বিষয় : সমালোচনা (অনুগল্প)
নাম : "হানিমুনে মজা বাকি"
লেখনী : শর্মিষ্ঠা ভট্ট
চন্দনা মাথায় চলে এলো 🌹তাই আজকের বিষয় চন্দনার বৌভাত এবং ওর আড়ালে থাকা ফুলশয্যা, এবং তার মাঝে দাঁড়ানো দরজার ওপরেই লিখলাম 🚪
বিশাল রায় পরিবার, নববধূ কুমুদিনী। বারো বছরের মেয়ে ঘুমে ঢুলছে ষোল বছরের তার বর হুড়হুড় করে ঘরে ঢুকল। বোধহয় তাকে জামাইবাবু ছোট মামা এবং এঁচোড়ে পক্ক বন্ধুরা ধাক্কা মেরেছে দরজার ওপাশ থেকে। বনেদী ঘরের শেগুনের দরজা ধরে নিজেকে সামলে নিল সে সাথে ধুতি। নববধূটির কাছে মান বাঁচিয়ে একটু গম্ভীর হয়ে চৌকাঠ থেকে দুপা এগিয়েছে, পিছনে মহিলা কুলের কল্লোল শুনল।
ভ্যাবাচ্যাকা কুমুদিনীর বর রামকৃষ্ণ কিছুতেই আর এগোতে পারলো না। দরজা দিয়ে পালানো অসম্ভব। বৌদিরা মাসি দিদি সব ঘিরে আছে। অসহায় লজ্জায় রামের পিঠ দিয়ে ঘাম ঝরছে। আর কুমুদিনী! লাল চেলির আড়ালে মজা নিচ্ছে। একবছর ধরে দিদি বৌদি মা, সর্বোপরি সখী বামার সোহাগ ও এই রাতটির গল্প শুনে শুনে মানসিক তৈরি সে। সে জানে ভয় পেতে নেই। খালি খালি ছেলেটা মানে তার সদ্য হওয়া বর ঘাবড়ে গেছে। তাকে দেখেও লোক ঘাবড়ায় জেনে বেশ মজা হচ্ছে। তবে দুধ যে ঠান্ডা হয়ে গেল। এটা দিয়ে সে খুব ঘুমতে চায়। তার কাজ শেষ। দরজা ওপাশ থেকে দড়াম করে বন্ধ হয়ে গেল। বড়ো দিদি চেঁচালো " রাম, এ দরজা কাল খুলবে যখন বাবু দরজা খোলার দাম দেবেন " । অসহায় রাম বাবার অধীনে, কখন ওরা মনের মতো দাম পাবে, কখন খোলা পাবে! তার থেকে বৌটার সঙ্গে গল্প করা যাক। ও কি শরৎচন্দ্রের নভেল পড়েছে! এগিয়ে যায় রাম কুমুদিনীর রজনী গন্ধা মোড়া খাটের পাশে।
"দিদা এটাই এখন ট্রেন্ড গো " আশির দশকে বিয়ে করা কুমুদিনীর নাতি সাগর বলেছিল। " কিন্তু দাদু ভাই দরজার পাশে আড়ি না হলে মজা কি! " " দিদা প্লিজ আজ নয়। আজ নীলাঞ্জনা আর আমার মাঝে কেউ না। তুমি একটু সামলাও। " অগত্যা মৃদু হেসে কুমুদিনী ডাক দিল দরজা ধরা ওই দলের নেতৃত্বে ছোট মেয়ে বন্যাকে। ভাইপো ভাইঝি থেকে দাদা বৌদি মহলে প্রিয় ব্যাঙ্ক ম্যানেজার বন্যা। নিজে চিরকুমারী কিন্তু কত দরজা ধরায় সেই যে লিড রোল প্লে করে! শেষে ছোট ভাইপোর কাছে এসে এই মহান প্রথা যে থামাতে হবে তাতে ভীষণ আপ সেট। সাগরের অতি সজ্জিত বেলের মালার ফুলশয্যার ঘরের দরজা দুড়ুম করে খুলে দিয়ে দুড়দাড় ওপরে নিজের ঘরে বিছায় পড়ে কাঁদতে গেল। অবশ্য দরজার এই অতি উৎসাহের গেমটা আবার একদিন খেলতে দিয়েছিল সগর, ওর বিবাহ বার্ষিকিতে। তবে ফুলশয্যার দিনে সাগর দৃঢ় ছিল নিজের স্পেশাল দিন সে নষ্ট করবে না। গ্যাদা লোকের সময় এটা নয়। এ শুধু তাদের।
সবাই চলে গেল রিসেপশন শেষে হোটেলের ঘর ফ্রেস ল্যাভেন্ডার আর অর্কিডে বিন্যস্ত। রিতি মতো প্রফেশনাল হাতে সাজানো। চারিদিকে একটা রয়েল ভাব, রূপালী পর্দার মতো নিখুঁত সমস্তই। লাল গোলাপের লাভ সাইন সামনে, দামি ওয়াইন আর স্কচ। তোয়ালে দিয়ে ময়ূর বানানো। বাথরুমে সুগন্ধি মমবাতি। হাল্কা ইংলিশ গান, ঠিক ইংলিস না স্প্যানিশ। হোটেলের দরজা বন্ধ করে ঋভু এগিয়ে এসে গাড়ো চুম্বন এঁকে দিল। ততক্ষনে সগরের মেয়ে তিয়া ঋভুর নতুন বৌ বারমুডা পড়ে সেল্ফি নিচ্ছে ওদের নিজস্ব মুহুর্তের, বন্ধু মহলে আপডেট করতে হবে। জড়িয়ে ধরার দৃশ্য ঠিক মত না হলে আবার, রিটেকে জড়িয়ে ধরছে ঋভু। ব্যাঙ্গালোরের দামী ইঞ্জিনিয়ার সে। কাল সকালে মরিশাস হানিমুন।
এই রাত আত্মীয় বন্ধুদের অত্যাচার থেকে বাঁচতে। কিন্তু তিয়া নক আউট ,ঋভু হবে হবে করছে।তাতে কি হানিমুনে মজা বাকি।
এখুনি দরজা খুলবেন না চন্দনা কেমন আছে!!আপনাদের দেখে উচ্ছসিত হয়ে "হানিমুনে মজা বাকি" করে পিয়ালীর গানে নাচতে পারে। কিংবা দরজায় এমন জং ধরল হয়ত আর খোলাই গেল না।
এপাশ থেকে রজতদা হয়ত গাইবেন - হাম তুম এক কাছে মে বন্ধ হো অউর চাবি খো যায়।
©কপিরাইট সর্তাধিকারী শর্মিষ্ঠা ভট্ট।

বেশ। বেশ। দারুণ লাগল। 😁😁❤❤👍👍👌👌
উত্তরমুছুনঅজস্র ধন্যবাদ দাদা🙏🙏🙏🙏🌷🌷🌷🌷
উত্তরমুছুনদারুণ ।😁😁😁
উত্তরমুছুন