বুধবার, ২১ জুলাই, ২০২১

#ভৌতিক গল্প -হিংসা। #কলমে -সোমা দে।


জোসেফ ও অ্যানি দুজনেই স্বামী-স্ত্রী।দুজনেই কলকাতার টি সি এসে কর্মরত। প্রতিবারের মতো আজও দুজনে অফিসের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে নিজস্ব গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছেন। জোসেফ নিজেই গাড়ি ড্রাইভ করেন। অ্যানি জোসেফের সঙ্গে গাড়ির সামনে সিটে বসে মোবাইল দেখছিলেন। হঠাৎ সে শুনলেন জোসেফের চিৎকার। দেখলেন জোসেফ একদৃষ্টে গাড়ির সামনে কি যেন দেখছেন আর বলছেন "আমার ভুল হয়ে গেছে। আমাকে ক্ষমা করে দাও। " অ্যানি জোসেফকে গাড়ি থামাতে বলবেন ঠিক সেই সময় জোসেফের গাড়ি ব্রেকফেল করে রাস্তার পাশে একটি বড় গাছে ধাক্কা মারলো। 

অ্যানির যখন জ্ঞান ফিরলো সে দেখলো যে, সে হসপিটালের বেডে শুয়ে আছে। অ্যানি তাড়াতাড়ি তাঁর বেড থেকে উঠে পড়লেন। পাশেই ছিল এক নার্স। তাকে জোসেফের কথা জিজ্ঞাসা করাতে সে অ্যানির হাতে একটি কাগজ ধরিয়ে দিলেন। অ্যানি দেখলেন কাগজে জোসেফ লিখেছেন "আরুনি ফিরে  এসেছে।"এই লাইনটি পড়ে অ্যানি প্রচন্ড ঘামতে শুরু করলেন। সে পাশে দাড়িয়ে থাকা নার্সকে জিজ্ঞাসা করলেন "জোসেফ কোথায়? "

অ্যানি খেয়াল করলেন তাঁর রুমের লাইট নিভে গেছে।সে শুনতে পেলেন একটি বিকট হাসির আওয়াজ। অ্যানি সেই হাসির আওয়াজ আর সহ্য করতে পারছিলেননা । এতক্ষণে সে খেয়াল করলেন ঘরের আবছা আলো দেখা যাচ্ছে। তারপর দেখলেন আরুনি  নার্সের ড্রেস পড়া অবস্থায় সামনে এসে দাড়িয়ে আছে। 

ছয় সাত মাস আগের কথা। জোসেফ -অ্যানির অফিস ফ্রেন্ড ছিল আরুনি। অফিসেই তাদের পরিচয়। আরুনি ছিল প্রচন্ড ব্রিলিয়ান্ট ও হার্ড ওয়ার্কার। অফিসের বস আরুনির কাজে খুশী হয়ে আরুনিকে একদিন প্রোমোশন লেটার ধরিয়ে দেন। কিন্তু জোসেফ ও অ্যানি আরুনির এই প্রমোশন মেনে নিতে পারলেননা। তারা একদিন আরুনিকে তাদের বাড়িতে নিমন্ত্রন করেন ।তারা আরুনির খাওয়ারে বিষ মিশিয়ে দেন। আরুনি সেই খাবার খেয়ে মাটিতে পড়ে ছটফট করতে করতে শেষ হয়ে যায় ।জোসেফ ও অ্যানি আরুনির বডি সমুদ্রের জলে ফেলে দিয়ে আসেন। তারপর সবাই জেনেছিল আরুনি কোথাও পালিয়ে গেছে। 

আরুনিকে সামনে দাড়িয়ে থাকতে দেখে অ্যানির গলা শুকিয়ে গিয়েছিল, সে চিৎকারটাও করতে পারছিলেননা। আরুনি বলে উঠলো, "তোমাকেও এবার জোসেফের কাছে যেতে হবে।গাড়ি অ্যাকসিডেন্ট হওয়ার পর তোমাদের দুজনকেই হসপিটালে আনা হয়। কিন্তু জোসেফকে কেউই বাঁচাতে পারেননি। "

রাত আটটায় হসপিটালের ডক্টর মিসেস সেনের কাছে এক নার্স ছুটে এসে অ্যানির ঘরে তাড়াতাড়ি আসতে বললেন। মিসেস সেন তাড়াতাড়ি অ্যানির ঘরে গিয়ে দেখলেন অ্যানি নিজের হাতের নার্ভ কেটে রক্তাক্ত অবস্থায় বেডে শুয়ে আছে। মিসেস সেন অ্যানির কাছে গিয়ে তাকে পরীক্ষা করলেন যে সে বেঁচে আছে কিনা। কিন্তু না অ্যানি আর বেঁচে নেই। 

সবাই ভেবেছিলেন স্বামীর মৃত্যু মেনে নিতে না পেরে অ্যানি সুইসাইড করেছিলেন। কিন্তু কেউই জানতেও পারলনা যে আরুনি তাঁকে সুইসাইড করতে বাধ্য করছিল। আরুনির অতৃপ্ত আত্মা শেষপর্যন্ত প্রতিশোধ নিল। সে এবার মুক্তি পেল। 

@ কপিরাইট রিজার্ভ ফর সোমা দে।

৬টি মন্তব্য:

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...