শুভ সান্ধ্য সাহিত্য বাসর।
# বিষয়- সাহিত্য আলোচনা
# নাম- রমাপদ চৌধুরী ও বাংলাসাহিত্য।
✍ - মৃদুল কুমার দাস।
তরুণ বয়সেই খুব নাম ডাক- বিশিষ্ট নাম রমাপদ চৌধুরী। নাম ডাক হয়েছিল *'ইদানিং'* পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক দিয়ে। সে ১৯৪৮-১৯৫১ ছিল ইদানিং-এর সময়কাল। ১৯৫৩ থেকে আনন্দবাজার পত্রিকায় যোগদান করেন। তাঁর জনপ্রিয়তার ছোট্ট একটি নমুনা-
*'দরবারী'* ছোটগল্প সঙ্কলন সূত্রের কথা সর্বাগ্রে আসে। এগারো মাসে তিনটি সংস্করণ,যা প্রকাশনা জগতের এক বিস্ময়। এই সময় প্রতিষ্ঠিত সাহিত্যিকদের ছোটগল্প সংকলন প্রকাশে প্রকাশকদের সাহস কুলোতো না,অথচ রমাপদ চৌধুরী সব হিসেব উল্টে দিলেন। এতো জনপ্রিয়তা তুঙ্গে পৌঁছল একে একে পনরটি সংস্করণের পর স্বয়ং লেখক আর প্রকাশ করতে চাননি।
লেখক হিসেবে খ্যাতি যেমন তুঙ্গে ছিল,সম্পাদক হিসেবেও। সে তো জানাই - ইদানিং এ ছিল সেই প্রতিষ্ঠার গৌরবময় অধ্যায়।
আনন্দবাজার যোগ দিয়েই চালু করলেন 'রবিবাসরীয়' পর্ব। সম্পাদনার দায়িত্ব পেলেন। এই বিভাগ তাঁর জনপ্রিয়তা দিন কে দিন আরো বাড়িয়ে তুলল। এই বিভাগের বিভিন্ন অধ্যায়ে এক একজন বিখ্যাত লেখক লিখতেন। তাই পড়ার জন্য পাঠকের সে ঔৎসুক্যের সীমা পরিসীমা ছিল না। আর গল্পের জোয়ার তাঁর হাত ধরেই এসেছিল। এমনকি একটা নতুন লেখকগোষ্ঠী গড়ে তুলেছিলেন। যে যেন বাংলাসাহিত্যের নতুন করে চলার উদ্যম এসেছিল।
'আনন্দমেলা'রও প্রথম দায়িত্বে তিনি। ১৯৭৫ এ ১৬ই এপ্রিল,১লা বৈশাখ প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হল,তিনিই হোতা। তাঁর স্ত্রী সুষমা চৌধুরী ছিলেন একজন নামকরা প্রকাশক। স্ত্রীর প্রকাশনায় তাঁর গল্পসমগ্র প্রকাশিত হয়। বইটিতে একশ'টি গল্প ছিল। তিনি যা কিছুই প্রকাশ করতেন সমগ্র নাম দিয়ে - গল্প সমগ্র, উপন্যাস সমগ্র, কবিতা সমগ্র যা প্রকাশনার এই প্রথম অভিনব আঙ্গিক। 'সমগ্র' ধারণাটি তাঁরই অবদান এই প্রথম বই প্রকাশনার বাজারে। পাঠকের কাছে অর্থকরী সাশ্রয় থেকে এর জনপ্রিয়তা সে আর বলতে! ক'জনই বা জানত এমন ভাবনার মূলে মানুষটির অবদানের কথা। দেশে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত 'হারানো খাতা' তাঁর আত্মজীবনী। জন্মভূমি রেল শহর খড়্গপুরের সব কথা কি অকপটে বলেছেন, বলেছেন কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়তে আসার গল্প...কি নিখুঁত বর্ণনা পাই।
তবে মানুষটি খুব রাশ গম্ভীর ছিলেন। নির্মেদ চেহারার। ঋজু। মেরুদন্ড সোজা করে হাঁটেন। প্রিয় বন্ধু নীরেন্দ্র চক্রবর্তীকে সঙ্গে নিয়ে চলে আসতেন কলেজ স্ট্রিটে দিলখুশ ফিস কবিরাজি টানে,আর কালিকার তেলেভাজা। সভা সমিতি এড়িয়ে চলতেন। ঘণিষ্ঠমহলে দারুণ আড্ডাবাজ ও রসিক ছিলেন। তবে জ্যোতিষচর্চার দিকে এই মানুষটির একটা দুর্বলতার জায়গা ছিল। নিজেও জ্যোতিষ ভালই জানতেন। গণেশ টকিজের এম.পি.জুয়েলার্স ছিল তাঁর সেই নেশার জায়গা।
পূজো সংখ্যার আনন্দবাজার পত্রিকা অনেক দিন সামলেছেন। তাঁর কলমের জোর এমনই ছিল বাংলাসাহিত্যের তিনি এক নতুন পথের দিশারী ছিলেন। খ্যাতি তাঁর পিছুপিছু ছুটেছে- ১৯৬৩ আনন্দ পুরস্কার,১৯৭১ রবীন্দ্র পুরস্কার, ১৯৮৪ শরৎচন্দ্র পদক ও পুরস্কার,১৯৮৭ জগত্তারিণী স্বর্ণপদক, ১৯৮৮ সাহিত্য অ্যাকাডেমি পুরস্কার, ১৯৯৮ ডি লিট উপাধি। হিন্দী,মালয়ালাম,গুজরাতি ও তামিল ভাষায় তাঁর অনেক বই অনুদিত হয়েছে। তিনিই একমাত্র ভারতীয় লেখক, যাঁর গল্প সঙ্কলিত হয়েছে আমেরিকা থেকে প্রকাশিত লিটারারি অলিম্পিয়ানস গ্রন্থে,অনুবাদ করেছেন শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনটন বি সিলি। তাঁর উপন্যাস 'খারিজ' প্রকাশিত হয়েছে ইংরাজিতে।
১৯১৮ এই সদ্য হারালাম ৯৬ বছর বয়সে আমাদের বাংলাসাহিত্যের এই নক্ষত্রকে।
এই বিষয়ে আলোচনা সমৃদ্ধ করেছে 🙏🙏🙏🙏
উত্তরমুছুনঅসাধারণ আলোচনা। তথ্য সমৃদ্ধ হলাম
উত্তরমুছুন