# নাম- 'জীবন জিজ্ঞাসা'
(বিজ্ঞান বিষয়ক)
পর্ব-১
✍ মৃদুল কুমার দাস।
জীবন এক খনি। মন মাইনিং ইঞ্জিনিয়ার। হৃদয় খুড়ে মণিমুক্তার সন্ধান চালিয়ে যায়। জীবনের উপর মন সওয়ার হয়ে, তারই নানা কম্ম অনুষ্ঠিত করার মাধ্যমে জীবন কি তাই বোঝায়।
এই জীবনে কতটুকু জানি, কতটুকুই বা জানা হয়! তাই নিয়ে শুধু নিরন্তর জানার ইচ্ছা। আয়ু জানাটা ধরবে, অজানাকে ধরতে কেবল নিরন্তর এগোবে। কেননা চলাটাই যে জীবন। চলতে চলতে যত অজানাকে জানবে তত নিজেকে অভিজ্ঞ মনে করবে,তত মনের পরিণতি আসবে।
আর তাই এলে জীবনের রূপান্তর ঘটে যাচ্ছে। অজানাই জানার দুয়ার খুলতে খুলতে জীবনের রূপান্তর ঘটিয়ে যাচ্ছে। রূপান্তরিত জীবন সামনে যা দেখে বলতে পারবে না কি দেখছে, আবার পেছনে ফেলে আসা জীবনকে নিয়ে বলবে কতটুকুই বা হলো,কিই বা পেলাম।
জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত রূপান্তর একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। জীবনের রূপান্তর ঘটবে যখন তখন অজানা উঠে আসবে জীবন জুড়ে। যেমন জীবনের একেবারে প্রাথমিক কতকগুলি কৌতূহল পূরণ যদি করতে চাই তাহলে প্রথমে প্রকৃতির কাছে যেতে হবে। প্রকৃতি উদার হস্তে সব দিচ্ছে বলেই না আমাদের বাঁচার প্রথমিক শর্ত পূরণ হচ্ছে। কি সেই উদারতা!
প্রকৃতি জীব ও জড়ের অংশ। মানুষ তার শেষ ও শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। পৃথিবী তার বাসভূমি। পৃথিবীকে ধরিত্রীমাতা বলা হয়,জীবজগৎ ও জড়জগতকে ধারণ করে আছে বলে।
মানুষের বিস্ময়ের শেষ নেই। এই বিস্ময় আসে জীবনের গতি থেকে। বিস্ময় তখনই আসে যখন অজানা বিষয় জীবনের উপর রাস্তা খোঁজে চলার জন্য। তাই সাহিত্য জানার উপরেই থাকে। বিজ্ঞান অজানাকে যতক্ষণ না জানিয়ে ছাড়বে ততক্ষণ সে ক্ষান্ত নয়। তাই একটা জায়গায় এসে যখন পথ রুদ্ধ দেখে তখন নানা কসরত করে সেই রাস্তা খুঁজে বের করবেই,এ তার জীবনের কাছে দায়বদ্ধতা।
আজও ভেবে কূলকিনারা পাইনা আমাদের এই প্রিয় গ্রহের অক্ষাংশ যদি একচুল এধার ওধার হতো তাহলে কি হতো! পৃথিবীতে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন মিলিত সম্ভারে জল কেবল পৃথিবীর কপালে জুটল। সৌরপরিবারের অন্য কোনো সদস্যের সে সৌভাগ্য তো হলো না। প্রমান হলো জলই জীবন। জলের তিন অবস্থাই- কঠিন,তরল,গ্যাসীয় - প্রকৃতির প্রাণ।
আর জড়! জড় বস্তুর গঠন জীবনের চলার প্রধান নিয়ামক। কোনো এক ঐশ্বরিক শক্তিই যেন এদের জড় বললেও এরাই প্রানের ধারক ও বাহক। তাদের গঠন বিন্যাসেই রয়েছে সেই রহস্য!
বস্তুর পরিচয় পরমানু কনার পরিচয়ে। পরমানুর কেন্দ্রে থাকে নিউক্লিয়াস। নিউক্লিয়াস হল প্রোটন ও নিউট্রনের বিন্যাস। আর বাইরে ইলেকট্রণ। যেন একটা ফুটবল মাঠের মতো। কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস - প্রোটন ও নিউট্রন। ইলেকট্রণ মাঠের বাইরে দর্কাসনে,কেন্দ্র নিউক্লিয়াসের দিকে এক আকর্ষণে বাঁধা।
প্রোটন ধনাত্মক চার্জবিশিষ্ট, নিউট্রন নিস্তড়িৎ। ঋণাত্মক চার্জবিশিষ্ট হল ইলেকট্রণ।
এখন প্রশ্ন প্রোটন যদি ধ্বনাত্মক হয়,নিয়ট্রণ প্রোটনের সমধর্মী হলে সমমেরু বিকর্ষণের মতো ছিটকে বেরিয়ে আসবে নিউট্রত। কিন্তু আসবেনা,কারণ নিউট্রণ নিজেকে প্রোটনের সত্ত্বায় পরিণত করে নেয়। তাই নিউক্লিয়াস প্রোটন-নিউট্রণ,নিউট্রণ-প্রোটন হয়ে ঠিক থাকে।
বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড মোটামুটি শ'খানেক মৌল নিয়ে গড়া। এই মৌলেরা আলাদা আলাদা কারণ প্রত্যেকের পরমানুতে প্রোটনের বিন্যাস আলাদা আলাদা। ধরা যাক নাইট্রোজেনের পরমানুতে প্রোটন-৭, অক্সিজেনে প্রোটন- ৮। এই প্রোটন সংখ্যার হ্রাস বৃদ্ধির উপর মৌল বিভিন্ন রকম। আবার মৌলগুলি থেকে যখন যৌগ তৈরি হয়, অর্থাৎ নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন মিলে যৌগ হল,বা কার্বন ও অক্সিজেন মিলে নতুন যৌগ তৈরি হলেও প্রোটন সংখ্যার বিন্যাস কিন্তু বদলে যাবে না।
এই বিশ্বভুবনে অক্সিজেন ও কার্বনের মধ্যে নাইট্রোজেন অপূর্ব সমন্বয়সাধন করছে। মানুষের অক্সিজেন গ্রহণ করা আর কার্বন ডাই অক্সাইড ছাড়ার মধ্যে নাইট্রোজেন নিয়ন্ত্রণ করছে। যদি নাইট্রোজেন না থাকতো তাহলে কী হতো? হতো এটাই কেবল অক্সিজেন গ্রহণ হতো, কার্বন ডাই অক্সাইড ছাড়া হতো না। মানুষের অস্তিত্ব থাকতই না। আবার শুধু কার্বন ডাই অক্সাইড বাড়তে থাকলে অক্সিজেনের অস্তিত্ব থাকতই না। তাই ঈশ্বর গাছ ও মানুষের মধ্যে বোঝাপড়া করে দিলেন- গাছ নেবে কার্বন ডাই অক্সাইড, অক্সিজেন ছাড়বে। মানুষ অক্সিজেন গ্রহণ করবে, কার্বন ডাই অক্সাইড ছাড়বে। আর এই গ্রহণ ও বর্জনের প্রশ্নে নিয়ন্ত্রক হবে নাইট্রোজেন। তাই নাইট্রোজেন পরিমাণ পরিবেশে সবচেয়ে বেশি- শতকরা ৭৭ ভাগ।
জীবনের অস্তিত্বের মূলে নাইট্রোজেন। নাইট্রোজেনকে কে এসবের দায়িত্ব দিল? এ উত্তর অজানা। বিজ্ঞান শুধু বিষয় জানায়,কারণ জানাতে পারেনা বলে নিউটন, আইনস্টাইন ঈশ্বরের হাতে নিজেদের সঁপে দিয়েছেন। ঈশ্বরকণা কে?
এই জানা অজানা সংখ্যা তত্ত্ব, আপেক্ষিকতা বাদের বন্ধ দরোজা খুলে দিয়ে আরেক বিশ্ব। সেখানেও কত অজানা বিষয়। যত অজানা তত জীবন গতিশীল।
এই জড়বিজ্ঞান তাহলে জীববিজ্ঞানের অস্তিত্ব নিয়ন্ত্রক। অজানা কত রহস্য জীবনের উপর আছড়ে পড়ছে,এর চলার শেষ নেই। তাই জীবনের গতি থেমে থাকেনি। সেই চলা নিয়ে একে একে আসব।
( চলবে)
@কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।
বাহ্, দারুণ লাগলো ।
উত্তরমুছুনধন্যবাদ। অনেক অনেক ভালবাসাও। 😁😁❤❤💅💅💅
মুছুনবাহ্ তথ্যবহুল অসাধারণ একটা লেখা
উত্তরমুছুনধন্যবাদ।অনেক অনেক ভালবাসাও। 😁😁❤❤💅💅💅
মুছুনঅপূর্ব অনেক তথ্য সমৃদ্ধ লেখা 👌👌👌💐💐💐
উত্তরমুছুনধন্যবাদ। অনেক অনেক ভালবাসাও। 😁😁❤❤❤💅💅💅
মুছুনবেশ বেশ 👍👍👍
উত্তরমুছুনবিজ্ঞান নির্ভর হলেও বেশ সরস লেখা 😊😊😊😊
ধন্যবাদ। অনেক অনেক ভালবাসাও। 😁😁❤❤💅💅💅
উত্তরমুছুনঅসাধারণ ।💐💐💐
উত্তরমুছুনএই ধরনের লেখনী এক মাত্র দাদার পক্ষেই সম্ভব। চলুক
উত্তরমুছুনসত্যি অসাধারণ।
উত্তরমুছুন