# নাম - 'জীবন জিজ্ঞাসা'
( বিজ্ঞান বিষয়ক)
পর্ব- ৭
✍- মৃদুল কুমার দাস।
নক্ষত্র মানে বিশাল পরিমাণ পদার্থের পিন্ড। বেশি পদার্থ মানে বেশি গ্রাভিটির আকর্ষণ বল। নক্ষত্র মাত্রেই বেশি পদার্থ, বেশি পদার্থ বলতে বেশি পরিমান জ্বালানি। এই জ্বালানি যদি ফুরিয়ে যায় তবে শক্তি ( আলোক ও তাপ) ফুরাবে। কিন্তু ভর লয় হবে না। বরং বেশী হতে পারে। ভর যত বেশি আকর্ষণ বল তত বেশি। আর তার আকর্ষণ বলের আয়ত্বে যেই আসবে বা যাকে পাবে তাকে সেকেন্ডের কয়েক ভগ্নাংশ সময়ের মধ্যে গিলে ফেলবে। নক্ষত্রের এই শক্তি হারানোর অন্তিম দশার নাম 'ব্ল্যাক হোল'। ব্ল্যাক হোল শক্তি শূন্য বলে কোনো প্রকার তরঙ্গ ছড়ায় না। তাই অদৃশ্য। এই নিয়ে ব্ল্যাক হোল চর্চা জমিয়ে আসর বসানো যেই না শুরু করেছে, হঠাৎ থমকে দাঁড়াল সামনে পরমানু গবেষণা হাজির হতেই।
পরমাণু চর্চায় এটা স্থির হওয়া গেল যে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় যতই নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন বিক্রিয়া হোক না কেন পরমানু অটুট থাকে। পরমাণু লোপ পাবে না।
এই যে নিউক্লিয় বিক্রিয়ায় নতুন যৌগ তৈরি হল,এই নতুন যৌগ তৈরি হওয়ার পদ্ধতির নাম 'ফিউশন'।
ফিউশন প্রক্রিয়া হল একাধিক পরমানু সংযোগে নতুন পরমানু তৈরি হওয়া। যেমন দু'টি হাইড্রোজেন পরমানু মিলে তৈরি হয় একটি হিলিয়াম পরমানু।
এই 'ফিউশন' প্রক্রিয়ার ঠিক বিপরীত আরেক প্রক্রিয়া আছে। তার নাম 'ফিশন' প্রক্রিয়া। ফিশন প্রক্রিয়ায় একটি পরমানু ভেঙে একাধিক পরমানু সৃষ্টি হয়। যেমন ফিশন প্রক্রিয়ার সাহায্যে একটি ইউরেনিয়াম পরমানুকে নিউট্রন কণা দিয়ে আঘাত করলে বেরিয়াম নামে একটি পদার্থ পাওয়া যায়,যার থেকে প্রচুর পরিমাণে তাপশক্তির সম্পর্ক থাকে, সেইসঙ্গে ক্রিপটন পরমানু তৈরি করে। এই বিভাজনের ফলে প্রচুর পরিমাণে যে তাপশক্তি মিলবে তারই হদিশ দিল বা পাওয়া গেল।
ফিশন প্রক্রিয়ায় তাপশক্তি উৎপন্ন হওয়া থেকে গবেষকগণের কাছে দু'টি সম্ভাবনার দ্বার খুলে গেল-
১. ফিশন যদি ধীর গতিতে চালানো হয় তবে রিঅ্যাক্টর বসিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভভ হবে।
২. যদি অনেক ইউরেনিয়াম পরমানুর ফিশন একসঙ্গে দ্রুত করানো যায় তাহলে প্রচুর তাপশক্তি পাওয়া যাবে। যা থেকে আলো,তাপ তো বটেই সেই সঙ্গে প্রবল বিস্ফোরণের ধাক্কা ঘটানো যাবে। এই প্রবল ধাক্কা ঘটানোর কর্মটিকেই বলে পরমানু বোমা বিস্ফোরণ!
এই দুটি ধারণা বিশ্বের কাছে হয়ে উঠল আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ। এক অজানা জগতের দ্বার খুলে গেল। বিশ্বজয়ে লেগে গেল মত্ততা। ধুন্ধুমার হুড়োহুড়ি! যে ব্ল্যাক হোল নিয়ে ও মহাকর্ষ তরঙ্গ নিয়ে নিউটন ও আইনস্টাইন মতবাদে নির্ভুল প্রমাণের রীতিমত চ্যালেঞ্জ ছিল,আসর বেশ জমজমাট ছিল,যেই পরমানু বিস্ফোরণের খবর রটে গেল অমনি বাজার হয়ে উঠল প্রবল উত্তেজনাময়! ব্ল্যাক হোল, মহাকর্ষীয় তরঙ্গ খড়কুটোর মতো ভেসে গেল। ১৯৩৯ সাল থেকে তার আর কোনো হদিশ পাওয়া গেল না। পরমাণু বোমা যে বড্ড বেশি জরুরি। হিটলারের পোল্যান্ড দখলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বাজার সরগরম। পরমাণু বোমা নিয়ে আলোচনা পরের পর্বে।
(চলবে)
@ কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।
বাহ্ বাহ্ চমৎকার লাগল
উত্তরমুছুনধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।💥💥💫💫❤❤
মুছুনবাহঃ বেশ ভাল লাগল।অনেক কিছু জানলাম।
উত্তরমুছুনধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।❤❤❤💅💅💅
মুছুনবাহ্, সুন্দর
উত্তরমুছুনধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।❤❤❤💅💅💅
মুছুনদাদার অসাধারণ লেখা...💐💝
উত্তরমুছুনধন্যবাদ। শুভেচ্ছা। ❤❤❤
মুছুনখুব ভালো লাগলো 👌👌👌💐💐💐
উত্তরমুছুনধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।❤❤❤💅💅💅
মুছুনঅসাধারণ অপূর্ব 🙏🙏🌸🌸🌸🌸
উত্তরমুছুন