# নাম- 'জীবন জিজ্ঞাসা'
(বিজ্ঞান বিষয়ক)
পর্ব- ২
✍ - মৃদুল কুমার দাস।
প্রোটন, নিউট্রন ও ইলেক্ট্রন কণার বিন্যাস নিয়ে পরমানু যেভাবে থাকে তা কেউ কি দেখেছে, না চোখে আঙুল দিয়ে কেউ দেখিয়ে দিয়েছে বলে তা মেনে আসছি। তা সঠিক জ্ঞান বলে মানছি। তাই পরমানুর গঠন বলে অভ্রান্ত ধারণা বলে মানছি।
এও ঠিক ঈশ্বর দর্শনের মতো। সাধারণকে প্রশ্ন - ঈশ্বর দর্শন কেউ করেছ?
করনি। কিন্তু ঈশ্বর যে আছেন,জগৎ সংসার তাঁরই লীলার ফল এ যেমন বিশ্বাস করি,পরমানু কণার গঠন কিভাবে আছে তা দেখতে পাইনা বটে কিন্তু প্রমাণিত সত্য বলে মানি।
ঈশ্বর যিনি দেখেছেন,কে দেখতে পারেন বা কার পক্ষে দেখা সম্ভব হয়,এ যেমন একটা অভ্রান্ত ধারণা, তেমনি পরমানু কণাও যে দেখা যেতে পারে, কীভাবে বা কে দেখতে পারে? না যিনি সত্যিকারের বিজ্ঞান সাধক, তিনিই পারেন। সাধক যেমন ঈশ্বর দেখেন, তেমনি বিজ্ঞান সাধকও পরমানুতে বিন্যস্ত প্রোটন, নিউট্রন ও ইলেকট্রণ কণা দেখতে পান। বহুসাধনার ফলে সেই পরমানু কণা নাকি দেখতে পাওয়া গেল ২০১২ সালের ৪-জুলাই। তার নাম দেওয়া হয় 'ঈশ্বরকণা',বিশ্ব যাকে অভিহিত করল হিগস-বোসন কণা। তাই হল পরমানু বিজ্ঞান।
এই পরমানু বিজ্ঞান থেকে জানা গেল কোনো পরমানু কণা স্থির নয়- আপাত দৃষ্টিতে জড়জগৎ স্থির মনে হলেও সে আদৌ স্থির নয়। অহরহ পরমানু ফিশন ও ফিউশন প্রক্রিয়া বলে আলোকশক্তি ও তাপশক্তি বিকিরণ ঘটাচ্ছে। প্রতিটি বস্তুর ধর্ম ফিশন ও ফিউশন ধারন করে আছে।
যেমন আসি নক্ষত্রের কথায়। নক্ষত্র অনবরত আলোকশক্তি ও তাপশক্তি বিকিরণ করে যাচ্ছে। নক্ষত্র মানে বিশাল পরিমাণ পদার্থের পিন্ড। বেশি পদার্থ মানে বেশি গ্রাভিটি ও বেশি আকর্ষণ। প্রতিটি নক্ষত্রই প্রচন্ড গ্রাভিটির চাপে আয়তনে সঙ্কুচিত হতে চায়। কিন্তু চাইলেও পারে না,কারণ নিষ্পেষণের চাপ যত,তত তার এক উল্টো প্রক্রিয়া আছে,তা হলো প্রসারণ এই প্রক্রিয়ার নাম ফিউশন। যেমন নক্ষত্র সূর্যের বেলায় কি ঘটছে তাহলে দেখে নেওয়া যাক।
সূর্য মানেই অগ্নিকুণ্ড,যার জ্বালানি হাইড্রোজেন। একাধিক হাইড্রোজেন মিলে তৈরী হয় একটি হিলিয়াম। হাইড্রোজেনের মোট ভর, হাইড্রোজেন থেকে তৈরি হিলিয়ামের মোট ভর কিন্তু কম। তাহলে বাকি ভর কোথায় গেল? এই ভর আলোকশক্তি ও তাপশক্তিতে রূপান্তরিত হয়েছে। হিলিয়াম ভেঙে হাইড্রোজেন আবার হাইড্রোজেন ভেঙে হিলিয়াম - এইভাবে রি সাইক্লিক পদ্ধতিতে সূর্য তার জ্বালানি অক্ষত রাখছে। সূর্যের এই অতি সামান্য ভর হারানো নিয়ে চিন্তা থাকতে পারে। তবে তা নিয়ে চিন্তার কোনো কারণ নেই,সে লক্ষ-কোটি বছরের পর কি হতে পারে সে প্রশ্ন অবান্তর।
নক্ষত্রে যদি জ্বালানি ফুরায় তবে শক্তি ফুরাবে। কিন্তু ভর ঠিক থেকে যাবে। এই ভর যদি নির্দিষ্ট পরিমাণের চেয়ে বেশি হয় তখন তৈরি হয় প্রচন্ড আকর্ষন বল। আর পাশাপাশি যাকে পাবে তাকে কয়েক সেকেন্ডের কয়েক ভগ্নাংশের মুহূর্তে গিলে ফেলবে। নক্ষত্রের এই শক্তি( আলোকশক্তি ও তাপশক্তি) হারানোর অন্তিম দশার নাম 'ব্ল্যাক হোল'।
ব্ল্যাক হোল কোনোরকম তরঙ্গ ছড়ায় না। কারণ তার কোনো তাপশক্তি বা আলোকশক্তি নেই বলে। তাই অদৃশ্য থাকে। আইনস্টাইনের 'আপেক্ষিকতাবাদ' এর সাহায্যে বোঝা গেল এই ব্ল্যাকহোল-এর কথা। আর আপেক্ষিকতাবাদের শতবর্ষ পরে ১২ ফেব্রুয়ারী ২০১৬ তে পাওয়া গেল মহাকর্ষীয় তরঙ্গ।
এই মহাকর্ষীয় তরঙ্গ পাওয়ার দিনে কী জানতে পারলাম? জানব পরের পর্বে।
( চলবে)
@ কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।
বাহঃ, অপূর্ব লাগলো
উত্তরমুছুনভীষণ ভালো লাগলো। 💐💐💐
উত্তরমুছুনঅসাধারণ দাদা..💐💝
উত্তরমুছুনখুব ভালো লাগলো দাদা👌👌👌👌💐💐
উত্তরমুছুনখুব ভালো লাগলো👏🏻👏🏻👏🏻👏🏻👏🏻👏🏻
উত্তরমুছুনদারুণ তথ্যপূর্ণ লেখা
উত্তরমুছুনদাদার জ্ঞানের কোন সীমা নেই। অসাধারণ
উত্তরমুছুনসব বিষয়ে দাদার অগাধ পান্ডিত্য।
উত্তরমুছুন