রবিবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২১
#শরৎ সাহিত্যে নারী -✍️ - মৃদুল কুমার দাস।
শুক্রবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২১
#কপিরাইট ও বৈষম্য -✍️ মৃদুল কুমার দাস।
#বঙ্গ - পূর্ব ও পশ্চিম - ✍️ -মৃদুল কুমার দাস।
#গীতি সত্ত্বায় রবীন্দ্রনাথ ও নরেন্দ্রনাথ - ✍️ মৃদুল কুমার দাস
রবিবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২১
# নাম - সতীত্ব ও সহমরণ। ✍️ - মৃদুল কুমার দাস।
রবিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২১
শনিবার, ২ অক্টোবর, ২০২১
#নাম - লালবাহাদুর শাস্ত্রী। ✍️ - মৃদুল কুমার দাস।
#নাম - মহাত্মা গাঁধীজি।✍️ - মৃদুল কুমার দাস।
বুধবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১
#নাম-হাতে হাত।✍️ - মৃদুল কুমার দাস।
#নাম - ভীমরতি। ✍️- মৃদুল কুমার দাস।
বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১
#নাম- জ্ঞাণ - দর্শণ ও বিজ্ঞান। ✍- মৃদুল কুমার দাস।
বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২১
#গল্প-বেকার জীবন #কলমে -সোমা দে।
শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১
MAY I COME IN , MA'AM
শুক্রবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২১
ভাগ্যিস তুমি প্রেমিক হওনি ।
শনিবার, ২৮ আগস্ট, ২০২১
বিতর্ক## বিপক্ষে বক্তব্য : শর্মিষ্ঠা ভট্ট
*আজ এই বিষয়ের বিপক্ষে লিখলাম*
বিষয় টিতে বলা আছে... বৃদ্ধাশ্রম আধুনিক সমাজের অগ্রগতি পথে একটা অন্ধকার দিক।।
মেনে নিতে পারলাম না। বৃদ্ধাশ্রম এক প্রাচীন প্রথা। যা হয়ত সমাজ ও সময়ের গা ফিলতিতে হারিয়ে গিয়েছিল। আধুনিক সমাজ তা খুঁজে নিয়েছে কিংবা বলা যায় একটা সুস্পষ্ট রূপান্তর ঘটিয়েছে।
"চতুরাশ্রম " কন্সেপ্ট মেনে নিলে.... সর্বশেষ বানপ্রস্থ ও সন্ন্যাস। এই বানপ্রস্থ যাকে ইংরেজিতে রিটায়ার্ড বলা হয়েছে। এই অবস্থায় স্ব পাক ও খাদ্য বস্ত্রের বিলাশ নিবৃত্তির কথা বলা হয়েছে।
প্রাচীন সমাজে তা মানা হত। এতে ব্যক্তি স্ব ইচ্ছায় নিজেকে তৈরী করত মুক্তি লাভের জন্য। সময় গড়িয়ে গেছে। ভোগ ও বয়সের জ্ঞান কমে গেছে। কিংবা সেই প্র্যাকটিস বা অভ্যাস থেকে ধীরে ধীরে ভারতীয় মানুষ সরে গেছে। কিন্তু সমস্যা রয়ে গেছে। এই বয়সের কর্মহীন মানুষ নিজের ও অন্যের কাজের বাঁধা হয়ে যায়। বিকাশ রোধ হয়। অনেক সময় দেখা যায় পঞ্চাশ বছরের অনেকে ডিসিশন নিতে পারেন না। কারন পূর্বপুরুষদের তার ওপর ছাতা হয়ে থাকা। একটা বয়সের পর নিজেকেই এই ভাবে তৈরী করা উচিৎ.... সংসার থেকে মুক্তি। তাতে একটা সামাজিক ভারসাম্য রক্ষা হয়। জেনারেশন গ্যাপের চিন্তাধারা অনেক পার্থক্য হয়। অনেক সময় এই নিয়ে অশান্তি লেগে থাকে। আমার ব্যক্তিগত মত. ..সামাজিক সুস্থতার কারনে সরকার থেকেই উদ্যোগ নেওয়া উচিত। অনেক অবাঞ্ছিত বৃদ্ধ /বৃদ্ধা ওষুধ খাদ্য বস্ত্র পায় না, সংসারে থেকেও। যদি একটা বয়সের পর এই সব মানুষদের জন্য ফাউন্ডেশন খোলা হয়। ঘরে থেকে রোজ ঝগড়া নাটক কোন সুস্থতার কথা নয়, বাচ্চাদের ওপর তার প্রভাব পড়ে। তার থেকে বৃদ্ধাশ্রম কন্সেপ্ট মাথায় রেখে জীবনের প্রথম থেকে যদি কিছু টাকা সরকারি উদ্যোগে রাখার নিয়ম থাকে, এবং প্রতি সন্তানের আয়ের সামান্য কনা যদি রেগুলার জমা হয়। বৃদ্ধাশ্রমের থেকে ভয় মানুষের মনের ভ্রম, মায়ার বন্ধন। আগে থেকেই মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকলে নিজেকে এবং সন্তানের মুক্ত জীবন দেওয়া যায়। বিদেশে বাবামা বৃদ্ধ বয়সে অনেকে একা থাকেন তাদের এত কাঁদুনি বা হাহাকার নেই। কারন সহজে এ্যাকসেপ্ট করার মানসিকতা তৈরী করতে হবে। আসল কথা অভ্যাস বা প্র্যাকটিস। দিনের পর দিন যদি বৃদ্ধাশ্রম অভ্যাস করা যায় তাহলে পরবর্তী প্রজন্মের ক্ষেত্রে এটি অতি সহজ সামাজিক কালচার বা সংস্কৃতি হয়ে দাঁড়াবে।
নমস্কার
শুক্রবার, ২৭ আগস্ট, ২০২১
স্বপ্নের গুঞ্জন- জয় ঘোষ / পিছুটান
#পিছুটান 🖋️
জানিস তো মামনি,, আমি যখন ছোটো ছিলাম তখন বাড়ি থেকে আমার বাবা কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলেন না যে, তার মেয়ে পাড়ার মঞ্চে গিয়ে নাচ করতে পারে? সেই জন্ম থেকে দেখছি সংসারে দাদারা যে আদর যত্নটা পেয়েছে সেটা আমি কখনো পেলাম না। তা নিয়ে এই বয়সে আর কোনো আক্ষেপ নেই। তবে ওই যে "মা" বলে একজন মানুষ প্রত্যেকটা সংসারে থাকে। যে ছেলে-মেয়ে সকলকে এক চোখেই দেখে নিজের সন্তান হিসেবে। তার জন্যই আমি কখনো মরতে পারলাম না।
বাবার থেকে, দাদাদের থেকে সব সময়ই এত অপমান আমি পেতাম যে, আর বাঁচতে ইচ্ছা করতো না। কতবার মরার চেষ্টা করেছি জানিস! কিন্তু পারিনি। শুধুমাত্র একটা মানুষের মুখ চেয়ে।
ভেবেছি আমি যদি মরে যাই তাহলে সে আর বাঁচবে না। তাই মায়ের জন্য আমাকে বাঁচতেই হবে।
আর দেখ, বিয়ের পরে কপালের ফেরে সেই একি অপমান সহ্য করছি তোর বাবা দাদুর থেকে। কিন্তু মরতে পারছি না।
এখন তুই প্রশ্ন করতেই পারিস যে, দিদা তো মারা গেছে তাহলে তোমার এখন বাঁধা কিসের?
তখন উত্তরে আমি বলব,, বাঁধা তো তুই রে মা? বিয়ের আগে ভাবতাম মা যদি কখনো মারা যায় তাহলে আমিও আর থাকবো না এই পৃথিবীতে। আর তোর জন্মের পর থেকে ভাবি আমি যদি মারা যাই তাহলে তোর কি হবে?
আমার মুক্তি কি আর হবে না রে মা?
এই পিছুটান নিয়েই কি আমাকে সারা জীবন চলতে হবে? এটাই কি মেয়েদের জীবনের দুর্বলতা হয়ে থেকে যাবে বংশ-পরম্পরা ধরে? শুধুমাত্র এই একটা শব্দের জন্যই কি আমরা বাঁধন খুলে বেরোতে পারবো না? "পিছুটান"...
© জয়...🍂
শুক্রবার, ২০ আগস্ট, ২০২১
অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর(সুদেষ্ণা দত্ত)
বিষয়:অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সুদেষ্ণা দত্ত
জন্ম:৭ই আগস্ট,১৮৭১
মৃত্যু:৫ই ডিসেম্বর,১৯৫১
বহু প্রতিভার জন্মস্থান কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুর বাড়ী।এই ঠাকুর পরিবারে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ,সত্যেন্দ্রনাথ,দ্বারকানাথ,গগনেন্দ্রনাথ,রবীন্দ্রনাথ প্রমুখ বহু দিকপালের জন্ম হয়।সেই নক্ষত্র গোষ্ঠীর এক অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র হলেন অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর।অবনীন্দ্রনাথের পিতা ছিলেন দ্বারকানাথের পৌত্র গুণেন্দ্রনাথ।
রবীন্দ্রনাথের মতোই অবনীন্দ্রনাথ বিদ্যালয়ের প্রথাগত ধরাবাঁধা শিক্ষায় মনোযোগী ছিলেন না।ঠাকুর বাড়ীর গৃহ শিক্ষকের কাছেই শিক্ষালাভ করেন।অল্প কিছুদিন সংস্কৃত কলেজেও পড়েছিলেন।ইংরেজী,ফরাসী,সংস্কৃত ও বাংলা সাহিত্যে তাঁর দখল ছিল।
হাতের কাজ ও চিত্রশিল্পের প্রতি ছিল তাঁর সহজাত আকর্ষণ।অল্প কিছুকাল সংস্কৃত কলেজে অধ্যয়ন করার পর প্রথমে ইতালিয়ান শিল্পী সিগনোর গিলহার্ডি এবং ইংরেজ শিল্পী লেডি পামারের কাছে চিত্রাঙ্কন বিদ্যা শিক্ষায় মনোনিবেশ করেন।এই রীতিতে চিত্রাঙ্কন করে তিনি তৃপ্তি পাননি।এরপর শুরু হয় ভারতীয় চিত্রাঙ্কন রীতির পুনরুদ্ধারের সাধনা।প্রাচীন হিন্দু শিল্পকলা ও মুঘল চিত্রকলা চর্চায় মনোনিবেশ করেন।১৯০৫ সালে তিনি গভর্নমেন্ট আর্ট স্কুলের সহাধ্যক্ষ ও পরে অধ্যক্ষ হয়েছিলেন।
অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাধারে সাহিত্যিক,শিল্পী,শিল্প গুরু এবং শিল্পরসিক।তাঁর প্রতিটি সৃষ্টিই আনন্দময় সৃজনের স্বর্ণসম্ভার।অবনীন্দ্রনাথের কালজয়ী প্রতিভার স্পর্শেই লুপ্তপ্রায় ভারতীয় শিল্পকলা সঞ্জীবিত হয়ে উঠেছিল নতুন নতুন সম্ভাবনায়।আবার এই অদ্বিতীয় শিল্প স্রষ্টার মধ্যেই লুকিয়ে ছিল এক কথাশিল্পী মানুষ।সেই ‘ছবি লিখিয়ে’ অবন ঠাকুরের অনন্য অবদান বাগীশ্বরী শিল্প প্রবন্ধাবলী।
সাহিত্যে তাঁর লাজুক পদসঞ্চার হলেও সহজ-সরল কথপোকথনের ভঙ্গীতে শিশু হৃদয়ে স্থায়ী আসন লাভ করেছেন।তিনি শিশু মনোরাজ্যের খবর রাখতেন।শব্দের সঙ্গীত সৃষ্টিকারী দিকটি তিনি চর্চার দ্বারা উদ্ঘাটিত করেছিলেন।তাঁর শকুন্তলা,রাজকাহিনী,নালক,বুড়ো আংলা,খাজাঞ্চির খাতা,ভূতপরীর দেশ,মারুতির পুঁথি,আলোর ফুলকি মালি,একে তিন তিনে এক,রংবেরং ইত্যাদি গ্রন্থ সহজ সরল ঘরোয়া ভাষায় রচিত অপূর্ব সাহিত্য।আত্মজীবনীমূলক স্মৃতিচিত্র ‘আপন কথা’, ‘জোড়াসাঁকোর ধারে’, ‘ঘরোয়া’ সাহিত্য তাঁর অক্ষয় কীর্তি।
বিধাতা তাঁর হাতে তুলি ও বর্ণের ভান্ডার দিয়ে পাঠিয়েছিলেন,তাঁর প্রবন্ধ-নিবন্ধেও লেগেছে সেই রঙের ছোঁয়া।শিল্পী অবনীন্দ্রনাথ ভারত শিল্পাকাশে এক উজ্জ্বলতম জ্যোতিষ্ক।কেউ কেউ বলেন প্রতিভা আগুন।সত্যিই প্রতিভার এমন অগ্নিময় স্পর্শে তাঁর প্রত্যেকটা সৃষ্টিই হয়ে উঠেছে সোনা।
©কপিরাইট রিজার্ভড ফর সুদেষ্ণা দত্ত।
নাম-খাওয়া(সুদেষ্ণা দত্ত)
নাম--খাওয়া(সুদেষ্ণা দত্ত)
খাদ্য গ্রহণের সময় অনেকেই প্রথম গ্রাস ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে নিবেদন করেন।তাই জগন্নাথ দেবের ছাপান্ন ভোগ দিয়ে শুরু করছি আজকের নিবেদন।পুরাণ মতে যশোদা বালক কৃষ্ণকে আট প্রহর খেতে দিতেন।দেবরাজ ইন্দ্রের রোষে পড়ে যখন একসময় মহাপ্রলয়ের সৃষ্টি হয়েছিল তখন শ্রীকৃষ্ণ জীব জগৎকে রক্ষা করতে কনিষ্ঠ আঙুলে গোবর্ধন পাহাড় তুলে নিয়ে সাতদিন ছিলেন নির্জলা উপবাসে।যে ছেলে দিনে আটবার খায় তাকে সাতদিন উপবাসে দেখে যশোদার মাতৃ হৃদয় ব্যাকুল হয়।তিনি ও ব্রজবাসীরা মিলে সাতদিনের আটপ্রহর হিসেবে ছাপ্পান্নটি পদ কৃষ্ণকে নিবেদন করেছিলেন।নারায়ণের সেই ছাপ্পান্ন ভোগই রূপভেদে মহাপ্রভুর ছাপ্পান্ন ভোগ।
ভিতরে মরিচ গুঁড়ো বাহিরে জুড়ায় সুতা।
তৈলে পাক করিয়া রান্ধে চিংড়ির মাথা।।
এই সুস্বাদু ব্যঞ্জনটি বরিশাল জেলার গন্ধ বহন করে আনে।স্থান,কাল ভেদে খাবারও নানা রকম হয়।ভাল রাঁধুনি কলমি শাকের গন্ধ নিয়ে পুকুর চেনে।যে কচু গাছের ছড়ার মত পাতা বেরিয়েছে,ফুলের মত হয়ে আছে গাছ--সেই গাছই গর্ভবতী বলে বুঝতেন পাকা রাঁধুনি।তারমধ্যে টইটম্বুর দুধ।ঠাকুমা—দিদিমাদের হাতের আচার,বড়ি, আমসত্ত্ব আজও কত নাতি—নাতনীর জিহ্বার লালা ক্ষরণ ঘটায়।
ইংরেজ আমলে বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষ হয়েছিল প্রায় আঠারো বার।তবে মেছো বাঙালী কিন্তু ইংরেজ বা ডেনদের সঙ্গে মাছ খাওয়ায় পংক্তিভোজনে আসতেই পারবে না।ঈশ্বর গুপ্তের লেখনী থেকে জানা যায় ইংরেজদের সঙ্গে ভেটকি,চিংড়ি,ইলিশের প্রতিযোগিতার বাজার ছেড়ে বাঙালী কুচো চিংড়ি আর চুনো পুটিকেই অবলম্বন করে বাড়ায় তাদের স্বাদের আস্বাদ।আর বিদেশীরা বেছে নেয় দেশী তপসে।অষ্টাদশ,উনবিংশ শতকের গোড়ার দিকে এই তপসে মাছ ছিল কলকাতার ইংরেজদের আরাধনা।তপসে মাছ ইংরেজদের এত প্রিয় ছিল যে এক ডিস তপসে মাছ খাওয়ার জন্য বিলেত থেকে সমুদ্র যাত্রার ধকল নিতেও তারা প্রস্তুত ছিল।আমের মরসুমে তপসের আবির্ভাব বলে ঈশ্বর গুপ্তের মতে,
‘ এমন অমৃত ফল ফুলিয়াছে জলে।
সাহেবরা সুখে তাই ম্যাঙ্গো ফিশ বলে’।।
স্থাপত্যকে খাবারের সঙ্গে যুক্ত করে অযোধ্যার নবাবরা মাছকে প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করেছেন।নবাব বংশের প্রতিষ্ঠাতা সাদাত আলি পুরোনো লখনৌয়ের কেল্লার নাম রাখেন মচ্ছিভবন।এই মাছের প্রতীকের আদি হিসেবে দুটি তত্ত্বের উল্লেখ আছে।প্রথমত,এই মাছ এক মান্য ধর্মীয় পুরুষ খাজা খিজিরের প্রতীক।তাঁর তত্ত্বাবধানেই ছিল পুরাণের সেই অমরত্বের কূপ।তিনি তার পবিত্র জল পান করেছিলেন।দ্বিতীয়ত,ইসলাম পূর্ব আমলে শেখ আব্দুল রহিম নামে বিজনৌরের এক ভাগ্যান্বেষী পারস্যে শাহী জায়গীর লাভ করেছিলেন।শেখ রহিম শাহী দরবার থেকে মৎস্য ধ্বজা দ্বারা সম্মানিত হয়েছিলেন।তাঁর কেল্লার একটা বাড়ীতে ছাব্বিশটা খিলান ছিল।তার প্রত্যেকটিতে দুটো-দুটো করে মোট বাহান্নটা মাছ খোদাই করা ছিল।তাই কেল্লাটির নাম হয়ে যায় মচ্ছিভবন।
কথিত আছে তৈমুর লঙের হাত ধরে ভারত ভূমির মাটি স্পর্শ করে প্রায় সকল মানুষের কাঙ্খিত বিরিয়ানি।আর কলকাতা বিরিয়ানি—যাতে আলু যুক্ত হয় তা আসে অযোধ্যার নবাব ওয়াজেদ আলি শাহের হাত ধরে।নবাব মেটিয়া বুরুজকে ছোটখাটো লখনৌতে পরিণত করেছিলেন।তাঁর শিরা—ধমনীর শোনিত ধারায় ছিল নবাবিয়ানা।সেই বিলাস—ব্যসনে নবাবী কোষাগারে টান পড়ে।আলুর দাম যদিও তখন কম ছিল না।কিন্তু মাংসের থেকে তো কম।তাই পর্তুগিজদের হাত ধরে আলু আসার পরেই পরিমাণ বাড়াতে সমস্ত নবাবী কর্মচারী ও সেনাবাহিনীর জন্য তৈরি হয় এই নতুন বিরিয়ানি।
সেই কবে মহাভারতের বনপর্বে যুধিষ্ঠির বলে গিয়েছিলেন, “সাধুগনের গৃহে তৃণ,ভূমি,জল ও সুনৃত এই চারি দ্রব্যের কোনকালেই অপ্রতুল থাকে না।গৃহস্থ ব্যক্তি পীড়িত ব্যক্তিকে শয্যা, শ্রান্ত ব্যক্তিকে আসন,তৃষিত ব্যক্তিকে পানীয়,ক্ষুধার্ত ব্যক্তিকে ভোজন ও অভ্যাগত ব্যক্তির প্রতি নয়ন,মন ও প্রিয় বচন প্রয়োগ ও উত্থান পূর্বক আসন প্রদান করবে।ইহাই সনাতন ধর্ম”।ভারতবাসী আজও এই ধারা বয়ে নিয়ে চলার চেষ্টা করছে।
©কপিরাইট রিজার্ভড ফর সুদেষ্ণা দত্ত।
ঋনস্বীকার:শ্রীপান্থর বিভিন্ন লেখনী,কল্লোল লাহিড়ীর রচনা,অন্তর্জাল।
ছবি সৌজন্য:গুগুল
মঙ্গলবার, ১৭ আগস্ট, ২০২১
শিরোনাম--চাঁদের হাসি ,।(কলমে-- পারমিতা মন্ডল)
সোমবার, ১৬ আগস্ট, ২০২১
# নাম - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ✍️ - মৃদুল কুমার দাস।
শনিবার, ১৪ আগস্ট, ২০২১
##সঠিক মানচিত্র ## শর্মিষ্ঠা ভট্ট
সঠিক মানচিত্র
আর কিছু সময় পর থেকে স্বাধীনতা দিবস ৭৫ তমের সাক্ষী হব আমরা। কত মানুষের হাত ছেড়ে দিতে হল, তারা আর পঁচাত্তরের স্বাধীনতা দেখতে পেলো না। কি হবে দেখে! অনেকেই হতাশায় বলেন, আবেগহীনতা বাড়ছে। স্বাধীনতা দিবস নিয়ে সেই আবেগহীনতা বাড়ছে। বাড়ছে অসুরক্ষিত হতাশা ।
কেন এই স্বাধীনতা? কি দিল এই স্বাধীনতা? কত প্রশ্ন। শয়ে শয়ে লেখা দেখি কি পাইনির হিসেব সাজিয়ে সুন্দর করে পরিবেশিত হয়। না পাওয়া ব্যাথা আগাছার মতো বড়ো হতে হতে কখন যেন ঢেকে দিয়েছে সেই কষ্টে পাওয়া দিনের আন্তরিকতাকে। সেই টিভি খুলে প্যারেড দেখার বিস্ময়, এখনের শিশুদের চোখে বিস্ময় নেই। রুটিনে আবদ্ধ এও একটা দিন। হয় পতাকা ওড়ানো, কিন্তু যেন মন মরা, রোজ দেখে একঘেয়ে হয়ে যাওয়া দৃশ্য। তার ওপর আকাল। সমস্যা দরজায় টোকা দিয়েছে।
দেশের মাটি, যাতে মাথা আপনাআপনি নুয়ে আসে সেই যে দেশে ভায়ের মায়ের স্নেহ, কোথাও পাওয়া যাবে না ....কবি নিশ্চিত ছিলেন। সেই সুজলাং সু ফলনাং শস্য শ্যামলং মাটি ....তাকে আপনার ভাবার ধরন পাল্টে গেছে। এখন এই দিনটি ছুটির দিন উৎসব মাত্র। আমাদের মত নির্বিবাদে মানুষ গান কবিতা নাচে দিনটাকে খুঁজে নেবার চেষ্টা করি। কিন্তু সত্যিই কি আমরা চিনি এই দেশের মাটিকে? কতটুকু মাটি আমাদের দেশ!! মানচিত্রে অবশ্য পাওয়া যাবে এর উত্তর। কিন্তু মনে কি সত্যিই আমরা মানি!
আমরা " বসুন্ধরা কুটুম্বকম্" আইডিওলজি নিয়ে ব্যস্ত আছি। উদার মনোভাব নিয়ে রবীন্দ্রনাথের শেখানো পথে বিশ্বায়নের পথে হাঁটি। কিন্তু আমার দেশের মাটি ভাষার ছোট্ট পরিধির মাঝে আবদ্ধ। কাঁটাতার টোপকে ছুটি গলা জড়াতে কিন্তু অন্য রাজ্যকে বলতে পারি না ... আমি তো তোমাদের লোক। আমাদের স্বাধীনতা দেশের মাটিকে এক ত্রিশঙ্কু অবস্থায় রেখে দিয়েছে। ধর্ম না ভাষা! প্রশ্ন চিহ্ন তুলে তিরঙ্গাকে সর্বদা চ্যালেঞ্জ দিচ্ছে।
জানি না দেশের মাটি বলতে কতটুকু বুঝি? তবে ক্রিকেট কিংবা অলম্পিকে জিতলে বুকের ভেতর একটা চিন চিনে আবগ কাঁপিয়ে দেয়। এটাই হয়ত দেশপ্রেম। ভারতীয় দেশ ভক্তি। এখানে দেশের মাটির মানচিত্র স্পষ্ট। কিন্তু উন্নাসিকতায় কেউ কাউকে ছেড়ে কথা বলে না। কথায় কথায় শুনি.... বাঙালীরা আত্মকেন্দ্রিক এবং পলিটিক্স বাজ। গা জ্বলে কিনা বলুন? জ্বলে, জ্বলতে পারে। কিন্তু কখনও ভাবি না... ননবেঙ্গলী মত কেউ "নন" কথাটা কোন প্রদেশে ব্যবহার করে না। সুতরাং তালি দু হাতেই বাজে। তাই তো কখনও যুবা নেতার গলায় শুনি " ভারত টুকরো টুকরো হবে। " কি সেই হতাশা যাতে এমন তেঁতো বক্তব্য উঠে আসে!! দেশের মাটি বলতে আঁকড়ে ধরি প্রাদেশিক জীবন যাত্রাকে। বিশ্ব মানবতার বিশাল আদর্শ তৈরীর আগে তাই প্রাদেশিক রেষারেষি বন্দ করতে হবে।
ইংরেজি বছরের প্রথম দিন ওনারা সপথ নেন, দেখাদেখি আমরাও শিখে নিয়েছি। কিন্তু ১৫ই আগস্ট, প্রতি বছর যে স্বাধীনতা উপভোগ করছি। কখনও কি ভেবেছি একবছরের জন্য এই দেশের মাটির সপথ নেয়া হোক। কখনও কি প্রয়োজন ছাড়া কোন একটি প্রাদেশিক ভাষা শেখার চেষ্টা করেছি। আমার পরিচিত একজন আমায় লিখেছিলেন " প্লিজ হিন্দি নয়, বাংলা নয়ত ইংরেজি তে এস ও মেস লিখো। অবাক হয়ে ভাবলাম বিদেশী ভাষা জানা এতো কি গর্বের বিষয় হয়ে গেল যে একটু বেঁকা ভাবে বলাই যায় দেশীয় অন্যভাষা শিখতে জানতে লজ্জা কিংবা ঔদাসীন্য বোধ করি। এটা কি ছিল গর্ব ,স্বীকারক্তি, না কটাক্ষ।
দেশ সম্পর্কে কিছু মানুষ কিছু জানেই না। মানে ইতিহাস ভূগোল অর্থনীতি কিংবা বৈদেশিক নীতি। সাধারণ অনেক মানুষ আছে যারা জানেন না ২৬শে জানুয়ারি কেন হয়? দেশের সীমান্ত গ্রামের মানুষের জীবন কেমন অনেকে তার কোন খবরের প্রত্যাশা না করেই বলে আই লাভ মাই ইন্ডিয়া।
দেশের মাটির প্রতি মায়া তখন জাগবে যখন একাত্ম হতে পারবো। যখন আঙুল তুলে কেন্দ্র রাজ্য করে চেঁচিয়ে মরবো না। কিছু নেই। রেশন নেই রাস্তা নেই কারেন্ট নেই বস্তি বেকারত্ব কালোবাজারি কিংবা গুস খোরি আছে বলে দেশের মাটির প্রতি বিতৃষ্ণা ঠিক সমস্যা সমাধান নয়। স্বাধীনতা প্রাপ্তির দিন থেকে আজ ৭৪ টি বছর কাটিয়ে এসে ভারতবাসীর গর্ব করা উচিত। একটা লুটে যাওয়া ছিঁড়ে ফেলা দেশ বিশ্ব আসনে সেরার জায়গা করে নিয়েছে। ভারতের বৈদেশিক নীতি এখান এমন জায়গায়, সেখানে তাকিয়ে বলাই যায়.... তুমি ঘৃনা করো, কিংবা ভালোবাসো, হে বিশ্ব তুমি আমাদের ইগনোর করতে পারবে না। ছটি দশক পেরিয়ে এসে ভারত অর্থনৈতিক শিক্ষা এবং চিন্তা শক্তিতে অনেক অগ্ৰসর করেছে তা হয়ত বিতর্কিত চোখে দেখলে বোঝা যাবে না। ভারত ও ভারতবাসীর গড় জীবন যাপনের ধরন বলে দেবে হিসেব। হলফ করে বলা যায় পৃথিবীর পশ্চিমে ছোটা অনেকে স্বীকার করবে এই দেশে শান্তি অনেক বেশি। অনেক বিষয়ে নিশ্চিন্ত বিশ্লেষণ প্রতিবাদ কিংবা স্বাধীন চলাফেরার সুযোগ আছে। যারা এই দেশের মাটির দিকে আঙুল তুলে বলে " আতঙ্কিত " তাদের কাছে প্রশ্ন তবে এখনও এই দেশ ছাড়তে পারলেন না কেন? এই দেশ সেই জায়গা যেখানে কেবল নিজেদের নাগরিক নয়, বিদেশী শরনাগতদের দীর্ঘ বছর সুরক্ষা দিয়ে এসেছে। তসলিমা ও লামা তার নিদর্শন। সুরক্ষা আছে বলেই, যারা নিজেদের অসুরক্ষিত ভাবে, তারাও মিটিং মিছিল এমনকি সাংসদে বসার জায়গা পায়। এই দেশের মাটি, সব পেয়েছির দেশ। পৃথিবীর যে কোন দেশে ঘুরে এসে দেখবেন ভারতীয় আন্তরিকতা ও আবেগ অবশ্যই আলাদা স্পর্শ দেবেই।
রাগ করে অনেকেই বলবেন, তা হলে তো হয়েই গেলো, সব পেয়েছো দারিদ্র্য ধর্ম নিয়ে লাঠালাঠি অর্থনৈতিক ঘোটালা সামলাও। না সব জিনিস কয়েকটি বছরে পাল্টে যেতে পারে না। তিনশো বছর ইংরেজ শাসন ও শোষণের পর, মুখ থুবড়ে পড়ে যাইনি। পায়ে পা মিলিয়ে এগিয়ে তো গেছে দেশ। যা হয়নি তার জন্য আমরা, এই সাধারণ জনগণ কি দায়ী নয়!!আমরা সামান্য না পাওয়ায় ভাঙচুর করি। আন্দলন করে সাংসদের চেয়ার টেবিল ভাঙি মন্দির মজিদ ভাঙি, রেলের লাইন উবড়ে দি। একবারও ভাবি না রাষ্ট্রের সম্পত্তি বা ঐতিহাসিক ঐতিহ্য নষ্ট করা মানে নিজের পায়ে নিজেই কুড়ুল মারছি। দেশের মাটির পক্ষে সারা রাত কথা বলে যেতে পারি। অশিক্ষা কু শিক্ষার জন্য শিক্ষিত আমরা চায়ের দোকান ক্লাব ঘরে চেঁচিয়ে মরি। সামনে এসে একটিও খাতা কি কখনও কিনে দিয়েছি। কখনও কি পথ ঘটের গাড্ডা দেখে নিজে এগিয়ে গেছি? কখনও কি বলেছি বিভদ কি সে? কখনও কি দেশের মাটির জন্য এগিয়ে গেছি রাজনৈতিক অসৎ শক্তির বিরুদ্ধে! সাধারণ মানুষ চাইতে পারি, দিতে গেলে হিসেব করি। মলে বিনা বাক্যে জিনিস কিনি, আর সব্জি দোকানের বুড়ির সাথে পাঁচ টাকার দরাদরি করি। সরকারি নিয়ম ভাঙবো বলে ঘুষ দিয়ে তৈরি করি আর একটি অসৎ জনগণ। শত শত ভুলে আমরাই নিজেদের পিছিয়ে রাখি। স্বাধীনতার দায় ভার কেবল সরকারের নয়। জনগণ কখনও ভেবেছে এই বিপুল জনস্ফিতি কত ভয়ঙ্কর রূপ নিতে পারে! জন্মনিয়ন্ত্রণ আইন করলে মানতে পারবে কয়জন? দেশের মাটি ভাঁড় মে যাক, সবাই আখের গোছাই। আর দূর দেশের দিকে তাকিয়ে হাপিত্তেস করি। হয়নি আর পাইনি। রোজগারের পয়সা কেউ কি রোজকার কোন একটি গরীবের ঘর চালানোর কিছু কিনে দিতে চাইবে কেউ! দিনের পর দিন বিনা স্বার্থে? অথচ যদি নিম্নতম গরীবের সরকারি নির্দেশে লাইগেশন করানো হয়, মানবাধিকার বলে হায় হায় উঠবে। সরকারি প্রধানমন্ত্রী আবাসনে আসল আবাসিক নেই, বেচে দিয়ে আবার নতুন বস্তি হচ্ছে। দেখবে কে? বলবে কে? হায় দেশের মাটি। কেবল দোষারোপ নয়। এবার কিছু সপথের সময় এসেছে। আঙুল ওই দিকে নয় নিজের দিকে উঠুক। আসুন না ছোটো একটা সপথ করি কাল থেকে প্রাদেশিকতা ভুলবো। একটু নিজের দেশকে নিজের ভাববো।
শুভ রাত্রি, জয় হিন্দ।
নতুন স্বপ্ন দেখবো না, পুরনো স্বপ্ন সফল করবো। শিশুকে সঠিক মানচিত্র শেখাবো । ঠিক দেশের মাটি কতটা।।
স্বাধীনতা র শুভকামনা সবাইকে
অতিরিক্ত নারী স্বাধীনতার সুফল ও কুফল।( কলমে--- পারমিতা মন্ডল।)
শুক্রবার, ১৩ আগস্ট, ২০২১
নারী নারীর চরম শত্রু। ( কলমে-- পারমিতা মন্ডল)
বৃহস্পতিবার, ১২ আগস্ট, ২০২১
# নাম- খাওয়ার। ✍️ - মৃদুল কুমার দাস।
মন্বন্তর(সুদেষ্ণা দত্ত)
*মন্বন্তর*
সুদেষ্ণা দত্ত
ইতিহাস বিষয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষক হওয়ায় মন্বন্তর বলতে বাংলা ১১৭৬ ও ইংরেজি ১৭৭০ এর মন্বন্তরের কথাই প্রথম মনে আসে।যদিও ১৩৫০ বঙ্গাব্দে একটি দুর্ভিক্ষ হয়েছিল যা পঞ্চাশের মন্বন্তর নামে পরিচিত। মন্বন্তরের আক্ষরিক অর্থ দুর্ভিক্ষ।বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় হান্টারের Annals of Rural Bengal এর অনুকরণে তাঁর বিখ্যাত ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে দক্ষ শিল্পীর তুলিতে এই ১১৭৬ এর দুর্ভিক্ষের করুন চিত্র অঙ্কন করেছেন।
ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের অন্যতম কারণ যে প্রকৃতির বিরূপতা তা বোধহয় আজ আর কারও অজানা নয়।ইং ১৭৬৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে অনাবৃষ্টির ফলে কৃষি উৎপাদন হ্রাস পেতে থাকে।১৭৬৯ খ্রিস্টাব্দেও বৃষ্টি না হওয়ায় দেশে খাদ্যাভাব দেখা দেয়।
প্রাকৃতিক কারণে দুর্ভিক্ষ দেখা গেলেও সুপ্রকাশ রায় এই দুর্ভিক্ষকে “ইংরেজ সৃষ্ট ছিয়াত্তরের মন্বন্তর” বলে অভিহিত করেছেন।তার পিছনে অবশ্য যথার্থ কারণ ছিল।প্রকৃতির বিরূপতার তীব্রতা ও ভয়াবহতা বৃদ্ধি পেয়েছিল শোষণ,নিপীড়নের ফলে।দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন ও কোম্পানীর রাজস্ব নীতি দুর্ভিক্ষের প্রকোপ বৃদ্ধি করেছিল।এরফলে কৃষকদের অবস্থা হয়েছিল শোচনীয়।এই অবস্থায় অজন্মার ফলে খাদ্যাভাব দেখা দেয়।শস্যক্ষেত্রে বিপর্যয়ের ফলে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পায়।তা সত্ত্বেও রাজস্ব আদায়ের কঠোরতা হ্রাস পায়নি।এই দুর্দশা দূর করতে কোম্পানী কোন ত্রাণ ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।উপরন্তু এই অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে কোম্পানী ও তার কর্মচারীরা একচেটিয়া বাণিজ্যিক অধিকারের সুযোগে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করেছিল।এমনকি দুর্ভিক্ষের সময় কম দামে চাল কিনে বেশি দামে বিক্রির জন্য গুদামজাত করে রাখে।অশনি সংকেত চলচ্চিত্রে এর রূপায়ণ আমরা দেখেছি।এই কৃত্রিম চহিদা সৃষ্টির ফলে ভয়াবহতা আরও বৃদ্ধি পায়।এছাড়া কোম্পানীর নিজের সৈন্যবাহিনীর জন্য প্রচুর খাদ্য শস্য ক্রয় করে মজুত করেছিল এবং কোম্পানী বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে খাদ্যশস্যের অবাধ চলাচল নিষিদ্ধ করে দিয়েছিল।
দুর্ভিক্ষের ফলে জনসংখ্যা হ্রাস পাচ্ছিল।রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ সেই অনুপাতে কমেনি।দুর্ভিক্ষের সময় রাজস্ব আদায়ের জন্য ছিল ‘নাজাই প্রথা’-অর্থাৎ যারা পালায়নি বা বেঁচে ছিল তাদের উপর চাপানো হয়েছিল অতিরিক্ত অর্থের বোঝা।
আমরা বর্তমান পরিস্থিতেও দেখছি প্রতিকূল অবস্থায় বেশ কিছু মানুষ অসদুপায় অবলম্বন করছেন।দুর্ভিক্ষের ফলেও চুরি-ডাকাতির সংখ্যা আতঙ্কজনকভাবে বাড়তে থাকে।গ্রামে গ্রামে ডাকাতরা নির্ভয়ে ডাকাতি করে বেড়াত।দিনাজপুরে সন্ন্যাসী বিদ্রোহ শুরু হয়।আগে সমতলভূমির মানুষরা ডাকাতদের গতিবিধির উপর লক্ষ্য রাখত এবং সরকারের পক্ষে তাদের দমন করা সহজ হত।কিন্তু দুর্ভিক্ষের ফলে জমিজমা ছেড়ে চলে যাওয়ায় তাদের উপদ্রব বাড়তে থাকে।
ছিয়াত্তরের মন্বন্তর বাংলার অর্থনীতিকে এক গভীর বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেয়।অধ্যাপক বিনয় ভূষণ চৌধুরী মন্তব্য করেছিলেন, “The famine affected the economy mainly by causing extensive rural depopulation.”
বাংলার শিল্পও বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।রেশম ও তাঁত শিল্পে জড়িত শ্রমিকদের মধ্যেই মৃত্যুহার ছিল সবচেয়ে বেশি।অস্বাভাবিকভাবেই দুর্ভিক্ষের পর শিল্প উৎপাদন ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়।মাঝিমাল্লা ও গরুর গাড়ির গারোয়ানের মৃত্যুর ফলে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং তার ফলেও ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বুদ্ধদেব বসুর,
“তোমারে স্মরণ করি আজ এই দারুন দুর্দিনে
হে বন্ধু হে প্রিয়তম।সভ্যতার শ্মশান শয্যায়
সংক্রামিত মহামারী মানুষের মর্মে ও মজ্জায় ...”
লোভ-লালসা মানবতার স্খলনে সমাজ সংসার জুড়ে আজ মানব হৃদয়েও জাগ্রত মন্বন্তর।
©কপিরাইট রিজার্ভড ফর সুদেষ্ণা দত্ত।
ছবি সৌজন্য:গুগুল।
বুধবার, ১১ আগস্ট, ২০২১
বাক্য আলোচনা(কলমে পিয়ালী চক্রবর্তী)
বাঁচার জন্য খাওয়া, খাওয়ার জন্য বাঁচা নয়
#কলমে_পিয়ালী_চক্রবর্তী
তারিখ: ১২/০৮/২০২১
আমরা মানুষ, ভোজনরসিক,
যেকোনো খাবার, হোক ঠিক বা বেঠিক,
খেয়ে যাই কব্জি ডুবিয়ে দু'বেলা,
শরীরটাকে নিয়ে করি ছেলেখেলা।
মাছ-মাংস-ডিম-তেলেভাজা বা মিষ্টি,
আহা! কি অপূর্ব খাদ্য'রসসৃষ্টি!
হোক না সে কোলেস্টেরলের ভান্ডার!
খেয়ে যাই সুখে, বাঁচাবে পারের কান্ডার!
আগুনে দিলে যদি হাত,
পোড়ানোই তার ধর্ম,
ফল পাবে হাতে নাতে,
ঠিক যেমনটি কর্ম!
সুগার, প্রেশার, কোলেস্টেরল, মেদাধিক্য!
হারিয়ে খোঁজে শরীরের চাকচিক্য!
পুঁতেছো অতীতে তুমি যে বিষবৃক্ষ!
অধিক খাইয়া দেবে পাড়ি অন্তরীক্ষ!
●আমরা বেশিরভাগ মানুষই খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে ওস্তাদ। একদম "দাবিয়ে খাওয়া" যাকে বলে ঠিক তেমনি ঠুসে খাই যখন যা পাই।
●এক্সারসাইজের ধার দিয়েও যাইনা। আবার কেউ কেউ ভোরবেলা উঠে মাঠে গিয়ে জগিং, মর্নিং ওয়াক ইত্যাদি করে বন্ধুদের সাথে চা-সিঙাড়ার আড্ডা দিয়ে বাড়ি ফেরেন(বলাই বাহুল্য তাতে আরো বেশী ক্ষতি)।
●সবাই আমরা জ্ঞানপাপী, কিন্তু হেলদি লাইফ লিড করার কয়েকশো মাইলের মধ্যে নেই। কত খাবার চারপাশে! ওহঃ, না খেলে আত্মাকে কষ্ট দেওয়া হয় তো! ওরকম কম কম তেলে-মশলায় খেয়ে বাঁচতে পারবুনি বাপু। খাসির মাংস বলো বা গোল গোল সাদা সাদা রসে টইটুম্বুর রসগোল্লা! ছটা-আটটার কম খেলে ঠাকুর পাপ দেবে গো।
●ঠিক দুর্গাপুজোর এক-দেড় মাস বাকি থাকতে আমাদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বেড়ে আকাশছোঁয়া। পুজোর সময় সাজুগুজু করতে হবে, বেশ চটকদার পোশাক পরে স্লিম-ট্রিম দেখাতে হবে তো নাকি! শুরু হয় ডায়েটিং এবং সেই স্বাস্থ্য সচেতনতা শেষ হয় ষষ্ঠীর দিন সকাল থেকেই। আরে, এ কেমন কথা বাপু! পুজো-গন্ডা'র দিন বলে কতা, একটু খাবো-দাবো না নাকি!
●কারোর বিয়ে-পৈতে-ভাত-জন্মদিন বা যেকোনো অনুষ্ঠানে, বেগানি শাদী মে আব্দুল্লাহ দিওয়ানা হয়ে ততক্ষণ পর্যন্ত খাই, যতক্ষণ না বেশ বমি বমি ভাব করে বা পেট ফুলে ঢোল হয়ে যায়! আরে! গিফ্ট দিয়েছি বস, পয়সা উসুল করতে হবে তো নাকি!
●পায়েস রাঁধার পরে সেই হাঁড়ি বা ডেকচির গায়ে যে ঘন পদার্থটি লেগে থাকে, কি ভীষণ সুস্বাদু! কাজের মাসি ঘষে ঘষে মেজে ধুয়ে সেই অমৃতসম পদার্থটি নালা দিয়ে বইয়ে দেবে, তাই কখনো হয়! লেগে পড়ি হাতা-খুন্তি নিয়ে। চেঁছে চেঁছে লোকের কান-মাথা ঝালাপালা করে মুখে পুরে দিই সেই মহার্ঘ্য বস্তু। আহা! পেট কি আমাদের ডাস্টবিনের চেয়ে কম নাকি ভাই!
খেয়ে খেয়ে জীভ দিন দিন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়ে ওঠে আমাদের। বুঝতে পারি ভুল করছি, কিন্তু শুধরে নিই না। "অ্যায়সে খায়ে যাতে হ্যায়, জ্যায়সে, কল হো না হো"
। এই অতিরিক্ত খাবার ফলে আমন্ত্রণ দিয়ে ডেকে আনি বিভিন্ন রোগ। খেয়ে খেয়ে বিশ্রী মোটা হয়ে মায়োকার্ডিয়াল ইনফ্র্যাকশন, সেরিব্রো ভাস্কুলার অ্যাকসিডেন্ট বা কোনো মারণ রোগে অকালে পরিবার ছেড়ে চলে যেতে হয় কত মানুষকে। অথবা, শরীরে রোগের বাসা নিয়ে ডাক্তার-ওষুধের পেছনে গাদা গাদা টাকা খরচ করে পরিবারকে অস্বচ্ছলতার মধ্যেও ফেলে দেন অনেকেই। তাদেরকে বোঝালে বোঝে না, তাদের জীবনের মূলমন্ত্র "খাওয়ার জন্যই বাঁচা"।
একটু স্বাস্থ্য সচেতন হলে, তেল মশলা বা ফ্যাটি খাবার কম খেলে যদি পরিবারের সাথে আরো বেশ কটা বছর বেশী বাঁচা যায়, তবে তাই হোক আমাদের মূলমন্ত্র, "খাওয়ার জন্য বাঁচা নয়, বাঁচার জন্য খাওয়া।"
Copyright © All Rights Reserved to Piyali Chakravorty
#নাম-মন্বন্তর। ✍️ - মৃদুল কুমার দাস।
শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস
শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...
-
ঘোষ বুড়ী ©সুদেষ্ণা দত্ত গ্রামের নাম সুন্দরগ্রাম--বাংলা মায়ের কোল ঘেঁষা সুজলা,সুফলা,শান্তির নীড় ঘেরা এক গ্রাম।গ্রামের অধিকাংশ লোকই কৃষি...
-
আমার অকাজের লিস্টি ✍️ ডা: অরুণিমা দাস ২০২৫ এ পড়ে ফেলা বইগুলোর তালিকা তৈরী করেই ফেললাম। ভিন্ন স্বাদের সব বইগুলো। মন ভালো করে দেয়। তালিকা...
-
অণু গল্প ----সাথী হারা। কলমে-- পারমিতা মন্ডল। দীঘার সমুদ্রে একা একা হেঁটে চলেছে সৈকত । এই বালুকাবেলায় , রামধনু রং আকাশের দিকে তাকিয়ে মনটা বড়...





