*বিষয়:_বদলে যাওয়া দিন,বদলে যাওয়া সময়*
*#গল্প_নতুন সকাল*
*#রচনা:_সৌগত*
সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে, পাশে শোয়া নতুন মানুষটা শায়ন এখন অচৈতন্য হয়ে ঘুমোচ্ছে।কিন্তু সুদেষ্ণা র চোখে ঘুম নেই,সেই বিয়ের ঠিক হবার দিন থেকে একটা অচেনা ভয় তাকে তারা করে বেড়াচ্ছে, আজ জীবনের সেই কুমারী থেকে নারী হয়ে ওঠার প্রথম ফুলশয্যা র রাতেও সেই ভয় তার পিছে ছাড়ে নি।যন্ত্রের মতো নারী হয়ে ওঠার মুহূর্তে সেই ভয় তাকে সুখঅনুভুতির থেকে বঞ্চিত করেছে।একান্নবর্তী পরিবার থেকে আসা সুদেষ্ণা পারিবারিক সংস্কৃতির মধ্যে মানুষ হলেও।খুব একটা বাঁধা শাসনের জীবন ছিলো না,আবার বলগা হারা জীবন ও সে পায়নি।মেয়ে মানেই অন্যের ঘরের লক্ষী,প্রেমে বিয়ের প্রতি বাড়ির লোকেদের সেরকম প্রশ্রয় পায়নি।বিয়ের প্রথম রাতের অনুভূতি র ভয় যতো না তাকে ভীত করেছে তার থেকেও তার আতঙ্ক ছিলো শ্বশুর বাড়ীর আতঙ্ক।বাড়ির মা,ঠাকুমা ছাড়াও সিনেমা নাটক ,সাহিত্য সবে সে পড়েছে পরের বাড়ির মেয়েদের কি ভাবে সব স্বার্থ ত্যাগের মধ্যে দিয়ে নিজেকে সবার মধ্যে স্থান করে নিতে হয়।বিয়ের কয়েকদিন আগে থেকেই মা,ঠাকুমা বার বার বলেছেন যেনো শ্বশুর শ্বাশুড়ির মন জুগিয়ে চলে।কিন্তু সে কি পারবে,সব আপনজন পর করে অচেনা একটা পরিবারকে আপন করতে।
সায়নের বাবাকে দেখলে মনে হয় খানিকটা নিজের বাবার মতোই,কিন্তু ওর মা পূর্ণিমা দেবী খুব রাশভারী এবং কম কথার মানুষ সেটা ও বিয়ে হয়ে এসেই বুঝেছে।সায়নের এক বন্ধু ওকে উদ্দেশ্য করে একটা ঠাট্টা করায়, তার দিকে পূর্ণিমা দেবীর স্থির দৃষ্টে তাকানো এবং সায়ন এবং ওর বন্ধুর মিইয়ে যাওয়া অবস্থা তার প্রমান।এই মাঘের ঠান্ডায় সুদেষ্ণা রীতিমতো ঘামছে,এটা ভয়ে না উত্তেজনা সে বুঝতে পারে না।ঘড়ির দিকে তাকায় ভোর চারটে সবার ওঠার আগে তাকে উঠে সবার জন্য চা জলখাবারের আয়োজন করতে মা তাকে বলে পাঠিয়েছেন,এতে নাকি শ্বশুর বাড়ির ভালোবাসা পাওয়া যায়।
সুদেষ্ণা বাথরুমে যায়,সে নতুন গিজারের সুইচ খুঁজে পায় না,,ঠান্ডা জলে স্নান করে কাঁপতে কাঁপতে বাইরে বেরিয়ে দেখে বাথরুমের দরজা আগলে দাঁড়িয়ে আছেন শ্বাশুড়ি পূর্ণিমা দেবী।এক দৃষ্টিতে সুদেষ্ণা কে দেখে তিনি প্রশ্ন করেন"এই ভোররাতে ঠান্ডা জলে স্নান করতে উঠলে কেনো"
সুদেষ্ণা কাঁপা কাঁপা গলায় বলে"রান্নাঘরে চা করতে ঢুকবো তো তাই---ভয়ে সুদেষ্ণা র গলা জড়িয়ে আসে।
পূর্ণিমা দেবী বলেন কেনো বাড়ী শুদ্ধ লোক ঘুমবে আর তুমি তাদের মুখে চা জোগাতে ঘুম নষ্ট করে উঠবে।আমি কি মরে গেছি।এই বলে একটা তোয়ালে টেনে বলেন মাথাটা দেখি।এইবলে সুদেষ্ণা র ভিজে চুল মুছতে থাকেন।ভয়ে অভিমানে সুদেষ্ণা র চোখে জল এসে যায়।পূর্ণিমা সুদেষ্ণা র ভেজা চোখের জল মুছিয়ে বলেন ছি মা কাঁদছিস কেনো, তুই কি আমার বাড়ির কাজের লোক তুই তো আমার মেয়ে,দুটো ছেলের জন্ম দিয়েছি, মেয়ে আমার হয়নি,বড়ো সাধ ছিলো মেয়ের।ভগবান আজ তোকে দিলো কদিন পরে আরো একজন আসবে আমার একের বদলে দুটো মেয়ে হবে।আমি থাকতে আমার মেয়ে কেনো কষ্ট করবে।সুদেষ্ণা নিজেকে ধরে রাখতে পারে না দুহাতে পূর্ণিমা দেবীকে জড়িয়ে ধরে মা মা বলে বাচ্ছার মতো কাঁদতে থাকে।পরম মমতায় পূর্ণিমা দেবী ওর মাথায় হাত বুলিয়ে বলে যা মা শুতে যা,সকাল হতে অনেক বাকি।
সুদেষ্ণা নিজের ঘরে আসে, সায়ন তখনো ঘুমাচ্ছে,সব ভয় গুলো সুদেষ্ণা র মন থেকে চলে গেছে।এই মুহূর্তে ওর খুব ইচ্ছা করছে কালকের না পারা ভালোবাসা এখন সায়নকে উজাড় করে দিতে।
সুদেষ্ণা আস্তে করে সায়নের ঢাকার তলায় ঢুকে যায়,সায়নের ঘুম ভেঙে যায়।
-------সমাপ্ত-----

খুব ভালো লাগলো 👌👌
উত্তরমুছুনধন্যবাদ😊😊😊
মুছুনসত্যি দাদা্, অসাধারণ লিখেছেন
উত্তরমুছুনধন্যবাদ😊😊😊
মুছুনশেষ লাইনে একেবারে জমে ক্ষীর! অসাধারণ। খুব সুন্দর! 👍👍👌👌❤❤💯💯💯
উত্তরমুছুনদারুণ! দারুণ! অসাধারণ লাগল শেষ লাইনে।👍👍👌👌❤❤❤💯💯💯
উত্তরমুছুনধন্যবাদ😊😊😊
মুছুনদারুণ ।💐💐💐
উত্তরমুছুনধন্যবাদ😊😊😊
মুছুনঅসাধারণ
উত্তরমুছুন