শনিবার, ২৪ জুলাই, ২০২১

#নাম - মহানায়ক উত্তমকুমার স্মরণে। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।

প্রভাতী আলোচনা-বাসর। 
    # বিষয় - 'চলচ্চিত্র।'
  # নাম- 
   'মহানায়ক উত্তমকুমার স্মরণে।'
   ✍  - মৃদুল কুমার দাস। 

 ফ্রান্সে বিশ্বে প্রথম চলচ্চিত্রের শুরু ১৮৯৫ এর ২৮ ডিসেম্বরে। আর ভারতে শুরু১৮৯৬ এর ৭জুলাই বোম্বাইয়ের অধুনা মুম্বইয়ের ওয়াটসন হোটেলে। ফ্রান্সের লুই লুমিয়ের ভ্রাতৃদ্বয়ের প্রতিনিধি মিস সেসটিয়ার দেখান। তাই ভারতে চলচ্চিত্রের সূত্রপাত। আর কলকাতায় মতিলাল সেনের রয়্যাল বায়োস্কোপ কোম্পানি দিয়ে ১৯৯৮ থেকে শুরু হয়। তারপর ১৯০২ এ এলো মুভি ক্যামেরা। আর অন্যদিকে বাংলা সিনেমা দেখানোর প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেল পারসী ব্যবসায়ী জে এফ ম্যাডান এর হাত ধরে। ১৯০২ এ চলচ্চিত্র শুরু হল কলকাতার ময়দানে তাঁবু খাটিয়ে। তার দু'বছর পরে তিনি তৈরি করলেন ম্যাডান থিয়েটার গ্রুপ। সে ছিল নির্বাক চলচ্চিত্রের যুগ। ম্যাডানের প্রথম চলচ্চিত্র দাদাসাহেব ফালকে এর নির্দেশনায় 'রাজা হরিশ্চন্দ্র'। সেই ম্যাডানই ১৯২৮ এ শুরু করলেন সবাক চলচ্চিত্র। ছবি কথা বলছে। প্রথম ছবি 'মেলডি অব লাভস'। ১৮৩১ এ হিন্দি 'আলম আরা'। প্রথম টকি শো ওরফে সবাক চলচ্চিত্র বোম্বাইয়ে,আর বাংলায় *জামাই ষষ্ঠী* দেখানো হয়। 
   সেই যে শুরু মরাগাঙে জোয়ার আসতে আর মাত্র এক দশকের অপেক্ষা। সত্যজিৎ রায়,মৃণাল সেন ও ঋত্বিক ঘটক যেন চলচ্চিত্রের তিন মহাপুরুষ চলচ্চিত্রকে জীবনের কথা বলার প্রধান মাধ্যম করে দিলেন। পাঁচের দশকের বাংলা সিনেমায় ঘটে গেল কিছু যুগান্তকারী ঘটনা। ১৯৫৩ সালে নির্মল দে-র পরিচালনায় তৈরী 'সাড়ে চুয়াত্তর' নানা কারণে চলচ্চিত্রের দিকে নজর কাড়ার শুরু হয়ে গেল। ছবির বিষয় ছিল কলকাতার মেস-জীবন। আর নায়ক নায়িকা জুটি হিসেবে প্রথম দেখা উত্তম-সুচিত্রা। আর জুটি মানে যে সে নয়,যেন হাঁড়ির মুখে সরা হয় যেমনটি। কাননদেবীর পর বাঙালী আইকন সুচিত্রা সেন। আর উত্তমকুমার মহানায়ক। আর চরিত্রাভিনেতা হিসেবে সেরাদের মধ্যে যেমন- তুলসী চক্রবর্তী,মলিনা দেবী,ভানু বন্দোপাধ্যায়,জহর রায়,রবি ঘোষ,সন্তোষ দত্ত - চলচ্চিত্রে এল সুবর্ণযুগ। আর বিখ্যাত সব পরিচালকদের নামের তালিকা দীর্ঘ। উত্তম-সুচিত্রা নিয়ে পরিচালকদের সে হরদম কাড়াকাড়ি।
   সরোজ দে - 'সাগরিকা' বিভূতি লাহার প্রথম ছবি 'পথে হল দেরী', অজয় কর ও অসিত সেন এর পরিচালনায় - 'হারানো সুর','সাতপাকে বাঁধা', 'সপ্তপদী', 'উত্তর ফাল্গুনী', ও 'দ্বীপ জ্বেলে যাই'।
  শেষ ছবি 'ওগো বধূ সুন্দরী'। 
     আরো অনেক বিখ্যাত সব ছবি উত্তম-সুচিত্রা জুটির নেই নেই করে ত্রিশটি ছবির কথা পাই - দেয়া নেয়া,মৌচাক,অগ্নিশ্বর প্রভৃতি।
 উত্তমকুমারের আরো অন্যান্য নায়িকারা যেমন  - সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়,সুপ্রিয়া চৌধুরী,তনুজা, মালা সিনহা,শর্মিলা ঠাকুর,সুচিত্রা মুখোপাধ্যায়,অপর্ণা সেন প্রমুখ। তবে উত্তম-সুচিত্রার মতো অমন জুটি আর হয় না,বাঙালীর গর্বের কি আহ্লাদই না! কারণ, মধ্যবিত্ত বাঙালীর যৌবন,প্রেম-মুগ্ধতা,নস্টালজিয়া,দুষ্টুমি,অপূর্ণতা,বিরহগাথা,ম্যানারিজম,স্মার্টনেস সর্বোপরি কল্পনাপ্রবণ বাঙালিকে যেভাবে মুক্ত জীবনের উল্লাস দিয়েছিলেন এমনটি আর ততটা কারো মধ্যে উত্তমকুমারের স্টাইল আর পাওয়া যায়নি। এমনও কথিত আছে পরিচালকগণ বলতেন উত্তমকুমার যেভাবেই কথা বলবেন সেটাই চলচ্চিত্র। কোনো নির্দেশের প্রয়োজন হত না। তিনি নিজের মত অভিনয় করতেন। যাই  করতেন তাই সেরা। এজন্যই  পরিচালকদের কাছে খুব দর ছিল। অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে জোট বেঁধে হিন্দী সিনেমা করতে গিয়ে আর সে মুখো হননি,প্রাদেশিক অভিমান বড় বালাই ছিল বলে।
 সে ১৯৮০ র ২৪ জুলাই মহানায়কের মহাপ্রয়াণ দিবস। তাঁকে এই দিনটিতে স্মরণ করার মধ্যে বাঙালীর নস্টালজিক চেতনার বার বার প্রত্যাবর্তন হয় বলেই উত্তমকুমারকে স্মরণ করেও সেই ছোটগল্পের মতো শেষ হয়েও  হইল না শেষ যেন।
          ********
# কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।

শুক্রবার, ২৩ জুলাই, ২০২১

মহানায়ক (কলমে পিয়ালী চক্রবর্তী)



#কলমে_পিয়ালী_চক্রবর্তী

তারিখ : ২৪/০৭/২০২১


বাঙালির মহানায়ক হে,

দৃষ্টিদানে তোমার শুরু,

সিনেমাহলের রূপালী পর্দায়,

ভক্তের রব উঠতো গুরু গুরু...


প্রতিটা ছায়াছবিতেই তুমি,

এক ঘোড়ার বাজী,

তোমার সাথে কাজ করতে,

বলিউডও হল রাজী ।


কত এলো কত গেল, 

শেষ হল একে একে,

তোমার গ্ল্যামারের কাছে,

কেউ ধোপেই নাহি টেকে ।


সেই যে শুরু হয়েছে তোমার,

অন্তবিহীন পথচলা,

তুমিই বলো কেমনে তোমার,

ভুলি অমর শিল্পকলা !


প্রয়াণ দিবসে তোমার চরণে,

মাথা কুটে কেঁদে মরি,

জানি তুমি আর আসবেনা ফিরে,

তবুও অপেক্ষা করি ।

Copyright © All Rights Reserved to Piyali Chakravorty

বুধবার, ২১ জুলাই, ২০২১

# নাম- প্রতিশোধ। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।

শুভ শব্দ আলোচনা-বাসর।
 # বিষয় - *শব্দ আলোচনা।*# নাম- *প্রতিশোধ।*
   ✍ - মৃদুল কুমার দাস। 

       মানুষের শারীরিক গঠন, তার জীবনের বিচিত্র অবয়বসংস্থান ও মেরুদন্ডে কাম,ক্রোধ, লোভের তাড়া যেভাবে সচেতন অহংকারের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে - তার উৎস কোথায় আজও সুলুক সন্ধান কারো কাছে নেই। তবে মানুষের ভেতর এসবের বিচিত্র সমাগম হয়েও,তবু বলি "সবার উপরে মানুষ সত্য।" কিন্তু সামনে সদাই দাঁড়িয়ে দারোয়ানের মত - "মানুষ কিসে মানুষ হয়?" কিসে হয় তার নিরন্তর চেষ্টা থাকে কতকগুলি মাপকাঠি(সততা,ন্যায়,মূল্যবোধ...) আছে,তবে নির্দিষ্ট করে বলা এখনও যায়নি ওর জন্যই মানুষ হওয়া যায়। কেন প্রতিশোধ যদি ঘৃণ্য মনে হয়,ক্ষেত্রবিশেষে প্রতিরোধের পালায় ন্যায় অন্যায় বিচারে মানুষ হওয়ার একটা স্বীকৃতি আছে। তাই খুব প্রচলিত কথা চালু আছে,মানুষ হওয়ার নানা শিক্ষা - যত দিন বাঁচি,তত দিন শিখি। 
   রবীন্দ্রনাথের 'পুরাতন ভৃত্য' কবিতায় উপেনকে সাতপুরুষের ভিটে মাটি থেকে উৎখাত করে,জোর করে জমিদার উপেনের দু'বিঘা জমি যখন দখল নিলেন,তখন উপেনের কি করা উচিত ছিল? উল্টো দিকে দাঁড়িয়ে আমরা তাল ঠুকছি উপেন জমিদারের বিরুদ্ধে কিছু তো একটা করো। বেদখলের প্রতিশোধ নাও। কিন্তু কি দেখলাম উপেন বলছে দু'বিঘা জমি যেন তার মোহগর্ত। ভগবান যেন "বিশ্বনিখিল লিখি দিল দু'বিঘার পরিবর্তে"। জমিদার আগ্রাসক। তার বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়া উপেনের কাছে দুরুহ কর্ম। জমিদার কেন করল বা এমন ঘটনা কেন ঘটাল! সেটাই তো মানুষের ভেতরের লোভ,বল প্রয়োগে প্রভুত্বকারী ও বিপরীত পক্ষের প্রতিশোধস্পৃহা সৃষ্টির কারণ। 
  ইলিয়াড হল হারকিউলিসের জীবনব্যাপী প্রতিশোধ নেওয়ার বৃত্তান্ত।
    যতদিন না দুঃস্বপ্নের রক্তে চুল ভিজিয়ে দ্রৌপদী সভার মধ্যে কৌরবপক্ষের বিবস্ত্রীকরণের অপকর্মের প্রতিশোধ নিচ্ছেন ততদিন চুল খোলা রেখেছেন। 
  হিটলার সুন্দরী ইহুদী কন্যার প্রেমে ব্যর্থ বলে ইহুদী নিধন,দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ প্রতিশোধকামী মানুষের প্রবৃত্তির সার্থক দৃষ্টান্ত। 
  প্রতিশোধ একটি প্রবৃত্তি থেকে স্পৃহার জন্ম দেয়। 
  এই স্পৃহা সন্ন্যাসী বা ব্রাহ্মণের জন্য নয়,ভিক্ষুক বা যোগীর জন্য নয়।
       প্রতিশোধস্পৃহা সাংসারিক অধিকার নিয়ে মনের একপ্রকার ভাব। ব্যক্তিত্বের এও একটি মাপকাঠি। কেননা এর লক্ষণ হল পক্ষ ও প্রতিপক্ষ,বাদী ও বিবাদীপক্ষ তৈরি হয় প্রথমে,তারপর উভয়ের লক্ষ্য হয় আঘাত ও প্রত্যাঘাত চরিতার্থ করা। আদালত, আইন, বিচার, বাদী ও বিবাদীর প্রতিশোধ হল মূল কথা। এই প্রতিশোধ নিয়ে জীবন জীবিকা যাদের তাদের বলা হয় ব্যবহারজীবী। 
 হোমার ইলিয়াড এ প্রতিশোধকামী,কিন্তু সক্রেটিস প্রতিশোধ বিরোধী। আবার সক্রেটিসের শিষ্য নৈয়ায়িক ও নীতিবাগীশ  অ্যারিস্টটল কিন্তু প্রতিশোধের সমর্থক। নাটকের নায়ক ও প্রতিনায়ক শোধ ও প্রতিশোধের ভূমিকায় নাটকের কাহিনী বুননে থাকে দর্শকের মনে ভীতি (fear) ও করুণা(pity) জাগানোই মূল লক্ষ্য। তাই নাটকের ভিত্তি।
  রামায়ণে সূর্পণখার প্রণয় নিবেদনের অপরাধে নাক কাটা যাওয়া,তারই প্রতিশোধে সীতা হরণ,রাবণের পরস্ত্রী অপহরণজনিত অপরাধের প্রতিশোধ নিতে সীতা উদ্ধারের জন্য গোটা সোনার লঙ্কা ধ্বংস প্রতিশোধের কাহিনী ছাড়া আর কিই বা। কেন কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ তো প্রতিশোধের। সুন্দরী হেলেনকে না পাওয়ার জন্য ট্রয় ধ্বংস সে তো প্রতিশোধ ছাড়া আর কি! পদ্মাবতীকে বাঁদি হিসেবে না পেয়ে আলাউদ্দিনের চিতোর ধ্বংস সে তো প্রতিশোধের বিখ্যাত ঐতিহাসিক কাহিনী।
   সময় পরিবেশ পরিস্থিতি প্রতিশোধের নিয়ামক। কার মধ্যে কখন প্রতিশোধের স্পৃহা জন্মাবে কেউ বলতে পারেনা। প্রতিশোধ ক্ষমতার অলিন্দে জাহির করতে সবসময় গ্যাটসে বিরাজমান। 
  সমাজবদ্ধ জীবন সমাজের কল্যাণের স্বার্থে সংঘবদ্ধ থাকার প্রয়োজনে প্রতিশোধের বিপরীতে বলা হয় হিংসা ভুলতে,শত্রুতা ভুলতে,ক্ষমা করার মনোভাব গড়তে। যিশুখ্রিস্ট প্রতিশোধের বদলে শত্রুকে ভালবাসার কথা বললেন- চপেটাঘাতকারীর দিকে অন্য গাল বাড়িয়ে দিতে বললেন। ওল্ডটেস্টামেন্টের প্রতিকূলে হেঁটে ধর্মব্যবসায়ীদের বিধানে  যিশুর ক্রশবিদ্ধ হওয়ার পেছনে আছে প্রতিশোধের জিঘাংসা।
   ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, ভোগবাদ, তূল্যমূল্য বিচার,স্বার্থান্বেষী মনোভাবই সবাইকে প্রতিশোধমুখী করে।  প্রতিশোধ জন্ম নেয় কারোর একাধিপত্য,অন্যায় আচরণের বিরুদ্ধে বিহিতের পন্থা থেকে।
  সুতরাং প্রতিশোধ একটি বর্ণবহূল চরিত্র। প্রতিশোধ ধ্বংসের মুখে ফেলে,প্রতিশোধ ন্যায় প্রতিষ্ঠা করে। কখন কিভাবে প্রতিশোধ মুভমেন্ট করবে তা  স্থান কাল ও পাত্র বলবে। 
  যে সমাজ যতবেশী দুর্বল,বৈষম্যপীড়িত সেই সমাজে প্রতিশোধস্পৃহা তত প্রবল। 
   যে সমাজ যত রাজনৈতিক পীড়নের মুখে পড়বে তত মতপার্থক্য থেকে প্রতিশোধস্পৃহা আসবে। 
  সাম্রাজ্যবাদী শোষণের বিরুদ্ধে বিপ্লব ও বৈপ্লবিক আন্দোলন সংঘটিত হয় প্রতিশোধস্পৃহা থেকে। প্রতিশোধ জীবনকে অহরহ আষ্ঠেপৃষ্ঠে বেঁধে রেখেছে। অর্জুনকে কুরুক্ষেত্রে প্রতিশোধ নিতে শ্রীকৃষ্ণের গীতার বাণী প্রতিশোধের জীবনভাষ্য। প্রতিশোধের জন্য জীবন,জীবনের জন্য প্রতিশোধ কি মনে হয়! 
         ******
# কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।

#ভৌতিক গল্প -হিংসা। #কলমে -সোমা দে।


জোসেফ ও অ্যানি দুজনেই স্বামী-স্ত্রী।দুজনেই কলকাতার টি সি এসে কর্মরত। প্রতিবারের মতো আজও দুজনে অফিসের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে নিজস্ব গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছেন। জোসেফ নিজেই গাড়ি ড্রাইভ করেন। অ্যানি জোসেফের সঙ্গে গাড়ির সামনে সিটে বসে মোবাইল দেখছিলেন। হঠাৎ সে শুনলেন জোসেফের চিৎকার। দেখলেন জোসেফ একদৃষ্টে গাড়ির সামনে কি যেন দেখছেন আর বলছেন "আমার ভুল হয়ে গেছে। আমাকে ক্ষমা করে দাও। " অ্যানি জোসেফকে গাড়ি থামাতে বলবেন ঠিক সেই সময় জোসেফের গাড়ি ব্রেকফেল করে রাস্তার পাশে একটি বড় গাছে ধাক্কা মারলো। 

অ্যানির যখন জ্ঞান ফিরলো সে দেখলো যে, সে হসপিটালের বেডে শুয়ে আছে। অ্যানি তাড়াতাড়ি তাঁর বেড থেকে উঠে পড়লেন। পাশেই ছিল এক নার্স। তাকে জোসেফের কথা জিজ্ঞাসা করাতে সে অ্যানির হাতে একটি কাগজ ধরিয়ে দিলেন। অ্যানি দেখলেন কাগজে জোসেফ লিখেছেন "আরুনি ফিরে  এসেছে।"এই লাইনটি পড়ে অ্যানি প্রচন্ড ঘামতে শুরু করলেন। সে পাশে দাড়িয়ে থাকা নার্সকে জিজ্ঞাসা করলেন "জোসেফ কোথায়? "

অ্যানি খেয়াল করলেন তাঁর রুমের লাইট নিভে গেছে।সে শুনতে পেলেন একটি বিকট হাসির আওয়াজ। অ্যানি সেই হাসির আওয়াজ আর সহ্য করতে পারছিলেননা । এতক্ষণে সে খেয়াল করলেন ঘরের আবছা আলো দেখা যাচ্ছে। তারপর দেখলেন আরুনি  নার্সের ড্রেস পড়া অবস্থায় সামনে এসে দাড়িয়ে আছে। 

ছয় সাত মাস আগের কথা। জোসেফ -অ্যানির অফিস ফ্রেন্ড ছিল আরুনি। অফিসেই তাদের পরিচয়। আরুনি ছিল প্রচন্ড ব্রিলিয়ান্ট ও হার্ড ওয়ার্কার। অফিসের বস আরুনির কাজে খুশী হয়ে আরুনিকে একদিন প্রোমোশন লেটার ধরিয়ে দেন। কিন্তু জোসেফ ও অ্যানি আরুনির এই প্রমোশন মেনে নিতে পারলেননা। তারা একদিন আরুনিকে তাদের বাড়িতে নিমন্ত্রন করেন ।তারা আরুনির খাওয়ারে বিষ মিশিয়ে দেন। আরুনি সেই খাবার খেয়ে মাটিতে পড়ে ছটফট করতে করতে শেষ হয়ে যায় ।জোসেফ ও অ্যানি আরুনির বডি সমুদ্রের জলে ফেলে দিয়ে আসেন। তারপর সবাই জেনেছিল আরুনি কোথাও পালিয়ে গেছে। 

আরুনিকে সামনে দাড়িয়ে থাকতে দেখে অ্যানির গলা শুকিয়ে গিয়েছিল, সে চিৎকারটাও করতে পারছিলেননা। আরুনি বলে উঠলো, "তোমাকেও এবার জোসেফের কাছে যেতে হবে।গাড়ি অ্যাকসিডেন্ট হওয়ার পর তোমাদের দুজনকেই হসপিটালে আনা হয়। কিন্তু জোসেফকে কেউই বাঁচাতে পারেননি। "

রাত আটটায় হসপিটালের ডক্টর মিসেস সেনের কাছে এক নার্স ছুটে এসে অ্যানির ঘরে তাড়াতাড়ি আসতে বললেন। মিসেস সেন তাড়াতাড়ি অ্যানির ঘরে গিয়ে দেখলেন অ্যানি নিজের হাতের নার্ভ কেটে রক্তাক্ত অবস্থায় বেডে শুয়ে আছে। মিসেস সেন অ্যানির কাছে গিয়ে তাকে পরীক্ষা করলেন যে সে বেঁচে আছে কিনা। কিন্তু না অ্যানি আর বেঁচে নেই। 

সবাই ভেবেছিলেন স্বামীর মৃত্যু মেনে নিতে না পেরে অ্যানি সুইসাইড করেছিলেন। কিন্তু কেউই জানতেও পারলনা যে আরুনি তাঁকে সুইসাইড করতে বাধ্য করছিল। আরুনির অতৃপ্ত আত্মা শেষপর্যন্ত প্রতিশোধ নিল। সে এবার মুক্তি পেল। 

@ কপিরাইট রিজার্ভ ফর সোমা দে।

প্রতিশোধ (পিয়ালী চক্রবর্তী)



#কলমে_পিয়ালী_চক্রবর্তী

তারিখ : ২১/০৭/২০২১


প্রতিশোধের আক্ষরিক অর্থ হল প্রতিহিংসা বা প্রতিবিধান । আমার কাছে প্রতিশোধ শব্দের অর্থ অন্যায়কারীর ক্ষতিসাধন করা । 


বেশ কয়েক রকমের প্রতিশোধপরায়ণ মানুষ ও তাদের ভিন্ন ভিন্ন প্রতিশোধ পন্থা আছে । যেমন :-

●প্রতিশোধপরায়ণতা কারোর আসে অল্পেই, অর্থাৎ, সামান্য ক্ষতিও সে স্বীকার করতে পারে না । পাল্টা ক্ষতিসাধনের খেলায় মেতে ওঠে ।

●কারোর আবার বড় সড় ক্ষতি হলেও, তার কাছে প্রতিশোধস্পৃহা খুবই নগণ্য ।

●কারোর আবার অন্যায়কারীর প্রতি চরম রাগ ও ঘৃণা জন্মায়, ফলে তার প্রতিশোধ হয় ক্ষতির চেয়েও অনেক বেশী ।

●কারোর কাছে প্রতিশোধপরায়ণতা এতটাই বীভৎস যে তারা বংশানুক্রমিক ভাবে প্রতিশোধ নেবার চেষ্টায় থাকেন । তাদের বক্তব্য, "তুই করিসনি তো কি!  তোর বাবা করেছে!"

●কেউ আবার প্রতিশোধের জ্বালায় শুধু অন্যায়কারীর ওপরই নয় তার পুরো পরিবারের ক্ষতি করতেও দুবার ভাবে না ।

●কেউ আবার অন্যায়কারীর বিশাল অন্যায়কে ক্ষমা করে দিয়ে তাকে বিবেকের দংশনের মধ্যে ফেলে দেয় ।

●কেউ বা প্রতিশোধ নেবার জন্য শত্রুর শত্রুকে মিত্র বানিয়ে ভেতর থেকে কলকাঠি নাড়িয়ে থাকে ।

●কেউ বা আবার অন্যায়কারী শত্রুর সাথে গভীর বন্ধুত্ব গড়ে তুলে তার মন তথা জীবনে প্রবেশ করে তার প্রভূত ক্ষতিসাধন করে ।

●কেউ বা অন্যায়কারী প্রেমিক/প্রেমিকাকে শাস্তি দেবার জন্য ভালোবাসার হাতিয়ারকে তুলে নিয়ে প্রতিশোধ পূর্ণ করে ।

●কেউ আবার চরমতম অন্যায়ের প্রতিশোধ নিতে(ধর্ষণ/খুন ইত্যাদি) নিজের হাতে অন্যায়কারী ব্যক্তিকে শাস্তি দেবার জন্য আইনকে নিজের হাতে তুলে নেয় ।


আরো কত রকম যে প্রতিশোধ আছে তা লিখে শেষ হবে না । যত মত, তত পথ । 

Copyright © All Rights Reserved to Piyali Chakravorty

বিষয় *প্রতিশোধ* ©শর্মিষ্ঠা ভট্ট

 শব্দমালার দিন

বিষয় *প্রতিশোধ*

©শর্মিষ্ঠা ভট্ট



প্রতিশোধ এর বাংলা অর্থ

[প্রোতিশোধ্‌] (বিশেষ্য) অন্যায়কারী ক্ষতিসাধন; শত্রু নির্যাতন; হিংসার পরিবর্তে হিংসা; প্রতিহিংসা।


(যাইব, কিন্তু আগে এ যন্ত্রণার প্রতিশোধ করিব-বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়)।


(তৎসম বা সংস্কৃত) প্রতি+শোধ


"প্রতি" মানে কাউকে "শোধ" মানে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কি ভাবে? নিষ্কাম পথে? না ।।প্রতিশোধে এক দহন থাকে যা নিজেকে এবং অন্যকে পোড়ায় । এক ধ্বংস থেকে শুরু হয়ে অন্য ধ্বংসে সমাপ্তি। অর্থাৎ একটি কহিনীর সৃষ্টি। প্রতিশোধ মনের এমন এক অবস্থান যেখানে ক্রোধ, হিংসা, ক্রড়তা কৌশল ইত্যাদি হিংস্রতা মন বা মানসিক অবস্থাকে ঘটনার ফলাফলের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। মহাভারত থেকে নিয়ে যত ধর্মীয় এপিক আছে সব কোন না কোন প্রতিশোধের থেকে শুরু গল্প। 

মানে প্রতিশোধ পুরনে মানসিক শান্তি এক কথায় স্বীকৃত। 


আমার নিজস্ব মত...... প্রতিশোধ যতই হিংসা থেকে সৃষ্টি হয় এবং তা পূরণে শান্তি আসে, তবু মানসিক স্থিরতা নষ্ট হয়। এক ভবর বা ঘূর্ণন জীবনকে শান্তির সাথে ধ্বংসের পথেও নিয়ে যায়। প্রতিশোধ শেষে শ্মশানের নিস্তব্ধতা জীবনকে সেই শান্তি দিতে পারে না যা তার হয়ত আগে ছিল। কখনও শত্রুতা বেঁচে থাকার মধ্যে জীবনানন্দ অনুভূত হতে পারে। অবাক হলেন? হ্যাঁ ঠিকই বলছি। মহাভারতের যুদ্ধে হয়ত সব ফিরে পেয়েছিল পান্ডব কিন্তু হারিয়ে ছিল অসংখ্য বন্ধু আত্মিয় অসংখ্য আবেগ। মহা শূণ্যতা গ্রাস করেছিল তাদের। তারা অনুভব করেছিল অখণ্ড শান্তিতে অনাসক্তি লুকিয়ে আছে। কি জন্য বাঁচবো? এই প্রশ্ন আমাদের বাঁচায়। কিন্তু এই প্রশ্ন যখন আর থাকে না তখন বাঁচা যান্ত্রিক হয়ে যায়। মহাভারত যুদ্ধের পর "চার্ম অফ লাইফ" ছিল না বা কমে গিয়েছিল তা স্পষ্ট। 


এটা বোঝা গেলো প্রতিশোধের ইচ্ছায় একটা প্রবল শক্তি থাকে। যেমন চৌম্বক ক্ষেত্রের দিকে পদার্থ তেজ গতিতে ধাবিত হয় ঠিক তেমনি একটি মন ও কর্ম ছোটে প্রতিশোধ পূরণের আশায়। আর তার ফলে ঘটে ঘটনা। সুতরাং বলা যায় কেবল নিরাসক্ত শান্তির থেকে এই প্রতিশোধ জীবনের ক্যানভাসে নানা নক্সা এঁকে চলে।  মানসিক সকারত্মক ও নঙার্থক সকল অনুভূতির মত প্রতিশোধ একটি কর্মের গঠন দানের পক্ষে তেজি পদক্ষেপ। তাই "জীবন এরকম" এই  কথা মনে রেখে এইটি স্বীকার করে নিতে হবে। তবে প্রতিশোধ ধ্বংস ও দুঃখের গভীরতার দিকে এগিয়ে নিয়ে যায় এই কথা মনে রেখেই শিশু শিক্ষা দেওয়া হতে পারে প্রতিশোধ কখনও শুভফলদায়ী নয়। 


তবে সাহিত্যের চোখে দেখলে প্রতিশোধ কেবল ঘটনার অনুঘটক। যেমন একটা গল্প বলি। সবার জানা তবু মনে করিয়েদি। শর্মিষ্ঠা অসুর কন্যা ধরে নিলাম নীচু জাতীয় কন্যা, কিন্তু আর্থিক অবস্থা উন্নত। গুরু বা ব্রাম্মন কন্যা দেবযানীর প্রথম থেকেই তা ঠিক লাগে না। তারও ইচ্ছা করে সমবয়সী বন্ধু মহলে পরিচিত মেয়েটার মত দামী গহনা কাপড় মান সম্মান পেতে, মনে ইর্ষা জন্মায় ( ইর্ষা প্রতিশোধের প্রথম সোপান) । দুই বন্ধু স্নানে গেছে। হয়ত দামী কাপড় পরিধানের লোভে শর্মিষ্ঠার কাপড় পড়ে ফেলল দেবযানী। ব্যাস তার থেকে বচসা ও হাতাহাতি (সহ্যশক্তির অভাব) । শর্মিষ্ঠা ক্ষত্রিয় কন্যা, গায়ের জোর ক্রোধ ও রাজকীয় শক্তি (সুপ্ত অহমিকা) তে এক ধাক্কায় কুপে ফেলে চলে এলো ঘরে। দেবযানীর ভাগ্য এসে দাঁড়ালো (নিয়তি আর একটি সিঁড়ি) । যযাতি, রাজা যযাতি তুলে আনলো হতভাগ্য ব্রাম্মন কন্যাটিকে। অর্থ সৌন্দর্য ও সামাজিক খ্যাতি দেবযানীর মনে আকাঙ্ক্ষা জাগালো। যার নাম দেওয়া হল প্রেম। সৃষ্টি হল নতুন গল্প। প্রতিশোধের গল্প। নিজেদের সামাজিক মর্যাদা পাবার লিপ্সা বা সমাজের ওপর প্রতিশোধ। ব্রাম্মন, তখন কার সমাজে প্রথম শ্রেণীর সম্মান পেলেও আর্থিক ও রাজকীয় ক্ষমতার দিকে নীচে ছিল। দেবযানী চাইল সামাজিক  এই বিভাজনের প্রতি, শোধ তুলতে। 


বাবার কাছে জানালো যযাতি হবে স্বামী আর শর্মিষ্ঠা দাসী হয়ে তার সাথে যাবে। দুই প্রতিশোধ চরিতার্থ করে দেবযানীর মন তো শান্ত হল। কিন্তু যযাতি, যাকে সামাজিক খেলনা হিসেবে প্রেমের টোপোর পরানো হল! তার মন আছে ,চাহিদা আছে। বোধ আছে। হয়ত দরিদ্র, ব্রাম্মন কন্যায়কে সামাজিক চাপে বিয়ে করলেও তার মধ্যে সেই আকর্ষণ বা রাজকীয় চালচলন পেলো না। রাজার ঠাটবাট  সে নারী হয়ত রপ্ত করতে পারল না, উপযুক্ত হতে পারলো না যযাতির। গোছাখানেক সন্তানের মা রাজমহিষী হলেও মনের প্রেমিকা হওয়া সহজ কাজ নয়। সামাজিক প্রতি পত্তি প্রতিশোধের আগুনে অধিকার করা যায় ।।

কিন্তু মন!! ত্রিশঙ্কু প্রশ্ন হয়ে রয়ে গেল দেবযানীর জীবন। প্রতিশোধ নিয়েও শূণ্যতা। যযাতি শর্মিষ্ঠাকে নিয়ে উদ্যান বাটিকায় সুন্দর সংসার পাতল ।তাদের কেবল দেবার ইচ্ছা ছিল , ছিল নীরব সহানুভূতি। প্রেম ছিল। অকাল বার্ধক্য এলো দেবযানীর লাগানোর ফলে। দেবযানীর পিতা শুক্রাচার্য অভিশাপ দিলেন বা কোন ধরে নিলাম কোন ঔষধ দেওয়া হল অকাল বর্ধক্যের। এদিকে রাজকার্য আছে প্রজা দেশ শত্রু আছে। রাজার কি বুড়ো হয়ে বসলে চলে? দেবযানীর পরিবারের কেউ এ অসুখ নিয়ে মুক্তি দেবে না রাজাকে। শর্মিষ্ঠার প্রেমের সন্তান, সর্ব কনিষ্ঠ পুরু এ রোগ নিয়ে যযাতির জীবন এগিয়ে দিল। কথা হল..... প্রতিশোধ থেকে সৃষ্ট এই গল্প আবার একটা গল্প লিখে দিয়ে গেলো.... মহাভারত সৃষ্টি। তাই প্রতিশোধ স্পৃহা ঘটনা, হীন মনোবৃত্তি হলেও ঘটনা ঘটবেই।। 

ধন্যবাদ🙏💕 

মঙ্গলবার, ২০ জুলাই, ২০২১

চিলেকোঠার চিঠি(সুদেষ্ণা দত্ত)


চিলেকোঠার চিঠি

কলমে:সুদেষ্ণা দত্ত       

        দিশা মিত্তির বাড়ীর নতুন বউ।শ্বশুর বাড়ীতে বিয়ের পর এটাই দিশার প্রথম পুজো।নতুন বউকে তোলা তোলা করেই রাখেন শাশুড়ি মা।আপন ছন্দে মজে থাকে দিশা।এক বনেদী পরিবার থেকে আর এক বনেদী পরিবারে আসা।এখানে লোকজন অনেক।তাই বদ্ধ ঘরেই ডানা ঝাপটায় দিশা।চিলেকোঠার ঘরটা তার বড় প্রিয়।বাপের বাড়ীতে ওই ঘরটাই ছিল অন্তরের অন্দরমহলে ডুব দেওয়ার জায়গা।পক্ষীরাজে চেপে সে কত তেপান্তরের মাঠ ভাসিয়েছে তার সুরেলা কণ্ঠে।সেই দুরাগত সুরের টানেই তার স্বামী প্রভাত হয়ে উঠেছে আজ তার একান্ত আপন।কত সুখ—দুঃখের নক্সীকাঁথায় ফোঁড় তুলেছে ওই ঘরে।কিন্তু এবাড়ীর চিলে কোঠার ঘরে রাজ্যের জিনিস স্তূপাকার করা।এই উজাড় করা আকাশের পানে ধাবিত ঘরটায় দিশার যে এক অমোঘ টান আছে তা বোঝে প্রভাত।তাই প্রভাতের নির্দেশে ওই চিলেকোঠার ঘরই হতে চলেছে দিশার একান্ত আপনার উপাসনা ঘর।            

  ফেরিওয়ালাকে ডেকে শাশুড়ি মা পুজোর আগেই এই ঘর পরিষ্কার করিয়ে দিশার হাতে তুলে দিতে চান।তাই জোরকদমে আজ কাজ চলছে।শাশুড়ি মায়ের সঙ্গে দিশাও হাত লাগিয়েছে।ঘরে কত্ত জিনিস।এ যেন আলাদিনের জিনের এক আশ্চর্য জগৎ--এমনই মনে হয় দিশার।এক একটা জিনিসে হাত ছোঁয়ালেই ভেসে উঠবে এক একটা গল্প।            

 বেশ কিছু পুরোনো বইপত্রও রয়েছে, সে সবও বিক্রি করে দিতে চান শাশুড়ী মা।কিন্তু দিশা বলে, “থাক না মা,আমি ওগুলো পড়ব”।ওদের পাশে সরিয়ে রাখে।পুরোনো উনুনের কাঠামো,ভাঙা হ্যারিকেন,হাতল ভাঙা চেয়ার,রঙ জ্বলা—অল্প ভেঙে যাওয়া শোপিস—বাসনের ফাঁকে উঁকি দেয় শৈল্পিক কারুকাজ করা এক সুদৃশ্য কাঠের ছোট বাক্স।তবে কাজ অনেকটাই নষ্ট হতে বসেছে।আর কাঠও গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে যাচ্ছে!তবে বাক্সটা খুব পছন্দ হয় দিশার।বাক্সটা খুলে দেখে একটা বোতাম।কিন্তু এবার শাশুড়ী মা বাধা দিয়ে বলেন, “দিদিশাশুড়ীর মত রাজ্জির জিনিসের পতি মায়া বাড়িয়ে আর জঞ্জাল বাড়িও না দিকি বৌমা।সব আপদ বিদায় কর”।ফেরিওয়ালা জিনিস পত্তর গুছিয়ে বেশ খোশ মেজাজেই ঘর মুখো হয়।          

 দুপুর বেলায় শরতের শিউলি ভেজা বাতাসের গন্ধ মেখে চিলেকোঠার ঘরে পুরোনো বইয়ের পাতা ওল্টায় দিশা।হঠাৎ হাতে আসে একটা চিঠি।খুলব কি খুলব না ভেবে শেষে খুলে দেখে তাতে লেখা—"ব্রিগেডিয়ার বাবু আমার জন্য কাশ্মীর থেকে তোমার আনা এই কাঠের বাক্সে আমি রঙিন সুতো দিয়ে স্বপ্নের জাল বুনি”।হ্যাঁ ঠিক তো,দিশার মনে পড়ে ওখানে কোন সুতো ছিল না বটে,তবে একটা বোতাম ছিল।আবার পড়তে শুরু করে চিঠি।"জানো এই বাক্সে খুব যত্ন করে তোমার শেষ যাত্রার পোশাকের একটা বোতাম রেখেছিলাম।বাবুর উচ্চতার জন্য দেশ সেবার কাজে যাওয়া হল না।খুব ইচ্ছে ছিল নাতি হলে তাকে গড়ে তুলব তোমার স্বপ্ন পূরণের কান্ডারী করে।নাতি এল ঘর আলো করে।কিন্তু অমন অলুক্ষুনে কাজে বৌমা ছেলেকে পাঠাতে চায় না।বাবুরও সায় আছে মনে হয়!জানিনা মিত্তির বংশের আর কেউ তোমার স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে আসবে কিনা!”ঠাম্মি স্নেহলতার চিঠি পড়া শেষ করে দিশা।ভাবে দিম্মার এক বাক্স স্বপ্নও আজ ফেরিওয়ালা নিয়ে চলে গেল।চোখের পাতা ভারী হয়ে ঘুম নামে।এক অনাগত ছোট্ট শিশু সৈনিক মায়াঞ্জন পরিয়ে দিয়ে যায় দিশার দু’চোখে।   

©কপিরাইট রিজার্ভড ফর সুদেষ্ণা দত্ত।

ছবি সৌজন্য:গুগুল

সোমবার, ১৯ জুলাই, ২০২১

#অনুগল্প- চিলেকোঠা। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।

শুভ অনুগল্প বাসর। 
  # বিষয় - *অনুগল্প।*
  #নাম- *চিলেকোঠা।*
   ✍ - মৃদুল কুমার দাস।

       সিদ্ধিনাথ গুপ্ত। তিনতলা  বাড়ির প্ল্যান কাকে দিয়ে করাবেন বেশ গোলে পড়লেন। সিদ্ধান্ত নিতেই বছর কাবার। কাকে দিয়ে করান যে, স্ত্রী উমাশশীর বুদ্ধিতেও ভরসা হয়না। তাই  নিয়ে সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতে এমনও ভেবেছেন ফ্ল্যাট কিনে নিলে এতো ঝুটঝামেলা হয় না। অফিসের কলিগ বিশাল পাকড়াসি, নামেতে যেমন বিশাল,তার সবেতেই বিশাল বিশাল ভারিক্কি ভাব!সিদ্ধিনাথকে এমন গল্প দেবেন যে সেই গল্পের কাছে সিদ্ধি নাথ কুঁকড়ে যান।
    তাঁর বাড়িখানা পেল্লাই আকারের। কিন্তু বাড়ির মনের মতো চিলেকোঠা ঠাকুর্দা রেখে যায়নি বলে বিশাল পাকড়াশি তাঁর বাবাকে খুব অসন্তুষ্ট হতে দেখেছেন। বিশালবাবুও ইদানিং বয়স হয়েছে,গিন্নির সঙ্গে ইদানিং বেশ ঝগড়া হলে একটা চিলেকোঠার খুব অভাব বোধ হয়। বউয়ের তবু বাপের বাড়ি আছে,তাঁর ঐ চিলেকোঠা হলে বেশ হতো। দুটো দরজার মাঝখানে অনেকটাই দূরত্ব,তাই দরজায় ধাক্কা দিয়েও কোনও যায় আসতো না। নাগালের বাইরে থাকার টের পাওয়ানো যেত। কিন্তু বিশালবাবুর এদিক থেকে কপালটা যা একটু মন্দ। তাই সিদ্ধনাথকে বলেছেন "নিজের জায়গা থাকতে ফ্ল্যাট কিনে বোকামি করো না। আর ফ্ল্যাট বাড়িতে যাইহোক চিলেকোঠা তো আর পাওয়া যায় না। চিলেকোঠা জানবে নিজের জীবনের খুচরো ভাঙানির মতো। বউয়ের শাড়ি,গহনা,বাপের বাড়ি নিজের বলে কিছু আছে। তোমার কী আছে! সংসারের তুমিতো  চারপায়া চৌকী। সবাই তোমার উপর চড়ে বেশ দিব্যি আছে। তোমার নিজের বলতে ঐ চিলেকোঠা। বাড়ি করলে ঐ চিলেকোঠার জন্য একটু স্পেশাল নজর রেখো।" বেশ এক নিশ্বাসে বিশালবাবু কথাগুলো বলে যান। সিদ্ধিনাথ বাবু তখন বললেন- "বউ বলেছে চিলেকোঠা ঠাকুর ঘর হবে।" তখন বিশালবাবু বলা শেষ হতে না হতে কুইক অ্যাকশনের ভঙ্গিতে বললেন - "না,না। খবরদার এই ভুলটা করিও না। প্ল্যানারকে বলে একটা স্পেশাল কুঠরি ঠাকুরঘরের জন্য অ্যারেঞ্জ করে দিতে বলো,কিন্তু চিলেকোঠায় বউকে হাত দিতে দিও না। নাহলে পরে পোস্তাতে হবে। এখন এ শর্মার কথা বাসি মনে হলে যখন বিপদে পড়বে ঐ সাধুর কলাচপা খাওয়ার মত অবস্থা হবে।" এই বলে ক্যান্টিনের রঘুকে পাশ দিয়ে যাচ্ছিল দুটো চা দিতে বলে।পকেট থেকে সিগারেট প্যাকেট বের করে একটা আছে দেখে সিদ্ধিনাথকে অসহায়তা প্রকাশ করে,সেই সঙ্গে রঘুকে সিগারেট দিতে বলে বিশালবাবু। অনেক প্ল্যান দিতে গিয়ে মগজে ধোঁয়াটার অভাব বোধ থেকে আরো অভিজ্ঞতা ঢেলে দেওয়ার ভান করেন। 
  সে সব কথার মুখ ঘোরাতে সিদ্ধিনাথ পরামর্শ নিতে বলেন - "কাকে দিয়ে প্ল্যান করাই বল তো বিশাল দা।"
 - "তুমি তো আগে বলবে। পৌরসভার বিমল জালালকে দিয়ে করাও।"
  - "ওর কাছে করালে ওর ইট,বালি,সিমেন্ট, রডের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিতে হবে। কমিশন খায়।"
  - "তাতে কি আছে। পৌরসভা থেকে প্ল্যান পাশ থেকে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যে ইন্সপেকশন ফ্রি! আর তোমার তো এক চিলতে জায়গা,ও কম জায়গার উপর ভাল প্ল্যান করে। অনেক সুবিধা আছে। আর আমার শ্যালকের বন্ধু হয়। ঠিক আছে আজ অফিসের শেষে দু'জনে যাব ওর বাড়িতে।" আরো টুকিটাকি কথা ও  চা টা পর্ব সেরে যে যার কাজের টেবিলে চলে যায়।
  সিদ্ধিনাথ উমাশশির চিলেকোঠা ঠাকুর ঘরের বায়না ধরে। কিন্তু সিদ্ধিনাথ বলেন- "ঠাকুরকে ঐ ছাদে একা কুঠরিতে রাখব? কেন গিন্নি তোমার ঠাকুর ঘরের আলাদা ব্যবস্থা যদি হয়।" খুব ম্যানেজের সুরে সিদ্ধিনাথ বলেন। উমাশশি রাজি হয়েও কেমন সন্দেহ হয়- এই একচিলতে জায়গায় নিজেদের শোওয়া বসার জায়গার অভাব হচ্ছে,কি করে ঠাকুর ঘর হবে!" 
  সিদ্ধিনাথ বলেন- "সে  প্ল্যানার ভাববে।"
  "আমার বাবার বাড়ির..."। সিদ্ধিনাথ গিন্নির মুখের কথা কেড়ে নিয়ে বলেন- "সবেতেই  বাপের বাড়ির তুলনা। এত বছরেও বাপের বাড়ির মায়া কাটল না। বাপকে বল না ঘরটা করে দিতে..." যেই না বলেছে সিদ্ধিনাথ,অমনি উমাশশি জোঁকের মুখে নুন দেওয়ার মত বলেন- "জোঁক হয়ে সারাজীবন বাপটাকে শুষলে, জায়গাটা কিনেছ তো বাপের পয়সায়,ঘরটা করার মুরোদ পর্যন্ত হচ্ছে না..." 
  সিদ্ধিনাথ এই তেজের কাছে যেন সেঁতানো বারুদ হয়ে আস্তে আস্তে কেটে পড়া মঙ্গল মনে করেন।
উমাশশি কথার রেশেই বলতে থাকেন- "চিলেকোঠা ঠাকুর ঘরই হবে। এই বলে দিলুম।" 
  বাড়ির প্ল্যানে চিলেকোঠাই ছিল, সিঁড়ির একটা কোনায় স্পেশ করে ঠাকুরঘর করা হল। চিলেকোঠাও হল। 
   কিন্তু ছেলে সিদ্ধান্ত মায়ের জোর খাটিয়ে ঘরটা নিজের ঘুড়িঘর বানিয়ে নিয়েছে। খেলার বিভিন্ন সামগ্রি এখন রাখে। ভবিষ্যতে জিম ঘর করবে বাবাকে প্ল্যান দিয়ে রাখে। উমাশশী ছাদে বড়ির ডালা ও ঘরকন্নার কুলো,হাঁড়ি,কড়া,নগণ্য কিছু জিনিস ঢুকিয়েছেন। মা বেটার দখলে। সিদ্ধিনাথ বললে উমাশশির জবাব - "নিজেদের পা নাড়ার জায়গা নেই,এদের কি তাহলে বাপের ঘরে রাখতে যাব?" 
  চৌকী অর্ডার দিয়েও বায়না ফেরত নিতে বাধ্য হয়েছেন সিদ্ধিনাথ। উমাশশির কাছে বলেও ছিলেন তার নিজের বলে কিছু একটা থাকুক। উমাশশির সপাটে জবাব ছিল- "আমরা কি তাহলে তোমার নিজের নয়।"
  বিশাল পাকড়াসি হাসে,সিদ্ধিনাথ হাসিতে যোগ না দিয়ে পারে না এই ভেবে চিলেকোঠার ভরকেন্দ্রে মনের যতসব উদ্ভট ভাবনায় কম জল গড়াল না।
          *******
# কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।

#বিভাগ_গল্প #গল্প:চিলেকোঠার ঘরটা #কলমে:সবুজ দ্বীপের রাজা

 #বিভাগ_গল্প 


#গল্প:চিলেকোঠার ঘরটা

#কলমে:সবুজ দ্বীপের রাজা


ফেলে আসা দীর্ঘ ২০টা বছর অনিশা কে তার পরিচিত কলকাতাকে অনেকটা অচেনা করে তুলেছে। আমেরিকার প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী অতীন কার্নেগী এই ২০ বছরে বার তিনেক ভারতে এলেও,অনিশাকে নিয়ে এই প্রথমবার। অনিশার ভারতে আসার মতো, তাকে খোঁজার মতো কেউ ছিলো না। বুড়োদাদু তার বিয়ের কয়েকদিন বাদে মারা যায় তখন সে অন্তঃস্বতা। তাই আর আসা হয়ে ওঠেনি। আর জেঠিমা মারা যাওয়ার খবর, সেটা জানতে পেরেছিল জেঠিমার মৃত্যুর প্রায় বছর পাঁচেক বাদে। রন্তু দাদার মেয়ে ইন্টারনেটে তার ঠাকুমার মৃত্যু দিবস দিয়েছিল সেই দেখে।

   গাড়ি চাপা পরে মৃত মায়ের দেহ আগলে বছর তিনেকের পথশিশু অনিশা যখন কাঁদছিলো, ওই বুড়ো কত্তা আর স্নেহময়ী জেঠিমার কোলে চেপে বাগবাজারের ওই সুউচ্চ জমিদার বাড়ির চিলেকোঠার ঘরটায় আশ্রয় নেয় অনিশা।

  হটাৎ ভাগ বসানো আশ্রিতার প্রতি বাড়ির বাকি সদস্যের ব্যাবহার যা হয়ে থাকে অনিশার ক্ষেত্রে তার থেকে আলাদা কিছু হলোনা। শুধু একান্নবর্তী পরিবারের কর্তা বুড়ো বাবুর এবং জেঠিমার স্নেহ দৃষ্টি কিছুটা হলে ঢাল হিসাবে রইলো।  যদিও আড়ালে আবডালে চলতে লাগলো প্রহসন। আর অনিশার সকলের ভালোবাসা আদায় করার মিথ্যা লড়াই। ছোট্ট চিলেকোঠার ঘরটা তার একমাত্র আপনজন হয়ে উঠেছিল। মানি প্ল্যান্টের ছোট্ট চারা বাগান থেকে তুলে এনে জানলার ধারে একটা টবে বসিয়েছিল।প্রতিদিন তাতে জল ঢালতে ঢালতে তার মনের কথা তাকে বলতো।সেও ওরই মতো বেড়ে উঠছিল।

  তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষার সময় দুপুরে বাড়ি ফেরার পথে মাথা ঘুড়ে রাস্তায় পড়ে যায়। সেদিন অতীন তাকে ডাক্তার দেখিয়ে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে যায়। সেদিন অচৈতন্য অনিশার মুখে অতীন বোধহয় তার ভবিষ্যৎ দেখেছিল। নাম গোত্রহীন অনিশাকে নিজের করতে অবাঙালী অতীনের বেগ পেতে হয়নি।

  আফসোস একটাই।  না পাওয়া দেশের রাজকন্যা অনিশা সব পাওয়ার দেশে এসেও আজো নির্বিকার। অতীনের শত অনুরোধে ও আজ অব্দী নিজের জন্য কিছু চায়নি। এবার প্রায় জোর করেই অতীন ওকে নিয়ে ভারতে এসেছে।

   ঠান্ডা গাড়ির বন্ধ কাঁচের ভিতরে অতিন যখন বললো, "অনি চলো তোমার বাড়ি দেখিয়ে আনি।" অনিশার চোখটা আনন্দে জ্বলে ওঠে।

    জরাজীর্ণ দশা সেদিনের সেই জমিদার বাড়ি। মূল ফটক ভেঙে পড়ে গেছে। বুড়ো কত্তার সাধের বাগান আজ জঙ্গলে ভরা। বন্ধ বাড়িটাকে আষ্টে পিষ্টে রেখেছে বটের শিকড়। অতীন মৃদু স্বরে বলে, "এখানে আজ আর কেউ থাকে না। ব্যাঙ্কের ঋণ পরিশোধ না করার কারণে বাড়িটা নীলামে উঠেছে।" অনিশার চোখের আনন্দ নিমিষে নিভে যায়। হতাশ দৃষ্টিতে চিলেকোঠার সেই ঘরটার দিকে তাকায়, মানিপ্লান্ট গাছটা জানালা দিয়ে বেরিয়ে পুরো ঘরটা ঢেকে ফেলেছে। অনিশাকে দেখে তার পাতাগুলো তির তির করে নড়ে ওঠে। হারানো প্রিয়জনকে পেয়ে সেও কাছে পেতে চায়।

   অনিশা অতীনকে বলে আমার ছেলেবেলা দেখবে? ওই চিলেকোঠার ঘরটায় একটু নিয়ে যাবে।

   অতীন গাড়ি থেকে নেমে গার্ডের সঙ্গে কি সব কথা বলে। তারা ওর হাতে একগোছা চাবি দেয়।

   চিলেকোঠার ঘরের ভিতরে ঝুল পড়লেও আজো যেনো আগের মতোই আছে। চৌকির নিচে সেই বাক্স অনিশা খোলে তার শৈশব ,কৈশোর সব মুক্ত হাওয়ায় বেরিয়ে এসে তাকে আলিঙ্গন করে।অনিশার চোখটা ভিজে উঠেছে স্মৃতির জলে। জানলার কাছে মানিপ্লান্ট গাছটায় হাত বোলায়, পাতায় জমা জল ওর মুখে পড়ে।দুই সাথী হারা একে অপরকে কাছে পেয়ে অশ্রুজলে যেনো ভাসতে থাকে।

  অনিশা অতীনের হাতটা চেপে ধরে,আমাকে এই বাড়িটা কিনে দেবে অতীন।

   অতীন পকেট থেকে রুমালটা বের করে অনিশার চোখটা মুছিয়ে দেয়। ব্রীফ কেস খুলে একটা কাগজ বের করে অনিশার হাতে দেয়। মৃদু স্বরে বলে এই বাড়ি আজ থেকে তোমার। এই উপহার তোমায় দেবো বলেই আমার আজকে আমেরিকা থেকে এখানে আসা।

   বাইরের দমকা হাওয়া মানিপ্লান্ট গাছটাকে দোলাতে থাকে,অনিশা নতুন করে অতীনকে আবিষ্কার করে।

   🙏🙏🙏🙏🙏

কপিরাইট রিজার্ভ@সৌগত@মুখোপাধ্যায়#২০২১

#নাম_সেদিন #কলমে_অনিশা

 #বিষয়_চিলেকোঠা

#নাম_সেদিন

#কলমে_অনিশা


অনিন্দ্য ভাবতেও পারেনি হঠাৎ সে নিজেই এতটা নস্টালজিক হয়ে পড়বে। সুনন্দাদের চিলেকোঠার ঘরটা ছিল ছোটদের সাম্রাজ্য। সুনন্দার মায়ের ঠাকুর ঘর করার কথা ছিল ওটা। কিন্তু ওই তিনতলা অব্দি বারবার ওঠানামা করা ওনার পক্ষে সম্ভব নয় বলেই ঘরটা পড়ে ছিল। ওখানে অব্যবহৃত জিনিসপত্র রাখা থাকতো। তার মধ্যে একটি অপ্রয়োজনীয় ক্যাশবাক্স ছিল। অনিন্দ্য প্রথম আইডিয়া দেয় সুনন্দাকে, "সু দেখ, তোর পুতুলের সব এর মধ্যে রাখতে সুবিধা হবে। একটা পড়ার ঘর, একটা রান্নাঘর, একটা বসার ঘর আর মাঝখানটা শেয়ার ঘর।" কিন্তু সুনন্দার মুশকিল হলো পুতুলের শোয়ার ঘরে দরজা নেই তো। সেই সমস্যার সমাধান ও অনিন্দ্য করে দিয়েছিল, পুরো বাক্সের ঢাকাটা বন্ধ করে। পুতুল সাজানোর এত সুন্দর ব্যবস্থা আর তার ওপর এত সুন্দর সমাধান পেয়ে সুনন্দা আনন্দে জড়িয়ে ধরেছিল অনিন্দ্যকে। ভালো লাগায় ভরে গিয়েছিল দুটি মন। এরপর আশে-পাশের বাড়ির সোমা, মিনতি, কাজল সবাই আসত।  ওখানে চলত লুডো, বাঘবন্দী এমন অনেক খেলা। কিন্তু খেলা শেষ হলে সুনন্দা বাড়ির গিন্নির মতো বলত, "এবার সব বাড়ি যাও তো! আমি পুতুলদের ঘুম পাড়িয়ে আসবো।" অনিন্দ্য যেত না। যেই বাকি সবাই চলে যেত, সুনন্দা বাক্সের ঢাকা বন্ধ করে ওর সামনে দাঁড়াতো। অনিন্দ্য ওর এক মাথা ঝাঁকড়া চুলে মুখ ডুবিয়ে ওকে জড়িয়ে ধরত। এক ভালো লাগার জগতে ওরা হারিয়ে যেত। দুটি শিশুর এ এক অনন্য অনুভুতি। 

এরপর কেটে গেছে অনেক বছর। অনিন্দ্য কৈশোরে পা রেখেছে। সে এখন কলকাতায় মামার বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করে। সুনন্দার পিসির বিয়েতে এসেছে বাড়ি। চিলেকোঠার ঘরটা খালি করতে হবে। ওখানেই সব ভাঁড়ারের জিনিস পত্র রাখা হবে। খালি করতে হবে শুনেই দুজনে ছুটল সেই খেলাঘরে। সুনন্দা গিয়ে খুলল তার ক্যাশবাক্স। তেমনি গোছানো পড়ে আছে পুতুলের সংসার। ছোটবেলার ছেলেমানুষী গুলো মনে পড়তে হেসে বন্ধ করল বাক্সের ডালা। অনিন্দ্য ও সেদিনের মতো হাত বাড়ালো সুনন্দার দিকে। সচকিত হয়ে উঠল সুনন্দা। শুধু মুখ থেকে বেরিয়ে এলো, "ছিঃ।"


ছিটকে বেরিয়ে গেল ঘর থেকে অনিন্দ্য। বাবা বেরোচ্ছিলেন গাড়ি নিয়ে কলকাতায় ফিরবেন। ওদের রেখে দিয়ে গেলেন, নিজে আবার বিয়ের দিন আসবেন। অনিন্দ্য গিয়ে বসে পড়ল গাড়িতে।


@কপিরাইট রিজার্ভ ফর অনিশা কুমার।

রবিবার, ১৮ জুলাই, ২০২১

চিলেকোঠার শকুন (কলমে পিয়ালী চক্রবর্তী)

 চিলেকোঠার শকুন


#কলমে_পিয়ালী_চক্রবর্তী

তারিখ : ১৯/০৭/২০২১


ছোট্ট মেয়েটার রোজ নিম্নাঙ্গে ব্যথা, রক্তপাত । দাদুভাই কেন যে এই খেলাতা খেলে কে দানে! আবাল কাউকে বলতেও বালণ কলেতে । বলে দিলে নাকি আমি আল দাদুভাই দুজনেই মলে যাবো । বাবালে, কাউকে বোব্ব না ।


আজকাল চিলেকোঠার ঘরের নাম শুনলেই ভয় হয় ছোট্ট বাবলির । এই খেলার শুরু খুব একটা বেশীদিন নয়, এই সবে সপ্তাহ দুয়েক । সেদিন দুপুরে ও একা খেলছিল চিলেকোঠার ঘরে বসে । দাদুভাই এসেছিল আচারের বয়াম নিতে । হটাৎ ওকে দেখে ঢুকে এলো ঘরে । ওর আচার খাওয়া বারণ । খেলেই  গলায় ইনফেকশন হয় ।


দাদুভাই বললো, "আচার খাবে মামণি!"

বাবলি : হুম, তুমি দেনো মা-কে বলে দিয়োনা । মা মালবে ।

দাদুভাই : ঠিক আছে, বলবো না । আচার দেবো অনেকটা, আগে একটা খেলা খেলবো দুজনে মিলে ।

বাবলি : তাই! তুমি খেব্বে আমাল ছাথে!


সেই শুরু হল খেলার ।


তখনকার চার বছরের বাবলি আজ বাইশ বছরের তরুণী । চিলেকোঠার ঘরটা আজ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে । ওই ঘরেই দাদুভাইয়ের শ্রাদ্ধ আজ । চিলেকোঠার ঘরে পড়ে ছিল দাদুভাইয়ের প্রাণহীন দেহটা । সবাইকে খবরটা দিয়েছিল কাজের মেয়ে বকুল । ছুটে গেছিল সবাই ছাদে । চিলেকোঠার ঘরের মাঝামাঝি চিৎ হয়ে পড়ে আছে দাদুভাই । চোখদুটো বিস্ফারিত । নিম্নাঙ্গ ভেসে যাচ্ছে রক্তের স্রোতে ।


সেদিকে দেখে বাবলি আর বকুল একে অপরকে চোখের ইশারায় বলে উঠলো, "ভালো মানুষ ছিলেন, বাচ্চাদের সাথে খেলতে বড়ই ভালোবাসতেন ।  এভাবে চলে যাবেন ভাবতেও পারিনি । সবই ঠাকুরের ইচ্ছা ।"

Copyright © All Rights Reserved to Piyali Chakravorty

বিষয় : *আধ্যাত্মিক আলোচনা* ©শর্মিষ্ঠা ভট্ট

 বিষয় : *আধ্যাত্মিক আলোচনা*

©শর্মিষ্ঠা ভট্ট



ছোট বয়সে ভূগোল বই পড়তাম রাজমহলের পর থেকে সমুদ্র পর্যন্ত গঙ্গার গতি স্হির। উচ্চ ও মধ্য গতির পর এখান থেকে শান্ত, গজেন্দ্র গামিনী। সমুদ্রের সাথের মেলার প্রথম দ্বিতীয় চঞ্চলতা কাটিয়ে ধীময়ী সে। মিলনের আনন্দ যত  কাছে আসে তত মনের মাঝে গাম্ভীর্য ও স্থিতু অনুভূত হয়।এত তো প্রকৃতির শৃংখলা। মানুষ বা সমস্ত জগৎ এমন এক অনিবার্য শৃংখলার মাঝে ভ্রমণ করে চলছে। গতকাল বিজ্ঞান আলোচনায় গতিময়তা তত্ত্বের মাঝে এই গতির সুন্দর ব্যাখ্যা উপলব্ধি করা গেছে। থাক ওসব তত্ত্ব। 


আবার ফিরে যাই ঘরোয়া কথায়। চারি দিকে কাজ আর জীবনে পাবার দৌড়াদৌড়ি। সর্বত্র এক উন্মাদ ছোটাছুটি । কিন্তু তার মধ্যে এক সচেতন জিনিস আছে যা গতিময় চঞ্চলতাকে কারন দেয়। তা আমাদের মন। মন খোঁজে ছোটার শেষ ফিতে। কেন এই ছোটাছুটি!!কি আশায় রোজ লিখি? কেন এই খাওয়া শোয়া, কেন দেশ বা নিজস্ব সম্পত্তি বাঁচাতে রক্ষী হয়ে যাই। কেন ছোট কথায় দুঃখ মনকে বিচলিত করে? কারন এই সব কর্ম। এই সব কার্য, যার কারন আছে বলেই সমস্ত জগৎ চলছে। চরৈবতি । এই ধাবমান চলনের শেষ বিন্দু তিনি। সেই পরম ব্রহ্ম। শুণ্য বাদ। শুণ্য থেকে শুরু শূণ্যতেই শেষ। সেই জ্যতির্ময়  বিন্দুর দিকে অহরহ এগিয়ে চলা। যা শান্ত অনন্ত তরঙ্গ হীন। সেই অমিয় সত্য অমৃতময়, হয়ত ঈশ্বর।কিংবা বিশ্বাসে বসা কেবল আলো। এই চলা জন্ম জন্মান্তরের হতে পারে। তবু মিলন সুখে ছোটা। 


এই যে চাহিদার অসংখ্য গুঞ্জন তা হয় এ জন্মের শেষেও নিবৃত্ত হয় না, আত্মার মধ্যে দিয়ে ভেসে চলে পিউরিফিকেশন বা বারে বারে সংস্কারের মাধ্যমে। বৌদ্ধ ধর্ম হিন্দু ধর্ম এই চলনকেই জন্মান্তর চক্র বলেছেন। 


আরও সহজ করে শেষ করি। এই যে রেজাল্ট ভালো চাকরি চকচকে মানুষ দেখলে একটু গলে যায় সমাজ। ভালো ও আরও ভালোর প্রতি আকর্ষণ এক নেশাগ্রস্থ জীবনের কাহন লিখে চলে। কিন্তু শান্ত সুন্দর শ্যামলাজীর সে বাঁশি। তিনি যে গ্রহণ করার জন্য দু হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে। ধীময়ী মনে অনুভূত হলে তবেই আধ্যাত্মিক জীবন পথের শুরু। গঙ্গার নিম্ন গমন। ধীরে ধীরে অন্তর হয়ে ওঠে আলোকময়, নৈবৃত্তি। সংসার কোলাহলে থেকেও উত্তেজনাহীন শুদ্ধ চেতনা বিরাজ করবে এই অনিত্য দেহে। ওম্............ বিশাল শক্তি যেমন গ্রহণ করে সামান্যকে, সমুদ্রের বিশালকায় মিশে যায় মন। লেখক লেখনী যেমন ঠিক করেছে বিশালাকার চিন্তার দিকে ধাবিত হবে। ঠিক তেমনই সুন্দর অসাধারণ অনবদ্য বিচারহীন অকৃত্রিম চৌম্বকীয় শক্তির কেন্দ্রে মিলন হতে ছুটে চলা। অচঞ্চলতা সব তর্ক সমাপ্ত করে। ধন্যবাদ🙏💕

শনিবার, ১৭ জুলাই, ২০২১

# নাম- স্থিতি ও গতি। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।

শুভ সান্ধ্য আলোচনা-বাসর।
  # বিষয় - *বিজ্ঞান।*
  # নাম- *স্থিতি ও গতি।*
   ✍ - মৃদুল কুমার দাস।

       স্থিতি ও গতি বিগ ব্যাং- এর একটা সৃষ্টির মূল রহস্য। সত্যিই রহস্য। বিজ্ঞান এই রহস্যের লক্ষ্যভেদ করতে চাইলেও একে আজও অসম্ভব  লাগে,লাগে বড়ই অসহায়। কিন্তু চেষ্টার শেষ নেই। চেষ্টা করেই যাচ্ছে সাফল্যের মুখ দেখতে পাচ্ছে না বলে,বরং তাই গবেষণার গতিশীল অবস্থা। 
   গতিশীল অবস্থা বলের ফল। এই "বল চার রকম। ইলেকট্রোম্যাগনেটিক(যার ক্রিয়ায় পাখার ব্লেড ঘোরে বা খাবার হজম হয়),উইক(যা তেজস্ক্রিয়তার মূলে),স্ট্রং(যার প্রভাবে পরমানুর নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রণ ঠাসা থাকে) এবং গ্রাভিটি( যার বলে আপেল মাটিতে পড়ে,চাঁদ পৃথিবীর চারধারে ঘোরে)। এর বাইরে আর একরকম বলের হদিস পাননি বিজ্ঞানীরা।" কথাগুলি হুবহু তুলে দিলাম পথিক গুহের প্রতিবেদন 'পঞ্চম বলের গোলকধাঁধা'( আনন্দবাজার - ১৭/০৭/২০২১ পৃ:-৪) রচনা থেকে। 
      পথিক গুহ বিশ্লেষণে পাই  এই চারটি বলের বাইরে আর একটি বল আছে যেটি পঞ্চম বল,সেই আসলে সবের নিয়ন্ত্রক। যেমন অন্ধকারই হল বিগ ব্যাং এর মূল শক্তি। সেই এই চারপ্রকার বল দিয়ে গ্যালাক্সিকে গতিশীল করেছে যার পরিমাণ বড়জোর চার পাঁচ শতাংশ। আর বাকি পঁচানব্বই শতাংশ তার আস্তিনে লুকানো বল। যে বলের প্রভাবে সে ক্রমেই প্রসারিত হচ্ছে। তার রহস্য বিজ্ঞানের কাছে অধরা। ব্রহ্মান্ডের অঙ্গুলি হেলনে গ্যালাক্সিরা গতিশীল। কেউ কারো থেকে ছিটকে বেরিয়ে যাচ্ছে না। গ্যালাক্সিরা সব পদার্থ নিয়ে পরিচিত। সেই পদার্থ নিয়ে জ্ঞান লাভের বিষয়কে আমরা পদার্থবিজ্ঞান বলি। 
   গতিশীল অবস্থার রহস্যের  পঞ্চম বল কী তাই জানা অসম্ভব,অথচ সেই পদার্থবিজ্ঞানের আসরে নামিয়ে দিল- গ্রাভিটেশন ল, আপেক্ষিকতাবাদ,কোয়ান্টাম  থিওরি,জীব ও জড়ের সম্পর্ক ইত্যাদি। এর মধ্যে আপেক্ষিকতাবাদ এক অদ্ভূত তত্ত্ব। যা কিছু বোধগম্যতার শেষ বলে কিছুই নেই - বিগ ব্যাং এর তাই যেন সকল বিষয়ের ব্যাখ্যার শেষ সিদ্ধান্ত না পাঠিয়ে মীমাংসাহীন আপেক্ষিকতাবাদকে তার দূত করে পাঠিয়েছে। আর এই রহস্য বুঝতে সবকেই বিগ ব্যাং গতিশীল রেখেছে। আমরা যাকে স্থির বলি কোনোকিছুই স্থির নয়। স্থির আপাত মনে হয়,বাস্তবে কোনকিছুই স্থির নয়। সবের আকার প্রোটন ও ইলেকট্রন কনার পজিটিভ ও নেগেটিভ তড়িতাধানের খেলা। পাথরকেও আপাত স্থির মনে  হলেও কিন্তু পাথরের অস্তিত্ব প্রোটন ও নিউট্রণের খেলা আছে। স্থির বা স্থিতি থেকেই সবের জন্ম। গতিশীল অবস্থা তার স্থিতিশীলতার যথার্থ স্বরূপ। ব্রহ্মান্ড মহাশূন্য,কোনো এক অদৃশ্য বলের দ্বারাই সে প্রকাশিত হচ্ছে - বিশকবির ভাষায় - "আমায় নইলে ত্রিভূবনেশ্বর তোমার প্রেম যে হতো মিছে।"  কবি কত বড় একটা সাহিত্যের আঙিনায় বিজ্ঞান নিয়ে খেলে গেলেন,এর রহস্য ঐ পঞ্চম বলেই আছে। কিন্তু তাঁকে ছোঁয়া সাধ্যাতীত এখনো।
  তাই যতক্ষণ গতিশীল ততক্ষণ জীবন্ত। আর স্থিতিশীল মানেই সে অহরহ গতিশীল অবস্থায় ফিরতে চাইবে। তার মধ্যেই যতক্ষণ প্রকাশ ততক্ষণ গতিশীল অবস্থা। দৃশ্যমান জগতের সবটাই গতিশীল,আর গতিশীল না হলে জাগতিক ও মহাজাগতিকে এতকান্ড কিছুই জানার কৌতুহল মিটত না। তা ঐ বড়জোর পাঁচ শতাংশ। বাকি পঁচানব্বই শতাংশ অদৃশ্য এক শক্তি যার রহস্য অনুধাবন অসম্ভব বলে সেই স্থিতিশীল শক্তিই তার সামান্য অংশ গতিশীল করে আমাদের দিকে পাঠাচ্ছে। আর গতিশীল ও স্থিতিশীল অবস্থার মূল্যায়ণ একটা চলনসই ব্যাখ্যা নিয়ে সন্তুষ্ট কতটা এর ব্যাখ্যাও কারো কাছে নেই। 
            ধন্যবাদ। 
                       *******
# কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।

# নামনাম- ট্রেন কম্পার্টম্যান্ট ও পরিবার। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।

শুভ প্রভাতী আলোচনা-বাসর।
# বিষয় - *জীবন যেরকম।* #নাম- *ট্রেন কম্পার্টম্যান্ট ও পরিবার।*
   ✍ মৃদুল কুমার দাস।

       জীবনের গতিপ্রকৃতির মধ্যে যত বৈচিত্র্য জীবনের তত শিক্ষনীয়। গতিশীল জগতের কাছে জীবন তার বৈচিত্র্যের জন্য ঋণী। বৈচিত্র্য জীবনকে অভিজ্ঞতা দেয়। অভিজ্ঞতা দেয় জ্ঞানের আলো।
    আমাদের চলমান জীবনের একটা বিশেষ প্রবণতা হল তুলনা করে চলা, তূল্যমূল্য বিচার করা, বৈপরীত্যের মধ্যে সঙ্গতি রক্ষা করা, বিকল্পের সন্ধান করা। এই প্রধান চারটি আচরণ জীবনের মূল ভিত্তি। আরো অনেক এদের অনুসারী আছে। যারা সাপোর্টিং ক্যারেক্টার। সবাই মিলে জীবনের চলমান গতি।
  এখন পরিবার ও ট্রেনের কম্পার্টম্যান্ট কি পরস্পরের বিকল্প? বিকল্প ভাবলে এসে যায় বিকল্প হওয়ার কতটা উপযুক্ত। তাই হল বিচার্য বিষয়। সকল বিষয়ের বিচারের গুণ - ভাল ও মন্দ। 
   পরিবার এক ছন্দায়িত জীবন। আর ট্রেন কম্পার্টম্যান্ট আরেক চাহিদা পূরণের প্রয়োজন সাধনের একটি কৃত্রিম ব্যবস্থা। কম্পার্টম্যান্ট এবং পরিবারের মিল ও অমিল দেখানোর কথা বলা হয়েছে। 
     পরিবার স্থায়ী জীবনের এক বিশেষ রূপ। আর পরিবার থেকে কিছুটা সময় রেলের কম্পার্টম্যান্ট,বড় জোর কয়েক ঘণ্টা কাটানোর একটা কোর্স। পরিবার ফুল কোর্স। রেল কম্পার্টম্যান্ট একটা ডিপ্লোমা কোর্সের মত। রেল যাত্রী পরিবহণ, যাত্রীদের পরিষেবা - তার কোর্স একটা নির্দিষ্ট সিস্টেমে বাঁধা। পরিবারের বাইরে গিয়ে কয়েক ঘণ্টা,একটা বা দুটা,তিনটা দিন কাটিয়ে গন্তব্যে পৌঁছে পারিবারিক ছন্দে ফেরা। শুধু কয়েক ঘণ্টা যা পারিবারিক সুযোগ ভুলে কিঞ্চিত সুযোগ উপভোগ করে একটা সময়ের জার্ণি উপভোগ করা। মিল ঐ যা,কড়ি ফেলে খাওয়ার,জলের সীমিত যোগানে মানানো,বাথরুম একটা পরিষেবার জন্য থাকবে। পরিবারের স্বাধীনতা আর কম্পার্টম্যান্টে পরিষেবা লাভের স্বাধীনতার একটা ফারাক থাকে। কম্পার্টম্যান্ট একটি জার্ণি নিজের জনের সঙ্গে অপরিচিত জনেদের সঙ্গে। পরিবারের ডিসিপ্লিনের সঙ্গে কম্পার্টম্যান্টের ডিসপ্লে সুনির্দিষ্ট নিয়ম থাকে,তা একটা আলাদা ম্যানার,যা পরিবারের কাছ থেকেই আসে,কম্পার্টম্যান্টের পরিবেশের সঙ্গে অ্যাডজাস্ট করতে হয়। পরিবারের জীবনের থেকে আনা ম্যানার শো করতে হয়। বোঝাতে মানুষ ও তাদের ভদ্রতা পারিবারিক। অপরেও তাই। এই নিয়ে কয়েক ঘণ্টার জার্ণি। মিল ও অমিল বলতে গেলে যে যার জায়গার আইডেন্টিটি আলাদা। পরিবারের বিকল্পের এক নগন্যমাত্র দিক। তবে ঘরের বাইরে পা রাখলে কয়েকটা ঘন্টা পরিবারের মতো কিঞ্চিত পরিষেবার ব্যবস্থা থাকে,যা পয়সা দিয়ে কিনতে হয়। ডিসিপ্লিনের বাঁধনের ভিত্তিতে দুই স্থলের মাত্রা আলাদা। পরিবারের কয়েকঘন্টার একটা সময় কম্পার্টম্যান্টে কাটানোর অভিজ্ঞতা সবার আছে। 
    আর পরিবারের সঞ্চিত অর্থে একটা অংশ দিয়ে ট্রেন কম্পার্টম্যান্ট পরিবারে যে পরিষেবা কিনি তাই রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সহায়ক হয়। এক্ষেত্রে দুই পরিবার ভিন্নমুখী। ট্রেন কম্পার্টম্যান্ট জাতীয়তাবাদ,সংহতি,সম্প্রীতির আদর্শ পরিবার।
               *******
  # কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।

পরিবার ও ট্রেনে কামরার মধ্যে মিল অমিল। কলমে-- পারমিতা মন্ডল।

পরিবার এবং ট্রেনের কম্পার্টমেন্ট মধ্যে মিল অমিল,
*
*কলমে,-- পারমিতা মন্ডল।

আজকের বিষয়টি খুব সুন্দর। লিখতে দেরী হয়ে গেল। 

ট্রেন এবং পরিবার যে একসাথে ভাবা যায় এই ভাবনাকেই আমি স‍্যালুট জানাই। আমাদের মত নিত্য ট্রেন যাত্রীদের কাছে সত্যি ট্রেনের কম্পার্টমেন্ট আমাদের আর এক পরিবার । এখানেও সুখ-দুঃখ, আনন্দ- বেদনা আমরা ভাগ করে নেই সমব‍্যথি হয়ে। এটা হলো বৃহত্তর পরিবার।

এবার দেখি পরিবার কি । ছোট বেলায় বইতে পড়েছি বাবা, মা, ভাই , বোন , কাকা, কাকি, ঠাকুরদা, ঠাকুমা নিয়ে গড়ে ওঠে পরিবার।  কিন্তু বাস্তবে দেখি বাবা, মা আর তাদের সন্তানদের নিয়ে ওঠে পরিবার। অর্থাৎ এটা হলো নিউক্লিয়ার পরিবার। এখন আর যৌথ পরিবার বেশী দেখা যায় না । এখানে সবাই রক্তের সম্পর্কে আবদ্ধ। শুরু স্বামী-স্ত্রী ছাড়া। তবে এক ছাদের তলায় থাকলেই যে পরিবার হবে এমনটা নয়। দূরে থেকেও পরিবার গঠন করা যায়। সেটা হলো র্ভাচুয়াল পরিবার।

আমরা নিজেদের একাকীত্ব দূর করতে  তৈরী করেছি এই র্ভাচুয়াল পরিবার। যেমন আমাদের লেখক লেখনী পরিবার। এখানেও ছোট বড় সব রকম সম্পর্কের বন্ধন আছে। এখানেও একজন আর একজনের বিপদে পাশে দাঁড়ায়, দুঃখে সমব‍্যথি হয় আবার আনন্দে প্রান খুলে হাসে।তাই এটাও একটা পরিবার। তাহলে ট্রেনের সাথে মিল কোথায় ?

মিল অনেক আছে। যারা ট্রেনের নিত্য যাত্রী তারা কিন্তু নিজের পরিবারের চেয়েও বেশী আপন হয়ে যায়। যেমন এই তো সেদিন শিবুকাকা প্রচণ্ড ভীড় ট্রেনে হাত ধরে টেনে তুলেছিলেন রীনাদিকে। নাহলে ঐ দিন হয়তো শেষ দিন হতো। শিবুকাকা জানতেন রীনাদির পায়ে খুব ব‍্যথা। উনি ট্রেনে ব‍্যাগ বিক্রি করেন। 

আচার মাসি , সেদিন  ডাটা দিয়ে নতুন এক রকম আচার বানিয়ে নিয়ে এসেছিল আমাদের গ্রুপটার জন্য।  সবাইকে দিলো। মাসিকে কখনোই নিজের মাসি ছাড়া কিছু মনে হয়না। উনি ট্রেনে আচার বিক্রি করেন।একদিন না দেখলে আমরাও যেমন মাসির খোঁজ করি, মাসিও তেমনি আমাদের খোঁজে। এমন আরো অনেকেই আছেন। সত্যিই আজ তাদের কথা খুব মনে পড়ছে। যেন এক বিনি সুতোর মালা।আমরা একসাথে অনেকটা রাস্তা যাই তো। তাই পরিবার হয়ে গেছি। আমরা ট্রেনের মধ্যে দোল খেলি, জন্মদিন পালন করি, গলা ছেড়ে গান করি। উপহার ও আদান, - প্রদান হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ট্রেন বন্ধ। তাই জানি না তাদের আর ফিরে পাবো কি না ?

আবার যেদিন সবিতাদি রিটায়ার করলেন, সবাই ওনার জন্য কেঁদেছিলাম, । আর আগের মত দেখা হবে না বলে। কাউকে অনেকদিন ট্রেনে না দেখলে, তার খোঁজ যেমন করে সবাই তেমনি বিপদে পড়লেও পাশে দাঁড়ায় সমানভাবে।  তাই বলে কি ঝগড়া হয়না ?  সেদিন সামান্য কারনে ঝগড়া হয়ে গেল মৈত্রীদির সাথে সুলেখার। সুলেখা শুধু বলেছিল তোমার গয়নাটা আজ শাড়ির সাথে ম‍্যাচ করেনি। বুড়ির মত লাগছে। আর যায় কোথায় ? কেঁদে কেটে একসা। আমাকে তুই বুড়ি বললি ? তাকে সবাই মিলে আবার সামলানো । এমন তো পরিবারেও হয়। দুই জায়ের মধ্যে বেশি। তাহলে এটা তো এক পরিবার হলো।তবে যারা নিত্য যাত্রী নয় তাদের মধ্যেও কিন্তু বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। 

অমিল ও প্রচুর আছে। পরিবারে সবার ভাবনা পরিবার কেন্দ্রিক হয়। কিন্তু ট্রেনের পরিবারে সবার ভাবনা আলাদা। একবার পরিবারের অন্তর্ভুক্ত হয়ে সহজে বেরনো যায় না। কিন্তু ট্রেনে একটা নির্দিষ্ট সময়ের পরে নেমে যেতে হয়।  কাজ শেষ হয়ে গেলে ট্রেনের কামরার গুরুত্ব ফুরিয়ে যায়। কিন্তু পরিবারে অকেজো হয়ে গেলেও তার গুরুত্ব  আগের তুলনায় কমে গেলেও বাদ দেওয়া যায় না।  

আরো অনেক আছে। বড় হয়ে যাবে। তাই এখানে শেষ করলাম।


# প্রবন্ধ : *পরিবার ও ট্রেনের কম্পার্টমেন্টে মিল /অমিল।* ©শর্মিষ্ঠা ভট্ট

 # প্রবন্ধ : *পরিবার ও ট্রেনের কম্পার্টমেন্টে মিল /অমিল।*


©শর্মিষ্ঠা ভট্ট


ট্রেনের আওয়াজ শুনলেই মন উড়তে থাকে। দূর থেকে কেউ ডাক দিয়ে যায়। দূরপাল্লার ট্রেনের যাত্রী আমি। প্রথম প্রথম এক যাত্রা দুই গুনতাম, একসময় কখন গোনা ছেড়ে দিয়েছি। ভালো লাগে মানুষের এই আনাগোনা। সবাই বলে ২য় শ্রেণী আর আগের মতো মধ্যবিত্ত উপযোগী নেই। তবু আমি কখনও জোর করে টিকিট কাটাই। এই মানুষ গুলোর সাথে, খোলা জানলা দিয়ে পটপরিবর্তন আর সন্ধ্যায় হু হু করে ঠান্ডা বাতাস। ভাসিয়ে দিয়ে যায় এক অনাস্বাদিত আনন্দে। সাথে চা ওয়ালার সুর করে ডাক। কিংবা ঝাল মুড়ি একদিনের দিদি ভাই মাসি পিসির সাথে খাওয়া। একটু পরে ডিনার। স্টিলের থালা বের করে কেউ বাবু হয়ে আলু পরোঠা আচার যোগে... কেউ আবার ট্রেনের রোজকার খাবার অর্ডার দিয়েছে। একটু সরে দাঁড়িয়েছে যারা খাচ্ছে তাদের যাতে সুবিধা হয়। কিংবা মাসিমা সেই যে জানলার পাশের সিটটায় বসে গেছেন,ছাড়ছেন না। মনে মনে যত গালি দাও সিঙ্গল ট্রাভেলার ওপরের সিটে কাটিয়ে দিল দুদিন, মুখে দেখতে হাসি হেসে। তার মনের জ্বালা কে বোঝে। অবশ্য আজকাল এসি সেকেন্ড স্লিপারেও স্টিলের বাটি ঘটি বের হয়। তবে মানুষের মেলা তো ওই পারে। এই যে শ্রেণী ভাগ সংসার বা পরিবারের জীবনেও যে পাই না, তা নয়। আছে সব সেখানেও হুবহু কম্পার্টমেন্টের মতো জীবন ও ছুটে চলেছে। হঠাৎ থামার উপায় নেই। বেহিসাবী হলেই গেলো.... আর একান্নবর্তী বাথরুমের মতো এখানেও এই সমস্যা রয়ে যায়। পেয়ে গেলে ছোটা ছুটি বন্ধ দরজায় ধাক্কা ..একটু তাড়াতাড়ি দাদা। বিদায় বেলায় এখানেও সহযাত্রীকে এগিয়ে দিতে হয়, কিছু না হোক মিষ্টি  হেসে....বাই বা সাবধানে যাবেন। পরিবারেও অন্তিম যাত্রা পথে একটু বিদায় বলতে হাজির হয়ে যায় পরিচিত স্বল্প পরিচিত কত কত জন। ট্রেনের রেগুলার যাত্রীরা তো অনেক সময় জীবনের সাথে জুড়ে যায়। নিজেদের মধ্যে বিবাহ ইত্যাদি সম্পর্কে বাঁধাও হয়। বলতে গেলে ট্রেনের এই গতিময় ক্ষনস্থায়ী ঘরটি পরিবারের মতো সম্পর্ক গড়ে। অসহিষ্ণু হয়ে ভাঙ্গে। মানুষের মন তো যেখানে যায়, বাসা খোঁজে হলেই বা তা সামান্য মুহুর্তের। মন লাগাতে ইমোশনাল জুড়ে যেতে পারে মানুষ বলে, ট্রেনের মতো ভার্চুয়াল জগতে সম্পর্কের জাল বুনে চলে। না জাল নয়, নক্সি কাঁথার মাঠ। তাতে কত সহস্র ছোট ছোট কাহিনী অহরহ যুক্ত হয়ে সুন্দর হয়ে উঠছে, ভরে উঠছে। কত ব্যাথা ভরে তুলছে ভারী নক্সা। হিংসা বিদ্বেষ লোভ স্বভাব সুলভ আসবে। তাকে পরিপূর্ণতা দিতে ভালোবাসা ক্ষমা আনন্দ ইত্যাদি সুন্দর হৃদয় বিত্তি আসবে। আসলে মানুষ সামাজিক জীব। যেখানে যায়.... একটা ঘর সে বানাবেই। সব চেয়ে বড়ো কথা পরিবারের মতো গন্তব্য আছে  , আবার অন্য যাত্রীর জন্য ছেড়ে দিতে হবে, সবাইকে সাধের কয়েকটি দিনের মিলন মেলা। তারপর আর ট্রেন বা পরিবারের দিকে ফিরে তাকানো নয় অনন্ত হেঁটে চলা অবসন্ন ক্লান্ত জিনিসের মুটে বয়ে এগিয়ে চলা কিংবা কর্মের ফলের বোঝা নিয়ে এগিয়ে যাওয়া। 

সত্যিই তো ট্রেনের এ্যাপার্টমেন্টে কত মিল পরিবারের সাথে। ওখানেও শ্রেণী আছে বসার আলাদা জায়গা আছে সুযোগ সুবিধা আলাদা। পরিবারের ক্ষেত্রেও বিত্ত হিসেবে নজর ঘুরে যায়। শ্রেণী বিভাজন আছে । তবে অমিল কি নেই? পেলাম না খুঁজে। শুধু মিল আর মিল। তবে একটি অমিল আছে ওখানে পারিবারিক প্রধান নেই, কিন্তু পরিবারে আছে । আর তার বড়ো গুন সংসার বা পরিবারের মৈত্রেয়ী বন্ধনে বেঁধে রাখা।ট্রেনের ঘরে বসে পরিবারের কথা ভাবি। পরিবারের মধ্যে এসে ফেলে আসা ওদের আলোচনা করি। স্বল্প হলেও মানুষের ক্ষনিকের  আশ্রয়স্থল ওটিও। নমস্কার।। 

মঙ্গলবার, ১৩ জুলাই, ২০২১

শ্রাবণী সংখ্যা পত্রিকা, 2021, লেখক ও লেখনী,


 

বিষয় : চিত্রলেখা *বর্ষার ডাকে* ©শর্মিষ্ঠা ভট্ট

 বিষয় : চিত্রলেখা

*বর্ষার ডাকে*

©শর্মিষ্ঠা ভট্ট

মন মোর মেঘের সঙ্গী..... কিংবা কোন বলরামের আমি চেলা, স্বপ্ন ঘিরে রাখে মাতাল জুটে..... পাগলা হাওয়ার বাদল দিনে। 


ছবি দেখে এসব মনে আসছিল। এক ভিজে স্যাঁতসেঁতে সবুজের ছায়ায় ধূসর মেঘ। যেন গর্ভবতী ধানের খেতের মতো ঝুঁকে পড়েছে পৃথিবীর বুকে।  এখুনি সে প্রবল বারিধারার স্বর্গীয় আনন্দে ভরিয়ে দেবে মন প্রান। সাথে যদি বলরামের চেলারা থাকে তবে তো আর কথাই নেই। আনন্দ আর প্রকৃতি একেকার হয়ে যাবে। অনেক কষ্টে চড়া পাহাড়ের মাথায় বন্ধুরা অবাক চোখে দেখতে থাকবে চরাচর গ্রাস করতে করতে আসা বৃষ্টির ফোঁটা। সামান্য এই বারিষের ধারা ভাসিয়ে দেবে আর্থিক কৌলিন্য বিভেদ হয়ত কিছু ক্ষন আগেই হয়ে যাওয়া কোন বচসা। কারন তাদের মন এক সুরে বাঁধা। বন্ধুত্বের। তাই নৈসর্গিক পরিবেশে 🌿🍃প্রকৃতির অসাধারণ দান দুহাত ভরে নেবে তারা। সবুজের খেলা দেখবে ওই মাথা ন্যাড়া পাহাড়ে বসে। দূর থেকে মেতে উঠবে গানে গানে। 


এবার চিত্র মাঝে চোখে পড়লো ক্যাপশন। ছবি দেখে লেখায় মন দৌড়ে যায়। আর ক্যাপশন থাকলে থামতে হয়, সামান্য ভাবতে হয়। বিশেষত পরিচিত নাম লেখক ও লেখনী দেখে থেমে গেল স্বপ্নের উড়ান। ঠক করে বাস্তবে মাথা ঠুকলো। কালো মেঘ সরিয়ে দিলে বৃষ্টি হবে কি করে? বৃষ্টি না হলে সবুজ অসম্ভব। কালো মেঘ কি মনের প্রতীকী? তাহলে মেঘ জমল কি করে? অনেক বাষ্প জমে তবে তো মেঘ। ... 

তাহলে ওই মেঘের ঘনঘটায় কোন সবুজ কি জন্ম নেবে স্বাভাবিক উপায়ে? 

"ছুটি নেবার প্রবনতার কালো মেঘ। " ছুটি তো আনন্দের হয় যদি তাতে দুঃখ বা জবরদস্তি না থাকে। ছুটিতে বসেই তো মেঘ দেখতে হয়। সর্বদা ব্যস্ত ও চঞ্চল মন গভীর কথা ভাবতে অক্ষম। সুন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ কিছু করতে যে সময় চাই এটি তো বিজ্ঞান বিষয় দেবার আগে সময় এগিয়ে দেবার সময়  লক্ষ্য করা গেছে। উৎকৃষ্ট কিছু শিল্পের জন্য যথাযথ সময় প্রয়োজন তা বিষয় দাতা জানেন। তবে কেন এই ক্যাপশনের গোলক ধাঁধা! 


চিত্র এক অর্থে ও ক্যাপশন অন্য দিশায় নিয়ে গেছে মনে হল আমার। চিত্রে বন্ধুরা বসে আছে বৃষ্টির আশায়, সবুজকে আরও সবুজ দেখার আশায়। আর ক্যাপশন মেঘকে অস্বীকার করতে চায় নতুন সবুজের আশায়, পুরাতন সবুজের কথা হয়ত মনে না রেখেই। 🙏

#নাম- 'প্রকৃতির চিত্রপট।' ✍ - মৃদুল কুমার দাস।

শুভ চিত্র আলোচনা-বাসর।
   # বিষয় - *চিত্রালোচনা।*
  # নাম- *প্রকৃতির চিত্রপট।*  ✍ - মৃদুল কুমার দাস।

    আকাশ গাঙে আকাশ সুন্দর। স্থলভূমি সুন্দর সমুদ্রের কল্লোলে। সুন্দরের সুন্দর, অসুন্দরের সুন্দর জাগতিক আপেক্ষিকতা তার  ক্ষণে ক্ষণে রূপান্তর নানা। রূপ থেকে রূপে ধায় সেই তো দেখার আনন্দ। রূপের বদল না এলে দেখাটা যে মনের ক্ষুধা-তৃষ্ণার অফুরন্ত বেগ,আবেগের অনন্তের সুধা সেই তো।
  বিরল রূপ ক্ষণিকের আগমণ। প্রাকৃতিক লীলার দানের কাছে মানুষ ঋণী - প্রাকৃতিক লীলার ক্ষণে ক্ষণে বদলের কাছে। যখন প্রকৃতির সেই রূপ ব্যক্তি হয়ে ও সমষ্টি হয়ে রূপের ঋণী হই তখন ভিন্ন ভিন্ন গুরুত্ব। 
  চিত্রে আকাশ গাঙের বিরল রূপ সৃষ্টির জন্য মেঘের কাছে সমবেত মানুষের প্রত্যক্ষের কাছে  দৃশ্যের অতুলনীয়তা ধরা দিয়েছে। আর সেই চিত্ররূপ সময়ের পাতায় মুদ্রিত হয়ে গেল। সময়ের মুহূর্ত সময়ের পাতায়  পেল চিরন্তনের সামগ্রী হয়ে। ছবি পেল এক গতিশীল রূপ। আকাশ আলোর সাহায্য নিয়ে মেঘের কালোরূপের সঙ্গে যেন অপরূপ ছবি এঁকেছে। এই ছবির স্রষ্টা প্রকৃতি। মানুষ তার সাক্ষী। মানুষে ঘণ ছায়া,মেঘে আলো কালের খেলা সমষ্টি আবহে এর তলাতল বিচার করতে ভাব পাগলপ্রায়।
          কালো সরালে এমন বিরল দৃশ্য পাওয়া যাবে না। কালো সরিয়ে সবুজ আনলে রূপ বদলে যাবে। সবুজের রূপ সবুজের জন্য,কালোর রূপ কালোতেই। কালোর জন্য জগত আলোময়।
       কালো সরানোর কথা কথাটি প্রকৃতি থেকে ঘুরিয়ে জীবনের দিকে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হচ্ছে। প্রকৃতির এমন বিরল রূপে যে মানুষ ঋণী,তার জীবনের কালোর সঙ্গে এর কোনোও সম্পর্ক নেই। সমবেত মানুষের আনন্দ উপভোগকে জীবনের কালোর সঙ্গে তুলনা করে এমন ভাবা,ভাবের ক্ষুদ্রতা,সাংসারিক মোহজনিত দুঃখকে এর মধ্যে চাপিয়ে মনকে বিষাদ করা সে মনের ক্ষুদ্রতা ছাড়া কিছুই নয়। প্রসঙ্গত বলাই যায় বঙ্কিমচন্দ্রের *কপালকুন্ডলা* উপন্যাসের  নব কুমার বৃদ্ধকে সমুদ্রের দিকচক্রবালে অপূর্ব সৌন্দর্য যখন দেখতে বলছে বৃদ্ধকে তখন বৃদ্ধ গ্রামের বিশ পঁচিশ বিঘা জমির ধান লুঠ হওয়ার আতঙ্কে চিন্তাগ্রস্থ। অপরূপ সৌন্দর্য বৃদ্ধের কাছে বৃথা।
   ঠিক আছে ১৯৯৫ এর সূর্যগ্রহণের জন্য চারদিক যে অন্ধকার ঘণিয়ে এসেছিল,সেই অন্ধকারকে জীবনের অন্ধকার ঘোঁচানোর কথার সঙ্গে তুলনা কেউ ভুলেও ভাবে না। অকাল অন্ধকার,পাখি বাসায় ফিরছে,ঝিঁ ঝিঁ ডাকছে,জোনাকি পাখা মেলছে...ইত্যাদি। এই অন্ধকার কি জীবনের অন্ধকার ঘোচানোর কথা আসবে! 
    
 এমন কথা সাংসারিক বুদ্ধির কথা। এই সৌন্দর্যের মধ্যে জীবনের কালোরূপের তুলনা করে জীবনের কালো সরানোর কথা বলা হচ্ছে। যে মানুষটা বলছে তার ভাবনার বুদ্ধিগত স্তরে মোহবুদ্ধিই প্রকট হওয়াকে চিহ্নিত করে। 
  চিত্রকে নির্মোহ দৃষ্টিতে ছুঁতে চাইলে এর ভেতরের কথা এক। আর মোহাবিষ্ট হয়ে বিশ্লেষণ করলে অন্যরকম। ছবিটির গুরুত্ব ব্যক্তির কাছে কেমনভাবে হবে তা আপেক্ষিক। বিশ্লেষণের ভঙ্গীতে ব্যক্তিক ও নৈর্ব্যক্তিক  গুরুত্ব ভিন্ন ভিন্ন। 
                 ধন্যবাদ।
               *******
# কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।

সোমবার, ১২ জুলাই, ২০২১

ভুল-ঠিক(সুদেষ্ণা দত্ত)

 



ভুল—ঠিক

 কলমে-- সুদেষ্ণা দত্ত 

তারিখ--১২/০৭/২০২১  

         সফিকুল দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র।তবে কাঠের ব্যবসায়ী বাবা আলম বাবু ছেলেকে যথেষ্ট অনুশাসনে রাখেন।এখনও তার হাতের মুঠোয় মুঠোফোন অধরাই।সরকারী ঘোষণা অনুযায়ী পড়াশোনার সুবিধার্থে তার একটি ট্যাব পাওয়ার কথা।মনে মনে খুব উত্তেজিত সফিকুল।বিকেলে গোয়াল পাড়ার মাঠে ফুটবল খেলতে গেলে অনেক বন্ধুই তাদের মুঠোয় ধরা স্বপ্নকে দেখায়।সফিকুল একটু মন মরা হয়,তার একাউন্টে এখনও ট্যাবের মূল্য পৌঁছায়নি।মনে মনে নামের আদ্যক্ষরকে দোষারোপ করে সান্ত্বনা পায়।কিন্তু দিন চলে গেলেও তার একাউন্ট নম্বরে টাকা ঢোকে না।শেষে স্কুলে গিয়ে জানতে পারে ভুলবশত টাকা অন্য একাউন্টে ঢুকে গিয়েছে।সফিকুলের মাথায় হাত!শেষে স্কুল-ব্যাঙ্ক ছোটাছুটি করে জানা যায় যে উজ্জ্বল ধারা নামে এক ব্যক্তির একাউন্টে টাকাগুলি ঘাপটি মেরে বসে আছে।কিন্তু তাঁর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের নম্বর না থাকায় ঠিকানা জোগাড় করে বাবা—ছেলে গিয়ে পৌঁছায় নির্দিষ্ট স্থানে।             

        ঠিকানায় গিয়ে দেখে সুন্দর সাজানো একটি রথ।আর তাকে ঘিরে কিছু অভাবী শিশুর মুখ আনন্দে ঝলমল করছে।পাশে প্যান্ডেল বেঁধে কয়েকটা বাচ্চা খুব তৃপ্তি করে লুচি,পায়েস খাচ্ছে।বাড়ীটির জরাজীর্ণ দশা।বাড়ীর কর্তাকে ডাকতে দু’পক্ষই অবাক হয়।আরে এই উজ্জ্বল কাকু তো বাবার কাঠ চেরাইয়ের কারখানায় কাজ করে।উজ্জ্বল এমন পুণ্য দিনে তার সহৃদয় মালিককে বাড়ীতে দেখে ভীষণ আপ্লুত হয় আর জানায় হঠাৎ ব্যাঙ্ক একাউন্টে দশ হাজার টাকা ঢোকায় বাড়ীর ও পাড়ার বাচ্চাদের দীর্ঘদিনের আশা মেটানোর চেষ্টা।আলম বাবুর দাবি আর কথা হয়ে বেরোতে চায় না।যথাযোগ্য অতিথেয়তা গ্রহণ করে,প্রত্যেক বছর তাঁর কারখানার কাঠ থেকেই বিনামূল্যে রথ তৈরীর প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাড়ী মুখো হলে জয় জগন্নাথ ধ্বনিতে সকলে মুখরিত হয়।       

      আর আলম বাবু সঙ্কোচ নিয়ে ছেলের মুখের দিকে তাকান।একটা আলো ঝলমলে মুখ বলে ওঠে,এটাই আল্লার ইচ্ছে ছিল বল আব্বু।খুশিতে ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরেন গর্বিত বাবা।না অনুশাসনে অমানুষ হয়নি ছেলে।   

©কপিরাইট রিজার্ভড ফর সুদেষ্ণা দত্ত

ছবি সূত্র--সুদেষ্ণা দত্ত(অনুপ্রেরণা গুগুল)

অণুগল্প--রং নাম্বার। শিরোনাম---দুই মা । কলমে-- পারমিতা মন্ডল।

অণুগল্প  ----রং নাম্বার।
শিরোনাম---দুই মা।
কলমে-- পারমিতা মন্ডল।

"হ‍্যালো খোকা শুনতে পাচ্ছিস ? আমি মা বলছি রে ? খুব ব‍্যস্ত আছিস ?" মা অতসীলতা ওদিক থেকে ফোনে ছেলের গলা পেয়ে আত্মহারা। 
     ছেলে অরিত্রর গলা- "না, মা বল । ব‍্যস্ত নেই । কি হয়েছে ?"
 
 - "তুই ভালো আছিস তো বাবা ? কিছু খেয়েছিস ? খালি পেটে থাকিস না কিন্তু । শরীর খারাপ হবে।"

  - "না, না চিন্তা করো না । আমি খেয়ে নিয়েছি। এবার বলো কেন ফোন করেছো ?"

অতসীলতার মনে ও চোখে সন্দেহের ভাব,অরিত্র এতো ভালো করে কথা বলছে ? মনে হয় বৌমা পাশে নেই।অন্য সময় ফোন করলে তো গজগজ করতে থাকে। ধরা ধরা গলায় বলেন- "না, বলছি বাবা, তুই তো গত দুমাস ধরে টাকা পাঠাসনি । এমাসের ও পনেরো তারিখ হয়ে গেল । আমার কাছে চাল কেনার আর টাকা নেই। সামনের দোকান থেকে ধার করে এক কেজি চাল এনেছিলাম। তাও শেষ।  এবার আমাকে না খেয়ে থাকতে হবে। তাই ফোন করলাম। তুই রেগে যাস না যেন । জানি তোর অনেক খরচ ।ছেলে-মেয়ের পড়াশোনা , সংসার খরচ।  আবার একটা কুকুর ও আছে। ওর পিছনেও অনেক টাকা লাগে। তুই এই মাসে কয়টা টাকা দে । সামনের মাসে আমি কিছু একটা কাজের চেষ্টা ঠিক করে নেবো।"
 ওপাস থেকে অরিত্র বিস্ময়ের সঙ্গে বলে -- "সেকি মা ? তুমি কাজ করবে কেন আমি থাকতে ? আসলে তোমার একাউন্ট নাম্বারটা হারিয়ে ফেলেছি। ফোনে ছিল তো ডিলিট হয়ে গেছে । তুমি আর একবার পাঠাও তো নাম্বারটা।"
   অতসীলতাদেবীর এবার আরো অবাক হয়ে ভাবতে সময় নেন,সেকি! অরিত্র রাগ না করে টাকা পাঠাবে বলছে। এতো ভালো করে কথা বলছে! কি হলো ছেলেটার! অরিত্র মাকে একটু চুপ করে আছে দেখে ভাবে ও বলে -"কি হলো মা?"
 মা বলেন-"তোর গলাটা এমন লাগছে কেন খোকা? ঠান্ডা লাগিয়েছিস ?শরীর খারাপ নাকি ?" অরিত্র তেমন কিছু নয় বলে আশ্বাস দিয়ে বলে - "হ‍্যাঁ, ঐ একটু ঠান্ডা লেগেছে। ঠিক হয়ে যাবে। তুমি চিন্তা করো না।"
 অতসীলতা দেবী স্নেহের  সুরে বলতে থাকেন- "শোন বাবা,এর মধ্যে আর এক বিপদ হয়েছে। হাতের থেকে চশমাটা পড়ে গিয়ে ভেঙে গেল। এখন তো ভালো দেখতে পারছি না। তোকে তো ফোনটাও করতে পারছিলাম না। নাম্বার খুঁজে পেতে অসুবিধা হচ্ছিল।
না,না - তোকে টাকা দিতে হবে না চশমার জন্য । তুই যা দিস ওখান থেকে জমিয়ে দু'তিন মাস পরে আমি ঠিক বানিয়ে নেবো । আর পুতুল বানিয়ে তো কিছু টাকা পাবো। যদিও এখন লকডাউনে কাজ বন্ধ আছে। পরে দেবে বলেছে।"

অরিত্র অতসীদেবীর একমাত্র সন্তান। কলকাতায় থাকে । অনেক উঁচু পোস্টে চাকরি করে । মাকে মাসে মাসে টাকা দেয়। যদিও তাতে বৌমার খুব আপত্তি। দু'মাস হলো সেই টাকাও বন্ধ। তাই বাধ্য হয়ে ফোন করে অরিত্রকে। কিন্তু অরিত্র তো ফোন করলে বিরক্ত হয়। আজ তো বেশ ভালোই কথা বলছে। মনে মনে খুব খুশি হন অতসীদেবী। ছেলে অরিত্রর ওধার থেকে উত্তর আসে-  "মা তোমার একাউন্ট নাম্বারটা পাঠাও। আমি টাকা পাঠাচ্ছি। আর ব‍্যাংকের পুরো ঠিকানাটা দিও।"

আজ দুদিন হলো অরিত্র টাকা পাঠিয়েছে। অনেক টাকা । এতো টাকা তো লাগে না । কেন এতো দিলো ? ওদের অসুবিধা হবে তো ? আমার আর কতটুকু প্রয়োজন ? তাই নিয়ে ভাবনার কাহনে অস্থির। আবার ভগবানের দিকে হাত তুলে অফুরন্ত বিশ্বাসে অতসীলতা দেবীর গাল বেয়ে অশ্রু বাগ মানছে না। 
 সেদিন অরিত্র মায়ের ফোন ছেড়ে খুব কেঁদেছিল। হারিয়ে মায়ের গলা এতো হুবহু হয় কি করে। সেই কন্ঠ! তার মায়ের নামও তো অতসীলতা। সেই আদর! সেই মায়ের গলা! তার ভেতরের দলাপাকানো শুকনো কান্নায় এলো আবার জোয়ার! কারণ সেদিনও মায়ের মায়ের মৃত্যু দিন। ফোনটা ছেড়ে দিয়ে চুপ করে বসে থাকে অরিত্র রায়। এখন একটি রেস্টুরেন্টের মালিক সে । একদিন অনেক কষ্ট করেছে। মায়ের সামন‍্য জমানো টাকা দিয়ে শুরু করেছিল এই রেস্টুরেন্ট। আজ অনেক টাকার মালিক সে । সেই মা আজ আমার কাছে আজ আপনার হয়ে এলো।  আজ যেন সে তার মায়ের গলা শুনতে পেলো। একটু হলেও মাকে সেবা করার সুযোগ পেলো। ভাগ্যিস ওটা রং নাম্বার ছিল।
               ******

All rights are reserved by paramita.

#শিরোনাম_ভুল #কলমে_অনিশা



#বিষয়_রং নম্বর

#শিরোনাম_ভুল

#কলমে_অনিশা


অন্বেষা জীবনে প্রথমবার বাঁধন ছেঁড়া মুক্ত জীবনের স্বাদ পেল।  ওরা চার বন্ধু ক্লাশ অফ করে কলেজের সামনেই স্বাতীদের কোয়ার্টারে গেল। কয়েক মাস আগে ও এই রকম ক্লাশ অফ করার কথা ভাবতেও পারতো না। ওর মা-বাবা বাড়িতে ছিলেন না। স্বাতীর বাবা টেলিফোন অফিসে চাকরি করেন। তাই ওদের টেলিফোন বিল অফিস থেকেই দিয়ে দেয়। তখন টেলিফোন বুথে একটা ফোন করতে তিনটাকা করে নিত। তাই ইচ্ছে করলেই ফোন করে এত গল্প করা যেত না। তাই ওরা আজ স্বাতীর বাড়িতে বসে আড্ডা দেবে আর যার যত ফোন করার আছে করে নেবে। 

 আড্ডা, ফোন করা সব হয়ে গেছে। কিন্তু কলেজ শেষ হওয়ার টাইম এখনো হয় নি। এত তাড়াতাড়ি তো বাড়ি ফেরা যাবে না। এবার কি করা যায়? অন্বেষাতো ওর বয়ফ্রন্ডকে ফোন করলো না।  শুরু হলো অন্বেষার ওপর ঝামেলা। ও যতই বোঝাতে চেষ্টা করে ওর কোন বয়ফ্রেন্ড নেই, বন্ধুরা ততই ওকে চেপে ধরে। শেষে জোর করে ওর মানিব্যাগ থেকে ছোট্ট টেলিফোন ডিরেক্টরি বের করে ওরা। এমার্জেন্সির জন্য ফোন নম্বর লেখা সবার ব্যাগে রাখা থাকতো। ওরা সেখানে খুঁজতে খুঁজতে সুমন বলে কারুর নাম পায়। "এই, সুমন কে রে?", বন্ধুরা জিজ্ঞেস করে। অন্বেষা হঠাৎ লজ্জা পায়। বলে ওঠে, "এই, না না প্লিজ্, ওকে করিস না ফোন।" বন্ধুরা আরো মজা পেয়ে যায়, "কি হলো? তুই লজ্জা কেন পাচ্ছিস?" ফিজিক্সের স্যারের মাসতুতো ভাই সুমন ওদের সঙ্গে বসে টিউশন নিত। সুমনের চোখের সমস্যা আছে। কথা বলতে গেলে দুটো চোখ দুদিকে চলে যায়। যাকে বলে ট্যারা। তাই নিয়ে ওর মনের দুঃখ অন্বেষাকে বেশ নাড়া দিত।  অন্বেষা অনেক কষ্টে লুকিয়ে স্যারের টেলিফোন ডিরেক্টরি থেকে ওর ফোন নম্বরটা নিয়েছিল। যদিও নিয়ে কি করবে তখনো কিছু ভাবতে পারেনি।  

বন্ধুরা জোর করে ফোনে ডায়াল করে অন্বেষার হাতে ফোনটা ধরিয়ে দিল। ওদিক থেকে সুমনের গলার আওয়াজ পেলেও অন্বেষা লজ্জায় লাল হয়ে কিছুই বলতে পারল না। ফোন কেটে গেল। বন্ধুদের উৎসাহের অভাব নেই। ওরা আবার ফোন করল। বলল, "আমার বন্ধু লজ্জায় তোমার সঙ্গে কথা বলতে পারছে না। তুমি কাল নাগেরবাজার অটো স্টান্ডের সামনে ঠিক চারটের সময় দাঁড়িয়ে থেকো। ও আসবে আর তুমি ওকে চেনো।" কেমন বোকা হয়ে যাবে পরের দিন এইসব নিয়ে খুব হাসাহাসি করল ওরা। তারপর যে যার বাড়ি চলে গেল।

পরের দিন অন্বেষার মনটা খুব অস্থির হয়ে উঠল। অনেক বার ভাবল, "যাই, সুমনকে গিয়ে বন্ধুদের ব্যাপারে সব সত্যি কথা বলে দিই।" আবার ভাবল, "থাক, কি মনে করবে আবার। যদি ভাবে আমিই ইচ্ছে করে বন্ধুদের দিয়ে এসব করিয়েছি। আর যদি সে আমায় অপছন্দ করে!" অনেক মানসিক অস্থিরতা ও অশান্তির  পর সে ঠিক করলো যাবে না। সুমন দাঁড়িয়ে থেকে থেকে ফিরে যাবে আর ভাববে কোনো রং নাম্বার থেকে ফোন এসেছে।


পরের শনিবার ক্লাশে গিয়ে একবার ও সুমনের দিকে তাকাতে পারেনি সে। ছুটি হয়ে গেলে সবাই বেরিয়ে যাওয়ার পর ধীরে ধীরে সে বেরিয়ে এলো। কিছুতেই সুমনের মুখোমুখি যাতে না হতে হয়। কিন্তু বাড়ি থেকে বেরোতেই চমকে গেল। সামনেই সুমন দাঁড়িয়ে। বলল, "ফোন করেছিলে?" অন্বেষা নিজেকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য যা ভাবছিল তাই বলে ফেলল। বোকার মতো বললো, "আমি না তো! ওটা তো রং নম্বর।" বলেই বুঝতে পারলো ধরা পড়ে গেছে। মলিন হেসে সুমন বললো, "তুমি আমার ফোন নম্বর নিচ্ছিলে আমি দেখেছি।  তোমার ফোনের আশাতেই ছিলাম। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলাম অটোস্ট্যান্ডে। জানি আমি দেখতে খারাপ। তাই বলে আমার সঙ্গে এতটা মজা না করলেও পারতে।" কথা শেষ করে সাইকেল নিয়ে ঝড়ের মতো চলে গেল। অন্বেষা কথা বলার অবকাশটুকু ও পেল না। আর কখনো সুমনের সঙ্গে অন্বেষা কথা বলার সুযোগ ও পায়নি কারণ সুমন আর পড়তে আসে নি।


কপিরাইট রিজার্ভ ফর @অনিশা কুমার


রথ কলমেঃ নন্দিনী তিথি

 


ওদের বিয়ের বয়স সাত বছর। প্রতিবছরই ওরা রথের দঁড়ি টেনে  পুরো শহর ঘুরে। শুধু গতবছর মিনাক্ষী প্রেগন্যান্ট থাকার কারণে  রথে যাওয়া বাতিল করেছিল। মুখটা মলিন দেখে বিহিত বলেছিল সামনের বছর আবার একসাথে দু'জনে রথের দঁড়ি টানবো। বছর এলো, মানুষের মধ্যে আস্তে আস্তে দূরত্ব বাড়লো। আতঙ্কপূর্ণ দিনগুলো গুনতে গুনতে রথের দিন হাজির।

কিন্তু, মানুষের অবস্থা ভয়ঙ্কর পর্যায়ে যেতে দেখে আজ চলছে সারাদেশ জুড়ে শাটডাউন!

Copyright © All Rights Reserved Nandini Tithi.





রবিবার, ১১ জুলাই, ২০২১

কালো রং (কলমে পিয়ালী চক্রবর্তী)

 


কালো রং

#কলমে_পিয়ালী_চক্রবর্তী

তারিখ : ১২/০৭/২০২১


হ্যালো সুইটহার্ট, কখন থেকে তোমার জন্য ওয়েট করছি! ওদিক থেকে ফোনটা ধরতেই আদুরে গলায় বলে উঠলো বর্ণা ।


ছেলেটি অর্থাৎ, রিয়াধের সাথে মাসখানেক হল বর্ণার পরিচয় হয়েছে রং নম্বরের হাত ধরে । সেদিন বর্ণার মোবাইলে রং নম্বর থেকে একটা ফোন আসে । সেই প্রথম পরিচয় ওদের দুজনের । সেই পরিচয় বন্ধুত্ব ও প্রেমে পর্যবসিত হতে বেশী সময় লাগেনি । রিয়াধকে কোনোদিন সামনাসামনি দেখেনি বর্ণা । ফোনে, চ্যাটে, ভিডিওকলে ওরা এসেছে একে অপরের কাছে । কাছে বলতে ঠিক যতটা কাছে আসা যেতে পারে ততটাই কাছে । বর্ণা ভিডিও কলে নিজেকে উজাড় করে দিয়েছে রিয়াধের কামাতুর দৃষ্টির সামনে । 


আজ সকাল থেকে রিয়াধ একবারও ফোন করেনি । বর্ণা তাই ফোন করেছে নিজেই । বর্ণার আদুরে ডাকের প্রত্যুত্তরে ওদিক থেকে এলো একাধিক জনের অট্টহাসির গলা । রিয়াধ নয়, অন্য একজন ফোন ধরে বললো, "মোবাইলে একটা লিঙ্ক পাঠিয়েছি, খুলে দেখো মামনি ।"


লিঙ্কটা খুলে বর্ণার মাথায় যেন বাজ পড়লো, সারা পৃথিবীটা দুলে উঠলো ওর সামনে । ও ভিডিও কলে রিয়াধের কাছে যেমনভাবে নিজেকে সমর্পণ করেছিল, তার স্ক্রিন রেকর্ডিং রয়েছে এতে । কিছুক্ষণের মধ্যেই সেন্ডার সেই ভিডিও ডিলিট করে দিলো । তারপর আবার কল এলো বর্ণার কাছে । কাঁপা কাঁপা গলায় ফোনটা ধরলো বর্ণা, "হ্যালো!"


ওদিক থেকে : আজ রাতে আমাদেরকে সব দেখাতে হবে মামনি । নাহলে এই ভিডিও পর্ণ সাইটে আপলোড করে দেবো । পুলিশের কাছে যাবার চেষ্টা করে লাভ নেই । এই ভিডিওর কপি যে কোথায় কোথায় আছে ভাবতেও পারবেনা মামনি ।

বলেই ফোনটা কেটে গেল । 


অকুল পাথারে বর্ণা । রং নম্বরের রং যে এভাবে ওর জীবনে কালো রং লেপে দিয়ে যাবে তা ও ভাবতেও পারেনি । নিজেকে একটা অপরিচিত ছেলের কাছে মেলে ধরার আগে এই সামান্য চিন্তাটা ওর মাথায় আসেনি যে, হোয়াট উইল বি দ্য কনসিকোয়েন্স ফর হার অ্যাক্সন !

Copyright © All Rights Reserved to Piyali Chakravorty

রং নম্বর (কলমে মেঘকন্যা চ্যাটার্জী)

 রং নাম্বার

কলমে : মেঘকন্যা চ্যাটার্জী


"হেই বেবি ,আমি তোমার অর্ঘ্য,জাস্ট এয়ারপোর্ট থেকে বেরিয়েই তোমাকে কল করছি,আজ পুরো ৩ বছর পর আমাদের দেখা হবে,রেডি থেকো হানি,আজ সারাটা দিন আমরা বাইরে স্পেন্ড করবো"---কথা বলার ধরণ আর কথা গুলো শুনে হৃদয় দুলে উঠলো সৌরসেনির।

একটু ধাতস্থ হয়ে,কোনরকমে,"রং নাম্বার" বলে ফোন কেটে দিলো সে।


পাশে শুয়ে থাকা বছর আড়াইএর শুভকে বুকে জড়িয়ে,দেওয়ালে টাঙানো অর্ঘ্যের ছবির টাটকা  রজনীগন্ধার মালার দিকে চেয়ে হারিয়ে গেলো সে,ফিরে গেল পুরোনো সোনালী দিনগুলোয়,কান্না হয়ে ঝরে পড়লো ,বুকে চেপে রাখা কষ্ট-দুঃখ।

এরকমই একটা রং নাম্বার ,তার জীবনের সবচেয়ে বড় সুখ হিসাবে অর্ঘ্য বসু অর্থাৎ তার স্বামীকে  নিয়ে এসেছিলো তার জীবনে।তিনবছর আগে,এই দিনেই,সে যখন পাঁচমাসের প্রেগন্যান্ট, তখনই এক জরুরি কাজে অর্ঘ্য আর ওর অফিস টিমের ইংল্যান্ড যাওয়ার প্লেনটা ক্র্যাশ করতেই,ওর জীবনের সব আলো একসাথে নিভে যায়।


শুধু ,নতুন প্রাণের অস্তিত্বের কথা ভেবে আত্মহত্যাটা করতে পারেনি সেদিন।

এসব কথা ভাবতে ভাবতেই ,ট্রু কলার ইনস্টল করা মোবাইলের স্ক্রিন জুড়ে আবার,নাম ভেসে উঠলো অর্ঘ্য বসু কলিং....

©Copyright protected for Meghkonya Chatterjee


আধ্যাত্মিক আলোচনা # শর্মিষ্ঠা ভট্ট

 

রবিবাসরীয় আধ্যাত্মিক আলোচনা-বাসরে আজকের  বিষয়   *আত্মার মুক্তির জন্য পারলৌকিক ক্রিয়া জাতি ভেদে ভিন্ন ভিন্ন হয় কেন?*


এটি অতি সাধারণ সমাধান। জাতিভেদের ফলে পূজা আচার বিচার জন্ম থেকে মৃত্যু সব ভিন্ন হয়, তাহলে পারলৌকিক ক্রিয়া এক সামাজিক লোকাচার অবশ্যই পৃথক হবে। অবশ্যই কেবল ধর্ম ভেদে নয়, জাতি ভেদেও ভিন্ন হয়, প্রাদেশিক বিভিন্নতায় ভিন্ন হয়। বিষয়টি বিস্তৃত বিচার করা যাক।

ধর্ম ভেদকে যদি এখানে জাতিভেদ ধরা হয় তবে সে  হিসেবে এই পারলৌকিক কাজের সামাজিক প্রথাটি অন্য রকম একটি মাত্রা আনে ভিন্নতায়। যেমন মুসলিমদের মৃতদেহ  দাফনের পদ্ধতি বিশদভাবে ইসলামী শরিয়তে নির্দেশিত আছে। মরদেহকে যথাযথ নিয়মে গোসল দেয়ার পর কাফন পরানো হয়। তারপর তা কবরে নিয়ে যাওয়া হয়। ২-৩ জন ব্যক্তি কবরে নেমে লাশ গ্রহণ করে এবং মাটিতে শুইয়ে দেয়। কবরে লাশ নামানোর সময় বলতে হয়: "বিসমিল্লাহি ওয়ালা মিল্লাতি রাসূলিল্লাহ"।বাংলাদেশে লাশের মাথা উত্তরে এবং পা দক্ষিণে রেখে লাশ মাটিতে শোয়ানো হয়। মরহুমের মুখমণ্ডল পশ্চিমমুখী ক'রে দেয়া হয়, চোখ খোলা থাকলে তা চেপে বন্ধ করে দেয়া হয়। কাফনের কাপড় আটকে রাখার জন্য মাথার কাছে, পায়ের কাছে এবং পেট বরাবার লাগানো ফিতায় দেয়া গেরোসমূহ খুলে দেয়া হয়। এরপর আড়াআড়ি ভাবে বাঁশের টুকরা দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়। তার ওপর বাশেঁর চাটাই বিছিয়ে লাশের গায়ে মাটি পড়ার সুযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়। এর পর ধীরে ধীরে মাটি দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়।সিন্ধুকী কবর" এবং "বগ্‌লী কবর"। মধ্যপ্রাচ্যের শক্ত মাটিতে বগ্‌লী কবর খোদাই করা হয়। আবার বাংলাদেশের মাটি নরম বিধায় সাধারণত সিন্ধুকী কবর করা হয়।
অন্যদিকে খ্রীস্টানদের কবর দানের পদ্ধতি মৃতদেহ পূর্ব পশ্চিম শোয়ানো হয়। এবং কফিনেই মাটি দেওয়া হয়। ইহুদিদের মৃতদেহ ও পারলৌকিক কিন্তু আলাদা। মিশরের পিরামিড ও ধনসম্পদ দানের পদ্ধতিতে মনে করা হত পরকালে যাত্রায় এসব তাদের প্রয়োজন হবে। হরপ্পা সভ্যতায় অনেক মৃতদেহ বসিয়ে রাখাও পাওয়া গেছে। জাপানে এমন এক নিয়ম আছে শোনা যায়। প্রাচীন মিশরের এই দেহকে অমরত্ব দানের প্রচেষ্টা বিশেষ চর্চিত। এবার যদি একটু দেশের ভেতরে ঢুকে এই পারলৌকিক ক্রিয়ার ওপর নজর দেওয়া যায় তবে অবাক হয়ে কেবল বলতে হয়.... বিবিধের মাঝে মিলন মহান । তাই তামিলনাড়ুতে মৃতদেহ যাত্রা কালে হিন্দু সমাজে পটাকা বাজি ইত্যাদি পোড়ানো হয়। এক দেহ ছেড়ে অনেক দেহে প্রবেশ করার এই অশৌচ কয়েকটি দিন বিপুল আড়ম্বরপূর্ণ হয়। বিধবা চিৎকার করে কান্না কোন কোন যায়গায় নিশিদ্ধ। এমন বৈচিত্র্যময় কেবল মাত্র হিন্দু পারলৌকিক কত  রকম পদ্ধতিতে ভরা। ব্রাম্মনদের যেখানে এগারো দিনে সব শেষ, অন্য জাতের তাই পনেরো দিনে। এই বিষয়ে বিশদ ব্যাখ্যা এখানে প্রয়োজন তবু সময়াভাবে বলবো পূর্ব ভারতীয় পদ্ধতি আরও অন্যরকম। স্নানের পদ্ধতি এবং দিন গননায় আলাদা রকম নিয়ম। এমনকি ঘাটে ওঠার যে পদ্ধতি বাঙলায় বিশেষ প্রচলিত তা অনেক যায়গায় উহ্য। সময়ের অভাব ও স্থানাভাবে পনেরো দিনের ব্রম্ভচর্যের বিশেষ পরিবর্তন এসেছে। সুতরাং কেবল জাতি বা ধর্মীয় ভাবে ভিন্নতা নয় সময়ের আবেদন মাথায় রেখে হিন্দু পারলৌকিক কাজ একটু একটু করে কায়া বদল করছে। সামাজিক প্রয়োজন মাথায় রেখে যেমন পারলৌকিক ক্রিয়ার প্রতি মানুষের আগ্ৰহ ছিল। কালের হাত ধরে তা যেমন এক রিতি বা ট্র্যাডিশন হয়ে উঠেছে, তেমনি পরিবর্তন হয় পারলৌকিক কর্ম। যেমন পার্সিদের একান্ত নিজস্ব পারলৌকিক নিয়ম পক্ষি দিয়ে শবদেহ ভোজন। কিন্তু ভারতের পলিউশন শকুন জাতীয় পাখির ধংসের কারন হয়ে ওঠায় ওরা কবর কিংবা দাহকে পারলৌকিক কর্মে ইনক্লুড করতে দ্বিধা করেনি। উত্তর প্রদেশে থাকা পার্সি সম্প্রদায় ওদের মৃতদেহ সৎকারের স্থানাভাবে দাহকে নিজস্ব করে নিয়েছে। কবরের আধিক্য বৃদ্ধি এবং বসতির প্রয়োজন হেতু হয়ত কখনও পারলৌকিক ক্রিয়ার এই অংশটির পরিবর্তন আসতে পারে।

পারলৌকিক ক্রিয়া পরিবর্তন জাতের ফারাকে । উচ্চ নীচ, এমনকি সন্ন্যাসীদের মৃতদেহ রাখা ও আচর পালনে বিশেষ পার্থক্য থাকে। বৌদ্ধদের এই বিষয়ে বিশেষ পার্থক্য লক্ষনীয়। তিল দানের পদ্ধতি পূব ও পশ্চিম ভারতের অনেক পার্থক্য আছে। পূব দিকে যেমন যে কোন পোশাকেই মৃতদেহ দর্শন ও পারলৌকিক কাজে অংশ নিতে পারে আত্মীয়। পশ্চিম ও উত্তর ভারতে সাদা পোশাকের চল ইদানীং উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিছুটা হিন্দি ফ্লিমের ছায়া বলা চলে। তাই গতিমান এই সমাজের আবেদন রক্ষায় আচার ব্যবহারের মতো পারলৌকিক কাজ পরিবর্তনশীল। রাজস্থানে রুদালী সর্বজনীন প্রসিদ্ধ। কাঁদা জন্য লোক ভাড়া করে আনা হয়।


       

# নাম- আত্মা ও পারলৌকিকতা। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।

শুভ আধ্যাত্মিক আলোচনা-বাসর। 
  # বিষয় - *আধ্যাত্মিক।*
   # নাম- 
*আত্মা ও পারলৌকিকতা*।
  # মৃদুল কুমার দাস। 

        মানুষের সম্মিলিত পরিচয় মানবসভ্যতা। মানবসভ্যতা ব্রহ্মান্ডেরই অংশ। ব্রহ্মান্ডের নিত্য প্রকাশ মানুষের মধ্য দিয়ে। একক মানবসভ্যতা আবার বহুধাবিভক্ত- জাতিভিত্তিতে ও বর্ণভিত্তিতে। 
    এই মানুষ আসে কোথা থেকে? এর উত্তর বিজ্ঞানের কাছে নেই। বিজ্ঞান শুধু দৃশ্যজগতের জ্ঞান সংগ্রহ করতে পারে। গবেষণা দিয়ে যেখানে অজ্ঞতা সেখানে জ্ঞানের আলো জ্বালতে পারে। মানুষের আগমনের উৎস আবিষ্কার তার কাছে অসাধ্য বা সাধ্যাতীত। শুধু দৃশ্য জগতের জ্ঞান বৃক্ষ সে।
    এবার আসি আধ্যাত্মিকতার কথায়। আধ্যাত্মিক অনুভবের আলোকে এই ধারণা স্পষ্ট রূপ দান করে মোটামুটি একটা পথের সন্ধান দিয়েছে। যথার্থ মীমাংসা দিতে গিয়ে মতান্তর এসেছে। তবে আত্মা সম্পর্কিত ধারণার একটা সর্বসাধারণীকৃত ধারণা আছে। আত্মা অবিনশ্বর। দেহের লয় আছে। আত্মার নেই। আত্মা নতুন প্রাণে আশ্রয় নেয়,ঠিক পোশাক বদলের মতো। 
  শঙ্করাচার্য জ্ঞাণ ও কর্মের শ্রেষ্ঠ কে সেই নিয়ে মীমাংসক মন্ডনমিশ্রকে পক্ষকালীন সময়ে পরাস্ত করতেই,সদ্য ছোড়া শঙ্করাচার্যের কাছে মন্ডন মিশ্রের স্ত্রী উভয়া ভারতীদেবী স্বামীর এই শোচনীয় পরাজয়কে কোনো মতেই মেনে নিতে পারলেন না। শঙ্করাচার্যকে তর্ক যুদ্ধে আহ্বান করলেন। তর্কে অগ্রসর হয়ে শঙ্করাচার্য পড়লেন মহাফাঁপরে। ভারতী দেবীর যৌনজীবন নিয়ে প্রশ্নের পর প্রশ্নের উত্তর শঙ্করাচার্যের জানা নেই। কারণ আট বছরে সমূহ বেদ  ও অল্প বয়সে সন্ন্যাস নিয়ে যৌনজীবন সম্পর্কে তাঁর কিছুই জানার সুযোগ হয়নি। তখন শঙ্করাচার্য পনর দিন সময় চাইলেন। এই পনর দিনের মধ্যে নিজের দেহের আত্মা ছেড়ে এক মৃত রাজার দেহে স্থান নিলেন। আর রাজার তিন রাণীর সঙ্গে যৌনজীবন সম্পর্কে সবদিকের পূর্ণ জ্ঞান লাভ শেষ হতে পনর দিনের মাথায় রাজার আত্মা ছেড়ে আবার নিজের দেহে প্রবেশ করলেন। আর ভারতী দেবীকে অনায়াসে তর্ক যুদ্ধে পরাস্ত করলেন। এই আত্মা কী?
  আত্মার স্বরূপ এক। অদৃশ্য। আঙুল তুলে চিনিয়ে দেওয়া যায় না। তবে দেহ দৃশ্য। দেহের দৃশ্য বলে তার পরিচয়ের নানাসূত্র - নাম, বংশ,বাবা,মা,দেশ,জাতি,সম্প্রদায় আরো কত কি। আত্মার স্বরূপ এক। কিন্তু দেহের গঠন,পরিচয়,দেশ কাল ভেদে মানুষে মানুষে কত পার্থক্য। এই পার্থক্যের হেতু পরিবেশগত। ধরিত্রীর পরিবেশ ধারণ বিভিন্ন- পরিবেশ আপাতপক্ষে তিন ধরণের। যথা- গ্রীষ্মপ্রধান,শীতপ্রধান ও নাতিশীতোষ্ণ। এই পরিবেশের উপর নির্ভর করে জীবনযাপন, আচার অনুষ্ঠান,পোশাক পরিচ্ছদ নানারকম। ভারতবর্ষ তার বাস্তব উদাহরণ। বিবিধের মাঝে মিলনের মহান মন্ত্র ধ্বণিত হয়। 
  খাদ্য বস্ত্র আচার আচরণ  রীতিনীতিই এনেছে সম্প্রদায়ের বিভিন্নতা। আর বর্ণ এসেছে তাপমাত্রার হেরফেরে। 
  এই কথাগুলি মাথায় রেখে মূল আলোচনায় আসি। আত্মা কোথা থেকে আসে। আবার যায় কোথায়? এর উত্তর নেই। তবে আত্মার এই ধরিত্রীর জল আলো বাতাসে পুষ্ট। খাদ্য-বস্ত্র-বাসস্থানে অভ্যস্ত হয়,সাংসারিক মায়ার অধীন হয়। শরীরের ক্ষয়িষ্ণুতা থেকে দেহের মৃত্যু যাকে আয়ুর সমাপন বলি,দেহের মায়া কাটলেও আত্মার মায়া কাটে না। আত্মার মায়া কাটানোর জন্য   
যে কাজ করতে হয় তাকে পারলৌকিক ক্রিয়া বলা হয়। এই পারলৌকিক ক্রিয়া সম্প্রদায় ভেদে ভিন্ন  ভিন্ন  কেন?
   পরিবার,সংসার সম্প্রদায়গত জীবন জীবিকার মধ্য দিয়ে প্রত্যেকে একটি জীবদ্দশা সম্পন্ন করে। মায়া কাটলে দেহ কাঠামোর লয়কে( দাহ,কবর) বলে মৃত্যু। দেহের লয় বা মৃত্যু হলেও আত্মার লয় নেই বলে প্রিয় পরিজনের মধ্যে ঘোরে ফেরে। তার মুক্তির জন্য পরিবার যে অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে,যেমন- মুখে আগুন,মৃতাসুজ পালন(দিন ধরে), হবিষ্যি, শ্রাদ্ধ,নাম কীর্তন, ব্রাহ্মণ ভোজন, গীতা দান এ হিন্দুরীতিতে আত্মার মুক্তির এক পরিক্রমা। তাই পারলৌকিক ক্রিয়া। 
         সাংসারিক জীবনের যা যা চাহিদা ছিল তা আনুষ্ঠানিক পালনের মধ্য দিয়ে আত্মার মুক্তি ঘটানো হয়। আর শেষ পর্ব গয়ায় পিন্ডদান। ইসলাম বা খ্রিষ্টদের এই পারলৌকিক ক্রিয়ার পদ্ধতি আলাদা কারণ প্রাত্যহিক জীবনযাপন   থেকে,আহার, বিহার, খাদ্যাভাস থেকে আচার আচরণ,রীতিনীতি,ধর্মীয় আচরণে আত্মার যে দেহের অভ্যাস ছিল দেহের বিনাশের সাথে সাথে বিধি সম্মত পারলৌকিক ক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। এই সম্প্রদায়গত পরিচয় ও জীবনযাপনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে পারলৌকিক ক্রিয়া যে যার মত করে পালন করে আত্মার মুক্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। গীতা পাঠ, মন্ত্রচ্চারণ,হরিণাম আত্মার মায়ামুক্তির যে অনুষ্ঠান তাই পারলৌকিক অনুষ্ঠান। ইসলামের কাছে সে অনুষ্ঠানের পদ্ধতি আলাদা। খ্রিষ্টানের আলাদা।
                 *******
# কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।

#বিষয়-আধ্যাত্মিক আলোচনা। #অনুগল্প-শেষ ইচ্ছে #কলমে -সোমা দে।

 লরেনকভা ছিলেন একজন খ্রিষ্টান ভদ্রমহিলা।তাঁর জন্মস্থান হলো কলকাতায়। তাঁর পূর্ব পুরুষ দ্বিতীয় বাহাদুর শাহের আমলে ব্যবসার উদ্দেশ্যে কলকাতায় আসেন।তারপর থেকে লিসার পূর্ব পুরুষরা আর নিজের দেশে কোনদিনও ফিরে যাননি। 

সাল তখন উনিশো পঞ্চান্ন।লিসার বয়স তখন আঠারো। উচ্চশিক্ষার জন্য লিসা কলকাতায় সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে ভর্তি হলেন। সেখানেই তাঁর সঙ্গে আলাপ হলো প্রফেসর লালবিহারী দাসের । তিনি ছিলেন একজন মস্ত বড় সমাজসেবী।লিসার উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার পর লালবিহারী বাবু লিসাকেও তাঁর হাতে গড়া একটি অনাথ আশ্রমের শিক্ষিকা হিসেবে যুক্ত করালেন। লিসা বেশ ভালোই ছিলেন সেই সকল অনাথ ছেলে মেয়েদের নিয়ে। 

পরবর্তী কালে লিসার এইকাজে যুক্ত হওয়ার জন্য পরিবারে অশান্তি লেগেই থাকতো কিন্তু লিসা এই পেশাটাকে প্রচন্ড  ভালবেসেছিলেন ।তিনি সেই অনাথ ছেলে মেয়েদের জন্য কোন পারিবারিক বন্ধনেও আবদ্ধ হননি। সেই অনাথ ছেলে মেয়েদের কাছে লিসা ছিল মায়ের মতন। 

পরবর্তী কালে লালবিহারীবাবু লিসাকে সেই অনাথ আশ্রমের দায়িত্ব দিয়েছিলেন এবং  লিসা সারাজীবন সেই সকল অনাথ ছেলেমেয়েদের নিয়েই ছিলেন। 

লিসা জাতপাতে বিশ্বাস করতেননা। তিনি সর্বদাই সকলকে বলতেন যে,  ঈশ্বর এক। আমরা মানুষরাই ঈশ্বরকে ভাগ করে দিয়েছি। আর তখন থেকেই নানা ধর্মের উৎপত্তি।তিনি অনাথ আশ্রমের ছেলেমেয়েদের বলতেন জাতপাত না দেখে মনুষ্য সেবা করাই হলো ঈশ্বরের সেবা করা।এতেই আত্মার শুদ্ধি। তিনি মারা যাবার পর তাঁর ইচ্ছাতেই হিন্দু রীতিতে পারলৌকিক ক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। কারণ? খ্রিষ্টান হলেও তার পুরো জীবনটাই যে কেটেছিল কলকাতায়। সে যে সবসময় নিজেকে এখানকার বাসিন্দাই ভাবতেন। 

কপিরাইট রিজার্ভ ফর সোমা দে।

শনিবার, ১০ জুলাই, ২০২১

আলোচনা # সুদ্যম্বু # লেখায় : শর্মিষ্ঠা ভট্ট

 আজকের শব্দটি এত সুন্দর..... ভেসে যেতে ইচ্ছা করে সুদূর অতীতের পথে। চলেছে আমি সাথে তোমরা, আমার মৈত্রেয়ী গার্গীর দল। ধীমায়ী সূর্যতপা গঙ্গা তখন নব যৌবনা তন্নি । এখনের মতো স্থাপত্য আর নাগরিক যন্ত্রনায় হারাননি তিনি। স্ফটিকের মতো তার রূপ। পবিত্র সুস্বাদু পর্যাপ্ত আলোক প্রাপ্ত তিনি। আমাদের প্রানদাত্রী গঙ্গা। মানবকল্যাণমুখী জলধি বরুণ চঞ্চলা, অম্বু উপাধিধারী কল কল্লোলিনী। ভেসে চলেছেন আপন মনে। তার পাশ বেয়ে ঘটছে মহাভারত কথা। জম্বুদ্বীপের ইতিহাস বদলে যাচ্ছে। কাব্য সাহিত্যে সৌন্দর্য, ইতিহাসে সেই সুদ্যম্বু ধ্বংসিনী। কালচক্রে ঘটে যাওয়া ঘটনা চলমান চিত্রপটে  দেখে দেখে এগিয়ে চলেছি। পবিত্র তুমি গঙ্গা। 


জর্ডান নদীর তীরে অবস্থিত সভ্যতার বিকাশ। পবিত্র সে নদী। খ্রীস্ট নবী মুসার সমাধি এর কোলে। জর্ডান, আমরা দাঁড়িয়ে আছি তোমার পাশে। সুদ্যম্বু তুমি ও কি গঙ্গার মতো? আরবিতে তুমি শরীয়ত নদী। গলীলসাগর থেকে মৃত সাগরের দিকে কত কত কাল ধরে ছুটে চলেছো। শিশুদের তোমার জলে ধুয়ে তবেই অপসুদীক্ষা দেয় খ্রীষ্ট ধর্মে। তুমিও তো সুদ্যম্বু। উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা। ইসরাইল রীরা তোমায় পার করেই প্রতিজ্ঞাত দেশে প্রবেশ করেছিল। এই নদীর তীরে নসরতীর যীশু কে বাপ্তিস্ম করা হয়েছিল। দীর্ঘ ইতিহাস, মানুষের প্রয়োজনে পবিত্রতা র তকমা পরেছো। পরিবর্তন এসে বারে বারে তোমাদের মানুষের সামাজে তোমাদের অস্তিত্বের আবেদন ঘেঁটে গেছে। অধিকার প্রয়োজনের লড়াইয়ে অপবিত্র ও স্রোত হীন হয়েও বজায় রেখেছো একটিই উপাধি *সুদ্যম্বু*.... ©কপিরাইট সর্তকত শর্মিষ্ঠা ভট্ট।।। 🙏ধন্যবাদ

#কবিতা: সুদেষ্ণা লেখনি কেন?শর্মিষ্ঠা ভট্ট*

 *সুদেষ্ণা লেখনি কেন?* 



সুদেষ্ণা লেখনি কেন? 

কোন সে ধানসিঁড়ি নদী তীরে গেছো কি বেড়াতে! 

কোন মুগ্ধতার জাল এখনো 

দু চোখের কাজল জুড়ে, 

এখনো কি বসে আছো সোনালী বুননের ইতিহাসের দেশে! 

সখী ফিরে যায় 

দরজায় দিয়ে যে তালা, করেছো বন্ধ সমস্ত আস্তিক দৃশ্য। 

খুলেছো কি সেই পরিচিত জানলা খানা? 

যেখানে কাঠবিড়ালী আসে বাদমের বনে 

কিংবা পানকৌড়ি আজও ঢোবে জলে। 

আজো কেউ উকুলেলা হাতে

বসে আছে খেজুরের ছায়া মেখে। 

বাঞ্জারা সুর ভাসে, 

কোথায় বলো তো! 

কোথায় যেন আজও জিপসি নাচে, 

আজও কেউ ভালোবাসা নিয়ে 

দাঁড়িয়ে আছে কল্মি ঢাকা পুকুরের পাড়ে। 

এখনও হয়ত নবাবের ঘরে বাজরা থামে, 

নবদ্বীপের নিমাই এখনও পাগল হরি নাম গানে। 

ভেসে গেছো কোথায় কে জানে, 

চেষ্টা করো না আর আজ রাতে ফিরবার থাকো আপন মনে😊©শর্মিষ্ঠা ভট্ট।।

#অনুগল্প *স্ত্রৈনর স্ত্রী* ©শর্মিষ্ঠা ভট্ট

 *স্ত্রৈনর স্ত্রী*

©শর্মিষ্ঠা ভট্ট



 অমল কান্তি কে আমি শিশুকাল হোইতেই চিনি । বড়ো আকারের সাহিত্যিক হতে পারিবে।আসলে উহার মা আমার ঘরের সাহিত্য বৈঠকের আগ্ৰহী সদস্যা। 


এদিকে পাড়ার কমলা বৌদি হসপিটালে। তাহার কথা মনে হইল। জগোধাত্রীর মতো দেহারা লাল পাড় শাড়ী পরে এক কপাল সিঁদুর দিয়ে যখন বের হতেন বড়ো ভক্তি হোইত। ওনার স্বামী কে পেছনে ও সামনে লোক স্ত্রৈন বলিত। বৌদি যে কেমন করিয়া কি বিধি প্রয়োগ করিয়া স্বামী রত্ন টিকে এমন যাদু করিয়াছেন সেই নিয়ে চর্চা কম হোইত না। ওনার স্বামী কমলেশদা বড়ো নিরীহ ও ভালো মানুষ। স্ত্রী র সাথে লেপ্টে যে কোন যায়গায় যাওয়া। গিফট ও সোহাগের বর্ষাদ করিয়া আমাদিগকে কমপ্লেক্স খাওয়াইয়া রাখিতেন। 


হঠাৎ কয়ক বৎসর আগে হৃদ যোগে কমলেশদা চলিয়া গেলেন। বৌদির প্রিয় বলিয়া সর্ব প্রথম ছুটিয়া যাইলাম। উনি কানে কানে বলিলেন, অমল কান্তি মুখাগ্নি করিবে। বৌদি এত পরিচিত নহে তবু উহার নাম করিতে জিজ্ঞাসু দৃষ্টি মেলিলাম। নিঃসন্তান দম্পতির কমলেশদা নিঃসন্তান নহে। অমল কান্তি র মাকে কমলেশদাই আমার সাহিত্যের আসরের খবর দিয়া ছিলেন। সময় কাটাইবার এক অনন্য উপায় ভাবিয়া। আকাশ হোইতে পড়িলাম। তাহোইলে এই যে যুগল দম্পতির এত খ্যাতি! বৌদি বলিলেন ও কেবল নাটকের সুবিন্যস্ত রূপ। যেমন তোমার সাহিত্যের জগতে প্রয়োজন হীন হাসি মাখাইয়া সম্পর্ক তৈয়ারি হোইতেছে । আসল সত্য কজন দেখিতে চায়। সকল সম্পর্কে এক পর্দা থাকিয়া যায়। তাহা হইলে বড়ো জঘন্য রূপ সামনে আসিয়া পড়ে। তাই বৌদি স্ত্রৈনর স্ত্রী হইয়া কাটাইয়া দিলেন। বাইরে আসিয়া আমি অমল কান্তি র নাম নিতে বড়ো গোলোযোগ। এই নাটকের আর এক পর্দা টাঙাইয়া দিলাম। বৌদির কথা না তুলিয়া বলিলাম আমার একান্ত ইচ্ছা। 


এখন পাড়ায় আমি স্ত্রৈনর স্ত্রী বলে পরিচিত। আড় চোখে ওনাকে দেখি আর ভাবি যদি এই শব্দটি অভিধানে না থাকিত🤔

শিরোনাম - যদি স্মৃতি বিক্রি হতো✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - যদি স্মৃতি বিক্রি হতো ✍️ ডা: অরুণিমা দাস অহিংসা পরম ধর্ম হওয়া উচিত। কিন্তু মেনে কি চলা যায় সেকথা? হিরোশিমা দিবসে মনে হয় স্মৃতি ...