# নাম- *নেতাজী সুভাষচন্দ্র স্মরণে*
✍ - মৃদুল কুমার দাস।
(১)
**আধ্যাত্মিক চেতনায় সুভাষচন্দ্র :-
সিমলা পল্লির 'বিলে',আর কটকের 'সুবি'র মধ্যে মিলের ফর্দ বিরাট। সেই কথা স্মরণে প্রথমে স্বামীজীর কথা দিয়ে শুরুর কথা এই-
বিপ্লবের বড়দা হেমচন্দ্র ঘোষ স্বামীজীর কাছে ১৮৯৭ এ ধর্মকথা শুনতে গিয়ে স্বামীজীর কাছে নির্দেশ পেয়েছিলেন - "যে কোনো উপায়ে ভারতমাতাকে আগে বিদেশীদের হাত থেকে মুক্ত কর,তারপরে হবে ধর্মকথা। আগামী ৫০ বছর একমাত্র উপাস্য হোক ভারতমাতার মুক্তিসাধনা...।" এবার আসি স্বামীজী ও সুভাষচন্দ্রের মধ্যে মধ্যে মিলের গুটিকয় কথায়। যেমন-
সদ্য সুবি যখন পাঁচ বছর তখন স্বামীজীর মহাপ্রয়াণ(১৯০২) ঘটে। আর কৈশোর উত্তীর্ণ ১৩ বছরের যুবক সুবি নরেনের মত একটা দল বানিয়ে,সদলবলে গেরুয়া বসন ধারণ করলেন। ঠিক যেমন গুরুভাইদের নিয়ে নরেন যেমন ঘর ছেড়েছিলেন,সুভাষও তেমনি সদলবলে ঘর ছেড়ে গেরুয়া বসন পরে গঙ্গার ধারে ৺ভরত পোদ্দারের খালি বাড়িতে সন্ন্যাসীর কৃচ্ছ্রসাধন শুরু করেছিলেন। ঠিক নরেন্দ্রনাথ দত্তের মতো। পরে হেমচন্দ্র ঘোষকে বলেছিলেন- "ভারতবর্ষকে আমি ভালবেসেছি বিবেকানন্দ পড়ে। আর বিবেকানন্দকে আমি চিনেছি নিবেদিতার লেখায়।"
আরও যেমন কটকে থাকাকালীন ঠাকুরের ভাবাদর্শে সমমনস্কদের নিয়ে রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রম বলে একটি আশ্রম চালাতেন সুভাষ। সেখানে স্বামীজীর মতোই দুঃস্থদের সেবা করতেন,জীব সেবা শিব সেবা আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে। অসুস্থ, প্রিয়জন পরিত্যক্ত অসুস্থতার সেবা,কলেরা,বসন্ত রোগীর পাশে দাঁড়ানো,গ্রামেগঞ্জে গিয়ে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা সবই সেবার আদর্শে নিজেকে নিবেদন করতেন।
আর কলকাতায় এলে বেলুড়-দক্ষিণেশ্বরে অনবরত যাতায়াত করতেন। মা ভবতারিণীর পায়ে নিজেকে সমর্পণ করে দিতেন।
কিশোর সুভাষ মাকে লিখেছিলেন- "যদি মানুষ জন্ম লাভ করিয়া,মানুষ জীবনের উদ্দেশ্য না সফল করিতে পারিলাম - যদি গন্তব্যস্থলে পঁহুছিতে না পারিলাম তবে আর কি হইল? যেমন সকল নদীর গন্তব্যস্থান - ঈশ্বর। যদি মানুষ ঈশ্বর লাভ না করিতে পারে তবে মানুষ জন্ম বৃথা - আর পূজা,জপ,ধ্যান সবই বৃথা - সব কেবল ভন্ডামী। এখন আর বাজে কথায় সময় নষ্ট করিতে ইচ্ছা হয় না। ইচ্ছা হয় কেবল একটা ঘরে বন্ধ হয়ে থাকি। আর সমস্ত রাত ধ্যান চিন্তা এবং পাঠে অতিবাহিত করি।"
নরেন্দ্রনাথের মতো সুভাষচন্দ্রও সুগায়ক ছিলেন।
কথাগুলো নরেন্দ্রনাথের সঙ্গে বহু মিলের কথা শুনে আমাদের আহ্লাদ হয় কি,না হয় না!
স্বামীজীর অগ্নিবাণী মন্ত্রে দীক্ষিত সুভাষ বাড়ীর অজান্তেই এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে সটান হিমাচল প্রদেশে গেলেন সদগুরুর সন্ধানের অভিলাষে। প্রায় বাইশ দিন কাটানোর পর ব্যর্থ সুভাষ নেমে এলেন কাশীর রামকৃষ্ণ মঠে। মঠাধ্যক্ষ ছিলেন ঠাকুর শ্রাশ্রীরামকৃষ্ণের পারিষদ ব্রহ্মানন্দ( রাখাল মহারাজ)। তিনি দেখলেন সুভাষ দর্শনধারীতে স্বামীজীর সঙ্গে পার্থক্য উনিশ-বিশ। আর সুভাষের ভেতরে স্বামীজীর মন্ত্র অনবরত উচ্চারিত হচ্ছে - "Freedom,Freedom is the song my soul..."। স্বামীজীর লক্ষ পূরণের প্রকৃত আধার সুভাষ। তিনি বোঝালেন সন্ন্যাসী নেওয়া কোনোরূপ কাজের কাজ নয়। ব্রহ্মানন্দের পরামর্শে ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে এলেন। উচ্চতর শিক্ষার পাশাপাশি দেশমায়ের পরাধীনতার শৃঙ্খল মোচনের জন্য মনে মনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হলেন। আই সি এস সুভাষ ব্রিটিশ সরকারকে বুঝিয়ে দিলেন দেশের জন্য তিনি,ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের গোলাম হওয়ার জন্য তাঁর জন্ম নয়। আধ্যাত্মিক উৎকর্ষ রইল মননে,আর কর্মে স্বাধীনতার ইতিহাস রচনার জন্য পরিচিত হবেন - ভারতমাতার শৃঙ্খলমোচনের জন্য বীরসৈনিক নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু।
অরবিন্দ ঘোষ পন্ডিচেরীর ধ্যানগুহায় প্রবেশের সময় বলে যাচ্ছেন,তাঁর বৈপ্লবিক কর্মকান্ড পূরণে বিকল্প নেতৃত্ব এসে গেছে,অচিরেই জানা যাবে। তিনিই তো সুভাষচন্দ্র। তাই সুভাষ চন্দ্র সম্পর্ক খুব প্রচলিত কথা - কর্মে শ্রীঅরবিন্দ,ধর্মে স্বামী বিবেকানন্দ।
(২)
** স্বাধীনতা আন্দোলন ও সুভাষচন্দ্র:-
শ্রীঅরবিন্দের ভবিষ্যত বাণী বৃথা যায়নি। কর্মবীর সুভাষচন্দ্রের পরিচয় ইতিহাস সযত্নে ধারণ করল।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শেষে ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে মন্টেগু চেমসফোর্ড ভারতে এসেছেন আইনের সংস্কার নিয়ে। সংস্কারে ভারতীয়দের হাতে ক্ষমতা দেওয়ার কথা থাকলেও তা আসলে ক্ষমতাহীন দায়িত্বের নামান্তর। এ নিয়ে দিকে দিকে ক্ষোভের অনেক তাপ উত্তাপ বইল। আর তাতে ঘৃতাহূতি পড়ল জালিয়ানওয়ালাবাগের নৃশংস হত্যাকাণ্ড। এই প্রেক্ষাপটে খেদা ও চম্পারণের আন্দোলন দিয়ে যে গাঁধীর ভারতীয় রাজনীতিতে উত্থান ঘটে আর জালিয়ানওয়ালাই গাঁধীর প্রতিষ্ঠা দেয়। কিন্তু গাঁধীর নরম পন্থা মনোভাব চরমপন্থী বঙ্গ ব্রিগেডের মনোঃপূত ছিল না। চরমপন্থী মনোভাবে পুষ্ট দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ ১৯২২এ গড়ে তুললেন স্বরাজ আমাদের জন্মগত অধিকারের দাবীতে স্বরাজ পার্টি। সঙ্গে সুভাষচন্দ্র। দেশবন্ধুর মৃত্যুতে (১৯২৪) পূর্ণ স্বরাজের দাবীতে আন্দোলনের দায়িত্ব পুরো এসে পড়ল সুভাষচন্দ্রের কাঁধে। সঙ্গে জওহরলাল নেহেরু। সঙ্গে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। সভা সমিতিতে গানে নজরুল,বক্তব্যে সুভাষচন্দ্র,বাংলার বৈপ্লবিক আন্দোলনের ভূমিকা ছিল সরগরম!
এতে গাঁধী খুব একটা খুশী ছিলেন না।তার প্রমাণ ১৯২৮ এ কলকাতায় জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে পূর্ণ স্বরাজের দাবীতে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে স্বাধীনতা দিবস পালনের প্রস্তাব পাশ হওয়া সত্ত্বেও সুভাষচন্দ্র উদ্যোক্তা ছিলেন বলে গাঁধী তা কার্যকর হতে দেননি। শেষে ১৯২৯ এ জওহরলাল জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি হলে ১৯৩০ এ ২৬ জানুয়ারিতে লাহোর অধিবেশনে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে স্বাধীনতা দিবস পালিত হয়, পূর্ণ স্বরাজের দাবীতে।
সুভাষচন্দ্র দেখলেন এই দু'বছর গাঁধীর অযথা টালবাহানায় আন্দোলনের অনেক ক্ষতি হয়েছে। আর এও সত্য গাঁধীর জন্য আন্দোলন বহুধা বিভক্ত। যেমন গাঁধী-বিরোধী দলিত শ্রেণির প্রতিনিধি ভীমরাও আম্বেদকর দলিতদের নিয়ে আলাদা হয়ে গেলেন, মহম্মদ আলি জিন্নাহর মুসলিম লিগ, নরমপন্থী,চরমপন্থী - আন্দোলন চতুর্মুখী। আর এই চতুর্মুখী ঠোকাঠুকির তালে সরকার পূর্ণ স্বরাজের নাহ্য দাবীকে দুর্বল করে দেয়।
এই সব কারণে সুভাষচন্দ্র গাঁধীর অক্ষে চরম অস্বস্তি বোধ করতে লাগলেন। আর সুভাষচন্দ্রকে কৌশলে নেহেরু থেকে আলাদা করার এক হীন খেলায় গাঁধী মেতে উঠলেন। এই খেলায় গাঁধী নেহেরুকে বাপুজির আবেগ দিয়ে কাছে টেনে নিলেন, নেহেরুর মগজ যতই সুভাষচন্দ্রের দিকে থাক না। এই সম্পর্কে গাঁধীর কাছের নেহেরু যতই,হলেন সুভাষচন্দ্র ঠিক ততটাই দূরের। এর প্রমাণ ত্রিপুরী কংগ্রেস কান্ড। ত্রিপুরী কান্ডে গাঁধী চরম নির্লজ্জ ও সঙ্কীর্ণ দলবাজিতে লিপ্ত হলেন। গাঁধী চরম দ্বিচারিতার পরিচয় দিলেন - দ্বিতীয়বারের জন্য নেহেরুকে গাঁধী সভাপতি করলেন,সুভাষচন্দ্রকে অনুমোদন না দিয়ে। তখন সুভাষচন্দ্র নির্বাচনে যেতেই বাধ্য হলেন।
সুভাষচন্দ্র নির্বাচনে জয়লাভ করে বুঝতে পারলেন গাঁধী অক্ষে থাকা নিরাপদ নয়। নতুন দল ফরওয়ার্ড ব্লক তৈরী করলেন। ব্রিটিশ সরকার দেখলেন গাঁধীর জন্য সুভাষচন্দ্র জঙ্গী আন্দোলন করতে পারছিলেন না,এবার বরং স্বাধীন দল করে সরকারকে নাস্তানাবুদ করবে নিশ্চিত। তাই সুভাষচন্দ্রকে আটকানোর দরকার। সুভাষচন্দ্র হলেন সরকারের গৃহে নজরবন্দী।
এই নজরবন্দীর ফাঁকফোকর গলে সুভাষচন্দ্র সটান দেশান্তর। এই দেশান্তরের দোষারোপ চাপল গাঁধীর উপরে। সারা দেশ তথা বাংলা গাঁধীকে দোষারোপ করে উত্তাল। গাঁধী বিপদ গনলেন। অবিলম্বে ক্ষোভ প্রশমিত করতে সুভাষচন্দ্রের হয়ে সাফাই গাইলেন সুভাষচন্দ্র 'দেশপ্রেমিকের দেশপ্রেমিক।' বাংলা কিছুটা শান্ত হলো।
যতই গাঁধীর সঙ্গে সুভাষচন্দ্রের স্বাধীনতা আন্দোলন নিয়ে মতান্তর হোক না কেন,মনান্তর কোনোদিন ছিল না। শত বিরোধে গাঁধীর প্রতি সুভাষচন্দ্রের শ্রদ্ধার অভাব কোনোদিন দেখা যায়নি। প্রমাণ আজাদ হিন্দ বাহিনীর বিভিন্ন বিভাগের নামকরণ করেছিলেন গাঁধী ব্রিগেড,নেহেরু ব্রিগেড, আজাদ ব্রিগেড ইত্যাদি। নেহেরু দেশবাসীকে বোঝাতে বিন্দুমাত্র কুন্ঠাবোধ করেননি, তিনি গাঁধীর জন্য দেশান্তর হননি,দেশান্তরের কারণ সম্পূর্ণ আলাদা। গাঁধীকে অযথা দোষারোপ করা সমীচীন নয়। তাঁর দেশত্যাগের কারণ জাতীয় কংগ্রেসের আন্তর্জাতিক নীতির দুর্বলতার জন্য। আর সেই দুর্বলতার জন্য সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশ সরকার ভারতবর্ষের ধন ও জন নিজের স্বার্থসিদ্ধির সুকৌশলে ব্যবহার করার সাহস দেখাচ্ছে। সুভাষচন্দ্র নির্দ্বিধায় মত প্রকাশ করলেন ভারতবর্ষের স্বাধীনতার জন্য চাই স্বনির্ভর দৈহিক বল ও সামরিক শক্তি। আর সে জন্যই দেশান্তর ও সামরিক ফৌজ গঠন চাই। তারই ফলস্বরূপ গড়ে তুললেন আজাদ হিন্দ্ ফৌজ। আর বিশ্বরাজনীতির নাৎসিবাদ ও ফ্যাসিবাদ সুভাষচন্দ্রের সহায়তায় এগিয়ে এল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধই সুযোগ করে দিল ভেতর থেকে গাঁধীর ভারত ছাড়ো আন্দোলন ও নেতাজীর আজাদ হিন্দ বাহিনী দিয়ে বাইরে থেকে প্রবল চাপ সৃষ্টিতে স্বাধীনতার কাছাকাছি হতে।
ইত্যবসরে আরেক সুযোগ ভারত-বিদ্বেষী চার্চিলের প্রধানমন্ত্রীত্ব থেকে বিদায়, প্রধানমন্ত্রীত্বে এলেন ভারত বন্ধু ক্লিমেট এটলি। বিশ্বযুদ্ধের জন্য ব্রিটেনের অর্থনৈতিক মেরুদন্ড ভেঙে চুরমার হওয়াও স্বাধীনতা লাভের অন্যতম আরেকটা কারণ।
ভারতবর্ষ স্বাধীনতার দোড়গোড়ায় আসতেই ভারতবন্ধু প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হয়েছিল- ভারতবর্ষের স্বাধীনতা লাভের মূলে কি গাঁধীর ভারতছাড়ো আন্দোলনের ফল?
ক্লিমেট এটলি উত্তরে সরাসরি বলেছিলেন- সুভাষচন্দ্র ও আজাদবাহিনী দেশ জুড়ে গণ অভ্যুত্থানের সুযোগ গড়েছিলেন বলে স্বাধীনতা দিতে বাধ্য হয়েছেন।
প্রশ্নটা যতটাই সোজাসাপটা উত্তর ততটাই ঘোলাটে। সুভাষচন্দ্রের মর্মান্তিক মৃত্যুকে জাতীয় রাজনীতিতে সুকৌশলে সুভাষ প্রসঙ্গ তুলে দেওয়া। ক্লিমেট এটলি এক ধুরন্ধর রাজনীতিবিদ হয়ে এক ঢিলে দুই পাখি মারলেন-
১। জাতীয় কংগ্রেসের উপর সুভাষচন্দ্রের মৃত্যুর দায় চাপালেন।
২। দ্বিখন্ডিত স্বাধীনতাকে মদত দিলেন।
এ থেকে প্রমাণিত তিনি বলতে চাইছেন স্বাধীনতা লাভের কৃতিত্ব গাঁধীর নয়,সুভাষচন্দ্রের। এতে গাঁধীর প্রভাব খর্ব করাই ছিল লক্ষ। তাই আমরা হে হেন মন্তব্যে বলতে বাধ্য প্রথমটি অবান্তর, দ্বিতীয়টি নিঃসন্দেহে মর্মান্তিক বেদনার।
(৩)
** কর্মবীর সুভাষচন্দ্র:-
সুভাষচন্দ্রের মর্মান্তিক মৃত্যুর বদলে কী পেলাম? পেয়েছি বিচ্ছিন্নতাবাদের ঘণঘটা। আজও তার বিরাম নেই। আজও সুভাষচন্দ্রের মৃত্যু নিয়ে ভারতবর্ষের বহুদলীয় রাজনীতি প্রভাবিত হয় একে অপরের বিরুদ্ধে আঙুল তুলে সস্তা রাজনীতি করার। মৃত্যুকে অক্ষ করে কত কমিশন এলো গেল,মহাফেজখানায় নেতাজী-তথ্য রাজ্য-কেন্দ্র সম্পর্কের প্রবল টানাপোড়েন দেখলে আমাদের খুব ক্লান্ত লাগে। সুভাষচন্দ্রের রাজনৈতিক চিন্তাধারার মূল্যায়ন আজও অধরা। তিনিই যে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার সূত্রধর ছিলেন সে কথা সাধারণ মানুষ কতটুকুই বা জানে।
তিনিই প্রথম স্বাধীনতার সাম্য,সংহতি,সুবিচার,ধর্মনিরপেক্ষতার প্রতি দায়বদ্ধতার কথা প্রথম বলেছিলেন। বলেছিলেন সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বর্জনের কথা। নারীর পরিপূর্ণ স্বাধীনতার কথা, ট্রেড ইউনিয়নের তিনিই হোতা। আজকের কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি আয়োগ তাঁরই মস্তিষ্কপ্রসূত। তাঁরই হাতে তৈরী বেঙ্গল মিউনিসিপ্যাল অ্যামেডম্যান্ট অ্যাক্ট অনুযায়ী দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ প্রথম কলকাতার মেয়র হয়েছিলেন। কৃষির উন্নয়ন পরিকল্পনায় তিনি। সেই সঙ্গে এও অনুভব করেছিলেন দেশের দারিদ্র্য,নিরক্ষরতা, অনটন,বেকারত্ব, রোগব্যাধি দূর করতে গেলে চাই একটি স্বাধীন ও ধর্মনিরপেক্ষ জনদরদি সরকার।
নেতাজীর এই সব ভাবনা নিয়ে দেশ কোথায় এগোবে,তা নয়। শুধুই সুভাষচন্দ্রের মৃত্যু রহস্য উদ্ঘাটন নিয়ে একের পর এক তৎপরতা- কমিশন আয়ারাম,গয়ারাম।
ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ,স্বামী বিবেকানন্দের মৃত্যুকে যদি মহাপ্রয়াণ বলা হয়,তাহলে নেতাজীও তো দেশ মায়ের জন্য উৎসর্গীকৃত প্রাণ,তার বেলায় মহাপ্রয়াণ বলতে এতো কষ্ট কেন। কারণ রাজনীতির আঙিনা সরগরম হবে না যে। তিনি কিংবদন্তি মহামানব,কীর্তির কাছে মৃত্যু তুচ্ছ। তবুও কেন তাঁর মৃত্যু নিয়ে এতো জলঘোলা! কে বোঝাবে! চোরা না শোনে ধর্মের কথা। যাঁর নির্দেশিত পথে দেশ এগুলর কথা আছে,তাঁর মৃত্যু নিয়েও আছে কূটকাচালি! সে দুর্ভাগ্যের কাহিনীর শেষ নেই। ফি বছর এলেই তাঁর জন্মদিন নিয়ে অনেক ঘটা করে স্মরণসভা করি- দেশে ও বিদেশে। এ চলার শেষ নেই।
এই ঐতিহাসিক মহামানবের উদ্দেশ্যে প্রণাম জানিয়ে ইতি নেতাজী সুভাষচন্দ্র কথকতা।
***********
অসাধারণ তথ্যবহুল লেখা। জয় হিন্দ 🙏🙏
উত্তরমুছুনধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।❤❤❤💅💅💅
মুছুনঅপূর্ব এবং বহুল তথ্য বহুল লেখা। 🙏🙏🙏🙏🙏
উত্তরমুছুনধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।❤❤💫🙏
উত্তরমুছুনতথ্য সমৃদ্ধ।অত্যন্ত ভালো লাগা। লেখককে আমার প্রাণ ঢালা কৃতজ্ঞতা শ্রদ্ধা।❣️❣️🙏🙏
উত্তরমুছুনধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।❤❤❤
মুছুনঅসাধারণ গুরুদেব, আপনার তথ্য বহুল লেখা পড়ে সমৃদ্ধ হলাম। অসংখ্য ধন্যবাদ 🙏
উত্তরমুছুনধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।❤❤❤💅💅💅
মুছুনঅসাধারণ লেখনী।সবসময় আপনার কাছ থেকে এই ধরনের লেখার প্রত্যাশায় থাকি।নিরাশ হইনি।
উত্তরমুছুনধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।❤❤❤💅💅💅
মুছুনএই মন্তব্যটি লেখক দ্বারা সরানো হয়েছে।
উত্তরমুছুনধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।❤❤❤💅💅💅
মুছুনঅনেক তথ্য পেলাম। খুব সুন্দর লিখেছেন দাদা
উত্তরমুছুন