রবিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২১

সরস্বতী পূজা

 




সেদিনের সরস্বতী পুজো


আজকের বিষয় লিখতে বসে নিজেকে নিয়ে যাবো ৩০বছর আগে আমার আমাতে।আমাদের সময় এই প্রেম নামক শব্দ টা তিন ধাপে সজ্জিত ছিলো।ব্যাপারটা এই রকম সরস্বতী পুজো মানে নির্বাচন, পয়লা বৈশাখ প্রহসন অর্থাৎ আমাকে তোমায় ভালোবাসিতে হইবে কারণ আমি তোমারে বেসেছি ভালো।এরপর দুর্গাপূজা হাত ধরে ঠাকুর দেখতে দেখতে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা।অগ্রহায়ণ খোলা শুধু নিমন্ত্রনের অপেক্ষা।
   এই ব্যাপারটা ছেলে মেয়ে উভয়ের মধ্যেই কার্যকর ছিলো।বেশ মনে আছে মাধ্যমিক পাশ করার পর স্কুলের হোমড়া চোমরা দের দলে নাম লেখানোর সাথে সাথে ওই ফল আনা,ঠাকুর আনা,আলুর দমের আলু ছাড়ানো ব্যাপারটা অপেক্ষাকৃত ছোট ক্লাশ নবম দশম শ্রেণীর ঘাড়ে অলিখিত ভাবে পড়তো।যেহেতু ১২ক্লাশ সেন্টাপ ছাত্র ওদের বাতিল করে রাখা হতো।১১ তখন সব্বের সব্বা ,হাতে সময় এই বছর,প্রেম বিনা জীবন বৃথা।
  মেয়েদের স্কুলে নিমন্ত্রণ পত্র নিয়ে যাবার জন্য রীতিমতো নিলামে উঠতে হতো।যে কতিপয় সিলেক্ট হতো তাদের পরবর্তী কয়েকদিন টিফিনের অভাব হতো না।সঙ্গী হবার যুদ্ধে কে জিতবে তাই নিয়ে হুড়োহুড়ি পরে যেত।এই মেয়েদের স্কুলে নিমন্ত্রণ পত্র নিয়ে যাবার সময়টা খুব যত্ন সহকারে তাদের টিফিনের সময়টা বাছা হতো।মনে পরে এই সূত্রে চলতে গিয়ে আমি এক ভীষণ বিপদে ফেঁসেছিলাম।টিফিনের ঘন্টা হবার সাথে সাথে একটি মেয়েদের স্কুলে ঢোকার সাথে সাথে হেড দিদিমণি আমাদের তাঁর ঘড়ে ডেকে নেন এবং মিষ্টি মুখ করানোর অছিলায় আমাদের প্রহসন শুরু করেন।পুরো ১ঘন্টার টিফিন আমরা কি নিয়ে পড়ছি ভবিষ্যতে কি করতে চাই এই করে কাটিয়ে দিলেন।বুঝলাম দিদিমণি এই দলেরই লোক ছিলেন তার সময়ে।
   সরস্বতী পুজোয় পাড়ার কিছু কিছু দাদা পাহাড়া বসাতো ঠিকই তবুও আইনের ফাঁক তো আছেই সেই ফাঁকে কিছু নির্বাচন হয়ে যেতো।বলতে বাঁধা নেই লালপাড় শাড়িতে মেয়েদের যে রূপ হয় তা সত্যি অবর্ণনীয়।আমি নিজেও এরকম এক সরস্বতী পূজার বিজেতাদের মধ্যে একজন,কিন্তু চাপ নেই কারণ আমার ঘরে মেয়ে আসবে যাবে না।
    সময় পাল্টেছে,সরস্বতী পুজোর আগে পিছু করে ভ্যালেন্টাইন ডে আসে,নির্বাচন প্রক্রিয়া আজ অনেক পরিবর্তন, অন্তর্জাল অনেকটা সাহায্য করলেও আজো সরস্বতী পুজো স্ব মহিমায় আছে।সারা বছর জিন্স,টপ, চুড়িদার পরিহিতারা আজো ওই বিশেষ দিনটিতে শাড়ি পরে সজ্জিত হয়ে বাইরে বের হয়।তাদের ওই মোহময়ী রূপ বাংলার সংস্কৃতি কে নাড়িয়ে দেয়।ওই সব কুমারী নারী হয়ে ওঠে দেবীর রূপ স্বর্গের অপ্সরা লজ্জা পায়।
     ভালো লাগে আজো এই পৌঢ় চোখ ওদের মাঝে খুঁজে নেয় আমার হারানো মা কে,যে আজ নেই কিন্তু আছেন আমার মনে।ওই বিশেষ দিনে অন্তরের ওই ছবি একাধিক মায়ের প্রতিমূর্তি হয়ে আমার সামনে আসে, আমি দেখি বিভোর হয়ে।
    না ওটা আমার দেখা,আমাদের মতো মানুষের দৃষ্টিকোণ, কখনোই আমার সন্তান কিংবা সন্তান তুল্য দের জন্য নয়😊তাদের কাছে হয়তো আর এক পরিকল্পনা।💐💐💐💐

মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২১

# বিষয় - বিজ্ঞান। # নাম- জীবন জিজ্ঞাসা। পর্ব - ৭। ✍- মৃদুল কুমার দাস।

# নাম - 'জীবন জিজ্ঞাসা'
      ( বিজ্ঞান বিষয়ক)
              পর্ব- ৭

 ✍- মৃদুল কুমার দাস। 


  নক্ষত্র মানে বিশাল পরিমাণ পদার্থের পিন্ড। বেশি পদার্থ মানে বেশি গ্রাভিটির আকর্ষণ বল। নক্ষত্র মাত্রেই বেশি পদার্থ, বেশি পদার্থ বলতে বেশি পরিমান জ্বালানি। এই জ্বালানি যদি ফুরিয়ে যায় তবে শক্তি ( আলোক ও তাপ) ফুরাবে। কিন্তু ভর লয় হবে না। বরং বেশী হতে পারে। ভর যত বেশি আকর্ষণ বল তত বেশি। আর তার আকর্ষণ বলের আয়ত্বে যেই আসবে বা যাকে পাবে তাকে সেকেন্ডের কয়েক ভগ্নাংশ সময়ের মধ্যে গিলে ফেলবে। নক্ষত্রের এই শক্তি হারানোর অন্তিম দশার নাম 'ব্ল্যাক হোল'। ব্ল্যাক হোল শক্তি শূন্য বলে কোনো প্রকার তরঙ্গ ছড়ায় না। তাই অদৃশ্য। এই নিয়ে ব্ল্যাক হোল চর্চা জমিয়ে আসর বসানো যেই না শুরু করেছে, হঠাৎ থমকে দাঁড়াল সামনে পরমানু গবেষণা হাজির হতেই।
  পরমাণু চর্চায় এটা স্থির হওয়া গেল যে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় যতই  নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন বিক্রিয়া হোক না কেন পরমানু অটুট থাকে। পরমাণু লোপ পাবে না।
  এই যে নিউক্লিয় বিক্রিয়ায় নতুন যৌগ তৈরি হল,এই নতুন যৌগ তৈরি হওয়ার পদ্ধতির নাম 'ফিউশন'
  ফিউশন প্রক্রিয়া হল একাধিক পরমানু সংযোগে নতুন পরমানু তৈরি হওয়া। যেমন দু'টি হাইড্রোজেন পরমানু মিলে তৈরি হয় একটি হিলিয়াম পরমানু।
এই 'ফিউশন' প্রক্রিয়ার ঠিক বিপরীত আরেক প্রক্রিয়া আছে। তার নাম 'ফিশন' প্রক্রিয়া। ফিশন প্রক্রিয়ায় একটি পরমানু ভেঙে একাধিক পরমানু সৃষ্টি হয়। যেমন ফিশন প্রক্রিয়ার সাহায্যে একটি ইউরেনিয়াম পরমানুকে নিউট্রন কণা দিয়ে আঘাত করলে বেরিয়াম নামে একটি পদার্থ পাওয়া যায়,যার থেকে প্রচুর পরিমাণে তাপশক্তির সম্পর্ক থাকে, সেইসঙ্গে ক্রিপটন পরমানু তৈরি করে। এই বিভাজনের ফলে প্রচুর পরিমাণে যে তাপশক্তি মিলবে তারই হদিশ দিল বা পাওয়া গেল।
ফিশন প্রক্রিয়ায় তাপশক্তি উৎপন্ন হওয়া থেকে গবেষকগণের কাছে দু'টি সম্ভাবনার দ্বার খুলে গেল-
           ১. ফিশন যদি ধীর গতিতে চালানো হয় তবে রিঅ্যাক্টর বসিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভভ হবে।
            ২. যদি অনেক ইউরেনিয়াম পরমানুর ফিশন একসঙ্গে দ্রুত করানো যায় তাহলে প্রচুর তাপশক্তি পাওয়া যাবে। যা থেকে আলো,তাপ তো বটেই সেই সঙ্গে প্রবল বিস্ফোরণের ধাক্কা ঘটানো যাবে। এই প্রবল ধাক্কা ঘটানোর কর্মটিকেই বলে পরমানু বোমা বিস্ফোরণ!
  এই দুটি ধারণা বিশ্বের কাছে হয়ে উঠল আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ। এক অজানা জগতের দ্বার খুলে গেল। বিশ্বজয়ে লেগে গেল মত্ততা। ধুন্ধুমার হুড়োহুড়ি! যে ব্ল্যাক হোল নিয়ে ও মহাকর্ষ তরঙ্গ নিয়ে নিউটন ও আইনস্টাইন মতবাদে নির্ভুল প্রমাণের রীতিমত চ্যালেঞ্জ ছিল,আসর বেশ জমজমাট ছিল,যেই পরমানু বিস্ফোরণের খবর রটে গেল অমনি বাজার হয়ে উঠল প্রবল উত্তেজনাময়! ব্ল্যাক হোল, মহাকর্ষীয় তরঙ্গ খড়কুটোর মতো ভেসে গেল। ১৯৩৯ সাল থেকে তার আর কোনো হদিশ পাওয়া গেল না। পরমাণু বোমা যে বড্ড বেশি জরুরি। হিটলারের পোল্যান্ড দখলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বাজার সরগরম। পরমাণু বোমা নিয়ে আলোচনা পরের পর্বে।
        (চলবে)

@ কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস। 


# বিষন্ন- প্রজাতন্ত্র দিবস। মৃদুল কুমার দাস।

# বিষয় - *প্রজাতন্ত্র দিবস* 
     # নাম- *২৬- জানুয়ারী*
    ✍ - মৃদুল কুমার দাস। 
    পূর্ণ স্বরাজের দাবীতে ১৯২৮ কলকাতায় জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে সুভাষচন্দ্র ও জওহরলাল নেহেরু যৌথ দাবীতে বেসরকারীভাবে স্বাধীনতা দিবস পালনের জন্য জাতীয় পতাকা উত্তোলনের প্রস্তাব গৃহীত হলেও গাঁধীর অনুমোদন না পাওয়ায় গৃহীত প্রস্তাব কার্যকরী হয়নি। সুভাষচন্দ্র মনঃক্ষুন্ন হয়েও নিরুপায়। শেষে ১৯২৯ এ নেহেরু সভাপতি হয়ে পূর্ণ স্বরাজের দাবীতে জোর করে জাতীয় পতাকা তুলে দিলেন। তখন গাঁধীজী বাধ্য হলেন ১৯৩০ এর জানুয়ারীর প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিত  জাতীয় কংগ্রেসের লাহোর অধিবেশনে পূর্ণ স্বরাজের দাবী কার্যকরী করতে প্রস্তাব অনুমোদন দেন জানুয়ারীর শেষ সপ্তাহের রবিবার জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে স্বাধীনতা দিবস পালিত হবে। শুধু জাতীয় পতাকা উত্তোলনে সীমাবদ্ধ থাকা নয়,সেই সাথে দিনটিতে নানা অনুষ্ঠানসূচী পালিত হবে। যেমন - চরকা কাটা,অস্পৃশ্যদের সেবা করা, হিন্দু-মুসলমানে সম্প্রীতি রক্ষা করা,মদ্যপানের বিরোধিতা করা ইত্যাদি। আর সেই দিনটি হল জানুয়ারির শেষ রবিবার ২৬- জানুয়ারী ১৯৩০। 
  নেহেরু তাঁর আত্মজীবনীতে দিনটি সম্পর্কে বলেছিলেন- "...সর্বত্র বৃহৎ জনতা গাম্ভীর্যপূর্ণ স্বাধীনতার শপথ বাক্য উচ্চারণ করছে,সে এক মহান দৃশ্য, সেখানে কোনো বক্তৃতা নেই,অনুরোধ নেই,উপরোধ নেই..." ১৯৩০ এর পর থেকে প্রত্যেক বছর দেশব্যাপী এইভাবেই বেসরকারীভাবে স্বাধীনতা দিবস পালিত হয়ে আসছিল। 
  গোল বাঁধল যখন সরকারিভাবে স্বাধীনতা দিবস আসার উপক্রম হল। এই ২৬ জানুয়ারীকে যথাযথ মর্যাদা দিতে জাতীয় কংগ্রেস দাবী করেছিল স্বাধীনতা দিবস আর ক'টা মাস বিলম্বিত করে ১৯৪৮ এর ২৬-জানুয়ারী হোক স্বাধীনতা দিবস। পঞ্জিকা মতে ১৫ আগষ্ট দিনটিও শুভ নয় বলে অনেক করে ঠেকানোর চেষ্টা হয়। কিন্তু সে কথায় কোনও কর্ণপাতই করেনি সরকার। কেন করেনি?
 করেনি এজন্য দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাতীয় কংগ্রেস মিত্রশক্তিকে(ব্রিটেন,ফ্রান্স)কোনো সাহায্য না করার ফতোয়া জারি করল। এও বলা হলো জাতীয় কংগ্রেসের বিরোধিতা করা মানে দেশদ্রোহীতার নামান্তর। ফলে মিত্র শক্তি ভারতীয়দের একটা নগন্য অংশকে পেল সেনা হিসেবে যুদ্ধে যাওয়ার জন্য। 
 ফলত ভারতবর্ষের স্বাধীনতা দিবস ধারণ নিয়ে কংগ্রেসের কোনও দাবী পূরণ করার ইচ্ছা ব্রিটিশ সরকার ন্যূনতম সৌজন্য লাভ  না করাই স্বাভাবিক। 
 এর মূলে গাঁধীকে এক পরাস্ত নায়কের তকমা দিতে ব্রিটিশ সরকার তলে তলে ফন্দি আঁটল। 
   স্বাধীনতা দিবসের দিন নিয়ে জাতীয় কংগ্রেসের প্রস্তাব মানা তো দূরের কথা,দ্বিখন্ডিত স্বাধীনতার মদত দিল। তার একটা ছোট্ট প্রমাণ,যখন প্রধানমন্ত্রী ক্লিমেট এটলিকে জিজ্ঞেস করা হলো- গাঁধীজীর ভারতছাড়ো আন্দোলনের জন্যই কি এই স্বাধীনতা? উত্তরে এটলি বলেছিলেন গাঁধীর আন্দোলন নয়,নেতাজী সুভাষচন্দ্রের গণ অভ্যুত্থানের জন্য ব্রিটিশ সরকার স্বাধীনতা দিতে বাধ্য হয়েছে - "আমরা আগ্নেয়াস্ত্র চূড়ায় বসে আছি। আজাদ হিন্দ সেনানীদের লালকেল্লায় বিচার চাই; এবং দেশ জুড়ে গণ অভ্যুত্থান ব্রিটিশকে বাধ্য করেছিল ভারতবর্ষ ত্যাগ করে চলে যেতে।"
  আসল রহস্য কিন্তু অন্য - দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইংল্যান্ডের অর্থনৈতিক মেরুদন্ড ভেঙে চুরমার। ভারতবর্ষের সংসার চালানোর ভাঁড়ে মা ভবাণী অবস্থা।  আর গাঁধীর ভেতর থেকে ভারত ছাড়ো আন্দোলনের চাপ,বাইরে থেকে আজাদ বাহিনীর চাপে ব্রিটিশ শক্তির নাস্তানাবুদ অবস্থা। ভারত ছেড়ে যাওয়াই শ্রেয়। সেই সঙ্গে তাদের এও কর্তব্যজ্ঞানে অবিচল হলো যে ব্রিটিশের পরে ভারতবর্ষকে যেন আর কোনো বৈদেশিক শাসক শাসন করতে না পারে - একটা স্থায়ী গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য স্থির করল।
  আর স্বাধীনতা দিবস যখন ১৫ আগষ্ট  হয়ে গেল তখন ২৬- জানুয়ারী কি বৃথা যাবে। না বৃথা যেতে না দেওয়ার জন্য  ২৬ - জানুয়ারী প্রজাতন্ত্র দিবসের পুণ্য বেদিতে পেল প্রতিষ্ঠা। তাই স্বাধীনতা মেরুদন্ড  হলে প্রজাতন্ত্র ধড় বা দুটি দিন ভারতমাতার দুটি নয়ন। 
  জয় হিন্দ্।বন্দেমাতরম। 
@ কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।

প্রজাতন্ত্রের প্রজা(সুদেষ্ণা দত্ত)

 


প্রজাতন্ত্রের প্রজা

সুদেষ্ণা দত্ত


       ১) আজ ২৬শে জানুয়ারী।মাস্টার রা বারবার ইস্কুলে যেতে বলেছে।আজ কোন কেলাস হবে না।হেডমাস্টার একটা ভারতবর্ষের পতাকা তুলবে আর একটা টিফিন কেক দিয়ে ছুটি করে দেবে।আসমত ভাবে এমন দিন কেন আসে,যেদিন ইস্কুলে মিড-ডে মিল দেয় না।মিড ডে মিলের ডিমটা সে বাড়ীতে নিয়ে গিয়ে বোন আয়েশার সঙ্গে ভাগ করে খায়।একবেলার খাবারের চিন্তা করতে হয় না তার বিধবা মাকে।কিন্তু আজ কি খাবার জুটবে তাদের!

          ২)   মাঘের ঠান্ডা কুয়াশা আস্তরণ বিছিয়েছে চারদিকে।দিকচক্রবাল আলোকিত করে ধীরে ধীরে স্ব মহিমায় উদ্ভাসিত হচ্ছেন সূর্যদেব।ক্ষেত ভর্তি সর্ষে ফুল,সেখানে কত নাম না জানা পাখীর আনাগোনা।কিন্তু এসব দেখার ফুরসৎ নেই কানাইয়ের।সকাল থেকে মালিকের জমিতে ধান রোপনে ব্যস্ত সে।একটা তিন রঙের কাপড় উড়ছে কাছের ক্লাব থেকে।বাবু এসে বলে গিয়েছেন,আজ ২৬শে জানুয়ারী, তাঁর ক্লাবে নিমন্ত্রণ,আজ আর আসতে পারবেন না।আজ একটা বিশেষ ছুটির দিন।হায়!কানাইয়ের কাছে ২৬ শে জানুয়ারী যা ২৬শে ফেব্রুয়ারীও তা।কাজে মন দেয় কানাই।

            ৩) নেতাজী মহাবিদ্যালয়ের ক্যান্টিন আজ বন্ধ।আজ ২৬ শে জানুয়ারীর পতাকা উত্তোলনের পর কলেজ ছুটি।জোসেফ কাকারও আজ সারাদিন রোজগার বন্ধ।মন মরা হয়ে থাকে লিভারের অসুখে আক্রান্ত স্ত্রীর চিকিৎসারত জোসেফ কাকা।আজ হাসপাতালে স্ত্রীকে নিয়ে ডাক্তার দেখাতে যাওয়ার কথা ছিল।কিন্তু আজ নাকি ডাক্তারবাবুরা হাসপাতালে থাকবেন না।ফিস্টি করতে যাবেন।

         ৪) ভিক্টোরিয়ার সামনে পতাকা বিক্রি করছে আকাশ।একটা বড় গাড়ী সামনে এসে দাঁড়ায়।একটা ফুটফুটে মেয়ে বাবার হাত ধরে পতাকা কিনতে আসে।দেওয়ার সময় একটা পতাকা হাত থেকে পড়ে যায়।বাবা-মেয়ে নোংরা পতাকা মাটিতে ফেলে নতুন পতাকা গাড়ী তে গুঁজে বেরিয়ে যায়।দিন শেষে মাটিতে পড়ে থাকা পতাকা নিয়ে বাড়ী ফেরে আকাশ।তার তিন বছরের ছেলে খুশি হয়ে জানলায় পতাকা গুঁজে প্রণাম করে।গর্বিত আকাশ ভাবে আকাশের মত উদার হোক তার ছেলে।

        ৫)  রেনু মাসী প্রতিদিনের মত আজও লোপা বৌদিদের বাড়ী কাজে যাচ্ছে।কিন্তু পাড়ার ছেলে গুলো তাকে জোর করে ক্লাবে যাওয়ার জন্য।ক্লাবে আজ কম্বল দেওয়া হবে।রেনু মাসী জানায় কাজে না গেলে বৌদি রাগ করবে।কিন্তু এই মাঘের শীতে কম্বলের হাতছানিকে উপেক্ষা করতে পারে না সে।আজ কি বিশেষ দিন সে জানে না।তার কাছে আজকের দিনের সেরা প্রাপ্তি এই উষ্ণতা।

          আজ ২৬ শে জানুয়ারী, প্রজাতন্ত্র দিবস।জনগণই নাকি এখানে সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী।১৯৫০ সালে আম্বেদকরের হাত ধরে দেশের সংবিধান তৈরী হওয়ার পর তা কার্যকর করার জন্য একটি দিনের প্রয়োজন ছিল,তাই এই ২৬শে জানুয়ারী কেই বেছে নেওয়া হয় প্রজাতন্ত্র দিবস হিসেবে।কিন্তু সত্যিই কি ভারতবর্ষের মত দারিদ্র্য,অশিক্ষা যেখানে ওঁৎ পেতে আছে—সেই অভুক্ত,অর্ধভুক্ত মানুষের কাছে এই দিনের কোন মর্যাদা আছে!আবার উল্টোদিকে শিক্ষিত,বিত্তবান মানুষরা মাংস ভাত খেয়ে একটা ছুটির দিনের মর্যাদা দিয়েছেন কত সংগ্রাম,কত অত্যাচার—পরিশ্রমের সফল পরিণতি এই দিনের।

©কপিরাইট রিজার্ভড ফর সুদেষ্ণা দত্ত।

ছবি সৌজন্য:গুগুল।


#বিষয় : অনুগল্প #নাম: ব্ল্যাক হোল # লেখায় : শর্মিষ্ঠা ভট্ট


একাকিত্ব

::::::::::::::::::::::::::::::::::


#বিষয় : অনুগল্প 


# নাম : ব্ল্যাক হোল

# লেখায় : শর্মিষ্ঠা ভট্ট


একা একেবারে একা  ভীড়ের মাঝেও মাঝে মধ্যেই একা লাগে দীপার। এই সংসার লেখার দুনিয়া বাচ্ছারা , এমন কি অনিমেষ। সব যেন দূরের গ্ৰহ। দীপা বিচ্ছিন্ন এক দ্বীপে বাস করে। বিনিদ্র রাতে কাঁচের জানলার ওপারে কালো অন্ধকার যেন ব্ল্যাক হোলের মতো গ্রাস করছে। একা , ভীড়েও একাকিত্ব দুহাত বাড়িয়ে ডাকে। সবার কি নিজের একটা দ্বীপ থাকে! নাকি কেবল দীপাই কোন রোগের শিকার?  উদাস নিরাসক্তি আচ্ছন্ন করছে ধীরে ধীরে। 

©কপিরাইট সর্তাধিকারী শর্মিষ্ঠা ভট্ট

সোমবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২১

অন্য সঙ্গী(সুদেষ্ণা দত্ত)

 


অন্য
সঙ্গী(অণু গল্প)

সুদেষ্ণা দত্ত

        

                       

         বছর সাতাশের সাঁঝবাতির বিয়ে হয়েছে বছর চারেক।এখনও পর্যন্ত তার কোন সন্তান নেই।সাঁঝবাতির স্বামী জয়ন্ত বিদ্যুৎ বিভাগে চাকরী করেন।সাঁঝবাতি সপ্তাহে তিনদিন ঘন্টা চারেক ডাটা এন্ট্রির কাজ করে।বাড়ীতে সে আর তার স্বামী থাকে।শ্বশুরবাড়ীর লোকজন কোন এক অজ্ঞাত কারণে নিজেদের দায়িত্ব-কর্তব্য থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন।সাঁঝবাতি প্রথম দিকে অনেক চেষ্টা করেছে তাঁদের সঙ্গে মানিয়ে চলার।কিন্তু তার সেই চেষ্টা সাফল্যমন্ডিত হয়নি।দিন-রাত বাপের বাড়ী গিয়ে থাকা সাঁঝবাতির আজন্ম লালিত সংস্কারে কোথায় একটা বাধার সৃষ্টি করে!জয়ন্তর কাজের প্রতি যত নিষ্ঠা,স্ত্রীর প্রতি নয়-সে বোঝে জয়ন্তর কাছে তার গুরুত্ব কমছে।ফলস্বরূপ বাড়তে থাকে দূরত্ব।সাঁঝবাতি ভাবে কাঁহা তক টিভি দেখে আর বই পড়ে কাটান যায়!তার না আছে তেমন বন্ধুবান্ধব,না আছে ফোনে আসক্তি।ধীরে ধীরে একাকীত্ব,অবসাদ তাকে গ্রাস করে।সে মাঝে মাঝেই খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে অন্ধকার ঘরে দু-তিন দিন নিজেকে আটকে রাখে।এতে জয়ন্ত বিরক্ত হয়।সাঁঝবাতিও নিরুপায়।অবধারিত পরিণতি অশান্তি।দু-একবার আত্মহননের পথে এগিয়েও ব্যর্থ হয় সাঁঝবাতি।

            এখন জয়ন্ত বেরিয়ে গেলে সাঁঝবাতি প্রায়ই বেরিয়ে যায়।যে পাড়ার লোক কোনদিন তার একাকীত্বে সহানুভূতির প্রতিষেধকের প্রলেপ লাগাতে চেষ্টা করেনি,আজ তারাই জয়ন্তর কান ভারী করে।কৈফিয়ৎ দাবি করা হয়,শব্দরা ঘর ছেড়ে ছড়িয়ে পড়ে চারিদিকে।কিন্তু সব সহ্য করেও নীরব থাকে সাঁঝবাতি।

          দুজনের সম্পর্কের শক্ত ইট তাদের বাঁধন মজবুত করেনি,তাদের যুগলে বেরোনোর পথে তৈরী করেছে অভেদ্য প্রাচীর।আজ রবিবার।আজ সাঁঝবাতি জয়ন্তকে জোর করে রাজি করিয়েছে তার সঙ্গে বেরোতে।আজ সাঁঝবাতির দারুন আনন্দের দিন।সাঁঝবাতির বুকের জমাট বাঁধা শব্দরা আজ দু’মলাটের মাঝে ভালোবাসায় একে অপরকে জড়িয়ে আছে,সেখানে নেই কোন একাকীত্ব।সাঁঝবাতি আর জয়ন্ত এসেছে কাঁকুরগাছির বইমেলায়।রাঙ্গামাটি প্রকাশনার স্টলটি উদ্বোধন করবে সাঁঝবাতি।এখান থেকেই তার নতুন সৃষ্টি ‘অন্য সঙ্গী’র আত্মপ্রকাশ—তার নতুন পথচলা।এসব দেখে হকচকিয়ে যায় জয়ন্ত।

          সাঁঝবাতিকে প্রকাশনা সংস্থা দু চার কথা বলতে বললে সে জানায় তার একাকীত্বের গল্প।কত মানুষ এর পিছনে আঁশটে গন্ধ খোঁজার চেষ্টা করেছে।জয়ন্ত বেরিয়ে গেলে দিনের পর দিন সে শিয়ালদা স্টেশনে গিয়ে বসে থাকত।প্রায় নিত্য স্টেশনে আসার সুবাদে আর.পি.এফদের নজরে পড়ে যায় সাঁঝবাতি।পড়তে হয় অনেক কৈফিয়তের মুখে।ঘরে--বাইরে কৈফিয়তের গাঁথনি তার মনের ভিতকে মজবুত করতে সাহায্য করেছিল।সে স্টেশনে গিয়ে দেখত ভিন্ন পেশা,ভিন্ন সামাজিক অবস্থানের মানুষদের।মন দিয়ে শুনত তাদের কথা।তারই ফসল মানুষের লড়াই করে বাঁচার গল্প, 'অন্য সঙ্গী’। একাকীত্বের কলম দিয়েই গেঁথেছে শব্দের উৎসব।খুব কঠিন ছিল এই পথ চলা।কিন্তু আজ সাঁঝবাতি চায় এই একাকীত্ব—যা তাকে শব্দের ডানা মেলে আকাশে উড়তে শিখিয়েছে,শিখিয়েছে নিজেকে এক আত্মবিশ্বাসী মানুষ হিসেবে চিনতে।

কথার মেঘে জমাট বুক,

দু’নয়নে কষ্টের জল,

এটাই দিয়েছে সৃষ্টিসুখ,

এটাই আমার একাকীত্বের ফল।

©কপিরাইট রিজার্ভড ফর সুদেষ্ণা দত্ত  

অন্য নেতাজী(সুদেষ্ণা দত্ত)

 


অন্য
নেতাজী

সুদেষ্ণা দত্ত

        ৯৪৫ খ্রিস্টাব্দের ১৮ই আগস্ট শত্রুপক্ষের চোখে ধুলো দিয়ে বিমানে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনাকবলিত হয়ে যে ব্যক্তির মৃত্যু সংবাদ ভারত তথা বিশ্ববাসীর সামনে প্রকাশিত হয়েছিল,তিনি আর পাঁচটা মানুষের মত অতি সাধারণ ননসেই কারণেই এত তদন্ত কমিশন গঠিত হয়েছে তাঁর মৃত্যু রহস্য উদ্ঘাটনের জন্যএই বিখ্যাত ব্যক্তি আজাদ হিন্দ বাহিনীর সর্বাধিনায়কনেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুতাঁর উদাত্ত কন্ঠস্বর হাজার হাজার মানুষকে ভাবাবিষ্ট করে তুলেছিলতাঁর কথা,”ঈশ্বর তুমি আমাদের আশীর্ব্বাদ করআমরা যেন মাথা উঁচু রেখে মৃত্যু বরণের শৌর্য থেকে বঞ্চিত না হইএহেন দৃঢ়চেতা নেতাজী মহিলাদের প্রতি ছিলেন অত্যন্ত আড়ষ্ট এবং তাঁদের সঙ্গে মুক্ত মেলামেশা তাঁর অন্তরে প্রতিবন্ধকতা তৈরী করতসেই কারণেই ইংল্যান্ডের প্রবাস জীবনে তাঁর পরিচিত হওয়া এক ইংরেজ মহিলা শ্রীমতী ধর্মবীরের সঙ্গে কিছু ঘটনা নেতাজীর বন্ধু দিলীপ কুমারের কাছ থেকে জানা যায়দিলীপ কুমারের কথায়,”মেয়েদের সঙ্গে মেলামেশার ব্যাপারে.....আড়ষ্ট অপ্রস্তুত বোধ করতেনতাই  ল্যাংকাশায়ারে শ্রীমতী ধর্মবীরের আতিথ্যে এবং মধুর ব্যবহারে তিনি অভিভূত হলেও অন্তরঙ্গভাবে মিশতে পারেননিএর পিছনে আরো একটি কারণ ছিল শ্রীমতী ধর্মবীর ছিলেন ইংরেজ মহিলা-তাঁর জন্ম রাশিয়াতে এবং বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন পাঞ্জাবের ডাক্তার এন.আর.ধর্মবীরের সঙ্গেনেতাজী ব্রিটিশের প্রতি অপ্রসন্ন ছিলেনশ্রীমতী ধর্মবীরের বাড়ী থেকে চলে আসার দিন ট্রেন ছেড়ে চলে যাচ্ছে,প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে আছেন ধর্মবীর দম্পতিকামরার ভিতর দুই বন্ধুর(নেতাজী দিলীপ কুমার)কোলে দুটি প্যাকেট ছুঁড়ে দিলেন শ্রীমতী ধর্মবীরতাতে ছিল শুকনো ফল আর চকোলেটপ্যাকেট হাতে নেতাজীর চোখে জল এসেছিলদিলীপ কুমারের দিকে ফিরে বলেছিলেন,”Women will always be women”.

             এরপর যখন নেতাজী জাহাজে বসে চিঠি লিখেছিলেন,শ্রীমতী ধর্মবীরকে দিদিসম্বোধন করেছিলেনসেই অল্পদিনের পরিচয় এবং তাঁর সঙ্গে কাটান দিনগুলি নেতাজীর কাছে ইংল্যান্ডে ব্যতিক্রমী বাস ছিলকারণ ইংল্যান্ডে বসবাস তাঁর কাছে ছিল পীড়াদায়ক

     নেতাজীর আধ্যাত্মিকতার প্রতি অনুরাগ ছিল শৈশবকাল থেকেইতিনি একাধারে ছিলেন লাজুক,মিতভাষী এবং অন্যদের অনাবশ্যক সংসর্গ এড়িয়ে চলতেনতিনি তাঁর আত্মজীবনী The Indian Struggle লিখেছেন,”একেবারে শৈশবের যে কথা আমার মনে পড়ে তা হল এই যে নিজেকে নিতান্তই এক তুচ্ছ জীব বলে মনে হত”।কারণ ছেলেবেলায় পিতা-মাতার ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্য পাওয়ার চেষ্টা করলেও তিনি তা থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেনকারণ একদিকে বৃহৎ পরিবার,অন্যদিকে পিতা-মাতার ব্যক্তিত্বতাই তাঁর বয়সী শিশুরা যখন খেলাধুলায় মেতে থাকত,তখন তাঁর আগ্রহ ছিল সমাজসেবায় এবং প্রায়ই ভস্ম মাখা সাধুদের পিছনে ঘুরে বেড়াতেন তিনিতাঁর জীবনের উপর শ্রীরামকৃষ্ণ স্বামী বিবেকানন্দের প্রভাব ছিল সর্বাধিকমাত্র ১৫ বছর বয়সের মধ্যেই তাঁদের জীবনী এবং উপদেশাবলী আত্মস্থ করে ফেলেছিলেনমাত্র ২৩ বছর বয়সে তিনি রাজনীতিতে নিমগ্ন হওয়া সত্ত্বেও আধ্যাত্মিকতা বোধ তাঁর অন্তর থেকে বিলীন হয়ে যায়নিতাই রাত্রে ঘুমোতে যাওয়ার আগে তিনি গীতাপাঠ করতেনকারণ গীতার মধ্যেই তিনি পেয়েছিলেন মনের সান্ত্বনা এবং শক্তিজাগরণকালে তিনি গীতার নির্দেশ অনুযায়ী চলার চেষ্টা করতেনরাজনীতির প্রয়োজনে তিনি জনতার মধ্যে কাটাতেন,সভায় দাঁড়িয়ে দীর্ঘ বক্তৃতা দিতেনকিন্তু তারপরেই বেরিয়ে পড়তেন একাকিত্বের সন্ধানেভাগবত চিন্তার জন্য তাঁর প্রয়োজন ছিল নৈঃশব্দ্যএমনও হয়েছে যে,নৈশভোজের পর কোন সঙ্গীকে ডেকে পাঠিয়েছেনএকসঙ্গে বসে ঘন্টার পর ঘন্টা কেটে গেলেও হয়ত তিনি একটি বা দুটি কথা বলেছেনশ্রীরামকৃষ্ণ এবং বিবেকানন্দের আদর্শবোধ তাঁর অন্তরের আধ্যাত্মিকতাবোধ মানুষের প্রতি নিবিড় ভালবাসা তৈরী করেছিল,যে ভালবাসা সমগ্র দেশবাসীর প্রতি সঞ্চারিত হয়েছিলযা পরাধীনতার গ্লানি থেকে মুক্ত করার জন্য তাঁকে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করেছিল

©কপিরাইট রিজার্ভড ফর সুদেষ্ণা দত্ত

      

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...