যদিও রবীন্দ্রনাথ কবি ছিলেন, কিন্তু উনাকে বা উনার লেখা গুলোকে অধ্যাতিকতার সাথে যুক্ত করা যায়। অনেকের মতে, উনার প্রতিটা লেখায় নিগূঢ় অধ্যাতিকতা রয়েছে। তাঁর সমগ্র চেতনার মধ্যে অধ্যাতিকতা রয়েছে। রবীন্দ্রনাথ এর বিভিন্ন লেখা বা বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যে উনি অরূপের সাধনাকেই অধ্যাতিকতা বলেছেন। উনার মতে " *আধ্যাত্মিক সাধনা কখনোই রূপের সাধনা হইতে পারে না। তাহা সমস্ত রূপের ভিতর দিয়া চঞ্চল রূপের বন্ধন অতিক্রম করিয়া ধ্রুব সত্যের দিকে চলিতে চেষ্টা করে। ইন্দ্রিয়গোচর যে কোনো বস্তু আপনাকেই চরম বলিয়া স্বতন্ত্র বলিয়া ভান করিতেছে, সাধক তাহার সেই ভানের আবরণ ভেদ করিয়া পরম পদার্থকে দেখিতে চায়।* "
এটা বলার অবকাশ রাখে না যে বহির্ভারতের তুলনায়, বঙ্গ অনেক বেশি ধর্ম সহিষ্ণু। এর কারণ হিসেবে কবিগুরুর অবদান কিছুটা হলেও আছে। কবিগুরু একাধারে যীশু, বৌদ্ধ, হযরত মুহাম্মদ ইত্যাদি সবাইকে নিয়ে লিখেছেন। তাঁর এই ধরণের সাহিত্য চর্চার জন্যই আজ বাংলার সাহিত্যিকরা ধর্মনিরপেক্ষতা বজায় রাখতে পেরেছেন। বিশ্বের সাহিত্য মঞ্চের সামনে বাংলার এই ধর্মনিরোপেক্ষিতা একটা আলাদা সম্মান পায়। এর জন্য আমরা কবিগুরুর কাছে চিরকৃতজ্ঞ।
তাঁর চিন্তাধারা ছিলো আধুনিক। উনি সবসময় মানবতার পক্ষে কথা বলতেন। ভারতে জন্মনিয়ন্ত্রণ নিয়ে যখন ভাবা হচ্ছিল, তখন গান্ধীজি বলেছিলেন যে মানুষের জন্ম ঈশ্বরের হাতে, এটাকে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত না। কবিগুরু তখন গান্ধীজির তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন।
আধ্যাত্মিকতাকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কবিগুরু বলেছেন, " *আধ্যাত্মিকতায় আমাদের আর কিছু দেয় না, আমাদের ঔদাসীন্য আমাদের অসাড়তা ঘুচিয়ে দেয়। অর্থাৎ তখনই আমরা চেতনার দ্বারা চেতনাকে, আত্মার দ্বারা আত্মাকে পাই। সেই রকম করে যখন পাই তখন আর আমাদের বুঝতে বাকি থাকে না যে সমস্তই তাঁর আনন্দরূপ।*"
আজ এইটুকুনিই, সবাই ভালো থাকবেন, শুভ সন্ধ্যা।
ব্যাপক ভালো লাগলো
উত্তরমুছুনখুব সুন্দর বিশ্লেষন করেছ। ধন্যবাদ। 👌👌👍👍❤❤
উত্তরমুছুনখুব ভালো বিশ্লেষণ।👍🏼👍🏼
উত্তরমুছুনঅপূর্ব ।। দারুন ব্যাখ্যা।
উত্তরমুছুনখুব সুন্দর লেখা।
উত্তরমুছুনঅপূর্ব.....
উত্তরমুছুনখুব ভালো লাগল।💕🖤💕🖤💞💞❣️❣️🖤🖤😍😍