শনিবার, ২৪ জুলাই, ২০২১
#নাম - মহানায়ক উত্তমকুমার স্মরণে। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।
শুক্রবার, ২৩ জুলাই, ২০২১
মহানায়ক (কলমে পিয়ালী চক্রবর্তী)
#কলমে_পিয়ালী_চক্রবর্তী
তারিখ : ২৪/০৭/২০২১
বাঙালির মহানায়ক হে,
দৃষ্টিদানে তোমার শুরু,
সিনেমাহলের রূপালী পর্দায়,
ভক্তের রব উঠতো গুরু গুরু...
প্রতিটা ছায়াছবিতেই তুমি,
এক ঘোড়ার বাজী,
তোমার সাথে কাজ করতে,
বলিউডও হল রাজী ।
কত এলো কত গেল,
শেষ হল একে একে,
তোমার গ্ল্যামারের কাছে,
কেউ ধোপেই নাহি টেকে ।
সেই যে শুরু হয়েছে তোমার,
অন্তবিহীন পথচলা,
তুমিই বলো কেমনে তোমার,
ভুলি অমর শিল্পকলা !
প্রয়াণ দিবসে তোমার চরণে,
মাথা কুটে কেঁদে মরি,
জানি তুমি আর আসবেনা ফিরে,
তবুও অপেক্ষা করি ।
Copyright © All Rights Reserved to Piyali Chakravorty
বুধবার, ২১ জুলাই, ২০২১
# নাম- প্রতিশোধ। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।
#ভৌতিক গল্প -হিংসা। #কলমে -সোমা দে।
প্রতিশোধ (পিয়ালী চক্রবর্তী)
#কলমে_পিয়ালী_চক্রবর্তী
তারিখ : ২১/০৭/২০২১
প্রতিশোধের আক্ষরিক অর্থ হল প্রতিহিংসা বা প্রতিবিধান । আমার কাছে প্রতিশোধ শব্দের অর্থ অন্যায়কারীর ক্ষতিসাধন করা ।
বেশ কয়েক রকমের প্রতিশোধপরায়ণ মানুষ ও তাদের ভিন্ন ভিন্ন প্রতিশোধ পন্থা আছে । যেমন :-
●প্রতিশোধপরায়ণতা কারোর আসে অল্পেই, অর্থাৎ, সামান্য ক্ষতিও সে স্বীকার করতে পারে না । পাল্টা ক্ষতিসাধনের খেলায় মেতে ওঠে ।
●কারোর আবার বড় সড় ক্ষতি হলেও, তার কাছে প্রতিশোধস্পৃহা খুবই নগণ্য ।
●কারোর আবার অন্যায়কারীর প্রতি চরম রাগ ও ঘৃণা জন্মায়, ফলে তার প্রতিশোধ হয় ক্ষতির চেয়েও অনেক বেশী ।
●কারোর কাছে প্রতিশোধপরায়ণতা এতটাই বীভৎস যে তারা বংশানুক্রমিক ভাবে প্রতিশোধ নেবার চেষ্টায় থাকেন । তাদের বক্তব্য, "তুই করিসনি তো কি! তোর বাবা করেছে!"
●কেউ আবার প্রতিশোধের জ্বালায় শুধু অন্যায়কারীর ওপরই নয় তার পুরো পরিবারের ক্ষতি করতেও দুবার ভাবে না ।
●কেউ আবার অন্যায়কারীর বিশাল অন্যায়কে ক্ষমা করে দিয়ে তাকে বিবেকের দংশনের মধ্যে ফেলে দেয় ।
●কেউ বা প্রতিশোধ নেবার জন্য শত্রুর শত্রুকে মিত্র বানিয়ে ভেতর থেকে কলকাঠি নাড়িয়ে থাকে ।
●কেউ বা আবার অন্যায়কারী শত্রুর সাথে গভীর বন্ধুত্ব গড়ে তুলে তার মন তথা জীবনে প্রবেশ করে তার প্রভূত ক্ষতিসাধন করে ।
●কেউ বা অন্যায়কারী প্রেমিক/প্রেমিকাকে শাস্তি দেবার জন্য ভালোবাসার হাতিয়ারকে তুলে নিয়ে প্রতিশোধ পূর্ণ করে ।
●কেউ আবার চরমতম অন্যায়ের প্রতিশোধ নিতে(ধর্ষণ/খুন ইত্যাদি) নিজের হাতে অন্যায়কারী ব্যক্তিকে শাস্তি দেবার জন্য আইনকে নিজের হাতে তুলে নেয় ।
আরো কত রকম যে প্রতিশোধ আছে তা লিখে শেষ হবে না । যত মত, তত পথ ।
Copyright © All Rights Reserved to Piyali Chakravorty
বিষয় *প্রতিশোধ* ©শর্মিষ্ঠা ভট্ট
শব্দমালার দিন
বিষয় *প্রতিশোধ*
©শর্মিষ্ঠা ভট্ট
প্রতিশোধ এর বাংলা অর্থ
[প্রোতিশোধ্] (বিশেষ্য) অন্যায়কারী ক্ষতিসাধন; শত্রু নির্যাতন; হিংসার পরিবর্তে হিংসা; প্রতিহিংসা।
(যাইব, কিন্তু আগে এ যন্ত্রণার প্রতিশোধ করিব-বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়)।
(তৎসম বা সংস্কৃত) প্রতি+শোধ
"প্রতি" মানে কাউকে "শোধ" মানে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কি ভাবে? নিষ্কাম পথে? না ।।প্রতিশোধে এক দহন থাকে যা নিজেকে এবং অন্যকে পোড়ায় । এক ধ্বংস থেকে শুরু হয়ে অন্য ধ্বংসে সমাপ্তি। অর্থাৎ একটি কহিনীর সৃষ্টি। প্রতিশোধ মনের এমন এক অবস্থান যেখানে ক্রোধ, হিংসা, ক্রড়তা কৌশল ইত্যাদি হিংস্রতা মন বা মানসিক অবস্থাকে ঘটনার ফলাফলের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। মহাভারত থেকে নিয়ে যত ধর্মীয় এপিক আছে সব কোন না কোন প্রতিশোধের থেকে শুরু গল্প।
মানে প্রতিশোধ পুরনে মানসিক শান্তি এক কথায় স্বীকৃত।
আমার নিজস্ব মত...... প্রতিশোধ যতই হিংসা থেকে সৃষ্টি হয় এবং তা পূরণে শান্তি আসে, তবু মানসিক স্থিরতা নষ্ট হয়। এক ভবর বা ঘূর্ণন জীবনকে শান্তির সাথে ধ্বংসের পথেও নিয়ে যায়। প্রতিশোধ শেষে শ্মশানের নিস্তব্ধতা জীবনকে সেই শান্তি দিতে পারে না যা তার হয়ত আগে ছিল। কখনও শত্রুতা বেঁচে থাকার মধ্যে জীবনানন্দ অনুভূত হতে পারে। অবাক হলেন? হ্যাঁ ঠিকই বলছি। মহাভারতের যুদ্ধে হয়ত সব ফিরে পেয়েছিল পান্ডব কিন্তু হারিয়ে ছিল অসংখ্য বন্ধু আত্মিয় অসংখ্য আবেগ। মহা শূণ্যতা গ্রাস করেছিল তাদের। তারা অনুভব করেছিল অখণ্ড শান্তিতে অনাসক্তি লুকিয়ে আছে। কি জন্য বাঁচবো? এই প্রশ্ন আমাদের বাঁচায়। কিন্তু এই প্রশ্ন যখন আর থাকে না তখন বাঁচা যান্ত্রিক হয়ে যায়। মহাভারত যুদ্ধের পর "চার্ম অফ লাইফ" ছিল না বা কমে গিয়েছিল তা স্পষ্ট।
এটা বোঝা গেলো প্রতিশোধের ইচ্ছায় একটা প্রবল শক্তি থাকে। যেমন চৌম্বক ক্ষেত্রের দিকে পদার্থ তেজ গতিতে ধাবিত হয় ঠিক তেমনি একটি মন ও কর্ম ছোটে প্রতিশোধ পূরণের আশায়। আর তার ফলে ঘটে ঘটনা। সুতরাং বলা যায় কেবল নিরাসক্ত শান্তির থেকে এই প্রতিশোধ জীবনের ক্যানভাসে নানা নক্সা এঁকে চলে। মানসিক সকারত্মক ও নঙার্থক সকল অনুভূতির মত প্রতিশোধ একটি কর্মের গঠন দানের পক্ষে তেজি পদক্ষেপ। তাই "জীবন এরকম" এই কথা মনে রেখে এইটি স্বীকার করে নিতে হবে। তবে প্রতিশোধ ধ্বংস ও দুঃখের গভীরতার দিকে এগিয়ে নিয়ে যায় এই কথা মনে রেখেই শিশু শিক্ষা দেওয়া হতে পারে প্রতিশোধ কখনও শুভফলদায়ী নয়।
তবে সাহিত্যের চোখে দেখলে প্রতিশোধ কেবল ঘটনার অনুঘটক। যেমন একটা গল্প বলি। সবার জানা তবু মনে করিয়েদি। শর্মিষ্ঠা অসুর কন্যা ধরে নিলাম নীচু জাতীয় কন্যা, কিন্তু আর্থিক অবস্থা উন্নত। গুরু বা ব্রাম্মন কন্যা দেবযানীর প্রথম থেকেই তা ঠিক লাগে না। তারও ইচ্ছা করে সমবয়সী বন্ধু মহলে পরিচিত মেয়েটার মত দামী গহনা কাপড় মান সম্মান পেতে, মনে ইর্ষা জন্মায় ( ইর্ষা প্রতিশোধের প্রথম সোপান) । দুই বন্ধু স্নানে গেছে। হয়ত দামী কাপড় পরিধানের লোভে শর্মিষ্ঠার কাপড় পড়ে ফেলল দেবযানী। ব্যাস তার থেকে বচসা ও হাতাহাতি (সহ্যশক্তির অভাব) । শর্মিষ্ঠা ক্ষত্রিয় কন্যা, গায়ের জোর ক্রোধ ও রাজকীয় শক্তি (সুপ্ত অহমিকা) তে এক ধাক্কায় কুপে ফেলে চলে এলো ঘরে। দেবযানীর ভাগ্য এসে দাঁড়ালো (নিয়তি আর একটি সিঁড়ি) । যযাতি, রাজা যযাতি তুলে আনলো হতভাগ্য ব্রাম্মন কন্যাটিকে। অর্থ সৌন্দর্য ও সামাজিক খ্যাতি দেবযানীর মনে আকাঙ্ক্ষা জাগালো। যার নাম দেওয়া হল প্রেম। সৃষ্টি হল নতুন গল্প। প্রতিশোধের গল্প। নিজেদের সামাজিক মর্যাদা পাবার লিপ্সা বা সমাজের ওপর প্রতিশোধ। ব্রাম্মন, তখন কার সমাজে প্রথম শ্রেণীর সম্মান পেলেও আর্থিক ও রাজকীয় ক্ষমতার দিকে নীচে ছিল। দেবযানী চাইল সামাজিক এই বিভাজনের প্রতি, শোধ তুলতে।
বাবার কাছে জানালো যযাতি হবে স্বামী আর শর্মিষ্ঠা দাসী হয়ে তার সাথে যাবে। দুই প্রতিশোধ চরিতার্থ করে দেবযানীর মন তো শান্ত হল। কিন্তু যযাতি, যাকে সামাজিক খেলনা হিসেবে প্রেমের টোপোর পরানো হল! তার মন আছে ,চাহিদা আছে। বোধ আছে। হয়ত দরিদ্র, ব্রাম্মন কন্যায়কে সামাজিক চাপে বিয়ে করলেও তার মধ্যে সেই আকর্ষণ বা রাজকীয় চালচলন পেলো না। রাজার ঠাটবাট সে নারী হয়ত রপ্ত করতে পারল না, উপযুক্ত হতে পারলো না যযাতির। গোছাখানেক সন্তানের মা রাজমহিষী হলেও মনের প্রেমিকা হওয়া সহজ কাজ নয়। সামাজিক প্রতি পত্তি প্রতিশোধের আগুনে অধিকার করা যায় ।।
কিন্তু মন!! ত্রিশঙ্কু প্রশ্ন হয়ে রয়ে গেল দেবযানীর জীবন। প্রতিশোধ নিয়েও শূণ্যতা। যযাতি শর্মিষ্ঠাকে নিয়ে উদ্যান বাটিকায় সুন্দর সংসার পাতল ।তাদের কেবল দেবার ইচ্ছা ছিল , ছিল নীরব সহানুভূতি। প্রেম ছিল। অকাল বার্ধক্য এলো দেবযানীর লাগানোর ফলে। দেবযানীর পিতা শুক্রাচার্য অভিশাপ দিলেন বা কোন ধরে নিলাম কোন ঔষধ দেওয়া হল অকাল বর্ধক্যের। এদিকে রাজকার্য আছে প্রজা দেশ শত্রু আছে। রাজার কি বুড়ো হয়ে বসলে চলে? দেবযানীর পরিবারের কেউ এ অসুখ নিয়ে মুক্তি দেবে না রাজাকে। শর্মিষ্ঠার প্রেমের সন্তান, সর্ব কনিষ্ঠ পুরু এ রোগ নিয়ে যযাতির জীবন এগিয়ে দিল। কথা হল..... প্রতিশোধ থেকে সৃষ্ট এই গল্প আবার একটা গল্প লিখে দিয়ে গেলো.... মহাভারত সৃষ্টি। তাই প্রতিশোধ স্পৃহা ঘটনা, হীন মনোবৃত্তি হলেও ঘটনা ঘটবেই।।
ধন্যবাদ🙏💕
মঙ্গলবার, ২০ জুলাই, ২০২১
চিলেকোঠার চিঠি(সুদেষ্ণা দত্ত)
চিলেকোঠার চিঠি
কলমে:সুদেষ্ণা দত্ত
দিশা মিত্তির বাড়ীর নতুন বউ।শ্বশুর বাড়ীতে বিয়ের পর এটাই দিশার প্রথম পুজো।নতুন বউকে তোলা তোলা করেই রাখেন শাশুড়ি মা।আপন ছন্দে মজে থাকে দিশা।এক বনেদী পরিবার থেকে আর এক বনেদী পরিবারে আসা।এখানে লোকজন অনেক।তাই বদ্ধ ঘরেই ডানা ঝাপটায় দিশা।চিলেকোঠার ঘরটা তার বড় প্রিয়।বাপের বাড়ীতে ওই ঘরটাই ছিল অন্তরের অন্দরমহলে ডুব দেওয়ার জায়গা।পক্ষীরাজে চেপে সে কত তেপান্তরের মাঠ ভাসিয়েছে তার সুরেলা কণ্ঠে।সেই দুরাগত সুরের টানেই তার স্বামী প্রভাত হয়ে উঠেছে আজ তার একান্ত আপন।কত সুখ—দুঃখের নক্সীকাঁথায় ফোঁড় তুলেছে ওই ঘরে।কিন্তু এবাড়ীর চিলে কোঠার ঘরে রাজ্যের জিনিস স্তূপাকার করা।এই উজাড় করা আকাশের পানে ধাবিত ঘরটায় দিশার যে এক অমোঘ টান আছে তা বোঝে প্রভাত।তাই প্রভাতের নির্দেশে ওই চিলেকোঠার ঘরই হতে চলেছে দিশার একান্ত আপনার উপাসনা ঘর।
ফেরিওয়ালাকে ডেকে শাশুড়ি মা পুজোর আগেই এই ঘর পরিষ্কার করিয়ে দিশার হাতে তুলে দিতে চান।তাই জোরকদমে আজ কাজ চলছে।শাশুড়ি মায়ের সঙ্গে দিশাও হাত লাগিয়েছে।ঘরে কত্ত জিনিস।এ যেন আলাদিনের জিনের এক আশ্চর্য জগৎ--এমনই মনে হয় দিশার।এক একটা জিনিসে হাত ছোঁয়ালেই ভেসে উঠবে এক একটা গল্প।
বেশ কিছু পুরোনো বইপত্রও রয়েছে, সে সবও বিক্রি করে দিতে চান শাশুড়ী মা।কিন্তু দিশা বলে, “থাক না মা,আমি ওগুলো পড়ব”।ওদের পাশে সরিয়ে রাখে।পুরোনো উনুনের কাঠামো,ভাঙা হ্যারিকেন,হাতল ভাঙা চেয়ার,রঙ জ্বলা—অল্প ভেঙে যাওয়া শোপিস—বাসনের ফাঁকে উঁকি দেয় শৈল্পিক কারুকাজ করা এক সুদৃশ্য কাঠের ছোট বাক্স।তবে কাজ অনেকটাই নষ্ট হতে বসেছে।আর কাঠও গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে যাচ্ছে!তবে বাক্সটা খুব পছন্দ হয় দিশার।বাক্সটা খুলে দেখে একটা বোতাম।কিন্তু এবার শাশুড়ী মা বাধা দিয়ে বলেন, “দিদিশাশুড়ীর মত রাজ্জির জিনিসের পতি মায়া বাড়িয়ে আর জঞ্জাল বাড়িও না দিকি বৌমা।সব আপদ বিদায় কর”।ফেরিওয়ালা জিনিস পত্তর গুছিয়ে বেশ খোশ মেজাজেই ঘর মুখো হয়।
দুপুর বেলায় শরতের শিউলি ভেজা বাতাসের গন্ধ মেখে চিলেকোঠার ঘরে পুরোনো বইয়ের পাতা ওল্টায় দিশা।হঠাৎ হাতে আসে একটা চিঠি।খুলব কি খুলব না ভেবে শেষে খুলে দেখে তাতে লেখা—"ব্রিগেডিয়ার বাবু আমার জন্য কাশ্মীর থেকে তোমার আনা এই কাঠের বাক্সে আমি রঙিন সুতো দিয়ে স্বপ্নের জাল বুনি”।হ্যাঁ ঠিক তো,দিশার মনে পড়ে ওখানে কোন সুতো ছিল না বটে,তবে একটা বোতাম ছিল।আবার পড়তে শুরু করে চিঠি।"জানো এই বাক্সে খুব যত্ন করে তোমার শেষ যাত্রার পোশাকের একটা বোতাম রেখেছিলাম।বাবুর উচ্চতার জন্য দেশ সেবার কাজে যাওয়া হল না।খুব ইচ্ছে ছিল নাতি হলে তাকে গড়ে তুলব তোমার স্বপ্ন পূরণের কান্ডারী করে।নাতি এল ঘর আলো করে।কিন্তু অমন অলুক্ষুনে কাজে বৌমা ছেলেকে পাঠাতে চায় না।বাবুরও সায় আছে মনে হয়!জানিনা মিত্তির বংশের আর কেউ তোমার স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে আসবে কিনা!”ঠাম্মি স্নেহলতার চিঠি পড়া শেষ করে দিশা।ভাবে দিম্মার এক বাক্স স্বপ্নও আজ ফেরিওয়ালা নিয়ে চলে গেল।চোখের পাতা ভারী হয়ে ঘুম নামে।এক অনাগত ছোট্ট শিশু সৈনিক মায়াঞ্জন পরিয়ে দিয়ে যায় দিশার দু’চোখে।
©কপিরাইট রিজার্ভড ফর সুদেষ্ণা দত্ত।
ছবি সৌজন্য:গুগুল
সোমবার, ১৯ জুলাই, ২০২১
#অনুগল্প- চিলেকোঠা। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।
#বিভাগ_গল্প #গল্প:চিলেকোঠার ঘরটা #কলমে:সবুজ দ্বীপের রাজা
#বিভাগ_গল্প
#গল্প:চিলেকোঠার ঘরটা
#কলমে:সবুজ দ্বীপের রাজা
ফেলে আসা দীর্ঘ ২০টা বছর অনিশা কে তার পরিচিত কলকাতাকে অনেকটা অচেনা করে তুলেছে। আমেরিকার প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী অতীন কার্নেগী এই ২০ বছরে বার তিনেক ভারতে এলেও,অনিশাকে নিয়ে এই প্রথমবার। অনিশার ভারতে আসার মতো, তাকে খোঁজার মতো কেউ ছিলো না। বুড়োদাদু তার বিয়ের কয়েকদিন বাদে মারা যায় তখন সে অন্তঃস্বতা। তাই আর আসা হয়ে ওঠেনি। আর জেঠিমা মারা যাওয়ার খবর, সেটা জানতে পেরেছিল জেঠিমার মৃত্যুর প্রায় বছর পাঁচেক বাদে। রন্তু দাদার মেয়ে ইন্টারনেটে তার ঠাকুমার মৃত্যু দিবস দিয়েছিল সেই দেখে।
গাড়ি চাপা পরে মৃত মায়ের দেহ আগলে বছর তিনেকের পথশিশু অনিশা যখন কাঁদছিলো, ওই বুড়ো কত্তা আর স্নেহময়ী জেঠিমার কোলে চেপে বাগবাজারের ওই সুউচ্চ জমিদার বাড়ির চিলেকোঠার ঘরটায় আশ্রয় নেয় অনিশা।
হটাৎ ভাগ বসানো আশ্রিতার প্রতি বাড়ির বাকি সদস্যের ব্যাবহার যা হয়ে থাকে অনিশার ক্ষেত্রে তার থেকে আলাদা কিছু হলোনা। শুধু একান্নবর্তী পরিবারের কর্তা বুড়ো বাবুর এবং জেঠিমার স্নেহ দৃষ্টি কিছুটা হলে ঢাল হিসাবে রইলো। যদিও আড়ালে আবডালে চলতে লাগলো প্রহসন। আর অনিশার সকলের ভালোবাসা আদায় করার মিথ্যা লড়াই। ছোট্ট চিলেকোঠার ঘরটা তার একমাত্র আপনজন হয়ে উঠেছিল। মানি প্ল্যান্টের ছোট্ট চারা বাগান থেকে তুলে এনে জানলার ধারে একটা টবে বসিয়েছিল।প্রতিদিন তাতে জল ঢালতে ঢালতে তার মনের কথা তাকে বলতো।সেও ওরই মতো বেড়ে উঠছিল।
তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষার সময় দুপুরে বাড়ি ফেরার পথে মাথা ঘুড়ে রাস্তায় পড়ে যায়। সেদিন অতীন তাকে ডাক্তার দেখিয়ে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে যায়। সেদিন অচৈতন্য অনিশার মুখে অতীন বোধহয় তার ভবিষ্যৎ দেখেছিল। নাম গোত্রহীন অনিশাকে নিজের করতে অবাঙালী অতীনের বেগ পেতে হয়নি।
আফসোস একটাই। না পাওয়া দেশের রাজকন্যা অনিশা সব পাওয়ার দেশে এসেও আজো নির্বিকার। অতীনের শত অনুরোধে ও আজ অব্দী নিজের জন্য কিছু চায়নি। এবার প্রায় জোর করেই অতীন ওকে নিয়ে ভারতে এসেছে।
ঠান্ডা গাড়ির বন্ধ কাঁচের ভিতরে অতিন যখন বললো, "অনি চলো তোমার বাড়ি দেখিয়ে আনি।" অনিশার চোখটা আনন্দে জ্বলে ওঠে।
জরাজীর্ণ দশা সেদিনের সেই জমিদার বাড়ি। মূল ফটক ভেঙে পড়ে গেছে। বুড়ো কত্তার সাধের বাগান আজ জঙ্গলে ভরা। বন্ধ বাড়িটাকে আষ্টে পিষ্টে রেখেছে বটের শিকড়। অতীন মৃদু স্বরে বলে, "এখানে আজ আর কেউ থাকে না। ব্যাঙ্কের ঋণ পরিশোধ না করার কারণে বাড়িটা নীলামে উঠেছে।" অনিশার চোখের আনন্দ নিমিষে নিভে যায়। হতাশ দৃষ্টিতে চিলেকোঠার সেই ঘরটার দিকে তাকায়, মানিপ্লান্ট গাছটা জানালা দিয়ে বেরিয়ে পুরো ঘরটা ঢেকে ফেলেছে। অনিশাকে দেখে তার পাতাগুলো তির তির করে নড়ে ওঠে। হারানো প্রিয়জনকে পেয়ে সেও কাছে পেতে চায়।
অনিশা অতীনকে বলে আমার ছেলেবেলা দেখবে? ওই চিলেকোঠার ঘরটায় একটু নিয়ে যাবে।
অতীন গাড়ি থেকে নেমে গার্ডের সঙ্গে কি সব কথা বলে। তারা ওর হাতে একগোছা চাবি দেয়।
চিলেকোঠার ঘরের ভিতরে ঝুল পড়লেও আজো যেনো আগের মতোই আছে। চৌকির নিচে সেই বাক্স অনিশা খোলে তার শৈশব ,কৈশোর সব মুক্ত হাওয়ায় বেরিয়ে এসে তাকে আলিঙ্গন করে।অনিশার চোখটা ভিজে উঠেছে স্মৃতির জলে। জানলার কাছে মানিপ্লান্ট গাছটায় হাত বোলায়, পাতায় জমা জল ওর মুখে পড়ে।দুই সাথী হারা একে অপরকে কাছে পেয়ে অশ্রুজলে যেনো ভাসতে থাকে।
অনিশা অতীনের হাতটা চেপে ধরে,আমাকে এই বাড়িটা কিনে দেবে অতীন।
অতীন পকেট থেকে রুমালটা বের করে অনিশার চোখটা মুছিয়ে দেয়। ব্রীফ কেস খুলে একটা কাগজ বের করে অনিশার হাতে দেয়। মৃদু স্বরে বলে এই বাড়ি আজ থেকে তোমার। এই উপহার তোমায় দেবো বলেই আমার আজকে আমেরিকা থেকে এখানে আসা।
বাইরের দমকা হাওয়া মানিপ্লান্ট গাছটাকে দোলাতে থাকে,অনিশা নতুন করে অতীনকে আবিষ্কার করে।
🙏🙏🙏🙏🙏
কপিরাইট রিজার্ভ@সৌগত@মুখোপাধ্যায়#২০২১
#নাম_সেদিন #কলমে_অনিশা
#বিষয়_চিলেকোঠা
#নাম_সেদিন
#কলমে_অনিশা
অনিন্দ্য ভাবতেও পারেনি হঠাৎ সে নিজেই এতটা নস্টালজিক হয়ে পড়বে। সুনন্দাদের চিলেকোঠার ঘরটা ছিল ছোটদের সাম্রাজ্য। সুনন্দার মায়ের ঠাকুর ঘর করার কথা ছিল ওটা। কিন্তু ওই তিনতলা অব্দি বারবার ওঠানামা করা ওনার পক্ষে সম্ভব নয় বলেই ঘরটা পড়ে ছিল। ওখানে অব্যবহৃত জিনিসপত্র রাখা থাকতো। তার মধ্যে একটি অপ্রয়োজনীয় ক্যাশবাক্স ছিল। অনিন্দ্য প্রথম আইডিয়া দেয় সুনন্দাকে, "সু দেখ, তোর পুতুলের সব এর মধ্যে রাখতে সুবিধা হবে। একটা পড়ার ঘর, একটা রান্নাঘর, একটা বসার ঘর আর মাঝখানটা শেয়ার ঘর।" কিন্তু সুনন্দার মুশকিল হলো পুতুলের শোয়ার ঘরে দরজা নেই তো। সেই সমস্যার সমাধান ও অনিন্দ্য করে দিয়েছিল, পুরো বাক্সের ঢাকাটা বন্ধ করে। পুতুল সাজানোর এত সুন্দর ব্যবস্থা আর তার ওপর এত সুন্দর সমাধান পেয়ে সুনন্দা আনন্দে জড়িয়ে ধরেছিল অনিন্দ্যকে। ভালো লাগায় ভরে গিয়েছিল দুটি মন। এরপর আশে-পাশের বাড়ির সোমা, মিনতি, কাজল সবাই আসত। ওখানে চলত লুডো, বাঘবন্দী এমন অনেক খেলা। কিন্তু খেলা শেষ হলে সুনন্দা বাড়ির গিন্নির মতো বলত, "এবার সব বাড়ি যাও তো! আমি পুতুলদের ঘুম পাড়িয়ে আসবো।" অনিন্দ্য যেত না। যেই বাকি সবাই চলে যেত, সুনন্দা বাক্সের ঢাকা বন্ধ করে ওর সামনে দাঁড়াতো। অনিন্দ্য ওর এক মাথা ঝাঁকড়া চুলে মুখ ডুবিয়ে ওকে জড়িয়ে ধরত। এক ভালো লাগার জগতে ওরা হারিয়ে যেত। দুটি শিশুর এ এক অনন্য অনুভুতি।
এরপর কেটে গেছে অনেক বছর। অনিন্দ্য কৈশোরে পা রেখেছে। সে এখন কলকাতায় মামার বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করে। সুনন্দার পিসির বিয়েতে এসেছে বাড়ি। চিলেকোঠার ঘরটা খালি করতে হবে। ওখানেই সব ভাঁড়ারের জিনিস পত্র রাখা হবে। খালি করতে হবে শুনেই দুজনে ছুটল সেই খেলাঘরে। সুনন্দা গিয়ে খুলল তার ক্যাশবাক্স। তেমনি গোছানো পড়ে আছে পুতুলের সংসার। ছোটবেলার ছেলেমানুষী গুলো মনে পড়তে হেসে বন্ধ করল বাক্সের ডালা। অনিন্দ্য ও সেদিনের মতো হাত বাড়ালো সুনন্দার দিকে। সচকিত হয়ে উঠল সুনন্দা। শুধু মুখ থেকে বেরিয়ে এলো, "ছিঃ।"
ছিটকে বেরিয়ে গেল ঘর থেকে অনিন্দ্য। বাবা বেরোচ্ছিলেন গাড়ি নিয়ে কলকাতায় ফিরবেন। ওদের রেখে দিয়ে গেলেন, নিজে আবার বিয়ের দিন আসবেন। অনিন্দ্য গিয়ে বসে পড়ল গাড়িতে।
@কপিরাইট রিজার্ভ ফর অনিশা কুমার।
রবিবার, ১৮ জুলাই, ২০২১
চিলেকোঠার শকুন (কলমে পিয়ালী চক্রবর্তী)
চিলেকোঠার শকুন
#কলমে_পিয়ালী_চক্রবর্তী
তারিখ : ১৯/০৭/২০২১
ছোট্ট মেয়েটার রোজ নিম্নাঙ্গে ব্যথা, রক্তপাত । দাদুভাই কেন যে এই খেলাতা খেলে কে দানে! আবাল কাউকে বলতেও বালণ কলেতে । বলে দিলে নাকি আমি আল দাদুভাই দুজনেই মলে যাবো । বাবালে, কাউকে বোব্ব না ।
আজকাল চিলেকোঠার ঘরের নাম শুনলেই ভয় হয় ছোট্ট বাবলির । এই খেলার শুরু খুব একটা বেশীদিন নয়, এই সবে সপ্তাহ দুয়েক । সেদিন দুপুরে ও একা খেলছিল চিলেকোঠার ঘরে বসে । দাদুভাই এসেছিল আচারের বয়াম নিতে । হটাৎ ওকে দেখে ঢুকে এলো ঘরে । ওর আচার খাওয়া বারণ । খেলেই গলায় ইনফেকশন হয় ।
দাদুভাই বললো, "আচার খাবে মামণি!"
বাবলি : হুম, তুমি দেনো মা-কে বলে দিয়োনা । মা মালবে ।
দাদুভাই : ঠিক আছে, বলবো না । আচার দেবো অনেকটা, আগে একটা খেলা খেলবো দুজনে মিলে ।
বাবলি : তাই! তুমি খেব্বে আমাল ছাথে!
সেই শুরু হল খেলার ।
তখনকার চার বছরের বাবলি আজ বাইশ বছরের তরুণী । চিলেকোঠার ঘরটা আজ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে । ওই ঘরেই দাদুভাইয়ের শ্রাদ্ধ আজ । চিলেকোঠার ঘরে পড়ে ছিল দাদুভাইয়ের প্রাণহীন দেহটা । সবাইকে খবরটা দিয়েছিল কাজের মেয়ে বকুল । ছুটে গেছিল সবাই ছাদে । চিলেকোঠার ঘরের মাঝামাঝি চিৎ হয়ে পড়ে আছে দাদুভাই । চোখদুটো বিস্ফারিত । নিম্নাঙ্গ ভেসে যাচ্ছে রক্তের স্রোতে ।
সেদিকে দেখে বাবলি আর বকুল একে অপরকে চোখের ইশারায় বলে উঠলো, "ভালো মানুষ ছিলেন, বাচ্চাদের সাথে খেলতে বড়ই ভালোবাসতেন । এভাবে চলে যাবেন ভাবতেও পারিনি । সবই ঠাকুরের ইচ্ছা ।"
Copyright © All Rights Reserved to Piyali Chakravorty
বিষয় : *আধ্যাত্মিক আলোচনা* ©শর্মিষ্ঠা ভট্ট
বিষয় : *আধ্যাত্মিক আলোচনা*
©শর্মিষ্ঠা ভট্ট
ছোট বয়সে ভূগোল বই পড়তাম রাজমহলের পর থেকে সমুদ্র পর্যন্ত গঙ্গার গতি স্হির। উচ্চ ও মধ্য গতির পর এখান থেকে শান্ত, গজেন্দ্র গামিনী। সমুদ্রের সাথের মেলার প্রথম দ্বিতীয় চঞ্চলতা কাটিয়ে ধীময়ী সে। মিলনের আনন্দ যত কাছে আসে তত মনের মাঝে গাম্ভীর্য ও স্থিতু অনুভূত হয়।এত তো প্রকৃতির শৃংখলা। মানুষ বা সমস্ত জগৎ এমন এক অনিবার্য শৃংখলার মাঝে ভ্রমণ করে চলছে। গতকাল বিজ্ঞান আলোচনায় গতিময়তা তত্ত্বের মাঝে এই গতির সুন্দর ব্যাখ্যা উপলব্ধি করা গেছে। থাক ওসব তত্ত্ব।
আবার ফিরে যাই ঘরোয়া কথায়। চারি দিকে কাজ আর জীবনে পাবার দৌড়াদৌড়ি। সর্বত্র এক উন্মাদ ছোটাছুটি । কিন্তু তার মধ্যে এক সচেতন জিনিস আছে যা গতিময় চঞ্চলতাকে কারন দেয়। তা আমাদের মন। মন খোঁজে ছোটার শেষ ফিতে। কেন এই ছোটাছুটি!!কি আশায় রোজ লিখি? কেন এই খাওয়া শোয়া, কেন দেশ বা নিজস্ব সম্পত্তি বাঁচাতে রক্ষী হয়ে যাই। কেন ছোট কথায় দুঃখ মনকে বিচলিত করে? কারন এই সব কর্ম। এই সব কার্য, যার কারন আছে বলেই সমস্ত জগৎ চলছে। চরৈবতি । এই ধাবমান চলনের শেষ বিন্দু তিনি। সেই পরম ব্রহ্ম। শুণ্য বাদ। শুণ্য থেকে শুরু শূণ্যতেই শেষ। সেই জ্যতির্ময় বিন্দুর দিকে অহরহ এগিয়ে চলা। যা শান্ত অনন্ত তরঙ্গ হীন। সেই অমিয় সত্য অমৃতময়, হয়ত ঈশ্বর।কিংবা বিশ্বাসে বসা কেবল আলো। এই চলা জন্ম জন্মান্তরের হতে পারে। তবু মিলন সুখে ছোটা।
এই যে চাহিদার অসংখ্য গুঞ্জন তা হয় এ জন্মের শেষেও নিবৃত্ত হয় না, আত্মার মধ্যে দিয়ে ভেসে চলে পিউরিফিকেশন বা বারে বারে সংস্কারের মাধ্যমে। বৌদ্ধ ধর্ম হিন্দু ধর্ম এই চলনকেই জন্মান্তর চক্র বলেছেন।
আরও সহজ করে শেষ করি। এই যে রেজাল্ট ভালো চাকরি চকচকে মানুষ দেখলে একটু গলে যায় সমাজ। ভালো ও আরও ভালোর প্রতি আকর্ষণ এক নেশাগ্রস্থ জীবনের কাহন লিখে চলে। কিন্তু শান্ত সুন্দর শ্যামলাজীর সে বাঁশি। তিনি যে গ্রহণ করার জন্য দু হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে। ধীময়ী মনে অনুভূত হলে তবেই আধ্যাত্মিক জীবন পথের শুরু। গঙ্গার নিম্ন গমন। ধীরে ধীরে অন্তর হয়ে ওঠে আলোকময়, নৈবৃত্তি। সংসার কোলাহলে থেকেও উত্তেজনাহীন শুদ্ধ চেতনা বিরাজ করবে এই অনিত্য দেহে। ওম্............ বিশাল শক্তি যেমন গ্রহণ করে সামান্যকে, সমুদ্রের বিশালকায় মিশে যায় মন। লেখক লেখনী যেমন ঠিক করেছে বিশালাকার চিন্তার দিকে ধাবিত হবে। ঠিক তেমনই সুন্দর অসাধারণ অনবদ্য বিচারহীন অকৃত্রিম চৌম্বকীয় শক্তির কেন্দ্রে মিলন হতে ছুটে চলা। অচঞ্চলতা সব তর্ক সমাপ্ত করে। ধন্যবাদ🙏💕
শনিবার, ১৭ জুলাই, ২০২১
# নাম- স্থিতি ও গতি। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।
# নামনাম- ট্রেন কম্পার্টম্যান্ট ও পরিবার। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।
পরিবার ও ট্রেনে কামরার মধ্যে মিল অমিল। কলমে-- পারমিতা মন্ডল।
# প্রবন্ধ : *পরিবার ও ট্রেনের কম্পার্টমেন্টে মিল /অমিল।* ©শর্মিষ্ঠা ভট্ট
# প্রবন্ধ : *পরিবার ও ট্রেনের কম্পার্টমেন্টে মিল /অমিল।*
©শর্মিষ্ঠা ভট্ট
ট্রেনের আওয়াজ শুনলেই মন উড়তে থাকে। দূর থেকে কেউ ডাক দিয়ে যায়। দূরপাল্লার ট্রেনের যাত্রী আমি। প্রথম প্রথম এক যাত্রা দুই গুনতাম, একসময় কখন গোনা ছেড়ে দিয়েছি। ভালো লাগে মানুষের এই আনাগোনা। সবাই বলে ২য় শ্রেণী আর আগের মতো মধ্যবিত্ত উপযোগী নেই। তবু আমি কখনও জোর করে টিকিট কাটাই। এই মানুষ গুলোর সাথে, খোলা জানলা দিয়ে পটপরিবর্তন আর সন্ধ্যায় হু হু করে ঠান্ডা বাতাস। ভাসিয়ে দিয়ে যায় এক অনাস্বাদিত আনন্দে। সাথে চা ওয়ালার সুর করে ডাক। কিংবা ঝাল মুড়ি একদিনের দিদি ভাই মাসি পিসির সাথে খাওয়া। একটু পরে ডিনার। স্টিলের থালা বের করে কেউ বাবু হয়ে আলু পরোঠা আচার যোগে... কেউ আবার ট্রেনের রোজকার খাবার অর্ডার দিয়েছে। একটু সরে দাঁড়িয়েছে যারা খাচ্ছে তাদের যাতে সুবিধা হয়। কিংবা মাসিমা সেই যে জানলার পাশের সিটটায় বসে গেছেন,ছাড়ছেন না। মনে মনে যত গালি দাও সিঙ্গল ট্রাভেলার ওপরের সিটে কাটিয়ে দিল দুদিন, মুখে দেখতে হাসি হেসে। তার মনের জ্বালা কে বোঝে। অবশ্য আজকাল এসি সেকেন্ড স্লিপারেও স্টিলের বাটি ঘটি বের হয়। তবে মানুষের মেলা তো ওই পারে। এই যে শ্রেণী ভাগ সংসার বা পরিবারের জীবনেও যে পাই না, তা নয়। আছে সব সেখানেও হুবহু কম্পার্টমেন্টের মতো জীবন ও ছুটে চলেছে। হঠাৎ থামার উপায় নেই। বেহিসাবী হলেই গেলো.... আর একান্নবর্তী বাথরুমের মতো এখানেও এই সমস্যা রয়ে যায়। পেয়ে গেলে ছোটা ছুটি বন্ধ দরজায় ধাক্কা ..একটু তাড়াতাড়ি দাদা। বিদায় বেলায় এখানেও সহযাত্রীকে এগিয়ে দিতে হয়, কিছু না হোক মিষ্টি হেসে....বাই বা সাবধানে যাবেন। পরিবারেও অন্তিম যাত্রা পথে একটু বিদায় বলতে হাজির হয়ে যায় পরিচিত স্বল্প পরিচিত কত কত জন। ট্রেনের রেগুলার যাত্রীরা তো অনেক সময় জীবনের সাথে জুড়ে যায়। নিজেদের মধ্যে বিবাহ ইত্যাদি সম্পর্কে বাঁধাও হয়। বলতে গেলে ট্রেনের এই গতিময় ক্ষনস্থায়ী ঘরটি পরিবারের মতো সম্পর্ক গড়ে। অসহিষ্ণু হয়ে ভাঙ্গে। মানুষের মন তো যেখানে যায়, বাসা খোঁজে হলেই বা তা সামান্য মুহুর্তের। মন লাগাতে ইমোশনাল জুড়ে যেতে পারে মানুষ বলে, ট্রেনের মতো ভার্চুয়াল জগতে সম্পর্কের জাল বুনে চলে। না জাল নয়, নক্সি কাঁথার মাঠ। তাতে কত সহস্র ছোট ছোট কাহিনী অহরহ যুক্ত হয়ে সুন্দর হয়ে উঠছে, ভরে উঠছে। কত ব্যাথা ভরে তুলছে ভারী নক্সা। হিংসা বিদ্বেষ লোভ স্বভাব সুলভ আসবে। তাকে পরিপূর্ণতা দিতে ভালোবাসা ক্ষমা আনন্দ ইত্যাদি সুন্দর হৃদয় বিত্তি আসবে। আসলে মানুষ সামাজিক জীব। যেখানে যায়.... একটা ঘর সে বানাবেই। সব চেয়ে বড়ো কথা পরিবারের মতো গন্তব্য আছে , আবার অন্য যাত্রীর জন্য ছেড়ে দিতে হবে, সবাইকে সাধের কয়েকটি দিনের মিলন মেলা। তারপর আর ট্রেন বা পরিবারের দিকে ফিরে তাকানো নয় অনন্ত হেঁটে চলা অবসন্ন ক্লান্ত জিনিসের মুটে বয়ে এগিয়ে চলা কিংবা কর্মের ফলের বোঝা নিয়ে এগিয়ে যাওয়া।
সত্যিই তো ট্রেনের এ্যাপার্টমেন্টে কত মিল পরিবারের সাথে। ওখানেও শ্রেণী আছে বসার আলাদা জায়গা আছে সুযোগ সুবিধা আলাদা। পরিবারের ক্ষেত্রেও বিত্ত হিসেবে নজর ঘুরে যায়। শ্রেণী বিভাজন আছে । তবে অমিল কি নেই? পেলাম না খুঁজে। শুধু মিল আর মিল। তবে একটি অমিল আছে ওখানে পারিবারিক প্রধান নেই, কিন্তু পরিবারে আছে । আর তার বড়ো গুন সংসার বা পরিবারের মৈত্রেয়ী বন্ধনে বেঁধে রাখা।ট্রেনের ঘরে বসে পরিবারের কথা ভাবি। পরিবারের মধ্যে এসে ফেলে আসা ওদের আলোচনা করি। স্বল্প হলেও মানুষের ক্ষনিকের আশ্রয়স্থল ওটিও। নমস্কার।।
মঙ্গলবার, ১৩ জুলাই, ২০২১
বিষয় : চিত্রলেখা *বর্ষার ডাকে* ©শর্মিষ্ঠা ভট্ট
বিষয় : চিত্রলেখা
*বর্ষার ডাকে*
©শর্মিষ্ঠা ভট্ট
মন মোর মেঘের সঙ্গী..... কিংবা কোন বলরামের আমি চেলা, স্বপ্ন ঘিরে রাখে মাতাল জুটে..... পাগলা হাওয়ার বাদল দিনে।
ছবি দেখে এসব মনে আসছিল। এক ভিজে স্যাঁতসেঁতে সবুজের ছায়ায় ধূসর মেঘ। যেন গর্ভবতী ধানের খেতের মতো ঝুঁকে পড়েছে পৃথিবীর বুকে। এখুনি সে প্রবল বারিধারার স্বর্গীয় আনন্দে ভরিয়ে দেবে মন প্রান। সাথে যদি বলরামের চেলারা থাকে তবে তো আর কথাই নেই। আনন্দ আর প্রকৃতি একেকার হয়ে যাবে। অনেক কষ্টে চড়া পাহাড়ের মাথায় বন্ধুরা অবাক চোখে দেখতে থাকবে চরাচর গ্রাস করতে করতে আসা বৃষ্টির ফোঁটা। সামান্য এই বারিষের ধারা ভাসিয়ে দেবে আর্থিক কৌলিন্য বিভেদ হয়ত কিছু ক্ষন আগেই হয়ে যাওয়া কোন বচসা। কারন তাদের মন এক সুরে বাঁধা। বন্ধুত্বের। তাই নৈসর্গিক পরিবেশে 🌿🍃প্রকৃতির অসাধারণ দান দুহাত ভরে নেবে তারা। সবুজের খেলা দেখবে ওই মাথা ন্যাড়া পাহাড়ে বসে। দূর থেকে মেতে উঠবে গানে গানে।
এবার চিত্র মাঝে চোখে পড়লো ক্যাপশন। ছবি দেখে লেখায় মন দৌড়ে যায়। আর ক্যাপশন থাকলে থামতে হয়, সামান্য ভাবতে হয়। বিশেষত পরিচিত নাম লেখক ও লেখনী দেখে থেমে গেল স্বপ্নের উড়ান। ঠক করে বাস্তবে মাথা ঠুকলো। কালো মেঘ সরিয়ে দিলে বৃষ্টি হবে কি করে? বৃষ্টি না হলে সবুজ অসম্ভব। কালো মেঘ কি মনের প্রতীকী? তাহলে মেঘ জমল কি করে? অনেক বাষ্প জমে তবে তো মেঘ। ...
তাহলে ওই মেঘের ঘনঘটায় কোন সবুজ কি জন্ম নেবে স্বাভাবিক উপায়ে?
"ছুটি নেবার প্রবনতার কালো মেঘ। " ছুটি তো আনন্দের হয় যদি তাতে দুঃখ বা জবরদস্তি না থাকে। ছুটিতে বসেই তো মেঘ দেখতে হয়। সর্বদা ব্যস্ত ও চঞ্চল মন গভীর কথা ভাবতে অক্ষম। সুন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ কিছু করতে যে সময় চাই এটি তো বিজ্ঞান বিষয় দেবার আগে সময় এগিয়ে দেবার সময় লক্ষ্য করা গেছে। উৎকৃষ্ট কিছু শিল্পের জন্য যথাযথ সময় প্রয়োজন তা বিষয় দাতা জানেন। তবে কেন এই ক্যাপশনের গোলক ধাঁধা!
চিত্র এক অর্থে ও ক্যাপশন অন্য দিশায় নিয়ে গেছে মনে হল আমার। চিত্রে বন্ধুরা বসে আছে বৃষ্টির আশায়, সবুজকে আরও সবুজ দেখার আশায়। আর ক্যাপশন মেঘকে অস্বীকার করতে চায় নতুন সবুজের আশায়, পুরাতন সবুজের কথা হয়ত মনে না রেখেই। 🙏
#নাম- 'প্রকৃতির চিত্রপট।' ✍ - মৃদুল কুমার দাস।
সোমবার, ১২ জুলাই, ২০২১
ভুল-ঠিক(সুদেষ্ণা দত্ত)
ভুল—ঠিক
কলমে-- সুদেষ্ণা দত্ত
তারিখ--১২/০৭/২০২১
সফিকুল দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র।তবে কাঠের ব্যবসায়ী বাবা আলম বাবু ছেলেকে যথেষ্ট অনুশাসনে রাখেন।এখনও তার হাতের মুঠোয় মুঠোফোন অধরাই।সরকারী ঘোষণা অনুযায়ী পড়াশোনার সুবিধার্থে তার একটি ট্যাব পাওয়ার কথা।মনে মনে খুব উত্তেজিত সফিকুল।বিকেলে গোয়াল পাড়ার মাঠে ফুটবল খেলতে গেলে অনেক বন্ধুই তাদের মুঠোয় ধরা স্বপ্নকে দেখায়।সফিকুল একটু মন মরা হয়,তার একাউন্টে এখনও ট্যাবের মূল্য পৌঁছায়নি।মনে মনে নামের আদ্যক্ষরকে দোষারোপ করে সান্ত্বনা পায়।কিন্তু দিন চলে গেলেও তার একাউন্ট নম্বরে টাকা ঢোকে না।শেষে স্কুলে গিয়ে জানতে পারে ভুলবশত টাকা অন্য একাউন্টে ঢুকে গিয়েছে।সফিকুলের মাথায় হাত!শেষে স্কুল-ব্যাঙ্ক ছোটাছুটি করে জানা যায় যে উজ্জ্বল ধারা নামে এক ব্যক্তির একাউন্টে টাকাগুলি ঘাপটি মেরে বসে আছে।কিন্তু তাঁর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের নম্বর না থাকায় ঠিকানা জোগাড় করে বাবা—ছেলে গিয়ে পৌঁছায় নির্দিষ্ট স্থানে।
ঠিকানায় গিয়ে দেখে সুন্দর সাজানো একটি রথ।আর তাকে ঘিরে কিছু অভাবী শিশুর মুখ আনন্দে ঝলমল করছে।পাশে প্যান্ডেল বেঁধে কয়েকটা বাচ্চা খুব তৃপ্তি করে লুচি,পায়েস খাচ্ছে।বাড়ীটির জরাজীর্ণ দশা।বাড়ীর কর্তাকে ডাকতে দু’পক্ষই অবাক হয়।আরে এই উজ্জ্বল কাকু তো বাবার কাঠ চেরাইয়ের কারখানায় কাজ করে।উজ্জ্বল এমন পুণ্য দিনে তার সহৃদয় মালিককে বাড়ীতে দেখে ভীষণ আপ্লুত হয় আর জানায় হঠাৎ ব্যাঙ্ক একাউন্টে দশ হাজার টাকা ঢোকায় বাড়ীর ও পাড়ার বাচ্চাদের দীর্ঘদিনের আশা মেটানোর চেষ্টা।আলম বাবুর দাবি আর কথা হয়ে বেরোতে চায় না।যথাযোগ্য অতিথেয়তা গ্রহণ করে,প্রত্যেক বছর তাঁর কারখানার কাঠ থেকেই বিনামূল্যে রথ তৈরীর প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাড়ী মুখো হলে জয় জগন্নাথ ধ্বনিতে সকলে মুখরিত হয়।
আর আলম বাবু সঙ্কোচ নিয়ে ছেলের মুখের দিকে তাকান।একটা আলো ঝলমলে মুখ বলে ওঠে,এটাই আল্লার ইচ্ছে ছিল বল আব্বু।খুশিতে ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরেন গর্বিত বাবা।না অনুশাসনে অমানুষ হয়নি ছেলে।
©কপিরাইট রিজার্ভড ফর সুদেষ্ণা দত্ত
ছবি সূত্র--সুদেষ্ণা দত্ত(অনুপ্রেরণা গুগুল)
অণুগল্প--রং নাম্বার। শিরোনাম---দুই মা । কলমে-- পারমিতা মন্ডল।
#শিরোনাম_ভুল #কলমে_অনিশা
#বিষয়_রং নম্বর
#শিরোনাম_ভুল
#কলমে_অনিশা
অন্বেষা জীবনে প্রথমবার বাঁধন ছেঁড়া মুক্ত জীবনের স্বাদ পেল। ওরা চার বন্ধু ক্লাশ অফ করে কলেজের সামনেই স্বাতীদের কোয়ার্টারে গেল। কয়েক মাস আগে ও এই রকম ক্লাশ অফ করার কথা ভাবতেও পারতো না। ওর মা-বাবা বাড়িতে ছিলেন না। স্বাতীর বাবা টেলিফোন অফিসে চাকরি করেন। তাই ওদের টেলিফোন বিল অফিস থেকেই দিয়ে দেয়। তখন টেলিফোন বুথে একটা ফোন করতে তিনটাকা করে নিত। তাই ইচ্ছে করলেই ফোন করে এত গল্প করা যেত না। তাই ওরা আজ স্বাতীর বাড়িতে বসে আড্ডা দেবে আর যার যত ফোন করার আছে করে নেবে।
আড্ডা, ফোন করা সব হয়ে গেছে। কিন্তু কলেজ শেষ হওয়ার টাইম এখনো হয় নি। এত তাড়াতাড়ি তো বাড়ি ফেরা যাবে না। এবার কি করা যায়? অন্বেষাতো ওর বয়ফ্রন্ডকে ফোন করলো না। শুরু হলো অন্বেষার ওপর ঝামেলা। ও যতই বোঝাতে চেষ্টা করে ওর কোন বয়ফ্রেন্ড নেই, বন্ধুরা ততই ওকে চেপে ধরে। শেষে জোর করে ওর মানিব্যাগ থেকে ছোট্ট টেলিফোন ডিরেক্টরি বের করে ওরা। এমার্জেন্সির জন্য ফোন নম্বর লেখা সবার ব্যাগে রাখা থাকতো। ওরা সেখানে খুঁজতে খুঁজতে সুমন বলে কারুর নাম পায়। "এই, সুমন কে রে?", বন্ধুরা জিজ্ঞেস করে। অন্বেষা হঠাৎ লজ্জা পায়। বলে ওঠে, "এই, না না প্লিজ্, ওকে করিস না ফোন।" বন্ধুরা আরো মজা পেয়ে যায়, "কি হলো? তুই লজ্জা কেন পাচ্ছিস?" ফিজিক্সের স্যারের মাসতুতো ভাই সুমন ওদের সঙ্গে বসে টিউশন নিত। সুমনের চোখের সমস্যা আছে। কথা বলতে গেলে দুটো চোখ দুদিকে চলে যায়। যাকে বলে ট্যারা। তাই নিয়ে ওর মনের দুঃখ অন্বেষাকে বেশ নাড়া দিত। অন্বেষা অনেক কষ্টে লুকিয়ে স্যারের টেলিফোন ডিরেক্টরি থেকে ওর ফোন নম্বরটা নিয়েছিল। যদিও নিয়ে কি করবে তখনো কিছু ভাবতে পারেনি।
বন্ধুরা জোর করে ফোনে ডায়াল করে অন্বেষার হাতে ফোনটা ধরিয়ে দিল। ওদিক থেকে সুমনের গলার আওয়াজ পেলেও অন্বেষা লজ্জায় লাল হয়ে কিছুই বলতে পারল না। ফোন কেটে গেল। বন্ধুদের উৎসাহের অভাব নেই। ওরা আবার ফোন করল। বলল, "আমার বন্ধু লজ্জায় তোমার সঙ্গে কথা বলতে পারছে না। তুমি কাল নাগেরবাজার অটো স্টান্ডের সামনে ঠিক চারটের সময় দাঁড়িয়ে থেকো। ও আসবে আর তুমি ওকে চেনো।" কেমন বোকা হয়ে যাবে পরের দিন এইসব নিয়ে খুব হাসাহাসি করল ওরা। তারপর যে যার বাড়ি চলে গেল।
পরের দিন অন্বেষার মনটা খুব অস্থির হয়ে উঠল। অনেক বার ভাবল, "যাই, সুমনকে গিয়ে বন্ধুদের ব্যাপারে সব সত্যি কথা বলে দিই।" আবার ভাবল, "থাক, কি মনে করবে আবার। যদি ভাবে আমিই ইচ্ছে করে বন্ধুদের দিয়ে এসব করিয়েছি। আর যদি সে আমায় অপছন্দ করে!" অনেক মানসিক অস্থিরতা ও অশান্তির পর সে ঠিক করলো যাবে না। সুমন দাঁড়িয়ে থেকে থেকে ফিরে যাবে আর ভাববে কোনো রং নাম্বার থেকে ফোন এসেছে।
পরের শনিবার ক্লাশে গিয়ে একবার ও সুমনের দিকে তাকাতে পারেনি সে। ছুটি হয়ে গেলে সবাই বেরিয়ে যাওয়ার পর ধীরে ধীরে সে বেরিয়ে এলো। কিছুতেই সুমনের মুখোমুখি যাতে না হতে হয়। কিন্তু বাড়ি থেকে বেরোতেই চমকে গেল। সামনেই সুমন দাঁড়িয়ে। বলল, "ফোন করেছিলে?" অন্বেষা নিজেকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য যা ভাবছিল তাই বলে ফেলল। বোকার মতো বললো, "আমি না তো! ওটা তো রং নম্বর।" বলেই বুঝতে পারলো ধরা পড়ে গেছে। মলিন হেসে সুমন বললো, "তুমি আমার ফোন নম্বর নিচ্ছিলে আমি দেখেছি। তোমার ফোনের আশাতেই ছিলাম। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলাম অটোস্ট্যান্ডে। জানি আমি দেখতে খারাপ। তাই বলে আমার সঙ্গে এতটা মজা না করলেও পারতে।" কথা শেষ করে সাইকেল নিয়ে ঝড়ের মতো চলে গেল। অন্বেষা কথা বলার অবকাশটুকু ও পেল না। আর কখনো সুমনের সঙ্গে অন্বেষা কথা বলার সুযোগ ও পায়নি কারণ সুমন আর পড়তে আসে নি।
কপিরাইট রিজার্ভ ফর @অনিশা কুমার
রথ কলমেঃ নন্দিনী তিথি
ওদের বিয়ের বয়স সাত বছর। প্রতিবছরই ওরা রথের দঁড়ি টেনে পুরো শহর ঘুরে। শুধু গতবছর মিনাক্ষী প্রেগন্যান্ট থাকার কারণে রথে যাওয়া বাতিল করেছিল। মুখটা মলিন দেখে বিহিত বলেছিল সামনের বছর আবার একসাথে দু'জনে রথের দঁড়ি টানবো। বছর এলো, মানুষের মধ্যে আস্তে আস্তে দূরত্ব বাড়লো। আতঙ্কপূর্ণ দিনগুলো গুনতে গুনতে রথের দিন হাজির।
কিন্তু, মানুষের অবস্থা ভয়ঙ্কর পর্যায়ে যেতে দেখে আজ চলছে সারাদেশ জুড়ে শাটডাউন!
Copyright © All Rights Reserved Nandini Tithi.
রবিবার, ১১ জুলাই, ২০২১
কালো রং (কলমে পিয়ালী চক্রবর্তী)
কালো রং
#কলমে_পিয়ালী_চক্রবর্তী
তারিখ : ১২/০৭/২০২১
হ্যালো সুইটহার্ট, কখন থেকে তোমার জন্য ওয়েট করছি! ওদিক থেকে ফোনটা ধরতেই আদুরে গলায় বলে উঠলো বর্ণা ।
ছেলেটি অর্থাৎ, রিয়াধের সাথে মাসখানেক হল বর্ণার পরিচয় হয়েছে রং নম্বরের হাত ধরে । সেদিন বর্ণার মোবাইলে রং নম্বর থেকে একটা ফোন আসে । সেই প্রথম পরিচয় ওদের দুজনের । সেই পরিচয় বন্ধুত্ব ও প্রেমে পর্যবসিত হতে বেশী সময় লাগেনি । রিয়াধকে কোনোদিন সামনাসামনি দেখেনি বর্ণা । ফোনে, চ্যাটে, ভিডিওকলে ওরা এসেছে একে অপরের কাছে । কাছে বলতে ঠিক যতটা কাছে আসা যেতে পারে ততটাই কাছে । বর্ণা ভিডিও কলে নিজেকে উজাড় করে দিয়েছে রিয়াধের কামাতুর দৃষ্টির সামনে ।
আজ সকাল থেকে রিয়াধ একবারও ফোন করেনি । বর্ণা তাই ফোন করেছে নিজেই । বর্ণার আদুরে ডাকের প্রত্যুত্তরে ওদিক থেকে এলো একাধিক জনের অট্টহাসির গলা । রিয়াধ নয়, অন্য একজন ফোন ধরে বললো, "মোবাইলে একটা লিঙ্ক পাঠিয়েছি, খুলে দেখো মামনি ।"
লিঙ্কটা খুলে বর্ণার মাথায় যেন বাজ পড়লো, সারা পৃথিবীটা দুলে উঠলো ওর সামনে । ও ভিডিও কলে রিয়াধের কাছে যেমনভাবে নিজেকে সমর্পণ করেছিল, তার স্ক্রিন রেকর্ডিং রয়েছে এতে । কিছুক্ষণের মধ্যেই সেন্ডার সেই ভিডিও ডিলিট করে দিলো । তারপর আবার কল এলো বর্ণার কাছে । কাঁপা কাঁপা গলায় ফোনটা ধরলো বর্ণা, "হ্যালো!"
ওদিক থেকে : আজ রাতে আমাদেরকে সব দেখাতে হবে মামনি । নাহলে এই ভিডিও পর্ণ সাইটে আপলোড করে দেবো । পুলিশের কাছে যাবার চেষ্টা করে লাভ নেই । এই ভিডিওর কপি যে কোথায় কোথায় আছে ভাবতেও পারবেনা মামনি ।
বলেই ফোনটা কেটে গেল ।
অকুল পাথারে বর্ণা । রং নম্বরের রং যে এভাবে ওর জীবনে কালো রং লেপে দিয়ে যাবে তা ও ভাবতেও পারেনি । নিজেকে একটা অপরিচিত ছেলের কাছে মেলে ধরার আগে এই সামান্য চিন্তাটা ওর মাথায় আসেনি যে, হোয়াট উইল বি দ্য কনসিকোয়েন্স ফর হার অ্যাক্সন !
Copyright © All Rights Reserved to Piyali Chakravorty
রং নম্বর (কলমে মেঘকন্যা চ্যাটার্জী)
রং নাম্বার
কলমে : মেঘকন্যা চ্যাটার্জী
"হেই বেবি ,আমি তোমার অর্ঘ্য,জাস্ট এয়ারপোর্ট থেকে বেরিয়েই তোমাকে কল করছি,আজ পুরো ৩ বছর পর আমাদের দেখা হবে,রেডি থেকো হানি,আজ সারাটা দিন আমরা বাইরে স্পেন্ড করবো"---কথা বলার ধরণ আর কথা গুলো শুনে হৃদয় দুলে উঠলো সৌরসেনির।
একটু ধাতস্থ হয়ে,কোনরকমে,"রং নাম্বার" বলে ফোন কেটে দিলো সে।
পাশে শুয়ে থাকা বছর আড়াইএর শুভকে বুকে জড়িয়ে,দেওয়ালে টাঙানো অর্ঘ্যের ছবির টাটকা রজনীগন্ধার মালার দিকে চেয়ে হারিয়ে গেলো সে,ফিরে গেল পুরোনো সোনালী দিনগুলোয়,কান্না হয়ে ঝরে পড়লো ,বুকে চেপে রাখা কষ্ট-দুঃখ।
এরকমই একটা রং নাম্বার ,তার জীবনের সবচেয়ে বড় সুখ হিসাবে অর্ঘ্য বসু অর্থাৎ তার স্বামীকে নিয়ে এসেছিলো তার জীবনে।তিনবছর আগে,এই দিনেই,সে যখন পাঁচমাসের প্রেগন্যান্ট, তখনই এক জরুরি কাজে অর্ঘ্য আর ওর অফিস টিমের ইংল্যান্ড যাওয়ার প্লেনটা ক্র্যাশ করতেই,ওর জীবনের সব আলো একসাথে নিভে যায়।
শুধু ,নতুন প্রাণের অস্তিত্বের কথা ভেবে আত্মহত্যাটা করতে পারেনি সেদিন।
এসব কথা ভাবতে ভাবতেই ,ট্রু কলার ইনস্টল করা মোবাইলের স্ক্রিন জুড়ে আবার,নাম ভেসে উঠলো অর্ঘ্য বসু কলিং....
©Copyright protected for Meghkonya Chatterjee
আধ্যাত্মিক আলোচনা # শর্মিষ্ঠা ভট্ট
রবিবাসরীয় আধ্যাত্মিক আলোচনা-বাসরে আজকের বিষয় *আত্মার মুক্তির জন্য পারলৌকিক ক্রিয়া জাতি ভেদে ভিন্ন ভিন্ন হয় কেন?*
এটি অতি সাধারণ সমাধান। জাতিভেদের ফলে পূজা আচার বিচার জন্ম থেকে মৃত্যু সব ভিন্ন হয়, তাহলে পারলৌকিক ক্রিয়া এক সামাজিক লোকাচার অবশ্যই পৃথক হবে। অবশ্যই কেবল ধর্ম ভেদে নয়, জাতি ভেদেও ভিন্ন হয়, প্রাদেশিক বিভিন্নতায় ভিন্ন হয়। বিষয়টি বিস্তৃত বিচার করা যাক।
ধর্ম ভেদকে যদি এখানে জাতিভেদ ধরা হয় তবে সে হিসেবে এই পারলৌকিক কাজের সামাজিক প্রথাটি অন্য রকম একটি মাত্রা আনে ভিন্নতায়। যেমন মুসলিমদের মৃতদেহ দাফনের পদ্ধতি বিশদভাবে ইসলামী শরিয়তে নির্দেশিত আছে। মরদেহকে যথাযথ নিয়মে গোসল দেয়ার পর কাফন পরানো হয়। তারপর তা কবরে নিয়ে যাওয়া হয়। ২-৩ জন ব্যক্তি কবরে নেমে লাশ গ্রহণ করে এবং মাটিতে শুইয়ে দেয়। কবরে লাশ নামানোর সময় বলতে হয়: "বিসমিল্লাহি ওয়ালা মিল্লাতি রাসূলিল্লাহ"।বাংলাদেশে লাশের মাথা উত্তরে এবং পা দক্ষিণে রেখে লাশ মাটিতে শোয়ানো হয়। মরহুমের মুখমণ্ডল পশ্চিমমুখী ক'রে দেয়া হয়, চোখ খোলা থাকলে তা চেপে বন্ধ করে দেয়া হয়। কাফনের কাপড় আটকে রাখার জন্য মাথার কাছে, পায়ের কাছে এবং পেট বরাবার লাগানো ফিতায় দেয়া গেরোসমূহ খুলে দেয়া হয়। এরপর আড়াআড়ি ভাবে বাঁশের টুকরা দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়। তার ওপর বাশেঁর চাটাই বিছিয়ে লাশের গায়ে মাটি পড়ার সুযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়। এর পর ধীরে ধীরে মাটি দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়।সিন্ধুকী কবর" এবং "বগ্লী কবর"। মধ্যপ্রাচ্যের শক্ত মাটিতে বগ্লী কবর খোদাই করা হয়। আবার বাংলাদেশের মাটি নরম বিধায় সাধারণত সিন্ধুকী কবর করা হয়।
অন্যদিকে খ্রীস্টানদের কবর দানের পদ্ধতি মৃতদেহ পূর্ব পশ্চিম শোয়ানো হয়। এবং কফিনেই মাটি দেওয়া হয়। ইহুদিদের মৃতদেহ ও পারলৌকিক কিন্তু আলাদা। মিশরের পিরামিড ও ধনসম্পদ দানের পদ্ধতিতে মনে করা হত পরকালে যাত্রায় এসব তাদের প্রয়োজন হবে। হরপ্পা সভ্যতায় অনেক মৃতদেহ বসিয়ে রাখাও পাওয়া গেছে। জাপানে এমন এক নিয়ম আছে শোনা যায়। প্রাচীন মিশরের এই দেহকে অমরত্ব দানের প্রচেষ্টা বিশেষ চর্চিত। এবার যদি একটু দেশের ভেতরে ঢুকে এই পারলৌকিক ক্রিয়ার ওপর নজর দেওয়া যায় তবে অবাক হয়ে কেবল বলতে হয়.... বিবিধের মাঝে মিলন মহান । তাই তামিলনাড়ুতে মৃতদেহ যাত্রা কালে হিন্দু সমাজে পটাকা বাজি ইত্যাদি পোড়ানো হয়। এক দেহ ছেড়ে অনেক দেহে প্রবেশ করার এই অশৌচ কয়েকটি দিন বিপুল আড়ম্বরপূর্ণ হয়। বিধবা চিৎকার করে কান্না কোন কোন যায়গায় নিশিদ্ধ। এমন বৈচিত্র্যময় কেবল মাত্র হিন্দু পারলৌকিক কত রকম পদ্ধতিতে ভরা। ব্রাম্মনদের যেখানে এগারো দিনে সব শেষ, অন্য জাতের তাই পনেরো দিনে। এই বিষয়ে বিশদ ব্যাখ্যা এখানে প্রয়োজন তবু সময়াভাবে বলবো পূর্ব ভারতীয় পদ্ধতি আরও অন্যরকম। স্নানের পদ্ধতি এবং দিন গননায় আলাদা রকম নিয়ম। এমনকি ঘাটে ওঠার যে পদ্ধতি বাঙলায় বিশেষ প্রচলিত তা অনেক যায়গায় উহ্য। সময়ের অভাব ও স্থানাভাবে পনেরো দিনের ব্রম্ভচর্যের বিশেষ পরিবর্তন এসেছে। সুতরাং কেবল জাতি বা ধর্মীয় ভাবে ভিন্নতা নয় সময়ের আবেদন মাথায় রেখে হিন্দু পারলৌকিক কাজ একটু একটু করে কায়া বদল করছে। সামাজিক প্রয়োজন মাথায় রেখে যেমন পারলৌকিক ক্রিয়ার প্রতি মানুষের আগ্ৰহ ছিল। কালের হাত ধরে তা যেমন এক রিতি বা ট্র্যাডিশন হয়ে উঠেছে, তেমনি পরিবর্তন হয় পারলৌকিক কর্ম। যেমন পার্সিদের একান্ত নিজস্ব পারলৌকিক নিয়ম পক্ষি দিয়ে শবদেহ ভোজন। কিন্তু ভারতের পলিউশন শকুন জাতীয় পাখির ধংসের কারন হয়ে ওঠায় ওরা কবর কিংবা দাহকে পারলৌকিক কর্মে ইনক্লুড করতে দ্বিধা করেনি। উত্তর প্রদেশে থাকা পার্সি সম্প্রদায় ওদের মৃতদেহ সৎকারের স্থানাভাবে দাহকে নিজস্ব করে নিয়েছে। কবরের আধিক্য বৃদ্ধি এবং বসতির প্রয়োজন হেতু হয়ত কখনও পারলৌকিক ক্রিয়ার এই অংশটির পরিবর্তন আসতে পারে।
পারলৌকিক ক্রিয়া পরিবর্তন জাতের ফারাকে । উচ্চ নীচ, এমনকি সন্ন্যাসীদের মৃতদেহ রাখা ও আচর পালনে বিশেষ পার্থক্য থাকে। বৌদ্ধদের এই বিষয়ে বিশেষ পার্থক্য লক্ষনীয়। তিল দানের পদ্ধতি পূব ও পশ্চিম ভারতের অনেক পার্থক্য আছে। পূব দিকে যেমন যে কোন পোশাকেই মৃতদেহ দর্শন ও পারলৌকিক কাজে অংশ নিতে পারে আত্মীয়। পশ্চিম ও উত্তর ভারতে সাদা পোশাকের চল ইদানীং উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিছুটা হিন্দি ফ্লিমের ছায়া বলা চলে। তাই গতিমান এই সমাজের আবেদন রক্ষায় আচার ব্যবহারের মতো পারলৌকিক কাজ পরিবর্তনশীল। রাজস্থানে রুদালী সর্বজনীন প্রসিদ্ধ। কাঁদা জন্য লোক ভাড়া করে আনা হয়।
# নাম- আত্মা ও পারলৌকিকতা। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।
#বিষয়-আধ্যাত্মিক আলোচনা। #অনুগল্প-শেষ ইচ্ছে #কলমে -সোমা দে।
শনিবার, ১০ জুলাই, ২০২১
আলোচনা # সুদ্যম্বু # লেখায় : শর্মিষ্ঠা ভট্ট
আজকের শব্দটি এত সুন্দর..... ভেসে যেতে ইচ্ছা করে সুদূর অতীতের পথে। চলেছে আমি সাথে তোমরা, আমার মৈত্রেয়ী গার্গীর দল। ধীমায়ী সূর্যতপা গঙ্গা তখন নব যৌবনা তন্নি । এখনের মতো স্থাপত্য আর নাগরিক যন্ত্রনায় হারাননি তিনি। স্ফটিকের মতো তার রূপ। পবিত্র সুস্বাদু পর্যাপ্ত আলোক প্রাপ্ত তিনি। আমাদের প্রানদাত্রী গঙ্গা। মানবকল্যাণমুখী জলধি বরুণ চঞ্চলা, অম্বু উপাধিধারী কল কল্লোলিনী। ভেসে চলেছেন আপন মনে। তার পাশ বেয়ে ঘটছে মহাভারত কথা। জম্বুদ্বীপের ইতিহাস বদলে যাচ্ছে। কাব্য সাহিত্যে সৌন্দর্য, ইতিহাসে সেই সুদ্যম্বু ধ্বংসিনী। কালচক্রে ঘটে যাওয়া ঘটনা চলমান চিত্রপটে দেখে দেখে এগিয়ে চলেছি। পবিত্র তুমি গঙ্গা।
জর্ডান নদীর তীরে অবস্থিত সভ্যতার বিকাশ। পবিত্র সে নদী। খ্রীস্ট নবী মুসার সমাধি এর কোলে। জর্ডান, আমরা দাঁড়িয়ে আছি তোমার পাশে। সুদ্যম্বু তুমি ও কি গঙ্গার মতো? আরবিতে তুমি শরীয়ত নদী। গলীলসাগর থেকে মৃত সাগরের দিকে কত কত কাল ধরে ছুটে চলেছো। শিশুদের তোমার জলে ধুয়ে তবেই অপসুদীক্ষা দেয় খ্রীষ্ট ধর্মে। তুমিও তো সুদ্যম্বু। উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা। ইসরাইল রীরা তোমায় পার করেই প্রতিজ্ঞাত দেশে প্রবেশ করেছিল। এই নদীর তীরে নসরতীর যীশু কে বাপ্তিস্ম করা হয়েছিল। দীর্ঘ ইতিহাস, মানুষের প্রয়োজনে পবিত্রতা র তকমা পরেছো। পরিবর্তন এসে বারে বারে তোমাদের মানুষের সামাজে তোমাদের অস্তিত্বের আবেদন ঘেঁটে গেছে। অধিকার প্রয়োজনের লড়াইয়ে অপবিত্র ও স্রোত হীন হয়েও বজায় রেখেছো একটিই উপাধি *সুদ্যম্বু*.... ©কপিরাইট সর্তকত শর্মিষ্ঠা ভট্ট।।। 🙏ধন্যবাদ
#কবিতা: সুদেষ্ণা লেখনি কেন?শর্মিষ্ঠা ভট্ট*
*সুদেষ্ণা লেখনি কেন?*
সুদেষ্ণা লেখনি কেন?
কোন সে ধানসিঁড়ি নদী তীরে গেছো কি বেড়াতে!
কোন মুগ্ধতার জাল এখনো
দু চোখের কাজল জুড়ে,
এখনো কি বসে আছো সোনালী বুননের ইতিহাসের দেশে!
সখী ফিরে যায়
দরজায় দিয়ে যে তালা, করেছো বন্ধ সমস্ত আস্তিক দৃশ্য।
খুলেছো কি সেই পরিচিত জানলা খানা?
যেখানে কাঠবিড়ালী আসে বাদমের বনে
কিংবা পানকৌড়ি আজও ঢোবে জলে।
আজো কেউ উকুলেলা হাতে
বসে আছে খেজুরের ছায়া মেখে।
বাঞ্জারা সুর ভাসে,
কোথায় বলো তো!
কোথায় যেন আজও জিপসি নাচে,
আজও কেউ ভালোবাসা নিয়ে
দাঁড়িয়ে আছে কল্মি ঢাকা পুকুরের পাড়ে।
এখনও হয়ত নবাবের ঘরে বাজরা থামে,
নবদ্বীপের নিমাই এখনও পাগল হরি নাম গানে।
ভেসে গেছো কোথায় কে জানে,
চেষ্টা করো না আর আজ রাতে ফিরবার থাকো আপন মনে😊©শর্মিষ্ঠা ভট্ট।।
#অনুগল্প *স্ত্রৈনর স্ত্রী* ©শর্মিষ্ঠা ভট্ট
*স্ত্রৈনর স্ত্রী*
©শর্মিষ্ঠা ভট্ট
অমল কান্তি কে আমি শিশুকাল হোইতেই চিনি । বড়ো আকারের সাহিত্যিক হতে পারিবে।আসলে উহার মা আমার ঘরের সাহিত্য বৈঠকের আগ্ৰহী সদস্যা।
এদিকে পাড়ার কমলা বৌদি হসপিটালে। তাহার কথা মনে হইল। জগোধাত্রীর মতো দেহারা লাল পাড় শাড়ী পরে এক কপাল সিঁদুর দিয়ে যখন বের হতেন বড়ো ভক্তি হোইত। ওনার স্বামী কে পেছনে ও সামনে লোক স্ত্রৈন বলিত। বৌদি যে কেমন করিয়া কি বিধি প্রয়োগ করিয়া স্বামী রত্ন টিকে এমন যাদু করিয়াছেন সেই নিয়ে চর্চা কম হোইত না। ওনার স্বামী কমলেশদা বড়ো নিরীহ ও ভালো মানুষ। স্ত্রী র সাথে লেপ্টে যে কোন যায়গায় যাওয়া। গিফট ও সোহাগের বর্ষাদ করিয়া আমাদিগকে কমপ্লেক্স খাওয়াইয়া রাখিতেন।
হঠাৎ কয়ক বৎসর আগে হৃদ যোগে কমলেশদা চলিয়া গেলেন। বৌদির প্রিয় বলিয়া সর্ব প্রথম ছুটিয়া যাইলাম। উনি কানে কানে বলিলেন, অমল কান্তি মুখাগ্নি করিবে। বৌদি এত পরিচিত নহে তবু উহার নাম করিতে জিজ্ঞাসু দৃষ্টি মেলিলাম। নিঃসন্তান দম্পতির কমলেশদা নিঃসন্তান নহে। অমল কান্তি র মাকে কমলেশদাই আমার সাহিত্যের আসরের খবর দিয়া ছিলেন। সময় কাটাইবার এক অনন্য উপায় ভাবিয়া। আকাশ হোইতে পড়িলাম। তাহোইলে এই যে যুগল দম্পতির এত খ্যাতি! বৌদি বলিলেন ও কেবল নাটকের সুবিন্যস্ত রূপ। যেমন তোমার সাহিত্যের জগতে প্রয়োজন হীন হাসি মাখাইয়া সম্পর্ক তৈয়ারি হোইতেছে । আসল সত্য কজন দেখিতে চায়। সকল সম্পর্কে এক পর্দা থাকিয়া যায়। তাহা হইলে বড়ো জঘন্য রূপ সামনে আসিয়া পড়ে। তাই বৌদি স্ত্রৈনর স্ত্রী হইয়া কাটাইয়া দিলেন। বাইরে আসিয়া আমি অমল কান্তি র নাম নিতে বড়ো গোলোযোগ। এই নাটকের আর এক পর্দা টাঙাইয়া দিলাম। বৌদির কথা না তুলিয়া বলিলাম আমার একান্ত ইচ্ছা।
এখন পাড়ায় আমি স্ত্রৈনর স্ত্রী বলে পরিচিত। আড় চোখে ওনাকে দেখি আর ভাবি যদি এই শব্দটি অভিধানে না থাকিত🤔
শিরোনাম - যদি স্মৃতি বিক্রি হতো✍️ ডা: অরুণিমা দাস
শিরোনাম - যদি স্মৃতি বিক্রি হতো ✍️ ডা: অরুণিমা দাস অহিংসা পরম ধর্ম হওয়া উচিত। কিন্তু মেনে কি চলা যায় সেকথা? হিরোশিমা দিবসে মনে হয় স্মৃতি ...
-
ঘোষ বুড়ী ©সুদেষ্ণা দত্ত গ্রামের নাম সুন্দরগ্রাম--বাংলা মায়ের কোল ঘেঁষা সুজলা,সুফলা,শান্তির নীড় ঘেরা এক গ্রাম।গ্রামের অধিকাংশ লোকই কৃষি...
-
আমার অকাজের লিস্টি ✍️ ডা: অরুণিমা দাস ২০২৫ এ পড়ে ফেলা বইগুলোর তালিকা তৈরী করেই ফেললাম। ভিন্ন স্বাদের সব বইগুলো। মন ভালো করে দেয়। তালিকা...
-
অণু গল্প ----সাথী হারা। কলমে-- পারমিতা মন্ডল। দীঘার সমুদ্রে একা একা হেঁটে চলেছে সৈকত । এই বালুকাবেলায় , রামধনু রং আকাশের দিকে তাকিয়ে মনটা বড়...


















