# নাম- 'জীবন জিজ্ঞাসা'
(বিজ্ঞান বিষয়ক)
পর্ব- ৪
✍ - মৃদুল কুমার দাস।
মহাকর্ষীয় তরঙ্গের আবিষ্কর্তা নিউটন। নিউটন তারই ভিত্তি। আর আইনস্টাইন দেন তার পূর্ণাঙ্গ পরিণতি। অর্থাৎ নিউটনের আবিষ্কৃত মহাকর্ষীয় তরঙ্গের ব্যাখ্যায় যা ফাঁকফোকর ছিল আইনস্টাইন তা সংশোধন করে পূর্ণাঙ্গ পরিণতি দিয়েছিলেন।
স্যার আইজাক নিউটন হলেন পৃথিবীর সেরা তিন গণিতজ্ঞের অন্যতম একজন। তাঁর সেরা আবিষ্কার মহাকর্ষ সূত্র। আর এই মহাকর্ষ সূত্র আবিষ্কার করতে গিয়ে গণিতে উদ্ভাবন করেছিলেন ক্যালকুলাস। এই ক্যালকুলাসকে নিউটন শুধু মহাকর্ষ সূত্রের কাজে লাগালেন তাই নয়, দুনিয়া যেন হাতে পেয়ে গেল আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ,বা সবার কাছে দুনিয়া এলো যেন হাতের মুঠোয়! এই ক্যালকুলাস থেকে আবিষ্কৃত হল কম্পিউটার, সেলফোন, মাইক্রোওয়েভ উনুন, টেলিভিশন, আল্ট্রাসোনোগ্রাফি,জি.পি.এস.দিক নির্দেশক,অ্যাটম বোমা... তালিকায় কি নেই! এখন মহাকর্ষীয় তরঙ্গের কথা কিছু সময়ের জন্য সরে এসে ভেরি ইন্টারেস্টিং এই ক্যালকুলাস নিয়ে আলোচনার একটু মোড় ঘুরিয়ে দেখে নিই ক্যালকুলাসের অবদানে দুনিয়া কেমন খুল যা সিমসিম হয়েছিল ও এখনো হচ্ছে!
আসি জীববিজ্ঞানে ক্যালকুলাস ব্যবহারের কথায়। সে জন্যই তো বললাম ইন্টারেস্টিং!
জীববিজ্ঞানেও ক্যালকুলাস প্রয়োগের কথা আমেরিকার কর্ণেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের অধ্যাপক স্টিভেন স্ট্রোগাৎজ তাঁর 'ইনফিনিট পাওয়ার্স: হাই ক্যালকুলাস রিভিলস দ্য সিক্রেটস অব দ্য ইউনিভার্স' বইখানিতে একথা জানিয়েছেন। তিনি সরাসরি জানিয়েছেন AIDS রোগের চিকিৎসায় ক্যালকুলাস ভাইরাসের পরিসংখ্যান বিচার করে ওষুধ আবিষ্কারে যথাসাধ্য সাহায্য করেছে। অর্থাৎ AIDS এগোয় যে তিন পর্যায়ে - প্রথম পর্যায়ে কয়েক সপ্তাহে রোগ প্রবল।
দ্বিতীয় পর্যায়ে রোগের প্রাথমিক লক্ষণ প্রশমিত- শরীরের ইমিউনিটি পাওয়ারের সঙ্গে ভাইরাসের চলে প্রবল সংঘাত,সে দশবছর পর্যন্তও শরীর ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই দিতে পারে।
তৃতীয় পর্যায়ে শরীর চলে যায় রোগের কবলে। ভাইরাস নিয়ে নেয় বিধ্বংসী রূপ। তখন আর তাকে রোখার কোনো উপায় নেই। এই এইচ আই ভি ভাইরাস-চরিত্রের এই যে উত্থান,পতন,আবার উত্থান - এই তিন ধারায় গতিপ্রকৃতি, ভাইরাসের সংখ্যার উত্থান-পতন-উত্থানের হার পর্যালোচনায় সাহায্য করে ক্যালকুলাস। যেমন-
দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রতিদিন, প্রতি সেকেন্ডে রোগীর রক্তে ভাইরাসের বোঝা কী হারে বাড়ছে বা কমছে, অথবা অসংক্রামিত টি কোষের সংখ্যা কী হারে কমছে বা বাড়ছে, ওষুধ প্রয়োগের দ্বারা ও যাদের ওষুধ প্রয়োগ করা হচ্ছে না - এঈ দুধরনের রোগীর মধ্যে ভাইরাসের সংখ্যা নির্ণয় করতে ক্যালকুলাস ঠিক ঠিক রাস্তা দেখাতে লাগল। এই ক্যালকুলাসই পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় সাহায্য করে ওষুধের পরীক্ষা নীরিক্ষাকে সাহায্য করতে থাকে। আজ বিশ্ব থেকে রোগ নির্মূলের ওষুধ বের হয়নি সত্য কিন্তু ঐ দ্বিতীয় পর্যায়ে রোগীকে আরো কিছুটা দীর্ঘায়ু করার কাজে ক্যালকুলাস যথার্থই সাহায্য করেছে। ক্যালকুলাস দিয়েছে ককটেল থেরাপি। ককটেল থেরাপি হচ্ছে দ্বিতীয় পর্যায়ে যখন রোগী অবস্থান করবে তখন রোগ প্রতিরোধের জন্য বাইরে থেকে বাড়তি সাহায্য হিসেবে একাধিক ওষুধ প্রয়োগের প্রয়োজন। কেননা মাত্র একটা ওষুধের বিরুদ্ধে ভাইরাস লড়াই করার ক্ষমতা আয়ত্ব করে ফেলে বলে।
এতো গেল ভাইরাস দমনে ক্যালকুলাসের সাহায্যের কথা। কেন অ্যাটম বোমা তৈরির অঙ্ক যে ক্যালকুলাসই ভিত্তি। অঙ্ক কষে বলে দেবে ইউরেনিয়াম বা প্লুটোনিয়ম ভেঙে এক লহমায় কত এনার্জি বানাতে পারে পরমানু বোমার মূল উপাদান। ফিশন ও ফিউশন সূত্র এক্ষেত্রে তার সহায়। ঐ যে এডসের কথা বললাম কোশের মধ্যে যে ফিশন ও ফিউশন প্রক্রিয়ার কার্যকরী ভূমিকায় ভাইরাস ও টি কোষের লড়াই চলে, তার সর্বপ্রকার রেট অব পাওয়ারের পরিসংখ্যান দেয় ক্যালকুলাস। করোনা ভাইরাসের চরিত্র নিরুপণও ক্যালকুলাসের ব্যবহার নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
এবার আসি মূল আলোচনায়। মহাকর্ষ সম্পর্কে নিউটনের ব্যাখ্যা ছিল দুই বস্তুর মধ্যে অদৃশ্য আকর্ষণ বল। এই আকর্ষণ বল কীভাবে অবস্থান করছে সেই আলোচনায় আসব পরের পর্বে।
(চলবে)
@ কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।
বাহঃ, খুব ভালো লাগলো
উত্তরমুছুনধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।❤❤
মুছুনঅসাধারণ 👌👌👌👌👌
উত্তরমুছুনধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।❤❤
মুছুনখুব ভালো লাগলো 👌👌
উত্তরমুছুনধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।❤❤
মুছুনআমি সত্যি আপনার শিক্ষার্থী হতে চাই।
উত্তরমুছুন