# নাম- 'জীবন জিজ্ঞাসা'
( বিজ্ঞান বিষয়ক)
পর্ব- ৩
✍ - মৃদুল কুমার দাস।
আইনস্টাইনের মহাকর্ষ তরঙ্গের অস্তিত্ব প্রমানিত সত্যে পরিণত হল একটি মহাবিশ্বে এক অলৌকিক ঘটনা থেকে। ঘটনাটি হলো-
"১৩০০ কোটি আলোকবর্ষ দূরের এক গ্যালাক্সিতে দুই কৃষ্ণগহ্বরের যুগল নৃত্য চলছিল। একজনের ভর আমাদের সূর্যের ২৬ গুণ,তার ব্যাস ১৫৬ কিলোমিটার। অন্যজন ভরে সূর্যের ৩৯ গুন,ব্যাস ২৩৪ কিলোমিটার। এক সেকেন্ডের এক পঞ্চমাংশেই সব শেষ। মহাকর্ষের টানে ঐটুকু সময়ের মধ্যে দু'জনের মিলিত রূপ একটি কৃষ্ণগহ্বর তৈরি হয়। তার ভর আমাদের সূর্যের ভরের ৬১ গুণ,ব্যাস ৪০০ কিলোমিটার।.... এই কৃষ্ণগহ্বরের মিলিত ফল হলো এই যে, এতে যে পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয়,তার ঔজ্জ্বল্য আমাদের সূর্যের চেয়েও কোটি কোটি গুণ বেশি। আর এক সেকেন্ডের কম সময়ে এই শক্তির বেশীরভাগ বিকিরিত হয়েছে মহাকর্ষ তরঙ্গের রূপে।" (সোমক রায়ের আনন্দবাজার পত্রিকায় লিখিত ২-৬-২০১৬ র লিখিত প্রতিবেদন।)
দু'টো গহ্বর এক সেকেন্ডের এক পঞ্চমাংশ সময়ের মধ্যে এই যে একদেহে লীন হলো, অর্থাৎ যুগল বন্দি হলো, এই মিলনের ফলে ভর দাঁড়ালো সূর্যের থেকে ৬১গুণ বেশি ও ব্যাস ৪০০ কিলোমিটার। কিন্তু হিসাব বলছে ৬৫ হওয়ার কথা। তাহলে সূর্যের ৪ গুণ ভরের শক্তি গেল কোথায়? ঐ ৪ গুণ ভরই তো মহাকর্ষীয় তরঙ্গে তুলল প্রবল ঢেউ। যেমন পুকুরে বিরাট একটা পাথর ফেললে তার ভরের শক্তিই যেমন জলের উপর তরঙ্গ তৈরি করে,এও ঠিক তেমনি। দুই ব্ল্যাক হোল-এর মিলিত সংঘাতে যে তরঙ্গ সৃষ্টি হয়েছিল তা মহাকর্ষীয় তরঙ্গের মধ্য দিয়ে সেই প্রবল ঢেউ দিগ্বিদিক শূণ্য হয়ে ছুটল,আর মহাশূণ্যে শব্দের অস্তিত্ব নেই বা বিস্তার ঘটে না বলে তাই এই অলৌকিক মহাবজ্রের ঝঙ্কার শুনতে পেলাম না,কেবল পেলাম আলোর তরঙ্গ।
আলো সোজা পথে চলে। বাধা পেলে বাঁক নেয়। মহাশূন্যে চলে কত এমনি ঘটনার ঘনঘটা। সব তরঙ্গ পৃথিবী ছুঁয়ে যায় না। এদের তরঙ্গ সৌভাগ্যক্রমে পৃথিবীতে পৌছলো। আমেরিকা তার সাক্ষী। আমেরিকার বিপরীতে ভারতবর্ষ বলে সেও এর সাক্ষী হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করল। এই মহাকর্ষীয় তরঙ্গ আবিষ্কারে আমেরিকা ও ভারতবর্ষের মধ্যে মহাকাশ গবেষণার এক নতুন মেরুকরণ ঘটল। এই মহাকর্ষ তরঙ্গ ধরা পড়ল কীভাবে?
আমেরিকা ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে 'অ্যাডভান্সড লাইগা' ('লেজার ইন্টার ফেরোমিটার গ্রাভিটেশনাল ওয়েভ অবজারভেটরি'র সংক্ষিপ্ত নাম 'লাইগা') নামক এক উন্নত মানের যন্ত্র স্থাপন করেছিল। ২০১৬ র ফেব্রুয়ারীতে সেই যন্ত্র মহাকর্ষীয় তরঙ্গ ধরে ফেলল। আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতাবাদে মহাকর্ষীয় তরঙ্গের বাস্তব অস্তিত্ব হাতে নাতে প্রমাণিত হল। এ থেকে আফশোষ আরো একশ' বছর আগে যদি অ্যাডভান্সড লাইগাকে বসানো হতো তাহলে আইনস্টাইন তাঁর জীবদ্দশাতেই প্রমাণ করে যেতে পারতেন তার সূত্রের সত্যতা। এমনিভাবে শত বর্ষে কত তরঙ্গ পৃথিবীর উপর দিয়ে মনের অজান্তে চুপিচুপি চলে গেছে। ১৩০০ কোটি আলোকবর্ষ দূরে এমনই যে আলোক তরঙ্গের জন্ম হয়েছিল এই ১৩০০ কোটি বছর পরে পৃথিবীতে পৌঁছনোর মাহেন্দ্রক্ষণ ২০১৫ র সেপ্টেম্বরে লাইগার বোধন আর ফেব্রুয়ারীতে হাতে নাতে ফল এ যেন পরম শক্তিই মানুষকে দিয়ে করিয়ে নিল।
ঐ যে বললাম বিজ্ঞান বড় জোর বিষয় বিশ্লেষণ দিতে পারে,এর পেছনে কী কারণে ব্রহ্মান্ডের এই লীলা হলো,তার রহস্য বুঝিয়ে বলার ক্ষমতা ঈশ্বর বিজ্ঞানকে দেননি। বিজ্ঞান সব পেয়েছির দেশে থাকবে,কিন্তু কিছু একটা থাকবে না। সেটা হলো অলৌকিক ঘটনার পেছনে ঐ কারণ কী তা কিন্তু বলতে পারবে না। তখন ঈশ্বরে বিশ্বাস রাখা ছাড়া কোনো উপায় নেই। নিউটন, আইনস্টাইন যেমন সব শেষে এতসবের পেছনে ঈশ্বরের কথা বলে গেলেন।
মহাকাশ তরঙ্গের আবিষ্কার দুই দেশকে( আমেরিকা ও ভারতবর্ষ) গবেষণায় যৌথ প্রচেষ্টায় ব্রতী হতে সাহায্য করল। ভারতে অ্যাডভান্সড লাইগা ইন্ডিয়া বসানোর সিদ্ধান্ত হলো। ভারত সরকার বারোশ'কোটি টাকা মঞ্জুর করল সঙ্গে সঙ্গে। ব্রহ্মান্ড দর্শনের জানালা খুলে গেল।
এই মহাকর্ষীয় তরঙ্গ আসলে কি! আসব সেই আলোচনায় পরের পর্বে।
(চলবে)
@ কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।
সত্যি!!!!! সব কিছুর পেছনে একটা "কেনো" থেকে যায়। যেটা বিজ্ঞান উদ্ধার করতে অক্ষম। তখনই আমরা ধর্মের হাত ধরি। খুব গুরুত্বপূর্ণ, জ্ঞান বর্ধক ও ভালো লেখা। খুব খুব ভালো লাগলো।
উত্তরমুছুনধন্যবাদ। ❤❤😆😆
মুছুনখুব ভালো জ্ঞান গর্ভ।
উত্তরমুছুনধন্যবাদ। 😁😁❤❤
মুছুনখুবই তথ্য সমৃদ্ধ লেখা 👌👌👌👌💐💐💐💐
উত্তরমুছুনধন্যবাদ। 😁😁❤❤💫💫💥💥💅💅
মুছুনসমৃদ্ধ হলাম
উত্তরমুছুনধন্যবাদ। 😁😁❤❤
উত্তরমুছুনসমৃদ্ধ হলাম।
উত্তরমুছুন