প্রজাতন্ত্রের প্রজা
সুদেষ্ণা দত্ত
১) আজ ২৬শে জানুয়ারী।মাস্টার রা বারবার ইস্কুলে যেতে বলেছে।আজ কোন কেলাস হবে না।হেডমাস্টার একটা ভারতবর্ষের পতাকা তুলবে আর একটা টিফিন কেক দিয়ে ছুটি করে দেবে।আসমত ভাবে এমন দিন কেন আসে,যেদিন ইস্কুলে মিড-ডে মিল দেয় না।মিড ডে মিলের ডিমটা সে বাড়ীতে নিয়ে গিয়ে বোন আয়েশার সঙ্গে ভাগ করে খায়।একবেলার খাবারের চিন্তা করতে হয় না তার বিধবা মাকে।কিন্তু আজ কি খাবার জুটবে তাদের!
২) মাঘের ঠান্ডা কুয়াশা আস্তরণ বিছিয়েছে চারদিকে।দিকচক্রবাল আলোকিত করে ধীরে ধীরে স্ব মহিমায় উদ্ভাসিত হচ্ছেন সূর্যদেব।ক্ষেত ভর্তি সর্ষে ফুল,সেখানে কত নাম না জানা পাখীর আনাগোনা।কিন্তু এসব দেখার ফুরসৎ নেই কানাইয়ের।সকাল থেকে মালিকের জমিতে ধান রোপনে ব্যস্ত সে।একটা তিন রঙের কাপড় উড়ছে কাছের ক্লাব থেকে।বাবু এসে বলে গিয়েছেন,আজ ২৬শে জানুয়ারী, তাঁর ক্লাবে নিমন্ত্রণ,আজ আর আসতে পারবেন না।আজ একটা বিশেষ ছুটির দিন।হায়!কানাইয়ের কাছে ২৬ শে জানুয়ারী যা ২৬শে ফেব্রুয়ারীও তা।কাজে মন দেয় কানাই।
৩) নেতাজী মহাবিদ্যালয়ের ক্যান্টিন আজ বন্ধ।আজ ২৬ শে জানুয়ারীর পতাকা উত্তোলনের পর কলেজ ছুটি।জোসেফ কাকারও আজ সারাদিন রোজগার বন্ধ।মন মরা হয়ে থাকে লিভারের অসুখে আক্রান্ত স্ত্রীর চিকিৎসারত জোসেফ কাকা।আজ হাসপাতালে স্ত্রীকে নিয়ে ডাক্তার দেখাতে যাওয়ার কথা ছিল।কিন্তু আজ নাকি ডাক্তারবাবুরা হাসপাতালে থাকবেন না।ফিস্টি করতে যাবেন।
৪) ভিক্টোরিয়ার সামনে পতাকা বিক্রি করছে আকাশ।একটা বড় গাড়ী সামনে এসে দাঁড়ায়।একটা ফুটফুটে মেয়ে বাবার হাত ধরে পতাকা কিনতে আসে।দেওয়ার সময় একটা পতাকা হাত থেকে পড়ে যায়।বাবা-মেয়ে নোংরা পতাকা মাটিতে ফেলে নতুন পতাকা গাড়ী তে গুঁজে বেরিয়ে যায়।দিন শেষে মাটিতে পড়ে থাকা পতাকা নিয়ে বাড়ী ফেরে আকাশ।তার তিন বছরের ছেলে খুশি হয়ে জানলায় পতাকা গুঁজে প্রণাম করে।গর্বিত আকাশ ভাবে আকাশের মত উদার হোক তার ছেলে।
৫) রেনু মাসী প্রতিদিনের মত আজও লোপা বৌদিদের বাড়ী কাজে যাচ্ছে।কিন্তু পাড়ার ছেলে গুলো তাকে জোর করে ক্লাবে যাওয়ার জন্য।ক্লাবে আজ কম্বল দেওয়া হবে।রেনু মাসী জানায় কাজে না গেলে বৌদি রাগ করবে।কিন্তু এই মাঘের শীতে কম্বলের হাতছানিকে উপেক্ষা করতে পারে না সে।আজ কি বিশেষ দিন সে জানে না।তার কাছে আজকের দিনের সেরা প্রাপ্তি এই উষ্ণতা।
আজ ২৬ শে জানুয়ারী, প্রজাতন্ত্র দিবস।জনগণই নাকি এখানে সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী।১৯৫০ সালে আম্বেদকরের হাত ধরে দেশের সংবিধান তৈরী হওয়ার পর তা কার্যকর করার জন্য একটি দিনের প্রয়োজন ছিল,তাই এই ২৬শে জানুয়ারী কেই বেছে নেওয়া হয় প্রজাতন্ত্র দিবস হিসেবে।কিন্তু সত্যিই কি ভারতবর্ষের মত দারিদ্র্য,অশিক্ষা যেখানে ওঁৎ পেতে আছে—সেই অভুক্ত,অর্ধভুক্ত মানুষের কাছে এই দিনের কোন মর্যাদা আছে!আবার উল্টোদিকে শিক্ষিত,বিত্তবান মানুষরা মাংস ভাত খেয়ে একটা ছুটির দিনের মর্যাদা দিয়েছেন কত সংগ্রাম,কত অত্যাচার—পরিশ্রমের সফল পরিণতি এই দিনের।
©কপিরাইট রিজার্ভড ফর সুদেষ্ণা দত্ত।
ছবি সৌজন্য:গুগুল।

বাহ্ বাহ্ চমৎকার
উত্তরমুছুনধন্যবাদ বন্ধু
মুছুনখুব সুন্দর লাগল। ধন্যবাদ। 👌👌💫💫❤❤
উত্তরমুছুনধন্যবাদ দাদা।
মুছুনঅসাধারণ লাগলো... সত্যিই... এক একটা বিশেষ দিনের তাৎপর্য এক একজনের কাছে এক একরকমের... অদিতি
উত্তরমুছুনআমরা এই বিশেষ দিনটিকে অন্যভাবে বিশেষ করেছি,যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
মুছুনঅসাধারণ
উত্তরমুছুন💝💝💝💝
মুছুনআমি অনেক কিছু জানলাম💐💝
উত্তরমুছুনআমি আপ্লুত।ধন্যবাদ।
মুছুনশুনতে খারাপ, অনুভূতির দিক থেকে কষ্টকর কিন্তু কঠিন বাস্তব এটাই...
উত্তরমুছুন