রবিবার, ১৮ জুলাই, ২০২১

বিষয় : *আধ্যাত্মিক আলোচনা* ©শর্মিষ্ঠা ভট্ট

 বিষয় : *আধ্যাত্মিক আলোচনা*

©শর্মিষ্ঠা ভট্ট



ছোট বয়সে ভূগোল বই পড়তাম রাজমহলের পর থেকে সমুদ্র পর্যন্ত গঙ্গার গতি স্হির। উচ্চ ও মধ্য গতির পর এখান থেকে শান্ত, গজেন্দ্র গামিনী। সমুদ্রের সাথের মেলার প্রথম দ্বিতীয় চঞ্চলতা কাটিয়ে ধীময়ী সে। মিলনের আনন্দ যত  কাছে আসে তত মনের মাঝে গাম্ভীর্য ও স্থিতু অনুভূত হয়।এত তো প্রকৃতির শৃংখলা। মানুষ বা সমস্ত জগৎ এমন এক অনিবার্য শৃংখলার মাঝে ভ্রমণ করে চলছে। গতকাল বিজ্ঞান আলোচনায় গতিময়তা তত্ত্বের মাঝে এই গতির সুন্দর ব্যাখ্যা উপলব্ধি করা গেছে। থাক ওসব তত্ত্ব। 


আবার ফিরে যাই ঘরোয়া কথায়। চারি দিকে কাজ আর জীবনে পাবার দৌড়াদৌড়ি। সর্বত্র এক উন্মাদ ছোটাছুটি । কিন্তু তার মধ্যে এক সচেতন জিনিস আছে যা গতিময় চঞ্চলতাকে কারন দেয়। তা আমাদের মন। মন খোঁজে ছোটার শেষ ফিতে। কেন এই ছোটাছুটি!!কি আশায় রোজ লিখি? কেন এই খাওয়া শোয়া, কেন দেশ বা নিজস্ব সম্পত্তি বাঁচাতে রক্ষী হয়ে যাই। কেন ছোট কথায় দুঃখ মনকে বিচলিত করে? কারন এই সব কর্ম। এই সব কার্য, যার কারন আছে বলেই সমস্ত জগৎ চলছে। চরৈবতি । এই ধাবমান চলনের শেষ বিন্দু তিনি। সেই পরম ব্রহ্ম। শুণ্য বাদ। শুণ্য থেকে শুরু শূণ্যতেই শেষ। সেই জ্যতির্ময়  বিন্দুর দিকে অহরহ এগিয়ে চলা। যা শান্ত অনন্ত তরঙ্গ হীন। সেই অমিয় সত্য অমৃতময়, হয়ত ঈশ্বর।কিংবা বিশ্বাসে বসা কেবল আলো। এই চলা জন্ম জন্মান্তরের হতে পারে। তবু মিলন সুখে ছোটা। 


এই যে চাহিদার অসংখ্য গুঞ্জন তা হয় এ জন্মের শেষেও নিবৃত্ত হয় না, আত্মার মধ্যে দিয়ে ভেসে চলে পিউরিফিকেশন বা বারে বারে সংস্কারের মাধ্যমে। বৌদ্ধ ধর্ম হিন্দু ধর্ম এই চলনকেই জন্মান্তর চক্র বলেছেন। 


আরও সহজ করে শেষ করি। এই যে রেজাল্ট ভালো চাকরি চকচকে মানুষ দেখলে একটু গলে যায় সমাজ। ভালো ও আরও ভালোর প্রতি আকর্ষণ এক নেশাগ্রস্থ জীবনের কাহন লিখে চলে। কিন্তু শান্ত সুন্দর শ্যামলাজীর সে বাঁশি। তিনি যে গ্রহণ করার জন্য দু হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে। ধীময়ী মনে অনুভূত হলে তবেই আধ্যাত্মিক জীবন পথের শুরু। গঙ্গার নিম্ন গমন। ধীরে ধীরে অন্তর হয়ে ওঠে আলোকময়, নৈবৃত্তি। সংসার কোলাহলে থেকেও উত্তেজনাহীন শুদ্ধ চেতনা বিরাজ করবে এই অনিত্য দেহে। ওম্............ বিশাল শক্তি যেমন গ্রহণ করে সামান্যকে, সমুদ্রের বিশালকায় মিশে যায় মন। লেখক লেখনী যেমন ঠিক করেছে বিশালাকার চিন্তার দিকে ধাবিত হবে। ঠিক তেমনই সুন্দর অসাধারণ অনবদ্য বিচারহীন অকৃত্রিম চৌম্বকীয় শক্তির কেন্দ্রে মিলন হতে ছুটে চলা। অচঞ্চলতা সব তর্ক সমাপ্ত করে। ধন্যবাদ🙏💕

1 টি মন্তব্য:

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...