প্রভাতী আলোচনা-বাসর।
# বিষয় - 'চলচ্চিত্র।'
# নাম-
'মহানায়ক উত্তমকুমার স্মরণে।'
✍ - মৃদুল কুমার দাস।
ফ্রান্সে বিশ্বে প্রথম চলচ্চিত্রের শুরু ১৮৯৫ এর ২৮ ডিসেম্বরে। আর ভারতে শুরু১৮৯৬ এর ৭জুলাই বোম্বাইয়ের অধুনা মুম্বইয়ের ওয়াটসন হোটেলে। ফ্রান্সের লুই লুমিয়ের ভ্রাতৃদ্বয়ের প্রতিনিধি মিস সেসটিয়ার দেখান। তাই ভারতে চলচ্চিত্রের সূত্রপাত। আর কলকাতায় মতিলাল সেনের রয়্যাল বায়োস্কোপ কোম্পানি দিয়ে ১৯৯৮ থেকে শুরু হয়। তারপর ১৯০২ এ এলো মুভি ক্যামেরা। আর অন্যদিকে বাংলা সিনেমা দেখানোর প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেল পারসী ব্যবসায়ী জে এফ ম্যাডান এর হাত ধরে। ১৯০২ এ চলচ্চিত্র শুরু হল কলকাতার ময়দানে তাঁবু খাটিয়ে। তার দু'বছর পরে তিনি তৈরি করলেন ম্যাডান থিয়েটার গ্রুপ। সে ছিল নির্বাক চলচ্চিত্রের যুগ। ম্যাডানের প্রথম চলচ্চিত্র দাদাসাহেব ফালকে এর নির্দেশনায় 'রাজা হরিশ্চন্দ্র'। সেই ম্যাডানই ১৯২৮ এ শুরু করলেন সবাক চলচ্চিত্র। ছবি কথা বলছে। প্রথম ছবি 'মেলডি অব লাভস'। ১৮৩১ এ হিন্দি 'আলম আরা'। প্রথম টকি শো ওরফে সবাক চলচ্চিত্র বোম্বাইয়ে,আর বাংলায় *জামাই ষষ্ঠী* দেখানো হয়।
সেই যে শুরু মরাগাঙে জোয়ার আসতে আর মাত্র এক দশকের অপেক্ষা। সত্যজিৎ রায়,মৃণাল সেন ও ঋত্বিক ঘটক যেন চলচ্চিত্রের তিন মহাপুরুষ চলচ্চিত্রকে জীবনের কথা বলার প্রধান মাধ্যম করে দিলেন। পাঁচের দশকের বাংলা সিনেমায় ঘটে গেল কিছু যুগান্তকারী ঘটনা। ১৯৫৩ সালে নির্মল দে-র পরিচালনায় তৈরী 'সাড়ে চুয়াত্তর' নানা কারণে চলচ্চিত্রের দিকে নজর কাড়ার শুরু হয়ে গেল। ছবির বিষয় ছিল কলকাতার মেস-জীবন। আর নায়ক নায়িকা জুটি হিসেবে প্রথম দেখা উত্তম-সুচিত্রা। আর জুটি মানে যে সে নয়,যেন হাঁড়ির মুখে সরা হয় যেমনটি। কাননদেবীর পর বাঙালী আইকন সুচিত্রা সেন। আর উত্তমকুমার মহানায়ক। আর চরিত্রাভিনেতা হিসেবে সেরাদের মধ্যে যেমন- তুলসী চক্রবর্তী,মলিনা দেবী,ভানু বন্দোপাধ্যায়,জহর রায়,রবি ঘোষ,সন্তোষ দত্ত - চলচ্চিত্রে এল সুবর্ণযুগ। আর বিখ্যাত সব পরিচালকদের নামের তালিকা দীর্ঘ। উত্তম-সুচিত্রা নিয়ে পরিচালকদের সে হরদম কাড়াকাড়ি।
সরোজ দে - 'সাগরিকা' বিভূতি লাহার প্রথম ছবি 'পথে হল দেরী', অজয় কর ও অসিত সেন এর পরিচালনায় - 'হারানো সুর','সাতপাকে বাঁধা', 'সপ্তপদী', 'উত্তর ফাল্গুনী', ও 'দ্বীপ জ্বেলে যাই'।
শেষ ছবি 'ওগো বধূ সুন্দরী'।
আরো অনেক বিখ্যাত সব ছবি উত্তম-সুচিত্রা জুটির নেই নেই করে ত্রিশটি ছবির কথা পাই - দেয়া নেয়া,মৌচাক,অগ্নিশ্বর প্রভৃতি।
উত্তমকুমারের আরো অন্যান্য নায়িকারা যেমন - সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়,সুপ্রিয়া চৌধুরী,তনুজা, মালা সিনহা,শর্মিলা ঠাকুর,সুচিত্রা মুখোপাধ্যায়,অপর্ণা সেন প্রমুখ। তবে উত্তম-সুচিত্রার মতো অমন জুটি আর হয় না,বাঙালীর গর্বের কি আহ্লাদই না! কারণ, মধ্যবিত্ত বাঙালীর যৌবন,প্রেম-মুগ্ধতা,নস্টালজিয়া,দুষ্টুমি,অপূর্ণতা,বিরহগাথা,ম্যানারিজম,স্মার্টনেস সর্বোপরি কল্পনাপ্রবণ বাঙালিকে যেভাবে মুক্ত জীবনের উল্লাস দিয়েছিলেন এমনটি আর ততটা কারো মধ্যে উত্তমকুমারের স্টাইল আর পাওয়া যায়নি। এমনও কথিত আছে পরিচালকগণ বলতেন উত্তমকুমার যেভাবেই কথা বলবেন সেটাই চলচ্চিত্র। কোনো নির্দেশের প্রয়োজন হত না। তিনি নিজের মত অভিনয় করতেন। যাই করতেন তাই সেরা। এজন্যই পরিচালকদের কাছে খুব দর ছিল। অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে জোট বেঁধে হিন্দী সিনেমা করতে গিয়ে আর সে মুখো হননি,প্রাদেশিক অভিমান বড় বালাই ছিল বলে।
সে ১৯৮০ র ২৪ জুলাই মহানায়কের মহাপ্রয়াণ দিবস। তাঁকে এই দিনটিতে স্মরণ করার মধ্যে বাঙালীর নস্টালজিক চেতনার বার বার প্রত্যাবর্তন হয় বলেই উত্তমকুমারকে স্মরণ করেও সেই ছোটগল্পের মতো শেষ হয়েও হইল না শেষ যেন।
********
দারুণ ভালো লাগলো ।
উত্তরমুছুনঅপূর্ব
উত্তরমুছুনদারুন ভালো লাগলো
উত্তরমুছুনখুব ভালো লাগলো।
উত্তরমুছুনখুব ভালো লাগলো দাদা।
উত্তরমুছুনএই দিনে এক অসাধারণ লেখা..💐👌
উত্তরমুছুনদারুণ লেখা
উত্তরমুছুনএই লেখাও অন্য লেখার মত অনেক তথ্য দিয়ে গেল।
উত্তরমুছুন