শুক্রবার, ১ জানুয়ারি, ২০২১

বিষয় : গল্প # নাম : মহিলা সাহিত্যিক।। পর্ব ৬ # লেখায় : শর্মিষ্ঠা ভট্ট

 মহিলা সাহিত্যিক।। পর্ব


"কিন্নর" এর বিদিশা বসুমতীদিকে দিনে দুপুরে ফোন করছে। কেবল সাহিত্যের কারনে নয়। রতন নাকি ডেসপারেট হয়ে উঠেছে। ওদিক থেকে তমার ফোন আসে। তার ঘর, সেই চার্লি চ্যাপলিনের "দ্যা গোল্ড রাশ" এর মতো পাহাড়ের খাদে পড়ি পড়ি করছে। বরফিলী ঠান্ডা হাওয়া ঘরটা উপড়ে ফেলতে চায়। গৃহকর্ত্রী আপ্রাণ চেষ্টা করছে বাঁচাতে। বসুমতীদিকে সাক্ষি মেনেছে। বসুমতীদির বাংলাদেশের ডাকে বিরাট সম্বর্ধনার জন্য তৈরী হচ্ছে, মাথায় উঠল। ফোন করে করে মিটমাট করাতে দিন কেটে যাচ্ছে হু হু করে। মিমাংসার ফল এমন হল, তমা বুঝল তার লেখক স্বামী ভুলবশত ভুল স্থানে ভুল বাক্য প্রয়োগ করে। রতন মনে মনে ভাবলো কি মেয়ে মাইরি, কখন গলে কখন কঠিন হয়, এমন সব বরফের কিউব নিয়ে চলা যায় না। গৌতম ভাবলো যত দোষ রতনটার, রাত বিরতে ফোন করে শালা। বিদিশা ও গৌতম এক সাথে ভাবলো বসুমতীদির লেখার আর দরকার নেই। রতনের সাথে ওঠে বসে , না জানি কেমন মহিলা! এমন কত সব হেমন্তের ঝরা পাতার মতো  সাহিত্যের দুনিয়ায় অহরহ গল্প ঝরে পড়ছে। সব তো তোলা যায় না। যতদূর ঝরা পাতা কালেক্ট করা যায়।

নীলাঞ্জনা বিকাশ ভবনে কাজ করে। হয়ত নিজেই জানতো না মনে কোন সুপ্ত ইচ্ছা ছিল কি না। তরুণ ঋতুপর্ণার বিয়ের পর নিজেকে কেন যেন এই সাহিত্য জগৎ থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। ওর আর এই সম্বর্ধনা, কবি সম্মেলন, এমন কি কোলকাতা বই মেলার গ্যাদারিং ভালো লাগে না। সব ছেড়ে ও অন্য কোন পথ খোঁজে, এসব মেকি হাসি ও অভিনয় থেকে সে যেন মাঝে মাঝে হাঁপিয়ে যায়। আজকাল এনজিওতে তার মন লেগেছে বেশি। "বিইন্গ হিউম্যান"  ব্যানারের নীচে কাজ শুরু করেছে। কাল সকালে ওই কাজে ধনেখালী যাবে সুন্দরবন সংস্কৃতি ও বণ্য জীবন রক্ষার ওপর তার কাজ চালু করতে চলেছে। মনের এমন হঠাৎ বিষন্নতা মহিলা সাহিত্যিকদের নিত্যদিনের বিষয় । ওরা হয় সংসারে বা কর্মজীবনে ফিরে যায়। নয়ত আরও কিছু ভেবে নেয় মনকে সুস্থ রাখতে। যেমন তনুরুচি সাহিত্যের মহলে আজকাল নিজেকে ভীষণ একা মনে করছে।

তনুরুচি ঊচ্চমাধ্যমিক পাশ, কবিতা লেখায় তার নেশা। মনে আছে এই নেশার কারনে একবার হাতে ছেঁকা খেয়েছিল। তবু গোপনে লিখতো। আসলে ওর অসম্ভব বয়সে নিদারুণ প্রেমের কবিতার খাতা খানা মামির হাতে পড়েছিল। সেই থেকে মামা। বাপ মরা গলোগ্ৰহ ভাগ্নির এত সাহস, কারোর জন্য প্রেমের কবিতা লেখে! জলন্ত কাঠে চেটোটা  পুড়ে গেল। কঁকিয়ে কেঁদে উঠল তনুরুচি। হাতের জ্বলনে না কবিতা ভর্তি খাতা খানা উনুনে ধীরে ধীরে পুড়ে যেতে দেখে! ওর নতুন বয়সের অমৃতে বিষ ঢেলে দিলেন কেউ, মামা! না সমাজ? অসহায় গলোগ্ৰহদের জন্য কবিতার মতো বিলাসিতা খুব অন্যায়, খুবই অন্যায়।  

©copyright reserved for Sharmistha Bhatt. 

৬টি মন্তব্য:

  1. বেশ ভালই চলছে। চলুক।👍👍👌👌❤❤

    উত্তরমুছুন
  2. অসাধারণ লাগল।সত্যি মহিলা সাহিত্যিকদের অনেক প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়।

    উত্তরমুছুন

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...