#বিষয়_চিলেকোঠা
#নাম_সেদিন
#কলমে_অনিশা
অনিন্দ্য ভাবতেও পারেনি হঠাৎ সে নিজেই এতটা নস্টালজিক হয়ে পড়বে। সুনন্দাদের চিলেকোঠার ঘরটা ছিল ছোটদের সাম্রাজ্য। সুনন্দার মায়ের ঠাকুর ঘর করার কথা ছিল ওটা। কিন্তু ওই তিনতলা অব্দি বারবার ওঠানামা করা ওনার পক্ষে সম্ভব নয় বলেই ঘরটা পড়ে ছিল। ওখানে অব্যবহৃত জিনিসপত্র রাখা থাকতো। তার মধ্যে একটি অপ্রয়োজনীয় ক্যাশবাক্স ছিল। অনিন্দ্য প্রথম আইডিয়া দেয় সুনন্দাকে, "সু দেখ, তোর পুতুলের সব এর মধ্যে রাখতে সুবিধা হবে। একটা পড়ার ঘর, একটা রান্নাঘর, একটা বসার ঘর আর মাঝখানটা শেয়ার ঘর।" কিন্তু সুনন্দার মুশকিল হলো পুতুলের শোয়ার ঘরে দরজা নেই তো। সেই সমস্যার সমাধান ও অনিন্দ্য করে দিয়েছিল, পুরো বাক্সের ঢাকাটা বন্ধ করে। পুতুল সাজানোর এত সুন্দর ব্যবস্থা আর তার ওপর এত সুন্দর সমাধান পেয়ে সুনন্দা আনন্দে জড়িয়ে ধরেছিল অনিন্দ্যকে। ভালো লাগায় ভরে গিয়েছিল দুটি মন। এরপর আশে-পাশের বাড়ির সোমা, মিনতি, কাজল সবাই আসত। ওখানে চলত লুডো, বাঘবন্দী এমন অনেক খেলা। কিন্তু খেলা শেষ হলে সুনন্দা বাড়ির গিন্নির মতো বলত, "এবার সব বাড়ি যাও তো! আমি পুতুলদের ঘুম পাড়িয়ে আসবো।" অনিন্দ্য যেত না। যেই বাকি সবাই চলে যেত, সুনন্দা বাক্সের ঢাকা বন্ধ করে ওর সামনে দাঁড়াতো। অনিন্দ্য ওর এক মাথা ঝাঁকড়া চুলে মুখ ডুবিয়ে ওকে জড়িয়ে ধরত। এক ভালো লাগার জগতে ওরা হারিয়ে যেত। দুটি শিশুর এ এক অনন্য অনুভুতি।
এরপর কেটে গেছে অনেক বছর। অনিন্দ্য কৈশোরে পা রেখেছে। সে এখন কলকাতায় মামার বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করে। সুনন্দার পিসির বিয়েতে এসেছে বাড়ি। চিলেকোঠার ঘরটা খালি করতে হবে। ওখানেই সব ভাঁড়ারের জিনিস পত্র রাখা হবে। খালি করতে হবে শুনেই দুজনে ছুটল সেই খেলাঘরে। সুনন্দা গিয়ে খুলল তার ক্যাশবাক্স। তেমনি গোছানো পড়ে আছে পুতুলের সংসার। ছোটবেলার ছেলেমানুষী গুলো মনে পড়তে হেসে বন্ধ করল বাক্সের ডালা। অনিন্দ্য ও সেদিনের মতো হাত বাড়ালো সুনন্দার দিকে। সচকিত হয়ে উঠল সুনন্দা। শুধু মুখ থেকে বেরিয়ে এলো, "ছিঃ।"
ছিটকে বেরিয়ে গেল ঘর থেকে অনিন্দ্য। বাবা বেরোচ্ছিলেন গাড়ি নিয়ে কলকাতায় ফিরবেন। ওদের রেখে দিয়ে গেলেন, নিজে আবার বিয়ের দিন আসবেন। অনিন্দ্য গিয়ে বসে পড়ল গাড়িতে।
@কপিরাইট রিজার্ভ ফর অনিশা কুমার।
বাহ্! বেশ সুন্দর লাগল।অসাধারণ! 👌👌⚘⚘
উত্তরমুছুন