# বিষয় - *প্রজাতন্ত্র দিবস*
# নাম- *২৬- জানুয়ারী*
✍ - মৃদুল কুমার দাস।
পূর্ণ স্বরাজের দাবীতে ১৯২৮ কলকাতায় জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে সুভাষচন্দ্র ও জওহরলাল নেহেরু যৌথ দাবীতে বেসরকারীভাবে স্বাধীনতা দিবস পালনের জন্য জাতীয় পতাকা উত্তোলনের প্রস্তাব গৃহীত হলেও গাঁধীর অনুমোদন না পাওয়ায় গৃহীত প্রস্তাব কার্যকরী হয়নি। সুভাষচন্দ্র মনঃক্ষুন্ন হয়েও নিরুপায়। শেষে ১৯২৯ এ নেহেরু সভাপতি হয়ে পূর্ণ স্বরাজের দাবীতে জোর করে জাতীয় পতাকা তুলে দিলেন। তখন গাঁধীজী বাধ্য হলেন ১৯৩০ এর জানুয়ারীর প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিত জাতীয় কংগ্রেসের লাহোর অধিবেশনে পূর্ণ স্বরাজের দাবী কার্যকরী করতে প্রস্তাব অনুমোদন দেন জানুয়ারীর শেষ সপ্তাহের রবিবার জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে স্বাধীনতা দিবস পালিত হবে। শুধু জাতীয় পতাকা উত্তোলনে সীমাবদ্ধ থাকা নয়,সেই সাথে দিনটিতে নানা অনুষ্ঠানসূচী পালিত হবে। যেমন - চরকা কাটা,অস্পৃশ্যদের সেবা করা, হিন্দু-মুসলমানে সম্প্রীতি রক্ষা করা,মদ্যপানের বিরোধিতা করা ইত্যাদি। আর সেই দিনটি হল জানুয়ারির শেষ রবিবার ২৬- জানুয়ারী ১৯৩০।
নেহেরু তাঁর আত্মজীবনীতে দিনটি সম্পর্কে বলেছিলেন- "...সর্বত্র বৃহৎ জনতা গাম্ভীর্যপূর্ণ স্বাধীনতার শপথ বাক্য উচ্চারণ করছে,সে এক মহান দৃশ্য, সেখানে কোনো বক্তৃতা নেই,অনুরোধ নেই,উপরোধ নেই..." ১৯৩০ এর পর থেকে প্রত্যেক বছর দেশব্যাপী এইভাবেই বেসরকারীভাবে স্বাধীনতা দিবস পালিত হয়ে আসছিল।
গোল বাঁধল যখন সরকারিভাবে স্বাধীনতা দিবস আসার উপক্রম হল। এই ২৬ জানুয়ারীকে যথাযথ মর্যাদা দিতে জাতীয় কংগ্রেস দাবী করেছিল স্বাধীনতা দিবস আর ক'টা মাস বিলম্বিত করে ১৯৪৮ এর ২৬-জানুয়ারী হোক স্বাধীনতা দিবস। পঞ্জিকা মতে ১৫ আগষ্ট দিনটিও শুভ নয় বলে অনেক করে ঠেকানোর চেষ্টা হয়। কিন্তু সে কথায় কোনও কর্ণপাতই করেনি সরকার। কেন করেনি?
করেনি এজন্য দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাতীয় কংগ্রেস মিত্রশক্তিকে(ব্রিটেন,ফ্রান্স)কোনো সাহায্য না করার ফতোয়া জারি করল। এও বলা হলো জাতীয় কংগ্রেসের বিরোধিতা করা মানে দেশদ্রোহীতার নামান্তর। ফলে মিত্র শক্তি ভারতীয়দের একটা নগন্য অংশকে পেল সেনা হিসেবে যুদ্ধে যাওয়ার জন্য।
ফলত ভারতবর্ষের স্বাধীনতা দিবস ধারণ নিয়ে কংগ্রেসের কোনও দাবী পূরণ করার ইচ্ছা ব্রিটিশ সরকার ন্যূনতম সৌজন্য লাভ না করাই স্বাভাবিক।
এর মূলে গাঁধীকে এক পরাস্ত নায়কের তকমা দিতে ব্রিটিশ সরকার তলে তলে ফন্দি আঁটল।
স্বাধীনতা দিবসের দিন নিয়ে জাতীয় কংগ্রেসের প্রস্তাব মানা তো দূরের কথা,দ্বিখন্ডিত স্বাধীনতার মদত দিল। তার একটা ছোট্ট প্রমাণ,যখন প্রধানমন্ত্রী ক্লিমেট এটলিকে জিজ্ঞেস করা হলো- গাঁধীজীর ভারতছাড়ো আন্দোলনের জন্যই কি এই স্বাধীনতা? উত্তরে এটলি বলেছিলেন গাঁধীর আন্দোলন নয়,নেতাজী সুভাষচন্দ্রের গণ অভ্যুত্থানের জন্য ব্রিটিশ সরকার স্বাধীনতা দিতে বাধ্য হয়েছে - "আমরা আগ্নেয়াস্ত্র চূড়ায় বসে আছি। আজাদ হিন্দ সেনানীদের লালকেল্লায় বিচার চাই; এবং দেশ জুড়ে গণ অভ্যুত্থান ব্রিটিশকে বাধ্য করেছিল ভারতবর্ষ ত্যাগ করে চলে যেতে।"
আসল রহস্য কিন্তু অন্য - দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইংল্যান্ডের অর্থনৈতিক মেরুদন্ড ভেঙে চুরমার। ভারতবর্ষের সংসার চালানোর ভাঁড়ে মা ভবাণী অবস্থা। আর গাঁধীর ভেতর থেকে ভারত ছাড়ো আন্দোলনের চাপ,বাইরে থেকে আজাদ বাহিনীর চাপে ব্রিটিশ শক্তির নাস্তানাবুদ অবস্থা। ভারত ছেড়ে যাওয়াই শ্রেয়। সেই সঙ্গে তাদের এও কর্তব্যজ্ঞানে অবিচল হলো যে ব্রিটিশের পরে ভারতবর্ষকে যেন আর কোনো বৈদেশিক শাসক শাসন করতে না পারে - একটা স্থায়ী গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য স্থির করল।
আর স্বাধীনতা দিবস যখন ১৫ আগষ্ট হয়ে গেল তখন ২৬- জানুয়ারী কি বৃথা যাবে। না বৃথা যেতে না দেওয়ার জন্য ২৬ - জানুয়ারী প্রজাতন্ত্র দিবসের পুণ্য বেদিতে পেল প্রতিষ্ঠা। তাই স্বাধীনতা মেরুদন্ড হলে প্রজাতন্ত্র ধড় বা দুটি দিন ভারতমাতার দুটি নয়ন।
জয় হিন্দ্।বন্দেমাতরম।
অসাধারণ লেখা। ।💐💐💐💐
উত্তরমুছুনধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।❤❤🙏🙏
মুছুনবাহ্ বাহ্ দারুণ লাগলো
উত্তরমুছুনধন্যবাদ। শুভেচ্ছা। 💥💥💫💫💅💅💅❤❤❤
উত্তরমুছুনমুগ্ধ হলাম...💐💝
উত্তরমুছুন