মঙ্গলবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২১

বিষয় : বিবেকানন্দ (প্রবন্ধ) # লেখায় : শর্মিষ্ঠা ভট্ট

 বিষয়: বিবেকানন্দের ১৫৭ জন্মবার্ষিকী। (প্রবন্ধ) 




মন পাগল তুই কেন খুঁজে মরিস? কে জানে  এই মনের বাসা যে কোথায়? হৃদয় মানে কি মন? ব্রেন মানে বুদ্ধি হতে পারে কিন্তু মন? আমি তোমায় হৃদয় দিলাম, হার্ট দিলাম ❤ একটি ছবিও পাঠানো যায়। কিন্তু মন দিলামের ছবি বা বিশ্লেষণ ঠিক কেমন হবে কেউ বলতে পারে না। তবে ইংরেজি প্রতিশব্দ মাইন্ড বলে চিহ্নিত করা যায়। হয়ত মানুষ এই মনের দ্বারা নিয়ন্ত্রাধীন। " কিছু মনে করোনি তো? " " মন চেয়েছে আজ হারিয়ে যাব " মানে এই দেহ এই সজীব দেহের প্রতি অঙ্গের অংশের মাঝে বিরাজিত এক সত্ত্বা। যে নীরবে কাজ করে এবং এই দেহ নামক অস্তিত্বকে চালনা করে। ওটাই সত্ত্বা! 

 

আজ বিবেকানন্দের ১৫৭ তম জন্মবার্ষিকীতে তাঁকে স্মরণ করে এই সত্ত্বা সম্বন্ধে তাঁর মত জানার চেষ্টা করবো ....... 

মন বা এই সত্ত্বা সম্পর্কে তিনি কি বলেছেন?? 

" এটি হওয়া বা হতে থাকা। তবে শোনা বা জানা নয়, প্রত্যেকের অন্তরে যে দেবত্ব (ঐশ্বরিক সত্ত্বা) আছে, তার পূর্ণ বিকাশের রূপই ধর্ম। " তাঁর মতে সব পূজা যদি পবিত্র হয় ও অপরের হিতের জন্য করা হয় তবে তার সমষ্টিকে ধর্ম বলে। অর্থাৎ এই মনেই ধর্ম ও অধর্ম বিরাজমান। বিবেকানন্দের মতে ইচ্ছা ও তার সংহতি ই হল শক্তি। আর এই ইচ্ছা মনের পজেটিভ চিন্তন বা সমীকরণ। নিজের ভেতর সংগঠিত শক্তি ও প্রবল ইচ্ছা সৎ কর্মের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। এই পথে বার বার চলার অভ্যাসে নিজেকে দৃঢ় থেকে দৃঢ়তম করে তুলতে হবে। তিনি মনকে বানরের সাথে তুলনা করেছেন। বাইরের জগতের প্রতি আকর্ষিত হয়ে লাফানো ঝাঁপানো যার কাজ। কিন্তু এই মনকে চিনতে হবে, নিজের মাঝে সমাহিত করতে হবে। ধীমান হতে হবে। আত্মসংযম আত্মবিশ্বাস এনে দেবে। তার চরমতম প্রকাশ বা উন্নয়নই ঈশ্বর বিশ্বাস। তিনি বলেন মনই আসল, যাকে নিজের অভ্যাসের মাধ্যমে চালনা করতে হয়। তাই তিনি বলেন " আনন্দে করা কাজ বেশি স্বার্থক হয়। " মন থেকে কোন সদ ইচ্ছা জাগাতে হলে আগ্ৰহ একান্ত প্রয়োজনীয়। তিনি বলেন " মনের শক্তি সূর্যের কিরনের মতো, যখন এটি এক জায়গায় কেন্দ্রীভূত হয় তখনই এটি চকচক করে ওঠে। " সেই কেন্দ্রীকরণের জন্য যোগাভ্যাস দ্বারা মানসিক নিয়ন্ত্রণের পথ দেখিয়েছেন। তাই তাঁর মতে সুসাস্থ্য এক সুদৃঢ় সামাজের গঠনের মূলে। নিজেকে কাজের মধ্যে রাখলে যে শক্তি নিসৃত হয় তাকেই তিনি সুগঠিত সমাজ গঠনের মূল ভীত হিসেবে আক্ষায়িত করেছেন। তিনি বলেন জীবকে সেবার মধ্যে এই কর্মযোগ লুকিয়ে আছে। সাংগঠনিক সেবা কর্মে লিপ্ত হবার জন্য তিনি উন্মুক্ত আহ্বান দিয়ে গেছেন। তাঁর মতে মন্দির মসজিদে যেতে হবে না। নিজের এই দেহের কোনে বসে থাকা মনকে আবিষ্কার করো আর তাকে অভ্যাসের মধ্য দিয়ে সুউচ্চ শক্তিশালী করো। যা প্রবল ইচ্ছা শক্তি হয়ে সর্বদা ঈশ্বরের পবিত্র উপস্থিতি অনুভব করাবে। তিনি বলেছেন " মহাবিশ্বের সীমাহীন পুস্তকালয় আপনার মনের ভিতর অবস্থিত। "

©কপিরাইট সর্তাধিকারী শর্মিষ্ঠা ভট্ট।।।।

২টি মন্তব্য:

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...