সোমবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২১

বিষয় : ছোটগল্প # নাম : মহিলা সাহিত্যিক।। পর্ব৭ # লেখায় : শর্মিষ্ঠা ভট্ট

 

মহিলা সাহিত্যিক।। পর্ব ৭


তনুরুচি পত্রিকায় লেখে। পুরুষ বা সমাজ বিমুখী সে। তার লেখার মধ্যে অব্যক্ত ব্যাথা আছে। ইদানীং মানসের থেকে কম্পিউটারের এডিটিং বিষয়ে জানছে। মানসের সাথে অফিসিয়াল ব্যাপার , মানে এই লেখালেখির বিষয় পর্যন্ত বন্ধুত্ব। তনুরুচি কি করে? চলে কি করে? নানা ছোট কাজে সে ব্যস্ত। সফ্ট টয়েজ বানানো থেকে টিউশন পড়ানো বিউটিসিয়ানের কাজ  , মানুষের নানা গল্প শোনে। মা মেয়ের চলে যায়। খুব ইচ্ছা বই বের করার। প্রকাশক ফর্টি চেয়েছে। তনুরুচি মনে মনে "চশমখোর" বলে গালি দেয়। ওদের টালির চাল গলে বৃষ্টি পড়ে, সেটা নিয়ে জল্পনা কল্পনা কম নয়। রেডিও আর ব্ল্যাক এ্যান্ড হোয়াইট অনিডায় খুশি থাকে। পাড়ায় দূর্গাপূজা বা কোন ফাংশনে তনুরুচি মাইকে থাকে, এই সবে তার বড়ো আগ্রহ। একটা চন্স। ওর একটা হাত চাই। নিরুপমার সাথে কখন কোন অনুষ্ঠানে দেখা হল। হয়ত নিয়তি কিংবা ওপরে কে যেন থাকে ওর কথা শুনে নিয়েছিল। বিখ্যাত সাহিত্যিক নাট্যকার প্রফেসর নিরুপমা রায় দস্তিদার। মিলেছে এক অনুষ্ঠানে। তারপর নিরুপমার খ্যাতির ঊজ্জ্বল্যে তনুরুচি আত্ম সমর্পণ করেছে। " দিদি আমিও লিখি, আপানার মতো বিখ্যাত মানুষের ছোঁয়ায় কৃতজ্ঞ। " তনুরুচির কথায় এবং পরিবেশনায় অনুষ্ঠান উদ্বোধনে আসা নিরুপমা নিজের কার্ড দিয়ে গিয়েছিল হেসে হেসে " এই মেয়ে এটা রাখো, সাহিত্যে তোমার দেখি খুব উৎসাহ, যোগাযোগ কোরো। " ভয়ে ভয়ে ওর বিউটিসিয়ানের একটা কার্ড এগিয়ে দিয়েছিল। মানসের কাছ থেকে বীনা পয়সায় কয়েক মাস আগে বানিয়ে এনেছিল কয়টা। সস্তা কার্ডটি নিরুপমা ওর সুসজ্জিত শান্তিনিকেতনের লেদার ব্যাগের কোনে গুঁজে দিয়েছিল।

বর্ধমান থেকে সুচিস্মিতা ফেসবুকে "ক্রিয়েটিভ আই" এর সাথে জুড়েছে । লাইক করেছিল। ফলোয়ার, এখন গ্রুপ মেম্বার। ওখান থেকেই ওদের ত্রৈমাসিক পত্রিকা বের হয়, তার এ্যাক্টিভ সদস্য। দামোদর বাবু ক্রিয়েটিভের এডিটর ওকে মহিলাদের বিভাগ দেখতে বলেছে। সুচস্মিতা কলেজ সামলে দিব্বি চালিয়ে যাচ্ছে। তবে মনে হাল্কা দম্ভ,হাওয়ায় ফুলে ওঠা টেন্টের মতো। সে যাই হোক নতুন এডমিন হয়ে প্রচুর বন্ধুত্ব পাঠিয়েছে ইথার জালে। মাছ পড়ছে টপাটপ। সাহিত্যর থেকে ওর সাথে বন্ধুত্বর ইচ্ছা বেশি। প্রচুর ম্যাসেজ এফ বি চ্যাট বক্স ভর্তি হয়। কত কবি লাফিয়ে পড়ে । কত শ্লীল অশ্লীল কবিতা আসে। কেউ অনুরোধ করে সুচিস্মিতা না মন্তব্য করলে কাব্য রঙিন হয় না। সুচিস্মিতাকে জলপাইগুড়ির ধীমান বর্মন লেখে : একটু ছোঁয়া নাই বা পেলাম
স্তনবৃন্ত থাক ঢাকা একুশে কুয়াশায়
যদি দেখি স্বপ্নে নগ্ন কায়া। ..... সহ্য করে হাসি মুখে সাহিত্যের খাতিরে! না নেশা তারও মনকে উচাটন করে। অনেক প্রশ্নের উত্তর হয় না। তা না হলে চল্লিশ ঊর্ধ্ব মানুষের সাথে রাত রাত কি এত চ্যাট বক্সে ফেবিকুউক দিয়ে এঁটে যাওয়া। অনেক কথাই হয়, যা হয়ত ঠিক না হলে ভালো লাগতো। সুচিস্মিতা এই ম্যাসেজের আশায় বোসে থাকে, বুকে পরোকিয়া  আনন্দ। ধীমানের কি কখনও কিছু মনে হয়!  এই সংবাদ আদানপ্রদানে সাহিত্য আদিরসাত্মক হয়, নাকি এটা আধুনিকতা? অদৃজাও ঠিক সেই সময় অশোক প্রামানিকে এফ বিতে ব্লক করল। অশোক নিজেকে নাক উঁচুমনা মানব বা দানব ভাবে। অদৃজাও ওর পত্রিকা, মানে সহকারী সম্পাদক যেখানে পত্রিকার জন্য সেও মেম্বার আনছিল। ধীমান বলেই দিল -" আপনাদের মতো মহিলারা পত্রিকার নামে বন্ধু খোঁজেন।" ব্যাস ব্লক। অপমানিত অদ্রিজা নিজেকে ভীষণ অপমানিত মনে করে।কি মনে করে লোকটা, সে কি পন্য! ব্যবসা করছে? অদ্রিজা ত্রিশের ঘরে গৃহবধু। সবে এই লেখালেখিতে। স্বামীর চাকরির কাজে দেশান্তরিতের দুঃখ ভুলতে ঢুকেছে। একি কান্ড! তার মতো সৎ চরিত্রা মহিলাকে যা খুশি বলে চলে যাবে, না কখনো তা হতে দিতে পারে না। মনের মধ্যে আগুনের গোলা ছোটাছুটি করে। এবার থেকে মানুষের জন্য একটু কর্কশ ব্যবহারই সে তুলে রাখে। এত সহজ হয়ে মেশা মানে পিশে দিয়ে যাবে । সহজ হলেই লোক নীচু করে। হয়ত মানুষের এক সহজাত স্বভাব তোলা জিনিসের প্রতি প্রবনতা বেশি। না পাওয়া না ছোঁয়া সমাদর দেয়। সমানে নেমে এলে আরও নীচে নামায়। তাই কি অহংকারের মুখোশ পরতে হয়!!যেমন নিরুপমা রায় দস্তিদার ম্যাডাম একটা নিজের তৈরী বলয়ের মাঝে বিরাজ করে! বলয়, নিজস্ব একটা বলয় বানানো শিখতে হবে।।
©কপিরাইট সর্তাধিকারী শর্মিষ্ঠা ভট্ট
(ক্রমশঃ ) 

৪টি মন্তব্য:

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...