সোমবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২১

# বিষয়- অনুগল্প। # নাম- রূপান্তর। ✍- মৃদুল কুমার দাস।

#বিষয়- *অনুগল্প।*
  # নাম- *রূপান্তর।*
   ✍ - মৃদুল কুমার দাস। 
 
 রবিকর পূবে উদিত হয়। পশ্চিমে অস্ত যায়। এ একটা চিরন্তন সত্য।  বাণীব্রত ওরফে বাণী মন্ডল জন্মাবধি দেখছে,এসবের পেছনে তার শিষ্য বিল্টু,সিল্টু নোটন আর নীলু ওরফে নীলিমাকে বলেন - "সময় কোনোদিন বদলায় না। মানুষ বদলায়।"
 এরা বয়সের ফেরে বিল্টুর মাস ছয়েক ছোটো সিল্টু,সিল্টুর চেয়েও ছ'মাস ছোটো নোটন। আর নীলিমা এদের থেকে পাঁচ বছরের ছোটো। এদের নয় নোটনের থেকে। তাহলে বিল্টুর চেয়ে সাড়ে ছ'বছরের ছোট নীলিমা। আজ বিল্টু আঠারোয় পা দিয়েছে। নীলু কত হিসেব এখান থেকে স্পষ্ট। এই ছক সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের মতো চিরন্তন। কেউ বদলাতে পারবে না এই ছক। 
  আর বাণী মন্ডল এদের শিক্ষাগুরু এ খবরও বদলানোর কারো ক্ষমতা নেই। 
 কিন্তু বাণী জানে এতদিন এদের অনেক বাণী বিতরণ করেছেন কিন্তু একদিন এরা সে সব ছাড়িয়ে বদলে যাবে। বদলাচ্ছে। 
  ছোট থেকে গুরগিরি করতে গিয়ে সপাসপ বেতের বাড়ি এদের পিঠে পড়েছে। সে সময় আর নেই। নীলুকে অবশ্য বেতের শাসন লাগেনি,গলার আওয়াজে অশ্রু খেজুর রসের মতো সড়সড় করে বেয়ে নেমেছে ছোটবেলা। মনে হলে বা ওদের মনে করিয়ে দিলে ওরা খিল খিল করে এখন হাসে। 
   মনে করিয়ে বাণী বলেন- "সে অশ্রু থামাতে কম বেগ পেতে হতো না। আর তিনটা তোরা বাচ্চা তখন আরও মজা পেতিস!,কেননা তোদের উপর বেতের বাড়ি পড়লে নীলু খুব মজা পেত বলে। আর তোদের মজা হতো নীলুর চোখের অশ্রু বাইলে।"
 বিলুর প্রকৃতির রূপবদল খুব পছন্দ। তাই খুব পরখ করে। সে বাণী স্যারকে প্রশ্নে নাজেহাল করে তোলে এক এক সময়। সিলু পশু প্রেমে। আর নোটন মানুষের প্রেমে। নীলিমা হয়ে থাকে রহস্যময়ী হয়ে। 
বিলু বলে - "আচ্ছা স্যার পঞ্চভূত থেকে যদি আমরা এসে থাকি তবে পঞ্চভূতে এত ভয় করি কেন?"
  তাদের চোখের সামনেই একটা মাছরাঙা ঝুপ করে জলে পড়ে ঠোঁটে মাছ গুঁজে স্বস্থানে ফিরে যায়। বাণী মাস্টার সেদিকে দেখিয়ে বললেন-"এই খাদ্যখাদক স্বভাব দিয়ে পঞ্চভূত থেকে আসি বলে তাই এত পঞ্চভূতে ভয়। শুধু তাই নয় ভয়ের আরো অনেক কারণ আছে। ভয় কেউ অর্জন করে না,সাহস অর্জন করতে হয়। ভয় দিয়ে যেন পাঠানো হয়,এই ভয় থেকেই সময়ের সাথে সাথে জীবনের রূপান্তর আসে। প্রকৃতিতে আমরা তাই স্বভাবভীরু।"
 পশু প্রেমী সিলু সঙ্গে সঙ্গে বলে - " সাপেরা কেন নিজের বাচ্চা নিজে খায়,আর বাঘের কেন বারো বছর অন্তর বাচ্চা হয়?"
 বাণী বলেন- "সাপের বিষ থেকে জগতকে রক্ষা করতে সাপের জন্ম অনেক হলেও সাপ নিজের বাচ্চা নিজেই খাবে,যাতে জগৎ বিষময় না হয়। আর জগতকে বাঘের হিংস্রতা থেকে মুক্ত  রাখতে বারো বছর অন্তর বাঘের বাচ্চা হবে।"
 নোটন তৎক্ষণাৎ বিজ্ঞের মতো বলে ওঠে - "মানুষই এসব খবর জানবে। আর জানার জন্য যত সাহসী হবে তত ভীরু হবে। কেন এমন হয় তারই রহস্য জানতে চাই বলে আমি মানব প্রেমী।"
 আর নীলু এ সব মন দিয়ে শোনে। জগতের উপর মায়ায় সে নিজের ভেতরে সৃষ্টি,স্থিতি,পালনের বীজমন্ত্রের ব্যাপ্তি অনুভব করে।
 আর বাণী দেখেন সময়ের সাথে এরা এদের ভেতরে পোষিত জীবনের রহস্য নিয়ে কোথায় যাচ্ছে ভেসে,আমিও বা কোথায়? সময়ের সাথে কে কোথায় ঠেকবে কেউ জানে না। শুধু রূপান্তর-হৃদয় সময় বদলকে সঙ্গে নিয়ে সব বদলে ফেলছে। কেবল সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের মঞ্চে সব জীবন রূপান্তরের অধীনে সবাই এক এক কুশীলব। 
       ___××___
 @ কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।

৬টি মন্তব্য:

  1. অসাধারণ লিখেছেন দাদা। অংক দিয়ে শুরু আর বীজমন্ত্র ও জীবন রহস্য দিয়ে শেষ!

    উত্তরমুছুন
  2. ধন্যবাদ। অনেক অনেক ভালবাসাও। 😁😁❤❤💅💅💅

    উত্তরমুছুন
  3. অপূর্ব লেখনী 👏🏻👏🏻👏🏻👌👌👌👌👏🏻👏🏻👏🏻👏🏻

    উত্তরমুছুন

শিরোনাম - অপ্রকাশিত অনুভূতি✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - অপ্রকাশিত অনুভূতি ✍️ ডা: অরুণিমা দাস কিছু অনুভূতি মনের গভীরে থাকাই শ্রেয়। সেটা হয়তো প্রকাশ করলে সমস্যা হতে পারে,তাই প্রকাশ না কর...