলছেন। হিটলার মাঝারি মানের বোমা তৈরির জন্য যতটাই দায়ী আইনস্টাইন পরমানুবোমার ভয়ঙ্কর ক্ষতির কথা জেনেও বোমা তৈরিতে মত দেওয়ার জন্য ও প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টকে রাজি করানোর জন্য ততোধিক দায়ী। কারণ বিশ্বে নিন্দার ঝড় যখন উঠবে আইনস্টাইন তখন একেবারে একঘরে হয়ে পড়বেন। আইনস্টাইন শুধু মত দিয়েছেন, কিন্তু রূপকার হলেন বিজ্ঞানী ওপেনহাইমার ও যুদ্ধবাজ নেসলি রিচার্ড গ্রোভস। লেসলি রিচার্ড গ্রোভস ম্যানহাটনের প্রোজেক্টের প্রধান ছিলেন। তাঁরই ইচ্ছায় তিনি বিজ্ঞানী ওপেনহাইমারকে কাজে লাগিয়ে আড়াই বছরের চেষ্টায় তিন তিনটি পরমানু বোমা তৈরি করে ফেললেন।
  ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দের ১৬ জুলাই প্রথম পরীক্ষা করা হলো ভোরবেলা আলমোগার্ডোর মরুভূমিতে। আর তার ঠিক পরেই জাপানের হিরোশিমায় ফেলা হয় ৬ আগষ্ট। আর ৯ আগষ্ট নাগাসাকিতে। এখন এই ওপেনহাইমার ও গ্রোভসের কে? সেই পরিচয় জানতে ইচ্ছে করছে না? তাই হোক পরের পর্বে।
             ( চলবে)

  @কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস। 

            
  
  


সোমবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

#বিষয় : পত্র সাহিত্য #নাম : তোমাকে#লেখায় : শর্মিষ্ঠা ভট্ট

#বিষয় : পত্র সাহিত্য # নাম : তোমাকে #লেখায় : শর্মিষ্ঠা ভট্ট

তোমাকে,

 এখন আমার এখানে কুকুর ডাকছে, রাত গভীর,চাঁদ আলো ছড়িয়েছে বারান্দায়। ছাদের টবে কত ফুল, তুমি নাকি চারাগুলো এনে পুঁতে ছিলে। মাম্ , মানে তোমার মা বলল। সেই গাছে সিজন ফ্লাওয়ার ভরে গেছে, চাঁদের আলো ভরে গেছে। এখন তোমার ওখানেও কি চাঁদের আলো ছড়িয়েছে! অবশ্য তোমাদের ফৌজি নিয়মে তুমি হয়ত ঘুমিয়ে কাদা।ভোর থাকতে উঠে পড়বে।আবার রোজকার কাজ।কিংবা কাঁটাতারের এপাশে নিদ্রা হীন তুমি সীমানার দিকে নজর দিতে গিয়ে চাঁদ দেখতে ভুলে গেছো। একবছর ধরে বিয়ের কথা ঠিক হয়েও এমন সময় হল যুদ্ধের জন্য ডেকে নিল ওরা। তোমার যাওয়া টুকু চুপচাপ দেখেছি। এতটা বুঝিনা দেশ কি কেন তুমি নিঃশব্দে বেরিয়ে গেলে! বাড়ীর লোক কাঁদছে। আমি যে কেন কাঁদতে পারলাম না জানি না। কেবল এটুকু বুঝি তুমি আসবে, তোমায় আসতেই হবে। সেদিন হাসতে হাসতে কাঁদবো না হয় দুজন।একমাস কেটে গেছে, তোমার চলে যাওয়ার পর। তোমার চিঠি পেয়েছি দুটো।তোমায় আর তোমার দেশের জন্য টানটা বোঝার চেষ্টা করতে করতে তোমায়,তোমার রোজকার জীবনকে বেশ চিনে ফেলেছি। ইতিমধ্যে একটা নতুন অনুভূতি আমায় ঘিরে ফেলেছে। তাই এ আমার প্রথম চিঠি। মনে মনে অনেক বার তোমার সাথে কথা বলেছি। কিন্তু আজ মন চাইল তোমায় জানাতে, আমি মা হতে চলেছি। তাড়াতাড়ি ফিরে এসো। ❤️মাম্পি

# নাম- পত্রের রূপরীতি। মৃদুল কুমার দাস।

শুভ সান্ধ্য আলোচনা-বাসর। 
 # বিষয়- *পত্র সাহিত্য।*
 # নাম- *পত্রের রূপ-রীতি।* ✍ - মৃদুল কুমার দাস। 

    মানব মনের দুটি আয়না - চোখ ও চিঠি। অন্তরের পুঞ্জিভূত ভাবের প্রকাশ দুই প্রকার- কথা ও লিখিত। এই কথা ব্যবহারিক ও সাহিত্যিক। সকল কথার কোনো কোনো কথা সাহিত্যিক। সবসময়ই কথা বলি কিন্তু সাহিত্য করে বলতে হলে বিশেষ স্টাইল লাগে। এই স্টাইলটির জন্য কেউ কেউ সাহিত্যিক। রবীন্দ্রনাথ ব্যবহারিক প্রয়োজনের মানুষ যা বলে তাকে- *ছোটো আমি* বলেছেন। আর সাহিত্য স্রষ্টাকে বলেছেন- *বড় আমি*।
 পত্র হলো ব্যবহারিক জীবনের, আবার সাহিত্যের জন্য। তাই পত্রকে বলা হয় - *স্টাইল ইজ দ্য ম্যান।* আবার এও বলা হয়- *লেটার ইজ দ্য ম্যান।*
  রবীন্দ্রনাথ *পথে ও পথের প্রান্তে* গ্রন্থের ভূমিকায় বলেছেন- "....সর্বজনের দরবারে সাধারণ সাহিত্যের আর অন্তরঙ্গ মহলে চিঠির সাহিত্যের গতিবিধি। সাধারণ সাহিত্যকে টানে বিরাট পাঠককেন্দ্র,চালায় দূরদেশের দূরকালের পথে ব্যক্তিগত জীবনের সীমানা ছাড়িয়ে। আর  চিঠির সাহিত্যে ধরা দেয় লেখকের কাছ-ঘেঁষা জগতের দৈনিক ছায়া-প্রতিচ্ছায়া,ধ্বণি-প্রতিধ্বণি,তার ক্ষণিক হাওয়ার মার্জিত,আর তার সঙ্গে প্রধানত মিলিয়ে সদ্য-প্রত্যক্ষ সংসার পথের চলতি ঘটনা নিয়ে আলাপ প্রতিলাপ।" এর থেকেই পত্র সাহিত্যের লক্ষণগুলি মোটামুটি এরকম- 
১। পত্র সাহিত্য ব্যক্তিগত হয়েও সমাজগত।
২। পত্র সাহিত্য সমকালের হয়েও চিরকালের। 
৩। পত্র সাহিত্য শুধু প্রয়োজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় - পত্র বৌদ্ধিক বিকাশের চাহিদা মেটায়। তাই একে অনেকে *বাই প্রোডাক্ট* বলেছেন। 
৪। চিঠি আবেগ মথিত,আবার বাস্তবায়নের সহজ রসের সামগ্রী।
৫। যেমন ছবি আঁকা,পত্রও তেমনি,ঘটনা নিজে ডাকপিয়নগিরি করে না,মানুষকে দিয়ে করিয়ে নেয়। নিজের সংবাদ নিজেই করে।
৬। প্রত্যক্ষ আলাপের অভাব দূর করে। আবার প্রত্যক্ষ আলাপে যে ভাব প্রকাশিত হতে পারে না পত্রে তাকে সহজেই ধরা যায়।
 যেদিন প্রথম লিপি আবিষ্কৃত হয়,সেদিন সাথে সাথে প্রথম পত্র সাহিত্য আসে। রামায়ণ, মহাভারত, কালিদাসের শকুন্তলার পত্র,তবে প্রথম পত্র সাহিত্য রিচার্ডসনের *পামেলা* গ্রন্থ।  পরবর্তীকালে জন কীটস,কুপার,লুকাশ,বার্ণার্ড শ,রাজেন্দ্রলাল মিত্র  *পত্রকৌমুদী* সম্পাদনা করতে গিয়ে বলেছেন- "বররুচিকৃত পত্রকৌমুদী নামক সংগ্রহই অধুনা সর্বাপেক্ষা প্রাচীন।"
 কবিকঙ্কণ মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর *অভয়ামঙ্গল* এ দুখানি পত্রের নিদর্শন পাই। রামরাম বসুর *লিপিমালা* পত্রের আকারে রচিত  হলেও, পত্র মেনে না হলেও পত্র সাহিত্য রচনার অনুপ্রেরণা। মধুসূদনের *বীরাঙ্গনা* পত্র কাব্য।   
 বঙ্কিমচন্দ্রের  *কমলাকান্তের পত্র* এর পাঁচটি পত্র উল্লেখযোগ্য। আর রথীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পত্র সাহিত্য- *জাপান যাত্রী*, *য়ূরোপ প্রবাসীর পত্র*,  *ছিন্নপত্র*, *রাশিয়ার  চিঠি*, *ভানুসিংহের পত্রাবলী* ও স্বামীজীর পত্রাবলী বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ।
 বিষয়বস্তু অনুসারে পত্রের দুটি শ্রেণি - পত্রিকা( Epistle) ও চিঠি(Letter)। প্রশাসনিক কাজের পত্র ছাড়া এক পাও চলার উপায় নেই। 
 আর বিষয়বস্তু অনুসারে পত্র সাহিত্যের তিনটি শ্রেণি - বৈষয়িক, ব্যক্তিগত বা সামাজিক ও প্রেম পত্র।
 বৈষয়িক হলো ব্যবসা বাণিজ্য,সংবাদ জ্ঞাপন,প্রশাসনিক কাজকর্ম। এই ধরণের পত্র সাধারণত সংক্ষিপ্ত ও যুক্তিনির্ভর। সাহিত্যের অবকাশ নেই।
 সামাজিক পত্র হৃদয়ে মেলে ধরার জন্য। সৌজন্য বিনিময়,খোঁজখবর - ব্যক্তিগত ভাবের আদান প্রদান ঘটে।
 আর প্রেমপত্র- এখানেই যেন  জীবনের সব রসের ধারা যেন হিমবাহ থেকে নেমে আসি খরস্রোতা নদীর মতো।
প্রেম পত্র জীবনে আবেগের ঘনীভূত অবস্থা। প্রেম পত্র ছাড়া জীবনের সব স্বাদ থেকেও কিছু একটা শূন্যতা,রিক্ততা থেকে যায়। জীবনে প্রেম আসুক না আসুক প্রেম পত্র আসবেই। লেখার অধিকার সবার আছে। প্রেম পত্র ছাড়া জীবন অর্থহীন। 
 ধন্যবাদ।  শুভেচ্ছা।❤❤🙏🙏

#বিষয় : অনুগল্প (তুমি আমায় ডেকেছিলে) # নাম : সেই দুপুরে # লেখায় : শর্মিষ্ঠা ভট্ট

 #বিষয় : অনুগল্প(তুমি আমায় ডেকেছিলে)

#নাম : সেই দুপুরে

# লেখায় : শর্মিষ্ঠা ভট্ট

"এই আচার তৈরী। আয়...  অনি শুনছিস?"

অনিরুদ্ধকে কে যেন ডাকল। ধড়ফড় করে ঘুম থেকে উঠে বসে। একটু ভেবে মনে পড়ে তনু, এই সেই বাচ্ছা বয়সের বন্ধু তনু। ডাক ছিল কাঁচা আমের আচার নুন লঙ্কা মাখিয়ে, বোধনদের তাল ডাঙ্গার পুকুর পাড়ে ডাক। আজও এই মাঝ বয়স পেরিয়ে সেই দুপুরের কত স্বপ্ন আসে। 

মনের মাঝে পড়ে থাকা এক কোনে দুপুরময় দুষ্টুমি। কত খেলা মাছ ধরা। মুম্বই কোলাবার বিশাল ফ্লেটে মাধুরীর সাথে বেশ জমিয়ে বসেছে। তবু ইচ্ছা হয় এখনও সেই ছোট নদীর পাড়ে পিকনিক ,আবার যেতে কৈশোরের ডাকে । মাধুরীকে বলতেই লাফিয়ে উঠল। আর তার জোরাজুরিতে মালদা পুরোনো সেকেলে ফেলে যাওয়া সেকেলে বাড়ীতে পনেরো দিন। দুপুরে ভাত ঘুম ভাঙায় বোধনদের পুকুর পাড়ে অদৃশ্য টানে হেঁটে চলেছে। গাছপালা কত বড়ো হয়ে ছাওয়া করে দিয়েছে।তনু কি আজও আচার নিয়ে বসে আছে! মনে হতেই অদ্ভুত অনুভূতি তাকে ঘিরে ধরে। কেউ যেন পুকুর ঘাটে বাসন মাজঝে। আশাহত অনিরুদ্ধ যখন ফিরতে ঘুরেছে। পেছন থেকে কেউ বলল " চিনতে পারলে না তো অনিদা"

অনিরূদ্ধ দেখল মাঝ বয়সী গ্রামের এক বৌ, কপাল ভর্তী সিঁদুর, অযত্নে কালচে পড়া তেলা মুখে বিষাদময় হাসি। অনুরূদ্ধ সেই ডাকের হিসেব ঠিক মেলাতে পারল না। পেরিয়ে যাওয়া দিনগুলো হয়ত মনের ছবিতেই অসাধারণ।

রবিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২১

সরস্বতী পূজা

 




সেদিনের সরস্বতী পুজো


আজকের বিষয় লিখতে বসে নিজেকে নিয়ে যাবো ৩০বছর আগে আমার আমাতে।আমাদের সময় এই প্রেম নামক শব্দ টা তিন ধাপে সজ্জিত ছিলো।ব্যাপারটা এই রকম সরস্বতী পুজো মানে নির্বাচন, পয়লা বৈশাখ প্রহসন অর্থাৎ আমাকে তোমায় ভালোবাসিতে হইবে কারণ আমি তোমারে বেসেছি ভালো।এরপর দুর্গাপূজা হাত ধরে ঠাকুর দেখতে দেখতে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা।অগ্রহায়ণ খোলা শুধু নিমন্ত্রনের অপেক্ষা।
   এই ব্যাপারটা ছেলে মেয়ে উভয়ের মধ্যেই কার্যকর ছিলো।বেশ মনে আছে মাধ্যমিক পাশ করার পর স্কুলের হোমড়া চোমরা দের দলে নাম লেখানোর সাথে সাথে ওই ফল আনা,ঠাকুর আনা,আলুর দমের আলু ছাড়ানো ব্যাপারটা অপেক্ষাকৃত ছোট ক্লাশ নবম দশম শ্রেণীর ঘাড়ে অলিখিত ভাবে পড়তো।যেহেতু ১২ক্লাশ সেন্টাপ ছাত্র ওদের বাতিল করে রাখা হতো।১১ তখন সব্বের সব্বা ,হাতে সময় এই বছর,প্রেম বিনা জীবন বৃথা।
  মেয়েদের স্কুলে নিমন্ত্রণ পত্র নিয়ে যাবার জন্য রীতিমতো নিলামে উঠতে হতো।যে কতিপয় সিলেক্ট হতো তাদের পরবর্তী কয়েকদিন টিফিনের অভাব হতো না।সঙ্গী হবার যুদ্ধে কে জিতবে তাই নিয়ে হুড়োহুড়ি পরে যেত।এই মেয়েদের স্কুলে নিমন্ত্রণ পত্র নিয়ে যাবার সময়টা খুব যত্ন সহকারে তাদের টিফিনের সময়টা বাছা হতো।মনে পরে এই সূত্রে চলতে গিয়ে আমি এক ভীষণ বিপদে ফেঁসেছিলাম।টিফিনের ঘন্টা হবার সাথে সাথে একটি মেয়েদের স্কুলে ঢোকার সাথে সাথে হেড দিদিমণি আমাদের তাঁর ঘড়ে ডেকে নেন এবং মিষ্টি মুখ করানোর অছিলায় আমাদের প্রহসন শুরু করেন।পুরো ১ঘন্টার টিফিন আমরা কি নিয়ে পড়ছি ভবিষ্যতে কি করতে চাই এই করে কাটিয়ে দিলেন।বুঝলাম দিদিমণি এই দলেরই লোক ছিলেন তার সময়ে।
   সরস্বতী পুজোয় পাড়ার কিছু কিছু দাদা পাহাড়া বসাতো ঠিকই তবুও আইনের ফাঁক তো আছেই সেই ফাঁকে কিছু নির্বাচন হয়ে যেতো।বলতে বাঁধা নেই লালপাড় শাড়িতে মেয়েদের যে রূপ হয় তা সত্যি অবর্ণনীয়।আমি নিজেও এরকম এক সরস্বতী পূজার বিজেতাদের মধ্যে একজন,কিন্তু চাপ নেই কারণ আমার ঘরে মেয়ে আসবে যাবে না।
    সময় পাল্টেছে,সরস্বতী পুজোর আগে পিছু করে ভ্যালেন্টাইন ডে আসে,নির্বাচন প্রক্রিয়া আজ অনেক পরিবর্তন, অন্তর্জাল অনেকটা সাহায্য করলেও আজো সরস্বতী পুজো স্ব মহিমায় আছে।সারা বছর জিন্স,টপ, চুড়িদার পরিহিতারা আজো ওই বিশেষ দিনটিতে শাড়ি পরে সজ্জিত হয়ে বাইরে বের হয়।তাদের ওই মোহময়ী রূপ বাংলার সংস্কৃতি কে নাড়িয়ে দেয়।ওই সব কুমারী নারী হয়ে ওঠে দেবীর রূপ স্বর্গের অপ্সরা লজ্জা পায়।
     ভালো লাগে আজো এই পৌঢ় চোখ ওদের মাঝে খুঁজে নেয় আমার হারানো মা কে,যে আজ নেই কিন্তু আছেন আমার মনে।ওই বিশেষ দিনে অন্তরের ওই ছবি একাধিক মায়ের প্রতিমূর্তি হয়ে আমার সামনে আসে, আমি দেখি বিভোর হয়ে।
    না ওটা আমার দেখা,আমাদের মতো মানুষের দৃষ্টিকোণ, কখনোই আমার সন্তান কিংবা সন্তান তুল্য দের জন্য নয়😊তাদের কাছে হয়তো আর এক পরিকল্পনা।💐💐💐💐

মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২১

# বিষয় - বিজ্ঞান। # নাম- জীবন জিজ্ঞাসা। পর্ব - ৭। ✍- মৃদুল কুমার দাস।

# নাম - 'জীবন জিজ্ঞাসা'
      ( বিজ্ঞান বিষয়ক)
              পর্ব- ৭

 ✍- মৃদুল কুমার দাস। 


  নক্ষত্র মানে বিশাল পরিমাণ পদার্থের পিন্ড। বেশি পদার্থ মানে বেশি গ্রাভিটির আকর্ষণ বল। নক্ষত্র মাত্রেই বেশি পদার্থ, বেশি পদার্থ বলতে বেশি পরিমান জ্বালানি। এই জ্বালানি যদি ফুরিয়ে যায় তবে শক্তি ( আলোক ও তাপ) ফুরাবে। কিন্তু ভর লয় হবে না। বরং বেশী হতে পারে। ভর যত বেশি আকর্ষণ বল তত বেশি। আর তার আকর্ষণ বলের আয়ত্বে যেই আসবে বা যাকে পাবে তাকে সেকেন্ডের কয়েক ভগ্নাংশ সময়ের মধ্যে গিলে ফেলবে। নক্ষত্রের এই শক্তি হারানোর অন্তিম দশার নাম 'ব্ল্যাক হোল'। ব্ল্যাক হোল শক্তি শূন্য বলে কোনো প্রকার তরঙ্গ ছড়ায় না। তাই অদৃশ্য। এই নিয়ে ব্ল্যাক হোল চর্চা জমিয়ে আসর বসানো যেই না শুরু করেছে, হঠাৎ থমকে দাঁড়াল সামনে পরমানু গবেষণা হাজির হতেই।
  পরমাণু চর্চায় এটা স্থির হওয়া গেল যে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় যতই  নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন বিক্রিয়া হোক না কেন পরমানু অটুট থাকে। পরমাণু লোপ পাবে না।
  এই যে নিউক্লিয় বিক্রিয়ায় নতুন যৌগ তৈরি হল,এই নতুন যৌগ তৈরি হওয়ার পদ্ধতির নাম 'ফিউশন'
  ফিউশন প্রক্রিয়া হল একাধিক পরমানু সংযোগে নতুন পরমানু তৈরি হওয়া। যেমন দু'টি হাইড্রোজেন পরমানু মিলে তৈরি হয় একটি হিলিয়াম পরমানু।
এই 'ফিউশন' প্রক্রিয়ার ঠিক বিপরীত আরেক প্রক্রিয়া আছে। তার নাম 'ফিশন' প্রক্রিয়া। ফিশন প্রক্রিয়ায় একটি পরমানু ভেঙে একাধিক পরমানু সৃষ্টি হয়। যেমন ফিশন প্রক্রিয়ার সাহায্যে একটি ইউরেনিয়াম পরমানুকে নিউট্রন কণা দিয়ে আঘাত করলে বেরিয়াম নামে একটি পদার্থ পাওয়া যায়,যার থেকে প্রচুর পরিমাণে তাপশক্তির সম্পর্ক থাকে, সেইসঙ্গে ক্রিপটন পরমানু তৈরি করে। এই বিভাজনের ফলে প্রচুর পরিমাণে যে তাপশক্তি মিলবে তারই হদিশ দিল বা পাওয়া গেল।
ফিশন প্রক্রিয়ায় তাপশক্তি উৎপন্ন হওয়া থেকে গবেষকগণের কাছে দু'টি সম্ভাবনার দ্বার খুলে গেল-
           ১. ফিশন যদি ধীর গতিতে চালানো হয় তবে রিঅ্যাক্টর বসিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভভ হবে।
            ২. যদি অনেক ইউরেনিয়াম পরমানুর ফিশন একসঙ্গে দ্রুত করানো যায় তাহলে প্রচুর তাপশক্তি পাওয়া যাবে। যা থেকে আলো,তাপ তো বটেই সেই সঙ্গে প্রবল বিস্ফোরণের ধাক্কা ঘটানো যাবে। এই প্রবল ধাক্কা ঘটানোর কর্মটিকেই বলে পরমানু বোমা বিস্ফোরণ!
  এই দুটি ধারণা বিশ্বের কাছে হয়ে উঠল আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ। এক অজানা জগতের দ্বার খুলে গেল। বিশ্বজয়ে লেগে গেল মত্ততা। ধুন্ধুমার হুড়োহুড়ি! যে ব্ল্যাক হোল নিয়ে ও মহাকর্ষ তরঙ্গ নিয়ে নিউটন ও আইনস্টাইন মতবাদে নির্ভুল প্রমাণের রীতিমত চ্যালেঞ্জ ছিল,আসর বেশ জমজমাট ছিল,যেই পরমানু বিস্ফোরণের খবর রটে গেল অমনি বাজার হয়ে উঠল প্রবল উত্তেজনাময়! ব্ল্যাক হোল, মহাকর্ষীয় তরঙ্গ খড়কুটোর মতো ভেসে গেল। ১৯৩৯ সাল থেকে তার আর কোনো হদিশ পাওয়া গেল না। পরমাণু বোমা যে বড্ড বেশি জরুরি। হিটলারের পোল্যান্ড দখলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বাজার সরগরম। পরমাণু বোমা নিয়ে আলোচনা পরের পর্বে।
        (চলবে)

@ কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস। 


# বিষন্ন- প্রজাতন্ত্র দিবস। মৃদুল কুমার দাস।

# বিষয় - *প্রজাতন্ত্র দিবস* 
     # নাম- *২৬- জানুয়ারী*
    ✍ - মৃদুল কুমার দাস। 
    পূর্ণ স্বরাজের দাবীতে ১৯২৮ কলকাতায় জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে সুভাষচন্দ্র ও জওহরলাল নেহেরু যৌথ দাবীতে বেসরকারীভাবে স্বাধীনতা দিবস পালনের জন্য জাতীয় পতাকা উত্তোলনের প্রস্তাব গৃহীত হলেও গাঁধীর অনুমোদন না পাওয়ায় গৃহীত প্রস্তাব কার্যকরী হয়নি। সুভাষচন্দ্র মনঃক্ষুন্ন হয়েও নিরুপায়। শেষে ১৯২৯ এ নেহেরু সভাপতি হয়ে পূর্ণ স্বরাজের দাবীতে জোর করে জাতীয় পতাকা তুলে দিলেন। তখন গাঁধীজী বাধ্য হলেন ১৯৩০ এর জানুয়ারীর প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিত  জাতীয় কংগ্রেসের লাহোর অধিবেশনে পূর্ণ স্বরাজের দাবী কার্যকরী করতে প্রস্তাব অনুমোদন দেন জানুয়ারীর শেষ সপ্তাহের রবিবার জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে স্বাধীনতা দিবস পালিত হবে। শুধু জাতীয় পতাকা উত্তোলনে সীমাবদ্ধ থাকা নয়,সেই সাথে দিনটিতে নানা অনুষ্ঠানসূচী পালিত হবে। যেমন - চরকা কাটা,অস্পৃশ্যদের সেবা করা, হিন্দু-মুসলমানে সম্প্রীতি রক্ষা করা,মদ্যপানের বিরোধিতা করা ইত্যাদি। আর সেই দিনটি হল জানুয়ারির শেষ রবিবার ২৬- জানুয়ারী ১৯৩০। 
  নেহেরু তাঁর আত্মজীবনীতে দিনটি সম্পর্কে বলেছিলেন- "...সর্বত্র বৃহৎ জনতা গাম্ভীর্যপূর্ণ স্বাধীনতার শপথ বাক্য উচ্চারণ করছে,সে এক মহান দৃশ্য, সেখানে কোনো বক্তৃতা নেই,অনুরোধ নেই,উপরোধ নেই..." ১৯৩০ এর পর থেকে প্রত্যেক বছর দেশব্যাপী এইভাবেই বেসরকারীভাবে স্বাধীনতা দিবস পালিত হয়ে আসছিল। 
  গোল বাঁধল যখন সরকারিভাবে স্বাধীনতা দিবস আসার উপক্রম হল। এই ২৬ জানুয়ারীকে যথাযথ মর্যাদা দিতে জাতীয় কংগ্রেস দাবী করেছিল স্বাধীনতা দিবস আর ক'টা মাস বিলম্বিত করে ১৯৪৮ এর ২৬-জানুয়ারী হোক স্বাধীনতা দিবস। পঞ্জিকা মতে ১৫ আগষ্ট দিনটিও শুভ নয় বলে অনেক করে ঠেকানোর চেষ্টা হয়। কিন্তু সে কথায় কোনও কর্ণপাতই করেনি সরকার। কেন করেনি?
 করেনি এজন্য দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাতীয় কংগ্রেস মিত্রশক্তিকে(ব্রিটেন,ফ্রান্স)কোনো সাহায্য না করার ফতোয়া জারি করল। এও বলা হলো জাতীয় কংগ্রেসের বিরোধিতা করা মানে দেশদ্রোহীতার নামান্তর। ফলে মিত্র শক্তি ভারতীয়দের একটা নগন্য অংশকে পেল সেনা হিসেবে যুদ্ধে যাওয়ার জন্য। 
 ফলত ভারতবর্ষের স্বাধীনতা দিবস ধারণ নিয়ে কংগ্রেসের কোনও দাবী পূরণ করার ইচ্ছা ব্রিটিশ সরকার ন্যূনতম সৌজন্য লাভ  না করাই স্বাভাবিক। 
 এর মূলে গাঁধীকে এক পরাস্ত নায়কের তকমা দিতে ব্রিটিশ সরকার তলে তলে ফন্দি আঁটল। 
   স্বাধীনতা দিবসের দিন নিয়ে জাতীয় কংগ্রেসের প্রস্তাব মানা তো দূরের কথা,দ্বিখন্ডিত স্বাধীনতার মদত দিল। তার একটা ছোট্ট প্রমাণ,যখন প্রধানমন্ত্রী ক্লিমেট এটলিকে জিজ্ঞেস করা হলো- গাঁধীজীর ভারতছাড়ো আন্দোলনের জন্যই কি এই স্বাধীনতা? উত্তরে এটলি বলেছিলেন গাঁধীর আন্দোলন নয়,নেতাজী সুভাষচন্দ্রের গণ অভ্যুত্থানের জন্য ব্রিটিশ সরকার স্বাধীনতা দিতে বাধ্য হয়েছে - "আমরা আগ্নেয়াস্ত্র চূড়ায় বসে আছি। আজাদ হিন্দ সেনানীদের লালকেল্লায় বিচার চাই; এবং দেশ জুড়ে গণ অভ্যুত্থান ব্রিটিশকে বাধ্য করেছিল ভারতবর্ষ ত্যাগ করে চলে যেতে।"
  আসল রহস্য কিন্তু অন্য - দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইংল্যান্ডের অর্থনৈতিক মেরুদন্ড ভেঙে চুরমার। ভারতবর্ষের সংসার চালানোর ভাঁড়ে মা ভবাণী অবস্থা।  আর গাঁধীর ভেতর থেকে ভারত ছাড়ো আন্দোলনের চাপ,বাইরে থেকে আজাদ বাহিনীর চাপে ব্রিটিশ শক্তির নাস্তানাবুদ অবস্থা। ভারত ছেড়ে যাওয়াই শ্রেয়। সেই সঙ্গে তাদের এও কর্তব্যজ্ঞানে অবিচল হলো যে ব্রিটিশের পরে ভারতবর্ষকে যেন আর কোনো বৈদেশিক শাসক শাসন করতে না পারে - একটা স্থায়ী গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য স্থির করল।
  আর স্বাধীনতা দিবস যখন ১৫ আগষ্ট  হয়ে গেল তখন ২৬- জানুয়ারী কি বৃথা যাবে। না বৃথা যেতে না দেওয়ার জন্য  ২৬ - জানুয়ারী প্রজাতন্ত্র দিবসের পুণ্য বেদিতে পেল প্রতিষ্ঠা। তাই স্বাধীনতা মেরুদন্ড  হলে প্রজাতন্ত্র ধড় বা দুটি দিন ভারতমাতার দুটি নয়ন। 
  জয় হিন্দ্।বন্দেমাতরম। 
@ কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।

প্রজাতন্ত্রের প্রজা(সুদেষ্ণা দত্ত)

 


প্রজাতন্ত্রের প্রজা

সুদেষ্ণা দত্ত


       ১) আজ ২৬শে জানুয়ারী।মাস্টার রা বারবার ইস্কুলে যেতে বলেছে।আজ কোন কেলাস হবে না।হেডমাস্টার একটা ভারতবর্ষের পতাকা তুলবে আর একটা টিফিন কেক দিয়ে ছুটি করে দেবে।আসমত ভাবে এমন দিন কেন আসে,যেদিন ইস্কুলে মিড-ডে মিল দেয় না।মিড ডে মিলের ডিমটা সে বাড়ীতে নিয়ে গিয়ে বোন আয়েশার সঙ্গে ভাগ করে খায়।একবেলার খাবারের চিন্তা করতে হয় না তার বিধবা মাকে।কিন্তু আজ কি খাবার জুটবে তাদের!

          ২)   মাঘের ঠান্ডা কুয়াশা আস্তরণ বিছিয়েছে চারদিকে।দিকচক্রবাল আলোকিত করে ধীরে ধীরে স্ব মহিমায় উদ্ভাসিত হচ্ছেন সূর্যদেব।ক্ষেত ভর্তি সর্ষে ফুল,সেখানে কত নাম না জানা পাখীর আনাগোনা।কিন্তু এসব দেখার ফুরসৎ নেই কানাইয়ের।সকাল থেকে মালিকের জমিতে ধান রোপনে ব্যস্ত সে।একটা তিন রঙের কাপড় উড়ছে কাছের ক্লাব থেকে।বাবু এসে বলে গিয়েছেন,আজ ২৬শে জানুয়ারী, তাঁর ক্লাবে নিমন্ত্রণ,আজ আর আসতে পারবেন না।আজ একটা বিশেষ ছুটির দিন।হায়!কানাইয়ের কাছে ২৬ শে জানুয়ারী যা ২৬শে ফেব্রুয়ারীও তা।কাজে মন দেয় কানাই।

            ৩) নেতাজী মহাবিদ্যালয়ের ক্যান্টিন আজ বন্ধ।আজ ২৬ শে জানুয়ারীর পতাকা উত্তোলনের পর কলেজ ছুটি।জোসেফ কাকারও আজ সারাদিন রোজগার বন্ধ।মন মরা হয়ে থাকে লিভারের অসুখে আক্রান্ত স্ত্রীর চিকিৎসারত জোসেফ কাকা।আজ হাসপাতালে স্ত্রীকে নিয়ে ডাক্তার দেখাতে যাওয়ার কথা ছিল।কিন্তু আজ নাকি ডাক্তারবাবুরা হাসপাতালে থাকবেন না।ফিস্টি করতে যাবেন।

         ৪) ভিক্টোরিয়ার সামনে পতাকা বিক্রি করছে আকাশ।একটা বড় গাড়ী সামনে এসে দাঁড়ায়।একটা ফুটফুটে মেয়ে বাবার হাত ধরে পতাকা কিনতে আসে।দেওয়ার সময় একটা পতাকা হাত থেকে পড়ে যায়।বাবা-মেয়ে নোংরা পতাকা মাটিতে ফেলে নতুন পতাকা গাড়ী তে গুঁজে বেরিয়ে যায়।দিন শেষে মাটিতে পড়ে থাকা পতাকা নিয়ে বাড়ী ফেরে আকাশ।তার তিন বছরের ছেলে খুশি হয়ে জানলায় পতাকা গুঁজে প্রণাম করে।গর্বিত আকাশ ভাবে আকাশের মত উদার হোক তার ছেলে।

        ৫)  রেনু মাসী প্রতিদিনের মত আজও লোপা বৌদিদের বাড়ী কাজে যাচ্ছে।কিন্তু পাড়ার ছেলে গুলো তাকে জোর করে ক্লাবে যাওয়ার জন্য।ক্লাবে আজ কম্বল দেওয়া হবে।রেনু মাসী জানায় কাজে না গেলে বৌদি রাগ করবে।কিন্তু এই মাঘের শীতে কম্বলের হাতছানিকে উপেক্ষা করতে পারে না সে।আজ কি বিশেষ দিন সে জানে না।তার কাছে আজকের দিনের সেরা প্রাপ্তি এই উষ্ণতা।

          আজ ২৬ শে জানুয়ারী, প্রজাতন্ত্র দিবস।জনগণই নাকি এখানে সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী।১৯৫০ সালে আম্বেদকরের হাত ধরে দেশের সংবিধান তৈরী হওয়ার পর তা কার্যকর করার জন্য একটি দিনের প্রয়োজন ছিল,তাই এই ২৬শে জানুয়ারী কেই বেছে নেওয়া হয় প্রজাতন্ত্র দিবস হিসেবে।কিন্তু সত্যিই কি ভারতবর্ষের মত দারিদ্র্য,অশিক্ষা যেখানে ওঁৎ পেতে আছে—সেই অভুক্ত,অর্ধভুক্ত মানুষের কাছে এই দিনের কোন মর্যাদা আছে!আবার উল্টোদিকে শিক্ষিত,বিত্তবান মানুষরা মাংস ভাত খেয়ে একটা ছুটির দিনের মর্যাদা দিয়েছেন কত সংগ্রাম,কত অত্যাচার—পরিশ্রমের সফল পরিণতি এই দিনের।

©কপিরাইট রিজার্ভড ফর সুদেষ্ণা দত্ত।

ছবি সৌজন্য:গুগুল।


#বিষয় : অনুগল্প #নাম: ব্ল্যাক হোল # লেখায় : শর্মিষ্ঠা ভট্ট


একাকিত্ব

::::::::::::::::::::::::::::::::::


#বিষয় : অনুগল্প 


# নাম : ব্ল্যাক হোল

# লেখায় : শর্মিষ্ঠা ভট্ট


একা একেবারে একা  ভীড়ের মাঝেও মাঝে মধ্যেই একা লাগে দীপার। এই সংসার লেখার দুনিয়া বাচ্ছারা , এমন কি অনিমেষ। সব যেন দূরের গ্ৰহ। দীপা বিচ্ছিন্ন এক দ্বীপে বাস করে। বিনিদ্র রাতে কাঁচের জানলার ওপারে কালো অন্ধকার যেন ব্ল্যাক হোলের মতো গ্রাস করছে। একা , ভীড়েও একাকিত্ব দুহাত বাড়িয়ে ডাকে। সবার কি নিজের একটা দ্বীপ থাকে! নাকি কেবল দীপাই কোন রোগের শিকার?  উদাস নিরাসক্তি আচ্ছন্ন করছে ধীরে ধীরে। 

©কপিরাইট সর্তাধিকারী শর্মিষ্ঠা ভট্ট

সোমবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২১

অন্য সঙ্গী(সুদেষ্ণা দত্ত)

 


অন্য
সঙ্গী(অণু গল্প)

সুদেষ্ণা দত্ত

        

                       

         বছর সাতাশের সাঁঝবাতির বিয়ে হয়েছে বছর চারেক।এখনও পর্যন্ত তার কোন সন্তান নেই।সাঁঝবাতির স্বামী জয়ন্ত বিদ্যুৎ বিভাগে চাকরী করেন।সাঁঝবাতি সপ্তাহে তিনদিন ঘন্টা চারেক ডাটা এন্ট্রির কাজ করে।বাড়ীতে সে আর তার স্বামী থাকে।শ্বশুরবাড়ীর লোকজন কোন এক অজ্ঞাত কারণে নিজেদের দায়িত্ব-কর্তব্য থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন।সাঁঝবাতি প্রথম দিকে অনেক চেষ্টা করেছে তাঁদের সঙ্গে মানিয়ে চলার।কিন্তু তার সেই চেষ্টা সাফল্যমন্ডিত হয়নি।দিন-রাত বাপের বাড়ী গিয়ে থাকা সাঁঝবাতির আজন্ম লালিত সংস্কারে কোথায় একটা বাধার সৃষ্টি করে!জয়ন্তর কাজের প্রতি যত নিষ্ঠা,স্ত্রীর প্রতি নয়-সে বোঝে জয়ন্তর কাছে তার গুরুত্ব কমছে।ফলস্বরূপ বাড়তে থাকে দূরত্ব।সাঁঝবাতি ভাবে কাঁহা তক টিভি দেখে আর বই পড়ে কাটান যায়!তার না আছে তেমন বন্ধুবান্ধব,না আছে ফোনে আসক্তি।ধীরে ধীরে একাকীত্ব,অবসাদ তাকে গ্রাস করে।সে মাঝে মাঝেই খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে অন্ধকার ঘরে দু-তিন দিন নিজেকে আটকে রাখে।এতে জয়ন্ত বিরক্ত হয়।সাঁঝবাতিও নিরুপায়।অবধারিত পরিণতি অশান্তি।দু-একবার আত্মহননের পথে এগিয়েও ব্যর্থ হয় সাঁঝবাতি।

            এখন জয়ন্ত বেরিয়ে গেলে সাঁঝবাতি প্রায়ই বেরিয়ে যায়।যে পাড়ার লোক কোনদিন তার একাকীত্বে সহানুভূতির প্রতিষেধকের প্রলেপ লাগাতে চেষ্টা করেনি,আজ তারাই জয়ন্তর কান ভারী করে।কৈফিয়ৎ দাবি করা হয়,শব্দরা ঘর ছেড়ে ছড়িয়ে পড়ে চারিদিকে।কিন্তু সব সহ্য করেও নীরব থাকে সাঁঝবাতি।

          দুজনের সম্পর্কের শক্ত ইট তাদের বাঁধন মজবুত করেনি,তাদের যুগলে বেরোনোর পথে তৈরী করেছে অভেদ্য প্রাচীর।আজ রবিবার।আজ সাঁঝবাতি জয়ন্তকে জোর করে রাজি করিয়েছে তার সঙ্গে বেরোতে।আজ সাঁঝবাতির দারুন আনন্দের দিন।সাঁঝবাতির বুকের জমাট বাঁধা শব্দরা আজ দু’মলাটের মাঝে ভালোবাসায় একে অপরকে জড়িয়ে আছে,সেখানে নেই কোন একাকীত্ব।সাঁঝবাতি আর জয়ন্ত এসেছে কাঁকুরগাছির বইমেলায়।রাঙ্গামাটি প্রকাশনার স্টলটি উদ্বোধন করবে সাঁঝবাতি।এখান থেকেই তার নতুন সৃষ্টি ‘অন্য সঙ্গী’র আত্মপ্রকাশ—তার নতুন পথচলা।এসব দেখে হকচকিয়ে যায় জয়ন্ত।

          সাঁঝবাতিকে প্রকাশনা সংস্থা দু চার কথা বলতে বললে সে জানায় তার একাকীত্বের গল্প।কত মানুষ এর পিছনে আঁশটে গন্ধ খোঁজার চেষ্টা করেছে।জয়ন্ত বেরিয়ে গেলে দিনের পর দিন সে শিয়ালদা স্টেশনে গিয়ে বসে থাকত।প্রায় নিত্য স্টেশনে আসার সুবাদে আর.পি.এফদের নজরে পড়ে যায় সাঁঝবাতি।পড়তে হয় অনেক কৈফিয়তের মুখে।ঘরে--বাইরে কৈফিয়তের গাঁথনি তার মনের ভিতকে মজবুত করতে সাহায্য করেছিল।সে স্টেশনে গিয়ে দেখত ভিন্ন পেশা,ভিন্ন সামাজিক অবস্থানের মানুষদের।মন দিয়ে শুনত তাদের কথা।তারই ফসল মানুষের লড়াই করে বাঁচার গল্প, 'অন্য সঙ্গী’। একাকীত্বের কলম দিয়েই গেঁথেছে শব্দের উৎসব।খুব কঠিন ছিল এই পথ চলা।কিন্তু আজ সাঁঝবাতি চায় এই একাকীত্ব—যা তাকে শব্দের ডানা মেলে আকাশে উড়তে শিখিয়েছে,শিখিয়েছে নিজেকে এক আত্মবিশ্বাসী মানুষ হিসেবে চিনতে।

কথার মেঘে জমাট বুক,

দু’নয়নে কষ্টের জল,

এটাই দিয়েছে সৃষ্টিসুখ,

এটাই আমার একাকীত্বের ফল।

©কপিরাইট রিজার্ভড ফর সুদেষ্ণা দত্ত  

শিরোনাম - দুরত্ব✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - দুরত্ব ✍️ ডা: অরুণিমা দাস আধুনিকতা মানেই অন্যরকম একটা ব্যাপার, উন্নতির পথে এগিয়ে যাবার সিড়ি তৈরি করে দেয় আধুনিকতা। আজকাল কেউ আ...