সেদিনের সরস্বতী পুজো
আজকের বিষয় লিখতে বসে নিজেকে নিয়ে যাবো ৩০বছর আগে আমার আমাতে।আমাদের সময় এই প্রেম নামক শব্দ টা তিন ধাপে সজ্জিত ছিলো।ব্যাপারটা এই রকম সরস্বতী পুজো মানে নির্বাচন, পয়লা বৈশাখ প্রহসন অর্থাৎ আমাকে তোমায় ভালোবাসিতে হইবে কারণ আমি তোমারে বেসেছি ভালো।এরপর দুর্গাপূজা হাত ধরে ঠাকুর দেখতে দেখতে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা।অগ্রহায়ণ খোলা শুধু নিমন্ত্রনের অপেক্ষা।
এই ব্যাপারটা ছেলে মেয়ে উভয়ের মধ্যেই কার্যকর ছিলো।বেশ মনে আছে মাধ্যমিক পাশ করার পর স্কুলের হোমড়া চোমরা দের দলে নাম লেখানোর সাথে সাথে ওই ফল আনা,ঠাকুর আনা,আলুর দমের আলু ছাড়ানো ব্যাপারটা অপেক্ষাকৃত ছোট ক্লাশ নবম দশম শ্রেণীর ঘাড়ে অলিখিত ভাবে পড়তো।যেহেতু ১২ক্লাশ সেন্টাপ ছাত্র ওদের বাতিল করে রাখা হতো।১১ তখন সব্বের সব্বা ,হাতে সময় এই বছর,প্রেম বিনা জীবন বৃথা।
মেয়েদের স্কুলে নিমন্ত্রণ পত্র নিয়ে যাবার জন্য রীতিমতো নিলামে উঠতে হতো।যে কতিপয় সিলেক্ট হতো তাদের পরবর্তী কয়েকদিন টিফিনের অভাব হতো না।সঙ্গী হবার যুদ্ধে কে জিতবে তাই নিয়ে হুড়োহুড়ি পরে যেত।এই মেয়েদের স্কুলে নিমন্ত্রণ পত্র নিয়ে যাবার সময়টা খুব যত্ন সহকারে তাদের টিফিনের সময়টা বাছা হতো।মনে পরে এই সূত্রে চলতে গিয়ে আমি এক ভীষণ বিপদে ফেঁসেছিলাম।টিফিনের ঘন্টা হবার সাথে সাথে একটি মেয়েদের স্কুলে ঢোকার সাথে সাথে হেড দিদিমণি আমাদের তাঁর ঘড়ে ডেকে নেন এবং মিষ্টি মুখ করানোর অছিলায় আমাদের প্রহসন শুরু করেন।পুরো ১ঘন্টার টিফিন আমরা কি নিয়ে পড়ছি ভবিষ্যতে কি করতে চাই এই করে কাটিয়ে দিলেন।বুঝলাম দিদিমণি এই দলেরই লোক ছিলেন তার সময়ে।
সরস্বতী পুজোয় পাড়ার কিছু কিছু দাদা পাহাড়া বসাতো ঠিকই তবুও আইনের ফাঁক তো আছেই সেই ফাঁকে কিছু নির্বাচন হয়ে যেতো।বলতে বাঁধা নেই লালপাড় শাড়িতে মেয়েদের যে রূপ হয় তা সত্যি অবর্ণনীয়।আমি নিজেও এরকম এক সরস্বতী পূজার বিজেতাদের মধ্যে একজন,কিন্তু চাপ নেই কারণ আমার ঘরে মেয়ে আসবে যাবে না।
সময় পাল্টেছে,সরস্বতী পুজোর আগে পিছু করে ভ্যালেন্টাইন ডে আসে,নির্বাচন প্রক্রিয়া আজ অনেক পরিবর্তন, অন্তর্জাল অনেকটা সাহায্য করলেও আজো সরস্বতী পুজো স্ব মহিমায় আছে।সারা বছর জিন্স,টপ, চুড়িদার পরিহিতারা আজো ওই বিশেষ দিনটিতে শাড়ি পরে সজ্জিত হয়ে বাইরে বের হয়।তাদের ওই মোহময়ী রূপ বাংলার সংস্কৃতি কে নাড়িয়ে দেয়।ওই সব কুমারী নারী হয়ে ওঠে দেবীর রূপ স্বর্গের অপ্সরা লজ্জা পায়।
ভালো লাগে আজো এই পৌঢ় চোখ ওদের মাঝে খুঁজে নেয় আমার হারানো মা কে,যে আজ নেই কিন্তু আছেন আমার মনে।ওই বিশেষ দিনে অন্তরের ওই ছবি একাধিক মায়ের প্রতিমূর্তি হয়ে আমার সামনে আসে, আমি দেখি বিভোর হয়ে।
না ওটা আমার দেখা,আমাদের মতো মানুষের দৃষ্টিকোণ, কখনোই আমার সন্তান কিংবা সন্তান তুল্য দের জন্য নয়😊তাদের কাছে হয়তো আর এক পরিকল্পনা।💐💐💐💐

বেশ সুন্দর লাগল। ঠিক বলেছেন। অসাধারণ! 👍👍👌👌❤❤🙏🙏
উত্তরমুছুনখুব ভালো লাগল ।ফিরে গেলাম সেই দিনগুলোতে ।👌👌👌👌👍👍👍👍
উত্তরমুছুন